মহান আল্লাহতায়ালর পক্ষ থেকে প্রেরিত ঐশীবাণীই হলো খাঁটি ধর্মের মূল ভিত্তি। মানুষকে আঁধার জগতের হাতছানি থেকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে যার কোন বিকল্প নেই। স্রষ্টার প্রতি অটল বিশ্বাসে বিশ্বাসী করে তোলার সাথে সাথে যা সৃষ্টির সেরা মানুষকে শ্রেষ্ঠত্বের মহিমায় মহিমান্বিত করে। মনে প্রশ্ন জাগতে পারে- কোন সেই ঐশীবাণী যা যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছিল ঠিক সেই মূল অবয়বে পৃথিবীতে বিরাজ করছে? এই সেই ঐশীবাণী যা মহান আল্লাহ্ তাঁর প্রিয় হাবিব রাসূলাল্লাহ্ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপরে নাযিল করেছেন। শুধু তাই নয়, মহান স্রষ্টা তাঁর অসীম শক্তির প্রভাব ও নিয়ন্ত্রনাধীনে এই বাণীর প্রতিটি বর্ণ, শব্দ, আয়াত ও সূরাকে “পবিত্র কোরআন শরীফ” আকারে মূল ভাষা, ভাব, ছক ও ছন্দে সম্পূর্ণ অবিকৃত অবস্থায় কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষণ করার অঙ্গিকার ও ব্যবস্থা করেছেন। এতে যে কোনরূপ মিথ্যা অনুপ্রবেশ করেনি এবং কখনও করবেও না- সে বিষয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। এ দুনিয়ায় আল-কোরআনই সেই ‘নিরন্তর মুযিযা’, যার মাধ্যমে মানুষ মহান আল্লাহতায়ালাকে অত্যন্ত নিবিঢ়ভাবে চিনতে, জানতে ও বুঝতে পারে। এই জ্যোতির্ময় গ্রন্থের নূরে অন্তর আলোকিত হয়। ফলে বান্দা হিসেবে মহামহিম স্রষ্টার নৈকট্য লাভের পথ প্রসারিত ও সুগম হয়। চিন্তাশীল জ্ঞানীগণ যখন এ মহাগ্রন্থের অলৌকিকতা, স্বচ্ছতা ও মাহাত্ম্য অনুধাবনে স্বচেষ্ট হয়, তখন নির্দ্বিধায় বলে- ‘আল-কোরআন কখনই মানুষের মস্তিষ্ক প্রসূত রচিত গ্রন্থ নয়, এটি স্বয়ং স্রষ্টা আল্লাহ্ তয়ালা প্রদত্ত ঐশী গ্রন্থ এবং অন্য কারো পক্ষে এই পবিত্র গ্রন্থের অনুরূপ রচনা করা কোন কালেই সম্ভব নয়।’
তাই তো এই অলৌকিক মহাগ্রন্থের রচয়িতা স্বয়ং মহান আল্লাহপাক সন্দেহপ্রবণ ও সত্য- প্রত্যাখ্যানকরীদের সামনে মহাচ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন-
আল-কোরআন (Al-Quran)-
সূরা ইউনুস (10.Yunus // Jonah)-আয়াত নং-৩৮
(১০:৩৮) অর্থ:- ওরা কি বলতে চায় যে, তুমি নিজেই এটা রচনা করেছ? বলে দাও, তোমরাও এর মত একটি সূরা (রচনা করে) নিয়ে এসো দেখি, আর এজন্য আল্লাহ্ ছাড়া যাদেরকে ডাকতে চাও ডেকে নাও।
(10 : 38) Do they say that you have fabricated it? Say you, then bring a sura like it, and call upon all whom you could get besides I Allah, if you are truthful.
সূরা হূদ (11.Hud // The Prophet Hud)-আয়াত নং:-১৪
(১১:১৪) অর্থ:-এরপরও ওরা যদি তোমাদের ডাকে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রাখ এটি আল্লাহর জ্ঞানের দ্বারাই অবতীর্ণ হয়েছে; এবং তিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। অতএব এখন কি তোমরা আত্মসমর্পনকারী হবে?
(11:14) "If then they (your false gods) answer not your (call), know ye that this revelation is sent down (replete) with the knowledge of Allah, and that there is no god but He! will ye even then submit (to Islam)?"
