প্রিয় মোহতারাম ...
আসসালামু আলাইকুম
আজ যে বিষয়টি আপনাদের সামনে আলোচনা করবো ইহা অতি গুরুত্ব পুর্ন বিষয় । মিলাদ ও কেয়ামের ইতিহাস । ইনশা আল্লাহ ধারাবাহিক ভাবে সম্পুর্ন বিষয় টি আপনাদের সামনে আলোচনা করার চেষ্টা করবো ।
মিলাদ ও কেয়ামের ইতিহাস
সুচনা ...
প্রথম মিলাদ ও কেয়াম কে করেছিলেন ?
পবিত্র মিলাদুন্নবীর ইতিহাস অতি প্রাচিন । মিলাদুন্নবীর সুচনা করেছেন স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ।
রোজে আজলে সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরামেকে নিয়ে আল্লাহ এই মিলাদের আয়োজন করেছিলেন । নবী গনের মহাসম্মেলন ডেকে মিলাদুন্নবী আয়োজক স্বয়ং আল্লাহ । তিনি নিজে ছিলেন মীরে মাজলিস বা সভাপতি । সকল নবীগন ছিলেন শ্রোতা । ঐ মজলিসের উদ্দেশ্য ছিল হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াছাল্লামের বেলাদাত, শান ও মান অন্যান্য নবীগনের সামনে তুলে ধরা এবং তাঁদের থেকে তাঁর উপর ঈমান আনয়ন ও সাহায্য সমর্থনের প্রতিশ্রুতি আদায় করা । কোরআন মজিদের ৩য় পারা সুরা আলে এমরানে ৮১-৮২ নং আয়াতে মধ্যে আল্লাহ তায়ালা ঐ মিলাদুন্নবী মাহফিলের কথা উল্লেখ করেছেন । নবীজীর সম্মানে এটাই ছিল প্রথম মিলাদ মাহফিল এবং মিলাদ মাহফিলের উদ্যোগ্ক্তা ছিলেন স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা ।
সুতরাং মিলাদে মাহফিল আনুষ্ঠান হচ্ছে আল্লাহর সুন্নত বা তরিকা ।
ঐ মজলিসে সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরাম ও উপস্থিত ছিলেন । ঐ মজলিসে স্বয়ং আল্লাহ নবীজীর শুধু আবির্ভাব বা মিলাদের উপরই গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন । সিরাতুন্নবীর উপর কোন আলোচনা সে দিন হয়নি । সমস্ত নবীগন খোদার দরবারে দন্ডায় মান থেকে মিলাদ শুনেছেন এবং কিয়াম করেছেন । কেননা খোদার দরবারে বসার কোন অবকাশ নেই । পরিবেশটি ছিল আদবের ।
মিলাদ পাঠকারী ছিলেন স্বয়ং আল্লাহ এবং কিয়ম কারীগন ছিলেন আমবিয়ায়ে কেরাম ।
এই মিলাদ ও কিয়াম কোরআনের " ইকতেদো উন নস " দ্বারা প্রমানিত হলো : উল্লেখ্য যে কোরআনে মজিদের "নস" চার প্রকার যথা : ইবারত , দালালত , ইশারাও ইক্কতিজা ।উক্ত চার প্রকার দ্বারাই দলিল সাবেত হয় । ( নুরূল আনওয়ার দেখুন ) নিম্নে উল্লেখিত আয়াতের মধ্যে ইবারতের দ্বারা প্রমানিত হয়েছে অঙ্গীকার / দালালাতের দ্বারা নবীগনের মাহফিল , ইশারার দ্বারা মিলাদের ব আবির্ভাবের এবং ইকতিজার দ্বারা কিয়ামের প্রমানিত হয়েছে ।
সুতরং মিলাদুন্নবী মহফিল কেয়াম নবীগনের সম্মিলিত সুন্নাত ও ইজামায়ে আম্বিয়া দ্বারা প্রতিষ্ঠিত । কোরআন মজিদে আলে এমরানের আয়াত ৮১-৮২ উল্লেখ করা হলো :
আল্লাহ বলেন ( ৮১ ) " হে প্রিয় রাসুল ! আপনি স্মরণ করূন ঐ দিনের কথা , যখন আল্লাহ তায়ালা সমস্ত নবীগন থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন এ কথার উপর যে , যখন আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত দিয়ে দুনিয়ায় প্রেরন করবো ; তারপর তোমাদের কাছে আমার মহান রাসুল যাবেন এবং তোমাদের নবু্যত ও কিতাবের সত্যতার সাক্ষ্য প্রদান করবেন , তখন তোমরা অবশ্য অবশ্যই তাঁর উপর ঈমান আনবে এবং অবশ্যই তাঁকে সাহায্য করবে "
