আমার প্রিয় পোস্ট
- কবিতার অভিমানের সময় - সুলতানা শিরীন সাজি
- তাহলে স্যাম মানেকশ-ই বাংলাদেশের স্রষ্টা? - ফারুক ওয়াসিফ
- গুগল বুকস থেকে বই ডাউনলোড করবেন যেভাবে - অনিকেত প্রান্তর
- নবীনদের জন্য - নাদান
- রাজনৈতিক জিঘাংসা ব্লগে- - অপ বাক
- গরুপ্রধান দেশে শুয়োরের ঘোঁত ঘোঁত শব্দে আমাদের তাল কেটে যায় - মৃদুল মাহবুব
- জোনাক ধরার কাচের বয়াম - মুয়ীয মাহফুজ
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং প্রাসঙ্গিক আইনের বিশ্লেষণ ( শেষ পর্ব ) - একরামুল হক শামীম
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- কপিরাইট মাজেজা আমি যেমনে বুঝি - অন্যমনস্ক শরৎ
- বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - সাত বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার জীবনী - রাগিব
- মানুষ একাকী এক মিথ - মৃদুল মাহবুব
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীকে নিয়ে কিছু কথা - অমি রহমান পিয়াল
- টুকুনের জন্য । - নরাধম
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌবনের দিনগুলি - বিবর্তনবাদী
- লাল গাড়ি আর লাল বালিকার গল্প - নিধিরাম সর্দার
- বিহংগের বয়কট - বিহংগ
- বাঙ্গালির আন্দোলনের স্লোগানমালা: '৫২ থেকে '৭১ (দ্বিতীয় পর্ব--'৬৯-'৭১) - ফারহান দাউদ
- একজন কীর্তিমান বাংলাদেশী : যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান আইটি সিকিউরিটি সলিউশন কোম্পানীর CIO এবং Senior Vice President হিসাবে নিয়োগ পেলেন ওমর ফারুক খন্দকার - মিরাজ
- তবুও তাহারা মৌন রহেন... - জামাল ভাস্কর
- কবিতা সমগ্র : উৎসর্গ নীলাঞ্জনা - অমি রহমান পিয়াল
- একজন জাকির হোসেন ও একটি রুখে দাড়ানোর গল্প - হাসিব
- তোরা সব বোকার দল, মরবি না তো কে মরবে - এহেছান লেনিন
- ফায়ারফক্স এর আকর্ষণীয় কিছু ট্রিকস...... - মানচুমাহারা
- জিজ্ঞাসার অন্তরালে - শেখ জলিল
- ম্যারিয়েটা, জ্যাক এবং অতঃপর ভ্যালেরী - সৈয়দ দেলগীর
পাঁচ বঙ্গসন্তানের কমনওয়েলথ জয় (এক অন্য রকমের বিজয় উদযাপন)
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:৪০
১৪ই ডিসেম্বর দুপুর বেলা ব্যাগ গোছাচ্ছিলাম, Commonwealth Commission কর্তৃক আয়োজিত Global Science and Technology Conference এ যাওয়ার জন্য। Conference টি চলবে ১৪ই ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে ১৬ই ডিসেম্বর বিকেল বেলা পর্যন্ত। Great Windsor Park এর Royal Cumberland Lodge এ আয়োজিত এই কনফারেন্স এ অংশ নেবে কমনওয়েলথভুক্ত সকল দেশের বিজ্ঞানী ও পিএইচডি গবেষনারত ছাত্ররা। ব্যাগের ভিতর যখন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাটা ঢুকাচ্ছিলাম তখন বউ অবাক হয়ে বলল এটা দিয়ে কি করবে!! বললাম ১৬ তারিখ বিজয় দিবস, দেখি কিছু করা যায় কিনা!!
