আমার প্রিয় পোস্ট
- কবিতার অভিমানের সময় - সুলতানা শিরীন সাজি
- তাহলে স্যাম মানেকশ-ই বাংলাদেশের স্রষ্টা? - ফারুক ওয়াসিফ
- গুগল বুকস থেকে বই ডাউনলোড করবেন যেভাবে - অনিকেত প্রান্তর
- নবীনদের জন্য - নাদান
- রাজনৈতিক জিঘাংসা ব্লগে- - অপ বাক
- গরুপ্রধান দেশে শুয়োরের ঘোঁত ঘোঁত শব্দে আমাদের তাল কেটে যায় - মৃদুল মাহবুব
- জোনাক ধরার কাচের বয়াম - মুয়ীয মাহফুজ
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং প্রাসঙ্গিক আইনের বিশ্লেষণ ( শেষ পর্ব ) - একরামুল হক শামীম
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- কপিরাইট মাজেজা আমি যেমনে বুঝি - অন্যমনস্ক শরৎ
- বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - সাত বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার জীবনী - রাগিব
- মানুষ একাকী এক মিথ - মৃদুল মাহবুব
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীকে নিয়ে কিছু কথা - অমি রহমান পিয়াল
- টুকুনের জন্য । - নরাধম
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌবনের দিনগুলি - বিবর্তনবাদী
- লাল গাড়ি আর লাল বালিকার গল্প - নিধিরাম সর্দার
- বিহংগের বয়কট - বিহংগ
- বাঙ্গালির আন্দোলনের স্লোগানমালা: '৫২ থেকে '৭১ (দ্বিতীয় পর্ব--'৬৯-'৭১) - ফারহান দাউদ
- একজন কীর্তিমান বাংলাদেশী : যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান আইটি সিকিউরিটি সলিউশন কোম্পানীর CIO এবং Senior Vice President হিসাবে নিয়োগ পেলেন ওমর ফারুক খন্দকার - মিরাজ
- তবুও তাহারা মৌন রহেন... - জামাল ভাস্কর
- কবিতা সমগ্র : উৎসর্গ নীলাঞ্জনা - অমি রহমান পিয়াল
- একজন জাকির হোসেন ও একটি রুখে দাড়ানোর গল্প - হাসিব
- তোরা সব বোকার দল, মরবি না তো কে মরবে - এহেছান লেনিন
- ফায়ারফক্স এর আকর্ষণীয় কিছু ট্রিকস...... - মানচুমাহারা
- জিজ্ঞাসার অন্তরালে - শেখ জলিল
- ম্যারিয়েটা, জ্যাক এবং অতঃপর ভ্যালেরী - সৈয়দ দেলগীর
একটি স্বপ্ন খুনের গল্প : দ্বিতীয় পর্ব - স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ শুরু
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:০০
(রাজনীতি বিমুখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং আরো দুএকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ তরুণী একটা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল । সেই তরুণ তরুণীদের অংশ হিসাবে কয়েকটি পর্বে তুলে ধরার চেষ্টা করব তাদের স্বপ্ন খুনের সত্য ঘটনা ) প্রথম পর্ব - স্বপ্নের শুরু
কি কি কাজ করা হবে এবং কিভাবে করা হবে তা ঠিক হবার পর আমরা সবাই মাঠে নেমে পড়লাম পরবর্তী প্রোগ্রাম শুরু করবার আগে । প্রথমেই ডাক্তারদের কাছ থেকে জেনে নিলাম বস্তিবাসীদের জন্য আমাদের কি কি ওষুধ বেশী দরকার । এরপর ঘুরতে শুরু করলাম বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীগুলিতে ওষুধ গুলি জোগাড়ের জন্য । দেখতে দেখতে বেশ ওষুধের বেশ ভালো দরের একটা স্টক দাড়িয়ে গেল । শুরু হলো নতুন উদ্যমে বস্তিতে সাপ্তাহিক (পরবর্তীতে মাসিক) চিকিৎসা সুবিধা দেবার কার্যক্রম ।
নাম পরিবর্তন
