ঝড়ের নাম মেয়েদের নামে হয় কেন?
কারণ মেয়েরা সর্বনাশা, ঝড়ের মতো সবকিছু তছনছ করে নিয়ে যায়!
উক্তিটি নিঃসন্দেহে একজন আধুনিক দেবদাসের। সৌভাগ্যবশত বিশ্বব্যাপী ঝড়ের নামকরণ যারা করে থাকেন, তাদের মধ্যে দেবদাসের সংখ্যা নেহাৎ বেশি নয়। এটি এই কারণে যে ঝড়ের নাম শুধু মেয়েদের নামে হয়, তা আদৌ সত্যি নয়। তবে হ্যাঁ, আমাদের ঝড়গুলি মেয়েদের নামেই হয় বেশি, যদিও অন্যান্য অঞ্চলে সচরাচর পর্যায়ক্রমে ছেলে-মেয়ে উভয়ের নামে হয়।
ঝড়ের নাম সংক্ষিপ্তাকারে, মূলত মানুষের নামে হয় কেন?
অতীতে ঝড়ের নামকরণ করা হতো অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের (latitude-longitude) উপর ভিত্তি করে। কিন্তু অভিজ্ঞতায় দেখে গেছে জটিল তাত্ত্বিক এসব নামের চেয়ে সংক্ষিপ্ত, সুনির্দিষ্ট নামকরণ লিখিত বা মৌখিক যেকোনো যোগাযোগে অধিকতর সহজ এবং দ্রুততর। নামে কিবা এসে যায়, ঘূর্ণিঝড়দের ক্ষেত্রে যথার্থ নয় আর কি। ৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৭২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের ঝড়টি এখন মায়ানমারের দিকে ধেয়ে আসছে বলার চেয়ে, ঘূর্ণিঝড় হেলেন ধেয়ে আসছে, বলা অনেক সহজ এবং গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এটি আরো গুরুত্বপূর্ণ কারণ একটি ঝড়ের তথ্য হাজার হাজার স্টেশন, সমুদ্র উপকূল এবং জলযানের মধ্যে আদান-প্রদান হয়ে থাকে।
এছাড়া একই সময়ে একাধিক ঝড় সৃষ্টি হলে, বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য সহজে মনে রাখা যায় এবং পার্থক্য করা যায় এমন নাম দরকার। অতীতে অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশ নামকরণের উপর ভিত্তি করা ঝড়ের পূর্বাভাস থেকে অনেক সময় বিভ্রান্তি বা গুজব রটে যেত। মনে করুন, দুটি ঝড়, যাদের উৎপত্তি স্থল কাছাকাছি ছিল, কিন্তু পরে চলে গেছে একেবারে ভিন্ন দিকে। কিন্তু পূর্বাভাস ভুল শুনে আপনি যে ঝড়টিকে ভাবছেন অনেক দূরে চলে গেছে, সে হয়তো ভয়ঙ্কর ফণা তুলে ধেয়ে চলে এসেছে একেবারে কাছে।
শত শত বছর ধরে পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের ঝড়গুলির নাম হতো সন্তদের নামে, যেমন সান্তা আনা, স্যান ফেলিপ (১ম), স্যান ফেলিপ (২য়)। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ঝড়কে ছেলেদের নাম দেয়া হত। এখন অবশ্য সব ঝড়কে স্থানীয় সাধারণ নাম দ্বারা, যা সংস্কৃতিগত দিক থেকে স্পর্শকাতর নয়, চিহ্নিত করা হয়।
ঝড়ের নামকরণ কখন, কারা করেন?
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা'র (World Meteorological Organization) আঞ্চলিক কমিটি। যেমন, উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট সব ঝড়ের নামকরণ করবে WMO-এর ৮টি সদস্য রাষ্ট্র: বাংলাদেশ, মায়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রী লংকা, থাইল্যাণ্ড এবং ওমান।
একটি নির্দিষ্ট সময়কালে সৃষ্ট সম্ভাব্য সব ঝড়ের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলি পূর্বেই নাম প্রস্তাব করে রাখে। একেকটি ঝড় বাস্তবে সৃষ্টি হলে, তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে নাম নির্বাচন করা হয়। ঝড় যেহেতু মৃত্যু ও ধ্বংসের সাথে জড়িত, তাই কোনো নাম পুনরাবৃত্ত করা হয় না।
আমাদের এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঝড় ও তার নামকরণকারী দেশ হচ্ছেঃ সিডর (ওমান), নার্গিস (পাকিস্তান), রেশমি (শ্রী লংকা), খাই-মুক (থাইল্যাণ্ড), নিশা (বাংলাদেশ), বিজলি (ভারত), আইলা (মালদ্বীপ)। পরবর্তী ঝড়টির—সে না জন্মাক, কিংবা জন্মের সাথে সাথে খুব দুর্বল হয়ে মারা যাক—নাম হবে ফাইয়ান (Phyan), মায়ানমার কর্তৃক প্রস্তাবিত।
২০০৯ সালে আবার পরবর্তী কয়েক বছরের ঘূর্ণিঝড়ের জন্য নাম নির্বাচন করা হবে। একটি শিশুর জন্মের পর আপনি গভীর মমতায় নাম রাখেন। এর ঠিক বিপরীতে, সর্বনাশা ঝড়ের নামও আপনি প্রস্তাব করতে পারেন। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরে আপনার প্রস্তাবিত নাম পাঠিয়ে দেখুন।
সূত্রঃ
১। Click This Link
২। Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