১৪ তারিখে বিকালে সম্মেলনস্থলে পৌছালাম। আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধনের পরে শুরু হলো বিভিন্ন গবেষক এর প্রবন্ধ উপস্থাপনের পালা। ১৫ তারিখ সারাদিন ব্যাপী বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত হলো। অদ্ভূত রকমের বৈচিত্র গবেষণার বিষয়ে, সাধারনত: কনফারেন্সগুলি বিষয়ভিত্তিক হয়ে থাকে কিন্তু এখানে নামিবিয়ার জেলিফিশ ব্লুম সংক্রান্ত সমস্যা থেকে শুরু করে নিউজিল্যান্ড এর উপকূলীয় জীব বৈচিত্র আর দক্ষিন আফ্রিকার মুঠোফোন ব্যাংকিং কি নেই আলোচ্য বিষয়ে!! এর মধ্যে আমার ক্যান্সার গবেষণাই বরং ম্যাড়মেড়ে লাগছিল।
১৫ তারিখ সন্ধ্যায় আয়োজকদের সাথে কথা বললাম পরদিন বাংলাদেশের বিজয় দিবস নিয়ে। সরাসরি প্রস্তাব দিলাম যে আমরা দিনের কার্যসূচীর শুরুতেই বিজয় দিবস উপলক্ষে সম্মেলনকক্ষে ছোট আকারের একটি কিছু করতে চাই । আয়োজকদের অন্যতম কমনওয়েলথের কমিশনার মনিকা ডারনবরো মুঠোফোনে কিছু আলাপ করে নিয়ে রাজি হয়ে গেলেন প্রস্তাবে। বললেন দিনের শুরুতে ১৫ মিনিট বরাদ্দ হলো আমাদের জন্য। এত অল্প চেষ্টাতেই রাজি হয়ে যাবেন বুঝতে পারিনি। বুকের মধ্যে ছোট্ট একটা আনন্দের ঢেউ বয়ে গেল। সাথে সাথে যোগাযোগ করলাম বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধিত্ব করা মোট চারজনের মধ্যে। এদের মধ্যে দুইজন আবার সিনিয়র প্রফেসর। খুলে বললাম আমার প্ল্যান। শুরুতে বাংলাদেশ নিয়ে একটা স্লাইড শো থাকবে, তারপর স্বাধীনতা সংগ্রামের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং সবশেষে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত ।
একবাক্যে রাজী হয়ে গেলেন বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট। আমাকে অবাক করে দিয়ে সবচাইতে উৎসাহী হয়ে উঠলেন দীর্ঘ শশ্রুমন্ডিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর হোসেইন স্যার। ব্যাস আর যায় কোথা!! সবাইকে হাতে লিখে জাতীয় সংগীতের কপি ধরিয়ে দিলাম যাতে অনুষ্ঠানস্থলে কোন ভুল না হয়। তারপর রাত জেগে বাংলাদেশ নিয়ে একটি স্লাইড শো তৈরী করলাম, জাতীয় সংগীতের ইন্সট্রুমেন্টাল ভার্সন ডাউনলোড করে ঠিক করে রাখলাম। সাথে থাকল সংগে আনা সেই জাতীয় পতাকাটি।
১৬ই ডিসেম্বর ২০০৭, সকাল বেলা সম্মেলনস্থলে যেয়েই প্রথমেই প্রজেকশনের কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপে স্লাইডশো আর জাতীয় জাতীয় সংগীতের ইন্সট্রুমেন্টাল ভার্সনটি কপি করে নিলাম। অনুষ্ঠান সূচী অনুযায়ী নামিবিয়ার এক বিজ্ঞানীর একটি প্রবন্ধ উপস্থাপনের কথা। সভাস্থলে গুনগুন শুরু হলো যখন সভাপতি একটি চমকের কথা বললেন এবং বাংলাদেশের বিজয় দিবেসর কথা উল্লেখ করে আমাদেরকে মন্চে আহবান করলেন।
আমরা পাঁচজন সারিবদ্ধভাবে মন্চে দাড়ালাম। প্রথমেই শুরু করলাম বাংলাদেশ নিয়ে স্লাইড শোটি, মন্চে দাড়িয়েই নানা জনের চোখে যখন মুগ্ধতা আর বিস্ময় দেখতে পাচ্ছিলাম বাংলাদেশের সৌন্দর্যে তখন এক অদ্ভুত আনন্দে বুকের ছাতি ফুলে উঠছিল। স্লাইড শোটি শেষ হলো আমাদের জাতীয় পতাকা দিয়ে। এরপর আমি শুরু করলাম আমাদের স্বাধীনতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বর্ণনা। ৫২ থেকে শুরু করে তারপর যখন মুক্তিযুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ আর হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার কথা বলছিলাম সম্মেলন স্থলের প্রতিটি মানুষ শিউড়ে উঠছিল। চোখের কোন দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম মাথা নিচু করে বিব্রত মুখে বসে আছে পাকিস্তানী প্রতিনিধিদল।
এরপর শুরু হলো জাতীয় সংগীতের ইন্সট্রুমেন্টাল ভার্সন এর সাথে সাথে আমাদের পাচজনের সর্বশক্তি দিয়ে গাওয়া জাতীয় সংগীত। সে এক অন্যরকম অনুভূতি। টের পাচ্ছিলাম চোখর কোণ ভিজে উঠছে। সমগ্র সভাস্থলের সবাই দাড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করলো আর শেষ হবার সাথে সাথে মুহুর্মুহু হাততালি। এক মিনিটেরও অধিক সময় ব্যাপী চলল দাড়িয়ে থেকে সেই হাততালি। সবার শেষে ইংরেজীতে ট্রান্সলেট করে শোনালাম আমাদের জাতীয় সংগীতের প্রথম আট লাইন। তারপর মাথা উচু করে করতালির মধ্যে নেমে আসলাম মন্চ থেকে। সম্ভবত: আমার জীবনের সবচেয়ে গর্বের এক বিজয় দিবস পালন করে। নিজেদেরকে মনে হলো স্বদেশভূমির পাচ সন্তান যারা বিশ্বের কাছে মায়ের পরিচয় তুলে ধরলো।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:৫৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফারহান দাউদ। আমাদের কাছে এটা ছিল এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। সম্মেলনের সারা দিন সবার মুখে মুখে ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতা। অবাক হয়েছিলাম যখন দুজন পাকিস্তানী বিজ্ঞানী এসে আমাদের কাছে দু:খপ্রকাশ করলেন।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
"নিজেদেরকে মনে হলো স্বদেশভূমির পাচ সন্তান যারা বিশ্বের কাছে মায়ের পরিচয় তুলে ধরলো।"সত্যিই তাই মিরাজ ভাই । স্যালুট টু ইউ অল ।
শো কেস-এ সাজানো হইলো ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা @ আব্দুর রাজ্জাক শিপন
আমার সশ্রদ্ধ সালাম রইলো আপনাদের পাঁচজনের জন্য।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মেহরাব শাহরিয়ার। আসলে আমরা সৌভাগ্যবান যে বিজয়ের দিনে এরকম ভাবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছি ।
এস্কিমো বলেছেন:
ভাল লাগলো।
)লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ জ্বিনের বাদশা। আসলে সাহস করে সামনে এগিয়ে আসলে অনেক কিছুই সহজ হয়ে যায়।
আমরা নিজেরাও সম্মেলনস্থলের সকলের প্রতিক্রিয়ায় অভিভূত হয়েছিলাম।
মদনবাবু বলেছেন:
মিরাজ ভাইয়ের বাড়ী বংগদেশের কোন খানে?
