জাতিসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বৈশ্বিক এই সম্মেলন চলবে ৩ থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সম্মেলন এর মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে একটি নতুন জলবায়ু পরিবর্তন প্রটেকলে রাজী করানো যেটি ২০১২ সালে কিয়োটো প্রটোকলের স্থলাভিষিক্ত হবে। কিয়োটো প্রটোকলের মেয়াদ শেষ হযে যাবে ২০১২ সালে।
পত্রিকান্তের প্রকাশ বাংলাদেশ বালি সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আরো অধিক অনুদান চাইবে উন্নত দেশগুলির কাছে। ন্যায্য দাবী কোন সন্দেহ নাই । নিজে মরে যেখানে বিশ্বকে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা সম্পর্কে গবেষণার সুযোগ করে দিচ্ছে, সেখানে কিছু অতিরিক্ত অর্থতো চাইতেই পারে বাংলাদেশ। আমি নিশ্চিত উন্নত দেশগুলিও খুব একটা গররাজী হবেনা তাদের ট্যাক থেকে কিছু বাড়তি ডলার দিতে।
কিন্তু এতে কি কোন সমাধান হলো? বারবার আমরা মরতে থাকবো আর বারবার ভিক্ষা চাইতে থাকবো? উন্নত দেশগুলির হাতে যে আমার দেশের মানুষের রক্তের দাগ তা সামান্য কিছু ডলারেই মুছে যাবে?
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তাই ঘটতে যাচ্ছে। আজ গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত বালি সম্মেলনের উইশ লিষ্টে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশ এর করণীয় বিষয়ে কোন বাক্য পেলামনা। সেখানে আফ্রিকান বায়োডাইভার্সিটির কথা আছে, বিপন্ন প্রাণীর কথা আছে, গ্রীণহাইস গ্যাস কমানোর কথা আছে, ট্রপিক্যাল ফরেষ্ট, চীন, ভারতের শিল্পায়ন সব আছে শুধু নেই আমার দেশের বিপন্ন মানুষের সহজলভ্য জীবনের কথা। তাদের রক্ষার ব্যাপারে কোন কার্যকর পদক্ষেপের কথা।
এতগুলো জীবন দিয়েও আমরা ব্যর্থ হয়েছি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামের কথা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে। সম্মেলন শেষে আমরা তৃপ্তির সাথে ঘোষণা করবো অতিরিক্ত কিছু মুষ্টি ডলার প্রাপ্তির কথা। পত্রিকাগুলোও বাহবা দিবে সরকারের এই প্রাপ্তিতে।
এভাবে চলবেনা। চলতে দেয়া উচিত নয়। উন্নত দেশগুলির হাতে যে রক্তের দাগ তা মোছার জন্য তাদেরকে কিছুটা হলেও ব্যবহার করতে হবে। অন্তত: আমার দেশের মানুষের জীবন রক্ষার জন্য হলেও।
বাংলাদেশের এখন উচিত অনুদান, খয়রাতি বা সাহায্যের কথা না বলে এই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়া। ভু-মন্ডলীয় অবস্থানের পরিবর্তন সম্ভব নয় কিন্তু প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা অবশ্যই সম্ভব। বাংলাদেশকে উদ্যোগী হয়ে এই প্রতিরক্ষা বলয়ের সম্ভাব্য রূপরেখা প্রণয়নে উন্নত বিশ্বকে রাজী করাতে হবে। আমার মা মরছে, উদ্যোগ আমাকেই নিতে হবে।
একটি দীর্ঘমেয়াদী সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারলে সী লেভেলের নীচে অবস্থান করেও যে প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা যায় সে উদাহরণতো বিশ্বে নেদারল্যান্ড করেই দেখিয়েছে। বাংলাদেশকে, এর মানুষকে রক্ষার জন্যে দরকার এইরকম একটি পরিকল্পনা। আর এই পরিকল্পনার ব্যাপারে বিশ্বকে রাজী করাবার একটি সুবর্ণ সুযোগ ছিল এই বালি সম্মেলন। কিন্তু হায়!! আমরা যে ভিক্ষাপ্রেমে মত্ত, চকচকে ডলারের লোভ হাজারো বাংলাদেশীর জীবনের চেয়েও বোধ করি বেশী লোভনীয়।
ভিক্ষার সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশ কি নিজেকে বাচাবার কথাটাও বিশ্বের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবেনা?
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৪:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


