somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রবাস জীবন - ২: প্রস্ততি পর্ব - সুপারভাইজারের খোজে

১৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কমনওয়েলথ এর কাছ থেকে স্কলারশীপের প্রাথমিক মনোন্নয়ন পাবার পর শুরু হল রিসার্চ করতে আগ্রহী বিষয়ে সুপারভাইজার এর খোজ। চূড়ান্ত মনোন্নয়নের ক্ষেত্রে পছন্দনীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের Admission এবং সুপারভাইজারের সম্মতি পত্র থাকলে সুবিধা হয়।

সিনিয়র ভাই যারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পি এইচ ডি করছিলেন তারা সুপারভাইজার এর সম্মতির নানা তরিকা সম্পর্কে জ্ঞান দিলেন। যে বিষয়টিতে মোটামুটি সবাই গুরুত্ব দিলেন সেটি হচ্ছে, Prospective Supervisor এর সাম্প্রতিক কোন পাবলিকেশন বা তার রিসার্চ ফিল্ড যেটি ওয়েবে দেয়া আছে, তা নিয়ে কিছু কথা লিখে তাকে ই মেইল করতে। তাহলেই নাকি কেল্লা ফতে, সুপারভাইজার ই মেইলের উত্তর দিবেন আর তারপর ই-মেইল চালাচালি করে বাদ বাকীটা ঠিক করতে হবে।

খুবই নির্ভরযোগ্য তরিকা, কিন্তু প্রথম সমস্যা হলো অধিকাংশ Journal এর Access বাংলাদেশ থেকে পাওয়া যায়না, তাই পাবলিকেশন দেখে মন্তব্য করা সম্ভব না। অতএব ওয়েবে দেয়া রিসার্চ ইন্টারেষ্টই ভরসা। প্রথমে ভেবেছিলাম কাজটা খুব কঠিন হবেনা, কিন্তু করতে গিয়ে ঘাম ছুটে যাবার দশা। অনেক প্রফেসরেরই কাজের মাথামুন্ডু কিছুই বুঝিনা আবার অনেকে এত জেনারালাইজড ভাবে রিসার্চ ইন্টারেষ্ট দিয়ে রেখেছেন যে তার উপর মন্তব্য করে ই-মেইল পাঠানোটা বড়ই কঠিন কাজ।

তার উপর আবার ভয়, কাজ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করতে গিয়ে উল্টা পাল্টা লিখে ফেললে তো আমও গেল ছালাও গেল। যা হোক দুরু দুরু বক্ষে ১০ জন মত Prospective supervisor বাছাই করে তাদের ই-মেইল করলাম। তারপর শুরু হল প্রতীক্ষা.......... একদিন যায়, দুই দিন যায় এভাবে দেখতে দেখতে এক সপ্তাহ পার হয়ে গেল, কোন জবাব নাই। এত খাটাখাটনি করে অব্যর্থ ওষুধ প্রয়োগের পর এইরকম ব্যর্থতা!!!

তারপর যখন একেবারে আশা ছেড়ে দিয়েছি তখন ৩টা ই-মেইল এর রিপ্লাই পেলাম। তারা সবাই আমার কাজ করার আগ্রহে কৃতজ্ঞ কিন্তু তাদের পক্ষে আমাকে সুপারভাইজ করা সম্ভব নয়। তারমানে ফলাফল সেই শুন্য!!

এর মাঝে হঠাত অক্সফোর্ড এর প্রফেসর জর্জ ফ্লিট আমাকে জানালেন যে এই মুহুর্তে তার ফান্ড নাই, তাই ভবিষ্যতে আবার যোগাযোগ করতে। তখন বুঝতে পারলাম বাদ-বাকী প্রফেসরদের নিরবতার রহস্য। কেউই নিজের ফান্ড থেকে আমাকে পি এইচ ডি ষ্টুডেন্টশীপ দিতে আগ্রহী নন। ঠিক করলাম আবার ই-মেইল পাঠাবো, তবে একটু ভিন্ন ভাবে।

আবার ই-মেইল করলাম, সেই ১০ জন প্রফেসরকেই। তবে এবার ই-মেইল এর সাবজেক্ট এ লিখলাম PhD funded by Commonwealth Commission UK । একেবারে ভোজবাজির মত কাজ হলো । একদিনের মধ্যে ৬ জন প্রফেসর আমাকে পি এইচ ডি ছাত্র হিসাবে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন। একদিনের মধ্যেই কাঙাল থেকে একেবারে বড়লোক হয়ে গেলাম।

এবার পছন্দ করার সুযোগ আমার। ৬ জন থেকে Finally ৩ জনকে সিলেক্ট করলাম কারন কমনওয়েলথ কমিশন এর ফর্ম এ পছন্দক্রম অনুযায়ী ৩ জনের নাম দিতে হয়। শুরু হলো ই-মেইলের মাধ্যমে ছোটখাট ইন্টারভিউ পর্ব এবং Respective University তে ভর্তি প্রক্রিয়া।

অবশেষে শর্তসাপেক্ষ অফার লেটার পেলাম অক্সফোর্ড, নটিংহ্যাম আর লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের School of Pharmacy থেকে। সাথে Respective সুপারভাইজারদের সম্মতি পত্র। শর্ত হলো IELTSএ মিনিমাম ৭ পেতে হবে। এর মধ্যে School of Pharmacy তে আবার প্রতি বিভাগেই ন্যূনতম ৭ থাকতে হবে।

চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা হলো সুপারভাইজার সার্চ পর্বে। নিজের ফান্ড সাথে থাকলে যে এত খাতির পাওয়া যায় এটা তখন বুঝিনি। এখন বুঝতে পারি কেন ই-মেইল এর সাবজেক্ট চেন্জ করার পর-পরই ৬জন প্রফেসর একসাথে ছাত্র হিসাবে নিতে আগ্রহী ছিলেন।

(চলবে)





সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:২৮
৩৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×