ইতিহাসের প্রথম বিজ্ঞানী!
২৫ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১:২৭
প্রাচীন পৃথিবীর বিখ্যাত এক জ্ঞানী মানুষ—এরিস্টোটল তাঁর নাম—বৈজ্ঞানিক যুক্তিতর্কের সাহায্যে একদা প্রমাণ করেছিলেন, উপর থেকে দুটি বস্তু ছেড়ে দিলে ভারী বস্তুটি সর্বদা হালকা বস্তুর চেয়ে আগে মাটিতে পড়বে। ৩২২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মারা যান এরিস্টোটল, কেটে যায় প্রায় ২০০০ বছর। আর এই সুদীর্ঘকাল টিকে থাকে এরিস্টোটলের পড়ন্ত বস্তুর মতবাদ।
কিন্তু ১৫৮৯ খ্রিস্টাব্দে হঠাৎ ক্ষেপে উঠেন ইটালির একজন বিজ্ঞানী, গ্যালিলিও গ্যালিলি: ভুল করেছেন এরিস্টোটল!
"তাই নাকি?" আঁতকে উঠেন তাবৎ বিজ্ঞানী। "আচ্ছা, প্রমাণ করে দেখান তাহলে!"
"ঠিক আছে।" গ্যালিলিও তরতর করে উঠে যান পিসা শহরের হেলানো মন্দিরের চূড়ায়। সেখান থেকে নিরাক পড়া এক দিনে, ভিন্ন ওজনের দুটি গোলা একই সাথে ছেড়ে দেন নিচে—একটি মাস্কেটের গোলা, অন্যটি কামানের। গোলা দুটি এক সাথে মাটিতে পড়ে, তাদের পতনের একটি মাত্র শব্দ শোনা যায়।

স্তম্ভিত হলেও পরীক্ষালব্ধ ফলাফল মেনে নেয় বিজ্ঞান জগত: হ্যাঁ, এরিস্টোটল ভুল। মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে হালকা ভারী কোনো ব্যাপার না, সব একই গতিতে নীচে পড়ে।
পড়ন্ত বস্তু নিয়ে আরো নানা পরীক্ষা করেন গ্যালিলিও। এ সকল পরীক্ষার কারণে কেউ কেউ গ্যালিলিওকে প্রথম বিজ্ঞানী হিসেবে আখ্যায়িত করেন, কারণ নিচের সুশৃংখল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিটি অবলম্বন করেছেন তিনি:
![]()
ইতিহাসের সময়রেখা ধরে এগুলে আমরা দেখি পৃথিবীর বহু প্রান্তে বহু মানুষ প্রকৃতির উপর গবেষণা করে গেছেন, কোনোরূপ নিয়মতান্ত্রিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন না করেই। প্রথম দিককার এরূপ কিছু মানুষ ছিলেন প্রাচীন গ্রিকরা। এরিস্টোটলের মতো পণ্ডিতগণ প্রাকৃতিক স্বতঃসিদ্ধ ঘটনা (phenomena) পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, কিন্তু তাঁরা তাঁদের ধ্যান-ধারণাকে সুশৃঙ্খল গবেষণার মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখেননি। তাঁরা চেয়েছিলেন যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে তাঁদের ফলাফলকে সমর্থন করতে। এর ফলে প্রায়ই তাঁরা ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হতেন, যা ধরা পড়ে শত শত বছর পর, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে।
অবশ্য বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পাদনের ক্ষেত্রে গ্যালিলিও গ্যালিলি প্রথম ব্যক্তি ছিলেন না। ত্রয়োদশ শতকে, রজার বেকন (Roger Bacon) নামের ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত একজন ফ্রান্সিসকান সন্যাসী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সমর্থন করে যাওয়ার পরবর্তী ৩০০ বছর ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন ইউরোপীয় বিজ্ঞানীগণ। বেকন আলোক তত্ত্বের (Optics) উপর তাঁর একটি গ্রন্থ পারস্পেকটিভা (Perspectiva)-তে দর্শনের (vision) ব্যাপারে গ্রিক বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা সম্পন্ন করেন এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ৭টি ধাপ অবলম্বন করেন।
