somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... জীবন্ত লাশের মাঝে আমার ভালো থাকার দরকার নেই ...!!!
ঘটনাটা কিছুক্ষণ আগের। শরীর অসুস্থ মনে হওয়ায় ফার্মাসীর দোকানে গেলাম ওষুধ কিনতে। আমার স্বাস্থ্য ভালো না , তার ওপর ঝোলা জিন্সের প্যান্ট পরে গায় দিয়েছি শর্ট শার্ট। মোটা মানি ব্যাগটা প্যান্টের পেছনের পকেটে ফুলে ফেঁপে ঢোল হয়ে রয়েছে। হঠাৎ পেছনের পকেটে কার যেন হাত পড়তেই জোরে চেপে ধরলাম। চমকে উঠলাম , দেখি দাদীমার বয়সী এক বৃদ্ধা ! অনেক বয়স হয়ে গেছে । ভিক্ষা করেন। তিনি হেসে ফেললেন , কিরে ভাই , ভয় পাইছস ? আমি চুরি করি না , চুরি করব ক্যান ? দরকার হইলে চায়া খামু । মুহুর্তের মধ্যে প্রচন্ড রাগটা কেমন যেন মিইয়ে গেল। আমার খুব কষ্ট লাগলো। এই বয়সে তাঁর নাতি -নাতনী নিয়ে সুখের জীবন কাটানোর কথা ছিল , পরম করুনাময়ের কাছে প্রার্থনা করার কথা ছিল জগতের শান্তির জন্য , আশির্বাদ করার কথা ছিল অনাগত যে প্রজন্ম আসবে তাদের জন্য। মানুষ কতটা কষ্টে থাকলে , কতটা সময় না খেয়ে থাকলে , কতটা দূর্বিষহ জীবন যাপন করলে এই শেষ বয়সে এসেও মানুষের পকেট মারা যায় সেটা নিজের চোখে না দেখলে আমি হয়তো বিশ্বাসই করতাম না। আমি কোন কথা বলতে পারলাম না ঘটনার আকস্মিকতায়। তিনি বললেন , ভাই আমারে কিছু দিবি না ? আমি যে না খায়া আছি । আমি তো চুরি করি নারে ভাই। আল্লাহ তোরে ভালো করবো। আমি মানিব্যাগ খুলে তার হাতে কিছু দিয়েই দ্রুত অফিসের সিঁড়ি ধরলাম.... । মাথার মধ্যে সেই কথা বাজতে থাকলো , আল্লাহ তোরে ভালো করবো।
হায়রে আমার আল্লাহ , অর্ধ মৃত মানুষের মাঝে তুমি সুখ খুঁজে পেতে পারো তবু জীবন্ত লাশের মাঝে আমার ভালো থাকার দরকার নেই ...!!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28826533 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28826533 2008-08-02 13:24:12
আমার বড় হয়ে ওঠা ( কবি সমুদ্র গুপ্ত স্মরণে )
আমার স্বপ্নরা ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠে
ছাপ পড়ে যায় তাতে সুনীল সাগরের সুনীল জলের
প্রতিনিয়ত আমি বড় হয়ে উঠি
নাগরিক সভ্যতায় , সেমিনারের জোরালো ভাষণে ;
হাততালির বাহবা কুড়ায়ে
প্রতিনিয়ত আমি ছুটে যাই আমার স্বরলিপির কালো কালির আলিঙ্গনে।
আমি দক্ষ হাতের কারুশিল্পী হয়ে স্বপ্ন সাজাই
সোনালী ফ্রেমের মোটা চশমার ফাঁক গলে।
মৃত শব্দরা প্রাণ পেয়ে জেগে ওঠে আড়মোড়া ভেঙ্গে
আমার সুনিপুণ কথামালার ভঙ্গিমায়,
প্রতিনিয়ত আমি বড় হয়ে উঠি প্রেস থেকে দেশ জোড়া খ্যাতি নিয়ে।
কালো কফির মগে চুমুক দিতে দিতে
আমার বেশ ভালো লাগে কাঁপা কাঁপা হাতে কারো কপোল ছুঁতে,
মেঘলা আকাশের বাদল দিনে অথবা পড়ন্ত সোনার আলোয়
আজিজ মার্কেট থেকে শাহবাগের রাস্তায়
তোমার মুখ মনে করে প্রতিনিয়ত আমি বড় হয়ে উঠি ;
তুমি বলেছিলে আমাকে নাকি খুব বড় হতে হবে
তোমার সে চাওয়া অপূর্ণ রাখিনি আমি ,
আমি প্রতিনিয়ত বড় হয়ে গেছি দেশ কাল গন্ডি পেরিয়ে
সোনার থালায় কবিতার অর্ঘ্য সাজিয়ে
তোমার পায়ে আমার মৃত্যুকে বলিদান দিয়ে।।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28823393 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28823393 2008-07-23 16:42:44
আদর , তোমার জন্য এ আমার খোলা চিঠি

আদর আমার ,
আজ এই মেঘলা আকাশের বাদল দিনে খোলা চিঠি দিলাম ভাসিয়ে ইথারের এক অসীম সীমানায়। এ চিঠি যদি কখনো ভুল করেও তোমার চোখে না পড়ে ক্ষতি নেই কিছু । আমি জানব এ চিঠি তোমার কপোল ছুঁয়ে গেছে , তোমার এলোমেলো চুলে নাড়া দিয়ে গেছে , চোখে জল এনে দিয়ে গেছে তোমার জমিদার বাড়ির সেই পরিপাটি করে সাজানো দোতলার এক হাসনা হেনা ফুলের গন্ধে ভাসা সুন্দর ঘরটিতে বসে ।
আজ আমি বলব , হ্যাঁ সবই খুলে বলব তোমাকে। আজ আর তোমাকে জেরা করতে হবে না সবাইকে লুকিয়ে , তোমাকে বলতে হবে না আমার দু গালে হাত দিয়ে " জান ,সত্যি করে বলো তুমি আমাকে ভালোবাসো কিনা ? " আমার বুকে মাথা রেখে তোমাকে আর চোখের জল ফেলে বলতে হবে না , " একটি বার ,শুধু একটি বার বলো তুমি আমাকে ভালোবাসো "।

প্রিয়তমা আমার
আমি সেদিন বলতে পারিনি , আমার না বলা কত কথা , কত জমানো কষ্ট কত ব্যাথা -বেদনা । আমার বুকটা হাহাকার করে উঠেছে , দুমড়ে-মুচড়ে গেছে অকুল পাথারে ওঠা ঝড়ো তুফানে পড়া এক ভেঙ্গে যাওয়া জাহাজের মতো । আমি তোমাকে ভালোবাসি কিনা তুমি জানতে চেয়েছো ! উহ্ কি করে বোঝাবো আমার বুকের ভেতরে কি হচ্ছে ! লক্ষ লক্ষ দামামা আর হাজারো সাইরেন আমার বুকে করুণ সুরে বেজে উঠেছে মুর্হুমূহু । আমি তোমাকে বলতে পারলাম না। আমার চেয়েও বেশী ভালোবাসতে পারে তোমাকে এ পৃথিবী আর কে আছে ? আমার বুকটা ভেঙ্গে চুরে একাকার হয়ে গেল অথচ চোখে জল এলো না ! আমি খুব শক্ত করে তোমার মুখের ওপর বলে দিলাম , না বাসি না , তোমাকে ঘৃণা করি প্রচন্ড, প্রচন্ড ... তুমি চলে যাও , আর কখনো আমার সামনে এসো না ! কখনো না , ভুল করেও না....আমি তোমার মুখ আর দেখতে চাই না !

আদর আমি কাঁদলাম , কতক্ষণ কাঁদলাম আমি জানি না , সে কান্না আমার আজো শেষ হয়নি , জানি আর কখনো শেষ হবে না , জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমাকে কাঁদতে হবে । আমার পাপের কোন শেষ নেই । কত পাপ করেছি আমি তোমার সঙ্গে। কত ব্যাথা দিয়েছি , কত কাঁদিয়েছি তোমায় কারণে -অকারণে ....। তবু তোমার চোখের জল আমি মুছিয়ে দিইনি । কি দারুণ ব্যাপার তাই না ! আমি তো পুরূষ মানুষ , আমি সব পারি । আমার হৃদয় যে ইস্পাত দিয়ে গড়া , আমি যে সিংহ রাশির পুরুষ , আমাকে কোন মেয়ের সামনে কাঁদলে চলে না , আমাকে হাসতে হবে , উঠে দাড়াতে হবে , সবার সামনে হাসি মুখ নিয়ে খোঁজ খবর রাখতে হবে। বুকের ভেতর যত কষ্টই থাকুক আমাকে এগিয়ে যেতে হবে মুষ্ঠিবদ্ধ হাত নিয়ে , সিংহের মতো গর্জন করে .......তবেই না আমি সুপুরূষ !

