নরায়ন মশাই যে ভাষায় কোরবানি নিয়ে শুদ্ধতা দাবি করে রিট করেছেন-
ঢাকা, ০১ আগস্ট (২০১০ইং) (আরটিএনএন ডটনেট)-- মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.) ইসমাইল (আ.)-কে নয়, ইসহাক (আ.)-কে কোরবানি করতে নিয়ে গিয়েছিলেন দাবি করে এর সঠিক ব্যাখ্যা চেয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন বিশ্ব শান্তি পরিষদের প্রেসিডেন্ট দেব নারায়ণ মহেশ্বর।
রবিবার বিচারপতি আবদুল ওয়াহাব মিয়া ও রেজাউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে তিনি এ রিট আবেদন দায়ের করেন।
রিটের শুনানিতে নারায়ণ মহেশ্বর হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কোরআনের শুদ্ধতা দাবি করেন। শুনানি শেষে আদালত আগামী ৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার এ রিটের পরবর্তী শুনানির ধার্য করে। (আরটিএনএন ডটনেট/এফএন/এমআই_ ২০৩৯ ঘ.)
আমার এ লেখায় সেই ভাষার আদলে বিপক্ষে প্রত্যুক্তি করেছি মাত্র-
(মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.), ইসহাক (আ.)-কে নয়, ইতিমধ্যে বাল্যকালে উপনিত ইসমাইল (আ.)-কেই কোরবানি করতে নিয়ে গিয়েছিলেন)
হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-কে মুসলিম জাতির পিতা মানা হয়, নাকি হয় না- আমার এই লেখার আলোচনায় সেটি মুখ্য বিষয় নয়। এ আলোচনার প্রকৃত বিষয়টি হলো:- কোরবানি করতে কাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? ইসমাইল (আঃ)- কে, নাকি ইসহাক (আঃ)- কে?
ইসলাম ধর্মে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে অত্যন্ত মর্যাদা সম্পন্ন একজন নবী হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁকে আল-কোরআনে আল্লাহর বন্ধু ও মানবজাতির নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং প্রতিটি মুসলমান তা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে। সেই সাথে সকল নবী ও রসূলগণের উপর বিশ্বাস স্থাপন না করলে পূর্ণ ইমানদার হওয়া যায় না।
"Salamun (peace) be upon Abraham!" Allah says in the Quran (37:109).
In Islam, Prophet Ibrahim is the friend of Allah and the father of Prophets (Ismail or Ishmael in English and Ishaq or Isaac and the grandfather of Prophet Yaqub or Jacob). He is also one of the ancestors of the Prophet Muhammad (peace and blessings be upon him).
Anyone who rejects Prophet Ibrahim is not a true believer in Islam. Prophet Ibrahim plays a key role in this regard.
In terms of beliefs, a Muslim must believe in all of the Prophets. This includes not just Prophet Ibrahim, but his sons Ismail, Ishaq, his grandson Yaqub and of course his descendant Prophet Muhammad.
When it comes to the five pillars of Islam, the importance of Prophet Ibrahim becomes even more evident.
The second pillar of Islam is Salah, the obligatory five daily prayers. Every Muslim who has reached the age of puberty is accountable for their prayers, be he male or be she female, whether they live in the desert of northern Arabia, a village of northern Pakistan or an urban center of North America.
During one part of each of these five prayers, Muslims must ask Allah to send His blessings upon Prophet Ibrahim. Now calculate this: you've got more than a few million Muslims, every day, five times a day, in virtually every time zone on this planet asking God to send His blessings on Prophet Ibrahim in the course of his/her prayer.
More importantly, the direction in which every Muslim must face when praying is towards a structure Prophet Ibrahim built with his son Ismail: the Kaba, in Makkah, Saudi Arabia.