বেকনের পারস্পেকটিভা অবশ্য মৌলিক কোনো গ্রন্থ নয়, এটি ত্রয়োদশ শতকে স্পেনে প্রকাশিত দি এসপেক্টিবাস (De aspectibus, the Optics) নামের বিশাল একটি গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত রূপ। পারস্পেকটিভা গ্রন্থটি দি এসপেক্টিবাস এর আদলেই সাজানো, এর পরীক্ষা সমূহ ধাপে ধাপে মূল গ্রন্থ থেকে পুনরাবৃত্তি করে, কখনো কখনো একেবারে আক্ষরিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
কিন্তু দি এসপেক্টিবাসও মৌলিক কোনো গ্রন্থ নয়, এটি আরবী ভাষায় রচিত কিতাব-আল-মানাজির (Kitāb al-Manāzir, Book of Optics) নামক একটি গ্রন্থের অনুবাদ। যুগান্তকারী গ্রন্থ কিতাব-আল-মানাজির, রচনা করা হয়েছে ১০১১ থেকে ১০২১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময় ধরে। পদার্থবিদ্যার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাব সৃষ্টিকারী গ্রন্থ হিসেবে আইজাক নিউটনের Philosophiae Naturalis Principia Mathematica এর সমান্তরালে উচ্চারিত হয় এর নাম। লেখক একজন আরব পণ্ডিত, নাম আবু আলী আল-হাসান ইবনে আল-হাতেম (Abū ʿAlī al-Ḥasan ibn al-Ḥasan ibn al-Haytham)। গ্রন্থটিতে তিনি আলোকসংক্রান্ত অনেক যুগান্তকারী তত্ত্ব দেন এবং প্রাচীন ভ্রান্ত ধারণার নিরসন করেন, তাই তাঁকে বলা হয় আধুনিক আলোকবিজ্ঞানের জনক (father of modern optics)।
বর্তমান ইরাকের বসরা নগরীতে ৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন ইবনে আল-হাতেম। কেউ তাঁকে বলেন আল-বসরী 'বসরা থেকে আগত ব্যক্তি', কেউ বা বলেন আল-মিসরী 'মিসর থেকে আগত ব্যক্তি'। আর পশ্চিমে তাঁকে বলা হয় আল হাজেন, তাঁর নাম আল-হাসানের লাতিনীয় অনুবাদের কারণে ঘটেছিল এমনটি। তিনি লিখে গেছেন ২০০'র উপর গ্রন্থ এবং অভিসন্দর্ভ, নানা বিষয়ের উপর। জ্যামিতিতে বীজগণিত প্রয়োগের প্রচলন তিনিই প্রথম করেন, এর ফলে সূচনা হয় নতুন গাণিতিক ধারা: বিশ্লেষণধর্মী জ্যামিতি (analytic geometry), রেনে ডেকার্তের জ্যামিতিক বিশ্লেষণ এবং নিউটনের ক্যালকুলাসে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
ইবনে আল-হাতেমের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগের পেছনে কাজ করেছে মূলত তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস এবং তাঁর অনুসন্ধিৎসু, সন্দেহবাদী মন। তিনি বিশ্বাস করতেন মানুষ খুঁতপূর্ণ, কেবলমাত্র স্রষ্টা নিখুঁত। প্রকৃতির ব্যাপারে সত্য আবিষ্কার করতে, তিনি বলতেন, প্রকৃতিকেই তার নিজের হয়ে কথা বলতে দিতে হবে। টলেমির উপর সংশয় পোষণ করতে গিয়ে তিনি বলেন,
