somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঝড়ের নাম কেন মেয়েদের নামে ?

২৮ শে মে, ২০০৯ সকাল ৮:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঝড়ের নাম মেয়েদের নামে হয় কেন?
কারণ মেয়েরা সর্বনাশা, ঝড়ের মতো সবকিছু তছনছ করে নিয়ে যায়!

উক্তিটি নিঃসন্দেহে একজন আধুনিক দেবদাসের। সৌভাগ্যবশত বিশ্বব্যাপী ঝড়ের নামকরণ যারা করে থাকেন, তাদের মধ্যে দেবদাসের সংখ্যা নেহাৎ বেশি নয়। এটি এই কারণে যে ঝড়ের নাম শুধু মেয়েদের নামে হয়, তা আদৌ সত্যি নয়। তবে হ্যাঁ, আমাদের ঝড়গুলি মেয়েদের নামেই হয় বেশি, যদিও অন্যান্য অঞ্চলে সচরাচর পর্যায়ক্রমে ছেলে-মেয়ে উভয়ের নামে হয়।

ঝড়ের নাম সংক্ষিপ্তাকারে, মূলত মানুষের নামে হয় কেন?
অতীতে ঝড়ের নামকরণ করা হতো অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের (latitude-longitude) উপর ভিত্তি করে। কিন্তু অভিজ্ঞতায় দেখে গেছে জটিল তাত্ত্বিক এসব নামের চেয়ে সংক্ষিপ্ত, সুনির্দিষ্ট নামকরণ লিখিত বা মৌখিক যেকোনো যোগাযোগে অধিকতর সহজ এবং দ্রুততর। নামে কিবা এসে যায়, ঘূর্ণিঝড়দের ক্ষেত্রে যথার্থ নয় আর কি। ৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৭২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের ঝড়টি এখন মায়ানমারের দিকে ধেয়ে আসছে বলার চেয়ে, ঘূর্ণিঝড় হেলেন ধেয়ে আসছে, বলা অনেক সহজ এবং গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এটি আরো গুরুত্বপূর্ণ কারণ একটি ঝড়ের তথ্য হাজার হাজার স্টেশন, সমুদ্র উপকূল এবং জলযানের মধ্যে আদান-প্রদান হয়ে থাকে।

এছাড়া একই সময়ে একাধিক ঝড় সৃষ্টি হলে, বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য সহজে মনে রাখা যায় এবং পার্থক্য করা যায় এমন নাম দরকার। অতীতে অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশ নামকরণের উপর ভিত্তি করা ঝড়ের পূর্বাভাস থেকে অনেক সময় বিভ্রান্তি বা গুজব রটে যেত। মনে করুন, দুটি ঝড়, যাদের উৎপত্তি স্থল কাছাকাছি ছিল, কিন্তু পরে চলে গেছে একেবারে ভিন্ন দিকে। কিন্তু পূর্বাভাস ভুল শুনে আপনি যে ঝড়টিকে ভাবছেন অনেক দূরে চলে গেছে, সে হয়তো ভয়ঙ্কর ফণা তুলে ধেয়ে চলে এসেছে একেবারে কাছে।

শত শত বছর ধরে পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের ঝড়গুলির নাম হতো সন্তদের নামে, যেমন সান্তা আনা, স্যান ফেলিপ (১ম), স্যান ফেলিপ (২য়)। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ঝড়কে ছেলেদের নাম দেয়া হত। এখন অবশ্য সব ঝড়কে স্থানীয় সাধারণ নাম দ্বারা, যা সংস্কৃতিগত দিক থেকে স্পর্শকাতর নয়, চিহ্নিত করা হয়।

ঝড়ের নামকরণ কখন, কারা করেন?
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা'র (World Meteorological Organization) আঞ্চলিক কমিটি। যেমন, উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট সব ঝড়ের নামকরণ করবে WMO-এর ৮টি সদস্য রাষ্ট্র: বাংলাদেশ, মায়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রী লংকা, থাইল্যাণ্ড এবং ওমান।

একটি নির্দিষ্ট সময়কালে সৃষ্ট সম্ভাব্য সব ঝড়ের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলি পূর্বেই নাম প্রস্তাব করে রাখে। একেকটি ঝড় বাস্তবে সৃষ্টি হলে, তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে নাম নির্বাচন করা হয়। ঝড় যেহেতু মৃত্যু ও ধ্বংসের সাথে জড়িত, তাই কোনো নাম পুনরাবৃত্ত করা হয় না।

আমাদের এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঝড় ও তার নামকরণকারী দেশ হচ্ছেঃ সিডর (ওমান), নার্গিস (পাকিস্তান), রেশমি (শ্রী লংকা), খাই-মুক (থাইল্যাণ্ড), নিশা (বাংলাদেশ), বিজলি (ভারত), আইলা (মালদ্বীপ)। পরবর্তী ঝড়টির—সে না জন্মাক, কিংবা জন্মের সাথে সাথে খুব দুর্বল হয়ে মারা যাক—নাম হবে ফাইয়ান (Phyan), মায়ানমার কর্তৃক প্রস্তাবিত।

২০০৯ সালে আবার পরবর্তী কয়েক বছরের ঘূর্ণিঝড়ের জন্য নাম নির্বাচন করা হবে। একটি শিশুর জন্মের পর আপনি গভীর মমতায় নাম রাখেন। এর ঠিক বিপরীতে, সর্বনাশা ঝড়ের নামও আপনি প্রস্তাব করতে পারেন। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরে আপনার প্রস্তাবিত নাম পাঠিয়ে দেখুন।


সূত্রঃ
১। Click This Link
২। Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০০৯ সকাল ৯:২১
৪৮টি মন্তব্য ৪৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×