আমার প্রিয় পোস্ট

অতীতকে নিয়ে নস্টালজিক হতে ভালোবাসি, ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতেও।

রাসিফ

২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৮

শেয়ারঃ
0 2 0

আমার খালাতো ভাই ও ভাবীর বিয়েটা পরিবারের বাকি কারও মতো হয় নি। হি ভাইয়া ছিলো কোঁকড়া চুলের ছেলেটা, যে আঁকতে খুব পছন্দ করতো, কিন্তু ক্লাসে খুব একটা ভালো করতো না। সা ভাবী ছিলো ভালো মেয়েটা, যে চারুকলায় ঢুকেছিলো ক্লাসে প্রথম হওয়ার জন্য। হি কিভাবে কিভাবে যেন সা এর প্রেমে পড়ে গেলো, আর সা একটুও বুঝতে পারলো না। একদিন বিকেলে, যখন হি ও সা চারুকলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিচে বন্ধুদের কর্ম কান্ড দেখছিলো আর খুব হাসছিলো, হি একটু হাসি থামিয়ে বললো: তোর চোখগুলা খুব সুন্দর!

তারপর একদিন পাগল ছেলেটা আর ভালো মেয়েটা চুইংগাম চাবাতে চাবাতে বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করা টাকা নিয়ে বিয়ে করে ফেললো। যদিও অনেকদিন কষ্টে ছিলো, এখন সা আমাদের সবচেয়ে প্রিয় ভাবী, বড়দের সবচেয়ে প্রিয় বউ। হি আগে গিটার বাজাতো আর আঁকতো, আর সা আঁকতো আর সাজাতো। এখন ওদের একটা মেয়ে ও দুটো ছেলে আছে, তিনজনই দেখতে অসাধারন রকমের সুন্দর! বড় মেয়েটা ছোটবেলা থেকেই খুব সুন্দর আঁকে, মেঝো ছেলেটা, রাসিফ, যার বয়স এখন চার কিংবা পাঁচ, বড় হয়ে খুব ভালো কবি কিংবা লেখক হবে। ছোট ছেলেটার প্রতিভা এখনও প্রকাশ পায় নি, কিন্তু ও ভীষণ জেদি, হি ভাইয়ার মতো।

নিচের কবিতাটার সবগুলো ছবি রাসিফের মাথা থেকে এসেছে (আইসক্রীম মেঘ ছাড়া)! আমি শুধু ওর কথাগুলো নিয়ে ছন্দ মিলিয়েছি। ও আমার দেখা দ্বিতীয় ছেলে, যে খুব, খুব ট্যালেন্টেড!

পুকুর নামের বাটির মাঝে ময়লা পানির স্যূপ,
চারিদিকে দারুচিনি দাঁড়িয়ে আছে চুপ;
তুমি যদি সিঁড়ি বেয়ে নেমে যেতে চাও,
ছ'টি পায়ে শুঁড় উচিয়ে পিঁপড়ে হয়ে যাও!
সবচেয়ে বড় মেয়ে পিঁপড়ে কোথা থেকে এলো?
চিবিয়ে সে মশারি আর কম্পিউটার খেলো!
হই হুল্লোড় পড়ে গেলো পিঁপড়ে রাজত্বে -
এত্তো কিছু খেয়ে ফেলে পারেই না নড়তে!

তারপর সেই ছোট্ট ছেলে অবাক চোখে তাকায়,
ভাবনা ভরা মাথাটা একটু খানি ঝাঁকায়,
ইয়া বড় এক কেঁচি খুঁজে নদীতে দেয় ডুব -
সাঁতার কেটে ফেলতে আজ ইচ্ছে করলো খুব!

আর তুমি যদি মেঘগুলোকে ভাবো আইসক্রীম,
আট আনায় কিনতে পারো টিকটিকির কিছু ডিম,
গাছের গুঁড়ি চকলেট হয়ে দেবে আজ ধরা,
মনে মনে লিখবে শুধু অদ্ভুত এক ছড়া।

ছোট ছোট চুল তোমার, ছোট্ট মাথাটাও,
বিরাট বড় মনটা তাতে কিভাবে আঁটাও?