With regards to the Kaba, Allah says this about it: "The first House (of worship) appointed for men was that at Bakka (another name for Makkah); full of blessings and guidance for all kinds of beings: in it are signs manifest, the station of Abraham-whoever enters it attains security; pilgrimage thereto is a duty men owe to Allah-those who can afford the journey; but if any deny faith, Allah stands not in need of any of His creatures"(Quran 3:96-97).
This leads to the second way in which this Prophet, described as the intimate friend of Allah (Quran 4:125), is revered: Hajj.
Hajj is the pilgrimage every Muslim must make to Makkah at least once in his/her lifetime. Hajj is also an obligation no Muslim is allowed to reject or ignore. It is in this rite that Prophet Ibrahim's importance becomes even more prominent.
In general, Prophet Ibrahim's centrality to this fifth pillar of Islam is indicated by the Prophet Mohammed's statement, You must adhere to the traditions and rituals (of Hajj), for these have come down to you from (your forefather) Ibrahim in heritage (Tirmidhi).
First, the Kaba is the central structure around which the Hajj takes place. No Hajj is valid without going around this structure built by Prophets Ibrahim and Ismail in counterclockwise fashion seven times.
Second, Muslims who perform the Hajj or Umra must run in the middle portion of the distance between Safa and Marwa (two hills close to the Kaba) seven times.
(click here to read about the event).
Finally, Prophet's Ibrahim's willingness to sacrifice his beloved son Ismail for the sake of Allah exemplifies not only his sincere devotion to Allah. The commemoration of this sacrifice is practiced with the sacrifice of an animal during Hajj and one of the two Islamic holy days: Eid-ul-Adha.
During sleep, Prophet Ibrahim received Allah's order in the form of a vision to sacrifice his son Ismail. Both father and son willingly submitted to Allah's command. Allah substituted a ram in Ismail's place at the last moment. Allah talks about this incident in Quran 37:100-107.
The animal sacrifice that is offered by Muslims all over the world every year (at Eid-ul-Adha) is in commemoration of the supreme act and spirit of sacrifice offered by Prophet Abraham in lieu of his son Ismail.
এখন কেউ যদি মর্যাদার কথা ভেবে হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-কে মুসলমানদের জাতির পিতা হিসেবে আখ্যায়িত করতে চায়- তাহলে সেটা তার নিজস্ব মতামত হতে পারে এবং সেই মত সে প্রকাশ করতেই পারে। কিন্তু তাই বলে কেউ যদি আবার দাবি করে যে, ইব্রাহীম (আঃ) কে মুসলিম জাতির পিতা মানা মুসলমানদের জন্য ফরজ এবং এই দাবি নিয়ে বেকুফের মত আদালতে রিট করে বসে- তাহলে তো আমি অবশ্যই এর বিরোধীতাই করব।
জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থ আল-কোরআন একটি পুর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন সাধারণ পাঠকসমাজকে ইসলামের মৌলিক জ্ঞান দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, অপরদিকে তেমনি জ্ঞানী ও চিন্তাশীল সম্প্রদায়কে চিন্তা-গবেষণা করার জন্য উদ্ভুদ্ধ করা হয়েছে। মহান স্রষ্টা তাঁর প্রেরিত মহাগ্রন্থে ধীরে সুস্থে জ্ঞানদানের ব্যবস্থা করেছেন। একটি বিষয়কে প্রথমত সবার জন্য সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তারপর অন্য স্থানে অর্থাৎ অন্য কোন সূরায় সেই বিষয় সম্পর্কে ধীরে ধীরে গভীর তথ্য প্রদান করা হয়েছে। কোন একটি বিষয় সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে একজন অনুসন্ধিৎসু পাঠক যখন সেই বিষয়টিকে খোঁজার জন্য এই গ্রন্থখানা পড়তে শুরু করে, তখন আপনা আপনিভাবে অন্য অনেক বিষয় তার চোখে পরে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সে তা পড়তে উদ্দোগী হয়। এভাবে একটি বিষয় সম্পর্কে সত্য জ্ঞান অর্জনের সাথে সাথে অন্যান্য বিষয় সম্পর্কেও সে জানতে শুরু করে এবং তার জানার আগ্রহ ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলে। মহান আল্লাহ ধৈর্যশীল ও সত্যান্বেষীদেরকে এভাবেই পরীক্ষা করেন ও সরল পথ দেখান। শেষ পর্যন্ত যারা বিশ্বাসে অটল থাকতে পারে, তারা প্রকৃত সত্যের সন্ধান পায় এবং সফলকাম হয়। ইহকাল ও পরকালে শান্তি পায়।
এ আলোচনার প্রকৃত বিষয়টি বুঝতে হলে প্রথমত পবিত্র কোরআনে সূরা আস্ ছাফফাতের (৩৭:১০০) নং আয়াতে যে প্রার্থনা করা হয়েছে সেদিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন-
(৩৭:১০০) অর্থ- "হে পরওয়ারদিগার! আমাকে একজন সৎকর্মশীল সন্তান দাও৷”
(37:100) ”My Lord! Grant me (offspring) from the righteous.”
কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, পরবর্তী (৩৭:১০১) নং আয়াতে তাকে একজন ধৈর্যশীল পুত্রের সংবাদ দেয়া হলো-
(৩৭:১০১) অর্থ- আমরা (আল্লাহ- সম্মানার্থে) তাকে একজন ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম৷
বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে, (২১:৮৫) নং আয়াতে ইসমাইল (আঃ) -কে ধৈর্যশীল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে-
সূরা আম্বিয়া (মক্কায় অবতীর্ণ)
(২১:৮৫) অর্থ- এবং স্মরণ কর ইসমাইল, ইদ্রিস ও যুলকিফল এর কথা, তাদের প্রত্যেকেই ছিল ধৈর্যশীল।
(37:101) So We gave him the glad tidings of a forbearing boy.
সুতরাং ইসমাইল (আঃ) -ই ইব্রাহীম (আঃ) এর ধৈর্যশীল প্রথম সন্তান।
এরপর (৩৭:১১১) নং আয়াত পর্যন্ত এসে সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি টানা হয়েছে-
(৩৭:১০২) অর্থ- সে পুত্র যখন তার সাথে কাজকর্ম করার বয়সে পৌঁছুলো তখন (একদিন ইবরাহীম তাকে বললো, “ হে পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখি তোমাকে আমি যাবেহ করছি, এখন তুমি বল তুমি কি মনে কর?” সে বললো, “ হে আব্বাজান! আপনাকে যা হুকুম দেয়া হচ্ছে তা করে ফেলুন, আপনি আমাকে ইনশাআল্লাহ সবরকারীই পাবেন৷”
(37:102) And, when he (his son) was old enough to walk with him, he said: ”O my son! I have seen in a dream that I am slaughtering you (offer you in sacrifice to Allâh), so look what you think!” He said: ”O my father! Do that which you are commanded, Inshâ’ Allâh (if Allâh will), you shall find me of As-Sâbirin (the patient ones, etc.).”
(৩৭:১০৩) অর্থ- শেষ পর্যন্ত যখন তারা দু’জনই (পিতা ও পুত্র) আত্মসমর্পণ করলো এবং ইবরাহীম পুত্রকে কাত করে শুইয়ে দিল৷
(37:103) 0 Then, when they had both submitted themselves (to the Will of Allâh), and he had laid him prostrate on his forehead (or on the side of his forehead for slaughtering);
(৩৭:১০৪) অর্থ- তখন আমরা (সম্মানার্থে) আওয়াজ দিলাম, “ হে ইবরাহীম,
(37:104) And We called out to him: ”O Abraham!