লেখক বলেছেন: আমার দেশের বাড়ী মাদারীপুর। বেড়ে ওঠা খুলনা এবং ঢাকায়
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কৈলাশ ।
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
ভাইয়া আপনার এ অনূভূতি পড়তে যেয়ে আমারই খুশীতে চোখের পানি আসছে।আপনাকে স্যালুট।
লেখক বলেছেন: এ এক অদ্ভূত ব্যাপার বিদেশে সবার সামনে জাতীয় সংগীত গাইতে গেলে কেন জানি চোখে পানি চলে আসে ।
উন্মনা রহমান বলেছেন:
দারুণ! অভিনন্দন!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ উন্মনা রহমান ।
বিকেলবেলার সপ্ন বলেছেন:
অভিনন্দন রইল
সিহাব চৌধুরী বলেছেন:
এরকম সুযোগ জীবনে মনে হয় পাব না, ভাইয়া -- কিন্তু যদি কখনো দৈবক্রমে পেয়ে যাই , যেনে রাখবেন এইরকম গৌরব সম্পাদনে আপ্নারাই হবেন প্রেরণা ।
লেখক বলেছেন: যদি কখনো দেশকে রিপ্রেজেন্ট করার সুযোগ হয় তাহলে সাহস করে সামনে এগিয়ে যাবেন। দেশ আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে, আমাদেরও কিছু দেবার প্রয়োজন আছে ।
মদনবাবু বলেছেন:
ধুরর। আমি ভাবসিলাম আন্নে বুজি নুয়াখালীর।আপনের উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা প্রচন্ড পরিমানে শ্রদ্ধার দাবীদার।
লেখক বলেছেন: মদনবাবু কি নোয়াখালীর ? ![]()
আবারো ধন্যবাদ ভাই ।
মদনবাবু বলেছেন:
যে না । মুই ক্যামেলস।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মোসতফা মনির সৌরভ। এই ঘটনাটি আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।
জেনারেল বলেছেন:
পড়তে পড়তে চোখে কেন পানি আসল জানি না
লেখক বলেছেন: ঠিক একই কারনে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় চোখে পানি চলে এসেছিল।
এ এক অদ্ভুত অনুভূতি ।
যুদ্ধবাজ বলেছেন:
সত্যিই খুব গৌরবের বিষয় মিরাজ ভাই।
মিরাজ বলেছেন:
প্রশ্নোত্তর এবং অদৃশ্য নিকধারী ব্লগার আপনাদের দুজনকেই ধন্যবাদ ।
নরাধম বলেছেন:
মিরাজভাই, আন্তরিক অভিবাদন। খুব ভাল লাগল।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ নরাধম। আসলেই এটা আমার জীবনের একটা স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে ।
মানুষ বলেছেন:
স্যালুট!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মানুষ।
নরাধম বলেছেন:
মিরাজভাই, আপনার এই পোস্ট পড়ে একটা পোস্ট দিয়েছি। সময় পেলে পড়বেন। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ নরাধম আপনার পোষ্টের জন্য । আমি পড়েছি এবং ভালো লেগেছে ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ছায়ার আলো ।
রিজভী নেয়াজ খুলনা বলেছেন:
আপনাদের অভিনন্দন
দূর আকাশের নীল তারা বলেছেন:
চোখের কোন দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম মাথা নিচু করে বিব্রত মুখে বসে আছে পাকিস্তানী প্রতিনিধিদল।--- পাকিস্তানীদের এভাবেই ন্যাংটা করে দিতে হবে, বিশ্বকে জানাতে হবে, তারা কি করেছিল ৭১এ।
স্যালুট ইউ অল।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















