শাস্ত্রীয় মৌলবাদী এবং সেক্যুলার মৌলবাদী—উভয়েই পরিত্যাজ্য!
০৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:৪৪
![]()
আমেরিকার আদিবাসী জাতিগোষ্ঠি সিউ (Sioux), এর বিখ্যাত নেতা ব্ল্যাক এলক (Black Elk)। তার একটি কথা আমার খুব ভালো লাগে,
"প্রথম শান্তি, যা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, হচ্ছে সেটি যা মানুষ তাদের আত্মায় অনুভব করে যখন তারা উপলব্ধি করে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, মহাবিশ্বের সাথে তাদের একাত্মতা এবং মহাবিশ্বের সামগ্রিক শক্তির সাথে তাদের একাত্মতা।"
পৃথিবীতে নানা পথ, নানা মত, কিন্তু সব মতেরই মূল হওয়া উচিত পারস্পরিক সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা। তাহলেই কেবল তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
মৌলবাদী নামে একটি গোষ্ঠির কথা আমরা সবাই জানি। এরা নিজস্ব মতবাদ, ধর্ম, শাস্ত্রকে স্বার্থের জন্য অপব্যাখ্যা করে, নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ ভেবে অহংবোধে আপ্লুত হয়। সাধারণ মানুষের কোমল হৃদয়ের সুযোগ নিয়ে তাদেরকে ভুল পথে ধাবিত করে, নিজেদের দুরভিসন্ধী বাস্তবায়ন করে। এরা অসহিষ্ণু, ভণ্ড, শাস্ত্রীয় বা ধর্মীয় মৌলবাদী—শাস্ত্রকে এরা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।
এদের বিপরীতে আরেকটি অসহিষ্ণু গোষ্ঠি দেখা যায় যারা ঢালাওভাবে মানুষের বিশ্বাস, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং শাস্ত্রকে দোষারোপ করে। নিজেদেরকে এরা মুক্তমনা ভাবতে ভালবাসে, কিন্তু শাস্ত্রের গভীরে গিয়ে মূল সুরটি না খুঁজে, অপব্যাখ্যার উপর ভিত্তি করে ঢালাওভাবে শাস্ত্রকে অভিযুক্ত করে। শাস্ত্রনিষ্ঠ মানুষকে মূর্খ, অন্ধ আখ্যা দিয়ে তাদের বিশ্বাসবোধ ও হৃদয়ে আঘাত করে থাকে। শাস্ত্রীয় আচার-আচরণ, পোশাক এদের চোখে অসহ্য। অসহিষ্ণু এই গোষ্ঠি শাস্ত্রের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে গিয়ে এটি ভুলে যায় যে এভাবে অন্যকে নীচু ভাবা ও কষ্ট দেয়া আসলে আরেক ধরণের মৌলবাদী মানসিকতা। নিজ চরিত্রের স্ববিরোধিতা এরা দেখেও না দেখার ভান করে। শাস্ত্রীয় মৌলবাদীর বিপরীতে এরাও মৌলবাদী—সেক্যুলার মৌলবাদী।
মৌলবাদী মাত্রেই অসহিষ্ণু, ভণ্ড। কাজেই আসুন, শাস্ত্রীয় মৌলবাদী এবং সেক্যুলার মৌলবাদী—উভয়কেই পরিত্যাগ করি, কারণ এরা উভয়ে মানবতার শত্রু, মানবতার হৃদয়ে এরা রক্তক্ষরণ ঘটায়।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:৫৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, মতামতের জন্য। আপনি আপনাকে বড় জোর পরিত্যাগ করতে পারব, ঘেন্না করতে পারব না।
মতবিরোধী হন, কিন্তু অশ্রদ্ধাশীল হবেন না। সবাইকে যার যার মতো শ্রদ্ধার নিরিখে বিচার করতে দিন।
একমত , ধন্যবাদ এই সুন্দর পোস্টের জন্য।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
শ্রদ্ধা ও মমতাই মানবতার মূল। অন্যকে যে কাজে ও কথায় কষ্ট দেয়, সেই গোঁড়া মৌলবাদী। মানুষকে কষ্ট দেবার জঘন্য অপরাধ থেকে আমাদের হৃদয় মুক্ত থাকুক।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ফারহান।
মৌলবাদী মাত্রেই অসহিষ্ণু। আমরা অসহিষ্ণু না হই।
এস. এম. রায়হান বলেছেন:
'মৌলবাদী' শব্দের পরিবর্তে 'উগ্রবাদী' ব্যবহার করাই শ্রেয়। করণ 'মৌলবাদী' শব্দের অর্থ কিন্তু কোনভাবেই খারাপ কিছু না, যদিও সেভাবেই মিডিয়াতে প্রচার করা হয়েছে। আপনি যদি ইসলামের মৌলিক শিক্ষায় বিশ্বাস করেন সেক্ষেত্রে আপনি একজন মৌলবাদী মুসলিম। কিন্তু আপনি উগ্রবাদী না।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনার বক্তব্য বুঝতে পেরেছি। এখানে আমি বহুল প্রচলিত অর্থটি নিয়েছি।
কেউ যদি তার নিজস্ব বিশ্বাস বা মতবাদের মূল আঁকড়ে থাকেন এবং তা অন্যের ক্ষতি না করে, অন্যের হৃদয়ে আঘাত না দেয়, তিনি আমার কাছে পরিত্যাজ্য নন। তার নিষ্ঠা, মানুষের প্রতি তার মমতা বরং শ্রদ্ধাই জাগাবে।
এস. এম. রায়হান বলেছেন:
'উগ্র মৌলবাদী'ও ব্যবহার করা যায়। পোস্টে +
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ভালো কাটুক আপনার সময়, শ্রদ্ধা সুখে, প্রিয়জনদের সাথে।
সাইলেন্সার বলেছেন:
একেবারে ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, মৌলবাদ একদিনে সৃষ্টি হয়নি।