(৩৭:১০৫) অর্থ- তুমি স্বপ্নকে সত্য প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছো৷ আমি সৎকর্মকারীদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি৷
(37:105) You have fulfilled the dream (vision)!” Verily! Thus do We reward the Muhsinun
(৩৭:১০৬) অর্থ- নিশ্চিতভাবেই এটি ছিল একটি সুস্পষ্ট পরীক্ষা৷মাত্র!
(37:106) Verily, that indeed was a manifest trial
(৩৭:১০৭) অর্থ- তার (ছেলের) পরিবর্তে একটি বড় কুরবানীর (জন্তু) দান করলাম ।
And We ransomed him with a great sacrifice (i.e. a ram);
(৩৭:১০৮) অর্থ- (অনাগত মানুষদের জন্য এ বিধান চালু রেখে) তার স্মরণ আমরা (সম্মানার্থে) অব্যহত রেখে দিলাম।
(37:108) And We left for him (a goodly remembrance) among generations (to come) in later times.
(৩৭:১০৯) অর্থ- শান্তি বর্ষিত হোক ইবরাহীমের ওপর।
(37:109) Salâmun (peace) be upon Ibrâhim (Abraham)!”
(৩৭:১১০) অর্থ- এভাবেই আমরা (আল্লাহ- সম্মানার্থে) নেক বান্দাদের পুরষ্কার দিয়ে থাকি।
(37:110) Thus indeed do We reward the Muhsinûn (good-doers - see V.2:112).
(৩৭:১১১) অর্থ- অবশ্যই সে ছিল আমার মোমেন বান্দাদের একজন।
(37:111) Verily, he was one of Our believing slaves.
এরপর (৩৭:১০০) নং আয়াতে সৎকর্মশীল সন্তানের জন্য যে প্রার্থণা করা হয়েছিল সে সম্পর্কে (৩৭:১১২) নং আয়াতে এসে জানিয়ে দেয়া হলো অর্থাৎ এমন আরও একজন পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হলো যিনি সাধারন কেউ নন, তিনি একজন সৎকর্মশীল নবী 'ইসহাক (আঃ)'-
(৩৭:১১২) অর্থ- (কিছুদিন পর) আমরা (আল্লাহ- সম্মানার্থে) তাকে ইসহাকের (জন্মের) সুসংবাদ দান করলাম, যে ছিল নবী ও আমার সৎকর্মশীল বান্দাদের একজন।
(37:112) And (after sometime) We gave him the glad tidings of Ishâque (Isaac) a Prophet from the righteous.
(৩৭:১১৩) অর্থ- আমি তার উপর এবং ইসহাকের উপর বরকত নাযিল করেছি; তাদের উভয়ের বংশধরদের মাঝে কিছু সৎকর্মশীল মানুষ আছে, (তেমনি) আছে কিছু না-ফরমান, যারা স্পষ্ট অত্যাচারীর ন্যায় নিজেদের উপর নিজেরা যুলুম করে।
(37:113) We blessed him and Ishâque (Isaac), and of their progeny are (some) that do right, and some that plainly wrong themselves.
এখানে 'ইসহাক (আঃ)' নাম এইজন্য উল্লেখ করা হয়েছে যে, এতদিন ইবরাহীম (আঃ) এর একজনই সন্তান ছিলেন যিনি ইতিমধ্যে বাল্যকালে উপনিত হয়েছিলেন এবং তাঁর সাথে কাবাঘর নির্মানের মত কাজে সাহায্য করার মত উপযুক্ত হয়েছিলেন। ২ নং সূরা বাকারার ১২৭, ১২৮ ও ১২৯ নং আয়াতে প্রথমেই তার স্পষ্ট ইংগিত রয়েছে-
পবিত্র কোরআন, সূরা বাক্কারাহ্-
(২:১২৭) অর্থ- ইবরাহীম ও ইসমাইল যখন এই ঘরের ভিত্তি উঠাচ্ছিল, (তারা) প্রার্থণা করলো, হে আমাদের মলিক, তুমি আমাদের কাছ থেকে কবুল করো, একমাত্র তুমিই সব কিছু জান এবং শোন।
(2:127) And (remember) when Ibrâhim (Abraham) and (his son) Ismâ’il (Ishmael) were raising the foundations of the House (the Ka’bah at Makkah), (saying), ”Our Lord! Accept (this service) from us. Verily! You are the All-Hearer, the All-Knower.”