সত্যি তো ? আমি কি আসলেই পুরূষ হতে পেরেছি ? জীবনের আজ এ পর্যায়ে এসে আমাকে কাপুরূষ মনে হয় । না হলে কেন আমি তোমাকে সেদিন ওভাবে ফেলে রেখে পালিয়ে এলাম এই শহরে ? কেন আমি আসার সময় একটিবারও তোমাকে বলে এলাম না ? কেন আমি তোমার চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বিদায় নিয়ে এলাম না ? সবকিছু জানার পরও তুমি যখন আমার কাছে চলে আসতে চাইলে আমি কেন তোমাকে ঠিকানা দিলাম না ? আমি কেন এত প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলাম না ? সারাজীবন আমি বলতাম , যারা পাপী তারাই মসজিদ-মন্দিরে যায় প্রার্থনা করতে , তাদের পাপ কমাতে । আমার কথা শুনে তুমি হাসতে , আমাকে বোঝাতে কিন্তু কখনোই আমার ওপর জোর করনি। আজ আমাকে জোর করার মতো কেউ নেই , আজ আমাকে কেউ মন্দিরে যেতে বলে না । আজ আমি নিজেই প্রতি সপ্তাহে একদিন মন্দিরে যাই , আমার পাপের ভার কমাতে , জানি তাতে পাপ কমে না বরং আরো বেড়ে যায় বহুগুন। হায় ভগবান ! অসীম তোমার খেলা , আমাকে পাপী বানিয়েই ছাড়লে , তোমার কাছে নিয়েই ছাড়লে.....নাস্তিক হতে দিলে না !

তোমার কাছে থাকতে তোমার জন্মদিন কবে যেত আমি ঠিক পেতাম না । তুমি আমাকে সারাজীবনই আত্নভোলা মানুষ বলেছো । কোন কিছুই ঠিক মনে রাখতে পারতাম না । অথচ আজ আমার কেমন যেন স্মৃতির পাতায় পাতায় লেখা সবকিছু মনে পড়ছে , কোন কিছুই আমি ভুলতে পারছি না। বুদ্ধদেব গুহর সেই লাইনটি আজ আমার খুব মনে পড়ে - " প্রাসাদ যে আমার একদিন অনুপম ছিল , আজকের ধ্বংসাবশেষই তার প্রমাণ ।" কি নিদারূণ সত্য , কি ভয়ংকর সুন্দর এ বাণী , কি গভীরতা এর মাধুর্যের ! আর সে গভীরেই আজ আমি ডুবে গেলাম ! আজ আমাকে ফেরানোর কেউ নেই , কেউ আজ আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে না , আদর করে আমাকে আজ কেউ মুখে খাবার তুলে দেয় না , আমার জন্য আজ সকালের নাস্তা বানিয়ে কেউ পালিয়ে নিয়ে আসে না , মন্দিরের বেদীতে বসে কেউ আজ আমার জন্য প্রার্থনা করে না , সকাল থেকে সন্ধ্যার বাতাসে আজ আমার জন্য কেউ বসে থাকে না অধীর আগ্রহে.....। কখন আমি আসব , কখন এসে তোমার সামনে ওই সোফাটায় বসব , সেই একটু দেখাতেই তুমি শান্তি পেতে , তোমার হাসি ভরা মুখ দেখে আমার যে কি হতো তা বোঝাতে পারব না । আমি জানি আজও সেই সোফাটা তোমার বেডরুমের একপাশে বসে আছে , ওখানে তুমি ছাড়া আর কারোর বসা নিষেধ। আজো আমার প্রিয় খাবার গুলো তোমার মুখে ওঠেনি । তোমার শ্বশুর বাড়ির সবাই জানেন, অতসব সুন্দর সুন্দর খাবার গুলো তোমার নাকি ভালো লাগে না ! তাহলে বলো সন্ধ্যাবেলায় আমার মুখে কি করে রুটি -কাবাব ওঠে ? কি করে সারাদিনের ক্লান্তির মাঝে আমি কফি খাবো ? কি করে টেংরা -ইলিশ- খাসীর মাংশ , আলপেনলিব চকোলেট , আইসক্রীম , আচার ,আম-কাঠাঁল-লিচু -কুল -আঙ্গুর-আপেল আমার মুখে ওঠে ? আরো কত কি যে আমার জীবন থেকে বাদ হয়ে গেল !

মনে পড়ে এক বৃষ্টি মুখর দিনে তুমি ঠিক এমনই সময় এসেছিলে আমার ঘরে । তুমি গান পছন্দ করতে । গান শুনতে চাইলে , আমি শোনাই নি । তুমি কষ্ট পেয়েছিলে খুব আর তাই বড় অসময় এসে গেল আমার জীবনে । গীটারের তার ছিড়ে গেল । আমি আর সে গীটারে হাত দিইনি আজো । যার জীবন থেকে হারিয়ে গেল দীপশিখা তাকে কিভাবে আর জ্বেলে রাখা যায় !
আমি যখন সময় কাটানোর জন্য অথবা কাজের জন্য বের হয়ে যাই দুরের পথে তখন নীল আকাশের দিকে আমার চোখ চলে যায় । আচ্ছা তুমি তো নীল আকাশ ভালোবাসতে , ওই নীল আকাশের কোন এক মেঘের ফাঁকে তুমি আমাকে লুকিয়ে রাখতে পারো না ? আমার আর এ জীবন ভালো লাগে না , সব কিছু কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে গেছে । এই শহরে এত মানুষ , এত কোলাহল , এত ব্যস্ততা , এত মুখ তবু সেই হাজারো মানুষের ভীড়ে একটি প্রিয় মুখ মেলাতে যাই , পারি না । শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আজ আমার কিছু নেই । আমার দীর্ঘশ্বাস তুমি কি এখন শুনতে পাও ? শুনতে না পেলে খুশী হবো খুব , আমি তো তোমার সুখই চেয়েছিলাম ..........।
আমার অপমান তুমি সহ্য করতে পারোনি । তুমি বলেছিলে আমাকে বড় হতে হবে , অনেক বড় , এত বড় হতে হবে যে আমার পা থাকবে মাটিতে কিন্তু মাথা থাকবে উঁচু হয়ে। সমাজের মানুষ আমাকে এক নামে চিনবে । আদর আমি এখন আর কত বড় হবো ........?

সিগারেট আমি কখনো সহ্য করতে পারতাম না । সারা জীবন আমার স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মাদকের বিরুদ্ধে বলে এসেছি । পান-বিড়ি-সিগারেটকে না বলেছি অথচ দ্যাখো নিয়তির কি নির্মম পরিহাস , আজ আমার সিগারেটকেই বড় বেশী আপন মনে হয় ! সিগারেটের শেষ আগুনটা এসে যখন আমার আঙ্গুল দুটোকে পুড়িয়ে দেয় তখন মনে হয় শ্মশানের ওই আগুন জ্বলা চিতাটায় সেদিন কেন ঝাঁপ দিলাম না ? আমার সীতাকে , আমার দেবীকে যে কত কাল আগে ,কত যুগ আগে , কি নিদারুণ ভাবে , নিজের হাতে ওখানে তৃতীয়বার শেষ বিসর্জন দিয়েছি !


তোমার বিস্ময়
০৬.০৬.০৮







]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28806885 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28806885 2008-06-06 18:54:19
আমি সেই পাপের পথে পা বাড়ালাম- পর্ব -২<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_51.gif" width="23" height="22" alt="/:)" style="border:0;" />

তখনো সন্ধ্যা লাগে নি । আমি বোর্ড বাজারের একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী হতে বেরতেই থমকে গেলাম একটি ডাক শুনে। চেয়ে দেখি আমারই বয়সের একটি তরুণ যুবক , কোলে ২/৩ বছরের একটি মেয়ে। ঘুমিয়ে গেছে। আর একটু পাশেই , দুরে দাড়িয়ে আছে তার স্ত্রী। যুবকটির চেহারায় আমি প্রচন্ড বিষন্নতা দেখলাম। শার্ট-প্যান্ট ইন করা এবং চামড়ার স্যান্ডেল পায়ে। তার স্ত্রীর সাজ-গোজ মোটামুটি ভালো। বুঝলাম একেবারে নিম্নবিত্ত না হলেও অনেক পরিশ্রম করে সংসার কোন রকম চলে যায়। অভাবের সংসারে সুখ না থাকলেও শান্তির অভাব নেই !

