সত্য কখনো চাপা থাকেনা। সত্যর শক্তি এমনি যে সে যে কোন প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে একদিন না একদিন বের হয়ে আসবেই। আমার জানা মতে (পত্রিকা পড়া শুরুর বয়স থেকে) কোন সেনা প্রধানই স্ব-পদে থাকা অবস্থায় এরকম নিত্য নতুন বই বা বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখে নিজেকে দেশ প্রেমিক, শান্তির প্রতীক বলে প্রচারণা চালান নি। বর্তমান সেনা প্রধান মইন উ আহমেদ এর বিভিন্ন বক্তব্য, বই, কলাম পড়ে আমার কেন জানি সন্দেহ হয়েছিল যে এর মধ্যে কোন বড় ধরনের গলদ আছে। এখন একে একে ধরা পড়ছে। গতকালই এক ক্যাডেট ছাত্রের লেখা পড়ে বুঝলাম তিনি তার সদ্য প্রকাশিত বইতে চাতুরতার সাথে মিথ্য কথা বলেছেন।
তার বইয়ের ভাষ্য অনুসারে এক এগারো তিনিই দেশে ঘটিয়েছেন। এখানে আরো অনেক অজানা অধ্যায় আছে যা সদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে আরেক সেনা লে. মাসুদ উদ্দিন আভাস দিয়েছেন। জানি না আর কোন্ অপ্রিয় সত্য তিনি দেশ বাসীকে উপহার দেবেন।
আজ ঘটে গেলে বাংলাদেশের ইতিহাসে সামরিক বাহিনীর জন্য এক লজ্জাজনক ঘটনা। আমরা জানি বিডিআর আর সেনাবাহিনী দেশ রক্ষার জন্য একে অপরের পরিপূরক শক্তি। আমাদের এই অতি প্রিয় বাংলাদেশকে এক অতিকায় মুরুব্বির হাত থেকে ক্রমাগত রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সীমান্তরক্ষার অতন্দ্র প্রহরী এই বিডিআর বাহিনী।যদিও তারা মাঝে মাঝে কুলিয়ে উঠতে পারে না । সেই অতিকায় দানব আমাদের সীমান্তের সাধারণ মানুষদের অনবরত পাখির মতো গুলি করে মেরেই যাচ্ছে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে ত্রিসীমানা বেষ্টিত দেশটির বর্তমান সরকার সেই মুরুব্বি দেশের অনুকুলে হলেও এ যাবত তারা ছয় জন নিরিহ বাংলাদেশীদের হত্যা করেছে কিন্তু আমাদের নতজানু পররাষ্ট্র মন্ত্রী বা সরকারের কোন পক্ষ এর এখনও পর্যন্ত প্রতিবাদ জানায়নি। আমাদের এই সাহসী বিডিআর বাহিনী যতদূর পারে তাদের সামর্থ্য অনুযাযী তাদের মাতৃভুমিকে ভারতের আগ্রাসনের মুখে সংকোচনের হাত থেকে রক্ষা করে চলেছে।
এছাড়া তারা দেশের প্রচন্ড খাদ্যাভাবের সময় দেশ বাসীকে কম মূল্যখাদ্য সরবারহ করতে অতুলনীয় ভূমিকা রেখেছে।
অন্য দিকে আমাদের প্রাণ প্রিয় মাতৃভুমির সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক হলো সেনা বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধের পর তাদের বর্হিবিশ্বের কোন দেশের সাথে লড়াই করতে না হলেও তারা এদেশের আভ্যন্তরীন প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা রেখে চলেছে।
কিন্তু কথা হলো যে সব বুদ্ধিজীবী এই সেনাবাহিনীর ক্ষমতা খর্ব সহ তাদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমান কমানোর জন্য কলম ধরেন তাদেরকে যখন দেখা যায় বর্তমান সেনাপ্রধানের তথাকথিত শান্তির বার্তাবাহক বইয়ের মোড়ক উন্মচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির পদ অলংকৃত করতে তখন আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মনে সেই সেনা প্রধান সম্পর্কে নেতি বাচক ধারনার জন্ম নেয়া স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায়।
বিডিআর এর এই বিদ্রোহ হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোন দুর্ঘটনা নয়। এর পেছনে কাজ করেছে তাদের কে ক্রমাগত বঞ্চিত, নিগৃহীত করার ইতিহাস। ক্রমাগত ক্ষোভ, বঞ্চনার সম্মিলিত প্রকাশ হলো এই বিদ্্েরাহ। এই ন্যাক্কার জনক ঘটনা কোন মতেই বর্তমান সেনাপ্রধান এড়িয়ে যেতে পারে না। যেহেতু বিডিআর এর মহাপরিচালক সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকে সেনা সদস্যরা সেহেতু বিডিআর এর এই গুরুতর অভিযোগ সেনা প্রধানের জানা থাকার কথা। কিন্তু কেন তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি। তাহলে তিনিও কি এই দুর্নীতির সাথে জড়িত? ক্রমেই দেশের মানুষের সামনে বর্তমান সেনা প্রধানের চরিত্র প্রষ্ফুটিত হচ্ছে।
তাই তার উচিৎ জনগনের ভাবাবেগ কে মূল্যায়ন করে যথাযত পদক্ষেপ নেয়া।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