প্রথমে সাময়কিভাবে আমাদের সংগঠনের নাম "ষ্টুডেন্টস ফোরাম" রাখা হলও নাম নিয়ে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করলো । অনেকে একে "যুব ফোরাম" "ছাত্র ফোরাম" এর সাথে গুলিয়ে ফেলায় ঠিক হলো নাম পরিবর্তনের । কিন্তু সুবিধাজনক নাম পাওয়াতো দুস্কর । তারপর একদিন কার্জন হলের পরীক্ষা হলের সামনে মিটিং করতে করতে আমি প্রস্তাব করলাম Students Humanitarian Effort in Bangladesh এবং সংক্ষেপে SHEBA যেটি বাংলাতে উচ্চারণ দাড়াবে "সেবা" । যেহেতু আমাদের স্বপ্নে সমগ্র বাংলাদেশ ছিল এবং আমরা মুলত ছিলাম একটি মানবতাবাদী সংগঠন তাই নামটি কয়েকজনের আপত্তি সত্বেও টিকে গেল । সংগঠনের শ্লোগান ঠিক হলো "মানবতার সেবায় ছাত্ররাই অগ্রণী" ।
এবার অনেক গোছালোভাবে কাজ শুরু করলাম । সংগঠনের গঠনতন্ত্র ঠিক করা হলো । নতুন পরিপূর্ণ কমিটি গঠন করা হলো । আমি হলাম সভাপতি, প্রাণীবিজ্ঞানের ফারহানা রুমা হলো সাধারণ সম্পাদক, ফার্মেসীর সুজন সাহা হলো সহ-সভাপতি, প্রাণীবিজ্ঞানের নুরুল বাশার সরকার হলো ট্রেজারার, একই বিভাগের সুমি হলো দপ্তর বিহীন (আমরা তখন মাঠে ঘাটে মিটিং করি) দপ্তর সম্পাদক আর ঢাকা মেডিকেল কলেজের আয়েশা সানিয়া হলো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা বিষয়ক সম্পাদক। আমরা নতুন গঠনতন্ত্র আর কমিটি সায়ীদ স্যার, মনজুরুল ইসলাম স্যার, মোজাফফর স্যার, হাসান স্যার সবাইকে দিয়ে অনুমোদন করিয়ে নিলাম। এইবার শুরু হলো কাজে ঝাপিয়ে পড়া ।
বস্তিতে চিকিৎসা সুবিধা
প্রথমে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে শুরু করলেও পরে ডাক্তারের স্বল্পতায় আমরা বাধ্য হলাম মাসিক ভিত্তিতে কার্যক্রমটি চালাতে । ঢাকা মেডিকেল ও সলিমুল্লাহ মেডিকেলের কিছু ইন্টার্নি ডাক্তারদের আমাদের মতই নেশায় পেয়ে গিয়েছিল । দিনের পর দিন একের পর এক বস্তিতে যাচ্ছি । মানুষের সাড়া আর ভালবাসা দেখে আমাদের নিয়মিত কাদতে হয়, কত সামান্যে যে মানুষ খুশী হয় সেটা বলে বোঝানো সম্ভব নয় । একটা প্রোগ্রামের পর আমরা কয়েকজন মিলে ফলোআপে যাই । খোজ নেই গত প্রোগ্রামে আসা নতুন মা হওয়া কিশোরী মেয়েটির যে সন্তানটি পাচদিন ধরে জ্বরে ভুগছিল, ওষুধ দেবার পর সে এখন কেমন আছে? কিংবা সেই যে বৃদ্ধ চাচা যার প্রতি রাতে জ্বর আসে, এখনও কি তার জ্বর আসে? এই রকম হাজারো রোগী আমাদের আপনজন হয়ে যান । আমাদের দেখে মুখ আলো করে ছুটে আসেন । মুখের উজ্জলতা দেখেই বুঝি ভালো হয়ে গেছে, আবার কারো মলিন মুখ এখনও রোগে হয়তো কষ্ট পাচ্ছে । আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করে আবার কবে আসবো? ঠিক যেমন পরিবারের কাউকে জিজ্ঞাসা করছে ।
দেখা গেল বস্তিতে ৯০ ভাগ রোগ অপুষ্টি আর স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবে । কিছু কমন এন্টিবায়োটিক, গ্যাসের ওষুধ, প্যারাসিটামল এইজাতীয় ওষুধেই কাজ হয়ে যাচ্ছে । কয়েকটি বস্তিতে যাবার পর খেয়াল করলাম সব ছোট ছোট ছেলে মেয়ে পেটফোলা । পেট ভর্তি কৃমি । তারপর থেকে শুরু করলাম আলাদা করে কৃমির ওষুধ বিতরণ । এক একটি শিশু হাতে একটি কৃমির ওষুধ পেয়ে এমন করত যেন ওর হাতে একটা বিশ্বকে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে । ওষুধ গুলো একেকটা আলাদা স্ট্রিপের মধ্যে থাকতো আর খেতেও কিছুটা চকলেটের মত চুষে খেতে হয় । সেই দৃশ্য দেখে মনে হতো আহারে আমার অনেক টাকা থাকলে এদের প্রত্যেককে একটা করে বড় চকলেটের প্যাকেট কিনে দিতাম ।