আমি এগোতেই যুবকটি বলল , তার বাড়ি শেরপুর। ঢাকায় গিয়েছিল আত্নিয়ের বাসায় বেড়াতে। বাসে ভাড়া দিতে গিয়ে দ্যাখে মানিব্যাগ খোয়া গেছে এবং বাসের সুপার ভাইজার তাদের এখানে নামিয়ে দিয়েছে। এখন বাড়ি যেতে পারছে না টাকার অভাবে । এ পর্যন্ত অনেক মানুষের কাছে সে সাহায্য চেয়েছে কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। যুবকটি ছলছল করে কেঁদে দিল। তার স্ত্রী বোধ হয় মানুষের কাছে স্বামীর এ হাত পাতা , মেনে নিতে পারছে না লজ্জায় ।

সেই অনেক মানুষের আমিও একজন হয়ে গেলাম। যুবকটির কোন কথা না শোনার ভান করে আমিও এগিয়ে গেলাম দ্রুত পায়ে বাসের টিকেট নেবার জন্য..........। শুধু পেছনে রেখে এলাম আমার ভাইঝির মতো দেখতে ঘুমন্ত , ফুটফুটে এক বাচ্চা মেয়েকে !

২৭.০৫.০৮

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28804423 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28804423 2008-05-30 09:38:45
আমি সেই পাপের পথে পা বাড়ালাম ...!পর্ব- ১<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_51.gif" width="23" height="22" alt="/:)" style="border:0;" />

গিয়েছিলাম দেশের নাম করা এক গ্রুপ অব কোম্পানিতে। সেখানকার প্রধান ইন্জিনিয়ার এবং জি.এম সাহেব আমাকে ডেকেছেন। গত পরশু রাত হতে সকাল পর্যন্ত ভয়ানক চুরি হয়ে গেছে সেই গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে। অনেক আগে থেকেই সেখানে সি.সি ক্যামেরা বসানো ছিলো এবং সেটা ধরাও পড়েছে। আমাকে সেই ইন্জিনিয়ার এবং জি,এম সাহেব ফিসফিস্ করে বললেন , ওই ভিডিওটা মুছে ফেলতে হবে যাতে এম.ডি সাহেব চুরির ঘটনা দেখতে না পারেন !

আমি জি , এম সাহেবের দিকে তাকালাম । বেশ স্মার্ট , মধ্যবয়সি এক ভদ্রলোক । কয়েক বছর আগে উনি মেজর থেকে রিটায়ার্ড করেছেন এবং এম.ডি সাহেবের অত্যন্ত বিশ্বাসী লোক। আর ইন্জিনিয়ার সাহেবের গাল আর থুতনী মুখ হতে ঝুলে পড়েছে , মোটা শরীরটায় কোট যেন ফেটে যেতে চাচ্ছে লজ্জায় । চোখের নিচে পাপের চর্বি জমে বাঁধ সেধেছে পাপ-পূণ্যের মাঝে। আমি ভাবলাম এদের বাচ্চাগুলো প্রতিবন্ধী হয়নি তো !

ওদের দিকে তাকিয়ে আমার শরীরটা গুলিয়ে উঠলো ঘৃণায়। তবু আমার কিছু করার নেই । ভিডিও ফুটেজ দেখলাম । চমকে উঠলাম এরকম সবার সামনে দিয়ে চুরি হতে দেখে । আমার অনুমান প্রায় কোটি টাকার গার্মেন্টস এক্সেসসরিজ চালান হয়ে গেছে এই কার্গোভ্যানে ! আমি তাদের সাথে যোগ দিলাম এবং ভিডিও ফুটেজ মুছে দিলাম খুব সাবধানে ...।

আমি জানি , এত টাকা চুরি হলো তবু কখনো এম.ডি সাহেব জানবেন না এবং তাঁর বিশেষ কিছু ক্ষতিও হবে না। ক্ষতি যা হবার তা আমাদেরই হলো। কারণ ওই টাকা থাকলে এমডি সাহেব দেশে আরো বিনিয়োগ করতেন , ফ্যাক্টরি হতো এবং কর্মসংস্থান হতো আর আমাদেরই সমৃদ্ধি আসতো।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28803078 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28803078 2008-05-26 18:56:57
আমার শিবির কলিগ ও তার হাফেজ সাহেব

তিনি আমাদের অফিসে প্রায় দুই মাস জয়েন করেছেন । তো এই কয়দিনের চাকরীর সুবাদে তাঁর সঙ্গে আমার বেশ বন্ধুত্ব হয়ে গেছে।কথায় কথায় জানলাম স্কুল -কলেজ জীবনে একসময় ও শিবির করত । এই রাজনীতি করতে যেয়ে তিনি অনেক দুর্ধর্ষ এ্যাকশনে গেছেন এবং কেসও খেয়েছেন। এখন তিনি শিবির সহ্যই করতে পারেন না। গতকাল অফিস থেকে বেরিয়ে চা এর আড্ডায় বসতেই এক পর্যায়ে তার সেল ফোন চুরি হয়ে যাবার গল্প বললেন । আমি অনেকক্ষণ ধরে হাসলাম। গল্পটা তার নিজের মুখেই শুনুনঃ

আমার ফোনটা চার্জে বসিয়ে বাড়ির বাইরে গেলাম কি এক কাজে। ২০/ ২৫ মিনিট পরে এসে দেখলাম ফোনটা নেই । বাবা-মা , বৌ সবার কাছে শুনলাম কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারলো না। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল।
এত দামের প্রিয় সেটটা ! অবশেষে খাওয়ার পর বৌ কে বললাম "আচ্ছা , আমাদের কেউ না কিন্তু খুব আপন এমন কেউ কি বাসায় এসেছিল ? ' বউ বলল , মাদ্রাসার হাফেজ সাহেব এসেছিলেন। কিছুক্ষণ থেকে চলে গেলেন। এই প্রসংগে বলা ভালো হাফেজ সাহেব আমার বড় চাচীমাকে মা বলে ডাকতেন এবং এ বাড়িতে সব ঘরে তার অবাধ যাতায়াত ছিল। বাবটা এমন যেন তিনি যে ঘরেই যাবেন সেই ঘরই পবিত্র হয়ে যাবে! আমার মন কেমন যেন নিশ্চিত হয়ে গেল হাফেজ সাহেবই সেটটি নিয়েছেন।

বড় চাচাকে আমার সন্দেহের কথা বলতেই তিনি ক্ষেপে গেলেন( আমি জানি এতে আমার পাপ হচ্ছে )। কারণ এমনিতেই আমাকে কেউ সহ্য করতে পারে না আমার রাজনৈতিক ও বিভিন্ন অপকর্মের কারণে। বড় চাচা যতই রাগ করুক আমি পরিস্কার বললাম , আমি হাফেজ সাহেবের কাছে যাচ্ছি এবং পারলে তাঁকে কেউ এসে বাঁচাক। ব্যাস আমার এক বন্ধু কে নিয়ে সন্ধ্যার পর মসজিদে গেলাম। দেখি হাফেজ সাহেব বসে তসবিহ গুনছেন। আমি সালাম দিলাম এবং তাকে বললাম , হুজুর , আমি একটু ঐ পাড়ায় যাব একটু এগিয়ে দেবেন ? এই প্রসংগে বলা ভালো সেদিন ছিল ঘোর অন্ধকারের রাত এবং আমাদের গ্রামে অনেক বড় একটা বাগান আছে , পাশ দিয়েই গেছে একটা নদী। যাই হোক হাফেজ সাহেব আমাকে এগিয়ে দিতে এলেন এবং বনের গভীরে যেতেই আমি হাফেজের পান্জাবীর কলার ধরে গাছের সাথে ঠেসে ধরে বললাম , আমার মোবাইল সেটটা কই ? হাফেজ সাহেব অবাক হয়ে গেলেন !
-- নাউজিবুল্লাহ , নাউজিবুল্লাহ! এইডা কি কও বাপ ?
-- কি বলছি বুঝতে পারছেন না ? আমার মোবাইল সেটটা দিয়ে দেন নইলে কিন্তু ........ইত্যাদি , ইত্যাদি ।