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫৬
ব্রুটাস বলেছেন: দোয়া করি এই প্রজন্মের কেউ যেনো রাজাকার না হয়
২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০৮

লেখক বলেছেন: আপনার দোয়া হয়তো কবুল হয়ে গিয়েছে। রাজাকাররা পাকিস্তানি আর্মির অংশ ছিলো, ১৯৭১এর বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের সময়। ২০০৯ এর প্রজন্মদের রাজাকার হতে হলে টাইম ট্রাভেলিং শিখতে হবে।

২. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১৪
লিটল হামা বলেছেন: আর এখন যারা রাজাকারি চেতনা ধারন করে তারা কি? আপনার দৃষ্টিতে কয়েকজন উল্লেখযোগ্য রাজাকারের নাম বলুন।
২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:০০

লেখক বলেছেন: আমি তো কোন রাজাকারকে চিনিনা, আপনি ব্রুটাসকে জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন। আমার জন্ম হয়েছে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিশ বছর পর ও বাংলাদেশ ছেড়েছি দশ বছর বয়সে। বাংলাদেশের পলিটিকস ও পলিটিকেল হিস্টোরি নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র উৎসাহ নেই। আমি বাংলাদেশের চেনা মানুষগুলোকে ভালোবাসি, ভাষাকে ভালোবাসি, নদী-গাছপালা-পুকুর-নানুবাড়ি ভালোবাসি, কারন এগুলো আমার ভালোবাসা অর্জন করেছে। আমি বাংলাদেশের পলিটিকস ও পলিটিকেল হিস্টোরি সম্পর্কে কিছুই জানিনা, তাই সেগুলোর জন্য দেশকে কিংবা দেশের কোন মানুষকে ভালোওবাসিনা, ঘৃণাও করিনা। ওপরের যে তথ্যটা বললাম, সেটা উইকিপিডিয়া থেকে নেওয়া।

তাই আপনার প্রশ্নের জবাব দিতে পারছিনা।

৩. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:০৮
লিটল হামা বলেছেন: বুঝেছি। গোলাম আজমকে কেমন লাগে? নাম শুনেছেন কখনও?
২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:১১

লেখক বলেছেন: নাম শুনেছি। পার্সোনালি চিনিনা, তাই কেমন লাগে তা বলতে পারবো না।

৪. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:২৭
লিটল হামা বলেছেন: আপনি কি আপনার হজরত মোহাম্মদ(সা.) কে পার্সোনালি চেনেন? উনাকে কেমন লাগে?
২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:০৯

লেখক বলেছেন: আপনার কমেন্ট পড়ে বেশ কিছু কথা মাথায় আসলো:

১। মোহাম্মদ (সা) শুধু 'আমার' না, উনি পুরো পৃথিবীর জন্য। গোলাম আজমকে যদি আল্লাহ পুরো পৃথিবীর জন্য পাঠাতে চাইতেন, ওনাকে নবী বানিয়ে পাঠাতেন। তাই মোহাম্মদ (সা) ও গোলাম আজমের তুলনা করা বোকামি।

২। মোহাম্মদ (সা) যখন জীবিত ছিলেন, তখন ওনার কথাবার্তা ও চলাফেরার সাক্ষী হিসেবে প্রচুর মানুষ ছিলো। সেগুলো এখন আমাদের হাতে হাদিস হিসেবে আছে। হাদিস সংগ্রহ করার কিন্তু বিরাট একটা প্রসেস আছে - সেগুলো একজনের মুখের কথায় লেখা হয়নি, অনেকজনের মুখে একই কথা শুনে লেখা হয়েছে। কেও যদি কোন কথার প্রতিবাদ করতো, সেটাকে রিসার্চ করে প্রসেসটা আবার প্রথম থেকে শুরু করা হতো। গোলাম আজমকে ঘিরে যে সব কন্ট্রোভার্সি সৃষ্ঠি হয়েছে, সেগুলো 'কন্ট্রোভার্সি', কারন দুপক্ষের কথাই মানুষ বলেছে। ব্যাপার হচ্ছে, এটাকে সলভ করার কোন চেষ্টা করা হচ্ছে না, কারন কোন পক্ষের মানুষই অন্য পক্ষের কথা শুনতে রাজি না। তাই মোহাম্মদ (সা) ও গোলাম আজমকে তুলনা করা অযৌক্তিক।

৩। হাদিস থেকে মোহাম্মদ (সা) এর জীবন মোটামোটি বোঝা যায়। ওনার স্ত্রীদের কাছ থেকে ওনার খাওয়া, ঘুম সবকিছুর খবর আমাদের কাছে পৌঁছেছে। তাই, হ্যা, মুহাম্মদ (সা) আমি পার্সোনামলি চেনার মতোই চিনি। ওনাকে আমার অসাধারন একজন মানুষ মনে হয়।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯২৪২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
"দলা পাকানো কাগজ ও চুমোয় ভরা মগজ নিয়ে ঘুমোও,
মেঘের বেগে রেগে গিয়ে অসম্ভবের সম্ভাবনা ড্রিমাও,
তাও না হলে কাওকে বলে বিষন্নতার...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