আমার প্রিয় পোস্ট
- কবিতার অভিমানের সময় - সুলতানা শিরীন সাজি
- তাহলে স্যাম মানেকশ-ই বাংলাদেশের স্রষ্টা? - ফারুক ওয়াসিফ
- গুগল বুকস থেকে বই ডাউনলোড করবেন যেভাবে - অনিকেত প্রান্তর
- নবীনদের জন্য - নাদান
- রাজনৈতিক জিঘাংসা ব্লগে- - অপ বাক
- গরুপ্রধান দেশে শুয়োরের ঘোঁত ঘোঁত শব্দে আমাদের তাল কেটে যায় - মৃদুল মাহবুব
- জোনাক ধরার কাচের বয়াম - মুয়ীয মাহফুজ
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং প্রাসঙ্গিক আইনের বিশ্লেষণ ( শেষ পর্ব ) - একরামুল হক শামীম
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- কপিরাইট মাজেজা আমি যেমনে বুঝি - অন্যমনস্ক শরৎ
- বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - সাত বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার জীবনী - রাগিব
- মানুষ একাকী এক মিথ - মৃদুল মাহবুব
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীকে নিয়ে কিছু কথা - অমি রহমান পিয়াল
- টুকুনের জন্য । - নরাধম
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌবনের দিনগুলি - বিবর্তনবাদী
- লাল গাড়ি আর লাল বালিকার গল্প - নিধিরাম সর্দার
- বিহংগের বয়কট - বিহংগ
- বাঙ্গালির আন্দোলনের স্লোগানমালা: '৫২ থেকে '৭১ (দ্বিতীয় পর্ব--'৬৯-'৭১) - ফারহান দাউদ
- একজন কীর্তিমান বাংলাদেশী : যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান আইটি সিকিউরিটি সলিউশন কোম্পানীর CIO এবং Senior Vice President হিসাবে নিয়োগ পেলেন ওমর ফারুক খন্দকার - মিরাজ
- তবুও তাহারা মৌন রহেন... - জামাল ভাস্কর
- কবিতা সমগ্র : উৎসর্গ নীলাঞ্জনা - অমি রহমান পিয়াল
- একজন জাকির হোসেন ও একটি রুখে দাড়ানোর গল্প - হাসিব
- তোরা সব বোকার দল, মরবি না তো কে মরবে - এহেছান লেনিন
- ফায়ারফক্স এর আকর্ষণীয় কিছু ট্রিকস...... - মানচুমাহারা
- জিজ্ঞাসার অন্তরালে - শেখ জলিল
- ম্যারিয়েটা, জ্যাক এবং অতঃপর ভ্যালেরী - সৈয়দ দেলগীর
সোশ্যাল ট্যাবু, প্রান্তিক জনপদের ভাষা এবং ব্লগীয় গালি
২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৭
(সম্প্রতি নাস্তিকের ধর্মকথা তার পোষ্টে যৌনতাকেন্দ্রিক গালি, সোশ্যাল ট্যাবু এবং প্রান্তিক জনপদের ভাষার সাথে গালির সম্পর্ক নিয়ে একটি পোষ্ট দেয়ায় এই পোষ্টের অবতারণা)
সাধারণ দৃষ্টিতে যে সব শব্দ গালি হিসাবে বিবেচিত হয় তার অনেক শব্দই প্রান্তিক জনপদের মানুষের সাধারণ ভাষা। এবং শুধু আখতারুজ্জামান ইলিয়াস নন আরো অনেক সাহিত্যিকের সৃষ্টিতে এই সব শব্দ কথোপকথনে উঠে এসেছে অবলীলায়। কোন অবস্থাতেই সেই সব শব্দ গালি মনে হয়নি কারন শব্দগুলিকে ব্যবহার করা হয়েছে প্রেক্ষিত ঠিক রেখে। এক্ষেত্রে যে শব্দগুলি বলছে এবং যাকে উদ্দেশ্যে করে বলছে তাদের চিন্তা একই তরঙ্গে অনুরণিত হয়। আমরা সেই সব সাহিত্য কর্ম পড়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের চিন্তাভাবনার প্রকাশকে জানতে পারি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে সেই একই শব্দ এই ব্লগে কারো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করলে সেটা গালি হবে কিনা। হবে এবং একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করি কেন হবে। বিভিন্ন যৌনতা নির্ভর গালির সাথে একটি শব্দ উল্লেখ করা হয় যেটি হলো "মাগী" । এই শব্দটি পুরাতন ঢাকার মানুষ হরহামেশা ব্যবহার করেন, গ্রাম গন্জেও প্রচলিত। এই ক্ষেত্রে তারা যখন কোন মেয়েকে বলেন " মাগীকে আজ সুন্দর লাগছে" তখন যাকে বলা হচ্ছে সেও বুঝতে পারে যে এটা তার জন্য প্রশংসাসুচক একটি কথা, তাই সে কথাটিতে আহত হয়না। কিন্তু সেই একই "মাগী" শব্দটি যদি কোন ব্লগার অপর কোন নারী ব্লগারকে উদ্দেশ্য করে বলেন তাহলে তা নিশ্চিতভাবেই গালি হবে কারণ যিনি বলছেন তিনিও সেই জনগোষ্ঠীর ভাষায় কথা বলেননা এবং যাকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে তিনিওনা । একটি শব্দ কি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে তাই নির্ধারণ করে শব্দটি গালি হবে নাকি প্রান্তিক জনপদের ভাষার উদাহরণ হবে । তাই প্রান্তিক জনপদের ব্যবহৃত যে কোন শব্দই সু-নির্দিষ্ট প্রেক্ষিত ছাড়া ব্যবহার করা যায় না । এই একই উদাহরণ "খানকি" সহ অন্যান্য যে সব উদাহরণ দেয়া হয়েছে তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
এবার আসা যাক চ-বর্গীয় বিভিন্ন গালি যেগুলি নারীকে অবমাননার জন্য এবং পুরুষের ধর্ষকামী মানসিকতার প্রকাশ ঘটানোর জন্য ব্যবহার করা হয় । নাস্তিকের ধর্মকথা বিভিন্ন যুক্তির মাধ্যমে বোঝাতে চেষ্টা করেছেন যে এগুলি প্রকৃতপক্ষে তথাকথিত বিভিন্ন সোশ্যাল ভ্যালুজ বা ট্যাবুর জন্য আপত্তিকর লাগে কারণ নারীর যৌনতাকেন্দ্রিক আক্রমণ গালি হিসাবে বিবেচনা করছি কিন্তু হাত পা মাথা অন্যান্য অঙ্গ কেন্দ্রিক কথাকে আপত্তিকর বা গালি হিসাবে বিবেচনা করছিনা।
আমি মনে করি বিষয়টিকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। সমাজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পুরুষ নারীকে নির্যাতনের ক্ষেত্রে যৌনতাকে ব্যবহার করছে এবং সভ্যতার ক্রমবিকাশের হাত ধরে নারীকে এইসব হিংস্রতা থেকে রক্ষার জন্যই বিভিন্ন সামাজিক বা ধর্মীয় ট্যাবুর উদ্ভব হয়েছে । এরপর পুরুষ যখন সরাসরি শারীরিকভাবে নারীকে আক্রমণ করতে পারেনি তখন আশ্রয় নিয়েছে যৌনতাকেন্দ্রিক বিভিন্ন শব্দের যা নারীর জন্য অবমাননাকর, এরপর এইসব শব্দকে সমাজে উন্মুক্ত ব্যবহারের বিরুদ্ধেও ট্যাবু গড়ে উঠেছে। এটা সভ্যতার বিবর্তনের একটা অংশ, একে অস্বীকার করার মানে হলো সেই আদিম ব্যবস্থায় ফিরে যাবা যেখানে কোন ট্যাবু বা রেস্ট্রিকশন আরোপিত ছিলোনা এবং সব কিছুরই স্বাধীনতা ছিলো। আধুনিকতার প্রয়োজন আছে কিন্তু সকল সোশ্যাল ট্যাবুকে অস্বীকার করে আধুনিকতা আনয়ন করা যায়না বরং অনেক ক্ষেত্রে ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে অর্জন করা অনেক কিছুকে অস্বীকার করে পুনরায় সেই অ-সভ্য অবস্থায় যাবার মানসিকতা প্রকাশ পায়।
এ ক্ষেত্রে আরেকটি ব্যাপার খেয়াল করতে হবে, নাস্তিকের ধর্মকথার পোষ্টে আলোচনায় মনে হচ্ছে যে কোন সোশ্যাল ট্যাবুই মুক্ত চিন্তার বা মুক্ত কর্মের জন্য ক্ষতিকর এবং সেই জন্য তিনি বলছেন "যৌনতা ও নারীর পবিত্রতা বা সতীত্ব কেন্দ্রিক সমাজে যেসব ট্যাবু, সংস্কার বা তথাকথিত মূল্যবোধের ধারণা বিরাজ করে সেগুলোকে অক্ষত রেখে কোনদিনও এ সব গালিকে আমাদের সমাজ জীবন থেকে দূরে রাখা যাবে না। "
আসলে এখানেই মুল সমস্যাটি। অনেক সামাজিক ট্যাবু আছে যেগুলিকে অক্ষত রাখাটাই অনেক ক্ষেত্রে সভ্যতা এবং সামাজিক সহনশীলতা ও সমাজের সুষ্ঠুভাবে বেড়ে উঠার জন্য দরকারী। ট্যাবু শব্দটিকেই নেগেটিভলী নেবার কারণ নেই। অধিকাংশ ট্যাবুই গড়ে উঠেছে যৌনতাকন্দ্রিক সম্পর্ক এবং বিধিনিষেধকে কেন্দ্র করে। অবাধ যৌনতা সমাজ স্বীকৃতি দেয়নি দেখেই এইসব ট্যাবুর উৎপত্তি । যেমন একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ইউরোপে "সমকামীতা" একটা সোশ্যাল, রিলিজিয়াস ও মোরাল ট্যাবুর আওতায় নিন্দনীয় হিসাবে দেখা হতো । যেটা এখনও বিশ্বের অনেক সমাজেও নিন্দনীয় হিসাবে (বাংলাদেশ সহ) দেখা হয়। একইভাবে "পেডোফিলিয়াও" বিশ্বের প্রায় সব সমাজেই সোশ্যাল, রিলিজিয়াস ও মোরাল ট্যাবুর আওতায় নিন্দনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য । পেডোফিলিয়ার ব্যাপারে এই ট্যাবু গড়ে উঠেছে মানুষের দীর্ঘ সময়ের বিবেচনাবোধ এবং সামাজিক বিবর্তনের ক্রমধারাবাহিকতায়। এখন আপনি যদি নারীর যৌনতাকেন্দ্রিক ট্যাবু সংস্কারের একই যুক্তিতে এই ট্যাবুকে যদি অক্ষত রাখতে না চান, তাহলে তা কিন্তু সামাজিক বিপর্যয়ই ডেকে আনবে। তাই শুধুমাত্র ট্যাবুকে আক্রমণ না করে সেই ট্যাবু সমাজ সভ্যতায় কি ভূমিকা রাখছে সেটা সর্বপ্রথমে বিবেচ্য হওয়া উচিত।
সর্বশেষে গালি বিষয়ে আরো দুএকটি কথা । সামহোয়্যার এর মত ব্লগ একটি সামাজিক কমিউনিটি, যেটা সমাজের একটা নির্দিষ্ট অংশকে প্রতিনিধিত্ব করেনা (যদিও বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় সিংহভাগ মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে প্রতিনিধিত্ব করেন) । এইরকম একটি সামাজিক কমিউনিটিতে নিজে কথা বলার সময় বা কারো উদ্দেশ্যে কথা বলার সময় অডিয়েন্স যেই ভাষায় স্বচ্ছন্দ সেই ভাষা ব্যবহারের দিকে খেয়াল করা উচিত। অডিয়েন্সের ভাষা ব্যবহার করেই তার কাছে কোন মেসেজ পৌছানো সবচাইতে সহজ। সে যেই ভাষায় পরিচিত নয়, তাকে উদ্দেশ্য করে আক্রমণের ক্ষেত্রে (তা যৌনতাকেন্দ্রিক হোক বা না হোক) সেই ভাষার ব্যবহার এক ধরণের অভদ্রতা। শব্দের ইনসেনসিটিভ এবং পরিপ্রেক্ষিত বিহীন ব্যবহার সাহসিকতা বা বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করেনা বরং ভীরুতা, নীচতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াপনা বা বোঝার অক্ষমতাকেই নির্দেশ করে। শুধুমাত্র নীচ এবং কাপুরুষরাই প্রেক্ষিত ছাড়া শব্দ ব্যবহার করে তাকে জায়েজ করার জন্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষার সাথে তুলনা করে। এটা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে চূড়ান্তভাবে অপমান করা ছাড়া আর কিছু নয়।
এখানে অবশ্যই উল্লেখ করা প্রয়োজন কেউ যদি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষাকে প্রেক্ষিত ঠিক রেখে ব্যবহার করে কোন সাহিত্য বা ব্লগ রচনা করেন তা কিন্তু কখনই আমার বিবেচনায় অশ্লীল বা অগ্রহণযোগ্য হবেনা ।
একজন আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ব্যবহারের উদ্দেশ্য এবং ব্লগে নানা জনকে উদ্দেশ্যে সেই সব ভাষার বিভিন্ন খন্ডাংশকে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যের পার্থক্য যদি কেউ বুঝতে না পারেন তাহলে আমার এ বক্তব্য অরণ্যে রোদন ছাড়া কিছুই হবেনা এবং সেক্ষেত্রে আপনাদের সময় নষ্ট করার জন্য দু:খিত ।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:১৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মিরাজ বলেছেন:
আমি আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী, যারা ভালো লাগেনি রেটিং করছেন তারা কেন ভালো লাগেনি সেটা জানালে বরং আলোচনায় সুবিধা হতো ।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
বিতর্কের জন্য অনেক ভালো পোষ্ট। আলোচনার জন্য কয়েকটি বিষয়কে মনে রাখা দরকার যেমন,১. যে কোন গালি আসলে সময় ঘটনা ও প্রেক্ষীত ভিত্তিক
২. যৌণ প্রবেশমূলক গালি যেমন চুদি, ঢুকাই, মারি ইত্যাদি মেল মাচোকে সার্ভ করে
৩. আবার তোর হয়না, নেতায় যায়, ঢিলা ইত্যাদিও তীব্র ভাবে যৌন পারঙ্গমতামূলক/অপারঙ্গমতা মূলক গালি
৪. ফলে গালির মূল উদ্দেশ্য অপমান করা/ছোট দেখানো/তিরষ্কার করা
৫. খুবই ইন্টারেস্টিং পয়েন্ট হতে পারে শ্রেণী, ধর্ম, বর্ণ, অবস্থান, চেতনা ইত্যাদির বিভিন্নতায় নারী পুরুষ নির্বিশেষে গালির সাথে কিভাবে রিএ্যাক্ট করে
৬. ব্লগের শিক্ষিত মধ্য/উচ্চবিত্ত 'স্পর্শকাতর' জনমানুষ (মানে নারী ও পুরুষ) গালির বিপরীতে কি করেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শরৎ বিষয়গুলিকে সামনে আনার জন্য । আসলে অধিকাংশ যৌনতাকন্দ্রিক গালিই মেল মাচোকে সার্ভ করে। এবং প্রেক্ষিত বিহীনভাবে এগুলির ব্যবহার (বিশেষ করে নারীকে উল্লেখ করে) আধুনিকতার নামে আদিম পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বহি:প্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়।
আমার মনে হয় গালির বিপরীতে প্রতিক্রিয়া সামাজিকভাবে বেড়ে ওঠার সাথে সম্পর্কিত । এটি ক্ষেত্র বিশেষে শিক্ষার সাথেও সম্পর্কিত। গালির বিপরীতে পাল্টা গালি না দেয়াটা দুর্বলতা নয়, এটা উপেক্ষা, ভ্যালুজ এবং মানসিক শক্তির সাথেও সম্পর্কিত।
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য ।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
চমৎকার, সুন্দর, গোছানো লেখা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মাহবুব ভাই ।
ফারজানা মাহবুবা বলেছেন:
অরন্যে রোদন হলেও থেমে যাবেন না, প্লীজ!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফারজানা মাহবুবা আপনার মন্ত্যব্যের জন্য ।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
হায়রে স্ববিরোধিতা-ভাইসাব বালক- বালিকার সাথে যৌনসঙ্গম বর্তমানের একটা ট্যাবু হতে পারে তবে সেটা চিরনতন কোনো ট্যাবু নয়- এমন কি বালিকার সাথে সঙ্গমের উপকারিতা নিয়ে নানাবিধ প্রবাদও প্রচলিত আছে-
এটা হলো আপনার নির্বুদ্ধিতার ফসল- এখনও শ্রীলঙ্কা কিংবা ব্যাংকক কিংবা আরও সব পর্যটন এলাকায় ৯ থেকে ১২ বছরের মেয়েদের সাথে শাররীর সম্পর্ক স্থাপনের লোভে দলে দলে সেক্স ট্যুরিস্ট আসে এখানে-
তাই আপনার পেডোফাইল সংক্রান্ত ট্যাবু একটা ভ্রান্তি আর নিষিদ্ধ বিবেচিত নয়- তবে সচেতনতা গড়ে উঠছে এখন- একটা ট্যাবু তৈরির চেষ্টা চলছে হয়তো-
আর অন্য স্ববিরোধিতা নিয়ে বলা যায়- শ্রোতার মান ও রুচি বিবেচনা করে লেখা- আখতারুজ্জামান যদি এটাই করে যেতো তবে তার ভাষায় স্বাভাবিকতা থাকতো না- যার তার উঠানের ঘাসে মুখ ঢুকাতে নেই- একটু পড়তে হয়- সামান্য একটু পড়লেই অনেক ভালো কিছু আশা করা যেতো।
লেখক বলেছেন: রাসেল আমি বলিনি যে কোন সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে শ্রোতার মান ও রুচি বিবেচনা করে লেখার কথা । এটা আপনি কোথায় পেলেন জানিনা।
আমি কিন্তু পোষ্টেই উল্লেখ করেছি যে -
"এখানে অবশ্যই উল্লেখ করা প্রয়োজন কেউ যদি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষাকে প্রেক্ষিত ঠিক রেখে ব্যবহার করে কোন সাহিত্য বা ব্লগ রচনা করেন তা কিন্তু কখনই আমার বিবেচনায় অশ্লীল বা অগ্রহণযোগ্য হবেনা ।"
আপনার কথাতেই বলি "একটু ঠিকমতো পড়লেই " অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়ানো যায় ।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
শ্রোতার মান রুচি ইত্যাদি শ্রেণী/ লৈঙ্গিক রাজনীতি নিরপেক্ষ নয়। এখানে লক্ষ্য করা দরকার যে তথাকথিত অতীব 'ভদ্রলোক' কিন্তু জেশ্চারে অনেক বড় গালি দিয়ে দেন।ভদ্দরনোকের গালি চিহ্নিত করা যায়না কখনো কখনো কিন্তু ক্ষমতা সম্পর্ক স্পষ্ট প্রতিভাত হতে থাকে। যেটা নারীর ক্ষেত্রে প্রতি মুর্হতে প্রতিভাত হয়।
ফলে লেখক/সাহিত্যই বা কি এমন সমাজ শ্রেণী বিচ্যুত হবে যে তাকে চিহি্নত করা যাবে না।
ট্যাবু সবসময়ই নিয়ন্ত্রণ ও বৈধতার সে সময়কার সামাজিক গল্পকে ধারণ করে।
লেখক বলেছেন: ট্যাবু সবসময়ই নিয়ন্ত্রণ ও বৈধতার সে সময়কার সামাজিক গল্পকে ধারণ করে
-----------------------
সহমত ।
আর সেই কারণেই ট্যাবুকে ভেঙ্গে ফেলার প্রচেষ্টা সব সময় সমাজের জন্য বেনিফিশিয়াল হয়না এবং এটি প্রয়োজনীয়ও নয়।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
আমি সাহিত্য মান বিবেচনা করে বলি নি কথাটা- ''সামহোয়্যার এর মত ব্লগ একটি সামাজিক কমিউনিটি, যেটা সমাজের একটা নির্দিষ্ট অংশকে প্রতিনিধিত্ব করেনা (যদিও বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় সিংহভাগ মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে প্রতিনিধিত্ব করেন) । এইরকম একটি সামাজিক কমিউনিটিতে নিজে কথা বলার সময় বার কারো উদ্দেশ্যে কথা বলার সময় অডিয়েন্স যেই ভাষায় স্বচ্ছন্দ সেই ভাষা ব্যবহারের দিকে খেয়াল করা উচিত। অডিয়েন্সের ভাষা ব্যবহার করেই তার কাছে কোন মেসেজ পৌছানো সবচাইতে সহজ। সে যেই ভাষায় পরিচিত নয়, তাকে উদ্দেশ্য করে আক্রমণের ক্ষেত্রে (তা যৌনতাকেন্দ্রিক হোক বা না হোক) সেই ভাষার ব্যবহার এক ধরণের অভদ্রতা। শব্দের ইনসেনসিটিভ এবং পরিপ্রেক্ষিত বিহীন ব্যবহার সাহসিকতা বা বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করেনা বরং ভীরুতা, নীচতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াপনা বা বোঝার অক্ষমতাকেই নির্দেশ করে। ''
ভোক্তার মাণ ও রুচি বিবেচনা করে যদি এ কথা বলা না হয় তাহলে অবশ্য ভিন্ন কথা-
ম্যাসেজ পৌছানোর জন্য কিংবা বক্তব্যধর্মী লেখা বলতে আপনার মতো সুশীল কি বুঝাতে চান এটা অবশ্য বিতর্কসাপেক্ষ বিষয়-
লেখক বলেছেন: রাসেল, সামহোয়্যারে ব্যাপারটি আসে কথোপকথনের মতো, সরাসরি ইন্টারএ্যাকশনের ব্যাপার । এইরকম ক্ষেত্রে আপনি যার সাথে ইন্টারএক্ট করছেন তার ভাষা স্বচ্ছন্দের ব্যাপারটি আমার বিবেচনায় লক্ষণীয়। আমি মনে করি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বা হুমায়ুন আজাদও এই সরাসরি কথোপকথন বা এই ধরনের ইন্টারএকশনের ক্ষেত্রে পাঠক বা শ্রোতার ভাষা স্বাচ্ছন্দ বা রুচির দিকে খেয়াল রাখতেন।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ক্ষেত্রে নিশ্চিত করে বলতে পারি কারণ তার সরাসরি ছাত্র হিসাবে সেই ইন্টারএ্যাকশনের সুযোগ হয়েছে ।
এই কারনেই আমি বলছি আপনি সাহিত্য বা ব্লগ রচনার ক্ষেত্রে লেখক হিসাবে যতটা স্বাধীন, কারো প্রতি করা মন্তব্যের ক্ষেত্রে ততটা স্বাধীন নন । এই ক্ষেত্রে আপনি যার সাথে ইন্টারএ্যাকশন করছেন তার ভাষা স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে একজন লেখক হিসাবেই গুরুত্ব দিতে হবে।
কত্ত সুন্দর আলুচনা হচ্ছে,
কত্ত ভালো লাগতেছে।
কবিতায় কী তা সম্ভব????!!!!