সূরা বনী ইসরাঈল (17.Al-Isra // The Night Journey) -আয়াত নং:-৮৮
(১৭:৮৮) অর্থ:- বলুন, যদি মানব ও জ্বিন সকলে মিলে এ কোরআনের অনুরূপ রচনার জন্য একত্রিত হয় এবং একে অপরের সাহায্যে বদ্ধপরিকর হয়; তবুও ওরা এর অনুরূপ রচনা করে আনতে পারবে না।
(17 : 88) Say: "If the whole of mankind and Jinns were to gather together to produce the like of this Qur’an, they could not produce the like thereof, even if they backed up each other with help and support.
সূরা আনকাবুত (29.Al-Ankaboot // The Spider) -আয়াত নং-৪৮, ৪৯
(২৯:৪৮) অর্থ:- তুমি তো এর পূর্বে কোন গ্রন্থ পাঠ করনি এবং স্বহস্তে কোন গ্রন্থ লিখনি যে মিথ্যাবাদীরা সন্দেহ পোষণ করবে।
(29 : 48) And you used not to recite any Book before it and nor you used to write anything with your hand, in that case the followers of falsehood would have doubted.
(২৯:৪৯) অর্থ:- বস্তুত যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তাদের অন্তরে এটা তো স্পষ্ট নিদর্শন। কেবল অনাচারীরাই আমার নিদর্শন অস্বীকার করে।
(29:49) Rather it is an intelligible symbol in the hearts of those endowed with knowledge: and none but the unjust reject Our Signs.
আল-কোরআন এ পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য অবতীর্ণ একটি স্বয়ং-সম্পূর্ণ, নিখুঁত, সর্বোত্তম ও কল্যাণকর জীবন বিধান। এতে যে বিন্দুমাত্র কোন ভুল বা সন্দেহের অবকাশ নেই তা স্বয়ং মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত ঐশীবাণীগুলো থেকে সহজেই বুঝে নেয়া যায়-
আল-কোরআন (Al-Quran)-
সূরা আ‘রাফ (7.Al-Araf // The heights) -আয়াত নং-১, ২
(০৭:০১, ০২) অর্থ:- ০১. আলীফ লা-ম- মী-ম- স্বা-দ। ০২. তোমার নিকট কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে যাতে তুমি এর দ্বারা সতর্ক কর- এবং বিশ্বাসীদের জন্য এটি উপদেশ। অতঃপর তোমার মনে যেন এর সম্পর্কে কোন দ্বিধা না থাকে।
(7: 01) 'O beloved prophet! (Alif Lam, Mim, Saad.)
(7: 02) A Book has been sent to you, so let there be no impediment in your heart because of it, so that you may warn therewith and an admonition to the believers.
সূরা ইব্রাহীম (14.Ibrahim //Abraham) -আয়াত নং-৫২
(১৪:৫২) অর্থ:-এটা মানুষের জন্য এক বার্তা যাতে এর দ্বারা ওরা সতর্ক হয় এবং জানতে পারে যে তিনি একমাত্র উপস্য এবং যাতে বোধশক্তিসম্পন্নেরা উপদেশ গ্রহণ করেন।
(14: 52) This is to deliver the commands to mankind and that they may be warned therewith and that they may know that He is only one God and that the men of wisdom may accept admonition.
সূরা বাকারা (2.Al-Baqara // The Cow)-আয়াত নং-২
(০২:০২) অর্থ:- এই সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই। সাবধানীদের জন্য এ (গ্রন্থ) পথ-নির্দেশক।
(02: 02) That high ranked Book (Quran) whereof there is no place of doubt; in it there is guidance to those who fear Allah.
সূরা নিসা (4.An-Nisa // Women)-আয়াত নং-৮২
(০৪: ৮২) অর্থ:- ওরা কি লক্ষ্য করে না কোরআনের প্রতি? এটা যদি আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে নাযিল হত, তবে এতে বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত।
(04 : 82) Then do they not ponder in Quran and if it had been from other than Allah, then they would surely have found therein much discrepancy?
সূরা আনআম (6.Al-Anaam // Cattle)-আয়াত নং-১১৫
(০৬: ১১৫) অর্থ:- আপনার প্রতিপালকের বাণী সম্পূর্ণ সত্য ও সুষম। তাঁর বাণীর কোন পরিবর্তনকারী নেই। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।
(06 : 115) And Complete is the word of your Lord in veracity and justice. There is no one to change His words: and He is the Hearer, the Knower.