এবং বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মৌলবাদের যে বিস্তার তা কোনভাবেই ঠেকানো যাবে না- রূপ বদল হবে হয়ত।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন। আর এ জন্যই সহনশীলতার মতো শক্তিশালী কোনো কিছু নাই। অন্যের সাথে মতবিরোধ থাকবে, কিন্তু তাকে কষ্ট না দিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ করমর্দন করে অন্তত পারস্পরিক বিদায়টা নিতে পারি।
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
মৌলবাদীর আগে বিশেষণ জুড়ে যে বিভাগ সেটা ভাবনার বিষয়। দ্যাখেন বস্, এই যে একটা শব্দ, সবাই ব্যবহার করছে। যে যাকে পারছে। আমার মতের বাইরে গেলেই তুমি সন্ত্রাসী, তোমার কাছে বোমা আছে। আমার মতের সাথে থাকলেই তুমি মুক্তমনা, প্রগতিশীল। এটা কিন্তু দুই পক্ষেই ঘটছে। ভালো আর খারাপ এখন এতটাই ধোঁয়াটে, যে অতি-সরলীকরণের ভ্রান্তিও ঢুকে পড়ছে। আমার মনে হয় নাশকতা তৈরি করে, এমন আচরণকে মৌলবাদ বলা যায় (প্রথাগত আভিধানিক অর্থটা যদিও পজিটিভই ছিল এই শব্দটার!)।
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যটি খুব ভালো লাগল।
হ্যাঁ, আমি আসলে তাই বলতে চেয়েছি নাশকতা সৃষ্টিকারী, উগ্র অসহিষ্ণুতা। বিশেষণটি বিভাজন তৈরি করার জন্য, বরং সব মৌলবাদের যে এক রূপঃ "নাশকতা সৃষ্টিকারী", যা আপনি বলেছেন, তা তুলে ধরা।
ভালো থাকবেন।
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন:
আমরা মধ্যপন্থী জাতি।
লেখক বলেছেন: যার মূল শ্রদ্ধা সহনশীলতা।
জাতি জানতে চায় বলেছেন:
আপনার পোস্ট পড়িয়া আমি বিমোহিত। টাইটেল খানা যেরকম খাঁটি, কথা গুলাও সেইরকম। আরেকটি কঠিন বাক্য বলেছেন যেটা সবারই সব সময় মানা উচিৎ, নিজ চরিত্রের স্ববিরোধিতা এরা দেখেও না দেখার ভান করে
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা।
হ্যাঁ, স্ববিরোধী মানুষরা অসহিষ্ণু, অশ্রদ্ধাশীল। মতবিরোধ থাকুক, কিন্তু অন্যের প্রতি অবজ্ঞা না থাকুক।
ভালো থাকবেন।
জানজাবিদ বলেছেন:
উগ্রবাদী নাস্তিকদের প্রতি ধিক্কার।কেউ কাউকে কিছু গেলায় না। আরিফুর রহমান যেমন বুঝেশুনে নাস্তিক তেমনি লেখকের মত বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ বুঝে শুনেই আস্তিক।
কিছু মানুষের ধারণা জ্ঞান-বুদ্ধি, বুঝ এগুলি কেবলই তাদের প্যাটেন্ট করা সম্পত্তি। এরাই সবচেয়ে বড় উগ্রবাদী। 'দুনিয়াতে খালি আমিই সব বুঝি আর কেউ কিসসু বুঝেনা'- এর মত নির্বুদ্ধিতা আর কিছু নাই।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
উগ্রবাদিতার মতো নির্বুদ্ধিতা আমাদের আচ্ছন্ন না করুক।
তাসনীম বলেছেন:
অন্যকে নীচু ভাবা ও কষ্ট দেয়া আসলে আরেক ধরণের মৌলবাদী মানসিকতা। নিজ চরিত্রের স্ববিরোধিতা এরা দেখেও না দেখার ভান করে। শাস্ত্রীয় মৌলবাদীর বিপরীতে এরাও মৌলবাদী—সেক্যুলার মৌলবাদী।সহমত। সত্য সূর্যের মত। এর আলো ছড়িয়ে পড়বেই। এত অস্থির হবার কিছু নেই।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
অস্থির না ঠিক, অন্যকে অশ্রদ্ধা করা, নীচু ভাবা যে মৌলবাদী মানসিকতা--তা সে শাস্ত্রীয়ই হোক, আর শাস্ত্রহীনই হোক--এটি যাতে সবাই অনুভব করি।
ভালো থাকবেন।
মনির হাসান বলেছেন:
শেষ পর্যন্ত কিন্তু দুইটা নৌকাই আছে । হয় এইটা না হয় ঐটা ।এরকম মধ্যপন্থিয় আহবান করে শেষ পর্যন্ত আপনিও নিঃসন্দেহে সেই শাস্ত্রীয় নৌকাটি'কেই বেছে নিচ্ছেন ... এবং বেছে নেয়ার আগে সবাক সেক্যুলারদের ( নির্বাক সেক্যুলার'রা কোন কালেই হিসেবে ছিলনা ) মৌলবাদী ট্যাগ দিয়ে চুপ করিয়ে দিতে চাইছেন ।
একটু ভন্ডামী হয়ে গ্যালো বোধহয়।
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
হ্যাঁ, নৌকা বোধহয় দুটোই, কিন্তু সে দুটো শাস্ত্রীয় এবং শাস্ত্রহীন নৌকা নয়, বরং সহিষ্ণু শ্রদ্ধাশীল নৌকা, আর অসহিষ্ণু মৌলবাদী নৌকা।
আপনি দয়া করে আরেকবার পোস্টটি পড়ুন। কাউকে চুপ করার কোনো অভিপ্রায় আমার নেই। আমরা পরস্পরের সাথে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি, কিন্তু যে মুহূর্তে পারস্পরিক আলোচনায় উগ্রতা, বিদ্বেষ, ঘৃণা চলে আসবে, হাসিমুখে করমর্দন করে দুজন দুজনের পথে চলে যাব--এটি পোস্টের মূল বক্তব্য।
মনির হাসান বলেছেন:
আচ্ছা ফারহান লাভ নাই মানলাম । ক্ষতিটা কি ?