সো নো ট্রায়াল কবির কবিতা..
*******
যাই হোক,
ব্লগের ব্যাপারটা হচ্ছে এটা সম্পুর্ণ একটা ভিন্ন রকমের একটা কমুনিটি।
এখান সমাজের সাধারণ রুলগুলা খাটা কতটা উচিত??
এখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের প্রটোকল তৈরি করতে হবে।
এখানে বন্য & সভ্যের সংগা নতুন করে ভাবতে হবে।
লেখক বলেছেন: সমাজের অধিকাংশ রুলই ব্লগের জন্য খাটে। ব্লগ সমাজ জীবনের বাইরের কিছু নয় ।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
কোলাহল বলেছেন:
ভাল লিখেছেন। আশা করছি অরন্যে রোদন হবে না। আমরা প্রগতিশীল, সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল। সঙস্কুতির বিবর্তনে আমরা যেটা প্রয়োজনীয়, যেটা ভাল, যেটা শোভণীয় সেটাই গ্রহন করবো। এটাই আমাদের নীতি। গালির কথা বলেন আর ট্যাবুর কথা বলেন কোনটাকেই চিরদিনের জন্য আকড়ে ধরে থাকার কোন প্রয়োজন আছে কি? আবার ঠ্যাবু হলেই কি সেটাকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে। আরেকটা ব্যাপার, আমরা আমাদের কথা, দিনযাপন, আচরন, পোষাক রীতি প্রত্যেক ক্ষেত্রেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে উন্নত রুচিবোধের পরিচয় দিতে চাই। আমাদের শিক্ষা, আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের সাথে সাথে বদলে ফলতে চাই তাহলে গালির ক্ষেত্রে এতটা রক্ষশীলতা কেন। রাগ প্রকাশের জন্য যে ভাষা ব্যবহার হত তার ঐতিহ্য ধরে রাখা কি এতটাই জরুরী?
লেখক বলেছেন: পরিবর্তনশীলতা অবশ্যই প্রগতিশীলতার জন্য দরকার। কিন্তু যে কোন পরিবর্তনের আগে, সোশ্যাল ট্যাবুর বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার আগে দেখতে হবে সেই ট্যাবুর গড়ে ওঠার কারন কি? এবং এই ট্যাবু বিরোধী অবস্থান সমাজের জন্য উপকারী হবে কিনা।
অতি প্রগতিশীলতার নামে সভ্য রীতিনীতিকে অবজ্ঞা করার চেষ্টা কোন ভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।
+
বরাবর জবাব!!
এ প্রসঙ্গে আমার পোস্টটি দেখেছিলেন। আমি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছিলাম। আপনি ইলাবরেট করেছেন দেখে ভালো লাগলো।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সারওয়ারচৌধুরী আপনার মন্তব্যের জন্য ।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
এই ব্লগ সমাজের বাইরে কিছু না। সমাজরে একভাবেই দেখি চিনি বলি এই গল্প মধ্যবিত্তের.....সমাজের বিভিন্ন স্তরে ইন্টারএ্যাকশনের ভাষা ভিন্ন। এইটা শিক্ষিত মধ্যবিত্তের সাহিত্য দিয়া কতটা বোঝা যাবে সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।
লেখক বলেছেন: শরৎ , আপনি একজন লেখক হিসাবে এখানে ইন্টারএ্যাকশন করবেন একজন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্তের সাথে যে বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় কিছু মুল্যবোধকে আশ্রয় করে বেড়ে উঠেছে তার সাথে কথোপকথনে কিন্তু সেই মুল্যবোধের কথা মাথায় রেখে আলোচনা করলে লেখক হিসাবে আপনার বার্তা পৌছানো সহজ হবে।
একইভাবে সমাজের অংশ হিসাবে ভিন্ন জনগোষ্ঠী (নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাই বলেন) যাদের ব্লগে এখনো অংশগ্রহণ যথেষ্ট নয়ম তাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গী, মুল্যবোধ আলাদা । তার সাথে মধ্যবিত্তের মুল্যবোধকে মাথায় রেখে কথা বলতে গেলে তার সাথে আপনি আলোচনাই করতে পারবেননা।
ব্লগকে যেহেতু সমাহের বাইরে মনে করেননা সেজন্যই বলছি সমাজে নিশ্চয়ই ভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কথোপকথন/ আলোচনায় আপনি ভিন্ন ভাষা ব্যবহার করেন। নিশ্চয়ই আপনি তার ভাষার স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে নজর দেন, তাহলে ব্যক্তিজীবনে যেটা করতে পারছেন, ব্লগে সেটা কেউ দেখতে চাইলে আপত্তি কেন?
সাহিত্যের স্কোপ অনেক বিশাল, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সাহিত্য রচনা হলেও তার পাঠক কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নয়, ওই শিক্ষিত মধ্যবিত্তই। তাই তাদের সাথে সেই একই সাহিত্য নিয়ে কথোপকথনের সময় আপনি প্রান্তিক জনগণের ভাষা ব্যবহার করলেতো হবেনা। নিশ্চয়ই সেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাথে কথোপকথনে আপনি তাদের ভাষাই ব্যবহার করবেন।
আমার অবস্থান কি বোঝাতে পারলাম?
রাসেল ( ........) বলেছেন:
বিষয়টা কিন্তু বক্তব্য প্রেক্ষিতে ভিন্ন হওয়া বাঞ্ছনীয়-ধরা যাক আমি বিদ্বেষ প্রকাশ করবো- কিংবা প্রচলিত মতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাবো আর সেটা দেখানোর জন্য আমার অনুভবে যে ভাষা আসে সেটাই ব্যবহার করবো এ ক্ষেত্রে যাকে আমি এই অনুভব পৌঁছাতে চাই তাকে ভদ্র ভাবে বলা সম্ভব হবে না- দেখো কে নাগর বালক তোমার পশ্চাতদেশের ফুটোতে আমার কাঠি ঢুকিয়ে ঘুটা দিতে ইচ্ছা করছে
এটা কখনই আমার অনুভব বহন করবে না-
আমার ম্যাসেজ সঠিক ও অবিকৃত ভাবে পাঠানোর উপায় কি সুশীল জনাব-/
চুপ করে থাকবো??
লেখক বলেছেন: রাসেল, বিরোধিতার বচনে যদি গালি ছাড়া আর কিছুই না থাকে, তবে তার মূল্য খড়কুটোও নেই। গালি প্রচলিত মতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়ার অনুষঙ্গ হতে পারে, প্রধান বক্তব্য হতে পারেনা।
আপনি বিতর্কের খাতিরে প্রচলিত মতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য গালির কথা বলছেন আর সামহোয়্যার এ গালির ব্যবহার এর ক্ষেত্রে বিরাট পার্থক্য আছে ।
যেহেতু সামহোয়্যার একটি সামাজিক কমিউনিটি এবং এটা সমাজের বাইরের অংশ নয়। সেক্ষেত্রে সামাজিক আলোচনার ক্ষেত্রে আপনি যে ধরণের বক্তব্যে অভ্যস্ত তার প্রতিফলণ থাকা উচিত এখানে।
আপনি যদি মনে করেন প্রচলিত মতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য গালিই একমাত্র উপায়, লেখনীর কোন শক্তি নেই এখানে, তাহলে আপনার সাথে আলোচনা আগাবেনা।
ব্লগে গালির ব্যাপারে আমার একটি তীব্র বিরোধিতার অবস্থান আছে, সেটা ব্লগের যারা নিয়মিত তাদের সবার কাছেই স্পষ্ট। এই অবস্থানের কারণে আমাকে গালি খেতে হয়েছে, দিতে হয়নি। কই গালি না দিয়েওতো আমার বিরোধিতার তীব্রতা বোঝাতে কোন সমস্যা হয়নি।
দেখুন সহজভাবে বলি ব্লগে বর্তমান যে গালি সংস্কৃতি এবং আপনার সাথে বা অন্যমনস্ক শরৎ এর সাথে আলোচনায় গালির যে ব্যাপারটি উঠে আসছে তার মধ্যে বিস্তর তফাত আছে। সেই পার্থক্যটার দিকে খেয়াল না রাখলে আমরা মনে হয় শুধু উদ্দেশ্যবিহীন আলোচনাই করবো ।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
রাসেল: হা হা হা........
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মাহবুব সুমন ।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
আমার লেখা নিয়াই বিপত্তির একটা সুচনা হইছে- মুহাম্মদকে নিয়া লিখা আমার বক্তব্য কিংবা আমার বিবেচনা আপনার কাছে আপত্তিকর ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতকারি মনে হইছে-এইটা থেকেই আলোচনা করতে শুরু করলেও হয়-
কাইলকা যা কইছিলাম কতিপয় উল্লুকের শেষ আশ্রয় এই অনুভুতি মানুষের মূ্ল্যবোধকে সম্মান করা দিয়া শুরু হয়-
আপনের অবস্থান এইটা থেকে ভিন্ন না- আপনের ধর্মবোধ আপনেরে কি অনুভুতি দেয় এইটা আপনের নিজস্ব বিশ্বাসের বিষয়- এইটা নিয়া আপনেরে কিছু কইতে যাই না- বিজ্ঞাপন দিয়া গালির বিরোধিতাও করি না-
আর কথা হইলো যদি এই প্রশ্নটা একেবারে সামনে আনা হয় যে মুহাম্মদ কখনই চান নি তার ভোগ করা নারী তার অধস্তনেরা ভোগ করুক -
এই মর্যাদাবোধ কিংবা আনাসের কথিত ৩০ পুরুষের শক্তি কোনটাকে সামনে আনলে আলোচনা আগাবে-
কখন আলোচনায় আসবে যে মুহাম্মদের আচরন কখনই সকল মানুষের জন্য সমান বিধান রাখে নি- আর তার এ ৩০ ঘোড়া ক্ষমতাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করাটাকে আপনি কতটুকু গ্রহনযোগ্য বিবেচনা করবেন??
রাসেল ( ........) বলেছেন:
কিংবা আরও সরল প্রশ্ন- কোরান হাদিসের আলোকেই করি- তিনি যখন অন্যের ভোগ করা নারীকে ভোগ করছেন তখন তার তেমন বাধা আসে নি- তার পালিত ছেলের বৌকে দেখেও তার উত্তেজনা জাগলেও সেটা ঐশ্বরিক বিধানে জায়েজ করা হয়েছে- অথচ সে একটা লম্পট- এটা মানতে আপনার আপত্তি আছে-
তারেক জিয়া লম্পট হলে সেটা বলতে আপত্তি নেই-
গোলাম আজমের পোলা লম্পট হলে সেটা মুখরোচক হিসেবে ব্যবহার করতেও দ্বিধা নেই বরং যখন কথাটা ধর্মগুরুর ঘাড়ে পড়ে তখন আহারে বালের ধর্মবোধের শিশ্ন আর ঈমান খাড়ায়া যায়
আপনার নবীর অবমাননা আর গালিবিরোধিতা সাহিত্য আর সাহিত্যে ভাষার সিনথেসিস নাইমা আসে কলমের হোগা বাইয়া- এইটারে কি কমু?
লেখক বলেছেন: রাসেল, ধর্মকে আক্রমণ করে দেয়া পোষ্ট আর ব্লগের গালিগালাজ আর অশ্লীলতা নিয়ে যে আলোচনা তা এক নয় । তাই ব্লগীয় গালিগালাজ আর ধর্ম বা ধর্মগুরুরে আক্রমণ করা গালিগালাজ কে এক আলোচনায় রাখতে চাইলে আমি দু:খিত । এই আলোচনায় আমি আগ্রহী নই ।
কারো ধর্মবিশ্বাস নিয়ে আমার কোন সমস্যা নেই, কে আস্তিক আর কে নাস্তিক তা আমি জানার আগ্রহও বোধ করিনা এবং তা কোন কারনে জানা হলেও তা আমার তার সাথে সম্পর্ক বা আলোচনায় কোন প্রভাব ফেলেনা। ধর্মকে আমি ব্যক্তিগত জীবণাচারণের অংশ মনে করি যেটা মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার । তাই ব্লগে ধর্মীয় আলোচনায় কখনোই উৎসাহ পাইনা ।
ধর্ম যেহেতু বিশ্বাসের অন্তর্গত, এটাই ধর্মের সবচাইতে একাধারে সবচাইতে সবল আবার সবচাইতে দুর্বল দিক। আমি ব্যক্তিগত ভাবে আস্তিক বা নাস্তিক যাই হইনা কেন, ধর্ম বা নাস্তিক্যবাদ যে কোন বিশ্বাসকেই অহেতুক আক্রমণ করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির বিপক্ষে। আর সেজন্যই আমার ধর্মীয় উস্কানি বন্ধে পোষ্ট দেয়া যেটা আপনাকে অনেক ইরিটেট করেছে এবং আমাকে এর আগেও একটি পোষ্টে বিভিন্ন বিশেষণে অভিহিত করেছেন। এই ক্ষেত্রে আপনার সহনশীলতার অভাবও লক্ষণীয় ।
আমি যদি আস্তিক হই সেক্ষেত্রে মুল সমস্যা হলো আপনার সাথে আমার ধর্ম নিয়ে তর্ক কখনোই সঠিক হবেনা কারণ আমি যাকে স্ট্যান্ডার্ড মনে করি আপনি তাকে মানেন না। তাই এইসব অনর্থক আলোচনায় যাবার কোন প্রেরণা আমি পাইনা । এইসব আলোচনার অধিকাংশই কোন পরিণতি ছাড়াই শেষ হয়, মাঝ থেকে ভন্ড ধর্মান্ধ এইসব উপাধি পাওয়া।
আমাদের আলোচনা চলছিল "সামহোয়্যার" এর মত একটি সামাজিক কমিউনিটিতে নিজে কথা বলার সময় বা কারো উদ্দেশ্যে কথা বলার সময় (কথোপকথনের সময়) শ্রোতার ভাষা স্বচ্ছন্দের দিকে সেই ভাষা ব্যবহারের দিকে খেয়াল করা উচিত কিনা সেই বিষয়ে। এই বিষয়ে আলোচনা চালাবার ইচ্ছা থাকলে আলোচনা চলুক।
আমি কোন বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী আর কোন ব্যাপারে আগ্রহী নই সেটা নির্ধারণের অধিকার নিশ্চয়ই আমার আছে ।
শয়তান বলেছেন:
রাসেল ( ........) এর কমেন্টে বিপ্লব ।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
সুপার্ব !!!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আব্দুর রাজ্জাক শিপন ।
সূফি বলেছেন:
আপনি বিতর্কের খাতিরে প্রচলিত মতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য গালির কথা বলছেন আর সামহোয়্যার এ গালির ব্যবহার এর ক্ষেত্রে বিরাট পার্থক্য আছে ।.............এইটা একটা উদাহরন দিয়া বুঝাইলে আলোচনায় অংশ নিতে পারিতাম । প্রচলিত মতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ছাড়া কোথায় গালি ব্যবহার হইছে এইটা যদি মিরাজ সাহেব একটা উদাহরন দেন , তাইলে বক্তব্য বুঝতে সুবিধা হয় ।
লেখক বলেছেন: সূফি কয়টা উদাহরণ লাগবে?
মিরাজকে রাজাকার বলা হইছে, বাষ্টার্ড বলা হইছে, আরো অনেক নোংরা গালি দেয়া হইছে যা এখানে উল্লেখ অ-প্রয়োজনীয়, রাগইমনকে অহরহ ছাগী বলা হইছে, উদাসী স্বপ্নকে অহরহ খোদাসী বলা হইছে, এইরকম উদাহরণ দিতে গেলে লেখা শেষ হবেনা, কিন্তু আপনার চোখে পড়তেছেনা।
আর আমার মন্ত্যব্যের আরেকটা অংশ আছে -
বিরোধিতার বচনে যদি গালি ছাড়া আর কিছুই না থাকে, তবে তার মূল্য খড়কুটোও নেই। গালি প্রচলিত মতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়ার অনুষঙ্গ হতে পারে, প্রধান বক্তব্য হতে পারেনা।
এইখানে সামহোয়্যার এ একটা গোষ্ঠী আছে যাদের একমাত্র বক্তব্যই হলো গালি দেয়া, সেটা বিরুদ্ধ মত হোক আর গালি দেয়ার জন্য বিরুদ্ধ মত বানানো হোক, যেটাই হোক না কেন।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
আমি কোন বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী আর কোন ব্যাপারে আগ্রহী নই সেটা নির্ধারণের অধিকার নিশ্চয়ই আমার আছে । মিরাজ আপনার এ কথা মানছি।
তাহলে ধর্ম/মুক্তিযুদ্ধ/নারী/মা/বাবা ইত্যাদি বিষয়ক তর্কাতর্কির কোন স্ট্যন্ডার্ড সবাই স্বতষ্ফূর্ত ভাবে মানছেন এমন ভাষা কি আদৌ পাওয়া সম্ভব? ব্লগীয় পরিবর্তনের ইতিহাসকে যদি মাথায় রাখি তাহলে দেখা যাবে যে এটাই এখন পর্যন্ত সকল বিরোধিতার মূলে। অনেকেই বলবেন, যে পজিশন হল আসল ব্যাপার। কিন্তু পজিশন/ব্যাক্তির বক্তব্য প্রকাশের ধরণ/ সে যা যেভাবে বলতে চায় ইত্যাদি প্রকাশিত হয় ভাষায়। আর এটাতেই ইন্টারেকশন হয়। এখানে মডারেট করাও অসম্ভব একটা বিষয়। এই যে রাসেলীয় ধরণ তা কিন্তু একটি ইউনিক বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করে। যেমন আমারটা/আপনারটা/সবারটা।
আর পুরো প্রক্রিয়া আমার মতে দ্বিপাক্ষিক এবং মূলত বহুপাক্ষিক। তাহলে ন্যুনতম আলোচনার জন্য আমাদের একটি কৌশলগত ঐক্যমতে বসতেই হয়। আর যেখানে যা বলা যায়/যায় না/উচিৎ ইত্যাদি বিষয়ও ব্যক্তির সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে। আপনি রাসেলের পদ্ধতির সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। কিন্তু আমার তর্ক হল এই যে কোন পজিশনই তর্কাতীত নয়। ফলে ব্যক্তির এক্ষেত্রে যেমন আপনার 'আমি কোন বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী আর কোন ব্যাপারে আগ্রহী নই সেটা নির্ধারণের অধিকার নিশ্চয়ই আমার আছে । " এই পজিশনকে মাথায় রেখেই আমি কথা বলতে সম্মত হয়েছি। তবে একটা কথা বলা দরকার মনে করছি তা হল যে কোন ধরণের 'বুঝদার' হওয়া কিন্তু তর্ক নিরসন করেনা। আবার কোন তর্কই পুরোপুরি মিমাংসীত হয় না। এটা আমার পদ্ধতি....