(২:১২৮) অর্থ- হে আমাদের মালিক, আমাদের উভয়কে তুমি তোমার অনুগত বান্দা বানাও এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকেও তুমি তোমার অনুগত একদল (বান্দা) বানিয়ে দাও, তুমি আমাদেরকে ইবাদতের নিয়মকানুন দেখিয়ে দাও এবং তুমি আমাদের উপর দয়াপরবশ হও, কারন অবশ্যই তুমি তোবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু।
(2:128) ”Our Lord! And make us submissive unto You and of our offspring a nation submissive unto You, and show us our Manâsik (all the ceremonies of pilgrimage - Hajj and ’Umrah, etc.), and accept our repentance. Truly, You are the One Who accepts repentance, the Most Merciful.
(২:১২৯) অর্থ- হে আমাদের মালিক তদের নিজেদের (বংশের) মধ্য থেকে তাদের মাঝে (এমন) একজন রসূল পাঠাও, যে তাদের কাচে তোমার আয়াতসমূহ পড়ে শোনাবে, তাদেরকে তোমার কিতাবের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেবে, উপরন্তু সে তাদের পবিত্র করে দেবে; কারন তুমিই মহাপরাক্রমশালী ও পরম কুশলী।
(2:129) ”Our Lord! Send amongst them a Messenger of their own (and indeed Allâh answered their invocation by sending Muhammad Peace be upon him ), who shall recite unto them Your Verses and instruct them in the Book (this Qur’ân) and Al-Hikmah (full knowledge of the Islâmic laws and jurisprudence or wisdom or Prophethood, etc.), and sanctify them. Verily! You are the All-Mighty, the All-Wise.”
তাই পরবর্তীতে বিষয়টি তুলে ধরে ইসমাইল (আঃ)-কে ৩৭:১০১ নং আয়াতে ধৈর্যশীল ও ৩৭:১০২ নং আয়াতে বালক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে-
পবিত্র কোরআন, সূরা ছাফফাত-
(৩৭:১০১) অর্থ- আমরা (আল্লাহ- সম্মানার্থে) তাকে একজন ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম৷
(37:101) So We gave him the glad tidings of a forbearing boy.
(৩৭:১০২) অর্থ- সে পুত্র যখন তার সাথে কাজকর্ম করার বয়সে পৌঁছুলো তখন (একদিন ইবরাহীম তাকে বললো, “ হে পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখি তোমাকে আমি যাবেহ করছি, এখন তুমি বল তুমি কি মনে কর?” সে বললো, “ হে আব্বাজান! আপনাকে যা হুকুম দেয়া হচ্ছে তা করে ফেলুন, আপনি আমাকে ইনশাআল্লাহ সবরকারীই পাবেন৷”
(37:102) And, when he (his son) was old enough to walk with him, he said: ”O my son! I have seen in a dream that I am slaughtering you (offer you in sacrifice to Allâh), so look what you think!” He said: ”O my father! Do that which you are commanded, Inshâ’ Allâh (if Allâh will), you shall find me of As-Sâbirin (the patient ones, etc.).”