"একজন সত্য-সন্ধানী তিনি নন যিনি প্রাচীন মানুষের লেখা পড়েন, এবং নিজের প্রবৃত্তির দ্বারা পরিচালিত হয়ে সেগুলির উপর বিশ্বাস স্থাপন করেন, বরং তিনিই সত্য-সন্ধানী যিনি সেগুলির উপর নিজের বিশ্বাসকে সন্দেহ করেন এবং সেখান থেকে যা আহরণ করেন তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন—তিনি এমন একজন মানুষ যিনি যুক্তি ও নিরীক্ষার আশ্রয় নেন।"
'আলো এবং বর্ণ বায়ুতে মিশ্রিত হয় না' এ হাইপোথিসিসকে পরীক্ষা করতে গিয়ে আল-হাতেম পৃথিবীর প্রথম ক্যামেরা, অবস্কিউরা (Obscura) উদ্ভাবন করেন, পর্যবেক্ষণ করেন আলো সূক্ষ্ম ছিদ্রের ভেতর দিয়ে গমন করার পর কী ঘটে, এবং ফলাফল লিপিবদ্ধ করেন। এমনিভাবে আরো ডজন ডজন 'সত্যিকারের গবেষণালব্ধ ফলাফল' কিতাব-আল-মানাজিরে তিনি লিপিবদ্ধ করেন।
আর গবেষণালব্ধ ফলাফলের উপর জোর দিয়ে এভাবেই ইবনে আল-হাতেম জ্ঞান-বিজ্ঞানে নতুন এক "অনুসন্ধানের" দ্বার খুলে দেন এবং ইতিহাসে সত্যিকারের প্রথম বিজ্ঞানীর স্থান অলংকৃত করেন।
___________________________________
সত্য ও জ্ঞান অনুসন্ধানে ইবনে আল-হাতেমের উক্তিঃ আমি নিরন্তর জ্ঞান ও সত্য খুঁজে বেড়িয়েছি, এবং আমার উপলব্ধি হলো, স্রষ্টার দ্যুতি ও নৈকট্যলাভের জন্য জ্ঞান ও সত্যানুসন্ধানের চেয়ে উত্তম কোনো পথ নেই
প্রধান গবেষণা ক্ষেত্রঃ
অঙ্গব্যবচ্ছেদ-বিদ্যা (Anatomy)
জ্যোতির্বিদ্যা (Astronomy)
প্রকৌশলবিদ্যা (Engineering)
গণিত (Mathematics)
বলবিদ্যা (Mechanics)
চিকিৎসাবিদ্যা (Medicine)
আলোকবিদ্যা (Optics)
চক্ষুবিদ্যা (Ophthalmology)
দর্শন (Philosophy)
পদার্থবিদ্যা (Physics)
মনোবিদ্যা (Psychology)
বিজ্ঞান (Science)
কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ অবদান/উদ্ভাবনঃ
1. বৈজ্ঞানিক পরীক্ষণ পদ্ধতি
2. আলোর ন্যূনতম সময়ের সূত্র, যা পিয়েরে দ্য ফামা সাধারণ আকারে বর্ধিত করেন
3. স্নেল এর সাইন সূত্র—ফলাফলগতভাবে, সূত্রাকারে নয়
4. ক্যামেরা অবস্কিউরা ও পিনহোল ক্যামেরার সর্বপ্রথম সুষ্পষ্ট বর্ণনা ও বিশ্লেষণ
5. দর্শন প্রক্রিয়া, চোখের গঠন, চোখে প্রতিবিম্ব গঠন, দর্শন ব্যবস্থা, মুন ইলিউঝন
6. আল-হাজেনের সমস্যা
7. বস্তুসমূহের পারস্পরিক আকর্ষণ, অভিকর্ষের প্রভাবে ত্বরণ, ভারকেন্দ্র, বস্তুর ওজনের পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের উপর প্রভাব
8. সূর্যালোকের কারণে চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে আলোর নির্গমন, যা প্রতিফলন হিসেবে ব্যাপকভাবে ভুলক্রমে বিশ্বাস করা হত
9. জড়তার সূত্র—হাইপোথিসিস আকারে, যা নিউটনের প্রথম সূত্র হিসেবে বিকাশ লাভ করে
10. ভরবেগের ধারণা—তাঁর সমসাময়িক ইবনে সীনার সাথে, এটি বর্তমানে নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রের অন্তর্গত
11. বিশ্লেষণধর্মী জ্যামিতির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন—রেনে ডেকার্তের জ্যামিতিক বিশ্লেষণ এবং নিউটনের ক্যালকুলাসে এর প্রভাব রয়েছে