লেখক বলেছেন: শরৎ, আপনি বলেছেন
"কিন্তু পজিশন/ব্যাক্তির বক্তব্য প্রকাশের ধরণ/ সে যা যেভাবে বলতে চায় ইত্যাদি প্রকাশিত হয় ভাষায়। আর এটাতেই ইন্টারেকশন হয়। এখানে মডারেট করাও অসম্ভব একটা বিষয়। এই যে রাসেলীয় ধরণ তা কিন্তু একটি ইউনিক বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করে। যেমন আমারটা/আপনারটা/সবারটা।"
রাসেলীয় ধরণ বলতে যদি বোঝান যে তীব্র বিরোধিতার জন্য আপনি মা/বোন/বউ তুলে ুদি, ুকাই, মারি এইসব বলা, তাহলে সেই ইউনিক বৈশিষ্ট্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়, সেটা বিদ্যমান সামাজিক ট্যাবুর জন্য হোক আর সামাজিক মুল্যবোধের জন্য হোক।
একটা ব্যাপারে আপনার বা রাসেলের কাছে জানতে চাই -
ব্যক্তি জীবনে আপনার যদি কারো মতের তীব্র বিরোধিতার জন্য মনে হয় তাকে খুন করা সবচাইতে এ্যাপ্রোপ্রিয়েট কাজ তা কি করবেন? বা কোন মেয়ের সাথে মতের তীব্র বিরোধিতায় যদি মনে হয় তাকে চড় মারাটাই (আমি এখানে ধর্ষণের মত পাশবিকতার কথা তুললামনা) আপনার অনুভূতিকে সবচেয়ে সঠিকভাবে প্রকাশ করবে, তাহলে কি তাই করবেন?
বা আপনার কোন সহকর্মীর মতের তীব্র বিরোধিতার জন্য যদি মনে হয় তার মা/বোন/বউ কে চ-বর্গীয় গালি দেয়াটাই সবচাইতে কার্যকরভাবে আপনার ক্ষোভের প্রকাশ ঘটায় তাই কি দিবেন?
আমি একেবারে এক্সট্রিম থেকে একেবারে সাধারণ উদাহরণ দিলাম । আমার মনে হয় অধিকাংশ বা সব ক্ষেত্রে আপনার উত্তর হবে "না" । কারণ আমাদের সমাজের কিছু অনুশাসন মেনে চলতে হয়, তাই চাইলেও সবচাইতে এপ্রোপ্রিয়েটভাবে অনুভুতির প্রকাশ আমরা করতে পারি না।
ব্লগও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, বিশেষ করে সেটি যদি হয় সামহোয়্রার এর মত কমিউনিটি ব্লগিং ।
লেখক বলেছেন: সামহোয়্রার = সামহোয়্যার
সূফি বলেছেন:
ধন্যবাদ মিরাজ , আপনার বক্তব্য পরিষ্কার হইছে ।রাগ ইমনকে ছাগী বলা হইলে সেইটা আমার চোখে পড়ে নাই , এখন পড়া মাত্র প্রতিবাদ করলাম ।
উদাসীকে খোদাসী বলাটা ইন্টারেস্টিং । আমি যতোদূর মনে করতে পারি , উদাসী প্রথম হঠাৎ কইরা "_টিম" রে দেইখা লইবেন বইলা হুমকি টুমকি দিতে শুরু করিলেন, অথচ উনার লগে আগে কারো কোন ইন্টারেকশন মনে করতে পারলাম না । তখন মনে হইলো , বিষয়টা হয়তো হুমায়ূন আজাদের সেই অমর বানীটার মতো ," শুওরের বাচ্চার দাত গজালে বাপের পাছায় কামড়ে তার ধার পরীক্ষা করে । '"
এখন , "_টিম" বইলা যদি উনি অন্য কিছুও বুঝাইয়া থাকেন , তবু ব্লগের যারা নিজেগো একটা টিমের মাঝে বইলা দাবী করে থাকে , তারা হয়তো এইটা নিজের উপর টাইনা নিছে । এই নেয়া নেয়ির কারনে তখন রোকন একটা পোস্ট দিছে ,"জুলেখার ফুলবাগানে একটা খোদাসী " ।
তাইলে দেখা যাইতেছে যে , এইখানে আপনার ভাষায় যেইটা গালি সেই গালিটা ( যদিও খোদাসী শব্দটারে আমি গালি হিসাবে দেখতেছি না ) সেইটা আদতে অন্য একটা একশনের রিএকশন ।
একজন ডাম্বেল মাইরা অমুক ছিড়ছেন কইতারবেন , আর উনারে পরবর্তীতে খোদাসী কওন যাইবো না , এইটা বিচার হইলো না । সুতরাং এইটাও আসলে আপনার ভাষার সেই " প্রচলিত মতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া । " একজন হুমকি দিলে তারে প্রতিক্রিয়া হিসাবে গালি দেয়াটা আমার কাছে অন্যায় মনে হইলো না ।
তারপর আপনারে যখন গালি দেয়া হয় ( পুরা মনে করতে পারতেছি না ) তখন সেইটাও একধরনের সুশীল মনোভাবাপন্ন মানুষের ধরি মাছ না ছুই পানি থিওরীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ।
ধর্ম ব্যবসায়ী এবং রাজাকারদের বাক স্বাধীনতায় আমি বিশ্বাসী না , সেই বিশ্বাস আমার ক্বলবের একেবারে ভিতরে প্রোথিত , আপনি বা আপনারা যখন এদের বাক স্বাধীনতার কথা বলবেন , তখন প্রতিক্রিয়া হিসাবে গালি দেয়াটা অনেকের জন্যই খুব স্বাভাবিক বিষয় হইয়া যায় ।
লেখক বলেছেন: বুঝলাম । আপনারা আপনাদের মত আমাদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা করবেন এবং তারপর তা বিরোধিতার জন্য স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসাবে গালি দিবেন ।
চমৎকার ব্যাখ্যা।
লেখক বলেছেন: আপনাদের মত = আপনাদের সুবিধামত
লেখক বলেছেন: এ যেন অনেকটা ধর্মকে ব্যবহার করে গ্রামের সুবিধাবাদী মোল্লার দোররা মারার মতই শোনাচ্ছে আমার কাছে।
--------------------------
তুলনাটি প্রাসঙ্গিক মনে হলো । আর কোন কিছুই অরণ্যে রোদন নয়, যারা গালিকে ব্যক্তিগত সুবিধাবাদের জন্য ব্যবহার করতে চান তাদের এ পোষ্ট ভালো লাগার বা এই পোষ্টের বক্তব্যকে গ্রহণ করার কোন কারণ নাই । তবে বক্তব্যটা অনেকের কাছে পৌছালো সেটাই বা কম কিসে!!
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশীর ভাগ লেখাই শুধু ফলো করি মন দিয়ে। ব্যাস! তার বেশী কিছু নয়। মন্তব্য করতেও খুব ক্লান্ত লাগে। কেন - তা সহজেই অনুমেয়। এবং তার প্রেক্ষিতেই, যা আপনার রেসেন্ট টপিক-সেটের সাথে অতীব প্রাসঙ্গিক, তা নিয়ে দু একটি কথা বলতে এলাম। সাধারণ ব্লগারদের ওপরে ব্যক্তি-আক্রমণের মতো ন্যক্কারজনক অভিসন্ধীর বিরূদ্ধে যে পবিত্র জেহাদ আপনি ঘোষণা করেছেন, সে কন্টকাকীর্ণ পথে চলতে চলতে অনেক অতিরথের সাথে সংঘর্ষ অনিবার্য, যারা লোকচক্ষুতে হিরো কিন্তু আসলে জিরো। পথের বাঁক ঘুরলেই পেয়ে যাবেন ভাইয়া-ভাবীর কিস্যা রসিয়ে রসিয়ে বলতে থাকা কোনো বিকৃতকামোন্মাদ, মহান ইদের মাধূর্য নষ্ট করা কোনো অশ্লীল গল্পকার, বা নিয়মিত নিম্নমান দানকারী কোনো মুখ-ধর্ষকামী - এমন যাদের চলন-বলন, এদের কাছে ভালো কিছু আশা করাটাই অন্যায়, মুহূর্তমধ্যে এক ফুৎকারে এরা আপনার ন্যায্য দাবীকে উড়িয়ে দেবে। মনুষ্যপদবাচ্য এরা নয়, এবং এদের ঘৃণ্য কার্যকলাপ এদেরকে সেই সমস্ত নরপশুদের সাথে একই কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়, যারা পৃথিবীর কোনো মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য নয় এবং ঠিক সেই সঙ্গত কারণেই যখন প্রত্যাখ্যাত হয় - তখন নিজের প্রেমিকার মুখে অ্যাসিড ঢেলে দিতেও দ্বিধাবোধ করে না। কথায় আছে -পাওয়ার করাপ্ট্স আ পার্সন। কদিন আগে অ্যালেক্স্যান্ড্যার লোয়েনের প্লেস্যার পড়তে পড়তে এই প্রবাদটিকে আবার মনে পড়ে গেল। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে - রক্ষক গোষ্ঠী আজ ভক্ষকে পরিণত হয়েছে। দেখুন, ধরুন আপনি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন, এবার পেছনের বাসটি ওভার্টেক করতে গিয়ে আপনার গাড়িটিকেই ঠুকে দিল। যাওয়ার জায়গা না পেয়ে ওখানেই দাঁড়িয়ে গেল ও ক্লিনার ছুটে এসে আপনাকে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে কাঁচা খিস্তী করতে লাগলো। কিন্তু আমার আপনার মতো হাজার হাজার যে সমস্ত প্রকৃত শিক্ষায় দীক্ষিত সাধারণ ব্লগার শ্রেণী - আমাদেরকে জাস্ট কেটে ফেললেও আমরা অসদাচারণ করে তার জবাব দেবো না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো অবশ্যই, কিন্তু সুস্থ্যভাবে, দ্যাট হোয়্যাট মেকেথা রিয়্যাল জেন্টলম্যান। মূঢ়চক্ষে অবশ্য এটাকে দুর্বলতা বলে প্রতিভাত হয়। আপনার লিডারশিপ কোয়্যালিটিজ দেখে পুনরায় মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। বুঝতে পারছি অসম্ভব শব্দটা আপনার অভিধানে নেই। সুপবন বহিছে দেখে আপনার সত্যের ধ্বজা উড়িয়ে দিন - ফতেহ হবেই। আমরা - সাধারণ পংক্তির মানুষেরা আপনার সাথে আছি। আপনার প্রতি হৃদয়োৎসারিত শুভেচ্ছা ও আপনার বাবা-মাকে আমার বিনম্র প্রণাম। তাঁদের আশীর্বাদ প্রার্থনা করি।
লেখক বলেছেন: মৈথুনানন্দ আপনি আপনার মন্তব্যের মাধ্যমে যে বক্তব্যকে এত স্পষ্ট করে প্রকাশ করেছেন তা আমি অনেকগুলি পোষ্ট দিয়েও ততোটা স্পষ্ট এবং দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করতে পেরেছি কিনা জানিনা।
আপনাদের মত ব্যক্তিরা যখন সামনে এগিয়ে স্পষ্ট করে কথা বলেন তখন লোকের চোখের হিরোদের অনেক সংঘর্ষেও সাহস হারাইনা, বুঝতে পারি সঠিক পথে আছি ।
অনেক ধন্যবাদ কতগুলি সহজ সত্যকে খোলামেলাভাবে উপস্থাপন করার জন্য। আর সাথে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা । আপনার পরিবারের প্রতিও রইল সশ্রদ্ধ সালাম, যারা আপনাকে বেড়ে ওঠার সময় সঠিক শিক্ষাটি দিয়েছেন।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
কঠিন আলোচনা চলছে বোঝাই যাচ্ছে।গালী একটা স্বাভাবিক ব্যপার আমার কাছে, মানুষের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া থেকেই গালাগালী চলে আসে। আমার ধারনা পৃথিবীর কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না যে উনি জীবনে কোনদিন গালী দেন নাই। আমিও গালী দেই, সেই অর্থে আমি গালীর বিরোধী নই। তবে,হাঁ বিরোধীও, এবং সেটা ক্ষেত্র ও পরিস্থিতি বিচারে।
তবে স্থান কাল ভেদে গালীর অর্থ ভিন্নতর হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় ব্লাডি কথায় কথায় ব্যবহার করি আমরা আর এই ব্লাডি শব্দটা বাংলাদেশে ব্যবহার করলে স্বয়ং রাসেল ভাইই পশ্চাৎ দেশে বাঁশ প্রবেশ করাতে এগিয়ে আসবেন।
বাংলাদেশে কাউরে জারজ বল্লে পিঠের চামড়া থাকবে না আর এইখানে বাস্টার্ড কথায় কথায় চলে আসে, সেটা প্রধানমন্ত্রি থেকে চার্চের ফাদার পর্যন্ত। এই সব হইলো অর্থ ও প্রয়োগ বিচারে, স্হান কালভেদে।
সাহিত্যে গালাগালী আসবেই। কারন সাহিত্য মানুষকে নিয়েই লেখা হয়, দেবতা বা ফেরেশতাদের কাহিনী না। মানুষ গালী ব্যবহার করে সেটা সাহিত্যে প্রকাশিত হয়। এইটারে অস্বাভাবিক দেখি না। তবে বেশী ব্যবহার করলে সেটা চটি পর্যায়ে চলে যায়।
ব্লগের কথায় বল্লে বলি, ব্লগে গালীর সম্মুখিন হয় কারা !! ?? যারা স্বাধীনতা বিরোধী কথা বলে, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী লেখা লেখি করে প্রতিনিয়ত দেশকে অপমানিত করে। এদের গালী দেয়ার ১০০০% পক্ষপাতী আমি। আমার দেশমা কে অপমান করবে, যুক্তি দেবো আর সে যুক্তি না শুনে আবারো ধর্ষন করতে থাকবে সেটা শুনে চুপ করে থাকবো সেটা ক্লীব আমি নই। ইচ্ছে মতো গালা গালী চলবে। ওরা ব্লগ থেকে বাদ যাবে, গালাগালীও বন্ধ হবে। ( সামনে পাইলে ওগো গুলি করুম)
আর ব্যক্তিগত পর্যায়ে গালা গালী, সেটাও ঘটে অনেক ক্ষেত্রেই। যেমন মিরাজ ভাই আপনার ক্ষেত্রেও ঘটেছে। মতের মিল না থাকলেই গালী শুরু হয় যেটা মেনে নেয়া যায় না। এক্ষেত্রে আপনের সাথে একমত। ব্লগ জীবনের প্রথম দিকে আমার মাকে নিয়ে, জন্ম নিয়ে অনেক গালাগালী শুনতে হয়েছিলো একজনের কাছ হতে, দূর্ভাগ্যক্রমে উনিও এই আলোচনায় অংশগ্রহন করেছেন যিনি গালিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন।
বোকার মতো কিছু লিখে ফেল্লাম
লেখক বলেছেন: যে কোন শব্দকেই স্থান কাল পাত্র ভেদে প্রেক্ষিত ঠিক রেখে ব্যবহার করলে সেটা গালি না হয়ে সাধারণ অনুভুতির প্রকাশ হয়। আপনার অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে উদাহরণ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়।
আর বক্তব্যের বাকী অংশের ক্ষেত্রে বলি বিরোধিতার বচনে যদি গালি ছাড়া আর কিছুই না থাকে, তবে তার মূল্য খড়কুটোও নেই। গালি যে কোন প্রচলিত মতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়ার অনুষঙ্গ হতে পারে, প্রধান বক্তব্য হতে পারেনা।
আপনি যদি মনে করেন রাজাকারী/স্বাধীনতা বিরোধী/ প্রতিক্রিয়াশীল মতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য গালিই একমাত্র উপায়, লেখনীর কোন শক্তি নেই এখানে, তাহলে আপনার সাথে আমি একমত নই ।
আর ব্লগে রাজাকার এবং দেশপ্রেমিক নির্ধারণ করছেন কিভাবে? সুবিধামত গালি দেবার জন্য ভার্চুয়াল রাজাকার তকমা পরানোর পক্ষে নেই আমি ।
আপনি আপনার ব্যক্তি পর্যায়ে গালাগালির যে উদাহরণ দিলেন সেটা ব্লগীয় বাস্তবতা, সেটাকে অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। আর এইসব অশ্লীলতা থেকে ব্লগকে মুক্ত করার জন্যই প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালাচ্ছি ।
গালির একটা বড় উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষরে আক্রমন করা, আর কেবল আক্রমন করাটাই না...প্রতিপক্ষরে আক্রান্ত হইতে হইবো, গালিতে এইটাই মোদ্দা কথা...ব্লগের অনেকের অভিযোগ আছে যুক্তি বিষয়টা যেইখানে থাইমা যায় সেইখানেই গালির শুরু...আমিও আপাতঃ অর্থে তা'ই মনে করি...তয় গালিরে তখন ঠিক আপনে যেমনে দেখছেন সেই দৃষ্টিকোন থেইকা দেখি না...কেবল যৌনতাকেন্দ্রীক আক্রমনই আমার কাছে গালি থাকে না, এর বাইরেও অনেক ধরনের আক্রমনই গালি হইতে পারে। এইসব আক্রমনে বেশিরভাগ সময় জাজমেন্টাল বক্তব্য ব্যবহার হয়...একজনরে কোন কারন না দর্শাইয়া হিপোক্রিট-ধান্দাবাজ-বামপোষ্য-আওয়ামি-বিএনপি প্রভৃতি কওনটাও গালি হয়...
ব্লগে অবশ্য যেই ধরনের এক্সপ্রেশনরে গালি বইলা বিবেচনা করা হইতেছে তাতে চ'বর্গীয় গালি...বিশেষ কইরা চোদাচুদি সম্পর্কীত বিষয়ে গালি উল্লেখ্য হয়। এই গুলি অধিকাংশ সময়ই জাজমেন্টাল এক্সপ্রেশন...তয় কিছু সময়ে নির্বুদ্ধিতার প্রত্যুত্তরও হয়...প্রতিপক্ষ এমন যুক্তি স্থাপন করলো যেইটা আসলে কোন যুক্তিবচন হইতে পারে না...আবার তা সিদ্ধান্ত হওনের যোগ্যতা'ও ধারণ করে না বিজ্ঞান-যুক্তি কিম্বা সভ্যতার সাপেক্ষে, অথবা যৌনতাকেন্দ্রীক না এইরম শব্দের আক্রমন, যেইটার উদ্দেশ্য থাকে প্রতিপক্ষরে আক্রান্তকরনের...এখন দুইপক্ষরেই আমার ইনসেনসিটিভ লাগে...মূল সমস্যা গালির প্রকাশে না প্রকাশভঙ্গীতে, মানে ঐ তালগাছ আমার টাইপ আক্রমনে...
গালির মূল বিষয়টা আসে জাজমেন্ট থেইকা...আমি ধইরা নিলাম মিরাজ সুশীল কারন মিরাজ গালির বিরুদ্ধে থাকে, আর দেখলাম অ্যান্টি লিবারেশন চেতনা-ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখা অনেকে তারে সমর্থন দিয়া গেলো...তার বক্তব্যরে উদ্ধৃত কইরা প্রতিপক্ষরে আক্রমন করতে চাইলো...যেই আক্রমনেও জাজমেন্ট থাকে...আর তাই মিরাজরে গালি দিলাম কিছু একটা, যেইটাতে মিরাজ আক্রান্ত হইলো...একটা জাজমেন্টাল ধারণা আরেকটা জাজমেন্টাল ধারণারে আমন্ত্রন জানায়...এইটাই আমার কাছে মূল সমস্যা মনে হইতেছে...
আক্রান্ত হওয়া শব্দটা এইখানে ইম্পর্ট্যান্ট হয়। যারে গালিটা দিলাম তার পিত্তি জ্বলতে হইবো এইটাই আসল চাওয়া গালির ক্ষেত্রে...এখন পুরুষতান্ত্রিকতার অজুহাতে আমি চ'বর্গীয় চোদাচুদি নির্ভর গালিরে অনাকাঙ্খিত কইতে একপায়ে খাড়া...কিন্তু আমি সাথে সাথে উস্কানী দেওয়া লেখার শিরোনামে 'বানানো গল্প' কইয়া গালি দেওনটারেও বিরোধীতার প্রয়োজন মনে করি কারন দুইটাই জাজমেন্টাল, দুইটাতেই বিচারের ধরন হিসাবে pseudo যুক্তি ব্যবহারের প্রবনতা আছে, আর এইরম যুক্তি আদতে যুক্তিই হয় না তার বৈধতা বিচারে।
পুরুষতান্ত্রিকতার অজুহাত কইলাম বইলা হয়তো অন্য অর্থ করতে পারেন...কিন্তু আমি যেইটা কইতে চাই পুরুষতন্ত্র যেমন নারীরে অধঃস্তন বানাইয়া আধিপত্য কায়েম করে, তেমনই সমাজে আরো অনেক অবস্থানই আছে যেইখানে এইরম আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা হয়। এই দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম বইলা এই দেশের সকল পরিবর্তনে-বিকাশে মুসলমানগো অবদানই বেশি এইরম গবেষণাও আমার কাছে রেসিস্ট লাগে, আর তখন আমি একজন ধর্মহীন মানুষ হইয়া চপেটাঘাত খাই...কম্যুনিটি ব্লগিং'এ যৌনতাকেন্দ্রীক গালি, জাজমেন্টাল গালি এইসবের বাইরে রেসিস্ট হইয়া উঠতে পারে এইরম সকল বিষয়ই তাইলে বন্ধ কইরা দেওনটা প্রয়োজন...