লাভ-ক্ষতির হিসাব ব্যাবসায়ীর জন্য তোলা থাক । যদি ভাবেন মানুষ মাত্রই দার্শনিক, তবে তার দর্শনের চর্চা হওয়া চাই উম্মুক্ত এবং অবশ্যই একে অন্য'কে শোনাবে, শেয়ার করবে, ভুল শুধরে নেবে ইত্যাদি ... ইত্যাদি ।
আর চর্চার পন্থা'টা আক্রমনাত্মক হবে না রক্ষনাত্মক, উগ্র না মৌন হবে ... এগুলো টেকনিক্যাল ব্যাপার । সময়, সুযোগ, পারঙ্গমতা অনুযায়ী যে যার মত করে খেলবে বা চর্চা করবে।
টেকনিক্যালিঃ শুধুমাত্র "সে বেহেশতে যাবে" পর্যন্ত আমি আপনাদের আহবানে চুপ থাকতে রাজী ... কিন্তু যখন সে বেহেশ্তর হুর নিশ্চিত করতে ধর্মোম্মাদ হলে আমার দায়িত্ব তার অন্ধত্য'কে রোধ করা । দূর্ভাগ্যক্রমে ধর্মোম্মাদ'রা প্রথমে নিরীহ নিপাট "বেহেশ্তে যাবে"দের দল থেকেই আসে ... আর তাই চেষ্টা করা উচিত অন্ধত্ব্য'টাকে মহীরুহ হওয়ার আগেই ধর্মের অলৌকিক সার জল থেকে নিয়ন্ত্রনে রাখা ।
আলোচনা এক ধরণের বিনোদন। আলোচনা করতেই ব্লগে আসা। এবং এটা ২০০৯ সাল । যার যেরকম খুশি সে বলুক ... তর্ক হোক ... ক্যাচাল হোক ... যেটার ওজন আছে টিকে থাক ... যেটার নেই হারিয়ে যাক ... লেট ইট বি ...
জাতি জানতে চায় বলেছেন:
মনির হাসান@ তাহলে চরমপন্থাই আপনার কাম্য!!!
ট্যাগিং করে মতামত প্রকাশকে রুদ্ধ করাটা নোংরামী । এই পোস্টে সেটার সুরও আছে , তাই আপনি ক্ষিপ্ত হয়ে গেলেন । ভাল , ভাল ।
@লেখক ,
আপনার সাথে একমত
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, পোস্টের মূল সুরটি অনুভব করার জন্য।
অসহিষ্ণু অশ্রদ্ধার মতো অপরাধ থেকে আমরা যেন বিরত থাকি।
ফারা তন্বী বলেছেন:
ঠিক!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
হ্যাঁ, সহনশীলতাই জগতের মূল।
ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: ...এবং "উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড" ও বাক-স্বাধীনতার নামে "অশ্লীল বাক্যবাণের" আশ্রয় নেন তারা।
আজকে মানব জাতির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি, সবচেয়ে ভয়াবহ রোগ এ দুটো জিনিস।
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
অনেক মুক্তচিন্তার ধারক উদারপন্হীর চিন্তা ভাবান আবার এরকম, "ওই! ব্যাটা তুই আজকা নামাজ পড়স, রোজা রাখস; কালকা হজ্বের যাবি; পরশুদিনই তো তুই মৌলবাদি হয়া যাবি, ধর্মোম্মাদ হয়ে যাবি। আজকাই তোর বাক স্বাধীনতা কাইরা নিমু, তোরে পিষা ফালামু।" মানুষের ডাবলস্ট্যান্ডার্ড দেখলে মাঝে মাঝে চমকে উঠি, আর ভাবি আল্লাহর অনেক অনেক রহমত যে আমি দুই দিকের কোন উগ্রপন্হীদের মধ্যেই পড়ি না।
লেখক বলেছেন: দুঃখজনক, কিন্তু যথার্থ আপনার পর্যবেক্ষণ।
উগ্রপন্থী না হই আমরা, কথায় বা কাজে।
অন্য কেউ বলেছেন:
মনির হাসান বলেছেন: আলোচনা এক ধরণের বিনোদন। আলোচনা করতেই ব্লগে আসা। এবং এটা ২০০৯ সাল । যার যেরকম খুশি সে বলুক ... তর্ক হোক ... ক্যাচাল হোক ... যেটার ওজন আছে টিকে থাক ... যেটার নেই হারিয়ে যাক ... লেট ইট বি ...সহমত মনির হাসান।
@ ম্যাভেরিক: আমি কোনদিন গালিযুক্ত আক্রমণ শুরু করিনি। কিন্তু, কখনও কেউ আমাকে গালি দিলে পর ধার্মিক গালিবাজ বা নাস্তিক গালিবাজ কতো খারাপ তার ওপর পোস্টও করিনি। কোন নাস্তিককে করতেও দেখিনি। কেন কেবল ধার্মিকরাই অন্যের চিন্তাধারাকে প্রিডিসাইডেড গতিধারায় রাখতে চায় বলতে পারেন?
লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
"আমি কোনদিন গালিযুক্ত আক্রমণ শুরু করিনি।" আপনার এ বক্তব্য আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা দৃঢ়তর করে।
প্রতিটি মানুষ যার যার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে চিন্তা করেন। চিন্তাধারা পরিবর্তিত হয়, পরিমার্জিত হয়। স্বাভাবিক।
আমার বক্তব্য হচ্ছে অন্যের সাথে গঠনমূলক আলোচনা বিতর্ক করি শ্রদ্ধা শালীনতার নিরিখে। কিন্তু "তুমি জ্ঞানহীন মূর্খ, কূপমণ্ডুক," ...তারপর নানাবিধ গালি, যারাই এরূপ মানসিকতার তারাই উগ্র, মৌলবাদী, তা তিনি ধার্মিকই হোন বা কোনো ধর্মবিশ্বাসী নাই হোন।
অন্য কেউ বলেছেন:
এনিয়েই বলছি। এটা আপনার স্বাধীন মত। ব্লগে সবাই-ই স্বাধীন। আরেকজনের চিন্তাধারা আমার সাথে মিলে যাবে; এমনকি; যাওয়া উচিত, এটা আশা করা কি সঙ্গত?