12. প্রথম ১০০ টি স্বাভাবিক সংখ্যার যোগফল নির্ণয়ের সূত্র, জ্যামিতিক প্রমাণ
13. ল্যাম্বার্ট চতুর্ভুজ, যা এখন ইবনে-হাতেম-ল্যাম্বার্ট চতুর্ভুজ নামে পরিচিত
14. উপবৃত্তীয় ও অধিবৃত্তীয় জ্যামিতির প্রথম থিওরেমসমূহ
15. নন-ইউক্লিডিয়ান জ্যামিতির সূচনা
16. প্রত্যেক জোড় নিখুঁত সংখ্যা 2^(n−1)*(2^n − 1) আকারের, যেখানে (2^n − 1) একটি মৌলিক সংখ্যা। আল-হাতেম এটি সফলভাবে প্রমাণ করতে পারেননি, লিউনার্দো অয়লার পরে এটি প্রমাণ করেন।
17. সদৃশতা সংক্রান্ত সূত্র—বর্তমানে উইলসনের সূত্র নামে পরিচিত
18. প্রাণীর গতি, আচরণ, মনস্তত্ত্বের উপর সঙ্গীতের প্রভাব। ১৯ শতক পর্যন্তও অনেক পণ্ডিতের অভিমত ছিল, সঙ্গীত কেবল মানবিক ব্যাপার।
19. জ্যোতিষীশাস্ত্র থেকে জ্যোতির্বিদ্যাকে পৃথকীকরণ
সূত্রঃ
http://en.wikipedia.org/wiki/Ibn_al-Haytham
Click This Link
http://www.ibnalhaytham.net/
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:১০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
নকীবুল বারী বলেছেন:
মুগ্ধ
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, নকীব। প্রেরণাদায়ক মুগ্ধতা।
আজম বলেছেন:
অসাধারন
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনার অনুভব লেখকের জন্য সম্মাননা।
ভালো কাটুক সময়।
সোজা কথা বলেছেন:
বিজ্ঞানী আল হাতেমের প্রতি শ্রদ্ধা । একজন বিজ্ঞানী মানব সভ্যতাকে একধাপ এগিয়ে দেয়! কষ্টসাধ্য পোষ্টের জন্য ++
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন। অত্যন্ত পরিশ্রমী মনীষি ছিলেন তিনি, ছাপ রেখে গেছেন কত না জায়গায়।
আমার ব্লগে আপনার বিচরণ আনন্দময় হোক। ভালো কাটুক জীবন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আনন্দময় হোক জ্ঞান, ক্লান্তিকর নয়।
ভালো কাটুক জীবন।
ফারুক৫৫ বলেছেন:
ভালো পোস্ট।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। আমার ব্লগে আপনার ভ্রমণ আনন্দময় হোক।
লেখাজোকা শামীম বলেছেন:
অনেক দিন পর একটি ভালো পোস্ট পড়লাম। মুসলিম পণ্ডিত বা বিজ্ঞানী সম্পর্কে অন্যরা যেমন গদ গদ হয়ে যান, আপনি তেমন হননি। জোর করে কোন কথা প্রমাণের চেষ্টা করেননি। আসলে আমাদের বোঝা দরকার বিজ্ঞানী হওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মবিশ্বাসের কোন প্রভাব নাই। যে কোন ধর্মের মানুষ বিজ্ঞানী হতে পারে, যদি সে জ্ঞান চর্চা করতে আগ্রহী হয়। এর সাথে ধর্মকে জড়ানোর কোন দরকারই নাই।
সরাসরি প্রিয়তে গেল আপনার পোস্টটি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ভালো লাগল আপনার কথা। পোস্ট প্রিয়তে যাওয়া লেখার জন্য সম্মাননা।
চমৎকার কাটুক আপনার সময়।
আলমগীর কুমকুম বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: হা, হা, হা।
আসলেই বিস্ময়কর মেধাবী বিজ্ঞানী ছিলেন। আর যা রচনা করে গেছেন, তার মাত্রাও বিশাল, পরিমাণ এবং প্রভাব উভয় ক্ষেত্রেই।
এস. এম. রায়হান বলেছেন:
Excellent job. Plz keep it up.