লেখক বলেছেন: জামাল ভাস্কর, আপনার দীর্ঘ সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ । মনে হয় আমি কিছু কথা আপনাকে বুঝাইতে পারিনাই তাই গালি বিষয়ে আমার দৃষ্টিভংগীর সাথে আপনার দৃষ্টিভংগীর কিছু পার্থক্য আপনার চোখে ধরা পড়ছে, যেই পার্থক্যগুলি আছে বলে আমি মনে করিনা।
প্রথমত: আদি ঢাকাইয়া গোষ্ঠী নতুন শহরায়ণের ফলেও প্রান্তিক জনপদের অংশ হয় নাই, তাই নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনেক আগেই ঢাকাইয়া সংক্রান্ত অংশের কিছু সংশোধন করেছি। তবে প্রান্তিক জনগণের বলা অনেক কথাই এখনো তাদের মুখে প্রচলিত এইটা আমার অভিজ্ঞতা থেকে জানি।
দ্বিতীয়ত চ-বর্গীয় গালির উদাহরণ আমি পোষ্টে দিয়েছি গালির সবচাইতে অগ্রহণীয় উদাহরণ দেবার জন্য যেহেতু এর মাধ্যমে নারীর প্রতি (যে আমার মা/বোন/বউ) পুরুষের ধর্ষকামী মনোভাব প্রকাশ পায়। এই চ-বর্গীয় গালির বাইরে আপনি যেই উদাহরণগুলি দিলেন ...........একজনরে কোন কারন না দর্শাইয়া হিপোক্রিট-ধান্দাবাজ-বামপোষ্য-আওয়ামি-বিএনপি প্রভৃতি কওনটাও গালি হয়...
আমি এইটার সাথে খুব একটা দ্বিমত করিনা। ঠিক একই কারণে যে রাজাকারি মতাদর্শের নয় তারে রাজাকার বলাটাও আমি গালি মনে করি। তবে দ্বিমতটা হলো "কোন কারণ না দর্শাইয়া" এই কথাটার জাজমেন্টে । যদি আমি মনে করি পর্যাপ্ত কারণ দর্শাইছি তাহলে কিন্তু আমি হিপোক্রেট/ ধান্দাবাজ এইসব শব্দরে গালি মনে করিনা। কিন্তু মা বোনকে উল্লেখ করে যৌনতাকেন্দ্রিক গালির জন্য কোন কারণ দর্শানোকেই আমার কাছে যথাযথ মনে হয়না। এইখানে আমার সামাজিক মুল্যবোধ, সোশাল ট্যাবু ও শিক্ষা জাজমেন্টকে প্রভাবিত করে।
আপনার বক্তব্যের বাকী অংশের সাথে খুব একটা দ্বিমত নাই ।
এখন প্রশ্ন হলো প্রায়োরিটির, কোন গালিটা আমার সামাজিক চিন্তাচেতনার আর মুল্যবোধকে সবচেয়ে বেশী আঘাত করছে, সেই গালিটাকে আমি সবার আগে বন্ধ করতে চাই তারপর অন্যান্যগুলো । তবে এইটাও মানি যে আমার প্রায়োরিটি আর আপনার প্রায়োরিটিতে মিল নাও থাকতে পারে।
আমার কাছে বক্তব্যের কম্যুনিকেশনে গালির (তা যেই প্রকারেরই হোকনা কেন) অবস্থান সবার নিচে । সৌভাগ্যের ব্যাপার যুক্তির আশ্রয়ে বেড়ে ওঠায় অতটা নীচে প্রায় কখনোই নামতে হয়না।
যাক্
চমৎকার কিছু আলোচনা হলো।
এই ব্লগে একটা জিনিস বুঝেছি এতোদিনে যারা কথায় কথায় রাজনীতির প্যাঁচ তালাশ করেন। তাদের সাথে তর্কে জড়িত হওয়া একেবারে বেকার। বিশেষ করে ম্যানিপুলেটরদের সাথে। তাদের যা খুশি বলুক, আমার নাক না গলালেই ভালো। তাদের সাথে তর্ক করতে গিয়ে নিজেরই মেজাজ খারাপ হয়।
বস্তুনিষ্ঠ আলোচনায় বিরোধিতাকেও গ্রহন করা যায়। বিষয়ের প্রসঙ্গান্তরে গিয়ে খামাখা প্যাঁচাল কাম্য নয়।
এখানে আলোচনায় ট্যাবু বা সংস্কার বিরোধিতা যারা করছেন, তারা মনে হচ্ছে আকাশে উড়ে উড়ে কথা বলছেন। মাটিসংলগ্ন বা সমাজ বাস্তবতার আলোকে যা ক্ষতিকর তার উৎপাটন জরুরী।
জ্ঞানালোচনায় এক পক্ষ থেকে গালি এলেই সেখানে আর সুস্থ পরিবেশ থাকে না।
ব্লগে আমরা কি করছি? জ্ঞানালোচনাই তো করছি কিবোর্ডের বাটন টিপে। যুক্তি দলিল দিয়ে কথা বলছি। কারো কোনো কথা পছন্দ না হলে সোজা বলবেন একমত নই বা পছন্দ হয় নি। এখানে ক্ষমতা দখলের রাজনীতির বাস্তবতা নিয়ে আসা হবে কেন?
ব্লগে সুস্থ পরিবেশে বস্তুনিষ্ঠ তর্ক বিতর্ক চললে অদূর ভবিষ্যতে ব্লগের আলোচনা আমাদের যে কোন জাতীয় ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য আলোচনা হিসাবে তুলে ধরা যেতে পারে।
আর বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে খিস্তি খেউড় গালাগালি চলতে থাকলে এইসব বাটন টিপাটিপি অর্থহীন।
ধন্যবাদ, বেশি বকবক করলাম মনে হয়
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সারওয়ার চৌধুরী আলোচনায় আপনার অংশের জন্য ।
তবে আপনার এই অংশটার সাথে একমত নই --
"এখানে আলোচনায় ট্যাবু বা সংস্কার বিরোধিতা যারা করছেন, তারা মনে হচ্ছে আকাশে উড়ে উড়ে কথা বলছেন।"
আমার কাছে তাদের অনেক যুক্তি গ্রহণীয় মনে না হলেও (যেটা আমি যুক্তি দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করেছি) তাদের অবস্থান মাটিতেই বলে মনে হয়েছে।
আকাশে ওড়ার রূপকের ব্যবহারটা হয়ত আমি ঠিকমত বুঝতে পারিনি ।
মন্তব্যের জন্য আবারও ধন্যবাদ ।
হোসেইন বলেছেন:
অত্যন্ত সুলিখিত আলোচনা ও পোস্ট । খুবই সময় উপযোগী । আলোচনাটারে কর্তৃপক্ষ স্টিকি করতে পারতো । তয় , আমার মনে হয় এখানে কিছু জিনিষ একসাথে প্যাচগোচ খাইতেছে ।
লেখায় এমন শব্দের ব্যাভার , যেইগুলারে সামাজিক কনসেপ্টে অনেকের সামনে উচ্চারন যোগ্য না , সেইটা একটা বিষয় আর ব্যক্তিগত আক্রমন আরেকটা বিষয়।
লেখায় কিছু শব্দের ব্যাভার আসলে লেখকের ক্ষমতার উপ্রে নির্ভরশীল । রাসেল যখন ুদাুদি বলেন , তখন সেইটা আমার কাছে অস্বাভাবিক লাগে না । কথা হইলো , সেইটা আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মুখে হউক আর হোসেইনের মুখে হোক , সেইটাকে আমি অবশ্যই সাপোর্ট করি । আমার এক্সপ্রেশন প্রকাশের ল্যাঙ্গুয়েজ এইটা , এর মাধ্যমে আমি সাহিত্য করি , পাঠকের পুষাইলে পড়বে , না পুষাইলে পড়বে না । একটা ফাউল উদাহরন হিসাবে কই , এতো গালিবাজ কওনের পরও কিন্তু রাসেল এর পোস্টের নিয়মিত পাঠক এই ব্লগে ভুরি ভুরি ।
এখন হইলো ব্যক্তি আক্রমন । ঠিক আছে , ব্লগার উনার লেখা লিখছে , পাঠকের পুষাইলে পড়ব নাইলে পড়ব না। কিন্তু যখন পাঠকরে আক্রমন কইরা বসে , তখন সেইটা কী দাড়ায় ।
হ্যা , এইটা আমি এখন যুক্তির নিরিখে বিচার করি । এইখানে কেউ যদি গোলাম আযমরে মহান নেতা কয় , তাইলে সে তার পাছায় পাঠকের বাম্বো নিবে , এইটাকে আপনি মানেন বা না মানেন এইটা হইলো বাংলাদেশের বাস্তবতা । মতিউর রহমান নিযামীর ছবি যে হারামজাদা পোস্টাইব , আমি তার লগে কথাবার্তা কওনের কোন দরকার দেখি না , তারে স্রেফ গাইল দিতে হবে , যেহেতু ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আসলেই তারে নির্যাতন করার আর কোন সহজ তরিকা নাই ।
কথা হইলো ব্যক্তি আক্রমন অনেক ব্যাপক একটা বিষয় । সেইখানে মাহবুব মোর্শেদ যখন ইঙিত দেয় যে অমি রহমান পিয়াল আসলে অনেক ব্লগারের ব্যানমুক্তির দাবীতে কলম বিরতি করে নাই , আসলে বিডিনিউজের
ব্লগ চালুর জন্য এই ষড়যন্ত্র করছে , তখন সেইটার ভাষা যতোই শোভন হউক না কেন , আমার চোখে সেইটা গালিই বটে । এখন এই গালির বিপরীতে কেউ যদি মামোর চরিত্রে এমন পিছলা জিনিষ দেখে এবং বিশ্বাস করে যে মামো এইগুলান বানাইয়া বানাইয়া কয় , যাতে কইরা তার পোস্ট স্টিকি হয় , তখন তারে স্টিকি দালাল কওয়াটা একজন পাঠকের সত্য প্রতিক্রিয়া । পাঠক আপনাকে বা আমাকে জিগাইয়া প্রতিক্রিয়া দিবে না । এতো এলার্জি লইয়া পাবলিক ফোরামে লেখালেখি করা কষ্টের ।
হোসেইন বলেছেন:
অত্যন্ত সুলিখিত আলোচনা ও পোস্ট । খুবই সময় উপযোগী । আলোচনাটারে কর্তৃপক্ষ স্টিকি করতে পারতো । তয় , আমার মনে হয় এখানে কিছু জিনিষ একসাথে প্যাচগোচ খাইতেছে ।
লেখায় এমন শব্দের ব্যাভার , যেইগুলারে সামাজিক কনসেপ্টে অনেকের সামনে উচ্চারন যোগ্য না , সেইটা একটা বিষয় আর ব্যক্তিগত আক্রমন আরেকটা বিষয়।
লেখায় কিছু শব্দের ব্যাভার আসলে লেখকের ক্ষমতার উপ্রে নির্ভরশীল । রাসেল যখন ুদাুদি বলেন , তখন সেইটা আমার কাছে অস্বাভাবিক লাগে না । কথা হইলো , সেইটা আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মুখে হউক আর হোসেইনের মুখে হোক , সেইটাকে আমি অবশ্যই সাপোর্ট করি । আমার এক্সপ্রেশন প্রকাশের ল্যাঙ্গুয়েজ এইটা , এর মাধ্যমে আমি সাহিত্য করি , পাঠকের পুষাইলে পড়বে , না পুষাইলে পড়বে না । একটা ফাউল উদাহরন হিসাবে কই , এতো গালিবাজ কওনের পরও কিন্তু রাসেল এর পোস্টের নিয়মিত পাঠক এই ব্লগে ভুরি ভুরি ।
এখন হইলো ব্যক্তি আক্রমন । ঠিক আছে , ব্লগার উনার লেখা লিখছে , পাঠকের পুষাইলে পড়ব নাইলে পড়ব না। কিন্তু যখন পাঠকরে আক্রমন কইরা বসে , তখন সেইটা কী দাড়ায় ।
হ্যা , এইটা আমি এখন যুক্তির নিরিখে বিচার করি । এইখানে কেউ যদি গোলাম আযমরে মহান নেতা কয় , তাইলে সে তার পাছায় পাঠকের বাম্বো নিবে , এইটাকে আপনি মানেন বা না মানেন এইটা হইলো বাংলাদেশের বাস্তবতা । মতিউর রহমান নিযামীর ছবি যে হারামজাদা পোস্টাইব , আমি তার লগে কথাবার্তা কওনের কোন দরকার দেখি না , তারে স্রেফ গাইল দিতে হবে , যেহেতু ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আসলেই তারে নির্যাতন করার আর কোন সহজ তরিকা নাই ।
কথা হইলো ব্যক্তি আক্রমন অনেক ব্যাপক একটা বিষয় । সেইখানে মাহবুব মোর্শেদ যখন ইঙিত দেয় যে অমি রহমান পিয়াল আসলে অনেক ব্লগারের ব্যানমুক্তির দাবীতে কলম বিরতি করে নাই , আসলে বিডিনিউজের
ব্লগ চালুর জন্য এই ষড়যন্ত্র করছে , তখন সেইটার ভাষা যতোই শোভন হউক না কেন , আমার চোখে সেইটা গালিই বটে । এখন এই গালির বিপরীতে কেউ যদি মামোর চরিত্রে এমন পিছলা জিনিষ দেখে এবং বিশ্বাস করে যে মামো এইগুলান বানাইয়া বানাইয়া কয় , যাতে কইরা তার পোস্ট স্টিকি হয় , তখন তারে স্টিকি দালাল কওয়াটা একজন পাঠকের সত্য প্রতিক্রিয়া । পাঠক আপনাকে বা আমাকে জিগাইয়া প্রতিক্রিয়া দিবে না । এতো এলার্জি লইয়া পাবলিক ফোরামে লেখালেখি করা কষ্টের ।
লেখক বলেছেন: আলোচনা ষ্টিকি করবার কোন প্রয়োজন নাই, স্টিকি করা ছাড়াই আলোচনায় স্বাচ্ছন্দ বোধ করি ।
আপনার বক্তব্যের প্রথম অংশ নিয়া আমার খুব বেশী দ্বিমত নাই । তবে লেখায় যে শব্দগুলি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে (যেটি আপনি উদাহরণ দিলেন) সেই সব শব্দের ব্যবহারের উপর সব সময় লেখকের লেখার ক্ষমতা নির্ভরশীল নয়। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মত লেখক যখন তার রচনায় প্রেক্ষিত ঠিক রেখে শব্দগুলি ব্যবহার করেন তখন তা তার লেখার ক্ষমতার প্রকাশ, কিন্তু ব্লগেরই কিছু ব্লগার (রাসেলের কথা বলছিনা) সেই শব্দগুলিকে আরোপিতভাবে প্রেক্ষিত ছাড়া ব্যবহার করে তখন সেটা অশ্লীল । এবং তা লেখকের ক্ষমতার চাইতে নিম্নরুচির ব্যাপারটিকেই বেশী প্রকট করে । তবে ব্লগ বা সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে যেহেতু লেখক পাঠককে পড়তে বাধ্য করছেনা, তাই এই ব্যাপারে আমার খুব একটা মাথা ব্যাথা নাই । পোষ্টেও সেকথা স্পষ্ট করেই বলেছি।
আমার মুল আপত্তি পাঠকের সাথে লেখকের (বা একজন ব্লগার এর সাথে আর একজন ব্লগার এর ইন্টারএ্যাকশন বা কথোপকথনের সময় গালি ও অশ্লীলতার ব্যাক্তিসুবিধাকেন্দ্রিক অপব্যবহার এবং শ্রোতার ভাষা স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে লক্ষ্য না রাখার ব্যাপারটি নিয়ে।
এবার আসি ২য় ব্যাপারে। আপনার সাথে এই ব্যাপারে আমার সুস্পষ্ট দ্বিমত আছে । এই কথাগুলি আগেও বহুবার বলেছি, প্রাসংগিক হওয়ায় আবার বলছি ।
বিরোধিতার বচনে যদি গালি ছাড়া আর কিছুই না থাকে, তবে তার মূল্য খড়কুটোও নেই। গালি যে কোন প্রচলিত মতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়ার অনুষঙ্গ হতে পারে, প্রধান বক্তব্য হতে পারেনা।
আপনি যদি মনে করেন রাজাকারী/স্বাধীনতা বিরোধী/ প্রতিক্রিয়াশীল মতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য গালিই একমাত্র উপায়, লেখনীর কোন শক্তি নেই এখানে, তাহলে আপনার সাথে আমি একমত নই ।
আর ব্লগে রাজাকার এবং দেশপ্রেমিক নির্ধারণ করা হচ্ছে কিভাবে? সুবিধামত গালি দেবার জন্য ভার্চুয়াল রাজাকার তকমা পরানোর পক্ষে নেই আমি ।
সবচাইতে বড় সমস্যা হচ্ছে গালি সংস্কৃতির সুযোগ নিয়ে বক্তব্যের ইচ্ছামত ইন্টারপ্রেট করে তারপর তাকে রাজাকার/ ছুপা রাজাকার / রাজাকারের সহযোগী এইসব তকমা পরিয়ে গালিকে যথেচ্ছ ব্যবহার করা। আর গালিকে আড়াল করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বর্মের আড়াল নেয়া হচ্ছে ।
সামহোয়্যার একটা সামাজিক প্ল্যাটফর্ম সেখানে যেই আদর্শের আড়াল থেকেই নারীর প্রতি ধর্ষকামী মনোভাব প্রকাশ করা হোকনা কেন, তার বিপক্ষে আমার এলার্জি আছে। আমার সামাজিক মুল্যবোধ আর শিক্ষা আমাকে এই ক্ষেত্রে বিপক্ষে দাড়াবার জন্য বলে । সমস্যা হচ্ছে যারা এইকাজ করছে তারাও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বর্মের আড়ালে যেয়ে এটা করছে এবং এর বিরোধিতা করাটাকেই রাজাকার পক্ষের প্রতি সমর্থনের মত ক্রুড জেনারালাইজেশন টানা হচ্ছে ।
এই ব্যাপারে আমার অবস্থান আগেও জানিয়েছি এখনও আবার বলছি -
ব্লগে নারীর প্রতি (সরাসরি নারী/মা/বোন/বউ) এর প্রতি কু-ইঙ্গিত বা মুখের ভাষায় ধর্ষণ কোন বিচারেই গ্রহণযোগ্য নয়। । আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন, যুদ্ধাপরাধীরা আমার মা - বোনদের উপরে যে বর্বরতা চালিয়েছে, অনলাইনে আদর্শের দোহাই তুলে কোন ভাবেই কারো যুদ্ধাপরাধীদের মত আচরণকে মেনে নেয়ার কোন কারণ নেই । আমার ভাষায় পার্থক্যটা হলো মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীরা ইসলামকে ব্যবহার করেছে আর এখন কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করছে ।
এখানে ভিন্ন কোন ব্যাখ্যার অবকাশ আছে বলে মনে করিনা।
আর এইসব গালি ছাড়া ব্যক্তি আক্রমণের ক্ষেত্রে যা আপনি মাহবুব মোর্শেদের উদাহরণ দিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করলেন সে বিষয়ে কিছু আগেই জামাল ভাস্করের সাথে আলোচনায় বোঝাবার চেষ্টা করেছি । আসলে মুল বিষয়টি হচ্ছে জাজমেন্টের এবং সেই জাজমেন্টের ইন্টারপ্রেটেশনে।
যখন কিছু লোক ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জাজমেন্ট এবং সেই জাজমেন্টের ইন্টারপ্রেটেশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলে তখন তাদের জাজমেন্ট এবং ইন্টারপ্রেটেশনের উপর সাধারণ ব্লগাররা আস্থা হারিয়ে ফেলে। তখন তাদের অনেক লজিক্যাল ইন্টারপ্রেটেশনের উপরও আস্থা রাখা যায় না। রাখাল ও বাঘের গল্পটা এই প্রেক্ষিতে একটু স্মরণ করছি।
আপনি সিনিয়র ব্লগার, কার পোষ্ট কেন স্টিকি হয়, কার বক্তব্যের কি ইন্টারপ্রেটেশন এর বাইরে এই আস্থার অভাব কেন সৃষ্টি হলো সেটা নিয়ে চিন্তা করলে মনে হয় অনেক কিছুর সমাধান হয় ।
অবশ্য তার আগে একটি গোষ্ঠীর জাজমেন্ট এবং ইন্টারপ্রেটেশনে সাধারণ ব্লগারদের আস্থার অভাব রয়েছে এই সত্যটা আপনাকে আংশিক হলেও স্বীকার করতে হবে ।
যাহেক ভাল থাকবেন আর আপনার আলোচনার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ বিহংগ।
ব্লগের ভীষন শিথিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমতো এখানে আমাদের বাস্তব সমাজকেই উঠে আসতে উৎসাহিত করছে ... তো, তার চেহারা সেভাবেই উপস্থাপিত দেখতে সমস্যাটা কি?