লেখক বলেছেন: মিলে গেলে ভালো লাগবে। না মিললেও খারাপ লাগা উচিত নয়। কিন্তু শ্রদ্ধা শালীনতার সীমা লঙ্ঘন সর্বদাই এড়াতে হবে আমাদের কারণ এটি মানবিক বিপর্যয়, ছোট বা বড় মাপের, ডেকে আনে। যদিও এটি খুব কঠিন কাজ, মতৈক্য বা মতানৈক্য হোক হাসিমুখে।
ধন্যবাদ আপনাকে।
মনির হাসান বলেছেন:
@লেখক ... উগ্রতা ব্যারোমিটার' বলে কিছু আছে কি ? কতটুকু হলে সেটা "সহিষ্ণু নৌকা" হবে কতটুকু হলে "উগ্র নৌকা" হবে সেটা নির্ধারণ করবে কে ? আপনারা মধ্যপন্থি'রা একটা স্কেল তৈরী করে দিতে পারেন। সবার উপকারে আসবে ।"ব্যারোমিটার" না পাওয়া পর্যন্ত না হয় চুপ থাকব সবাই ।
বাই দ্যা ওয়ে ... ব্লগে অনেক ক্যাচাল করতে করতে বন্ধুত্ব হয় । ঊগ্রতার মোড়কে কোন গ্রাহ্য সত্য প্রকাশ পেলে আমি সে উগ্রতাকে স্বাগত জানাই। এবং কথায় আছে "সত্য সবসময় নির্মম" (বা উগ্র )।
@ জাতি জানতে চায় ... আমি চরমপন্থি কি না জানি না ... তবে আমি মধ্যপন্থি নই ... এবং অবশ্যই গান্ধীবাদী নই ... যীশুর গাল পেতে দেয়া ভেড়ুয়া নই । কেউ আমাকে আদর করলে আমি আদর দিব, মারতে আসলে "মাইর" দিব ।
@ মেহরাব শাহরিয়ার ... ক্ষিপ্ততা'র কি দেখলেন? ... নতুন করে আর কিবা ক্ষিপ্ত হব ।
লেখক বলেছেন: উগ্রতার ব্যারোমিটার অবশ্যই আছেঃ যতক্ষণ অপরপক্ষ কষ্ট না পান। আর অন্যজন যাতে কষ্ট না পান, এজন্য একটু সজাগ হওয়াই যথেষ্ট।
আসলে আমরা কীভাবে মনোভাব প্রকাশ করছি, তাই নির্ধারণ করে ফেলে প্রকাশটা কি নির্মম না কোমল। আমি কখনো নির্মম প্রকাশে বিশ্বাসী না, তবে এর মানে এই নয় যে যা সত্য বলে বিশ্বাস করি, তা প্রকাশ করতে দ্বিধান্বিত। কিন্তু আমাদের সবসময় সচেতন থাকা উচিত, বক্তব্যের প্রকাশভঙ্গি যেন বক্তব্যকে ম্লান বা ভিন্নতর করে না তোলে।
ধন্যবাদ।
দুরের পাখি বলেছেন:
অপরপক্ষ কষ্ট পাইলো কিনা সেইটা যদি হয় কঠোরতার মানদন্ড তাইলে খাইছে । তোতামিয়ার মত উঁ ছাড়া কোন কথা কওয়া যাইবো না । হিটলারের অনেক ভক্ত এখনো আছে । তেনারাও হিটলারের নামে কিছু কৈলেই কষ্ট পান ।
লেখক বলেছেন: কাউকে কষ্ট না দিয়েও নিজের মনোভাব প্রকাশ করা যায়। আপনি হিটলারকে কঠোর ভাষায় গালাগালির মাধ্যমে সমালোচনা করলে, হিটলারপন্থীদের বরং হিটলারের কাজকে জাস্টিফাই করার সুযোগ করে দেবেন।
দুরের পাখি বলেছেন:
জনাব একজায়গায় গোত্তা মাইরা বৈসা না থাইকা একটু চিন্তা করার চেষ্টা করেন । গোলাম আযমের অনেক ভক্তকূল আইজকার স্বাধীন বাংলাদেশেও আছে । গোলাম আজম আংকেলকে রাজাকার বল্লেই তেনাদের মনে কষ্ট লাগে, কঠোর ভাষায় গালিগালাজ করা লাগে না ।
লেখক বলেছেন: আমি এক জায়গায় গোত্তা মারছি না। পোস্টের বক্তব্য বোধহয় আপনাকে এখনও বুঝাতে পারিনি। গোলাম আজমকে রাজাকার বললে যাদের মনে কষ্ট জাগে, তাদেরকে আপনি বুঝাতে পারেন ধর্মের নামে তিনি কীভাবে গণহত্যায় বাঙালীর রক্তপানে এবং নারীদের অপমানে মেতে উঠেছিলেন, এবং তিনি যে একজন শাস্ত্রীয় মৌলবাদী। কিন্তু এটি প্রমাণ করতে গিয়ে কেউ যেন আবার সেক্যুলার মৌলবাদী না হয়ে উঠেন, এটি বুঝানোই ছিল পোস্টের বক্তব্য। আপনি দয়া করে আরেকবার পোস্টটি পড়ুন।
বেশি দিন আগে না , একবছর আগেও যদি এই ব্লগে কেউ গালিগালাজের বিরুদ্ধে কিছু বলত , তাকে সোজা রাজাকার ট্যাগিং করা হত । কি চমৎকার , তার মানে শুধু রাজাকাররাই গালি অপছন্দ করে ? আর দেশপ্রেমিকরা গালিকে হৃদয় দিয়ে ধারণ করে ? রাজাকারদের সম্মানিত করার এই অদ্ভূত মানসিকতা আমার কাছে রীতিমত অসুস্থ লাগত ।
আপনার কমেন্টে সেরকম অ্যালার্জিই দেখলাম । কেউ সহিষ্ঞুতার কথা বললেই অনেক নাস্তিক অস্থির হয়ে যান , সন্দেহ করতে থাকেন যে এই লোকটি আস্তিক , তারপর তার মুখের ভাষা রোধ করে দেয়ার জন্য বাণ মারতে শুরু করেন । এসবের প্রতিবাদ করলে তখন আবার সহিষ্ঞুতার ভায়োলিন বাজাতে শুরু করেন । হিপোক্রেসি দেখতে দেখতে ভাল লাগে না
সবাক বলেছেন:
ব্যাপক সুবিধাবাদী পোস্ট। একেবারে মধ্যপন্থীদের মতো। কি তালগোল পাকিয়ে বসলো!
