"আকাশটা আজ বড়ই নীল
আজ আমায় পিছু ডেকো না..."
ধুর! আকাশটাতো আজকে একদম নীল না! কেমন মেঘলা মেঘলা, মনে হচ্ছে এক্ষুনি ঠোট উল্টিয়ে কেঁদে ফেলবে। বৃষ্টির শব্দ শুনতে খুব ভালো লাগে আমার। শুকনো ছাঁদের নিচে ছন্দের তালে তালে বৃষ্টি দেখতেও ভালো লাগে। অনেকদিন পুরোদমের বৃষ্টিতে ভেজা হয় না, কারন আজকাল ভিজতে গেলেই শীতে কেঁপে উঠি। সিডনির বৃষ্টির ধারাই এরকম! বর্ষাকালে বাংলাদেশে গেলে মজা হতো। তবে আগামী অনেক বছরে সেটা হওয়ার সম্ভবনা খুব কম। যখন সেটা সম্ভব হবে, তখন আর ছোট থাকবো না।
অবশ্য এখনও অতটা ছোট নেই। নিরো সেদিন ফোন করে বললো এ্যন্টি এজিং ক্রিম কিনতে। তার নিজেরও যে সতেরো হচ্ছে এ জুলাইয়ে, সেটার খেয়াল নাই। তবে এতোটা বছর কাটিয়ে দিলাম পৃথিবীতে, এখন কোন একদিন দুম করে মরে যেতে পারি - আমার অতি প্রিয় লার্নার্স লাইসেন্সের সাহায্যে! যদিও এখনও ড্রাইভিং শুরু করিনি... তবে করতে আর কতোদিন! তবুও নিজেকে ছোট ভাবতে বেশ ভালো লাগে। মজায় মজায় জীবন কাটিয়ে দেওয়ার আইডিয়াটা আকর্ষনীয়। কিন্তু - আমি পঞ্চাশের মাথায় গিয়ে পেছনে তাকিয়ে জীবনকে মোটেই ফাঁপা হিসেবে দেখতে চাই না। স্মৃতিগুলো রয়ে যাবে ঠিকই, কিন্তু এসব স্মৃতি কি কাজে আসবে? হয়তো ছোটবেলার কোন এক পাগলামি হঠাৎ মনে এসে কয়েক মুহূর্তের জন্য ঠোঁটে হাসি এনে দেবে, কিন্তু তারপর? সময়গুলো শুধু মোমের মতো পুড়বে, আর ভাবনাগুলো মেঘেদের সাথে উড়বে। স্মৃতিগুলো বাস্তবতা বদলাতে পারবে না।
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়া শুরু হয়ে গেছে। অশ্রু ফেলার দুর্বলতায় লজ্জাবতী আস্তে আস্তে মাথা নোয়ায় ফেলছে। আর আমার মন সমস্ত ছড়িয়ে পড়া ভাবনাগুলোকে গুটিয়ে ফেলতে চাইছে। আজকের দিনের বিশেষত্ব কি?
কে যেন গেয়ে যাচ্ছে...
এমনও দিনে তারে বলা যায়
এমনও ঘন ঘর বরিষায়
এমনও দিনে মন খোলা যায়
এমনও মেঘও স্বরে, বাদলও ঝড় ঝড়ে
তপনওহীন ঘন তমষায়
এমনও দিনে তারে বলা যায়
সে কথা শুনিবে না কেহ আর
নিভৃত নির্জনও চারিধার
দুজনে মুখোমুখি, গভীরও দুঃখে দুঃখী
আকাশে জলও ঝরে অনিবার
জগতে কেহ যেন নাহি আর...
আবারও ধুর!! এখন মেঘ ডাকছে না, ঘন বরিষাও হচ্ছে না। আর রবীন্দ্রনাথ এসব কি লিখেছে? মন ভালো করার গানগুলো কোথায় লুকালো আজ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