অনেক চেষ্টা করলাম কিন্তু তিনি কিছুতেই স্বীকার করলেন না । এক পর্যায়ে বললাম , আচ্ছা ঠিক আছে মোবাইল সেটটা আপনি নেননি। তারপরেও আমি আপনাকে মেরে ফেলব।
তিনি বললেন , কেন ?
আমি বললাম , আমি আপনার গায়ে হাত দিয়েছি এতে তো আমার পাপ হয়েছে তাই না ?
--হ্যাঁ
--আর আপনি গ্রামে যেয়ে আমার কথা বললে সবাই ক্ষেপে যাবে এবং আমাকে মারবে , তাই না ?
--হ্যাঁ , কিন্তু আমি কাউকে বলব না। বিশ্বাস করো ।
-- তা হবে না হুজুর , আমি ধরেই নিলাম মোবাইল সেটটা আপনি নেন নি তারপরেও আপনাকে আমি মেরে নদীতে ফেলে দেবো !! আমার বন্ধুকে বললাম গামছা দিয়ে ওর গলায় পেচিয়ে ধর , আর আমি ব্যবস্থা করছি ...।

এ কথা শুনেই হাফেজ সাহেব এবার হাউ-মাউ করে কেঁদে দিলেন এবং বললেন , হ্যাঁ বাবা , তোমার ফোন আমি নিয়েছি , স্বীকার করছি । আমাকে ছেড়ে দাও।
আমি বললাম , তা হবে না , আপনি ভয়তে স্বীকার করলেন । আমি কি করে বিশ্বাস করব যে , মোবাইল সেট আপনি নিয়েছেন ?
তিনি বললেন , দুপুরে তুমি সেট শোকেসের ওপর চার্জ দিতে রেখেছিলে।
--তারপর ?
--একটা কল এলো এবং আমি উঠে যেতে যেতেই কলটা কেটে যায় । তারপর আমাকে শয়তান ভর করলো এবং আমি সেটটা নিয়ে চলে গেলাম।
-- বাহ ! কি দারূণ নিয়ে চলে গেলাম ! আচ্ছা সেটটা কোথায় ?
--মসজিদে আছে , আমার কাছে ।
--ঠিক আছে এখনি গিয়ে সেটটা দিতে হবে এবং সবার সামনে স্বীকার করতে হবে।
তারপর আমরা বন থেকে বেরতেই অবাক হয়ে গেলাম । দেখি আমার চাচারা ও আরো গ্রামবাসী লাঠি হাতে আমাকে মারতে আসছেন। আমি তাদের সামনেই হাফেজ সাহেবকে একটা ঘুষি মারলাম । সাথে সাথেই হাফেজ সাহেব সব স্বীকার করলেন এবং আমার ফোনটা মসজিদ থেকে বের করে এনে দিলেন।

তারপরেও আমার চাচারা আমাকে ক্ষমা তো করেনই নি উল্টো আমাকে মেরেছেন হাফেজ সাহেবের গায়ে হাত দিয়েছি বলে !! হায়রে অন্ধ বিশ্বাস <img src=" style="border:0;" />


[ বিঃ দ্রঃ এই পোস্টটি কাউকে আঘাত করার জন্য নয়। কারো খারাপ লাগলে ক্ষমা করবেন। ]






]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28799478 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28799478 2008-05-18 19:56:18
<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /><img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> অভিনন্দন ভাস্কর দা ( ব্লগার ভাস্কর চৌধূরী ) <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /><img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" />

ওয়াও ভাস্কর দা !
কি খেলা দেখালেন <img src=" style="border:0;" />

আমাদের প্রিয় ব্লগার ভাস্কর চৌধূরী সিলেট বিভাগের " দৈনিক আমাদের সময় " সেরা রিপোর্টিং পুরষ্কার পেয়েছেন।

অভিনন্দন ভাস্কর দা । আমরা গর্বিত । আপনার আরো সাফল্য কামনা করছি ........। <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />

আরো দেখুন এখানে [link[http://www.news-bangla.com/index.php?option=com_content&task=view&id=500&Itemid=41]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28799005 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28799005 2008-05-17 17:16:49
প্রিয় শিল্পী মান্না দে'র এই গানটি চাই, প্লিজ ......<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_51.gif" width="23" height="22" alt="/:)" style="border:0;" /><img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_51.gif" width="23" height="22" alt="/:)" style="border:0;" /><img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_51.gif" width="23" height="22" alt="/:)" style="border:0;" />
প্রায় ৫ বছর আগে শুনেছিলাম । তার পর অনেক খুঁজেছি তন্ন তন্ন করে , পাইনি । প্লিজ গানটি থাকলে লিঙ্ক বা আমার মেইলে পাঠালে খুব কৃতজ্ঞ হবো।
গানটি কফি হাউজের রিপিট ....শিরোনাম " স্বপ্নের মতো ছিলো দিনগুলো"

" স্বপ্নের মতো ছিলো দিনগুলো
আজ আর নেই ...................
..........................................
নিখিলেশ লিখেছে প্যারিসের বদলে
পুজোটা এখানে কাটাবে,
কি এক জরুরী কাজে ঢাকার অফিস থেকে
মঈদুলকেও নাকি পাঠাবে ।
একটা ফোনে জানি রাজী হবে সুজাতা
আসবে না ফিরে অমল আর রমা রায় ,
আমাদের ফাকিঁ দিয়ে কবেই তো চলে গেছে
ওদের কখোনো কি ভোলা যায় ....?
স্বপ্নের মতো ছিলো দিন গুলো আজ আর নেই .......... "

প্লিজ গানটি থাকলে আমাকে দিবেন <img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28798895 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28798895 2008-05-17 13:11:19
গডফাদার

ফুটপাত থেকে ডাস্টবিন
নর্দমা থেকে পাঁচতারা হোটেলের কেবিন
পচাঁ , গলা মৃতদেহের মাঝেও আমি
পোলাও চালের গন্ধ পেয়েছি ,
খাসির রেজালা , চিকেন ফ্রাই , কাবাব -শিক কাবাবের
মাতোয়ারা গন্ধে আমি পাগল হয়ে
কুকুরের সাথে আলিঙ্গন করেছি
ক্ষুধা মেটাবার নেশায় তবু ক্ষুধা মেটেনি....।
ফাদার , বিশ্বাস করো
আমাকে তুমি কুত্তার বাচ্চা বলতে পারো
তবু কখনো মানুষ নয়, ভুল করেও নয়।

মা চেয়েছিল আমি যেন মানুষ হই
তাই বয়স চার পেরুবার আগেই
গিয়েছিলাম চক, শ্লেট হাতে মানুষ হবার কারখানায় ।
তবু পারিনি মানুষ হতে
কে আমার বাবা বলতে পারেনি আমার মা
শুধু বলেছিল , হতে পারে ঐ ভদ্রলোক কোট-টাই পরা চোখে চশমা
অথবা খাকী পোশাকের ঐ হোমরা -চোমরা কর্ত্তা
অথবা হাড়-জিরজিরে ঐ রিক্সাঅলা
ওদের একজন নিশ্চয়ই তোর বাবা।
ফাদার , বিশ্বাস করো
সেই মানুষ গড়ার কারিগররা আমায়
বেজন্মা বলে শতভাগ প্রমাণ করলো।

আমি কষ্ট পাবো বলে
মা আমায় লুকিয়ে রাখতো দিনের আলোয় ,
এভাবে আমার কতগুলো দিন ,খেলা করার সোনালী সময়
চুরি করে নিয়ে গেলো ভোরের কাঁচা -সোনা রোদ !
শুধু মা আমার কোথায় যেতো হারিয়ে
সন্ধ্যার আলো- আঁধারীর রাতে ,
শুধু খবর আসে একদিন আমার মা কে না-কি ধরে নিয়ে গেছে
ভদ্র সমাজের খাঁটি মানুষগুলো ।
ফাদার , বিশ্বাস করো
সেই বয়সেই মানুষ হত্যার দায়ে
আমার মায়ের তিনশ দুই ধারায় ফাঁসি হলো....।

মাকে বলেছিলাম , মানুষ হবো , মানুষের মতো
তাই মানুষ হবো বলে পল্টন থেকে শাহবাগ
বাটা সিগন্যাল থেকে পান্থপথ
মগবাজার , মৌচাক বা মালিবাগ
গুলিস্তান অথবা বনানী গুলশান ,
ট্রাফিক জ্যামে ছুটে গেছি পানি হাতে নিজের তৃষ্ণা চাপা দিয়ে
টুথ ব্রাশ অথবা ঝাল মশলা মুড়ি নিয়ে ,
তবু ভদ্র সমাজের মানুষগুলো আমাকে ছাড়েনি ।
ফাদার , বিশ্বাস করো
বাসের হেলপার থেকে সিগন্যালের ট্রাফিক পুলিশ
ফাঁকা মাঠে আমাকে ফুটবল বানালো !