কিসের সাথে কি মিশাইলো!! পোস্টদাতা যে দর্শনে লিখলেন সেটাওতো একধরনের মৌলবাদ... এই শব্দটার সঠিক ব্যবহার করতে না জানার কারণেই সমস্যা।
আজাইরা পোস্ট
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, সবাক। শব্দটার সঠিক ব্যবহার জেনেই বলছি। আপনি আরেকবার পড়ুন, আজাইরা বা তালগোল নাও লাগতে পারে। আর যদি তারপরও লাগে, আপনার কাছ থেকে হাসিমুখে বিদায় তো অন্তত নিতে পারি, তাই না?
ধুম করে কাউকে সুবিধাবাদী বলাটা হীনমন্যতার পরিচায়ক । কে কিভাবে লিখবে আপনি কি ঠিক করে দেবেন নাকি ? লেখকের পুরনো পোস্টগুলো একটু পরে দেখবেন অনুগ্রহ করে । যদি আজাইরা টার্মটা ব্যবহার করার ইচ্ছা হয় , তাহলে দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে আমার ব্লগিং আর আপনার ব্লগিংটাই আজাইরা । গল্প কবিতা স্মৃতি লিখে আমরা কি এমন দিতে পেরেছি ? কনস্ট্রাকটিভ ব্লগিং শিখতে চাইলে এই ব্লগটা দেখুন
সবাক বলেছেন:
@ মেহরাব শাহরিয়ার...মনির হাসানের কমেন্টের জবাবে যে এলার্জির কথা বলেছেন সে বিষয়ে একটু বলি :
এরূপ এলার্জি নিশ্চয় নাস্তিকদের বিপক্ষেও আছে। ব্লগে নিশ্চয় এ সংক্রান্ত প্রচুর পোস্ট আসে। কেউ কেউতো ব্লগটাকে নাস্তিকরা দখল(!) করছে বলেও শংকিত। সেখানে আবার নানান ঢংয়ের কমেন্টও পড়ে। একটি কথা বললেন, অথচ সেটার উল্টোপিঠ চিন্তা করলেন না! এটিতো ঠিখ যে, ব্লগে নাস্তিকদের সংখ্যা খুবই কম। আরো একটি বিষয়ও জেনে রাখা ভালো যে, নাস্তিকদের কিন্তু মক্কা, গয়া, জেরুজালেমের মতো কোন তীর্থ স্থান নেই বা ধর্মগ্রন্থের মতো গ্রন্থও নেই।
সো ট্রাই ইট উইথ ইনডিভিজু্যাল আই
দুরের পাখি বলেছেন:
" গোলাম আজমকে রাজাকার বললে যাদের মনে কষ্ট জাগে, তাদেরকে আপনি বুঝাতে পারেন ধর্মের নামে তিনি কীভাবে গণহত্যায় বাঙালীর রক্তপানে এবং নারীদের অপমানে মেতে উঠেছিলেন, " আর এইগুলা বুঝানির প্রক্রিয়ার সময় তারা (গোলাম আংকেলের অনুসারীরা) সুখের শীৎকারে কেঁপে কেঁপে উঠবে ?
সেইসব আস্তিকদের অ্যলার্জিক পোস্টে আমার কমেন্ট দেখে আসেন , তারপর বলেন কার আই দিয়ে কি দেখেছি
সবাক বলেছেন:
মেহরাব....
কারো লেখার বিষয় কেউ ঠিক করে দিবে না, এটাতো বটেই... কিন্তু আমার মতামত প্রকাশও কাউকে জিজ্ঞেস করে করবো না... উনি উনারটা করছেন আমি আমারটা করছি। উনার লেখাটা নিশ্চয় এটা তীর বহন করেছে.. আমার কমেন্টও। আমি যদি উনার লেখা রিসিভ করতে পারি উনিও আমার কমেন্ট রিসিভ করার মানসিকতা রাখবেন...।
সবাক বলেছেন:
===========
""আপনার কমেন্টে সেরকম অ্যালার্জিই দেখলাম । কেউ সহিষ্ঞুতার কথা বললেই অনেক নাস্তিক অস্থির হয়ে যান , সন্দেহ করতে থাকেন যে এই লোকটি আস্তিক , তারপর তার মুখের ভাষা রোধ করে দেয়ার জন্য বাণ মারতে শুরু করেন । এসবের প্রতিবাদ করলে তখন আবার সহিষ্ঞুতার ভায়োলিন বাজাতে শুরু করেন । হিপোক্রেসি দেখতে দেখতে ভাল লাগে না""
===================
সন্দেহটা কিন্তু সংখ্যালঘুদের বিষয়ে উল্লেখ্য... আস্তিকরাতো সংখ্যাগুরু
@ মেহরাব
লড়াকু বলেছেন:
বিষয়বস্তুর নিরিখে বিচার করলে পোস্টটি আরো বিস্তারিত হওয়া আবশ্যক ছিল, কিন্তু পোস্টের আকার পোস্টদাতার ইচ্ছামাত্র, আমি এ ব্যাপারে কথা বলার অধিকার রাখি না।আপনার কথা টেকনিক্যালী ঠিক, আমরা সবাই (অন্তত ৯০ শতাংশ মানুষ) এভাবে ভাবতেই পছন্দ করি। কিন্তু বাস্তবতা হল মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত সত্যকে মেনে নিতে রাজি থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত তা তার বিশ্বাসকে আহত না করে। ধরা যাক একজন ধর্মাবলম্বী বিশ্বাস করেন জ্বিন বলে অশরীরি জীব আছে, আরেকজন ধর্মাবলম্বী বিশ্বাস করেন মৃত্যুর পরে মানুষ বার জন্ম নেয় এবং আগের জন্মের কৃতকাজ অনুযায়ী নতুন জন্মে তার সামাজিক অবস্থান নির্ধারিত হয়। এ দুটির কোনটাই কেউ প্রমাণ করতে পারবে না, সুতরাং কোন একজনের পূর্ণ অধিকার আছে সেটা অবিশ্বাস করার এবং তা বলার। কিন্তু সেই অবিশ্বাসের কথাটার প্রকাশভঙ্গি জনে জনে ভিন্ন হবে। বিশ্বাসীকে সরাসরি আক্রমণ করেও নিজের ধারণার কথা প্রকাশ করা সম্ভব, একই সাথে সম্ভব আক্রমণ না করেও।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, লড়াকু। আপনি চমৎকার সুন্দর কথা লিখেছেন। ভালো লাগল খুব।
ওঙ্কার বলেছেন:
লড়াকুর কমেন্টে উত্তম জাঝা!!