মাঝে মাঝে অনিয়মিত হলেও পাচ বছর ধরে চললো আমাদের এই বস্তিতে যাবার কার্যক্রম । বন্ধ হলো স্বপ্ন খুন হবারও এক বছর পরে ।
এসিড নিক্ষেপের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি
প্রথম আলো তখন এসিড নিক্ষেপের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টিতে দেশব্যাপী কার্যক্রম চালাচ্ছে । আমরা যোগাযোগ করলাম প্রথম আলোর সাথে । তখন এই ব্যাপারটি দেখছেন সুমনা শারমীন আর আনিসুল হক । দীর্ঘ আলাপ হলো তাদের সাথে । তাদের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে যোগাযোগ করলাম এসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশনের মনিরা রহমানের সাথে । আমরা শুরু করলাম আমাদের মত করে কর্মসূচী । আমরা এসিড নিক্ষেপের ভয়াবহ দিক তুলে ধরে একটা লিফলেট ছাপালাম । তারপর একটা ব্যানার লিখে শাহবাগ, প্রেসক্লাব (তখনও প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করা যেতো) এর সামনে মাইকে এসিড নিক্ষেপের ভয়াবহতার ব্যাপারে কথা বলে সামনে দিয়ে যাওয়া রিকশা আর বাসের যাত্রীদের সাথে একটা করে লিফলেট ধরিয়ে দিতাম । এই লিফলেট দেওয়া নিয়েও কম বিব্রত হতে হয়নি আমাদের । দেখা যেত আমাদের পাশেই হয়ত কেউ মঘা ইউনানীর লিফলেট বিলি করছে । ফলে রিকশা/বাস যাত্রীদের অনেকেই লিফলেট না পড়েই ফেলে দিতো । যত্ন করে সেই লিফলেট তুলে আবার গুছিয়ে রাখতাম । অনেকে অবশ্য মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারতো । তারা ফেলে না দিয়ে ঠিকই পড়তো ।
এভাবে বেশ কিছুদিন চলার পর ঠিক করলাম একটি বড় আকারের কিছু করবো । শহীদ মিনারে একটা প্রোগ্রাম করলাম যেখানে এসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন থেকে তিনজন এসিড দগ্ধ নারী আমাদের সাথে সহযোদ্ধা হিসাবে যোগ দিলেন। বর্ণনা দিলেন তাদের উপরে চলা পাশবিকতার । একইভাবে একটা বড় প্রোগ্রাম করলাম টি এস সি থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত Rally , তারপর সেখানে মানববন্ধন ও সমাবেশ । এবারও আমাদের সাথে যোগ দিল এসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন । আবারো সংগ্রামী সেই তিন নারী । তাদের বর্ণনা শুনতে শুনতে চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরেছে আমাদের আর সেই চোখের জলে শপথ নিয়েছি এসিড সন্ত্রাসী শকুনদের প্রতিরোধের। আমাদের সেই প্রোগ্রাম প্রথম আলো সহ প্রায় সব পত্রিকায় ছবি সহ আসলো । আমরা যত্ন করে সেইসব পোর কাটিং সংগ্রহ করে রাখতাম ।
এরপর আমাদের চারুকলার বন্ধুদের সহায়তায় এসিড আক্রান্তদের জন্য তহবিল সংগ্রহের জন্য পেইন্টিং প্রদর্শনী করলাম । প্রাপ্তদ অর্থ দিলাম প্রথম আলোকে । তারপর এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথভাবে করলাম একটা চলচ্চিত্র উৎসব । মজার অভিজ্ঞতা । আমরা নির্বাচন করলাম সত্যজিতের চলচ্চিত্র, চাকার মতো ছবি । হল খালি । আমাদের কাছে খবর পাঠানো হলো হিন্দি ছবি আর ইংরেজী মারদাঙ্গা ছবি না চালানো হলে হল খালিই থাকবে । আমাদের লক্ষ্য যেহেতু এসিড দগ্ধদের জন্য তহবিল সংগ্রহ তাই সত্যজিত বন্ধ, চললো নতুন নতুন সব হিন্দি ছবি । প্রথম দুইদিনের ব্যর্থতা কাটিয়ে অডিটরিয়াম পূর্ণ । আমরা মোট ২৬ হাজার টাকা তুললাম সব খরচ বাদ দিয়ে। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান আসলেন, শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা আসলেন । আসিস ভাই আসতে পারলেননা। মতি ভাইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হলো টাকা । প্রথম আলো আর চ্যানেল আই কাভার করলো । এখন সাথে রিপোর্টের কপি নেই । তবে বাংলাদেশে আছে ।
এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট থেকে সংবাদটির একটি লিংক । Film Festival to Help Acid Victims
মাঝে মাঝে বিরতি দিয়ে আমাদের এই কার্যক্রম চললো স্বপ্ন খুনের আগ পর্যন্ত ।
পরিবেশ সচেতনতায় আন্দোলন
পরিবেশ নিয়ে আমাদের চিন্তভাবনার আশ্রয় স্থল হিসাবে পেলাম বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনকে । আর এর সুবাদেই কাছে আসতে পারলাম অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, ড, বদিউল আলম মজুমদার আর আবু নাসের খানদের মত স্বপ্ন দেখানো মানুষদের । পলিথিন নিষিদ্ধ আন্দোলন, খাদ্যে ভেজাল বিরোধী আন্দোলন, জলাভূমি ভরাট এর বিরুদ্ধে আন্দোলন, বুড়িগংগা বাচাও আন্দোলন, শব্দ দূষন বিরোধী আন্দোলন, গুলশান লেক ভরাটরে বিরুদ্ধে আন্দোলন এরকম লিখে শেষ করা যাবেনা এরকম অজস্র আন্দোলনে পরিবেশ আন্দোলনের সহযোদ্ধা হলো "সেবা" । বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কিবরিয়া ভাই, বুড়িগঙ্গা বাচাও এর মিহির বিশ্বাস, এশিয়া প্যাসিফিক এর ড. মাহবুব হোসেন সবার সাথে একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠলো আমাদের । আমাদের "সেবা" এর উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ নিলো পরিবেশ আন্দোলনের অন্তর্গত নানা সংগঠন । সেবা তালিকাভুক্ত হলো পরিবেশ আন্দোলনের সহযোগী একটা সংগঠন হিসাবে ।
বড় মজার ছিলো সেই সব দিনগুলি যদিও মাঝে মাঝে সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করে নিয়ে যাওয়াটা একটা কষ্টের ব্যাপার ছিলো। পরিবেশ আন্দোলনের প্রায় সব প্রোগ্রামই হতো হঠাত নোটিশে এবং শুক্রবার সকালে। নাসের ভাই এর মত কাজপাগল লোক খুব কম দেখেছি । ফোনে কথা হতে হতে মাথায় আইডিয়া পরবর্তী শুক্রবার শাহবাগের সামনে প্রোগ্রাম । মিরাজ তোমার ছেলে মেয়েদের নিয়ে হাজির থেকো । এভাবেই হয়েছে অনেক আন্দোলন। এখন প্রতি শুক্রবার ছেলে মেয়েরা সব কাজ কর্ম বাদ দিয়ে রোদের মধ্যে দাড়িয়ে থাকবে কেন? তারপরও দেখা যেত আমরাই সবচেয়ে বড় গ্রুপ ।
মানুষও মজা পেত আমাদের (পরিবেশ আন্দোলনের) কাজে। অধিকাংশ প্রোগ্রামই হতো শাহবাগ মোড়ে । দেখা যেত লোকজন রিকশা করে যাচ্ছে আর অবাক হয়ে দেখছে এইসব ছেলেমেয়ের কি কোন কাজকর্ম নেই? পোষ্টার ব্যানার হাতে প্রতি শুক্রবার এখানে দাড়িয়ে থাকে আর কি কি বলে । মানুষের দৃষ্টিতে কৌতুহল, তাচ্ছিল্য, বিরক্তি সবই টের পেতাম । এটাও ছিল একটা আলাদা রকমের ব্যাপার । মানুষের স্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাপারগুলিকে মানুষ কিভাবে দেখছে । এটা নিয়ে আমরা আলোচনাও করতাম ।