আল্লাহ বলেন : " তোমরা কি এ সব কথার উপর অঙ্গীকার করছো এবং এই শর্তে আমার ওয়াদা গ্রহন করে নিয়েছো ( তখন ) তাঁরা সকলেই সমস্বরে বলেছিলেন, ----আমরা অঙ্গিকার করছি ।
আল্লাহ বলেন : " তাহলে তোমরা পরস্পর সাক্ষি থাক । আর আমি ও তোমাদের সাথে মহাসাক্ষী রইলাম " ।
( ৮২ ) " অত:পর যে কোন লোক এই অঙ্গীকার থেকে ফিরে যাবে- সেই নফরমান " (কাফের ) ।( আলে এমরান আয়াত ৮১/৮২ )।
উক্ত দুটি আয়াতে মধ্যে নবী করিম (দ) -এর ব্যাপারে ১০ টি বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে । যথা :
১ । এই ঐতিহসিক মিলাদ সম্মেলনের ঘটনাবলীর প্রতি রাসুলে কারিম (দ) -এর দৃষ্টি আকর্ষণ । যেহেতু নবী করিম (দ) ঐ সময়ে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ।
২। আল্লাহ কর্তৃক অন্যান্য আম্বিয়ায়ে কেরামের নিকট থেকে নবীজীর শানে অঙ্গীকার আদায় ।
৩। নবীগনের রমরমা রাজত্বকালে এই মহান নবীর আগমন হলে তাঁর উপর ঈমান আনতে হবে ।
৪। তাঁর আগমন হবে অন্যান্য নবীগনেরর সত্যতর দলীল স্বরূপ ।
৫। ঐ সময়ে নবীগনের নবুয়ত স্থগিত রেখে- নবীজীর উপর ঈমান আনয়ন করতে হবে ।
৬।নবীজীকে সর্বাবস্থায় পুর্ন সাহায্য সহযোগিতা প্রদানের অঙ্গীকার আদায় ।জীবনের বিনিময়ে এই সাহায্য হতে হবে নি:শর্তভাবে ।
৭। নবীগনের স্বীকৃতি প্রদান ।
৮। পরস্পর সাক্ষী হওয়া ।
৯। সকলের উপরে আল্লাহ মহাসাক্ষী ।
১০ । ওয়াদা ভঙ্গের পরিনাম - নাফরমান ও কাফের ।
১০ নং দফায় নবীগনের উম্মত তথা ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের পরিনতির দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে । কেননা নবীগগনের অস্বীকারের প্রশ্নই উঠে না । অস্বীকার করেছেন ইয়াহুদী ও নাসারাগন । সুতরাং তারাই কাফের ।
নবীগনের যুগে মিলাদুন্নবী
১। হযরত আদম (আ) -এর যুগে মিলাদ
প্রত্যেক নবী নিজ নিজ যুগে আমাদের প্রিয়নবী ও আল্লাহর প্রিয় হাবিবের আবির্ভাবের সুসংবাদ দিয়ে গেছেন । হযরত আদম (আ) তাঁর প্রিয় পুত্র ও প্রতিনিধি হযরত শীস (আ) কে নুরে মুহাম্মদীর তাজিম করার জন্য নিম্ন অসিয়ত করে গেছেন ।
আনুবাদ অংশ টি নিম্নে বর্ননা করা হলো ( আরবি অংশ পরবর্তিতে চেষ্টা করবো )
" আদম (আ) আপন পুত্র হযরত শীস (আ) কে লক্ষ্য করে বল্লেন : হে প্রিয় বৎস। আমার পরে তুমি আমার খলিফা । সুতরাং এই খেলাফত কে তাকওয়ার তাজ ও দৃঢ় একিনের দ্বারা মজবুত করে ধরে রেখো । আর যখনই আল্লাহর নাম ঝিকির (উল্লেখ) করবে তাঁর সাথেই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের নামও উল্লেখ করবে । তাঁর কারন এই : আমি রূহ ও মাটির মধ্যবর্তী থাকা অবস্থায় ই তাঁর পবিত্র নাম আরশের পায়ায় (আল্লাহর নামের সাথে ) লিখিত দেখেছি । এরপর আমি সমস্ত আকাশ ভ্রমন করেছি । আকাশের এমন কোন স্থান ছিলনা যেখানে