লেখক বলেছেন: আমার মনে হয়না ব্লগে সমাজের বাস্তব চেহারা উঠে আসছে । সমাজের চেহারার উপর অনেক কিছুকে আরোপিত করে দেয়া হচ্ছে যেটা ব্লগকে আরো সমাজ বিচ্ছিন্ন করছে ।
সমাজে বিপরীত মতের প্রতি যতটা সহনশীলতা আছে ব্লগে তার অনুপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রেই পীড়াদায়ক। এই ব্যাপারে এর আগে অন্যমনস্ক শরৎ এর একটি মন্তব্যের জবাবে সমাজের স্বাভাবিক অনুভুতি এবং মুল্যবোধ এর সাথে ব্লগে বিদ্যমান পরিস্তিতির পার্থক্য দেখাতে চেষ্টা করেছি ।
অবশ্য এই মন্তব্যের পরের মন্তব্যেই অন্যমনস্ক শরৎ এর একটি মন্তব্য মনে হয় আলোচনার জন্য নতুন খোরাক যোগায় ।
ব্লগের শিথিল রেজিষ্ট্রেশন সিস্টেম অবশ্যই একটি সমস্যা তবে সেটাই প্রধান সমস্যা নয়।
আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
মিরাজ: রাসেলীয় ধরণ বলতে যদি বোঝান যে তীব্র বিরোধিতার জন্য আপনি মা/বোন/বউ তুলে ুদি, ুকাই, মারি এইসব বলা, তাহলে সেই ইউনিক বৈশিষ্ট্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়, সেটা বিদ্যমান সামাজিক ট্যাবুর জন্য হোক আর সামাজিক মুল্যবোধের জন্য হোক। একটা ব্যাপারে আপনার বা রাসেলের কাছে জানতে চাই -
এখানে মনে রাখার মত বিষয় হল ব্লগের ঐতিহাসিকতা। আপনে যেভাবে রাসেলীয়র ইন্টারপ্রিটেশন দিলেন তা আপনার পাঠ। এমনটা আমার নয়। খুব জোরালোভাবেই নয়। তাহলে যে কেউ ট্যাগিং করণের জন্য ঝাপ দিব/আসলে দেয়। জাজমেন্ট/নৈতিকতার গল্পটাও এর মধ্যে ঢুকানো।
তবে আমি একটা জিনিস বুঝিনা, যখন প্রতিদিনকার জীবনে/রাজনীতিতে/ বুদ্ধিজীবিতায় আমরা রাজাকার/মৌলবাদী/বাম/ডান/ইত্যাদি সকল প্রকার নিয়া বসবাস করি তখন ব্লগে সেটা দেখলে আমাদের কোন মর্ষকামী চেতনা জেগে ওঠে। যেটা নিজের মতকে ওন করার গল্পকেও একসাথে ধারণ করে।
আপনাকে ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: শরৎ আমি রাসেলীয় যে ইন্টারপ্রেটেশন দিলাম তা আমার পাঠ নয়, আপনার মন্তব্যের সূত্র ধরে বলা। আমি একটা সিদ্ধান্তে পৌছাবার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমান রাসেল পড়িনি এবং তার সাথে আমার ইন্টারএ্যাকশনও খুব বেশী হয়নি। আশা করি এতে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে।
আপনার মন্তব্যের দ্বিতীয় অংশ আমারও প্রশ্ন, উত্তর খুজি তবে এখনো পাইনি ।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ ।
বাকী বিল্লাহ বলেছেন:
ইতিহাস যে এরকম বর্তমানের শত্রু হয়ে দাড়ায় তা আগে কখনো দেখি নাই। কোন একটা আলোচনা চলতেছে, মার গুলি! দুইচার লাইন বাদেই ব্লগের পুরোনো ক্যাচাল/গ্রুপিং এ ঢুকে পড়। মিরাজ ভালোই লিখেছেন,বক্তব্যের পক্ষে যুক্তিও ভাল দিছেন। কিন্তু তেলতেলে কমেন্টগুলো দেখে যেভাবে আপ্লুত হয়ে উঠছেন তা একটু অশ্লীল মনে হচ্ছে।সাহিত্যে, ব্লগে বা ইন্টারেকশনে গালির একটা প্রতীকি তাৎপর্য আগে পরে সবসময়ই আছে। ব্যাপারটা এরকম, আমি দেশকে ভালবাসি মানে এইনা যে আমি দেশের শত্রু-মিত্র সবাইকে ভালবাসি। খেয়াল করতে হবে, শত্রু এবং প্রতিপক্ষ কিন্তু এক জিনিস না। প্রতিপক্ষের সাথে আমার সম্পর্ক বিতর্কের আর শত্রুর সাথে ঘৃণার।
ভার্চুয়াল শত্রুর প্রতি ঘৃণা প্রকাশের জন্য গালি ছাড়া আর কোন মাধ্যম আছে কি?
লেখক বলেছেন: বাকী বিল্লাহ কোন বক্তব্যের সমালোচনা করা মন্তব্যগুলিই যথার্থ এবং সপক্ষে দেওয়া মন্তব্য তেলতেলে, আপনার এই জেনারালাজাইশনে আমি খুব একটা আস্থাশীল নই। তবে এটা স্বীকার করতে হবে এই ব্যাপারে আপনার ইন্টারপ্রেটেশনে লজ্জা পেয়েছি ।
ব্লগে সিংহভাগ মানুষের ব্যক্তিগত জীবণাচারণের সাথে যেহেতু আমার পরিচয় নাই তাই আমি ভার্চুয়াল জগতে বন্ধু, বন্ধু নন তবে শুভাকাংখী, নিরপেক্ষ এরকম ব্লগারের বাইরে যারা আছেন তাদেরকে আমি মতাদর্শগত প্রতিপক্ষ মনে করি । ভার্চূয়াল জগতে শত্রু ব্যাপারটি আমার কাছে খুব বেশী আপেক্ষিক একটি ব্যাপার এবং এই কোন ব্লগারকে শত্রু ট্যাগটি দেবার জন্য খুব একটা উৎসাহী নই ।
তবে ব্যক্তিগত জীবনের শত্রুতা যদি ব্লগ পর্যন্ত এসে গড়ায় সেটি ভিন্ন ব্যাপার।
ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
মিরাজ ভাই,আপনার লেখার ভাবার্থের সাথে অনেকটুকুই একমত।
দ্বিমত প্রকাশ করছি যে অংশগুলোতে সেগুলোর দিকেই সামান্য আলোকপাত করার অপচেষ্টা করছি।
ব্লগের রাজাকার/ছুপা রাজাকার উপাধী নতুন কিছু নয়। মতের সাথে না মিল্লেই তাকে রাজাকার বলা হয় অনেক সময় যেটা আমি সমর্থন করছি না।
তবে অনেক সময়ই কিছু কিছু বরাহ নন্দন ইসলামের মুখোশ পরে প্রতিনিয়ত মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ, স্বাধীনতাকে অপমান করে লেখে যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে যুক্তি দেয়া হয়, দেয়া হয় প্রমাণ। তবুও তারা সেসন কাজে ক্ষান্ত দেয় না। আপনি নিজেওতো লিখছেন, সেগুলো কি ঐ সব বরাহ নন্দনদের লেখায় কোনো পরিবর্তন আনতে পেরেছে???
যখন যুক্তি/ আলোচনা কাজে আসে না কোনোক্রমেই সেইক্ষেত্রে আপনার ভুমিকা কি হবে ? আবারো যুক্তি প্রদর্শন !!
এসব ক্ষেত্রে মানুষের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া থেকে গালি চলে আসে। যেটা অনেকটুকুই স্বাভাবিক আমার কাছে। হয়তো সেটাই অস্বাভাবিক আপনার কাছে। ভার্চুয়াল পৃথিবীতে গালী দিয়ে অসহায় ক্ষোভে জ্বলতে ছাড়া কিছুই করার থাকে না।
কেউ যদি আপনার মাকে নিয়ে নোংরা কথা বলে সেক্ষেত্রে আপনার ভুমিকা নিঃশ্চয়ই আপোষমুলক হবে না। সেক্ষেত্রে যুক্তি প্রদর্শন !!
অনেক সময় অশান্তি ও যুদ্ধই শান্তির একমাত্র পথ থাকে।
লেখক বলেছেন: আমার দেশ মাকে নিয়ে কেউ নোংরা কথা বললে তার জবাবে তার বায়োলজিকাল মাকে নিয়ে নোংরা কথা বলার প্রেরণা আমি পাইনা। এখানে আপনার দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে আমার দৃষ্টিভঙ্গীর পার্থক্য আছে ।
আর আমি রাজাকারি চেতনার প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে গালিকে তো একেবারে খারিজ করে দেইনি, খেয়াল করুন কি বলেছি
বিরোধিতার বচনে যদি গালি ছাড়া আর কিছুই না থাকে, তবে তার কোন মূল্য দিতে আমি রাজি নই। গালি যে কোন প্রচলিত মতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়ার অনুষঙ্গ হতে পারে, প্রধান বক্তব্য হতে পারেনা।
আপনি যদি মনে করেন রাজাকারী/স্বাধীনতা বিরোধী/ প্রতিক্রিয়াশীল মতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য গালিই একমাত্র উপায়, লেখনীর কোন শক্তি নেই এখানে, তাহলে আপনার সাথে আমি একমত নই ।
তবে ব্লগে মুল সমস্যা হলো আমার দেশমাতাকে নিয়ে নোংরা কথা বললেই বা স্বাধীনতা বিরোধী কথা বললেই শুধু গালি দেওয়া হবে, গালি সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকদের এই আশ্বাসে আমি আস্থা পাইনা । আস্থা না পাবার মত যথেষ্ট কারন আছে বলেই আমি মনে করি।
গালি দেবার প্রয়োজনে শত্রুপক্ষের অন্তর্গত করার যে প্রয়াস সেটাও আস্থাহীনতার একটা বড় কারণ ।
হোসেইন বলেছেন:
আলোচনায় ফিরত আসলাম আরেকবার । এইবারে কথা না বাড়াইয়া এক্কেবারে সহজে আমার মতামতগুলো এইখানে লিস্ট কইরা রাইখা যাই ।১ .অশ্লীল লেখা এবং অশ্লীল সমালোচনা এক জিনিষ না । ( এটা আগেই কইছি )
২. যারে তারে ধুমাদ্দুম গালাগালি করাটা সমর্থন করি না।
৩. অনেক সময় তর্ক বা আলোচনা করতে ইচ্ছা না হইলে এড়াইয়া যাওয়াটা ভালো , তারে গালি দেয়া না ।
৪. ব্যক্তিগত আক্রমনের মাঝেও শিল্প থাকতে হয় । যেমন ধরা যাক , অশ্রুর কবিতাগুলো , এইগুলাকে এক বিচারে অনেকেই বলবেন পার্সোনাল এটাক , আমার দৃষ্টিতে এটা যদি তাই হয়েও থাকে তবুও এইটা শিল্প সম্মত ।
৫. আমি জামাত শিবিরের সাথে আলোচনায় উৎসাহী না কারন সেইটা থেকে কোন ফল লাভ হয় না । মিরাজ যদি একহাজার এক রাত্রি আলোচনা কইরাও একটা শিবিরের পুলারে তার সাথে একমত করাইয়া স্বীকার করাইতে পারেন যে গোলাম আযম-নিজামী-কামরুজ্জামান আসলে রাজাকার এবং এই সব নরঘাতকদের বিচার হওয়া দরকার , তাইলে আমি আমার বাম কান কাইটা স্ক্যান কইরা ব্লগে ছবি দেখামু ।
কিন্তু বাস্তবতা হইলো এই গুলার ব্রেন খুব ভালোভাবে ওয়াশড কইরা রাখা এবং এর পেছনে দিনারের ঝন ঝন আছে । সুতরাং সেইখানে গালির সাথে অন্য মালমশলা থাকার দরকার নাই । যারা এইখানে প্রিপ্ল্যান্ড ওয়েতে মুক্তিযুদ্ধের অবমাননা করতে আসে , তাদেরকে লাত্থি দিয়ে থামিয়ে দেয়া উচিত , যেহেতু লাত্থি দেয়ার কোন উপায় নাই , তাই গালিই ভরসা ।
এদের বাকস্বাধীনতা নিয়ে যারা প্যান প্যান করেন, তারাও এদের সমগোত্রীয় বলে মনে করি ।
৬ . গালি দিয়ে এদের থামানোর পাশাপাশি , মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নিয়ে আলোচনা এবং বিশ্লেষনের দরকার আছে । এতে করে নতুন প্রজন্ম বিভ্রান্ত হয় না , তাদের যাচাই করার জন্য কিছু সঠিক ইনফরমেশন থাকে । তাই ব্লগারদের উচিত বেশি বেশি করে এসব নিয়ে আলোচনা করা এবং ফ্যাক্টসগুলো বেশি বেশি করে প্রচার করা ।
৭ . বিলো দ্য বেল্ট গালি দেয়া উচিত না । কারো মা বাবাকে জড়িয়ে গালি দেয়া উচিত না ,উনারা এসে তো আর ব্লগিং করেন না । ( তবে এই ধারাটি কোন কুখ্যাত রাজাকার পুত্রের জন্য প্রযোজ্য না । )
লেখক বলেছেন: আপনার মতামতের সাথে খুব বেশী দ্বিমত নাই যা আছে সেটা হলো দৃষ্টিভঙ্গীগত পার্থক্য এবং ব্যক্তিভেদে এই পার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক।
আমার কাছে রাজাকারি/ প্রতিক্রিয়াশীল মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গালিটাকে খুব জুৎসই অস্ত্র মনে হয়না, এতে সাময়িকভাবে জয়ী হওয়া গেলেও সার্বিক বিচারে আমার মতাদর্শই ক্ষতিগ্রস্থ হয় বলে আমি মনে করি । তার চাইতে আপনি ৬ নম্বর পয়েন্টে যেটা বললেন
"মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নিয়ে আলোচনা এবং বিশ্লেষনের দরকার আছে । এতে করে নতুন প্রজন্ম বিভ্রান্ত হয় না , তাদের যাচাই করার জন্য কিছু সঠিক ইনফরমেশন থাকে । তাই ব্লগারদের উচিত বেশি বেশি করে এসব নিয়ে আলোচনা করা এবং ফ্যাক্টসগুলো বেশি বেশি করে প্রচার করা ।"
এই ব্যাপারটাই বেশী শক্তিশালী বলে মনে করি। শুধু মনে করি তা নয় কাজেও তাই করার চেষ্টাও করি, আমার ব্লগপোষ্টগুলি ঘাটলে আশা করি সত্যতা বুঝতে পারবেন।
আর বিভ্রান্তিতে থাকা লোক সব দলেই আছে, জামাত- শিবিরের মধ্যে সেই বিভ্রান্তিতে থাকা লোকের সংখ্যা আরো বেশী। তাই মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, দলিলপত্র, যুদ্ধাপরাধের ইতিহাস, ফ্যাক্টস এইগুলিকে সামনে তুলে ধরে এগোলে সেটা গালি অপেক্ষা এদের বিভ্রান্তি নিরসনে অনেক বেশী কার্যকর বলেই মনে করি ।
আপনার মতামতের বাদ বাকী অংশের সাথে দ্বিমত নাই এবং এটি বাস্তবায়ন করা গেলেও সামহোয়্যারইন ব্লগের বর্তমান অসহনীয় অবস্থার উত্তরণ ঘটানো যেত ।
আপনাকে আবারও ধন্যবাদ সু-চিন্তিত মতামতের জন্য ।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
যে সব পোষ্ট অনর্থক বিভিন্ন হাদিস, কোরানের আয়াত out of context তুলে দিয়ে যারা ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে দেয়া হয়, ধর্মানুভুতিতে আঘাত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে চটি বইয়ের ভাষা ব্যবহার করা হয় মোহাম্মদ (সা: ) এর নামে বা অন্য কোন ধর্মের কোন প্রবর্তকের নামে, সেই সব পোষ্ট সামহোয়্যারইন এ দেখতে চাইনা ।এগুলি ব্লগের পরিবেশ উস্কে দেয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে করা । কর্তৃপক্ষকে এগুলি বোঝার ক্ষমতা থাকতে হবে।
এরা কোনভাবেই চায়না যে ব্লগ সাইটটা দাড়াক। ধর্মের মাধ্যমে উস্কানো সহজ তাই এরা এখন সহজ পন্থাটিই বেছে নিয়েছে ।
আর কর্তৃপক্ষের যদি মেরুদন্ড না গজায় তাহলে সেই সাইটে লেখার কোন অর্থ হয়না ।----------------------------
---------------------
জনাব মিরাজ এটা আপনার লেখা পোষ্টের অংশ- এটাই আপনার অবস্থান বর্ণনা করছে- এটা যদি মানতে রাজী থাকেন- তাহলে আমার প্রশ্নের উত্তরটা দেন একটু-
এইখানে সুশীলতা- গালাগালি- বক্তব্য প্রকাশ- ধর্মীয় অনুভুতি- অনেক ফেনা তুলে লাভ নেই-
আপনার সাথে আমার যেখানে বিরোধিতার অবস্থান সেটা পরিস্কার না করে আলোচনা করা বাস্তবসম্মত না-
গালাগালি ব্যক্তি আক্রমন কিংবা তথাকথিত ধর্মীয় ম্যূল্যবোধ আহত করে ব্লগের পরিবেশ নষ্ট করবার চাহিদা থেকে নয় বরং বক্তব্যটা স্পষ্ট করে বলি- আমার যদি বিশ্বাস হয় কোনো ধর্মপ্রচারক একটা বাঞ্চোত সেটা বলবার স্বাধীনতা আছে কি না- কিংবা আমি সেই স্বাধীনতা ধারণ করি কি না?
আর যদি আপনার অবস্থান হয় ঠিকাছে আপনি কৃষ্ণলীলা বলেন- ধর্ম নিয়ে ইতং বিতং করেন- তবে এমন কোনো আপত্তিকর কথা বলবেন না যেটা আপনার সুশীল অনুভবে কিঞ্চিত সুরসুরি দেয় তাহলে এইখানে প্যাঁচাল চোদানো অকারণ-
আপনি সাথে সাথে একটা বিশাল বক্তব্য দিছেন- ভালোই দিছেন কইতে হয়-
রাসেল, ধর্মকে আক্রমণ করে দেয়া পোষ্ট আর ব্লগের গালিগালাজ আর অশ্লীলতা নিয়ে যে আলোচনা তা এক নয় । তাই ব্লগীয় গালিগালাজ আর ধর্ম বা ধর্মগুরুরে আক্রমণ করা গালিগালাজ কে এক আলোচনায় রাখতে চাইলে আমি দু:খিত । এই আলোচনায় আমি আগ্রহী নই ।
কারো ধর্মবিশ্বাস নিয়ে আমার কোন সমস্যা নেই, কে আস্তিক আর কে নাস্তিক তা আমি জানার আগ্রহও বোধ করিনা এবং তা কোন কারনে জানা হলেও তা আমার তার সাথে সম্পর্ক বা আলোচনায় কোন প্রভাব ফেলেনা। ধর্মকে আমি ব্যক্তিগত জীবণাচারণের অংশ মনে করি যেটা মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার । তাই ব্লগে ধর্মীয় আলোচনায় কখনোই উৎসাহ পাইনা ।
----
এখন কথা হইলো আপনার উৎসাহ পাওন কিংবা না পাওনের গল্প এইখানে নাই- এইখানে অনেক বক্তব্য আছে যা আপত্তিকর- তবে আপনার প্রতিক্রিয়া সেইখানে নাই- একটা উদাহরণ দেই-
রাসেল ( ........) বলেছেন:
একটা লেখা আসছিলো গতকাল সম্ভবত- নারীরা শষ্যক্ষেত্র বিষয়ক ব্যাখ্যা- যেখানে এই আয়াতের উদ্দেশ্য বলা হয়েছে- সঙ্গমের রীতিতে সামনে কিংবা পেছন দিয়ে মিশনারী কিংবা ডগি স্টাইলে করা জায়েজ এই নিয়ে বিতর্ক- এবং এটার অবসান করেছেন ইশ্বর এই আয়াতের মাধ্যমে-এখন শব্দগুচ্ছ তোমাদের যেভাবে ইচ্ছা গমন করো এটা কি যথেষ্ট আপত্তিকর মনে হয় না? এখানে একটা ব্যক্তি মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা নেই- নারীরা নিছক যৌনদাসী- তাদের যখন যেভাবে খুশী সম্ভোগ করা যাবে- এ ক্ষেত্রে তাদের সম্মতি- আগ্রহ কিংবা বিবেচনার কোনো জায়গাই নেই- যদি এই জায়গাটাকে আনার যথেষ্ট অশালীন মনে না হয় তবে আপনার মতো চুতমারানির সাথে ব্যাক্তি স্বাধীনতা এবং উচ্চারণের স্বাধীনতা- ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন এবং স্টাইল অফ এক্সপ্রেশন নিয়া প্যাঁচাল চোদানো অহেতুক সময় নষ্ট- এইটা পুটকি চুইদ্যা মাল ফেলানোর মতোই আকাম-
মিরাজ বলেছেন:
রাসেল, আপনার সর্বশেষ মন্তব্যের পর আপনার সাথে আলোচনা চালাতে চাইনা। এটা আমার সীমাব্দ্ধতা এবং সেটি স্বীকারে আমার দ্বিধা নেই। যতটুকু আলোচনা হয়েছে তার জন্য ধন্যবাদ এবং আপনার সময় নষ্ট করার জন্য দু:খিত। আপনার কাছ থেকে এ ব্যাপারে আর মন্তব্য আশা করছিনা।
মিরাজ, আপনি তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আপনার একটা ইন্টারভিউ করিতে চাই আমি। আশা করি সম্মতিদানে বাধিত করিবেন।
লেখক বলেছেন: জনাব, আপনার এইসব নাটুকেপনা অন্যত্র করিলেই খুশী হইব। ভুল জায়গায় আসিয়া পড়িয়াছেন তাই এইখানে আর না আসিলে আরও খুশী হইব।
মিরাজ বলেছেন:
ব্লগের সাম্প্রতিক ঘটনাসমুহের প্রেক্ষিতে একটি দরকারী এবং প্রাসঙ্গিক আলোচনায় অংশ নেবার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ।
---------------
সমাজের চেহারার উপর অনেক কিছুকে আরোপিত করে দেয়া হচ্ছে যেটা ব্লগকে আরো সমাজ বিচ্ছিন্ন করছে ।
------------------------------
আমার মনে হয়না আরোপিত কিছু আছে ... এটাই স্বাভাবিক চেহারা ... বাস্তব সমাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার একটা ব্যাপার আছে বলে আমরা সেই চেহারা দেখতে পাইনা ... কিন্তু মানুষ ভেতরে ভেতরে ঠিকই অনেককিছু বোধ করে ... যেমন উদাহরন দেই, একবার কমলাপুর রেলওয়ে মাঠে সাঈদির ওয়াজ হবে ... তো বিকালে মতিঝিল কলোনীর তরুনরা দলমত নির্বিশেষে সবাই যে যা পারছে হাতে নিয়ে নেমে পড়েছে ... কমলাপুর স্টেশনের সামনের রাস্তা ঘেরাও ... এটা হলো স্বতঃস্ফুর্ত অনুভুতির প্রকাশ ... পরে পুলিশ আসাতে সবাই সরে গেছে ... কিন্তু একবার ভাবেন, পুলিশ না থাকলে কি হইত? ... সেইটাই সমাজের একটা প্রতিফলনই হইত ... পুলিশের আরোপে যেটা বাঁধাপ্রাপ্ত হইছে
আপনি বলেছেন,
---------------------------------
ব্লগের শিথিল রেজিষ্ট্রেশন সিস্টেম অবশ্যই একটি সমস্যা তবে সেটাই প্রধান সমস্যা নয়।
------------------
আপনি তাহলে একটা সমাধান দেন ... নীতিমালা করে লাভ আছে? ... একটা নিকরে কে সারাদিন পাহারা দিবে?.. একটা ব্যান করবেন, দশটা গজাবে ... আর এই ব্যান ব্যান খেলাই যদি চলতে থাকে ব্লগে তাহলে আপনি লেখার উৎসাহ পাবেন? ... ব্লগের শিথিল রেজিঃ নিয়মাবলীকে একশ্রেনীর ব্লগার এক্সপ্লয়েট করতেছে, এটা নিয়া কোনই সন্দেহ নাই ... কিন্তউ এটা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোন মাথাব্যাথা নাই ... তারা একমাসে পরপর মাথা চাগাড় দিয়া উঠে আসে ... একটা দুইটা পোস্ট আর নিকরে ব্যান করে ... হট্টগোল বাঁধে ... তাগোর হিট বাড়ে ... এতেই তারা খুশী ... এই যে দেখেন আপনে একটার পর একটা পোস্ট দিয়া যাইতেছেন "ব্লগের নীতিমালা কেমন হওয়া উচিত" টপিকে, একটাও রেসপন্স পাইছেন অথরিটি থেকা? এই পোস্টে ৭৫টা কমেন্ট পড়ছে ... কিন্তু তাদের খবর নাই
নীতিমালা প্রণয়ন করে কি হবে বলেনতো? আমি যদি না মানি, তাইলে আমারে ব্যান করবে? তারপর যদি আরেকটা নিকে রেজিঃ করে আবার না মানি, আবার ব্যান করবে? তারপর যদি আরো পাঁচটা নিকে ফাইজলামী শুরু করি, তাইলে? ... কোন শেষ আছে? ... নীতিমালা দিয়ে/ নীতিকথা শুনিয়ে কিছুই হবেনা ...