পরিবেশ আন্দোলন আর পরিবেশ নিয়ে "সেবা" এর আন্দোলনের অনেক রিপোর্ট ছাপা হয়েছিল পত্রিকায় । মিডিয়া এই ব্যাপারটিতে সব সময়ই গুরুত্ব দিয়েছে। মাঝে মাঝে দেখা যেত আমরা যারা ব্যানার নিয়ে দাড়িয়ে আছি তাদের সংখ্যা আর ফটোসাংবাদিকদের সংখ্যায় খুব বেশী হেরফের নেই । সেই সব সংবাদের পেপার কাটিং যত্ন করে রেখে দিয়েছিলাম ।
পরিবেশ আন্দোলনের সাথে আমাদের কয়েকটি লিংক (অনলাইন থেকে কয়েকটা খুজে পেলাম, তাও শুধু ইংরেজী সংবাদ পত্রের)
লিংক ১
লিংক ২
লিংক ৩
লিংক ৪
লিংক ৫
লিংক ৬
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:১৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
পড়ছি। ভাল লাগছে। চলুক।
রাহাত আহমেদ বলেছেন:
চলুক ।
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন:
খুবই ভালো একটা উদ্যোগ শুধুমাত্র রাজনীতি থেকে দুরে থাকা ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে,অবিশ্বাস্য হলেও সত্য হতে দেখলাম।আমাদের রাজনৈতিক নীতিনির্ধারকরা যেখানে আখের গোছাতে ব্যাস্ত,দেশ নিয়ে যখন সত্যিই ার ভাবতে চাইনা,তখন আসলেই এইসব প্রগতিশীলদের নিঃসংগ পথচলা আমাকে ভাবায়।অপেক্ষায় আছি স্বপ্নের অনাকাংখিত ও অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর পরের পর্বের অপেক্ষায়(যদিও একটু আশাবাদী হতে চাই এখনো)
মিরাজ বলেছেন:
ফারহান দাউদ, বিবর্তনবাদী, রাহাত আহমেদ এবং মুয়ীয মাহফুজ পড়ার জন্য ধন্যবাদ । @ মুয়ীজ মাহফুজ
স্বপ্নের উপর আঘাতটা এত হঠাৎ করে শুরু হলো এবং আক্রমণটা এতটা অপ্রত্যাশিত ছিলো যে আমরা হাজার চেষ্টা করেও মৃত্যু রুখতে পারিনি । এই যে কষ্ট, একজন প্রিয়জন হারাবার কষ্টের চেয়ে সেই কষ্ট আমার কাছে কোন অংশে কম নয়, ক্ষেত্র বিশেষে আরো বেশী ।
তবে হ্যাঁ এখনো স্বপ্ন দেখার ইচ্ছেটা মরে যায়নি ।
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
পরের পর্বের অপেক্ষায়...। [ এদের ডেসায়নটা এতো ঝামেলার। + আর - দুটো সব সময় তফাতে রাখা উচিত। খুব সাবধানে ক্লিক করতে হয় আর অনেকের অসাবধানে ভুলও হয়ে যায় এই ত্রুটির জন্যে। ]
☺☺☺☺☺
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মৈথুনানন্দ আবারও পড়ার জন্য ।
রেটিং বিভ্রাট আমার জন্য কোনো সমস্যা নয় ।
রাহা বলেছেন:
হুম.. এতোক্ষণে বুঝলাম । সেবা মানে.... ইসলামিক এনজিও এর টাকায় কোরাবাণী করে মাংস বিলানো সেবা?? আর পরিবেশ আন্দোলনের নামে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কয়েকটা ডাস্টবিন সরবরাহকারী সেবা ??!! অনেক নিউজ এর লিংক তো দিলেন কিন্তু পত্রিকায় ছাপা সংবাদ "সেবা ছাত্র শিবিরের সংগঠন শীর্ষক" নিউজ এর লিংক গুলো একটু দিয়েন ।
লেখক বলেছেন: ঠিক ধরেছেন রাহা । প্লিজ পড়তে থাকেন । এখন পর্যন্ত শুধু এই একটাই অনুরোধ করবো ।
আপনার সব প্রশ্নের উত্তর পাবেন ।
শুধু একটা কথা বলি এখন
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ
অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
ফরিদা পারভিন
চৌধুরী মাহমুদ হাসান
মাহমুদুল আমীন
আর সেবার সাথে নিয়মিত কাজ করা
প্রথম আলোর আনিসুল হক
ড. বদিউল আলম মজুমদার
পরিবেশ আন্দোলনের আবু নাসের আহমেদ
এদের মধ্যে কাকে কাকে আপনার শিবির মনে হয়?