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। ভালো লাগল আপনার প্রেরণাদায়ক মন্তব্য।
সুখ স্বস্তিতে কাটুক জীবন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। মন্তব্য প্রেরণা দিল।
ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, বোন।
সুখ স্বস্তিতে কাটুক সময়।
আইরিন সুলতানা বলেছেন:
আগেকার দিনে বিজ্ঞানীরা ভুল বলেও হাজার হাজার বছর ধরে সর্বজন গৃহীত ছিল, অথচ তো এখন আমরা কত ঠিক ঠিক বলি, তাও কেউ মূল্য দেয়না !!!!এরিস্টল তখন তত্ত্ব দিয়েছেলেন তখন ব্যবহারিক উদাহরন ছাড়া এভাবে মেনে নেয়াটা ঠিক হয়নি
সমুদ্র উপকূল এলাকাগুলোতে সে সব বাতিঘর দেখা যায় ওগুলোকে তো মনে হয় Beacon বলে, তাই না? এই নামটা কি বিজ্ঞানী Roger Bacon থেকেই নেয়া হয়েছে?
লেখক বলেছেন: ঠিক ঠিক। কত কত ঠিক কথা বলি, কেউ মূল্য দেয় না। তার মানে আগের মতোই বেঠিক কথার মূল্যায়ন রয়েই গেছে! ![]()
কোনো বিজ্ঞানীর প্রভাব বেশি হলে সমর্থকরা অনেক সময় তার থিওরীর কাছে অন্যরকম ব্যবহারিক ফলাফলকে পাত্তা দেয় না, বলে, জয়তু থিওরী। এই যেমন, নিউটনের শব্দের গতিবেগ সংক্রান্ত সূত্রটিই দেখুন না। ১২০ বছর পর ল্যাপ্লাস এটিকে ভুল প্রমাণ করার পরই কেবল এটি বাদ হয়। অথচ এর আগে ফরাসী বিজ্ঞানী অ্যারিগো বন্দুকের গুলির শব্দের সাহায্যে সঠিক ভাবে শব্দের বেগ নির্ণয় করলেও তার ব্যবহারিক ফলাফল পাত্তা পায়নি।
Bacon পরিবারের সাথে Beacon-এর সম্পর্ক নেই। ইংলিশ বেকন পরিবার সম্পর্কে জানতে: Click This Link
আর ভালো কাটুক জীবন। ![]()
'লেনিন' বলেছেন:
লেখাজোকা শামীম বলেছেন: মুসলিম পণ্ডিত বা বিজ্ঞানী সম্পর্কে অন্যরা যেমন গদ গদ হয়ে যান, আপনি তেমন হননি। জোর করে কোন কথা প্রমাণের চেষ্টা করেননি।আসলে আমাদের বোঝা দরকার বিজ্ঞানী হওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মবিশ্বাসের কোন প্রভাব নাই। যে কোন ধর্মের মানুষ বিজ্ঞানী হতে পারে, যদি সে জ্ঞান চর্চা করতে আগ্রহী হয়। এর সাথে ধর্মকে জড়ানোর কোন দরকারই নাই।
আর টলেমী সম্পর্কে আল হাসান বলেছেন: "একজন সত্য-সন্ধানী তিনি নন যিনি প্রাচীন মানুষের লেখা পড়েন, এবং নিজের প্রবৃত্তির দ্বারা পরিচালিত হয়ে সেগুলির উপর বিশ্বাস স্থাপন করেন, বরং তিনিই সত্য-সন্ধানী যিনি সেগুলির উপর নিজের বিশ্বাসকে সন্দেহ করেন এবং সেখান থেকে যা আহরণ করেন তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন—তিনি এমন একজন মানুষ যিনি যুক্তি ও নিরীক্ষার আশ্রয় নেন।"
এই না হলে প্রকৃত বিজ্ঞানী?
লেখাজোকা শামীম এবং বিজ্ঞানী আল হাসানকে প্লাস
পুনশ্চ: আল হাসান নাকি আল হাতেম কোনটা সঠিক হবে?
ফাহাদ ইবনে ফারুক মানে তো ফারুকের পুত্র ফাহাদ তাইনা?