সূরা ইউনুস (10.Yunus // Jonah)-আয়াত নং-৩৭
(১০: ৩৭) অর্থ:- এই কোরআন আল্লাহ্ ছাড়া অপর কারও রচনা নয়। পক্ষান্তরে এর পূর্বে যা অবতীর্ন হয়েছে, এটা তার সমর্থন ও বিধানসমূহের বিশদ ব্যাখ্যা। সন্দেহ নেই যে এটা জগৎসমূহের প্রভূ আল্লাহর পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ।
(10: 37) This Qur’an is not such as can be produced by other than Allah; on the contrary it is a confirmation of (revelations) that went before it, and a fuller explanation of the Book - wherein there is no doubt - from the Lord of the worlds.
সূরা হিজর (15.Al-Hijr // Rock City) -আয়াত নং-৯
(১৫: ০৯) অর্থ:- আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।
(15: 09) We have, without doubt, sent down the Message; and We will assuredly guard it (from corruption).
সূরা সিজদা (32.As-Sajda // The Prostration) -আয়াত নং-০২
(৩২ : ০২) ) অর্থ:- বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট থেকে এ গ্রন্থ অবতীর্ণ, এতে কোন সন্দেহ নেই।
(32 : 02) The sending down of the Book undoubtedly is from the Lord of the worlds.
সূরা হা মীম সিজদাহ (41.Fussilat or Ha Mim Sajdah / Explained in Detail) আয়াত-৪২
(৪১: ৪২) অর্থ:- এতে মিথ্যার কোন প্রভাব নেই, সামনের দিক থেকেও নেই এবং পেছন দিক থেকেও নেই। এটা প্রজ্ঞাময়, প্রশংসার্হ আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ।
(41 : 42) There is no approach of falsehood to it either from before or from behind it. It is sent down by One Full of Wisdom,Worthy of all Praise.
সূরা হক্বক্বাহ্ (69.Al-Haaqqa // The Reality) -আয়াত নং-(৪০-৪৮)
(৬৯: ৪০-৪৮) অর্থ: ৪০. নিশ্চয়ই এটা একজন সম্মানিত রসূলের মাধ্যমে প্রেরিত বাণী। ৪১. এবং এটা কোন কবির উক্তি নয়; তোমরা অল্পই বিশ্বাস কর। ৪২. এটা কোন বাক-চতুর কথিত কাহিনীও নয়, তোমরা অল্পই অনুধাবন কর। ৪৩. এটা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট হতে অবতীর্ণ। ৪৪. সে যদি কিছু রচনা করে আমার নামে চালাতে চাইত, ৪৫. তবে আমি তাকে কঠোর হাতে দমন করতাম, ৪৬. এবং কেটে দিতাম তার কন্ঠশিরা। ৪৭. তোমাদের কেউই তাকে রক্ষা করতে পারত না। ৪৮. আল্লাহকে যারা ভয় করে- এটা তাদের জন্য অবশ্যই এক উপদেশ।
40. Undoubtedly, this Quran is the talks with a noble Messenger. 41. And it is not the word of any poet. How little you believe! 42. And it is not the word of any soothsayer. How little you heed! 43. (This is) a Message sent down from the Lord of entire world. 44. And if he would have said against Us even one word forging from himself 45. We would surely have taken revenge with full force. 46. And then We would surely have severed his life vein. 47. And not any of you could have defended him. 48. And undoubtedly; this Quran is an admonition to the God-fearing.
