আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে কর্মরত বিচারক ও কর্মকর্তাদের কাজকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং শ্রমসাধ্য বিবেচনা করে সরকার তাদের মূল বেতনের ৭০ শতাংশ ঝুঁকিভাতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৯১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এখানে বিচারকসহ মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৪৩ জন।
জানা গেছে, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একপত্রের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের বিচারক, রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে সংযুক্ত এবং চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিমাসের মূল বেতনের ৭০ শতাংশ ঝুঁকিভাতা দেয়ার প্রস্তাব করে এবং অর্থ মন্ত্রণালয় এতে সম্মতি দেয়।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক, রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে সংযুক্তিতে ২৬ জন এবং প্রসিকিউশন শাখায় ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। এরমধ্যে ৩ জন প্রেষণে আছেন। তাদের ৭০ শতাংশ ঝুঁকিভাতা দিলে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৯১ লাখ ৫০ হাজার ৯১৯ টাকা।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১১-১২ অর্থবছরে সরকার আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের জন্য থোক বরাদ্দ দিয়েছে ১৫ কোটি টাকা। বিচারক এবং কর্মকর্তাদের ৭০ শতাংশ ঝুঁকিভাতা
নির্ধারিত বরাদ্দ থেকেই এ ব্যয় মেটানো যাবে। এজন্য সরকারকে অতিরিক্ত বরাদ্দ দিতে হবে না।
জানা গেছে, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্যরা শ্রমসাধ্য এবং ঝুকিপূর্ণ কাজের জন্য মূল বেতনের ৭০ শতাংশ ভাতা এবং এসএসএফ ও পিজিআর সদস্যরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ ঝুঁকিভাতা পাচ্ছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থা সরকারের কোনো স্থায়ী প্রতিষ্ঠান নয়। কিন্তু এ সংস্থার কাজের ধরন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও শ্রমসাধ্য। তাই এ ট্রাইব্যুনালের সাথে সংশ্লিষ্টদের ঝুঁকিভাতা দেয়া যুক্তিসঙ্গত। এ ক্ষেত্রে তাদের সবাইকে মূল বেতনের ৭০ শতাংশ ঝুঁকিভাতা দেয়া যেতে পারে। তবে যারা বর্তমানে প্রেষণে ট্রাইব্যুনালে কর্মরত আছেন তাদের ক্ষেত্রে সমনীতি রক্ষার্থে ২০ শতাংশ প্রেষণ ভাতার সাথে ৫০ শতাংশ ঝুঁকিভাতা দেয়া যেতে পারে। আর ঝুঁকিভাতা এবং বিশেষ ভাতার সমষ্টি কোনোক্রমেই মূল বেতনের ৭০ শতাংশের বেশি হবে না। তবে শুধুমাত্র ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে এ বিশেষ ভাতা দেয়া হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