আমরা (২:১২৭) নং আয়াতে ইতিমধ্যে জেনেছি যে কাবাঘর মেরামতের সময় ইবরাহীম (আঃ) সাথে তাঁর বড় সন্তান হিসেবে ইসমাইল আঃ)-ই অংশ নিয়েছিলেন। সুতরাং (৩৭:১০২)নং আয়াত অনুসারে তিনিই সে সময় কাজে কর্মে সাহায্য করার মত উপযুক্ত ছিলেন।
আল-কোরআনের নিচের আয়াতগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, নামের ধারাবাহিকতায় দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই হিসেবে ইসমাইল (আঃ) এর নাম সব সময় আগেই এসেছে-
সূরা আল বাকারা-
(০২:১৩৩) অর্থ- তোমরা কি উপস্থিত ছিলে, যখন ইয়াকুবের মৃত্যু নিকটবর্তী হয়? যখন সে সন্তানদের বললঃ আমার পর তোমরা কার এবাদত করবে? তারা বললো, আমরা তোমার পিতৃ-পুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্যের এবাদত করব। তিনি একক উপাস্য।
(02:133) Or were you witnesses when death approached Ya’qûb (Jacob)? When he said unto his sons, ”What will you worship after me?” They said, ”We shall worship your Ilâh (God - Allâh), the Ilâh (God) of your fathers, Ibrâhim (Abraham), Ismâ’il (Ishmael), Ishâque (Isaac), One Ilâh (God), and to Him we submit (in Islâm).”
(০২:১৪০) অর্থ- অথবা তোমরা কি বলছ যে, নিশ্চয়ই ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব (আঃ) ও তাদের সন্তানগন ইহুদী অথবা খ্রীষ্টান ছিলেন? আপনি বলে দিন, তোমরা বেশী জান, না আল্লাহ (বেশী জানেন)? তার চাইতে অত্যাচারী কে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কাছে প্রমাণিত সাক্ষ্যকে গোপন করে? আল্লাহ তোমাদের কর্ম সম্পর্কে বেখবর নন।
(02:140) Or say you that Ibrâhim (Abraham), Ismâ’il (Ishmael), Ishâque (Isaac), Ya’qûb (Jacob) and Al-Asbât [the twelve sons of Ya’qûb (Jacob)] were Jews or Christians? Say, ”Do you know better or does Allâh (knows better… that they all were Muslims)? And who is more unjust than he who conceals the testimony [i.e. to believe in Prophet Muhammad Peace be upon him when he comes, written in their Books. (See Verse 7:157)] he has from Allâh? And Allâh is not unaware of what you do.”
(০২:১৪০) অর্থ- সে সম্প্রদায় অতীত হয়ে গেছে। তারা যা করেছে, তা তাদের জন্যে এবং তোমরা যা করছ, তা তোমাদের জন্যে। তাদের কর্ম সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে না।
(02:141) That is a community that has passed away, for them is their earning and for you is your earning and you shall not be questioned of their works.
সূরা আল ইমরান-
(০৩:৮৪) অর্থ- বলুন, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের উপর, ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক,ইয়াকুব এবং তাঁদের সন্তানবর্গের উপর আর যা কিছু পেয়েছেন মূসা ও ঈসা এবং অন্যান্য নবী রসূলগণ তাঁদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আমরা তাঁদের কারো মধ্যে পার্থক্য করি না। আর আমরা তাঁরই অনুগত।
(03:84) Say (O Muhammad SAW): ”We believe in Allâh and in what has been sent down to us, and what was sent down to Ibrâhim (Abraham), Ismâ’il (Ishmael), Ishâque (Isaac), Ya’qûb (Jacob) and Al-Asbât [the twelve sons of Ya’qûb (Jacob)] and what was given to Mûsa (Moses), ’Iesa (Jesus) and the Prophets from their Lord. We make no distinction between one another among them and to Him (Allâh) we have submitted (in Islâm).”
সূরা ইব্রাহীম-
(১৪:৩৯) অর্থ- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি আমাকে এই বার্ধক্যে ইসমাঈল ও ইসহাক দান করেছেন নিশ্চয় আমার পালনকর্তা দোয়া শ্রবণ করেন।
(14:39) ”All the praises and thanks be to Allâh, Who has given me in old age Ismâ’il (Ishmael) and Ishâque (Isaac). Verily! My Lord is indeed the All-Hearer of invocations.