কতিপয় নাস্তিক বুদ্ধিজীবি ও তাদের যোগ্য শিষ্যরা মনগড়া এমন কিছু খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েছে, যা তাদের অনুসারীদের মগজ ধোলাই করতে পারবে বটে। তবে এই বিকৃত ও বানোয়াট তথ্যগুলো ঈমানদারদের বিশ্বাসকে একচুল পরিমাণও টলাতে পারবেনা। তাদের বিশ্বাস নিয়ে তারা থাকুক, তাতে তো আমাদের কোন আপত্তি নাই। কিন্তু মিথ্যাচারের তো একটা মাত্রা থাকা উচিত। যুগে যুগে এভাবেই পবিত্র কোরআন ও ইসলামের কটাক্ষ করার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। কিন্তু তা ধোপে টিকেনি এবং কখনো টিকবেও না। যারা এতদিন কুচক্রিমহলের বিকৃত ও বানোয়াট তথ্যগুলো নিয়ে অযথা মাথা ঘামিয়েছেন, তারা এবার মন চাইলে মূল ও প্রকৃত তথ্যের দিকে মনোনিবেশ করতে পারেন।
তারা বলে, আল্লাহতায়ালা যেই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁরই সৃষ্ট সেই মানুষের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া ঠিক হয়নি। এখানে বুঝতে হবে- কার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া হয়েছে? গরু, ছাগল, কুকুর, বিড়াল, বাগ, ভাল্লুকের প্রতি তো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া হয়নি। মহান স্রষ্টা আল্লাহ মানুষকে সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি রূপে সৃষ্টি করেছেন। এর পূর্বে তিনি জ্বীন জাতিকে বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী করে সৃষ্টি করেছিলেন। সেইসঙ্গে তাদেরকে (মানুষ+জ্বীন) ভাল-মন্দ বোঝার ক্ষমতা এবং এ পৃথিবীতে ভাল/মন্দকে গ্রহণ করার মত স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দান করেছেন। আর এই মানুষ ও জ্বীনদের মধ্যে যারা আল্লাহ্তায়ালাকে অহংকার বশত অস্বীকার করতে চায় এবং তাঁর ঐশী বাণীকে কটাক্ষ ও চ্যালেঞ্জ করে, তাদের প্রতিই তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।
যদি কেউ আল-কোরআন ছাপাতে গিয়ে ভুল বশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে সূক্ষ বিচ্যুতি বা বিকৃতি ঘটায় এবং আকর্ষণীয় মলাট লাগিয়ে তার শত শত কপি বাজারে ছেড়ে দেয়, তবে তার জন্য কে দায়ী হবে? পৃথিবীর আনাচে কানাচে হয়ত মনুষ্যকৃত ভুল বা বিকৃত কিছু কপি সাময়িকভাবে থাকতে পারে। কিন্তু সেই ভুল বা বিকৃত কপিগুলোকে ধরার ও সংশোধন করার মত আল-কোরআনের মূল কপি এখনও বর্তমান। শুধু তাই নয়, কোটি কোটি হাফেজ এ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে। যারা পবিত্র কোরআনকে মুখস্ত করে তাদের অন্তরে সংরক্ষণ করছেন। আঞ্চলিক ভাষা ও উচ্চারণগত তারতম্যের কারণে হয়ত কিছু কিছু অঞ্চলে মানুষের দ্বারা কাঠামগত কিছু বিভিন্নতা দেখা যায়। কিন্তু তা সত্বেও এগুলোর মর্মার্থ কিন্তু একই থাকে। যেমন- (আমি এখন ভাত খাব)। এই কথাটিকে রংপুর জেলার গ্রাম অঞ্চলের মানুষেরা বলে-(মুই এলা ভাত খাইম)। নোয়াখালী ও চিটাগাং অঞ্চলেও এর ভিন্নতা দেখতে পাওয়া যাবে। কিন্তু মূল অর্থ তো পাল্টাবে না। তেমনি আরবী ভাষার ক্ষেত্রেও আঞ্চলিক বৈপরিত্বের কারণে এবং সে সমস্ত এলাকার মানুষদেরকে বোঝানোর স্বার্থে আল-কোরআনের বক্তব্যগুলো হয়ত সাময়িকভাবে তাদের মত করে বলা ও লেখা হয়ে থাকতে পারে। কেউ কেউ অজ্ঞতাহেতু সেগুলো নিয়েই মাতামাতি করতে পারে। তবে পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলমান আগেও আল-কোরআনের মূল কপিকে অনুসরণ করত, এখনও করে এবং ভবিষ্যতেও কেয়ামত পর্যন্ত তাই করবে। এই বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠির ঘরে ঘরে সেই পবিত্র কোরআনই পঠিত হচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বাঁকা মন ও একচোখা লোকেরা তা বুঝেও না বোঝার এবং দেখেও না দেখার ভান করে। নিজে না জেনে অন্যের ধার করা যুক্তিকে প্রাধান্য দেয়।