আমাকে যে বাঁচতে হবে !
তাই ছোট্ট বেলার সেই প্রিয় আঁধারকে
আমার বড় বেশী আপন করে নিলাম
পা বাড়ালাম এক রহস্য ঘেরা জগতে ,
মগ বাজার , আমিন বাজার থেকে মুম্বাই , দুবাই
ম্যাক্সিকো ,ব্যাংকক , আফগান-পাকিস্তান ।
আমার খেলার খেলনা হলো
পয়েন্ট টু টু বোর থেকে এম সিক্সটিন , ফোরটি সেভেন ,
আমার সেই ফেলে আসা অনন্ত ক্ষুধা মিটালো
মরফিন ,প্যাথেড্রিন , হেরোইন কোকেন ।
ফাদার , বিশ্বাস করো
ভদ্র সমাজের মানুষগুলোকে নেশায় মাতিয়ে
আজ আমি সত্যিকারের মানুষ হলাম !

ফাদার , তোমার যীশূকে বলো
পৃথিবীর আদিমতম পেশা বন্ধ করতে ,
নবী-ঠাকুর তোমার আল্লাহ -হরিকে বলো
পৃথিবীকে ভালো করে চালাতে ।
নতুবা আমি আসব হাজার কোটি লক্ষ বছর ধরে
করে দিতে এ সমাজ ছিন্ন-ভিন্ন করে চুরমার ,
কোন এক পবিত্র মায়ের বেজন্মা সন্তান হয়ে
অসীম ক্ষমতার শক্তি নিয়ে আমি এক গডফাদার !




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28793759 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28793759 2008-05-03 13:47:12
বৌভাত ও ভাইঝি

প্রায় তিন মাস পর বাড়ীতে গিয়েছিলাম গত সপ্তায়। সবাই তো খুব খুশী সেই সাথে আমিও। যেদিন গেলাম তার পরের দিন আমাদের এক প্রতিবেশীর বিয়ের বৌভাত ছিল। দাওয়াতে গেলাম ছোট ভাইঝি কে নিয়ে। ওর বয়স সবে মাত্র তিন বছর কি একটু বেশী হবে । খুব দুরন্ত , সেই সাথে পাকা পাকা কথা। যাই হোক বিয়ে বাড়ি , নতুন বৌ বসে আছে টুকটুকে লাল শাড়ি পরে। বৌ এর চারপাশ ঘিরে অনেক মানুষের ভীড়। আমার ভাইঝি বৌ দেখবে এবং তার পাশে একটু বসবে কিন্তু সাহস পাচ্ছে না। এক পর্যায়ে আমি যখন ওকে নিয়ে এলাম তখন সে খুবই আফসোস করে বলল , আমার মা'র যদি বিয়ে হত তবে তার পাশে আমি একটু বসতাম........!!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28780568 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28780568 2008-03-19 19:23:11
বারবণিতার জবানবন্দী

মাফ করবেন মাননীয় বিচারক
আমার বেয়াদবী মাফ করবেন।
আমাকে সত্য বলার আদেশ দিয়েছেন
তাই সত্য বলব , শুনবেন ?

সেই ছোট্ট বেলায় পুতুল খেলার বয়সে
নেহাৎ মন্দ ছিলাম না
সবাই বলত আমি নাকি চাঁদকুমারী;
ঘোর আমানিশার রাতেও ফুলপরীরা
আমার কপোলে চুম দিয়ে যেত।
মাফ করবেন মাননীয় বিচারক
আমার বেয়াদবী মাফ করবেন
আমাকে নয়ন-মণি বলে জানবেন।

মাস গেলো দিন গড়িয়ে
কখন যেন ছোট্ট হাতে বাবার হাত ধরে
স্কুলে গেলাম মানুষ হতে ,
চারদিকে কেমন কানাঘুষো শুরু হলো
পাড়ার ছেলেরা আমাকে ইশারায় ডাকলেন ।
মাফ করবেন মাননীয় বিচারক
আমার বেয়াদবী মাফ করবেন
আমাকে কিশোরী বলে জানবেন।

বাড়িতে এসে মাকে বললাম ,
" মা, আমি দেখতে কেমন ?
দেখতে কি মালের মতন ?
মাতবর চাচা কেমন যেন আদর করলেন ! "
মাফ করবেন মাননীয় বিচারক
আমার বেয়াদবী মাফ করবেন
আমাকে নারী নয় , ভোগের দারুণ এক পণ্য বলে জানবেন ।

মা আমার কথায় আঁচলে মুখ ঢাকলেন
" এমন কথা কাউকে বলো না ।"
কিন্তু আমার বাবা কথাটা ঠিকই শুনলেন ।
আমার স্কুল যাওয়া বন্ধ হলো ;
চোখের জলে পুতুল ভাসলো
শহরতলীতে আমার বিয়ে দিলেন।
মাফ করবেন মাননীয় বিচারক
আমার বেয়াদবী মাফ করবেন
আমার বাবা সমাজে তাঁর সম্মান বাঁচালেন ।

শ্বশুর বাড়িতে আমার মাতাল স্বামী
আমাকে নতুন মন্ত্রে দীক্ষা দিলেন।
টাকার লোভ আর মদের নেশায়
বাসর ঘরে আমাকে অন্যের হাতে তুলে দিলেন।
হায় আমার সতীত্ব ! কোথায় হারালো নারীত্ব !
মাফ করবেন মাননীয় বিচারক
আমার বেয়াদবী মাফ করবেন
আমার স্বামীকে সুপুরূষ বলে চিনবেন।

কতরাত কাঁদলে তোমার ঘুম ভাঙ্গে
কতরাত প্রার্থনা করলে তোমার মন ভরে
হায় খোদা , হা ভগবান , হা ঈশ্বর !
কতদিন উপোস থাকলে তোমার দেখা মেলে ?
আমার কান্না কেউ শোনেনি
আমি নরক হতে আরো দূর দূর নরকে তলিয়ে গেলাম...!
মাফ করবেন মাননীয় বিচারক
আমার বেয়াদবী মাফ করবেন
বিধাতাও যে পুরুষ ছিলেন .......।

আমার মহুয়ার গন্ধে সকল পতঙ্গ ছুটে এলেন
ডাক্তার- কবিরাজ -ব্যবসায়ী
ছাত্র -পুলিশ থেকে বুদ্ধিজীবি,
সবাই আমাকে দারুণ উপোভোগ করলেন ।
মাফ করবেন মাননীয় বিচারক
আমার বেয়াদবী মাফ করবেন
তাঁদের কে সমাজের মাথা বলে চিনবেন।


আর তলিয়ে যাওয়া নয়
আর কান্নার মোহ নয়
আমাকে নারী নয় , মানুষ হতে হবে
প্রতিবাদ করলাম সকল অপবাদের
শহরতলীর অলিতে গলিতে প্রায় প্রতিরাতে
থানার দারোগা ভন্ডসমাজের লাশ খুজে পেলেন ,
মাফ করবেন মাননীয় বিচারক
আমার বেয়াদবী মাফ করবেন
সুশীল সমাজ আমাকে আজ বেশ্যা বলে ডাকেন....।





















]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28776650 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28776650 2008-03-05 17:56:51
সা...ইন কর্তৃপক্ষ রাজাকাদের দালাল http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28768990 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28768990 2008-02-10 19:34:28 যুদ্ধোপরাধীর পোস্ট ব্লগে চাই না...... আমরা আজও এদের ঘৃণা করি । এ ঘৃনার কোন শেষ নেই .....কোন দিন শেষও হবে না ..........
ব্লগের সুস্থ পরিবেশটাকে আর অস্থিতিশীল করবেন না প্লিজ সাম..ইন কর্তৃপক্ষ......... এই ব্লগ আমাদের প্রাণের , আমার দেশের , আমার মায়ের ভাষার .... আর অপমান করবেন না প্লিজ ........ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28768970 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28768970 2008-02-10 19:18:00
তুমি আসবে বলে