এখন কেউ যদি প্রশ্ন করে যে, এই (৩৭:১০১)নং আয়াতে যে পুত্রের সুসংবাদ দেয়া হয়েছিল তিনি যদি ইসহাক (আঃ)-ই হতেন তাহলে এখানে তাঁর নাম সরাসরি উল্লেখ করা হল না কেন?
এ ধরনের প্রশ্ন করলেই প্রকৃত বিষয়টি বুঝতে সুবিধা হয়। কারন আমরা জানি ইসহাক (আঃ) এর জন্মের সুসংবাদটি কোন অবস্থা ও ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত তা ১১ নং সূরা হূদ এর ৬৯ থেকে ৭৫ নং আয়াত পড়ে নিলে পরিষ্কার বোঝা যায়-
১১ নং সূরা হুদ (মক্কায় অবতীর্ণ)-
(১১:৬৯) অর্থ- আর অবশ্যই আমার প্রেরিত ফেরেশতারা ইব্রাহীমেরে কাছে সুসংবাদ নিয়ে এসেছিল, তারা বলল সালাম, তিনিও বললেন-সালাম। অতঃপর অল্পক্ষণের মধ্যেই তিনি একটি ভুনা করা বাছুর নিয়ে এলেন!
(11:69) And verily, there came Our Messengers to Ibrahîm (Abraham) with glad tidings.They said: Salâm (greetings or peace!) He answered, Salâm (greetings or peace!) and he hastened to entertain them with a roasted calf.
(১১:৭০) অর্থ- কিন্তু যখন দেখলেন যে, আহার্য্যের দিকে তাদের হস্ত প্রসারিত হচ্ছে না, তখন তিনি সন্ধিগ্ধ হলেন এবং মনে মনে তাঁদের সম্পর্কে ভয় অনুভব করতে লাগলেন। তারা বলল-ভয় পাবেন না। আমরা লূতের কওমের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।
(11:70) But when he saw their hands went not towards it (the meal), he felt some mistrust of them, and conceived a fear of them. They said: ”Fear not, we have been sent against the people of Lout (Lot).”
(১১:৭১) অর্থ- তাঁর স্ত্রীও নিকটেই দাড়িয়েছিল, সে হেসে ফেলল। অতঃপর আমি তাকে ইসহাকের জন্মের সুখবর দিলাম এবং ইসহাকের পরের ইয়াকুবেরও।
(11:71) And his wife was standing (there), and she laughed (either, because the Messengers did not eat their food or for being glad for the destruction of the people of Lout (Lot). But We gave her glad tidings of Ishâque (Isaac), and after him, of Ya’qûb (Jacob).
(১১:৭২) অর্থ- সে বলল-কি দুর্ভাগ্য আমার! আমি সন্তান প্রসব করব? অথচ আমি বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে এসে উপনীত হয়েছি আর আমার স্বামীও বৃদ্ধ, এতো ভারী আশ্চর্য কথা।
(11:72) She said (in astonishment): ”Woe unto me! Shall I bear a child while I am an old woman, and here is my husband, an old man? Verily! This is a strange thing!”
(১১:৭৩) অর্থ- তারা বলল-তুমি আল্লাহর হুকুম সম্পর্কে বিস্ময়বোধ করছ? হে গৃহবাসীরা, তোমাদের উপর আল্লাহর রহমত ও প্রভুত বরকত রয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ প্রশংসিত মহিমাময়।
(11:73) They said: ”Do you wonder at the Decree of Allâh? The Mercy of Allâh and His Blessings be on you, O the family [of Ibrahîm (Abraham)]. Surely, He (Allâh) is All-Praiseworthy, All-Glorious.”