মানবী বলেছেন:
মিরাজ, এমন চমৎকার স্বপ্ন খুন হয়েছে এটা শুনতে ইচ্ছে করছেনা।যতো বাঁধা আসুক, এই স্বপ্ন লালন করুন।
সেদিন চকলেটের প্যাকেট কিনে দেবার সামর্থ্য ছিলো না, এক দিন হবে.. তখন যদি স্বপ্নটাই মৃত হয় তাহলে কি করে হবে!
যা কিছু ঘটুক, যেমন ঘটুক স্বপ্নগুলো বাঁচিয়ে রাখুন।
+
লেখক বলেছেন: মানবী পড়ার জন্য ধন্যবাদ । কষ্টকর হলেও সত্যি এই স্বপ্ন খুন হয়েছে এবং আমরা তা ঠেকাতে পারিনি ।
তবে বুকের গভীরে থাকা স্বপ্নের মৃত্যু হয়নি । প্রথমবার স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টায় দেশকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে এরকম একদল মোটিভেটেড তরুণ তরুণীকে পাশে পেয়েছিলাম ।
এরপর আবার নিশ্চয়ই চেষ্টা করবো তবে সেইরকম মোটিভেটেড তরুণ তরুণীদের পাশে পাবো কিনা জানিনা ।
মিরাজ বলেছেন:
@ রাহাএই লেখাটি শুরু করেছি অনেক কষ্ট বুকে চেপে । আমি এই সিরিজটা শেষ হলে "সেবা" এর ব্যাপারে খবর নেবার জন্য আপনাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নাম এবং যোগাযোগের ঠিকানা দেব । প্লিজ আপনারা একটু যোগাযোগ করে সত্যটা জেনে আমাকে জানাবেন ।
সিরিজটা শেষ করতে চাই । আমি কোথাও পালিয়ে যাচ্ছিনা । সব ঘটনাই আসবে একের পর এক । সব কিছুরই লিংক দেবার চেষ্টা করবো । কোন কিছু আড়াল করবোনা ।
প্লিজ এখন একটু ধৈর্য্য ধরেন । এইটুকু অনুরোধ কি করতে পারি?
মিরাজ বলেছেন:
সাদিক তাল এরমধ্যেই একটা পোষ্ট দিয়েছেন । চেয়েছিলাম সবার কাছে আমাদের স্বপ্নের পরিচয়টা দেবার পরে স্বপ্ন খুনের কথা বলবো । কিন্তু মনে হয় ক্রম ঠিক রাখতে পারবোনা । আগামী পর্বেই তাই আগে স্বপ্ন খুনের কাহিনীটা লিখে তারপর কারো যদি আবার স্বপ্নের কথা শোনবার ইচ্ছা থাকে তাহলে আবার লিখবো । শুধু একটা কথা বলতে পারি । সেবার যারা প্রতিষ্ঠাতা ছিল তারা সবাই ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিপক্ষে ছিল ।
এরা সবাই শিবিরের রাজনীতির বিপক্ষে ছিলএবং এখনো বিপক্ষে আছে । শিবিরের রাজনীতির কোন স্থান এদের কাছে নাই ।
পেছনে না জানা অনেক ঘটনা থাকে । না জেনে অনেক কিছু মনে হয় ।
লেখক বলেছেন: ফারহান আপনি মনে হয় ঠিকই বলেছেন । লেখাটি ক্রম অনুযায়ীই আসা উচিত । সব কথাই সামনে আসবে, কোন কথাই বাদ যাবেনা কিন্তু পরের কথা আগে হঠাত করে নিয়ে আসলে আরো কনফিউশন সৃষ্টি হতে পারে ।
আমিও মনে করি পুরো কথা বলার পর ব্লগাররাই সত্য মিথ্যা ঠিক করে নিক । তাতে যদি আমি অপরাধী হই তাহলে অপরাধের দায় মাথা পেতে নেবো ।
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
ভাইয়া আপনার সাথে আছি। চলতে থাকুক..। আমার ও একটি স্বপ্ন খুন হয়েছে কিন্তু আমি এখনো সে স্বপ্নের কথা ভুলিনি। এখানে একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম.... দেখতে ইচ্ছা হলে এখানে: Click This Link
