মাঝে মাঝেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নির্যাতন প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে বিভিন্ন প্রতিবেদন দেখা যায়। বিভিন্ন সময় সংখ্যালঘু প্রতিনিধিদের একাংশ ইউরোপীয় পার্লামেন্ট, জাতিসংঘ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করে এর ভয়াবহতা তুলে ধরেন।
এইসব কারনে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসাবে বিবেচনা না করে সংখ্যালঘু নির্যাতনকারী দেশ হিসাবে দেখা হয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংক্রান্ত রিপোর্টে বাংলাদেশের অবস্থান থাকে নিচের দিকে। এবং এর অবশ্যম্ভবী পরিণতি হিসাবে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ইমেজ ক্ষুন্ন হয়।
এর বিপরীতে বাংলাদেশে সাধারনভাবে মানুষ ধর্মপ্রান হলেও শত উস্কানির মুখেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বাস করছেন। নিকট অতীতে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হলেও বাংলাদেশ এই ধর্মান্ধ আচরণ থেকে মুক্ত থেকেছে। অথচ তারপরও বাংলাদেশ সংখ্যালঘু নির্যাতনকারী দেশ হিসাবে চিন্হিত!!
ব্যাপারটা একটু খটকা লাগে। একদল মানুষ আছেন যারা সংখ্যালঘু নির্যাতন এর ব্যাপারে যে প্রচার ও প্রচারণা তার পুরোটাই সত্য মনে করেন আবার একদল আছেন তার পুরোটাই অস্বীকার করেন। মুল সত্য হয়তো এর মাঝামাঝি কোথাও।
এই ওয়েবসাইটটিতে লিংক ([wjsK=http://www.mayerdak.com/incid_archives.htm]http://www.mayerdak.com/incid_archives.htm) সংখ্যালঘুদের নির্যাতন এর ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দেয়া আছে এবং এই তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রণয়নে ব্যবহার করা হয়। ওয়েবসাইটটিতে তথ্যের উত্স হিসাবে লেখা আছে ..The following incidents have been collected by local reporters in Bangladesh.। প্রশ্ন হচ্ছে কারা এই লোকাল রিপোর্টার এবং তাদের দেয়া তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু। নিশ্চয়ই সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর এর সূত্র দেয়া হলে সেটি বেশী গ্রহণযোগ্য হতো।
আর যে সব ঘটনা সংবাদপত্রে প্রকাশ পায়নি তাদের ক্ষেত্রে অন্তত: সংশ্লিষ্ট থানায় করা মামলা/সাধারণ ডায়েরী নম্বর উল্লেখ করা যেতো। কিন্ত তা না করে শুধু বিভিন্ন নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা পাওয়া যায়।
প্রফেশনের স্বার্থে সারা বাংলাদেশ ঘুরেছি। হিন্দু - মুসলিম - চাকমাসহ বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষের আতিথ্য গ্রহণ করেছি, কিন্তু তাদের কারো কাছে এই পরিমানের সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথা শুনিনি। এছাড়াও আমার প্রচুর হিন্দু বন্ধু আছেন। আমি তাদের বাড়ী গিয়েছি, গ্রামের বাড়িতেও গিয়েছি। কখনই তাদের কাছ থেকে সংখ্যালঘু হিসাবে আলাদা সমস্যায় পড়ার কথা শুনি নাই। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বাদ দিলেও দেশের পত্র-পত্রিকাতেও এত ব্যাপক নির্যাতনের চিত্র পাওয়া যায় না।
এখন যদি এই ওয়েবসাইট (এটি একটি এরকম আরো নিশ্চয়ই আছে) বা বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেয়া সব তথ্য সত্য বলেও ধরে নেই তাহলেও একটা তুলনা প্রয়োজন। এই অপরাধগুলিকে সংখালঘুদের উদ্দেশ্যে ডেলিবারেটলী সংঘটিত কিনা, নাকি এটি প্রতিনিয়ত ঘটে চলা বিভিন্ন অপরাধেরই অংশ?
প্রশ্ন হলো একই সময়ে গরীব ও নিরীহ মানুষ (এ ক্ষেত্রে মুসলমানদের কথা বলছি) গ্রাম্য টাউট ও প্রভাবশালীদের (ধরে নিচ্ছি তারাও মুসলমান যেহেতু বাংলাদেশের সিংহভাগ লোক মুসলমান) দ্বারা কি পরিমানে নির্যাতিত হয়েছে তার কি কোন পরিসংখ্যান আছে কি? থাকলে তার হার সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের হারের চেয়ে কম না বেশী?
গ্রামের প্রভাবশালীরা সাধারনভাবেই দুর্বলের উপর নির্যাতন করে (ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে), তাদের মধ্যে থেকে শুধু সংখ্যালঘুদের তথ্যটি আলাদা করে দেখালে কিন্ত তা প্রকৃত পরিস্থিতিকে নির্দেশ করে না। কিন্তু দেখানো হচ্ছে সেটাই (আমি এক্ষেত্রে সব তথ্যকে সত্য বলে ধরে নিচ্ছি যদিও এর কত ভাগ সত্য আমার সন্দেহ আছে)।
নিশ্চয়ই সংখ্যালঘু প্রতিনিধিদের একাংশ বা আমাদের রাজনীতিবিদদের তথ্যে সত্যতা আছে কিন্তু সেটি সার্বিক পার্সপেক্টিভে শুধু সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্য বিশেষ ভাবে সংঘটিত নয়, এটি বাংলাদেশের সার্বিক আইন শৃংখলা পরিস্থিতির একটি দু:খজনক চিত্র।
আমাদের এই ব্যপারটিতে সকলকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করা অবশ্যই একটি ঘৃণ্য অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে আমাদের সংঘটিতভাবে প্রতিবাদ করা উচিত। এবং একই সাথে লক্ষ্য রাখা উচিত যে তথ্য বিকৃতি ও তথ্যকে উদ্দেশ্যপূর্ণ ভাবে ব্যবহার করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার যে আত্মঘাতী খেলায় মেতেছেন একদল মানুষ যদের মধ্যে রাজনীতিবিদও রয়েছেন তাদের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করা।
আর এই সচেতনতা শুধু জাতীয় ক্ষেত্রে নয় আন্তর্জাতিকভাবেও প্রয়োজন। কেননা এই সব অপ-প্রচার/ অতি-প্রচার এর ফলে আমাদের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আমরা অনেক বিনিয়োগ থেকে বন্চিত হচ্ছি।
যে কোন যৌক্তিক ও গঠনমুলক আলোচনাকে স্বাগত: জানাচ্ছি।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


