বিকেলে নেটে থাকাকালীন একটা সুখবর পেলাম। কাওকে বলার জন্য পেট ফেটে যাচ্ছে, কিন্তু আমাকে একশবার করে বলা হয়েছে কথাটা বের না করার জন্য। তারপর কাল বিকেলেই আমার প্রিয় একজন ব্লগারের সাথে প্রথম কথা হলো। আমাকে অবাক করে দিয়ে বললো আমার লেখাও তার নাকি খুব ভালো লাগে। এ ব্লগকে গবেষনা করে মোটামোটি একটা বিস্তৃত বর্ণনা দাড় করিয়ে ফেললো। দেখা গেলো আমার লেখা বেশি হাসি-খুশি, পড়ে মনে হয় আমার জীবনে কোন কষ্ট নেই - এটাই তার ভালো লাগার কারন। তবে জানা গেলো 'অশ্রু ঢল কবিতাটা একটু দুঃখের হলেও সেটাও ভালো লেগেছে। তখন থেকে একটা হাসি যে মুখে লাগলো, তার আর নামার ইচ্ছে নেই।
হাজার বছর ধরে দেখার পর জহির রায়হানের উপন্যাস পড়তে বসলাম। যদিও সিনেমাটা খুব বেশি ভালো হয় নি, মূল গল্পটা যে অতটা খারাপ না, এটা অন্তত ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে। দু'দিন লাগিয়ে পড়লাম 'শেষ বিকেলের মেয়ে'। লোকটার লেখার মধ্যে নাটকীয়তার আধিক্য, বাস্তবতার সল্পতা। নায়ক: কাসেদ সাহেব, নায়িকা: জাহানারা, শিউলি, সালমা, নাহার ও আরেক নামহীন মেয়ে। জাহানারার সাথে কিছু না ঘটতেই কাসেদ সাহেবের কল্পনা দৌড় দিয়ে একেবারে বিয়ে পর্যন্ত চলে গিয়েছে। নামহীন মেয়ের যখন বসের সাথে বিয়ে হলো, তখন তার বার বার মনে হয় সে নিজের বউ হতে পারতো। শিউলির সাথে সম্পর্কে এতো গোলমাল নিয়েও তার চোখে সেটা 'সহজ'। সবচেয়ে ক্লাসিক ব্যাপার হলো: নাহার তার দুঃসম্পর্কের বোন, ছোটবেলা থেকে নিজের মার কোলে বড় হয়েছে। প্রায় পুরো গল্পে তাদের মধ্যে ভাই বোন ছাড়া আর কিছু বোঝা যায় নি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নাহার বিয়ের আগের দিন পালিয়ে চলে আসে, তার সাথে থাকার জন্য। সাতচল্লিশ বছর আগে লেখার জন্য, কিংবা লেখকের নিজস্ব লেখার ধরনের জন্যই হোক, আমার কাছে 'রোমান্টিক প্রেমের উপাখ্যান' টি ঠিক ভালো লাগে নি।
হার্পার লি'র 'টু কিল আ মকিংবার্ড' পড়ছিলাম একই সাথে। দু'শ চল্লিশ পৃষ্ঠা পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম কাল রাতে। আজকে যে করেই হোক শেষ করতে হবে! মজার ব্যাপার হলো, এ বইটাও ১৯৬০ সালে লেখা হয়েছে, কিন্তু অনেক কিছু সাথে আমাদের জীবনের এখনও মিল আছে। যারা এখনও বইটা পড়েননি, কোথাও থেকে জোগাড় করে এক্ষুনি পড়ে ফেলুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