লেখক বলেছেন: একেবারে প্রাণছোঁয়া মন্তব্য।
এমনিতে, আল-হাসান হওয়া উচিত, অথবা ইবনে আল-হাতেম। সংক্ষিপ্তাকারে, (ইবনে) আল-হাতেম নামেও তিনি প্রায়ই অভিহিত হন।
'লেনিন' বলেছেন:
@আইরিন সুলতানা: বিকন নিয়ে উইকি'তে যা পেলাম তা হলো http://en.wikipedia.org/wiki/Beaconবহুকাল আগে যুদ্ধ এবং নানান সময়ে সৈন্যদের সংকেত দিতে পাহাড়ে আগুন জ্বালানো হতো।
Lighted beacons are called lights; unlighted beacons are called daybeacons.
লেখক বলেছেন: বীকন লিঙ্কের সংকেতটি সুস্পস্ট। ![]()
আইরিন সুলতানা বলেছেন:
আপনার টা ঠিক আছে..তবে অভিধানে মনে হয় beacon এর আরো দুটো অর্থ আছে --- guiding light এবং Signal ....সেই অর্থে মনে হলো সমুদ্রের পাড়ে যেসব বাতিঘরগুলো দেখা যায়, ওগুলোকে সার্চ লাইট বা beacon বলে হয়ত । @ লেনিন
'লেনিন' বলেছেন:
@আইরিন সুলতানা: আমি মূলত বূৎপত্তি খোঁজার চেষ্টা করেছি। সেখানে 'বীকন হিল' বলে যা পাওয়া যায় সেগুলোই পরবর্তীতে বাতিঘরে রূপ নিয়েছে। উইকিতে বিস্তারিতই পাবেন। Modest doubt is call'd The beacon of the wise. - Shakespeare
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
কোনো জিনিসের প্রতি আগ্রহ ভালোবাসা না থাকলে তা অর্জন সম্ভব নয় যে।
আর আরেক জটিল লোক ছিলেন হেরন ... এই লোক এডিসনের চেয়েও কঠিন উদ্ভাবক ...সেই গ্রীক আমলে তিনি মেকানিকাল অটোমেটিক ভেন্ডিং মেশিন বানিয়েছিলেন
আমার মনে হয় গ্রীক অনেক বিজ্ঞানীও গ্যালিলিওর সংজ্ঞায় পড়া বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কাজ করেছেন ... হয়তো তারা পদ্ধতির ব্যাপারটাকে সেভাবে তুলে ধরেননি
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
হ্যাঁ, আসলে প্রথম বিজ্ঞানী কে ছিলেন, তা সুস্পষ্টভাবে বলা মুশকিল কারণ এটি বিভিন্ন প্রেক্ষাপট ও দৃষ্টিকোণের উপর নির্ভর করে। হাজার হাজার বছর পূর্বেও মানুষ অবশ্যই প্রকৃতিলব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়েছে। কিন্তু লিখিত ইতিহাস না থাকার কারণে আমরা তাদেরকে চিনি না।
এই পোস্টে বিষয়টিকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুসরণকৃত আধুনিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষণ পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে দেখা হয়েছে। আর এর আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল বিস্ময়কর একজন বিজ্ঞানী, যিনি বহু বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীকে প্রভাবান্বিত করেছিলেন এবং মধ্যযুগে বিজ্ঞানের শীর্ষবিন্দু ছিলেন, অথচ বিস্ময়করভাবে তাকে কম জানি, এর উপর আলোকপাত করা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। চেষ্টা থাকবে।
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন:
সত্য ও জ্ঞান অনুসন্ধানে ইবনে আল-হাতেমের উক্তিঃ আমি নিরন্তর জ্ঞান ও সত্য খুঁজে বেড়িয়েছি, এবং আমার উপলব্ধি হলো, স্রষ্টার দ্যুতি ও নৈকট্যলাভের জন্য জ্ঞান ও সত্যানুসন্ধানের চেয়ে উত্তম কোনো পথ নেই "জোস! পুরোপুরি বিশ্বাস করি !
চমতকার লেখাটা ... কেমন যেন লাগলো!
আরো একটু পড়াশুনা করলেই পারতাম .........
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। মন্তব্য খুব ভালো লাগল রে।
পড়াশোনা সে হয়ে যাবে। একটু গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে শুধু।
ভালো থাকিস।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। অনেক ধন্যবাদ।
ভালো থাকুন।
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
কত অজানা !! এমন একটা পোষ্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ ....