তাদের আরেকটি অভিযোগ- যেই ড. রশিদ খলিফা নিজেকে গডের ম্যাসেন্জার/নবী দাবি করেছে, তার উদ্ভাবন কর্মটি নিয়ে মুসলমানরা এত খুশী কেন? এক্ষেত্রে বোঝা উচিত যে, কেউ দাবি করলেই তো সে নবী হতে পারে না। আমরা মুসলমানরা তো কেউ তাকে নবী মানছি না। এমনকি এই উদ্ভাবনীমূলক কাজটিকে বিন্দুমাত্র অনুসরণ করার প্রয়োজন বোধ করছিনা। তার এই উদ্ভাবনকে প্রথম অবস্থায় আমরা সরল বিশ্বাসে গ্রহণ করেছিলাম। এর ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এখন আমরা বুঝতে পেরেছি যে, সে সরল পথ ছেড়ে গরল পথে পা বাড়িয়েছিল। সে যে নবী বা গডের ম্যাসেনজার না, এ থেকেই তার প্রমাণ মেলে। কোন ব্যক্তি যতই ভাল/মন্দ হোক না কেন, তার দ্বারা যদি কোন ভাল কাজ সাধিত হয়ে থাকে তবে সেই ভাল কাজটিকে স্বীকৃতি দেয়াই তো উচিত। আর মন্দ কাজ করলে সেই কাজটিকে মন্দই বলতে হবে। আল-কোরআনের আয়াত সংখ্যাকে ১৯ দিয়ে বিভাজ্য বানানোর জন্য একটি দল গলদঘর্ম হচ্ছে। ড. রশিদ তার মগজের সহায়তায় যতদিন কম্পিউটারকে খাটিয়েছে ততদিন ভালই কাজ করেছে। তার উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, এ কাজের শুরুটা সবার নজর কেড়েছিল। কিন্তু যখনই তার মনে অহংকার দানা বেধেছে, কম্পিউটারের উপর খুব বেশী নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এবং বক্রবুদ্ধির সহায়তায় কম্পিউটারকে বাঁকা পথে খাটাতে শুরু করেছে, তখনই আল্লাহ প্রদত্ত ঐশী বিষয়টিকে নিজের মত করে সাজাতে গিযে জটিল বানিয়ে ফেলেছে। সে যে নবী বা গডের ম্যাসেনজার না, এ থেকেই তার প্রমাণ মেলে। কারো প্ররোচনায় বা অহংকারের বশে জোর কোরে ১৯ দিয়ে আল-কোরআনের সকল আয়াত, শব্দ ও বর্ণ সংখ্যাকে বিভাজ্য বানানোর কোন প্রয়োজন ছিল কি? আল-কোরআন সম্পর্কে স্বচ্ছ জ্ঞান অর্জনের ইচ্ছা থাকলে নিরহংকার মন নিয়ে ধৈর্য্য সহকারে সোজা পথে এগোতে হবে। যারা খাঁটি মন নিয়ে আল্লাহতায়ালাকে পাবার জন্য সচেষ্ট হয়, মহান স্রষ্টা তাদের অন্তরকে অনেক গুণ প্রশস্ত করে দেন। কিন্তু যদি কারো মধ্যে বিন্দুমাত্র অহংকার দানা বাঁধে ও উদ্দেশ্য খারাপ হয়, তবে সে বিভ্রান্ত ও বিপথগামী হয়ে পড়বে।
আল-কোরআন কোন নির্দিষ্ট স্থান-কাল-পাত্রের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। এই মহাগ্রন্থটিকে মহান স্রষ্টা সর্বকালের সকল মানবগোষ্ঠির জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছেন। তাই সব সময় মনে রাখতে হবে কোন আয়াতের ভাব ও বক্তব্য গভীরভাবে বুঝতে চাইলে আরবী শব্দগুলোর মূলে যেতে হবে। তাহলে দেখা যাবে সেই আয়াতটির সামগ্রীক অর্থ ও ভাব স্থান-কালের সীমানা পেরিয়ে সার্বজনিন রূপে প্রকাশিত হয়েছে। মহান স্রষ্টা তাঁর প্রেরিত মহাগ্রন্থে ধীরে সুস্থে জ্ঞানদানের ব্যবস্থা করেছেন। একটি বিষয়কে প্রথমত সবার জন্য সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তারপর অন্য স্থানে অর্থাৎ অন্য কোন সূরায় সেই বিষয় সম্পর্কে ধীরে ধীরে গভীর তথ্য প্রদান করা হয়েছে। কোন একটি বিষয় সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে একজন অনুসন্ধিৎসু পাঠক যখন সেই বিষয়টিকে খোঁজার জন্য এই গ্রন্থখানা পড়তে শুরু করে, তখন আপনা আপনিভাবে অন্য অনেক বিষয় তার চোখে পরে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সে তা পড়তে উদ্দোগী হয়। এভাবে একটি বিষয়ের সাথে সাথে অন্যান্য বিষয় সম্পর্কেও সে জানতে শুরু করে এবং তার জানার আগ্রহ ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলে। মহান আল্লাহ ধৈর্যশীল ও সত্যান্বেষীদেরকে এভাবেই পরীক্ষা করেন ও সরল পথ দেখান। কিন্তু যদি কারো মধ্যে বিন্দুমাত্র অহংকার দানা বাঁধে ও উদ্দেশ্য খারাপ হয়, তবে সে বিভ্রান্ত ও বিপথগামী হয়ে পড়বে। শয়তানের প্ররচণায় তারা ধৈর্য হারিয়ে আল-কোরআনকে খন্ডিতভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্ত ছড়াবার পায়তারা করে। এভাবে তারা নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্যকেও বিভ্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে। এটাও আল্লাহ্ তায়ালার একটি পরীক্ষা এবং এভাবে তিনি মানুষের ধৈর্য ও ইমানের পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। শেষ পর্যন্ত যারা বিশ্বাসে অটল থাকতে পারে, তারা সফলকাম হয়। ইহকাল ও পরকালে শান্তি পায়।
