এর আগে দু'তিন বার গিয়েছিলাম আইস স্কেটিং করতে। অনেকদিন পর পর যাওয়ার কারণে কিছুই শেখা হয় নি, কাজের উপর কাজ যা হয়েছে তা হলো পিছলে পড়ে যাওয়া। বরফের মধ্যে হাটি হাটি পা পা করতে গিয়ে একেবারে ধপ! একদিনে চার-পাঁচবার সেরকম কিছু ঘটলে মাজায় ব্যাথা অস্বাভাবিক কিছু না। এবার অবশ্য ওটা হয় নি। সোমবারের স্কুল থেকে শেষ পিরিয়ডে বন্ধুদের সাথে গেলাম। বরফ নিয়ে খেলার যা দাম! এর উপর পুরোটাই গিয়েছে আমার পকেট থেকে। তাই সময়টা যাতে ভালোভাবে কাজে লাগে তার চেষ্টায় ছিলাম। ধারালো জুতা পরতেই লেগে গেলো অনেক সময়। এরপর ছোট দেয়ালটা ধরে ধরে নেমে গেলাম। হু, একটু ভয় করছিলো। পা টাও ব্যাথা করছিলো ভীষন। কিন্তু একটু পরে আপনা আপনিতেই ঠিক হয়ে গেলো। ডান, বাম, ডান... দেওয়াল ছেড়ে চলার চেষ্টা চালালাম। সে এক ঘন্টায় পেরেও গেলাম অনেকটুকু। দু'বার বন্ধুদের সাথে হাত ধরে পুরো রিঙ্ক পার হয়েছি! (ক্লোজআপহাসি) পিছলে পড়েছি মাত্র একবার। তবুও, সাদা ভিজে ও ঠান্ডা জিনিষটা এবার অত খারাপ লাগেনি।
জুতা খুলেই বুঝতে পেরেছিলাম পায়ে কোন সমস্যা হয়েছে। গোড়ালির একটু উপরে হালকা গোলাপি হয়ে গিয়েছে। বাসায় আসতে আসতে খয়েরি রং! সেদিন গোসলের সময় আসল রুপ ধারণ করলো।
পানি ছোঁয়াতেই ছ্যাত করে উঠলো। উহ আহ করতে করতে কোন রকমে বের হয়ে এলাম। এখন ঠিক হয়ে গেছে। খয়েরি আছে, কিন্তু ব্যাথা নেই।আজকে অনেকদিন পর রক্ত গড়িয়ে পড়তে দেখলাম। সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় বরাবরই তাড়াহুড়োর মধ্যে থাকি। মা খাবার নেওয়ার জন্য বলতে থাকে, আমি কাজল দেওয়ায় মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করি, বাবা-ভাইয়া-আপু যার যার কাজে। আজকে বাস আসার সময় প্রায় চলে যাচ্ছে তাই কোনরকম জুতা পায়ে গলিয়ে ব্যাগ আর ঘড়ি হাতে নিয়ে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করছিলাম। না তাকিয়ে টান দিলাম। হাত চাপা পড়ে গেলো, তাই অন্য হাতে চেপে দৌড়ে সিড়ি বেয়ে নামলাম। ঘড়ি পরার সময় দেখলাম কোন একটা কারণে আমার ডান হাতের প্রথম আঙ্গুল বেয়ে টকটকে লাল রক্ত পড়ছে। বা হাতও ভরে গেছে ঐ রক্তে। এবার বুঝলাম ব্যাথা কোথা থেকে আসছে! অবাক হয়ে পেছনে দৌড়ে বেল টিপলাম। দরজা খুলতেই মা দেখলো অবস্থাটা। পানি ঢালা হলো, বরফ দেওয়া হলো। এর মধ্যে আটকে থাকা কান্নাটা গলা থেকে উঠে এসেছে। গত কয়েকদিনের বলা না বলা সমস্ত ছোট বড় মন ও শরীরের ব্যাথার কথা মনে চলে এসেছে। বাচ্চাদের মতো কেন কাঁদছি এটা ভেবেও রাগে কান্না বেড়েছে। টানা দেড় ঘন্টা চোখ দিয়ে পানি পড়েছেই তো পড়েছে। হাতের জ্বালা একটু কমে আসতে কান্নাও থেমেছে। আজকে আর স্কুলে যাওয়া হলো না।
ভেবেছিলাম বাসায় বসে বসে নোট করবো আর পড়বো। আর দু'দিন পরে পরীক্ষা। একটু আগে পর্যন্ত বিছানায় কম্বল জড়িয়ে গল্পের বই পড়ছিলাম। এখন পড়ার বই খোলা সামনে। শব্দগুলো চোখের সামনে ভাসছে, কিন্তু মাথায় কিছুই ঢুকছে না। আল্লাহ! আমার কি হবে! (খাইয়ালামু)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