লড়াকু বলেছেন:
বিশ্বাস নামক জিনিসটা মনের অনেক ভেতরে প্রোথিত থাকে এবং খুব সহজে কেউ তার সেই অবস্থান থেকে সরে যাবে না এটাই স্বাভাবিক। এই স্বাভাবিকতাকে মেনে নিলেই ব্যাপারটা অনেকখানি সহজ হয়ে যায়। আপনি মৌলবাদীদের বর্জনের কথা বলছেন, সেটা আপনার অভিলাষ। আমাকে জিজ্ঞাসা করলে আমি বলব যুক্তিই শ্রেষ্ঠ পন্থা, তবে সেটা শেষ পর্যন্ত কোন ফলাফল আনতে ব্যর্থ হয় ঊভয়পক্ষের তীব্র অনমনীয়তার কারণে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, আরেকবার। অন্যকে নীচু, ছোট, জ্ঞানহীন যাতে না ভাবি, এটিই ছিল বক্তব্য। যুক্তি শ্রদ্ধেয়, এবং তার সাথে অন্যের প্রতি খানিক মমতাও থাকতে হয়; না হয়, যেরূপ আপনি বললেন, উভয়পক্ষের তীব্র অনমনীয়তা সৃষ্টি হবে।
অপরিচিত_আবির বলেছেন:
আমি চরমপন্থি কি না জানি না ... তবে আমি মধ্যপন্থি নই ... এবং অবশ্যই গান্ধীবাদী নই ... যীশুর গাল পেতে দেয়া ভেড়ুয়া নই । কেউ আমাকে আদর করলে আমি আদর দিব, মারতে আসলে "মাইর" দিব । মনির হাসানের কথাগুলোর সাথে একমত। সকল উগ্রতাকেই যেন আমরা উগ্্রবাদ, মৌলবাদ নামক কোন বাদের আওতায় ফেলে না দেই। গান্ধীদের পাশাপাশি সুভাষ বোসেরাও ছিলেন সেটা ভূলে না যাই। ইংরেজরা যুদ্ধ করতে প্রস্তত থাকলে গান্ধীবাদ কোথায় উড়ে যেত কে জানে। তেমনি নকশালবাড়ি আন্দোরণ সফল হলে আজ সবাই একমুখে তাদের জয়গান গাইতেন - কিন্তু তারাই আজ চরমপন্থী, মৌলবাদী হিসেবে পরিচয় পাচ্ছেন।@শাস্ত্রের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ থাকতেই পারে। শাস্ত্র মানুষকে মাঝে মাঝে জোর করে কিছু শিকল পড়াতে চায়। আপনি কেনই বা বিনা তর্কে সেই শিকল মেনে নেবেন। এটাই যদি মৌলবাদ হয়ে থাকে তবে আর কিছু বলার নেই ...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, আবির। ক্ষোভে সমস্য নয়, বিতর্কেও নয়, সমস্যাটা হলো ক্ষোভটা কীভাবে প্রকাশ করছি। সেটিই বলার চেষ্টা ছিল।
প্রচলিত সংখ্যালঘু/সংখ্যাগুরুর তত্ত্ব ব্লগে অচল । ব্লগে কেউ ফিজিকালি থাকে না । সবার হাতে কি-বোর্ড থাকে । উইপেন হিসেবে যুক্তি থাকে , আর যারা ওসব মাড়াতে চান না , সোজা গালি নিয়ে উপস্থিত হন । ব্লগে নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে উল্লেখ করে কেউ সহানুভূতি আদায় করতে পারে না । কারণ , সংখ্যাগুরু আস্তিকদের বেশিরভাগই চুপচাপ থাকতে পছন্দ করেন , বা কখনও দুই একটা কথা বলে একটা ঝারি খেলে চুপ মেরে যান । নাস্তিকদের বেলায় উল্টো , শত আক্রমণের মুখেও তারা কথা চালিয়ে যান । কাজেই ব্লগে যে কু-তর্ক হয় , সেটায় নামে মাত্র আস্তিকরা সংখ্যাগরিষ্ঠ , শক্তি প্রয়োগে আর নিজেদের অবস্থানে নাস্তিকরাই এগিয়ে । কু-তর্ক কেন বললাম ব্যাখ্যা করি , থিওলজি নিয়ে এখানকার বেশির ভাগ ব্লগারের ধারণা শূন্যের কোঠায় । যেমন আমিও যুক্তি দিয়ে কিছু বলতে পারি না । এই সুযোগটা নিয়ে অনেকে যা ইচ্ছা তাই বলার চেষ্টা করেন । বাকিরাও যেহেতু অনভিজ্ঞ , যুক্তির বদলে কথার বাহাসই চলতে থাকে বেশি । আর যুক্তি দিলেও বা কি , তর্ক হতে পারে দু'জন বেত্তার মাঝে । একজন যদি গোঁয়ার হয় , অন্যজনের হাজার কথা বলাই বৃথা ।
সেকারণেই নিজের লিমিটেশনের দিকে তাকিয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বনটা শ্রেয় মনে হয় । পোস্টেও আমি সেটিই খুঁজে পেয়েছিলাম ।
এই পোস্টের মূল আলোচনা থেকে অনেক দূরে সরে গেছি । আশা করি , আমি আর কমেন্ট করব না , সবাইকে অনুরোধ পোস্টের স্ট্রিমে ফিরে যাবার জন্য
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, মেহরাব। হ্যাঁ, মূল বক্তব্য থেকে যেন সরে না যাই।
ভালো কাটুক জীবন।
জনৈক আরাফাত বলেছেন:
পোস্টের বিষয়বস্তুতে প্লাস।আপনি আমার অন্যতম প্রিয় ব্লগার। যেমন আছে/ছিলো একজন বাঙ্গাল। মোলবাদীদের যন্ত্রণায় এখানে পরের অনেক লেখাই এখানে দেয়নাই। ফেসবুকে শুধু বন্ধুদের দেয়। সে সবার প্রিয় ব্লগার ছিলো- ১২ জুলাই এর পোস্ট এ যৌক্তিকভাবে ‘পীরপুজা’ বন্ধ করার আগ পর্যন্ত। এরপরই... । আপনার এ পোস্ট যেন এরকম না হয়। বাদ দেন, মৌলবাদীরা (উভয়ই) হলো গায়ে কাদা লাগানো মানুষের মত, ওদের সাথে লড়াই করতে গেলে আপনার সাদা শার্টটাই নষ্ট হবে। শুভকামনা।