লেখক বলেছেন: জ্বিনের বাদশা, আপনার মন্তব্যের প্রথম অংশে যেখানে আপনি সমাজের সাথে ব্লগের সম্পর্ক দেখাতে চেষ্টা করেছেন সেই ব্যাখ্যার সাথে খুব একটা দ্বিমত নাই । বাস্তব সমাজের আইন শৃংখলার কারণে সামজের অনেক কদর্য রূপ প্রকাশ পেতে পারেনা, পুরোপুরি একমত। কিন্তু একটা পার্থক্য আছে সমাজে সেই কদর্য রূপটি যারা প্রকাশ করে বা প্রকাশ করার চেষ্টা করে তারা নিজেদের বীর হিসাবে দাবী করেনা কিন্তু ব্লগে ক্ষেত্র বিশেষে সেই দাবী করা হয়। এবং ব্লগাররা তাদের উপর আক্রমণের ভয়ে (যেহেতু তাদের রক্ষা করার জন্য ব্যবস্থা নাই) সেই স্বঘোষিত বীরদের কদর্য রূপের প্রকাশকে মেনে নেয় অথবা ব্লগে লিখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেনা।
২য় ব্যাপারটিতে আমি এখনো পুরোপুরি একমত নই। শিথিল রেজিষ্ট্রেশন একটা সমস্যা অবশ্যই মানি তবে সেটাই প্রধান সমস্যা নয়। আমার দৃষ্টিতে প্রধান সমস্যা হলো সুষ্ঠু নীতিমালা না থাকা এবং সেই নীতিমালা বাস্তবায়নে ব্লগ কর্তৃপক্ষের সক্ষমতার অভাব ।
একটা উদাহরণ দেই। বাংলাক্রিকেট অনলাইনে বাংলাদেশী কমিউনিটির একটা বড় আলোচনার স্থল। এখানেও কিন্তু রেজিষ্ট্রেশন নীতিমালা শিথিল। কিন্তু ফোরামে কি বলা যাবে আর কি বলা যাবেনা সেটা পরিস্কার এবং নীতিমালা এনফোর্স করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ সকল সময় সৎ এবং কঠোর। সাইটের হিট কখনোই কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করেনা। এর ফলে কিন্তু কেউ ফোরামকে এবিউজ করতে পারছেনা, একটা পরিচ্ছন্ন আলোচনার পরিবেশ আছে সেখানে (শুধু ক্রিকেট নয়, সব বিষয়ে) । বাংলাক্রিকেটে কেউ কাউকে অশ্লীল গালিগালাজ, রেসিষ্ট মন্তব্য করার কথা কল্পনাও করতে পারবেনা, কারন সে জানে একবার মাত্র তা করলেও সে ব্যানড হয়ে যাবে ।
কর্তৃপক্ষের মেরুদন্ড সোজা না থাকলে কোন নীতিমালাতে কাজ হয়না। শিথিল রেজিষ্ট্রেশনের পাশাপাশি এটাও এখানে একটা প্রধান সমস্যা ।
সমুদ্র বলেছেন:
আমার কমেন মুসতে হৈলে রাসেলেরটাও মুসতে হৈবে
মিরাজ বলেছেন:
সমুদ্র আপনার মন্তব্যটি মুছতে হলো । আমি কেন রাসেলের সাথে আলোচনা আগাতে চাইনি সেই ব্যাপারটি পরিস্কার করার জন্য রাসেলের মন্তব্যটি রাখতে হচ্ছে । ভাই গালিগালাজ কোন সমাধান নয় । আপনি যদি আমার আলোচনার পক্ষে থাকেন তাহলে আমার প্রতিপক্ষকে গালিগালাজ করলে তা আমাকে আরো দুর্বল এবং বিব্রত করে ।
"কিন্তু একটা পার্থক্য আছে সমাজে সেই কদর্য রূপটি যারা প্রকাশ করে বা প্রকাশ করার চেষ্টা করে তারা নিজেদের বীর হিসাবে দাবী করেনা কিন্তু ব্লগে ক্ষেত্র বিশেষে সেই দাবী করা হয়। "
আমি কিন্তু মনে করিনা সমাজে ারোপ করে শুধু কদর্য জিনিসকেই ঢাকা হয় ... বরং স্বতঃস্ফুর্ত অনেককিছুকেই ঢাকা হয় ... সমাজে অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের মুখবন্ধ রাখতে হয় ... সেইটা থেকাই কিন্তু এই অনলাইন মতপ্রকাশটা এত জনপ্রিয়তা পাইছে ... কারণ, আমি মনে করি সাঈদিরে ঘেরাও করাটা ঐদিন কদর্য ছিলনা, বীরসুলভই ছিল ...
আর আপনি বাংলাক্রিকেটের যে উদাহরনটা দিলেন, ঐখানে তো আর মানুষ রাজনীতি নিয়া কথা বলেনা ... আজকে ঐখানে কেউ যদি বারবার নিক রেজিঃ কইরা আজেবাজে কথা লেখা শুরু করে তখন আপনি কি করবেন? ... অবশ্যই নিক রেজিঃ রে টাইট দিবেন ... ঐখানে কেউ যদি জামাতী প্রচার শুরু করে, আর অন্যান্যরা যদি টের পায় তাইলে ঐখানেও গালাগালি শুরু হবে --এইটা কনফার্ম
আপনি কি মনে করেন যে নীতিমালা লেখা থাকলেই মানুষ তা মানবে? ... কেউ কি মানছে? ... সামহোয়ারইতো ভাল উদাহরন ...
লেখক বলেছেন: সাঈদীকে ঘেরাও করাটা বীর সুলভ হলেও রাস্তায় পথ চলতে কোন মেয়েকে ওড়না ধরে টান দেয়াটা বা তাকে অশ্লীল ইঙ্গিত করে কথা বলাটা কিন্তু বীরসুলভ নয়। এটা নিশ্চয়ই মানেন । এখন যদি অনলাইনে সেই রকম বিকৃতি প্রকাশের মতপ্রকাশকে বীরসুলভ বলতে হয় তাহলে আমার পরিস্কার দ্বিমত আছে এ ব্যাপারে ।
বাংলাক্রিকেটে মানুষ রাজনীতি নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনা করে। শুধু দেশীয় রাজনীতি নয়, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলের বিভিন্ন রাজনীতি, স্পর্শকাতর ধর্মীয় বিষয় এগুলি নিয়েও আলোচনা হয় । ফরগেট ক্রিকেট নামে একটা ফোরাম আছে শুধু এগুলি আলোচনার জন্য ।
তবে এটা ঠিক যে নীতিমালা লেখা থাকলেই মানুষ মানবেনা, সেটা মানা নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা এবং সক্ষমতা থাকতে হবে ।
স্যরি, আমি বাংলাক্রিকেট নামটা শুনেই ধারনা থেকে বলে ফেলেছি ... তারমানে আপনারা ভাল নজরদারি করেন ... কিন্তু সামহোয়ার শিথিল রেজিঃ পদ্দঃতি রেখে কচ্ছপের মতো মাসে একবার মাথা তুলে তাকায় ...
"তবে এটা ঠিক যে নীতিমালা লেখা থাকলেই মানুষ মানবেনা, সেটা মানা নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা এবং সক্ষমতা থাকতে হবে । "
এখানেই সমস্যা ... সামহোয়ারের এই হোমপেজ থেকে কোন আয় হয় কিনা জানিনা ... তবে তারা এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য লোকনিয়োগ না দিলে নীতিমালা কে মানাবে সেই প্রশ্নটা থেকেই যায়।
লেখক বলেছেন: আমি বিশ্বাস করি নীতিমালা এবং তার সঠিক প্রয়োগ দিয়ে একটা অনলাইন কমিউনিটিতে মেয়েদের উত্যক্ত করার মত বিকৃতি রোধ করা সম্ভব ।
আপনার শেষ প্রশ্নটা আমারও ।
অনেক ধন্যবাদ আলোচনার জন্য ।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
মিরাজ,
আপনার পোস্ট এবং অনেকের আলোচনা দেখলাম।
এই পোস্টের প্রায় পুরা অংশই আমার পোস্টে কমেন্ট আকারে তুলে দিয়েছিলেন- ভূমিকার আরো চারটি প্যারার পর। তাই ওখানে যেসব কমেন্ট করেছি- আপনাকে উদ্দেশ্য করে- সেসবই এখানে তুলে দিচ্ছি।
তবে- আপনার পোস্ট ও অনেকের কমেন্ট পড়ে মনে হয়েছে- আপনারা আমার মূল পোস্ট ভালো করে না পড়েই অযথাই বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করেছেন, এবং সেটা অনেকটা হাস্যকর ভাবেই করেছেন।
ইলিয়াসের আলোচনা কিভাবে এসেছে- সেটি আমার পোস্ট আরেকবার পড়লেই মনে হয় ক্লিয়ার হবে আপনার। কিন্তু কি কি যে লিখে বসলেন- এবং আপনার প্ররোচনায় একজন তো বলেই বসলো- পণ্ডিতি করতে গিয়ে ইলিয়াসের আলোচনা এনেছি!!!!
গ্রাম-বাংলার লোকের ভাষার কথা বলে যারা গালিকে যাস্টিফাই করতে চান- তাদের বিপক্ষে আমি দুই/তিন প্যারা যুক্তি করলাম- অথচ, আপনি আমার করা যুক্তিগুলোই আমার বিরুদ্ধে যুক্তি হিসাবে উপস্থাপন করলেন- এবং আপনার এক গুনমুকগ্ধ অন্ধ অনুসারি আমার মূল পোস্ট না পড়েই- কমেন্ট করে বসলো- ইলিয়াসকে না-কি ব্যবহার করেছি, গালির পক্ষে যুক্তি দিতে এবং একাজ গ্রামের মোল্লাদের ধর্মকে ব্যবহার দোররা মারার মতই কাজ হয়েছে- আপনি সমস্বরে একমত হলেন!!!!!!
এই হলো- আপনাদের মত সুশীলদের ব্লগিং, এই হলো আপনাদের ভালোমানুষিতা!!!!!!!!!!!!
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
প্রথমে সারওয়ার চৌধুরীর একটি কমেন্ট ও তার জবাবে আমার কমেন্ট তুলে দিচ্ছি- মনে হয় রিলেভেন্ট হবে সেটাঃ২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৩১
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:
'যারা গালি-বর্ষণ করে, তারা নির্বোধ প্রকৃতির, এবং তারা গলার জোরেই নিজ মতকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় বলেই নির্বোধ।'-একমত
'কেউ কি ভেবেছেন এসব কেন গালি হবে?? যৌনাঙ্গ তো সবারই থাকে- তাই বলে সেটা কেন গালি হবে- কই হাত, পা, মাথা এসব তো গালি নয়? যৌন-ক্রিয়াও তো মানব জীবনের একটি স্বাভাবিক ক্রিয়া, তাহলে তোমার সাথে সেক্স করবো- এটির বিভিন্ন কথ্য রূপ কেন ভয়াবহ গালি?? '- সোজা উত্তর, ট্যাবু বা সংস্কার বা মুল্যবোধ বা দৃষ্টিভঙ্গি বা রুচিবোধ। আচ্ছা বলতে পারবেন পৃথিবীতে এমন কোন সভ্য মানুষ আছে যে তার বন্ধুকে বা ভাইকে জিগ্যেস করবে স্বাভাবিকভাবে-'কি রে আজ কি তুই আর তোর বউ চু..... করেছিস?' করে না। কেন করে না? জনসমক্ষে এভাবে বলা বিশ্রী।
আর গালিগালাজ প্রসঙ্গে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সাহিত্য কর্ম তুলে ধরা অপ্রাসঙ্গিক। কেননা, তিনি চরিত্র চিত্রায়নে যেটুক তুলে এনেছেন প্রান্তিকজন থেকে সেটার যৌক্তিকতা আছে। কিন্তু এখানে আমরা গালি প্রসঙ্গে বলছি। ইলিয়াস গালি দেন নি বা গালির পক্ষেও বলেন নি।
২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:২২
লেখক বলেছেন:
কমেন্ট করার আগে পোস্ট ভালো করে পড়ে বুঝে তারপর কমেন্ট করা উচিত। ইলিয়াসের আলোচনা আনার প্রাসঙ্গিকতা সেখানেই- অনেক সুশীল ব্লগার - চ-বর্গীয় শব্দ নিয়েই একধরণের এলার্জিতে ভুগে। শেষের দিকে- তার কারণ উদঘাটন করার চেস্টা করেছি। ইলিয়াসের 'চুতমারানি' শব্দটি তাদের কেমন লাগে সেটাও দেখা দরকার মনে হয়েছিল।
আমার পোস্টের মূল কথা- কিন্তু অহেতুক গালির বিরুদ্ধে সেটা চ-বর্গীয় শব্দ ব্যবহার করেই হোক- আর খুব ভদ্র গোছের শব্দ ব্যবহার করেই হোক।
আবার ক্ষোভের বহিপ্রকাশ হিসাবে যখন গালি ব্যবহার করে- তখনও বিচার টি একইরকম হওয়া উচিত নয়- এসবই বলতে চেয়েছি আমার পোস্টে।
সারসংক্ষেপ বলতে গেলে এভাবে বলা যায় ইলিয়াসের ভাষাতেই- শিল্প/সাহিত্যে চুমুর একটি চিত্রায়ন অশ্লীল হতে পারে যদি তা অপ্রয়োজনীয় হয়- যেকারণে বাংলা সিনেমা অশ্লীল, কেননা সেখানে অহেতুক নায়ক নায়িকাকে জড়িয়ে ধরে। আবার অন্যদিকে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সের একটি ডিটেইল এক্সপ্রেসনও শ্লীল হতে পারে- যদি তা প্রয়োজনীয় হয়।
ইলিয়াসের উদাহরণ বারবার আনছি এ কারণে যে- বিষয়টি সম্পূর্ণতায় বুঝতে সহযোগিতা হতে পারে। আপনি যে প্রশ্ন করেছেন- সেটি শ্লীল/অশ্লীল কি-না তাও নিরূপিত হবে প্রয়োজনিয়তার উপর। আপনার বন্ধুর যৌন-ক্রিয়ার খবরাখবর যদি আপনার জন্য অপ্রয়োজনীয় হয়- তবে তা অবশ্যই অশ্লীল। কিন্তু আপনি যদি একজন গাইনী ডাক্তার হন- বা যৌন চিকিতসক হন- তখন আপনার বন্ধুর কোন সমস্যায় চিকিতসা পরামর্শ দিতে আপনার বন্ধুর যৌনক্রিয়ার বিষয়-আশয় জানা আবশ্যক হলে- না জানতে চাওয়াই অশ্লীল হবে।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আপনি আমাকে বলেছিলেন- "একজন আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ব্যবহারের উদ্দেশ্য এবং ব্লগে নানা জনকে উদ্দেশ্যে সেই সব ভাষার বিভিন্ন খন্ডাংশকে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যের পার্থক্য যদি বুঝতে না পারেন তাহলে আমার মন্তব্য অরণ্যে রোদন ছাড়া কিছুই হবেনা এবং সেক্ষেত্রে আপনার সময় নষ্ট করার জন্য দু:খিত"। এর জবাবে লিখেছিলাম-২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:৫৭
লেখক বলেছেন:
আসলেই মনে হলো- আমার সময় নষ্ট করেছেন!!!
আপনি কি আমার পোস্ট পুরো না পড়েই মন্তব্য করেছেন?? আমি এই পোস্টে খুব সচেতনভাবে দুধরণের ট্রেণ্ডকেই খণ্ডন করার চেস্টা করেছি- সেটি কি আপনার চোখের আড়ালে চলে গেল??
'মাগ' শব্দটি নিয়ে আমি নিজেই তো উদাহরণ দিয়েছি- আমি নিজেই তো বলেছি- এ সব শব্দসমূহকে যারা প্রান্তিকজনের ভাষা বলে যুক্তি দিয়ে অন্যকে গালি দেয়ার স্বার্থে ব্যবহার করে- তারা খণ্ডিত ভাবেই উপস্থাপন করে ও অপমান করে প্রান্তিকজনকে।
আমার কথাই আমার বিরুদ্ধে যুক্তি হিসাবে উপস্থাপন করা কতখানি সুবুদ্ধিজাত????
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৪
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
মিরাজ,
আপনি বলেছেন,-
"................সমাজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পুরুষ নারীকে নির্যাতনের ক্ষেত্রে যৌনতাকে ব্যবহার করছে এবং সভ্যতার ক্রমবিকাশের হাত ধরে নারীকে এইসব হিংস্রতা থেকে রক্ষার জন্যই বিভিন্ন সামাজিক বা ধর্মীয় ট্যাবুর উদ্ভব হয়েছে । এরপর পুরুষ যখন সরাসরি শারীরিকভাবে নারীকে আক্রমণ করতে পারেনি তখন আশ্রয় নিয়েছে যৌনতাকেন্দ্রিক বিভিন্ন শব্দের যা নারীর জন্য অবমাননাকর, এরপর এইসব শব্দকে সমাজে উন্মুক্ত ব্যবহারের বিরুদ্ধেও ট্যাবু গড়ে উঠেছে।....."
এখানে আপনি সমাজ বিকাশের ইতিহাসকে কিন্তু ঠিক তুলতে পারেন নি। আপনি মর্গান পড়েন, আপনি রেবতী বর্মন পড়েন অথবা নৃতাত্তিক অন্যান্য বইও পড়লে দেখবেন- মানব সমাজের প্রথম থেকেই কিন্তু নারীর উপর পুরুষ এধরণের একতরফা নির্যাতন চালায়নি। বরং আপনি দেখবেন- পুরষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার গোড়াপত্তনের আগে মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থাই এ দুনিয়াতে ছিল দীর্ঘকাল। নারীর উপর যখন পুরুষের কর্তৃত্ব স্থাপিত হলো- তখন থেকেই কিন্তু নারীর যৌন পবিত্রতা বা জন্মের বিশুদ্ধতা সংক্রান্ত মূল্যবোধ চালু করে নিতে হয়েছে সমাজব্যবস্থাকে।
আপনার মত হচ্ছে- নারীর প্রতি অবমূল্যায়নকারী বা ধর্ষকামী ঐ গালির বিরুদ্ধে ট্যাবু সৃষ্টি হয়েছে নারীকে এইসব হিংস্রতা থেকে রক্ষার জন্যই; আমি এইখানটাতেই আপনার সাথে দ্বিমত করছি। অনেকটা ডিম আগে না মুরগী আগের মত ডিলেমায় অনেকে পড়তে পারে- কিন্তু একটু চিন্তা করলেই প্রকৃত চিত্র পরিস্কার হওয়ার কথা।
আমি বলছি- এই মূল্যবোধ বা সংস্কার যখন মানুষের মাঝে প্রভাব বিস্তার করলো- তখনই কিন্তু এসব শব্দসমূহ বা বিষয় গালি হিসাবে স্থান পেলো। দেখুন- যে সময়টিতে মানুষের যৌনতা ছিল অবাধ ও স্বাভাবিক ঘটনা - সে সময়ে কি যৌনতা কোন গালি হতে পারে? এখনও যেসব জায়গায় বা যেসব ট্রাইবে মেয়েদের পলিগ্যামি একসেপটেড সেখানে কি কোন মেয়েকে চুতমারানী বা এ ধরণের কোন গালি থাকা সম্ভব? যেসময়ে বিয়ে নামের কোন ইনস্টিটিউশন ছিল না, সে সময়ে কি জারজ বা হারামির বাচ্চা বলে কোন গালি থাকা সম্ভব??
