বহু বছর আগের কথা বলছি।
ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে তখন আমি। হঠাত্ একদিন স্কুলে খবর এলো রাশেদ খান মেনন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একদিন পর টিভিতে দেখলাম মলিন চেহারার মানুষটার জোর করে ধরে রাখা হাসি হাসি চেহারা বিটিভিতে দেখানো হচ্ছে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য। মানুষের নৃশংসতার সাথে ঐ প্রথম পরিচয় আমার। মেনন সাহেব কে বা কি তার কিছুই জানতাম না তখন। তবুও তার গুলি খাওয়াটা আমার জীবনের খুব বড় একটা অধ্যয়। কারন ঐ প্রথম অনুভব করেছিলাম যে আমার শিরা-উপশিরায় রক্ত আছে, তারা গরম হতে জানে, এমনকি টগবগ করে ফুটতেও পারে ।
আর একটু এগিয়ে বর্তমানের কাছাকাছি আসি।
কয়েক বছর আগের একটা খুব সুন্দর ভোর। রমনায় বসে বসে গান শুনছি। সঙ্গীতের স্নিগ্ধ র্মূছনাকে ছাড়িয়ে হঠাত্ প্রচন্ড বিস্ফোরণের আওয়াজ। রক্ত। কান্না। ছুটোছুটি। চোখে জল আর বুকে নিস্ফল আক্রোশ নিয়ে হাসপাতালের কড়িডোরগুলোয় দৌড়ে বেড়িয়েছি কিছু করার তাগিদে সেদিনও টের পেয়ে ছিলাম রক্ত গরম হতে জানো।
এবার বর্তমান।
গতকাল হঠাত্ আবিস্কার করলাম, এতবছরে আমার অ্যাচিভমেন্ট হলো যে আমি এখন ফার্ণিচার হয়ে গেছি। বেত, কাঠ, কিংবা লোহার আসবাবের মতো অবলীলায় পরে থাকতে পারছি ঘর কিংবা অফিসের চার দেয়ালের মাঝে। আমার রক্ত গরম হতে ভুলে গেছে। আমি শীতল রক্তের এক সরীসৃপ মানবে পরিনত হয়েছি।
পুনশ্চ ১: বৃদ্ধ বড় বাবার মন খারাপ। উনি গত কাল জেনেছেন যে ওনার পা মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে নয় বরং এক মামুলী গৃহযুদ্ধে উড়ে গেছে। আমারো মন খারাপ। শিরার ভেতরের রক্তগুলো আর গরম হয় না কেনো ?
পুনশ্চ ২: পরশু লিখেছিলাম। পোস্ট করবো না ভেবেছিলাম। আজ আজিজে বিশিষ্ট ব্লগারদের দেখে পোস্ট করতে ইচ্ছা হলো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