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনার উপস্থিতি শান্তিপ্রদায়ক।
হ্যাঁ, কত মনীষিই না বিস্ময়কর অবদান রেখে গেছেন জগতের কল্যাণে! সশ্রদ্ধ সম্মান তাঁদের তরে।
লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ। বরাবরের মতো আনন্দ উৎসারিত।
মুহাম্মদ মোহেব্বুর রহমান বলেছেন:
আপনি একজন বীর ডুবুরী। সিন্ধু সেঁচে মুক্তো আনছেন তো আনছেন...আল্লাহ আপনার শ্রমকে স্বার্থক করুন।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, প্রিয় মোহেব্বুর ভাই। আপনার প্রার্থনায় আপ্লুত হলাম। স্রষ্টা গ্রহণ করুন মমতায় সবাইকে।
ভালো থাকবেন।
তরু বলেছেন:
দারুণ।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। পড়া ও মূল্যায়নে ধন্যবাদ।
ভালো কাটুক জীবন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, বোন। অনুভবে সম্মানিত বোধ করছি।
আপনার পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম।
ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত পোস্ট। তাঁর সমসাময়িক যুগে এবং পরবর্তীতে বিশ্ব জ্ঞান-বিজ্ঞানে ইবনে হাতেমের চিরস্থায়ী প্রভাবের কথা লিখতে গেলে বেশ কয়েকটি বিশাল মোটা বই লিখতে হবে! ![]()
মন ভালো হয়েছে শুনে খুব আনন্দিত হলাম আপি, বড় সম্মান এটি।
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন:
পশ্চিমের গবেষকরা আরবী শিখতোই এই বই গুলো পড়ার জন্য , তাইনা ম্যাভেরিকদা ?
লেখক বলেছেন: সন্দেহের অবকাশ নেই। রজার বেকন, ইয়োহান কেপলার, ভন পিউয়েরবাক, ওয়ালিসসহ আরো অনেকে সরাসরি ইবনে হাতেম কর্তৃক প্রভাবান্বিত হয়েছিলেন; ডেকার্তে, নিউটন সরাসরি অথবা পরোক্ষে।
ধূসর মানচিত্র বলেছেন:
ম্যাভেরকি ভাই, আপনার অন্যসব পোস্টের মত এই পোস্টটি চমৎকার অনবদ্য একটি পোস্ট। ভাল থাকুন।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, প্রিয় ধূসর। ব্লগারণ্য বিচরণে ধন্যবাদ অনেক অনেক।
ভালো কাটুক সময়।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। মূল্যায়নে সম্মানিত বোধ করলাম। ![]()
ভালো থাকুন।
অলস ছেলে বলেছেন:
প্রিয়তে
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আনন্দময় অনুভব।
চিটি (হামিদা রহমান) বলেছেন:
চমৎকার লাগলো লেখাটা। আপনার লেখার মাঝে একটা ধারাবাহিকতা আছে যা পাঠে আনন্দ। প্রথমবার মনে হয় আপনার লেখা পড়লাম। ভবিষ্যতে ধারাবাহিক পড়ার আগ্রহ রইলো।অনেক ভালো থাকুন
শুভকামনা থাকলো।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। আপনার মন্তব্য শুনে খুব ভালো লাগল, অনেক বড় সম্মাননা এটি। আশা করি আমার ব্লগে আপনার বেড়ানো আনন্দময় হবে।
ভালো থাকবেন।
এস এম সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
দারুন পোষ্ট! + ও প্রিয়!
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। মন্তব্যে মূল্যায়নে আনন্দিত হলাম খুব।
দুঃখিত, দেরি হয়ে গেল উত্তরে। পেছনের পোস্টে আসা হয়নি অনেক দিন।
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে, খুঁজে পেতে পোস্টগুলো পড়ছেন। গণিত আসলে সুন্দর কবিতার মতো, খুব কঠিন না, যদি না ছোটবেলায় কেউ ভুলে করে বলে। ![]()
লেখক বলেছেন: অনুভবে সম্মানিত, আবারও।
ভালো কাটুক সময়।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