না-কি, যখন মানুষের মধ্যে সংস্কার বাসা বাধলো- মেয়েদের তাদের স্বামি ছাড়া কারো সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া যাবে না- তখনই মেয়েদের ক্ষেত্রে ঐ গালি প্রযোজ্য হলো- নষ্টা, ভ্রষ্টা .. ইত্যাদি, যখন বংশ গরিমা- বা রক্তের বিশুদ্ধতা সংক্রান্ত মূল্যবোধ সমাজে চালু হলো- তখন্ই তো জারজ, বাস্টার্ড এসব গালি হলো???
সেকারণে বলছিলাম- গালিগালাজ তো কিছু শব্দের বিষয়, কিন্তু এসবের পেছনে সমাজের যে চিন্তাটা বিরাজ করছে- সেটিকে ধরা অধিক জরুরি। আপনি আজ পর্যন্ত - চুতমারানী- হারামী- নষ্টা-ভ্রষ্টা এসবের বিপরীতে একইরকম সেন্স বহন করে পুরুষকে গালি দিতে পারে এমন কোন শব্দ পাবেন না। কেন? এর পেছনে সমাজ মানসিকতাটা গুরুত্বপূর্ণ।
এসব গালি আপনি তুলে দিতে পারেন- কিন্তু তা কি সমাজকে পাল্টাবে?? একজন পুরুষকে তার বিবাহবহির্ভুত কোন যৌন সম্পর্ককে যে দৃষ্টিতে সমাজ দেখে একজন নারীর ক্ষেত্রে কি একই ভাবে দেখে? এই দৃষ্টিভঙ্গি কি গালির বিরুদ্ধে ট্যাবু তৈরি হলেই পাল্টে যাবে???
আশা করি বোঝাতে পারছি।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫০ নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
মিরাজ,
আপনি বলেছেন,-
"......আসলে এখানেই মুল সমস্যাটি। অনেক সামাজিক ট্যাবু আছে যেগুলিকে অক্ষত রাখাটাই অনেক ক্ষেত্রে সভ্যতা এবং সামাজিক সহনশীলতা ও সমাজের সুষ্ঠুভাবে বেড়ে উঠার জন্য দরকারী। ট্যাবু শব্দটিকেই নেগেটিভলী নেবার কারণ নেই। অধিকাংশ ট্যাবুই গড়ে উঠেছে যৌনতাকন্দ্রিক সম্পর্ক এবং বিধিনিষেধকে কেন্দ্র করে। অবাধ যৌনতা সমাজ স্বীকৃতি দেয়নি দেখেই এইসব ট্যাবুর উৎপত্তি। ......"
".......এই ট্যাবু গড়ে উঠেছে মানুষের দীর্ঘ সময়ের বিবেচনাবোধ এবং সামাজিক বিবর্তনের ক্রমধারাবাহিকতায়। এখন আপনি যদি নারীর যৌনতাকেন্দ্রিক ট্যাবু সংস্কারের একই যুক্তিতে এই ট্যাবুকে যদি অক্ষত রাখতে না চান, তাহলে তা কিন্তু সামাজিক বিপর্যয়ই ডেকে আনবে। তাই শুধুমাত্র ট্যাবুকে আক্রমণ না করে সেই ট্যাবু সমাজ সভ্যতায় কি ভূমিকা রাখছে সেটা সর্বপ্রথমে বিবেচ্য হওয়া
উচিত। ......." ইত্যাদি।
------------------------------>
ট্যাবু বা সংস্কারকে আমি নেগেটিভলি দেখি। যদিও মূল্যবোধকে সবসময় নেগেটিভলি দেখাকে নির্বুদ্ধিতাই মনে হয়। এটা মনে করি- মূল্যবোধ অর্জিত হয়- মানুষের দীর্ঘ সময়ের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায়। ফলে- মূল্যবোধ যা মানব সমাজেরই একেকটি অর্জন তাকে ফু দিয়ে উড়িয়ে দেয়ার প্রয়োজন মনে করি না- কিন্তু সেই মূল্যবোধই যখন একসময় মানুষের মধ্যে অন্ধভাবে বাসা বাধে- মানুষের চিন্তা শক্তিকে ঢিলে করে দেয় এবং সমাজবিকাশের নিয়মকেই অস্বীকার করায়- তখন তাকে বলা হয় ট্যাবু বা সংস্কার। এটার মধ্যে কোন পজিটিভিটি খঁজে পাইনা।
সমাজ বিকাশের নিয়মটি এ ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই নিয়মটি হচ্ছে- কোন মূল্যবোধই চিরস্থায়ী নয়। সমাজের পরিবর্তনের সাথে সাথেই এটা পরিবর্তনশীল। এককালে যে মূল্যবোধ ছিল প্রচণ্ড প্রগতিশীল- এক পর্যায়ে তা-ই হতে পারে প্রতিক্রিয়াশীল। মূল্যবোধ যখন সংস্কার বা ট্যাবু হয়ে দাঁড়ায়- তখন সমাজ বিকাশের এই নিয়ম মনে থাকে না- পুরানো সেই মূল্যবোধ যতই প্রতিক্রিয়াশীল হোক- তা কে সহজভাবে গ্রহণ করতে হাজারো বাঁধা তৈরি হয়ে যায়। সেখানেই সমস্যা।
আমি একবারো বলিনি- সমস্ত মূল্যবোধই এ মুহুর্তে ত্যাগ করতে হবে। যা বলেছি- আজ আমাদের মাঝে যেসব ট্যাবু বা সংস্কার হিসাবে বাসা বেঁধেছে- যেহুলোর কারণে আমরা আমাদের চিন্তাশক্তিকে গণ্ডিবদ্ধ করে ফেলেছি- সেই ট্যাবু থেকে আমাদের চিন্তা-চেতনাকে মুক্ত করা প্রয়োজন।
আশা করি বোঝাতে পেরেছি। সারওয়ার চৌধুরির জবাবে লেখা কমেন্ট গুলো পড়লে আরো পরিস্কার হতে পারে।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
মিরাজ,
তবে, একটি বিষয়- যেটি এই পোস্টে আলোচনা তেমন করিনি- সেটা হলো ট্যাবুকে আঘাত করা।
ইতিহাস আরো আগের, কিন্তু- ৫০/৬০ দশক থেকে দুনিয়া জুড়ে শিল্পে- সাহিত্যে- ফিল্মে শিল্পী-সাহিত্যিকরা একটি কাজ করে গিয়েছেন খুব সচেতনভাবে। বাংলা সাহিত্যে তো এ ধারা এনেছিল হাংরি জেনারেশন মুভমেন্টের কর্মীরা, পাশ্চাত্যে বিট জেনারেশন- ফিল্মে গদাররা- সেটির মূল উদ্দেশ্য ছিল দুটি- সাধারণ গণমানুষকে অবিকল তুলে ধরা তাদের শিল্প মাধ্যমে- এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে- মানুষের সংস্কারের মূলে বিশেষত ট্যাবুকে আঘাত করা। এটিকে বলা হচ্ছে- "প্লানড ভায়োলেন্স"। শিল্প-সাহিত্যের এ ধারার পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত থাকলেও এর কিন্তু একটি বড় অবদান- শিল্প-সাহিত্যকে সো-কলড ভদ্রতার মুখোশ থেকে বের হতে সাহায্য করেছে।
ইলিয়াসও সে ধারার বাইরের ব্যক্তি নন। তিনিও সংস্কারের বিরুদ্ধে কথা বলে গেছেন নিরন্তর। তিনি বলেছেন, "আমি সেরকম সোসাইটি চাইছি যেখানে নারী পুরুষের সম্পর্কে কোনরকম বার থাকবে না।"
সেক্সের পেছনে যদি কোন ভ্যালু কাজ না করে তবে ব্যাপারটা অ্যানার্কি দাঁড়াবে কি-না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "প্রথম কথা হচ্ছে অ্যানার্কি কি চেইনের চেয়ে ভালো না? আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে আমরা সংস্কারকেই মূল্যবোধ মনে করি। বিয়েটাকে একটা ভয়ালু হিসাবে বলা হচ্ছে কিন্তু এটাকে আমি সংস্কারও বলতে পারি। বিয়েটাকে কি সামন্ত কি বুর্জোয়া সবাই দারুন গ্লোরিফাই করেছে কিন্তু পুঁজিবাদী সমাজে বিয়েটা তো অন্তত কুতসিত একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন একটা সোসাইটির স্বপ্ন দেখি সেখানে বিয়েটা কোন ইনস্টিটিউশন হবে না; একজন সভ্য নারী আর পুরুষের পরষ্পরের প্রতি যদি অনুমোদন থাকে, সেখানে তাদের মিলনে কোনো সংস্কার, অপরাধবোধ, পাপবোধ যেন বাঁধা হিসাবে না আসে,......"
আশা করি- আপনার ট্যাবু/ভ্যালু নিয়ে কথার একটা উত্তর পেয়ে যাবেন এর মাধ্যমে।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
এবারে আমার পোস্ট থেকে কিয়দংশ তুলে দিচ্ছিঃ
"...........অস্বস্তিবোধকারী সেই মিডিল ক্লাস বা সুশীলদের সম্পর্কে কিছু বলার আগে-মিডিল ক্লাসেরই আরেক ধরণের লোকদের সম্পর্কে একটু বলে নেই। যারা গালাগালি নিয়ে নানারূপ যুক্তি করতে গিয়ে বলেন- আমাদের গ্রামবাংলার ভাষা, আমাদের সাধারণ মানুষের ভাষা এসব খারাপ হবে কেন, যৌনতা জীবনের স্বাভাবিক অংশ- এটি নিয়ে কথা বললে অশ্লীল হবে কেন, এমনকি একবার এমন একটি পোস্টও দেখেছিলাম- 'মাগি' শব্দটি আমাদের মা-নানিরা মেয়ের প্রতিশব্দ হিসাবে ব্যবহার করেছেন- তা খারাপ হবে কেন.... ইত্যাদি।
........................
তবে- যারা নিজেদের গালির পক্ষে যুক্তি করে বলেন- এসব ভাষায় আমাদের দেশ-বাংলার লোকজন কথা বলেন, তাদের সম্পর্কেও মনে হয়- তারা কি আমার দেশের মানুষকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করছেন না? তাদের ক্ষেত্রেতো এ ভাষা শুধু গালি নয়- নর্মাল কথোপকথনের ভাষা, সাধারণ মনের ভাব প্রকাশেরও ভাষা, তারা রেগে গিয়েও যেমন বলে 'খানকি', আবার নিজেদের মধ্যে খোসগল্পের সময়ও হয়তো তার পছন্দের মেয়েটিকেই খানকি বলছে। তখন কিন্তু এই খানকি শব্দটি তার মূল অর্থ হারিয়ে অন্য একটি অর্থ ধারণ করেছে। অমোঘ অনলের এক মন্তব্যে দেখেছিলাম- তিনি বলছেন, ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর আঞ্চলিক ভাষার অভিধানে 'পাছা/গোয়া মারা খাওয়া' মানে ঠকা, প্রবঞ্চিত হওয়া, ধরা খাওয়া ইত্যাদি। এখানেও কিন্তু অর্থের পরিবর্তন ঘটেছে। একই ভাবে তারা যখন রেগে গিয়ে কাউকে 'চুদ'তে চায়- তার মানে এটা নয় যে- তার সেক্স করার ইচ্ছা থেকে সে এটা বলেছে- সে তার রাগের ভাবটি ঐ শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করেছে। কিন্তু প্রান্তিকজনের ভাষার দোহাই দিয়ে যারা এসব শব্দ ব্যবহার করেন- কাউকে গালি দেয়ার উদ্দেশ্যে- তখন মনে হয় এর মাধ্যমে আমার প্রান্তিকজনকে খণ্ডিত ভাবে উপস্থাপন করে তাদের অপমান করাই হলো (তারা তো প্রতিনিয়ত আমাদের হাতে অপমানিত হন, লাঞ্ছিত হন- কি সুশীল কি অসুশীল সবার হাতেই)। আর ঐ যে মজার যুক্তি মাগ বা মাগি নাকি আমাদের মা-নানিরা ব্যবহার করতেন!! এ সম্পর্কিত আমার কিছু স্মৃতি আছে। গ্রামে নানি- দাদিদের কাজের মেয়ে টাইপের মানুষদের 'মাগি-ধাগরি' বলার কথা মনে করতে পারি। সে সময়ে জেনেছিলাম- এই মাগ বা মাগি মানে মেয়ে, কিন্তু গালির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত। কিছুটা বড় হয়ে এ শব্দটিকে অন্য অর্থে ব্যবহৃত হতে দেখলাম। 'মাগির দালাল' তো নাটক-সিনেমাতেও ব্যবহৃত হয়- 'মাগি' শব্দটিকে প্রস্টিটিউট অর্থে ব্যবহৃত হতে দেখলাম। যাহোক, মনে হয়েছিল- যে ব্যক্তিটি এ শব্দের পক্ষে পোস্ট দিয়ে বলেছিলেন- এ আমার মা-নানিদের ব্যবহার করা শব্দ, তখন মনে হয়েছিল- মা-নানির ব্যবহার করা শব্দটিই তিনি তার মা-নানি-মেয়েকে বলতে পারবেন কি-না!!!!!
হাংরি জেনারেশন আন্দোলনের এক কর্মীকে অবশ্য যুক্তি করতে দেখছিলাম- সাহিত্য বাড়িতে মা-বোনের সামনে পড়তে পারলাম কি-না তার দ্বারা নিরুপিত হয় না- কেননা- মা-বোন কিরূপে একটি বিষয়কে গ্রহণ করবে তা সম্পূর্ণই নির্ভর করে ওনাদের মানসিকতা ও আমার সাথে তাদের রিলেশনের উপর। এটিকে মেনে নিয়েও মনে হয়- সাহিত্য করার উদ্দেশ্যে এসব শব্দরাজি প্রাসঙ্গিক মনে হলে আসতেই পারে কিন্তু- আরেকজনকে গালি দেয়ার ক্ষেত্রে এসব শব্দ ইউজ করে তার যুক্তি হিসাবে ওসব বলা নিতান্তই অপরিপক্ক চিন্তার ফসল।......"
-------------------->
মিরাজ,
আপনি কি আমার এ আলোচনা না দেখেই- না পড়েই এ পোস্ট লেখতে বসেছেন???
না-কি, দেখেও জাস্ট বিরোধিতা করার জন্য সেগুলোকে পাশ কাটিয়ে আমার বক্তব্যকে নিজের মত উপস্থাপন করেছেন!!!!!
আপনি কি জানেন না- গালিবাজি করার চেয়ে গালির কাজগুলো করা অধিকতর খারাপ???
এইযে অসত প্রাকটিসটি করলেন- তা কি আপনার বিভিন্ন আলোচনা- আপনার পেশা- আপনার শিক্ষাদীক্ষা- বিবেক বুদ্ধি এসবের সাথে খাপ খায়???????
মিরাজ বলেছেন:
নাস্তিকের ধর্মকথা আশা করি আপনার মন্তব্যগুলি দেয়া শেষ হয়েছে । এবার কিছু কথা বলি । প্রথমত: এই পোষ্টটি আপনার পোষ্টের প্রতিক্রিয়ায় দেয়া হলেও এর স্কোপ শুধুমাত্র আপনার পোষ্ট নয়। এখানে ব্লগের বেশ কিছু সাধারণ ধারণাকে সন্নিবেশিত করা হয়েছে যেটা আলোচনার দাবী রাখে এবং যা নিয়ে বিস্তর আলোচনাও হয়েছে । তাই এই পোষ্টের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করার জন্য আপনার পোষ্ট পড়াটা কোনো পূর্বশর্ত নয় । পোষ্টে প্রান্তজনের ভাষা, ব্লগীয় গালি, সোশ্যাল ট্যাবু নিয়ে আমার চিন্তাভাবনা স্বতন্ত্রভাবেই এসেছে যার ফলে এগুলি নিয়ে আলোচনা আপনার কাছে হাস্যকর মনে হলেও আমি তা মনে করিনা এবং আমার বিশ্বাস অধিকাংশ আলোচকও তাই মনে করেন না।
দ্বিতীয়ত - কাউকে কোন ব্যাপারে একিউজড করবার আগে যাচাই করে নেয়াটা সাধারণ শিষ্টাচার । আপনি একটি মন্তব্যে বললেন
---------------আপনার এক গুনমুকগ্ধ অন্ধ অনুসারি আমার মূল পোস্ট না পড়েই- কমেন্ট করে বসলো- ইলিয়াসকে না-কি ব্যবহার করেছি, গালির পক্ষে যুক্তি দিতে এবং একাজ গ্রামের মোল্লাদের ধর্মকে ব্যবহার দোররা মারার মতই কাজ হয়েছে- আপনি সমস্বরে একমত হলেন!!!!!!------------
---------------------------
আপনি কার কথা বলেছেন জানিনা তবে আপনার পোষ্টে এই সংক্রান্ত কোন কমেন্ট করিনি। আর যদি আপনি এই পোষ্টের আলোচনার ক্ষেত্রে বলে থাকেন তাহলে আপনি প্রারম্ভিব ভ্রান্তিতেই আছেন । এই পোষ্টে প্রান্তজনের ভাষা এবং গালি নিয়ে লেখা মন্তব্য এই পোষ্টের প্রেক্ষিতে করা, আপনার পোষ্টের প্রেক্ষিতে নয়। এখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই পোষ্টের বক্তব্য, আপনি নন ।
তৃতীয়ত: সোশ্যাল ট্যাবু নিয়ে আমার অবস্থান আমি পোষ্টেই যথেষ্ট ক্লিয়ার করেছি, সেটা নিয়ে মন্তব্যে আর কিছু বলার স্কোপ আছে বলে মনে করিনা । ট্যাবু নিয়ে আপনার অবস্থান আপনার পোষ্ট ছাড়াও এখানে করা মন্তব্যেও জানলাম। আমি আপনার ধারণার সাথে একমত নই এবং কেন একমত নই সেটি ইতিমধ্যেই ব্যাখ্যা করেছি ।
চতুর্থত : আপনি দুই পক্ষকেই উপস্থাপন করেছেন। আমি দুই পক্ষকে উপস্থাপনের চেষ্টা করিনি । আমার পক্ষ স্পষ্ট যেটি হচ্ছে ব্লগীয় ইন্টারএ্যাকশনে (ব্লগ রচনা বা সাহিত্য রচনায় নয়) যে কোন প্রকার গালিবাজির বিপক্ষে। আর সেজন্যই প্রান্তজনের ভাষার কথা এসেছে, ইলিয়াসের কথা এসেছে এবং তার সূত্র ধরেই ব্লগীয় গালিগালাজের কথা এসেছে । তাই এখানে আপনার কথাকে আপনার বিরুদ্ধে যুক্তি হিসাবে উপস্থাপনার প্রশ্নটি অবান্তর ।
পন্চমত : সবশেষ মন্তব্যে আপনি যে অসততার কথাটি বললেন সেটি আপনার সহনশীলতার অভাব মনে করি । এটা ধারণা করার কোন কারন নেই যে আপনার পোষ্ট না পড়ে আমি প্রতিক্রিয়া লিখেছি । এটা আপনার নিজস্ব ধারণা । আপনার পোষ্টে উপস্থাপিত বিষয়গুলি এই পোষ্টের আলোচনার উপজীব্য হিসাবে এসেছে কিন্তু তার মানে এই নয় যে এই পোষ্টটি আপনার পোষ্টের সব বিষয়কে ডিনাই করে । যে বিষয়গুলিকে সরাসরি ডিনাই করে (যেমন সোশ্যাল ট্যাবু) সেই বিষয়ে সরাসরি বিরোধিতা করেছি আবার কিছু ব্যাপার আছে যেখানে আপনার ব্যাখ্যার সাথে একমত হতে না পারায় ব্যাপারটিকে আমার চিন্তায় উপস্থাপন করেছি ।
আবারও আপনাকে একটি কথা বলবো, যেটি বুঝতে ভুল হবার কারনে আপনার বিভিন্ন ধারণার উদ্ভব হয়েছে।
এটি একটি আলাদা পোষ্ট যেখানে আপনার তোলা কিছু ব্যাপার নিয়ে আমার চিন্তাভাবনা প্রকাশ পেয়েছে কিন্তু সেই ব্যাপারগুলি শুধু আপনিই প্রথম তুলেননি । এর কিছু কিছু ব্যাপার এর আগেও ব্লগে এসেছে এবং এর সাথে ব্লগীয় গালিবাজির সম্পর্ক থাকায় এই ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে ।
এই পোষ্টের সকল আলোচনা কোন অবস্থাতেই আপনাকে কেন্দ্রিক নয় । এই সহজ সত্যটা বুঝতে পারবেন আশা করি ।
সবশেষে আপনাকে বলবো ধুমাদ্দুম কাউকে কোন বিশেষণে অভিহিত করার আপনার এই যে ট্রিগার হ্যাপি স্বভাবটি সেটি একটু পরিবর্তনের চেষ্টা করে দেখতে পারেন। এর আগে অনেকটা অ-প্রাসঙ্গিকভাবেই আমাকে ধর্মান্ধ, ভন্ড বললেন, আজবে অসৎ বলছেন। এই সবের খুব একটা প্রয়োজন নেই, এইসব অপ্রাসঙ্গিক বিশেষণের অযাচিত ব্যবহার কেবল আপনার ব্ক্তব্যকে আরো দুর্বল করে ।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
এই পোস্টেই একটু উপরের দিকে উঠুন-২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:২৬
ফারহান দাউদ বলেছেন: যে শব্দগুলিকে গালি হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে,সেটার উদ্দেশ্যটাই আসল কথা। উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তি আক্রমণ,সেটা যে শব্দ ব্যবহার করা হোক না কেন। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মত মহান সাহিত্যিক ঠিক এই কারণে প্রান্তিক ভাষা তাঁর লেখায় ব্যবহার করেছেন কিনা,সেটা যেসব পণ্ডিত তাঁর উদাহরণ টেনে এনেছেন,তাঁরাই বলতে পারবেন। এ যেন অনেকটা ধর্মকে ব্যবহার করে গ্রামের সুবিধাবাদী মোল্লার দোররা মারার মতই শোনাচ্ছে আমার কাছে। লেখাটার জন্য ধন্যবাদ,তবে কিনা,অরণ্যে রোদণেই শেষ হবে মনে হয়।
২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৪১
লেখক বলেছেন: এ যেন অনেকটা ধর্মকে ব্যবহার করে গ্রামের সুবিধাবাদী মোল্লার দোররা মারার মতই শোনাচ্ছে আমার কাছে।
--------------------------
তুলনাটি প্রাসঙ্গিক মনে হলো ।.................
