১৯। মানুষের জন্য আত্মকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি খুব বিপদজনক। কিছু কিছু অবিশ্বাসী মানুষ আছেন যারা মনে করে কিছু উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড তৈরি হয়েছে। এ ধরণের দায়িত্ববোধ আসলে মূল্যহীন। নিজেদের প্রজাতিকে বাঁচানোর জন্য ব্যক্তিগত আমি মনে করি এটা বেশ ভাল সম্ভাব্য ধারণা। আমাদের বোঝা উচিত মহাকাশের অন্যান্য ধুলিকণার মত আমাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সম্পূর্ণ উদাসীন। এমনকি আমরা যদি বংশবিস্তার করে এই বিশ্বকে ভরিয়ে ফেলি কিংবা আণবিক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করে ফেলি তাতেও কোন যায় আসে না। আমরা নিজেরাই নিজেদের অস্তিত্বের জন্য দায়বদ্ধ। এ বিষয়ে আমাদের নিজেদের পর্যাপ্ত জ্ঞান আছে। অতএব আমাদের কোন সর্বশক্তিমান পিতার কোন দরকার নেই। যদি প্রয়োজনীয় তথ্য আমাদের থাতে থাকে আর সেগুলো থেকে সঠিক শিক্ষা যদি আমরা নিতে পারি, তাহলে আমরাই ঠিকঠাক রাখতে পারব। এর সাফল্য আমাদের নিজেদের উপর নির্ভর করবে। ধর্ম মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক হতে উৎসাহিত করে। এটা মানবগোষ্ঠীর জন্য বরং অনেকাংশে আত্মঘাতী। এজন্য আমি খ্রিস্টিয় বা অন্য যে কোন আত্মকেন্দ্রিক ধর্মের সক্রিয় বিরোধীতা করি।
২০। ইতিহাসে ধর্মের বেশ কিছু বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক প্রভাবক হিসেবে ধর্ম একাধিক সূত্রে মানুষকে সমাজবদ্ধ করেছিল। বিভিন্ন জটিল মহাকালিক বাঁকে মানুষকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছে। কিন্তু এখন আমরা অর্থাৎ এই গোটা মানবজাতি শৈশবকাল অতিক্রম করেছি, কৈশোরে পৌঁছেছি। এখন আর শিশুতোষ রূপকথার জগতে বাস করা আমাদের শোভা পায় না। আমাদের খুব দ্রুত বয়প্রাপ্ত হওয়া উচিত। আরও নানারকম বালখিল্যচিত ঘটনার মুখোমুখি (যেমন: আত্মঘাতী প্রবণতা) আমাদের হতে হবে। আমি শৈশবকে ধরে রাখা নয়, ক্রমান্বয়ে বড় হবার পক্ষে।
অগ্নি অধিরুঢ়
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১০:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



