তার মানে বিজ্ঞান ও ধর্ম আসলে পুরো উলটো জিনিষ না, শুধু বৈজ্ঞানিকভাবে 'একজন ওপরওয়ালা'র কোন ডেফিনিশন নেই, কারন তিনি যে নেই এর কোন প্রমান নেই। যারা বলে খোদা নেই, কারন 'আসল' (!) প্রমান নেই, তাদের কথা ঠিক মেলে?
সেই ইংলিশ ক্লাস থেকেই লিটারেসি এক্সটেনশন প্রোগ্রামের জন্য বাছাই করা হয়েছে কয়েক সপ্তাহ আগে। গত বছর খুব করতে চেয়েছিলাম এটা, তাই এর জন্য বেছে নেওয়া মেয়েদের মধ্যে আমার নাম দেখে প্রথমে খুব খুশি লেগেছিলো। দশ/বারো জন নাইন টেনের ছাত্রীরা ছয়টা বই পড়ে এর থেকে সবচেয়ে ভালো বই বের করে। এ বছর সবাই নিজেদের পছন্দের বইয়ের জন্য দারুন চেষ্টা চালিয়েছে। কারন দেখিয়ে তুমুল তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে যাচ্ছিলো প্রতিদিনই। এভাবে বেশ কয়েকদিন স্কুলের পরে বা লাঞ্চটাইমে একসাথে হয়ে মন ঠিক করলাম আমরা সবাই। গত রাতে এ উপলক্ষ্যে একটা ডিনার ছিলো, যেটাতে রোটারি ক্লাব থেকে দাওয়াত দিয়েছে আমাদেরকে। 'স্পেশাল গেস্ট'
হিসেবে সব ছাত্রীদের জন্য ছিলো ফ্রি, কিন্তু অন্য সবার টাকা দিতে হয়েছে! আমরা বাসা থেকে রওনা দিয়েছি একটু দেরিতে, তারপর আবার রাস্তায় আটকে ছিলাম অনেকক্ষণ। আমি পেছনের সিটে বসে ঘড়ি দেখছিলাম আর কোনভাবে চোখ দিয়ে সময় থামাতে চেষ্টা করছিলাম। গাড়ির বিরাট লাইন পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছি ঠিক সাড়ে ছয়টায় - শুরু হওয়ার সময়। ভেতরে যেতে যেতে শুরু হয়েই গিয়েছে, তাই ঢোকার সাথে সাথে সবগুলো চোখ আমাদের ওপর এসে পড়লো। লাল হয়ে খালি চেয়ার দেখে মা বাবাকে নিয়ে বসে দেখি আশেপাশে সব বুড়ো রোটেরিয়ানটরা। আমার বন্ধুরা বসে আছে একদম অন্য প্রান্তে! মানসম্মান বিসর্জন দিয়ে উঠে ওদের কাছে এসে দেখি যেটাকে মনে করেছিলাম একটা খালি চেয়ার, সেটা আর খালি নেই। সেখানে বসা ভদ্রলোক বললো অন্য কোথাও থেকে চেয়ার এনে ওখানেই বসে যেতে। বসার পরে খেয়াল করলাম চামচ নেই। আবারও উঠে গিয়ে আরেক টেবিল থেকে সেগুলো এনে বসলাম।
লজ্জাশ্কর মুহূর্তগুলো যেতে না যেতেই আমার কথা বলার সময় এসে গেলো। আমার স্পীচ ছিলো বই পড়া নিয়ে, কেন সেটা গুরুত্বপূর্ন, নাম দিয়েছিলাম 'টু রীড অর নট টু রীড'। হার্টবীটের শব্দের জন্য কানে শুনছিলাম না, কিন্তু প্রাণপণে মুখে হাসি টেনে মাইকের কাছে গেলাম। এর পরে সব অস্পষ্টভাবে মনে আছে। এক পাশ একজন ভিডিও করছিলো... সামনে মা ছবি তুলছিলো... মাইকটা বেশি দূরে ছিলো... সামনে একটা লোক হাসিমুখে বসে ছিলো... ইত্যাদি ইত্যাদি।
রোটারি ক্লাবের মেম্বারদের দেখে মনে হলো ওরা আমার থেকে সম্পুর্ণ আলাদা। টাকায় মোড়া হৃদয় নিয়ে টাকাজনীত ব্যস্ততায় কাটিয়ে দিচ্ছে জীবন। ঠিকভাবে কাটা চামচ ধরা থেকে ব্যাজ ভর্তি কোটকে সুন্দর করতেই সময় চলে যায় ওদের। আদবের পরিপূর্ণতাই ওদের আদর্শ। আমাদেরকে বেছে নেওয়া এর মধ্যেই পড়ে, 'আদর্শবান' বানানোর জন্য। আর বুড়োরাই বেশির ভাগ মেম্বার কেন? সময় বেশি, কাজ কম, তাই? ফাঁকা জীবন চাই না, তাই এখন থেকেই সেটাকে ভরে ফেলার চেষ্টা করছি। শেষ বয়সে মিথ্যে আদর্শে ধোয়া পানি না খেয়েও যেন বেঁচে থাকতে পারি, তাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

