somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন তসলিমা, মূল্যবোধের অস্বচ্ছতা, একটি সাক্ষাত্কার ও আমার বাংলাদেশ : একটি নির্মোহ পর্যালোচনার চেষ্টা

০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(ইতিমধ্যেই ব্লগে তসলিমাকে নিয়ে বেশ কয়েকটি লেখা হয়ে গেছে। ভেবেছিলাম এ নিয়ে লিখবোনা, কিন্তু লেখা সম্ভবতঃ সংক্রামক)

তসলিমা নাসরিন, বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একজন লেখক। তবে সেই আলোড়ন এর কারণ যতটা না তার লেখনীর কারণে তারচেয়ে বেশী তাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনার কারনে যেখানে তসলিমা সহযোগী হিসাবে পেয়েছেন দেশের মৌলবাদী গোষ্ঠিকে। একে অপরের পরিপূরক হিসাবে কাজ করার ফলে বিভিন্ন সময়ে যে সব ঘটনার উদ্ভব হয়েছে তাতে লাভবান হয়েছে উভয়পক্ষ কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বাংলাদেশ।

তসলিমার তার অ-পরিপক্ক লেখায় (নির্বাচিত কলাম বাদে) সমাজের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিপক্ষে নারীদের কথা বলতে চেয়েছেন এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে আক্রমণ করেছেন ধর্মকে বিশেষ করে ইসলাম ধর্মকে, সম্ভবতঃ ইসলাম ধর্মাবলম্বী একটি সমাজে তার জন্ম বলে। কিন্তু এই লেখাগুলির মধ্যে সময়ে সময়ে উঠে এসেছে চূড়ান্ত রকমের স্ববিরোধিতা এবং সুবিধাবাদিতা। আর আমাদের মৌলবাদী গোষ্ঠী এই লেখাগুলির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাকে পবিত্র দায়িত্ব মনে করে তাকে রসদ জুগিয়েছেন, তাকে খ্যাতির শিখরে তুলেছেন। আসলে এই প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীকে তসলিমা ব্যবহার করছেন তার পিআর (পাবলিক রিলেশন) এজেন্ট হিসাবে।

এইসবের ফলশ্রুতিতেই প্রায় এক দশক আগে স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান তাসলিমা। প্রবাসে থেকেও তসলিমা জন্ম দিয়েছেন একের পর এক নানা ঘটনার যার ফলে সবসময়ই লাইমলাইটের আলোটা তার উপরে ধরে রাখতে পেরেছেন। তার অনেক বক্তব্য সরাসরি দেশের স্বার্থবিরোধী হলেও প্রতিক্রিয়াশীল মহলের অতি-প্রতিক্রিয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই যৌক্তিক মনে হয়েছে। আর বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচিতি হয়েছে এমন একটি দেশ হিসাবে যেখানে মুক্তবুদ্ধির চর্চাকে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করা হয়। সর্বশেষ তসলিমা বেশ কয়েক বছর ধরে ভারতে থাকার চেষ্টা করছেন, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, বাংলাদেশে আসতে চান না। তসলিমার এই উদ্যোগেও ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষের নাম বাংলাদেশ। তবে নিশ্চিত যে তিনি বাংলাদেশে আসতে চাইলেও মৌলবাদী গোষ্ঠী যে প্রতিক্রিয়া দেখাবে তাতেও ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষের নাম বাংলাদেশই থাকবে। হায়রে আমার বাংলাদেশ, একেবারে শাখের কড়াতে আটকে গেছে!! বাংলাদেশের ভাবমূর্তির এই অবস্থাটির পরিবর্তন প্রয়োজন।

আমি তসলিমার একজন পাঠক। বুঝতে চেষ্টা করেছি তিনি ঠিক কি মেসেজটা দিতে চান। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই অনেক ক্ষেত্রেই তার বইতে কোন সু-নির্দিষ্ট মেসেজ খুজে পাইনি। তসলিমাকে নিয়ে অনেক লেখা পড়েছি যার প্রায় সবগুলির অবস্থানই বিপরীতমুখী মেরুতে। তাই তাসলিমার নিজের কন্ঠে তার সত্যিকারের মূল্যবোধ জানার আগ্রহ ছিল। কিন্তু সি এন এন এর সাথে তসলিমার এই সাক্ষাত্কার দেখে আমি আবারও হতাশ হলাম।

এই সাক্ষাত্কারটির ভিডিওটি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি ।




একজন তসলিমা যাকে নিয়ে এত আলোড়ন তিনি আসলে কি বলতে চান সেটা তিনিই বুঝতে পারছেননা!!! যে জিনিসটি নিয়ে তার প্রায় সব লেখাই আবর্তিত সেই ধর্ম বিরোধিতা, সামজের পুরুষতান্ত্রিকতা, নারীর যৌন স্বাধীনতা এবং সতীত্ব নিয়ে তার হাস্যকর রকমের জ্ঞানের স্বল্পতা দেখে কষ্ট লাগলো যে তার জন্য বাংলাদেশকে এত বদনাম সইতে হচ্ছে?? খারাপ লাগলো যখন তিনি সত (honest) শব্দটিকে পুরুষবাচক শব্দ হিসাবে দেখিয়ে এর নারীবাচক শব্দ হিসাবে উপস্থাপন করলেন সতী (chaste কে। অথচ দুটি যে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি ব্যাপার সেটি স্বীকার করলেননা। তার অর্থে সততা honesty এবং সতীত্ব chastity একই অর্থ বহন করে।

একজন লেখক তার লেখার মুল বিষয়ের ক্ষেত্রে এতটা অস্বচ্ছ থাকেন কিভাবে?

যাহোক এই ক্ষতির খেলা আর চলা উচিত নয়, দেশের স্বার্থেই এবং দেশের মানুষের স্বার্থেই। এই সরকারের উচিত তসলিমার সাথে যোগাযোগ করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তিনি যদি নাও আসতে চান তবুও তাকে আনার ব্যাপারে সক্রিয় উদ্যোগ নেয়া। সকল লেখকেরই মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত এবং তসলিমাকে ফিরিয়ে এনে আমরা সেই পথে যাত্রা শুরু করতে পারি।

আর দোহাই তসলিমা বিরোধিদের (বিশেষ করে মৌলবাদী চক্রকে), অনর্থক বিরোধিতা করবেননা, অতীতে আপনাদের অনেক কর্মকান্ডের মাধ্যমে তসলিমার অনেক উপকার করেছেন, এবার না হয় একটু দেশের উপকার করুন।

২২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×