তুমি আসবে বলে
এখনো আমরা পথ চেয়ে বসে আছি তীর্থের কাক হয়ে ,
অনাহারীর মুখে দু'মুঠো ভাত পড়বে বলে
মজুতদার তার আড়ত খুলে দিয়েছে হাসিমুখ নিয়ে।
মুক্তিযুদ্ধের সব বীর সৈনিকেরা করবে পূরণ
তাঁদের লালিত স্বপ্ন সাঁইত্রিশ বছর পর ,
প্রিয়নেতা এসেছেন উঠে দেখো মঞ্চে
ফিরিয়ে দিতে আমাদের সব হারানো অধিকার।
সোনার বাংলা হেসেছে আবার ষোড়শীর সাথে
রফিক, রুহুল, নূর হোসেন-আসাদের শার্ট নিয়ে,
সিপিবি,উদীচী -ছায়ানট উঠেছে জেগে আবার
রমনার বটমূলে স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে।

তুমি আসবে বলে
প্রিয় কবি দেখো লিখেছেন কাব্যগ্রন্থ তাঁর
কাঁপা কাঁপা হাত নিয়ে এই মাঘের রাতে ,
কান্নাকাটি সব বাদ দিয়ে ছুটে এসেছে শিশু
মায়ের কাছ থেকে হাসি নিয়ে ফোকলা দাঁতে।
মুখরিত হয়েছে তরুণ-তরুনীর পদভারে
বাংলা একাডেমীর বইমেলা ,
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সচিবালয়ের কেরাণী
ভাবেনি আমার ফাইলটা কোন ঝামেলা।
সাম্প্রদায়িকতার জন্য লজ্জা পেয়েছে বেশ
আল বদর , রাজাকার , মৌলবাদীরা ,
সব ভেদাভেদ ভুলে নারীর জন্য এগিয়ে আসায়
তসলিমা নাসরিন পেয়েছে গণসংবর্ধনা।

তুমি আসবে বলে
পুলিশ ডিপার্টমেন্ট দেখো জাতীয় পতাকা কাঁধে নিয়ে
গর্ব করছে সততায় ,
মন্ত্রণালয় মন্ত্রণা করে অ্যাম্বাসীর কাছে
বাংলাদেশকে বেঁচেনি পরম মমতায়।
তুমি এসেছ বলে
বাহান্নের একুশ পলাশের আল্পনায় ,
প্রভাতফেরীর গানে নত করেছি মাথা
সারা বিশ্বের কাছে শ্রদ্ধা ভালোবাসায় ।






]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28768320 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28768320 2008-02-08 20:09:33
আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি


সেদিন ভর দুপুরে কৃষ্ণচূঁড়া রাঙ্গিয়েছিল আগুন
মহুয়ার গন্ধে পাহাড় পেয়েছিল ফাগুন
কি ক্ষণ ছিল তখন
অথবা কোন তিথী আমার জানা নেই ;
অমানিশার কালো দেয়াল তবু
আড়াল করে দিল আমাদের
চিরচেনা প্রিয়মুখ সেই ।
প্রিয়তমা
আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি
এভাবে বিদায় নিতে হবে ,
আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি
এভাবে সব ছেড়ে আসতে হবে।

শেষবারের মতো একবারও ছোঁয়া
হলো না তোমার আঙ্গুলগুলো;
চোখের অনেক নিচে জল নিয়েও
খেলা হলো না আমার ,
অনামিকায় সব রেখে এলাম
তোমার সাঁতারের জন্য !
প্রিয়তমা
আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি
এভাবে বিদায় নিতে হবে ,
আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি
এভাবে সব ছেড়ে আসতে হবে।

তোমার নীরব কান্নাকে আমি
হৃদয় দিয়ে শুনতে পেয়েও
দ্রুত চলে এলাম ভ্দ্র পুরুষ হয়ে
কুকুরের মতো লেজ গুটিয়ে !
তোমার ভালবাসা নিয়ে
যাত্রী ভর্তি ট্রাম বাসটা ধরব বলে...
প্রিয়তমা
আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি
এভাবে বিদায় নিতে হবে ,
আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি
এভাবে সব ছেড়ে আসতে হবে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28767961 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28767961 2008-02-07 18:24:56
কতজনই তো যাবে হেঁটে

কতজনই তো যাবে হেঁটে
কতজনই তো মাড়াবে এ পথের ধূলো ,
কতজনই আসবে এ পথে
কতজনই যাবে রেখে স্মৃতির চিহ্নগুলো।
শুধু সে আর ফিরবে না চিরচেনা এ পথে
হাতিশুঁড়ের বাঁকের কাছে ;
শ্রাবণ থেকে চাঁদ ভেজা
শুক্লা দশমীর কোন ফাগুন রাতে।
উঠবে না হেসে আর এই রূপালী সন্ধ্যায়
কোন এক মায়াবীনীর মুখ মনে করে
শিশির সিক্ত এক হলুদপাখি ,
উঠবে না ভরে পূর্ণিমা জোয়ারে
সাগর ছুঁয়ে আসা দু'কূল ছাপানো
চিত্রা -পম্পা -মেঘনা -ইছামতি।
বুঝবে না কখনো আর
কৃষ্ণচূড়ার বন হতে আনমনে
ছুঁয়ে যাওয়া কোন এক দখিন হাওয়া,
এ পথ শুধু নিঃশেষ করে সব
নিয়ে যেতে জানে আপন মমতায়
হয় না কিছু ফিরে পাওয়া।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28766648 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28766648 2008-02-03 17:52:57
আমি তো সুখে থাকবই


আমি তো সুখে থাকবই
আষাঢ় আকাশে চাঁদ যখন সভা বসাবে
কলা পাতা চুঁইয়ে ঝরবে যখন
তোমার হাহাকার মিশায়ে বৃষ্টির কান্না ,
হঠাৎ দমকা এক বাতাস এসে
এলোমেলো করবে যখন
তোমার কপোল ছুঁয়ে যাওয়া রক্তিম তারা
আমি তখন সুখী হবো !

আমি সত্যিই সুখী হবো
যখন রাজপ্রাসাদের কোন এক রাজমহলে
পরম মমতায় কারো বুকে মাথা রেখে
আমার জন্য ছাড়বে দীর্ঘশ্বাস,
আর অভিশাপের মালা হয়ে
ছুটে আসবে তোমার দোতলার জানালা ধরে
জুঁই , চাঁপা -হাসনাহেনার গন্ধ.......
আমি তখন সুখী হবো !

শুকতারা ভাসা সন্ধ্যার আকাশে
পাখিরা সব ফিরবে যখন ক্লান্ত হয়ে
দিকে দিকে ধ্বনিত হবে যখন
উপাসনার পূণ্যবাণী ;
তুলসী তলা থেকে ঠাকুর ঘরে
সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালতে গিয়ে
আমি যখন উঠবো ভেসে
তোমার শত শ্রদ্ধার দেবতার মুখে ,
আর না পাওয়ার এক দুঃসহ বেদনা
পাহাড়সম শেল হয়ে
জল এনে দেবে তোমার চোখে .......।
সেই পূণ্যক্ষণে আমার সকল ব্যাথা
গোপন করে ভেনাস ,
সুখী হয়ে যাবো বিশ্বাস করো তুমি
তিথী , ক্ষণ থেকে অনাগত বারোমাস ।








]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28764459 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28764459 2008-01-26 18:17:32
অন্য রকম জীবন অন্যরকম হতে পারত এ জীবন
অন্যরকম,আর দশটা -পাঁচটা শিশুর মতন
হেসে খেলে বড় হতে পারত ;
ডানা মেলে দিত গাংচিল হয়ে
সুনীল আকাশে , ভর রেখে জীবনটাকে।

অন্যরকম , একে বারেই অন্যরকম
হতে পারত এ জীবন
আর দশটা মানুষের মতো খেয়ে পরে ,
মদ আর নারী মিলে বিলাসী জীবন অথবা
সারা জীবনের পাপ কমাতে
বেলা শেষে ধার্মিক পুরুষের জীবন যাপন !