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
মিরাজ,
আপনার জবাবটি পড়লাম। পড়ে আপনার সম্পর্কে যথেস্ট ধারণাও পেলাম। যাহোক- দেখুন আমার পয়েন্টগুলো ধরতে পারেন কি-না? (আপনার বলার অভ্যাস আছে- আপনাদের প্রশ্ন-উত্তর খেলা খেলতে রাজি নই.....ইত্যাদি, সেসব বলে চাইলে এড়িয়েও যেতে পারেন!!!)
১। আপনি আপনার এই পোস্ট শুরুই করেছেন এভাবে-
"(সম্প্রতি নাস্তিকের ধর্মকথা তার পোষ্টে যৌনতাকেন্দ্রিক গালি, সোশ্যাল ট্যাবু এবং প্রান্তিক জনপদের ভাষার সাথে গালির সম্পর্ক নিয়ে একটি পোষ্ট দেয়ায় এই পোষ্টের অবতারণা)"
২। আপনি আপনার পোস্টের মাঝখানেও বলেছেন- "....নাস্তিকের ধর্মকথার পোষ্টে আলোচনায় মনে হচ্ছে.........", "........ সেই জন্য তিনি বলছেন ........।"
৩। আপনি এই পোস্ট প্রায় পুরাটাই আমার পোস্টে কমেন্ট হিসাবে করেছিলেন। তারপর- সম্বোধন পরিবর্তন করে এই পোস্ট দিয়েছেন।
৪। এই পোস্টের শেষ প্যারাটি আমার পোস্টের কমেন্টে করেছেন এভাবে-
"একজন আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ব্যবহারের উদ্দেশ্য এবং ব্লগে নানা জনকে উদ্দেশ্যে সেই সব ভাষার বিভিন্ন খন্ডাংশকে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যের পার্থক্য যদি বুঝতে না পারেন তাহলে আমার মন্তব্য অরণ্যে রোদন ছাড়া কিছুই হবেনা এবং সেক্ষেত্রে আপনার সময় নষ্ট করার জন্য দু:খিত"।
সেটিকে পাল্টে এই পোস্টে লিখেছেন- ".......পার্থক্য যদি কেউ বুঝতে না পারেন তাহলে আমার এ বক্তব্য অরণ্যে রোদন ছাড়া কিছুই হবেনা এবং সেক্ষেত্রে আপনাদের সময় নষ্ট করার জন্য দু:খিত।"
৫। আপনি নিজেই আপনার কর্মকাণ্ড ও উপরে দেয়া ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করুন, হয়তো নিজের অপরাধ বুঝলেও বুঝতে পারবেন!!!
মানুষই তো ভুল করে।
আর, আপনি তো মানুষই,
তাল গাছটি আমার এ ধরণে গো না ধরে অপরাধ স্বীকার করলে- আপনার ক্ষতি হবে না। বরং ভুল স্বীকার করা কিন্তু মানুষের একটি বড় গুন। সকলে পারে না!!!!
লেখক বলেছেন: জনাব, আপনার আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে বেরিয়ে এসে চিন্তা করুন তাহলেই বুঝতে পারবেন । আমি আগেও বলেছি যে
"এই পোষ্টটি আপনার পোষ্টের প্রতিক্রিয়ায় দেয়া হলেও এর স্কোপ শুধুমাত্র আপনার পোষ্ট নয়। এখানে ব্লগের বেশ কিছু সাধারণ ধারণাকে সন্নিবেশিত করা হয়েছে যেটা আলোচনার দাবী রাখে এবং যা নিয়ে বিস্তর আলোচনাও হয়েছে ।"
আমি কখনই বলিনি যে এটি আপনার পোষ্টের প্রতিক্রিয়া হিসাবে দেয়া হয়নি, আর তাই সেটি পোষ্টে বলা হয়েছে।
আর এটি ব্লগের চলমান কিছু ব্যাপারকে ধারণ করা স্বতন্ত্র পোষ্ট হওয়াতেই সবার সাথে আলোচনার সুবিধার্থে সম্বোধনে পরিবর্তন এসেছে। "আপনি" এর জায়গাতে "কেউ" হয়েছে ।
আমি আপনাকে বোঝাতে পারিনি সেই দায়টুকু নিতে পারি। তবে যে অপরাধ আমি করিনি সেটা আমাকে দিয়ে স্বীকার করিয়ে নেবার জন্য আপনার যে প্রচেষ্টা তা দেখে হাস্যকর লাগলো । আপনি সব কিছু আপনার মতো করে ভেবে নিয়ে আত্মতৃপ্তি পেতে পারেন আমি তাতে দোষের কিছু দেখিনা।
যাহোক এই ব্যাপারে আপনার সাথে আমার আলোচনায় এখানেই সমাপ্তি টানতে চাই কেননা আমরা একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছি ।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আমি আমার কমেন্টেই বলেছি- আপনি চাইলে "আপনাদের প্রশ্ন-উত্তর খেলা খেলতে রাজি নই".....ইত্যাদি বলে এড়িয়ে যেতে পারেন। এবারো যদি মনে করেন- "আমরা একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছি"...ইত্যাদি বলে এড়িয়ে যাবেন- সেটাও আমার অভিরুচি।
কিন্তু- আপনার কোনো কমেন্টে অসংলগ্ন কিছু আমার চোখে ধরা পড়লে তো আমি বলবোই যতক্ষণ আমাকে ব্লক না করছেন (সেটাও আপনার অভিরুচি!!!!)।
১। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উদাহরণ কে টেনেছে?
কাকে দেখেছেন এই ব্লগে- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের কথা ও গালি প্রসঙ্গ একত্রে তুলেছে??
২। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমি কিন্তু আমার পোস্টে করা কমেন্ট সমূহ তুলে দিয়েছি। সেখানে সরাসরি আমার উদ্দেশ্যেই এসব কথা লিখেছেন। আপনি যতই যা বলেন- সাধারণ আলোচনা করা আপনার উদ্দেশ্য- এই পোস্টে হয়তো সাধারণ রূপ দিয়েছেন- কিন্তু প্রতিটি বাক্য প্রতিটি কথাই আমার পোস্টে আপনি আমাকে উদ্দেশ্য করেই লিখেছেন।
তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি আমার পোস্টেই আপনাকে এই কথাগুলো বলেছিলাম- সেটি এড়িয়ে যাচ্ছেন কেন??
৩। এই পোস্টে সাধারণ রূপ দিলেও আমার পোস্টের কমেন্টে আপনি আমাকে বলেছিলেন- ".. একজন আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ব্যবহারের উদ্দেশ্য এবং ব্লগে নানা জনকে উদ্দেশ্যে সেই সব ভাষার বিভিন্ন খন্ডাংশকে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যের পার্থক্য যদি বুঝতে না পারেন তাহলে আমার মন্তব্য অরণ্যে রোদন ছাড়া কিছুই হবেনা এবং সেক্ষেত্রে আপনার সময় নষ্ট করার জন্য দু:খিত"।
এটির ব্যাখ্যা কি??
এই বিষয়টি এড়িয়ে আপনি বারবার কেন বলছেন- এটা আপনার উদ্দেশ্যে নয়- সাধারণ আলোচনার উদ্দেশ্যে????
৪। আপনাদের মত সুশীল ব্লগারদের জন্য শুধুই করুনা!!!!!!!!!!
লেখক বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথা, আপনার সমস্যাটি আপনাকে আমি আগেও বলেছি । আপনি আপনার আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে নাছোড়বান্দার মত এক কথা বারবার বলতেন না।
আপনার কি মনে হচ্ছে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস আর গালি প্রসঙ্গটি আপনি প্রথম এনেছেন ব্লগে?? আপনার না জানা আপনাকে যা ইচ্ছা খুশী লেখার স্বাধীনতা দেয়না ।
খেয়াল করুন ফাহমিদুল হকের সাথে গত ১৪ই জানুয়ারী আমার কথোপকথন (আপনার পোষ্ট তার ৯ দিন পরে)
১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৬
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: উম্মু আব্দুল্লাহ ও পাখী@আমি বলেছি গালিতে আমার আপত্তি নেই, গালিসর্বস্বতায় আছে। তার মানে এই নয় যে, 'গালিবাজ'দের আমি অনুমোদন করছি। কিন্তু কখনো কখনো গালি অবলীলায় আসতে পারে।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের গল্পের পুরনো ঢাকার চরিত্রগুলো খুব গালি দেয়। কারণ ঐ অঞ্চলের মানুষ ঐভাবেই কথা বলে। ওখানকার কোনো তরুণ যখন বলে, "মাগীটা আমাকে খুব জ্বালাচ্ছে।" এর অর্থ হলো সে প্রেমে পড়েছে। ওর কথার লেভেল শুরুই ওখান থেকে।
১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৫
comment by: মিরাজ বলেছেন: @ ফাহমিদ ভাই,
গোষ্ঠীগত বা স্থানগত ক্ষেত্রে অনেক শব্দই গালি হিসাবে ব্যবহৃত হয়না যেমন পুরান ঢাকার ক্ষেত্রে আপনি "মাগী" শব্দটির উদাহরন দিলেন। কিন্তু সেই একই শব্দটি যদি এখানে কোন এক নারী ব্লগারকে উদ্দেশ্য করে বলা হয় তা নিশ্চিতভাবেই গালি হিসাবে বিবেচিত হবে । কারন যিনি দিচ্ছেন তিনিও পুরাতন ঢাকার মানুষের ভাষায় কথা বলেননা এবং যাকে দেওয়া হচ্ছে তিনিও না । একটি শব্দ কি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে তাই নির্ধারণ করে শব্দটি গালি হবে নাকি প্রান্তিক জনপদের ভাষার উদাহরণ হবে ।
তাই প্রান্তিক জনপদের ব্যবহৃত যে কোন শব্দই সু-নির্দিষ্ট প্রেক্ষিত ছাড়া ব্যবহার করা যায় না ।
১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৫৪
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: মিরাজ, আপনার উদাহরণটি যুৎসই, আমার বক্তব্য পরিস্কার করার জন্য তা কার্যকরী। আমিও দেখতে চাইবো পরিপ্রেক্ষিতটি, একজন ব্লগার কেন আরেকজনকে গালি দিচ্ছে।
সত্যি বলতে কি যেরকম অকারণ ও লাগামছাড়া গালাগালি মাঝে মাঝে দেখি. তা আমাকে করা হলে, আমিও ব্লগ ছেড়ে চলে যাবো। কারণ আমি প্রিয় বর্ণমালা দিয়ে শব্দ সাজাতে এসেছি এখানে, অন্যরা এই দুঃখিনী বর্ণমালাকে কীভাবে কাজে লাগিয়ে সৃজনশীলতায় ও বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজে নিজেকে ব্যাপৃত রাখছেন, তাও পড়তে চাইবো। কিন্তু এই বর্ণমালার অপব্যবহার আমারও সইবে না।
কিন্তু গালিকে যদি আপনি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেন, তবে শব্দের শক্তিকেও কিন্তু আপনি রুখে দিলেন। ধরুন আমিও ইলিয়াসের মতো এক গল্পে গালি ব্যবহার করতে চাই, সেটা এখানে দিলাম। কিন্তু আমাকে ব্যান করা হতে পারে।
আমি এই পোস্টের প্রথম কমেন্টেই বলেছি 'কিন্তু আপনার মতো আমিও মনে করি, ঐ দুইটা জিনিস গ্রহণীয় নয়।' এক হলো মুক্তিযুদ্ধ ও জাতিসত্তাবিরোধী মন্তব্য এবং নির্বিচার গালাগালি।
১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:০৭
comment by: মিরাজ বলেছেন: @ ফাহমিদ ভাই
আপনি যদি ইলিয়াসের মতো আপনার ভাবনার প্রকাশমাধ্যম হিসাবে প্রেক্ষিত ঠিক রেখে কোন শব্দকে ব্যবহার করতে চান তাহলে সেটা গালি হবেনা, হবে সেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাবনার প্রকাশ । তাই এখানে ব্যান বা কোন ব্যবস্থা নেবার প্রশ্নই আসছেনা ।
আশা করি আপনি আমার অবস্থান বুঝতে পারছেন ।
---------------------------------------------------------------------
আর এরও অনেক আগে ২৯ শে নভেম্বর ২০০৭ নিধিরাম সর্দারের একটি পোষ্ট
মুছে ফেলা হবে- শালীনতা সংগা কি?- আলোচনা ওপেন সবার জন্য
এ প্রান্তজনের মুখে মাগ/মাগী এইসব শব্দ নিয়ে এই পোষ্টের সাথে প্রাসংগিক অনেক কিছু আলোচনা হয়েছে ।
এই সব কিছুর প্রেক্ষিতেই আমি সাধারণ আলোচনার জন্য পোষ্টটি দিয়েছিলাম। আর না হলে আপনার ওখানে করা মন্তব্যই যথেষ্ট হতো ।
তাই না জেনে ইচ্ছামত মন্তব্য করবেন না প্লিজ।
আপনাকে এখন করুণাও করতে পারছিনা বলে দু:খিত।
এইবার প্লিজ থামেন ।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
মিরাজ,
আপনি আমার একটি সিলি প্রশ্নকে মূল করে তার বিশাল উত্তর দিলেন দেখলাম- এবং আসল জায়গাগুলোকে একই ভাবে এড়িয়ে গেলেন!!!!
আপনি যখন আমাকে সম্বোধন করে বলেন- ".. একজন আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ব্যবহারের উদ্দেশ্য এবং ব্লগে নানা জনকে উদ্দেশ্যে সেই সব ভাষার বিভিন্ন খন্ডাংশকে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যের পার্থক্য যদি বুঝতে না পারেন তাহলে আমার মন্তব্য অরণ্যে রোদন ছাড়া কিছুই হবেনা এবং সেক্ষেত্রে আপনার সময় নষ্ট করার জন্য দু:খিত"; তখন সেটাকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক না ধরার কোন কারণ দেখি না। আর এই পোস্টে আপনি একবারো জানাননি যে- এই আলোচনা অন্যত্রও হয়েছিল!!!!
যাহোক- এটা ঠিক যে- আমি ফাহমিদুল হকের সাথে আপনার ঐ আলোচনার কথা আগে জানতাম না, বা সেটা আগে আমার দৃষ্টিগোচরও হয়নি।
ফলে, ধরেই নিলাম- আপনি সাধারণ আলোচনা করার উদ্দেশ্যেই এই পোস্টে ইলিয়াসকে এনেছেন।
কিন্তু আমার পোস্টে আমাকে সম্বোধন করে যে একই কথা বলেছিলেন সেটার মাহাত্ম কি???
আর অন্যান্য বিষয়গুলো সম্পর্কেও যে চুপ করে গেলেন সেটির কারণ কি???
আপনি বলেছেন, পরিপ্রেক্ষিতের কারণে শব্দটি প্রশংসাসূচক হতে পারে। আমি বলি না। কারণ যে বা যারা এটিকে ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে তার কারণটি স্পষ্টত সামাজিক। সামাজিকায়ন প্রক্রিয়া এ রকম ভাবতে শেখায় যা বিদ্যমান ব্যবস্থা ও মুল্যবোধের পক্ষেই কাজ করে। আর সামাজিকায়ন প্রক্রিয়ার কারণে আমাদের দেশের নারীরা পরিবারে ক্রমাগত নির্যাতিত হয়েও মনে করে 'আমার ঘর আমার বেহেশত'। সুতরাং শব্দের নিজস্ব রাজনীতি ও সমাজতত্ত্বটাও বুঝা জরুরি।
আপনাকে আবারও ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মুনীর উদ্দীন শামীম আপনার সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য ।
আমি আপনার সাথে "মাগীকে আজ সুন্দর লাগছে" কথাটির প্রেক্ষিতের যে সমাজতাত্বিক এবং শব্দের উৎপত্তিগত যে ব্যাখ্যা দিলেন এবং তার ফলে শব্দটি প্রশংসাসূচক হতে পারেনা বললেন তার সাথে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করছি ।
প্রান্তিক জনপদের একজন সাধারণ নারী যিনি জন্মের পর থেকেই এই শব্দটির সাধারণ ব্যবহারের সাথে অভ্যস্ত তিনি কিন্তু শব্দটিকে তার ব্যবহারের প্রেক্ষিতের উপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত টানবেন এটি তাকে আহত করার জন্য বলা হয়েছে নাকি তাকে প্রশংসা করে বলা হয়েছে। তিনি কিন্তু শব্দটির সামাজিক ক্রমবিবর্তন বা উৎপত্তিগত অর্থের নিরিখ করবেননা কেননা এই ব্যাপারটিই তার অজানা । এবং যে বলছে সেও স্বাভাবিকতার মধ্যে থেকেই বলছে শব্দটির সমাজতাত্বিক ব্যবহারের ইতিহাস তারও অজানা । এটি তাদের জন্য অনুভুতির স্বত:স্ফূর্ত এবং স্বাভাবিক প্রকাশ।
এখন আপনার ব্যাখ্যার ভিত্তিতে বলি, সেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে কেউ যদি এই শব্দটির সামাজিক ব্যবহারের ইতিহাস, উৎপত্তিগত অর্থ নিয়ে সচেতন হোন, তা সেটা যেভাবেই আসুক (শিক্ষার মাধ্যমে, ভিন্ন একটি সমাজের সাথে ইন্টারএকশনের মাধ্যমে ইত্যাদি) তাহলে কিন্তু একই পরিপ্রেক্ষিতে শব্দটির ব্যবহার তার কাছে আপত্তিকর মনে হবে এবং তখন সেটি তার কাছে হয়ত আর প্রশংসা সূচক মনে হবেনা । সেই ক্ষেত্রে আপনার ব্যাখ্যা যথার্থ হবে ।
আশা করি বোঝাতে পারছি ।
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন:
মিরাজ স্যার,আপনার গালি বিরোধী আন্দোলন বহুলাংশে সফল। ব্লগে গালিগালাজ অনেক হ্রাস পেয়েছে।
গালিবাজ বিরোধী সংগ্রামে আমাকে সাথে পাবেন। আপনাকে সংগ্রামী অভিনন্দন।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
বিরাট আলোচনা, পড়তে অনেক সময় লেগে গেল। এজন্য মিরাজকে নিন্দা জানাই। গালি বিষয়ে আমার বক্তব্য এসে গেছে মিরাজ ও নাস্তিকের ধর্মকথার বিতর্কের মধ্য দিয়ে।
এই পোস্টে গালি বিষয়ে নানামুখী আলোচনা হয়েছে। কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ নিজের মতো করে পিক করবেন, অবশ্যই সদর্থকভাবে, আশা করি।
এরকম একটি পোস্টের জন্য শেষ পর্যন্ত ধন্যবাদই মিরাজের পাওনা।
লেখক বলেছেন: ফাহমিদ ভাই, এত দীর্ঘ আলোচনা কষ্ট করে পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ।
আপনি আলোচনার বহরের জন্য আপনার সময়ক্ষেপন হবার কারনে আমাকে নিন্দা জানালেও সেটাকে প্রশংসা মনে করে কাছে রাখলাম ।
আর সবশেষে ধন্যবাদ জানানোয় কৃতজ্ঞতা ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















