জবি প্রতিনিধি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করেছে ছাত্রলীগের দু’কর্মী। আর এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় ওই দু’ছাত্রের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন। এ ব্যাপারে সাত সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জানা যায়, গত রোববার বাংলা বিভাগের প্রভাষক সুলতানা খান ক্লাস নেয়ার সময় ছাত্রলীগের দু’কর্মী সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ইউনুস ও ইমরান শ্রেণীকক্ষে ঢোকার চেষ্টা করে। ক্লাস করতে থাকা শিবিরের কর্মী শাহীনুর কবিরকে ধরে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা ওই কক্ষে ঢোকার চেষ্টা করে। ওই সময় প্রভাষক সুলতানা ছাত্রলীগের ওই দু’কর্মীর কাছে শিবিরের কর্মীকে তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বাসায় ফেরার পথে ওই দু’ছাত্র সুলতানার শাড়ি ও ব্লাউজ ধরে টানাটানি করে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের ওই কর্মীরা তার পেছনে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দেয়। তারা তার বাসায় গিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। প্রভাষক সুলতানাকে উদ্দেশ্য করে সন্ত্রাসীরা বলেছে, আপনাকে খতম করে দেয়া হবে। গতকাল এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা ক্যাম্পাস। বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক এক প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. সিরাজুল ইসলাম খান, চার অনুষদের ডীন অধ্যাপক আবু ইউসুফ, কাজী আক্তারুজ্জামান, আনিসুর রহমান, হাবিবুল্লাহ বাহার, প্রক্টর কাজী আসাদুজ্জামান, সহকারী প্রক্টর মহিউদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ শরীফসহ সকল শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ। এ প্রতিবাদ সমাবেশে শিক্ষকদের উদ্দেশে ভিসি ড. সিরাজুল ইসলাম খান বলেন, এ ধরনের বেয়াদব অপরাধী ছাত্র আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–ক তা আমি চাই না। এ দু’ছাত্রের আমার সহকর্মীর শরীরে হাত তোলা মানে, আমাদের সকল শিক্ষকের শরীরে হাত তোলা। এরা কত বড় অপরাধী হলে মায়ের সমান শিক্ষকের শরীরে হাত তুলতে পারে! তিনি আরও বলেন, এ দুই ছাত্র আমার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কিত করেছে। অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার করা হবে। সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আর হতে পারে না। আমরা যাদের শিক্ষা দিই, সেই ছাত্র যদি আমাদের শরীরে হাত তোলে এর চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভাল। এছাড়া প্রতিবাদ সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী আসাদুজ্জামান সকলের উদ্দেশে বলেন, আমরা চাই না এ ধরনের ছাত্র নামের বেয়াদব আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–ক। অবিলম্বে ওই দু’ছাত্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে তিনি বলে ঘোষণা দেন। প্রতিবাদ-সমাবেশের এক পর্যায়ে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষকরা আরও ঘোষণা দেন, প্রশাসন এ ব্যাপারে গড়িমসি করলে সম্মান রক্ষার জন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষক সমিতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ। আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকাল ১১টায় সকল শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী কালোব্যাজ ধারণ করে মৌন মিছিল করবে বলে জানা গেছে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র কর্তৃক বাংলা বিভাগের প্রভাষক সুলতানা খানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং জীবননাশের হুমকি প্রদানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সমিতি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে। পাশাপাশি সমিতি সুলতানা খানের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