আল-কোরআনের স্বচ্ছতা সম্পর্কে স্বয়ং মহান আল্লাহতায়ালার বাণী ও অকাট্য প্রমাণ উপস্থিত করার পর এবং সত্য প্রকাশিত হবার পরও মানুষের মধ্যে অনেকেই জেদের বশে ‘আল্লাহ্’ সম্পর্কে বিতর্ক করে। তাঁর বাণীকে তাচ্ছিল্ল ও অস্বীকার করে। এদেরকে আল্লাহপাক কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দেন। ওদের এই অহংবোধ, কুচিন্তা ও কৃতকর্মের প্রতি মহান আল্লাহতায়ালার সাবধান বাণী-
আল কোরয়ান (Al-Quran)-
সূরা হজ্জ (22.Al-Hajj t // The Pilgrimage) -আয়াত নং-৮
(২২: ০৮) অর্থ:- মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ্ সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তাদের না আছে জ্ঞান, না আছে পথ প্রদর্শক, না আছে কোন জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থ।
(22 : 08) Yet there is among men such a one as disputes about Allah, without Knowledge, without Guidance, and without a Book of Enlightenment,-
সূরা হা মীম সিজদাহ (41.Fussilat or Ha Mim Sajdah // Explained in Detail) আয়াত -৪১
(৪১: ৪১) অর্থ:- নিশ্চয় যারা কোরআন আসার পর তা অস্বীকার করে, তাদেরকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে- এটা অবশ্যই এক সম্মানিত গ্রন্থ।
(41 : 41) Undoubtedly, those who denied the reminder when it came to them, (ask not the condition of their misery) and undoubtedly it is an esteemed Book.
সূরা কাহাফ (18.Al-Kahf // The Cave) -আয়াত নং-২৯
(১৮: ২৯) অর্থ:- বলুন, ‘সত্য তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা বিশ্বাস করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক।’ আমি তো জালিমদের জন্য অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি। যার বেষ্টনী ওদের পরিবেষ্টন করে থাকবে। ওরা পানীয় চাইলে ওদের দেয়া হবে গলিত ধাতুর ন্যায় পানীয়, যা ওদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে; কি ভীষণ সে পানীয় আর কি নিকৃষ্ট তাদের অগ্নিময় বসবাসের স্থান।
(18: 29) And say, 'the truth is from your Lord, then whoso will, let him believe and whoso will, let him disbelieve, undoubtedly We have already prepared for the unjust a fire whose walls would surround them. And if they complain for water, then they will be helped with water, which is like molten lead that will burn the faces. What a bad drink it is, and the hell what an evil place to stay.
সূরা আনকাবুত (29.Al-Ankaboot // The Spider)-আয়াত নং-৬৪
(২৯: ৬৪) অর্থ:- এই পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া, কৌতুক ছাড়া আর কিছুই না, আর পরকালের জীবনই তো প্রকৃত জীবন- যদি ওরা তা জানত।
(29 : 64) And this life of the world is nothing but sport and play. And undoubtedly the home of the Hereafter, necessarily that is the true life. What a good thing it was if they knew.
সূরা নাবা (78.An-Naba // The Tidings)-আয়াত নং-১৭, ৩৯
(৭৮: ১৭) অর্থ:- নিশ্চয়ই বিচার দিবস নির্ধারিত রয়েছে।
(78: 17.) Undoubtedly, the Day of Judgment has an appointed time.
(৭৮: ৩৯) অর্থ:- এই দিবস সত্য। সুতরাং যার ইচ্ছা সে তার পালনকর্তার পানে ঠিকানা খুঁজে নিক।
(78: 39) That is the true day. Now let him who wills seek a way to his Lord.
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ১১:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