অথবা হতে পারত এ জীবন এক আধুনিক কবি
মদ , নারী আর সিগারেট
হতে পারত তাঁর কবিতার অমূল্য সম্পদ ;
রাতের আলো আর দিনের টেবিলে
কংক্রীটের দেয়ালে আধুনিক কবি দেখত
নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা ।

অথবা এ জীবন হতে পারত চোখ ধাঁধাঁনো
জনপ্রিয় এক আশ্বাসের নেতা ;
ষোল কোটি মানুষের ক্ষুধা হতো
নেতার বর্ণিল জীবনের অঢেল বিলাসীতা
অথবা ভেসে যেত অর্থবন্যায়
ডাক্তারের এক বীরত্বগাঁথা।

পারেনি ভেনাস কখনো পারেনি
সে জীবন মেনে নিতে আমার মন !
যে চোখ ছুঁয়ে গেছে এ পাতার কাঁপন
যে ঠোঁঠে এঁটে গেছে হৃদয়ের গাহন
সে শরীর কিভাবে পারে বলো
নিশ্চিত সে পথে হেঁটে যেতে, অনাগতকাল ধরে.......।


















]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28764168 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28764168 2008-01-25 15:03:46
চলে যাও ভেনাস ......


চোখ যায় যতদুর তোমার
ধূসর প্রান্তর থেকে সুদুর সীমানায়;
লোকালয় থেকে গহন অরণ্যে
গোধূলী মেশে যেথায়।
চলে যাও ভেনাস শেষবার
সব তার ছিড়ে দিয়ে।।
পলাশের আগুন সিঁথিতে নিয়ে
হেঁটে যাও তিলোত্তোমায়,
দোতলার জানালা খুলে
মন ঢেকো তুমি হাসনাহেনায়।
হারালো যে পথিক পথের ভুলে
কি লাভ বলো এখন তাকে নিয়ে?
চলে যাও ভেনাস শেষবার
সব তার ছিড়ে দিয়ে।।
উড়ে যায় যে চিল কপোতাক্ষে
শঙ্খচূড়ীর ছন্দতায়,
আকাশ জানাবে সুখবার্তা
তার শিরা -উপশিরায়।
নতুন যদি আসে পূর্ণতা নিয়ে
পুরোনোকে বাঁধবে কোন শূণ্যতা দিয়ে ?
চলে যাও ভেনাস শেষবার
সব তার ছিড়ে দিয়ে।।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28762637 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28762637 2008-01-20 18:04:35
লাল সবুজের পতাকা নিয়ে
আমি এসেছি দ্যাখো
হিজল থেকে হলুদের মাঠ পেরিয়ে
চিত্রা -মধুমতির স্রোতে ভেসে
আমার সোনার বাংলায় ,
তোমাদের মিছিলের একই কাতারে
শ্লোগানে শ্লোগানে রাজপথ ভরে দেবো বলে
শেষ থেকে একেবারে সামনের সারিতে ;
ফিরায়ে দেবে কি বন্ধু আমায়
সুহৃদ করে কি নেবে না আর ?
আমার রক্তে যে তোমাদের গুন্ঞ্জন শুনেছি .....।

একবার ভুল করেছি সেই ঊনিশ বাহান্নে
আর একবার ঊনিশ সাত একে
ক্ষমা করে দিয়ে
অমানুষেরা মানুষ হবে বলে !
ঠিক দেখো এবারে দেবো মিশায়ে
নরপিশাচের সকল উদ্দাম নাচ,
কাঁপায়ে দেবো দেখো
সেই পুরোনো শকুনীদের
লকলকে জিহ্বার বিষাক্ত আঁচ।
ফিরায়ে কি দেবে এ হাত আজ
শক্ত করে কি ধরবে না আর ?
তোমাদের চোখে যে আমার স্বপ্ন দেখেছি !

আমি এসেছি জয়িতা
দৃপ্ত হাতে লাল -সবুজের পতাকা নিয়ে
তোমাদের জয় করবো বলে ;
গোপনীয়ার সব কষ্টকে ঝলমলে রোদের সকালে
প্রকাশ করবো বলে ,
নতুন বসন্তে মুকুলের গন্ধ নিয়ে
মুক্ত বিহংগের মতো সুনীল আকাশে ভাসব বলে,
জাতির এই ঘোর আঁধারে
নবজন্মের সাথে পুনঃজন্ম নিয়ে
সন্ধ্যাপ্রদীপ হয়ে অনাগতকাল জ্বলব বলে ,
ফিরায়ে কি নেবে না আমায় ?
বন্ধুবর , কৃষ্ণচূড়ার আগুন নিয়ে
তোমাদের দ্বারে যে আজ আমি এসেছি ....।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28762051 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28762051 2008-01-18 10:54:09
এত হতাশার দিন সারাদিন বিষন্ন , ভাল লাগে না কিছুই
হলদে পাখির রং , সাদা বকের সারি
সবুজ ঘাসের চাঁদর অথবা পাহাড়ী মেয়ের হাসি
সবকিছু কেমন যেন এলোমেলো
হয়ে যায় নিজের কাছে ।
দিন যেতে হয় তাই চলে যায়
পেছনে রেখে যায় শহর , বন্দর , গ্রাম
নগর সভ্যতা অথবা মানুষের বাঁচা মরা
কেমন যেন ঘোর থেকে যায় ;
সারা পৃথিবী অবিশ্বাসী মনে হয়
দু'চোখে শুধু লোভ , ঈর্ষা
আর লুটেপুটে খাওয়ার দ্রুত প্রতিযোগীতা !

কোথায় হারায় মায়া- মমতা আর ভালবাসার চুম্বক
রিখটার স্কেলে সাত দশমিক ছয় ছাড়ায়
অমানবিকতার ছুঁয়ে যাওয়া।
এখানে শান্তি নেই , ওখানে শান্তি নেই
কোথায় শান্তি পাব বলতে পারো ?
হৃদয় তবু ওঠে না জেগে
স্পর্শ করে না তোমার দু'হাত
চিৎকার করে ওঠে না কেঁদে মাঝরাতে
ঝরে না অশ্রু তোমাকে ভেবে
বড় যান্ত্রিক , যান্ত্রিক এ জীবনে তবু
স্বপ্ন দেখে যেতে হয় ..........। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28760897 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28760897 2008-01-14 18:48:19
ভেনাস তোমাকে ভালবেসে ......
এইখানে এসো
এইখানে আকাশ , বাতাস ,নদীর জল হিম হয়ে আছে ;
কুয়াশার ভোর আরো নিবিড় করে
কষ্টকে রেখেছে জমা অমরাবতীর কাছে ।
এইখানে জোনাকীর আলো প্রদীপ জ্বালায়
অলস মানুষের অঢেল দিনের শেষে ;
ধূপের গন্ধ বাসর ঘরের বধূটির মতো
ধীর চোখে খুজে যায় কাউকে ভালবেসে ।

সময় এখানে স্থির , নেই শহর অথবা নগরীর
সারাদিনের অজস্র মুখের কোলাহলপ্রিয় ব্যস্ততা ;
এইখানে ভীড় করে আছে পৃথিবী পারের
অসীম আকাশ আর পর্বত রাজের মৌনতা ।
এইখানে ডেকে যায় শিমুল পলাশের বন হতে
ফটিকজল তার লক্ষ্মীটিকে হারায়ে ;
এইখানে শুয়ে থাকে অশরীরি পুরুষ এক রাত্রির কোল ঘেষে
মৌনতা ভোর কেটে যাবে বলে , ভেনাস তোমাকে ভালবেসে .......।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28758918 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28758918 2008-01-08 18:04:37
পাপী হয়ে গেছি আমাদের হয়নিকো দেখা
কোনদিন কোন কালে
তোমার কল্পনার গোধূলী লগনে ;
তুমি লেখনি কোন গান অথবা কবিতা
কোন উদাস দুপুরে অথবা দিনের শেষে
ফেলনি চোখের জল
আমাকে ভালবেসে অথবা
মুছিয়ে দিইনি আমি আদর করে
অথবা আঁকিনি তোমার কপালে
ভোরের ছোট্ট নরম সূর্য !
অথবা মনে কর
গাওনি কোন গান রবি ঠাকুরের
অথবা ইন্দ্রাণী সেনের
অথবা অনুরাধার সুরে মিলাওনি সুর
শুধু আমাকে কাছে পেতে ..........।

অথবা মনে কর
থাকনি দাঁড়িয়ে
সারাটা দিন ধরে পথের পরে ,
অথবা পরনি কোন আকাশী রঙের শাড়ি
অনেক যতনে ,
অথবা খোঁপাটি বাঁধনি বেলীর বাঁধনে .........