তবুও, ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, নিজের একটা মতাদর্শ সহ মধ্যপন্থাই আমার জন্য সর্বোৎকৃষ্ট।
এই পোস্টের লিঙ্ক আমি ফেসবুকে দিতে চাই। অনুমতি চাইছি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। খুব ভালো লাগল আপনার কথা। আপনি লিঙ্ক দিতে পারেন।
সুখে শান্তিতে থাকুন প্রিয়জনদের নিয়ে।
আইরিন সুলতানা বলেছেন:
উগ্রবাদীতা কাম্য নয় কখনই । এটাই যে কোন ধর্মের মূল শিক্ষা মূলত।ধন্যবাদ ম্যাভেরিক ভাই।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, এটিই মানবতার মূল সুর।
শাস্ত্রীয় কিংবা সেক্যুলার উগ্রবাদী/মৌলবাদীর আঘাত না পড়ুক মানবতায়।
অদ্রোহ বলেছেন:
সত্যি কথা হল,এসব তথাকথিত উগ্রবাদীদের বাহাস দেখতে দেখতে রীতিমত ক্লান্ত এখন,একটাই কামনা করতে পারি,কুপমন্ডুকেরা বেরিয়ে আসুক সংকীর্ণতার ঘেরাটোপ থেকে...।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, অদ্রোহ।
হ্যাঁ, সার্বজনীন মঙ্গলকামনা ও শ্রদ্ধাই উদ্ভাসিত হোক।
সাঈফ শেরিফ বলেছেন:
ইদানিং ম্যাভেরিক, পাললিক মন ...প্রমুখ সুশীল ধার্মিক ব্লগারের পোস্ট চোখে পড়ছে বেশ। আবার তাদেরকে যারা জোরালো সমর্থন দিচ্ছেন, বাইরের জগতে সেই সমর্থকদের ধার্মিকতার সুবাদে যদি , 'তুই মৌলবাদী' বলে হাক দিই তাহলে ভিন্ন সুর পাওয়া যাবে। মধ্যপন্থী সুবিধাবাদীদের হাত ও দল অনেক শক্ত। এরা রিভার্স গেম খেলতেও সিদ্ধ হস্ত।"মৌলবাদী নামে একটি গোষ্ঠির কথা আমরা সবাই জানি। এরা নিজস্ব মতবাদ, ধর্ম, শাস্ত্রকে স্বার্থের জন্য অপব্যাখ্যা করে, নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ ভেবে অহংবোধে আপ্লুত হয়।"
মসজিদের মোল্লার 'মৌলবাদ' একবারেই নিরাপরাধ যতক্ষণ না তা 'সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাস'কে উস্কে দিচ্ছে।আপামর বাঙালি পোশাক ফেলে আরব দেশীয় পোশাক পরে কেউ ব্যক্তি স্বাধীনতার সুখ নিতে চাইলে সেখানে 'মৌলবাদী পোশাক খুল' বলে হামলা চালাব এটা তো সভ্যতা নয়। জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে মাকর্সবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য যারা শান্তি পূর্ণ মৌলবাদী আন্দোলন করছেন, সেখানে সমাজতন্ত্রের ভাত নেই বলে পাল্টা হামলা চালানোটাই 'উগ্রতা, সাম্প্রদায়িকতা' দুটোই । আমাদের সমাজ 'মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা' শব্দ গুলোর মাঝে কোন তফাত করতে জানেনা। মৌলবাদী মানেই যে তিনি সাম্প্রদায়িক আর সাম্প্রদায়িক মানেই তিনি বাস্তবে 'উগ্রতা' প্রদর্শন করে বেড়ান তা কিন্তু সত্য নয়।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, আপনার মতামতের জন্য। শব্দের বিবর্তন নিয়ে যেহেতু আমি কাজ করি, তাই মৌলবাদের বিবর্তন/পরিবর্তন কীভাবে হলো, কেন "ডগমা" ভালো, কিন্তু "ডগম্যাটিক" খারাপ এগুলি বুঝতে পারি। আপনি এই পোস্ট এবং তৎপরবর্তী মন্তব্য পড়লে বুঝতে পারবেন এখানে মৌলবাদের বর্তমানে বহুল প্রচলিত অর্থ নেয়া আছে। আপনি বোধ হয় ভালো করে পড়েননি, তাই সুশীল, রিভার্স এ শব্দগুলি ব্যবহার করেছেন। আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন আপনার সততা আমার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ নয়, আমার সততাকেও ঠিক সেভাবে গ্রহণ করতে পারেন।
অন্ধ দাঁড়কাক বলেছেন:
লেখা পড়ে ভালো লাগলো। কোন ধরনের উগ্রবাদ আমরা পছন্দ করিনা। এই পোস্টের কয়েকজনের কমেন্ট রীতিমত বিরক্তিকর। আশা করি এদের ইগনোর করবেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনার তীক্ষ্ণ শ্রদ্ধাশীল উপলব্ধির প্রতি আমারও শ্রদ্ধা সব সময়। হ্যাঁ, মানুষ তাই যা তিনি প্রকাশ করেন।
ভালো থাকুন, সুখে স্বস্তিতে।
জনাব সাঈফ শেরিফ, আমার বড্ড জানতে ইচ্ছা করছে সুশীল ধার্মিক ব্লগার বলতে আপনি কি বুঝিয়েছেন। কেনইবা আমাকে ও ম্যাভেরিককে এ ধরনের কৌতুহলউদ্দীপক উপাধি দিলেন। আপনার কথা ভাংলে দাড়ায় ব্লগে ৪ ধরনের ব্লগার আছেন। কুশীল ধার্মিক, কুশীল অধার্মিক, সুশীল অধার্মিক ও সুশীল ধার্মিক। বাছবিছারে যে গ্রুপে আমি পড়েছি তাতে বেশ পুলকিত। আপনার এহেন বদান্যতার প্রতি যারপরনাই কৃতজ্ঞ!