মুহাম্মাদ(দ) -এর নাম অন্কিত পাই নি । আমার রব আমাকে বেহেস্তে বসবাস করতে দিলেন । বেহেস্তের এমন কোন প্রাসাদ ও কামরা পাইনাই যেখানে মুহাম্মদ (দ) -এর নাম ছিলনা । আমি মুহাম্মদ ( দ) -এর নাম আরোও লিখিত দেখেছি সমস্ত হয়রদের স্কন্ধ দেশে , বেহেস্তের সমস্ত বৃক্ষের পাতায় , বিষেশ করে তুলা বৃক্ষের পাতায় পাতায় , পর্দার কিনারায় এবং ফেরেসতাগনের চোখের মনিতে ঐ নাম অন্কিত দেখেছি । সুতরাং হে শীস ! তুমি এই নাম বেশী বেশী করে জপতে থাক ।
কেননা , ফেরেস্তাগন পুর্ব হতেই এই নাম জপনে মশগুল ররয়েছেন " ( জুরকানি শরীফ )।
উল্লেখ্য যে সর্ব প্রথম দুনিয়াতে ইহাই ছিল জিকরে মিলাদুন্নবী ( দ )।
হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর মিলাদ পাঠ ও কেয়াম
হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এবং হযরত ইসমাইল (আঃ)যখন আল্লাহর ঘর তৈরী করছিলেন , তখন ইব্রাহীম (আঃ) উক্ত ঘরের নির্মাণ কাজ কবুল করার জন্য নিজের ভবিষ্যৎ সন্তানাদিদের মুসলমান হয়ে থাকার জন্য আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করার পর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বা কেয়াম করে নবী (দঃ) -এর আবির্ভাব আরবে ও হযরত ইসমাইলের বংশে হওয়ার জন্য এভাবে দোয়া করেছেন ।
অর্থাৎ হে আমার রব ! তুমি এই আরব ভুমিতে আমার ইসমাইলের বংশের মধ্যে তাদের মধ্যে হতেই সেই মহান রাসুলকে প্রেরণ করো- যিনি তোমার আয়াত সমুহ তাদের কাছে পাঠ করে শয়নাবে , তাদেরকে কোরআন সুন্নাহর বিশুদ্ধ গেয়ান শিক্ষা দেবেন এবং বাহ্যিক ও আত্বিক অপবিত্রতা থেকে তাদের পবিত্র করবেন ।
সুরাহ আল বাকারা ১২৯ আয়াত ।
এখানে দেখা যায় - হযরত ইব্রাহীম ( আঃ) রাসুলুল্লাহের ৪০০০ বৎসর পুর্বেই মুনাজাত আকারে তাঁর আবির্ভাব , তাঁর সারা জিন্দেগীর কর্ম চান্চল্য ও মাণুষের আত্বার পরিশুদ্ধির ক্ষমতা বর্ননা করে হুজুর (দ) -এর মিলাদের সারাংশ পাঠ করেছেন এবং এই মুনাজাত বা মিলাদ দন্ডায়মান অবস্থাই করেছেন ---- যা পুর্বের দুটি আয়াতের মর্মে বুঝা যায় ।
ইবনে কাছির তাঁর বেদায়া ও নেহায়া গ্রন্থে ২য় খন্ডে ২৬১ পৃষ্ঠায় লিখেছেন
" দোয়া ইব্রাহিমু আলাইহি ওয়া সাল্লামু ওয়াহুয়া কায়েমুন "
অর্থাৎ উক্ত দোয়া করার সময় ইব্রাহীম (আঃ) দন্ডায়মান ছিলেন ।
নবী করিম (দ) বলেণ " আনা দুয়াওতু ইব্রাহীমা " আমি হযরত ইব্রহীমের (আঃ) -এর দোয়ার ফসল ।"
হযরত ইব্রাহীম ( আঃ) আল্লাহর নিকট থেকে চেয়ে আমাদের প্রিয় নবী(দ) কে আরবের ইসমাইল (আঃ) -এর বংশে নিয়ে এসেছেন । এটা উপলব্ধির বিষয় ।
আশেক ছাড়া এ মর্ম অন্য কেউ বুঝবে না । বর্তমান মিলাদ শরীফে রাসুলে পাঁকের আবির্ভাবের যে বর্ননা দেয়া হয় -তা হযরত ইব্রাহিম(আঃ)-এর দোয়ার তলনায় সামান্যতম অংশ মাত্র । সুতরাং আমাদের মিলাদ শরিফ পাঠ ও কেয়াম হযরত ইব্রাহীম আলাহিস সালামেরই সুন্নাত ।
( দেখুন বেদায়া ও নেহায়া ২য় খন্ড ২৬১ পৃষ্ঠ )
ইনশা আল্লাহ চলবে..........।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