মনে কর প্রিয়তমা
মনে কর ..........
রাখনি এই হাত তুমি নীরার মতো
অথবা বলিনি আমি সুনীল হয়ে,
‌‍ এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ
আমি কি এই হাতে আর কোনদিন
পাপ করতে পারি ! "]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28757667 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28757667 2008-01-07 19:12:18
এখানেও নির্মম পরিহাস ...! তোমার জন্যই লেখা , তোমার জন্যই আবার শুরু করলাম ...। দেখি জীবনের বাঁকটা পার হওয়া যায় কিনা ....
তোমার জন্যই আমার আজ আবার লিখতে হলো , জানি না ঠিকমতো বোঝাতে পারবো কি না।

তুমি তো বেশ ভালো করেই জানো আজ আমি কোথা থেকে উঠে এসেছি , কোথায় কোন মানসিক অবস্থায় ছিলাম আর কোথায় যাচ্ছি । জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমি বাঁধা পেয়েছি , প্রতিটি পদে পদে প্রবঞ্চনার শিকার হয়েছি , ভাগ্য আমাকে পরিহাস করেছে ।

আজ এমন অবস্থায় তুমি যখন বললে আমাকে এই ব্লগে কিছু একটা লিখতে এবং লিখতেই হবে ( অনেকটা বাধ্য করলে ) ঠিক তখনই আমি লিখলাম। কিছু একটা লিখেছিলাম এবং সেটা ব্লগে প্রকাশও করেছিলাম। তারপর তোমাকে ফোন দিলাম দেখার জন্য , কিন্তু তুমি দেখলে না বাইরে থাকার কারণে । কিন্তু আমি এই মাত্র সেই লেখাটা দেখতে গিয়ে দেখি 'ডিলিট' হয়ে গেছে আমারই ভুলের কারণে........! সেটা আহামরি এমন কিছু ছিল না কিন্তু আমার প্রথম লেখা তোমাকে নিয়ে , তাও আমাকে উপহাস করলো .......
কি দারুন ব্যাপার তাই না ...!

ভালো থেকো ভালোবাসা নিয়ে .......
তোমার আমি
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28750042 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28750042 2007-12-07 19:40:41
অপরাধ যতো ক্ষমা করো বন্ধু আমায় ....... কোন এক শুক্রবার এর সকালে তুমি এসেছিলে কম্পিউটারের হার্ডওয়ারের ক্লাশ করতে আমাদের ভীষণ প্রিয় আশুদা'র বাসায়। আমরা কয়েকটি ক্লাশ করলেও তুমি ছিলে একেবারে নতুন। তাই আমাদের ( বিশেষ করে রনি ও আমি ) কিছুটা অহংকার বোধও ছিলো। এরপর দিন গড়ালো , আমরা ক্লাশ করতে লাগলাম। আমি তোমার পুরোনো সাইকেলটাকে আর তোমাকে দেখতাম। আমাদের মাঝে তোমার কথাকে কেমন যেন এক নতুন মাত্রা এনে দিত। সবকিছুকেই তুমি কেমন যেন একটু বেশীই বুঝতে ( যেটা তুমি নিজেই স্বীকার করতে এবং আমিও অনেক পরে স্বীকার করেছি ) ! আর একারণেই একদিন তোমার সঙ্গে রনির তুমুল তর্ক বেধে গেল , আমি একবার তোমার দিকে আর একবার রনির দিকে সাপোর্ট করতে লাগলাম। একপর্যায়ে তুমি আমাকে ব্রোকারই বলে ফেললে....!
তারপর দিন যায় মাস যায় তুমি ঠিকই ক্লাশ করতে লাগলে আর আমি ঝরে গেলাম । নিয়তির কি নির্মম পরিহাস দেখো আমাদের ঠিক আবার একই জায়গায় তিনি এনে দিলেন । আমরা চাকরী নিলাম একই ফার্মে ‌‌'‌‌জান কম্পিউটারে'। সেখানে তো আমি কিছুই বুঝতে পারতাম না তুমি সাপোর্ট না দিলে।
তারপর কত কি হয়ে গেল ......... কত ঘটনা , কত কাহিনী। তোমার মনে পড়ে আমার সেই প্রথম সিগারেট খাওয়া ? চৌরাস্তার এক নিয়ন বাতির নিচে দাড়িয়ে ওটাকে আমি মুখে নিয়েছিলাম ! আমার ভেতরে অনেক কষ্ট ছিল , জ্বালা ছিল তাই সিগারেট দিয়ে নেভাতে চেয়েছিলাম ....জীবনে সবচেয়ে বেশী ঘৃণা করতাম এই বস্তুটাকে। আমার শুভাকাংখি , ছাত্র/ছাত্রীদের কে এর বিরুদ্ধে সচেতন করে তুলতাম , নিষেধ করতাম ওই বস্তুটার দিকে না যেতে। মাদকের কথা এলেই আমার প্রিয় পত্রিকা প্রথম আলোর কথা মনে পড়ত। ওই পত্রিকা ছিল আমার আর মাদকের মাঝে সত্যিকারে ফায়ার ওয়াল‍। সেই আমিই কি না আজ ওর বড় বেশী আপন হয়ে গেছি !
সব সময়ের পরিবর্তন। তোমার সঙ্গে যে কটা দিন কাটিয়েছি তার প্রতিদিনই আমি কিছু না কিছু শিখেছি । এই তোমার কারণেই আমি চিনতে শিখেছি আমার প্রিয় / অপ্রিয় মুখোশধারী মানুষদের। আজ তাদের প্রায় সবাইকেই আমি ত্যাগ করেছি ....... শুধু তুমি আছো ।
প্রিয় বন্ধু জয় ,
আজ আমি তোমার থেকে অনেক দুরে , প্রিয় শহর যশোর থেকে আরেকটি শহরে । এখানেও সন্ধ্যা হলে রাত নামে , চাঁদ ওঠে , তারারা তাদের মিটিমিটি আলো জ্বেলে দেয় সারা আকাশে , সন্ধ্যা তারা দিনের পর দিন শুকতারা হয়ে যায় তবু তাদের দেখার কোন সময় নেই , সুযোগ নেই ....। বড় বেশী যান্ত্রিক এই শহর ,এই নগর , এখানকার যাপিত জীবন। এরই মধ্যে হেসে খেলে যেতে হয় সময়ের খেলা। তারপরেও তোমাকে খুব বেশী মনে পড়ে প্রতিটা কাজের ফাঁকে , প্রতিটি দিনের শেষে । আর আমার কাজ যেহেতু কম্পিউটার নিয়ে তাই ওই যন্ত্রটার সামনে এলেই তোমার মুখটা আরো বেশি ভেসে ওঠে। তোমাকে খুব খুব খুউব 'মিস' করি। মাঝে মাঝে এত কান্না আসে যে সব ফেলে ছুটে যেতে ইচ্ছে হয় কিন্তু পারি না ........
আজ তুমি আমার সঙ্গে কি ব্যবহার করছ একটু বুঝে দেখো। একটা সময় ছিল যখন এই ব্যবহারটাই আমি তোমার সঙ্গে করতাম । কিন্তু তুমি তো জয় , ঠিকই আমাকে জয় করেছিলে তবে আজ কেন এত হারাবার চেষ্টা করছ ? আমি জানি তোমার নিশ্চয়ই কিছু একটা হয়েছে যেটা আমার কাছে লুকাতে চাইছ। কিন্তু আমার বন্ধুত্ব কোন শর্ত দিয়ে হয়নি আর সে চেষ্টাও আমি কখনো করিনি .......। তাই তোমার যেটা ভাল লাগে সেটা করো আমি কোন কিছু জানতে চাইব না। শুধু এটুকু বলব আমার চোখে নিঃশব্দে জল গড়িয়ে পড়লেও তোমার এত নীরবতা মানায় না .....

কোন এক সময়ের
তোমার আমি ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28750020 http://www.somewhereinblog.net/blog/ManobManikblog/28750020 2007-12-07 18:19:15