তবে ম্যাভেরিক হক কথাই বলেছেন। লিখাটি আরও বিস্তারিত হলে ভালো হত.
মেহরাব শাহরিয়ার রে ঝাজা ।
আর "কুশীল অধার্মিক" ট্যাগটা খুজে দেয়ার জন্য পাললিক মনকে ধন্যবাদ ।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, আরণ্যক। আপনার মূল্যায়ন বড় সম্মাননা। ব্লগে আপনার মন্তব্যগুলি আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকি। এবং উপলব্ধি করি তাদের ভেতরকার মায়া ও সহিষ্ণুতা।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
হ্যাঁ, উভয়ই পরিত্যাজ্য। উগ্রবাদিতার বিষবাষ্প থেকে মুক্ত থাকুক সমাজ, মুক্ত থাকুক মানবতা।
ধূসর মানচিত্র বলেছেন:
সম্পূর্ণভাবে লেখক ও মেহরাব ভাইয়ের সাথে সহমত পোষণ করছি। যারা নিজেদের মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্যর চিন্তাধারাকে তিলমাত্র শ্রদ্ধা করতে পারে না তারা মৌলবাদি, সেটা ধর্মীয় কিংবা প্রগতশীল যে কোন কিছুর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠুক না কেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ধূসর, চমৎকার মন্তব্যের জন্য। সংক্ষেপে সামগ্রিকভাবে এই হচ্ছে জগতের পারস্পরিক সম্পর্কের মূল।
ভালো থাকবেন।
সাদাত হাসান বলেছেন:
চমৎকার বিশ্লেষণ। সহমত।
সেক্যুলার মৌলবাদী'র একটা ভাল উদাহরণ 'আরিফুর রহমান'।
আপনার এই লেখা তাকে বেশ বিচলিত করে তুলেছে।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। আমার ব্লগে আপনার বিচরণ আনন্দময় হোক।
আপনি যদি প্রথম মন্তব্যকারীর কথা বলে থাকেন, হ্যাঁ, আমিও অবাক হয়েছি তার মন্তব্যের প্রকাশে, বিশেষ করে কিছু শব্দ চয়নে। এছাড়া কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেছেন আমি হয়তো শব্দটির যথাযথ মানে জানি না কিংবা প্রয়োগ করিনি।
শব্দ নিয়ে আমি পড়াশোনা করি, আমি অবাক বিস্ময়ে দেখি কীভাবে শব্দ পরিবর্তিত হয়ে যায়, ভালো শব্দ হয়ে যায় খারাপ। যেমন এখানকার সেক্যুলার মৌলবাদী কিংবা অন্য প্রেক্ষাপটে নাস্তিক মৌলবাদী, শব্দগুলি একেবারে নতুন নয়। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনই বলে গিয়েছেন,
"The bigotry of the nonbeliever is for me nearly as funny as the bigotry of the believer."
লেখক বলেছেন: পারস্পরিক শ্রদ্ধার অনুভবটাই বড় কথা আপি। তাতেই জগতের কল্যাণ, জগতের শান্তি।
ভালো কাটুক জীবন।
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন:
অনেক দিন পর আবার এই পোস্ট টা পরে গেলাম ...... কোন একটা লিঙ্ক থেকে যেন। আবারো ব্যাপক সহমত পোষন করে গেলাম !
রমিত বলেছেন:
মৌলবাদী মানে হলো যারা মূল আঁকড়ে থাকেন। হিন্দু মৌলবাদী মানে হলো যারা হিন্দু ধর্মের মূল অর্থাত গীতা, রামায়ন, মহাভারত ইত্যাদির বাইরে যেতে চাননা। কিন্তু জগত সংসার পরিবর্তনশীল, এত হাজার বছরের পুরাতন ধ্যান ধারণা এখন আর পুরোপুরি গ্রহনযোগ্য না। এটা মৌলবাদীরা বুঝতে চায়না। একই কথা অন্যান্য ধর্মের মৌলবাদীদের ক্ষেত্রেও প্রযোয্য। একই ভাবে কম্যুনিস্ট ও অন্যান্য মতবাদের মৌলবাদীরাও আছেন।
যারা ঠান্ডা মাথায় নিযের বন্ধুকেও জবাই করেছে।
সকল মৌলবাদীই ভয়াবহ।
জনাব ম্যভেরিক যথার্থই বলেছেন।
সৈয়দা আমিনা ফারহিন বলেছেন:
"প্রথম শান্তি, যা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, হচ্ছে সেটি যা মানুষ তাদের আত্মায় অনুভব করে যখন তারা উপলব্ধি করে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, মহাবিশ্বের সাথে তাদের একাত্মতা এবং মহাবিশ্বের সামগ্রিক শক্তির সাথে তাদের একাত্মতা।" এমন যদি হত..!
অনেক ভালো লিখেছেন।সবার কাছ থেকেই সহনশীলতা কাম্য।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















এই হলো শাস্ত্রের গোড়া... এ থেকেই নানা রকম ব্যবসা চারিদিকে ডালপালা বিস্তার করে।
আর ব্লগে/টিভিতে এই শাস্ত্র আপনাকে আমাকে গেলায় কারা জানেন?
এই পোস্টের লেখকের মতো ধর্ম নিয়ে ব্যাবসার এজেন্টরা।
মুক্তমনারা যখন ধান্দাবাজি আর জোচ্চুরির বিরূদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে... তখনই এইসব ব্যবাসায়ী এজেন্টরা তাদের ব্যবসা বাঁচানো বা জীবিকার তাগিদে এইসব পোস্ট দিয়ে থাকে।
তারা দুর্বল মস্তিষ্কে নতুন নতুন শব্দ আবিষ্কার করে...
যেকোন শব্দের পেছনে মৌলবাদী শব্দটি জুড়ে দিয়ে এরা গুয়ের গন্ধ সেন্ট দিয়ে ঢাকতে চায়...
ঘেন্না!