(১১:৭৪) অর্থ- অতঃপর যখন ইব্রাহীম (আঃ) এর আতঙ্ক দূর হল এবং তিনি সুসংবাদ প্রাপ্ত হলেন, তখন তিনি আমাদের সাথে কওমে লূতের সম্প্রদায় সম্পর্কে বাদানুবাদ শুরু করলেন।
(11:74) Then when the fear had gone away from (the mind of) Ibrahîm (Abraham), and the glad tidings had reached him, he began to plead with Us (Our Messengers) for the people of Lout (Lot).
(১১:৭৫) অর্থ- ইব্রাহীম (আঃ) বড়ই ধৈর্য্যশীল, কোমল অন্তর, আল্লাহমুখী সন্দেহ নেই।
(11:75) Verily, Ibrahîm (Abraham) was, without doubt, forbearing, used to invoke Allâh with humility, and was repentant (to Allâh all the time, again and again).
কোরবানির ঘটনার সাথে ইসহাক (আঃ) এর সুসংবাদ দানের বিষয়টি বিচ্ছিন্ন একটি বর্ণনা মাত্র। এই সুসংবাদ দানের সাথে লুত (আঃ) এর কাওমের (তাদের কুকর্মের কারনে ) যে চরম পরিণতি হয়েছিল সেই ঘটনাটির সম্পৃক্ততা সরাসরি খুঁজে পাওয়া যায়। বিশেষ করে (১১:৭১ ও ৭২) নং আয়াতে বিষয়টি বেশ পরিষ্কার হয়েছে। কারন ৭১ নং আয়াতে ইব্রাহীম (আঃ) এর স্ত্রীকে পুত্র ইসহাক (আঃ) ও নাতী ইয়াকুব (আঃ) এর আগমনের অগ্রীম সংবাদ জানিয়ে আস্বস্ত করা হয়েছিল। এবং যখন এই সুসংবাদ দেয়া হয়েছিল তখন ইব্রাহীম (আঃ) ও তাঁর স্ত্রী এমনই বৃদ্ধ ছিলেন যে প্রথমে বিস্মিত হয়েছিলেন।
সুতরাং এ থেকেও বুঝে নেয়া যায় যে, কোরবানির ঘটনাটি ইসহাক (আঃ) এর জন্মের বেশ আগেই সংঘটিত হয়েছিল এবং (৩৭:১০১) নং আয়াতে যে পুত্রের সুসংবাদ দেয়া হয়েছিল তিনি নিশ্চয় ইসমাইল (আঃ)। কারন (৩৭:১১১) নং আয়াত পর্যন্ত এসে সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটানোর পর আবার ইসহাক (আঃ) এর আগমনের সুসংবাদটি পাঠকদেরকে এইজন্য পূণরায় স্মরণ করিয়ে দেয়া হল যেন তারা বুঝতে পারে যে প্রথম সুসংবাদটি কোন্ সন্তানের জন্য ছিল। আর এ কারনেই সন্দেহাতীতভাবে মেনে নেয়া যায় যে, মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.), ইসহাক (আ.)-কে নয়, দুই ভাইয়ের মধ্যে ইতিমধ্যে বাল্যকালে উপনিত বড় ভাই ইসমাইল (আ.)-কেই কোরবানি করতে নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর (৩৭:১১২) নং আয়াতে এমন আরও একজন পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে, যিনি সাধারন কেউ নন, তিনি একজন নবী 'ইসহাক (আঃ)'।
এভাবেই মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনকে পুরোটা বুঝে পড়ার জন্য উৎসাহী করে তোলেন। কিন্তু এমন অনেকে আছে যারা আংশিক পড়া হলেই না বুঝেই পড়া বাদ দিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, অনেকে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করতে থাকে। অনেকে আবার অন্ধ বিশ্বাসে নানা রকম ভুল তথ্যকে যাচাই না করেই গল্পের ছলে মনগড়া বক্তব্য ও ভুল মন্তব্য করতে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে তারা সঠিক বোধ ও পথ থেকে দূরে সরে যেতে থাকে।
মহান আল্লাহতায়ালা যেন আমাদেরকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করেন-
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১২ রাত ৯:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