লেখক বলেছেন: আর একটি পর্ব পড়েই পারবেন । তবে যে উপায়ে খুন হয়েছে সেটাকে মেনে নিতে পারবেননা, এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি ।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
লেখার শিরোনামটা ভাবাচ্ছে......।শেষটা কষ্টের হবে................কিন্তু ভালোই তো চলছিলো সব।আশকরি স্বপ্ন পুরণের কোন না কোন উপায় হবেই হবে।সদিচ্ছা থাকলে আর সমমনা কিছু মানুষ থাকলে যে কোন জায়গা থেকে শুরু করা সম্ভব।
ভালো থাকবেন।শুভেচ্ছা থাকলো।
লেখক বলেছেন: আমিও আশা করি আবার কোন একদিন শুরু হবে স্বপ্ন পূরণের পথে নতুন যাত্রা ।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
খুব ভালো লাগল পড়ে।সামনে পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম।আমাদের এখন প্রতিদিনই স্বপ্ন খুন হয়।তবুও স্বপ্ন দেখেই যাই.................
সবুজ সাথী বলেছেন:
আমিও আপনার সাথে আছি। ক্রমানুসারেই চলতে থাকুক। ধন্যবাদ সত্য প্রকাশ করার সৎ সাহসের জন্য।
মিয়াবেপারী বলেছেন:
এভাবে না বললে তো আমরা বুঝতেই পারতাম নাসুন্দর একটা সপ্ন, চলার পথ কিভাবে নস্ট হয়
মিরাজ ভাই সপ্নতো দেখেছেন অনেক আগে
কস্টের ব্ণ্যায় গেছে ভেঙ্গে, আপনার সপ্নের কিছু অংশ
আমরা শোকাহত সাময়িক ভাবে.....
তার পরও পথ চলা থেমে থাকেনি, থেমে থাকবেও না
আপনার অভিঙ্গতা এবং বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে আসেন
আমাদের পাবেন পাশ্বে নতুন করে..... ইনশাল্লাহ
পান্থ বিপুল বলেছেন:
কোন দুরভিসন্ধি না থাকলে মানবতার কাজে এগিয়ে আসা সব সংগঠনকে স্বাগতম এবং তুলে ধরার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। তবে একটা ব্যাপার, সেবা রাজনৈতিক সংগঠন না হলে তাদের কোন সামগ্রিক রাজনৈতিক স্ট্যান্স থাকবে না। অতএব, আপনার বক্তব্য -"শুধু একটা কথা বলতে পারি । সেবার যারা প্রতিষ্ঠাতা ছিল তারা সবাই ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিপক্ষে ছিল ।
এরা সবাই শিবিরের রাজনীতির বিপক্ষে ছিলএবং এখনো বিপক্ষে আছে । শিবিরের রাজনীতির কোন স্থান এদের কাছে নাই ।"
মিথ্যা না হলেও অতিরঞ্জিত হওয়া স্বাভাবিক।
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যটি ভাবালো । যেহেতু প্রথমেই বলেছি সেবা ছিল রাজনীতি বিমুখ কিছু তরুণ তরুণীর স্বপ্ন , তাই নিশ্চিতভাবেই সেবার কোন রাজনৈতিক অবস্থান ছিলোনা ।
কিন্তু রাজনীতি বিমুখ হলেও এরা রাজনীতি সচেতন ছিলো এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এদের (প্রতিষ্ঠাতাদের কথা বলছি) অবস্থান কাছাকাছি ছিলো ।
আমরা আমাদের সদস্য সংগ্রহের সময় বা কোন কর্মকান্ডে কখনোই কারো রাজনৈতিক বিশ্বাসের প্রশ্ন তুলিনি কিন্তু সাধারণ সদস্যরাও আমাদের মানসিক অবস্থান জানতো ।
আসলে দিনের পর দিন বস্তিতে রাস্তায় দেশের বিভিন্ন অন্চলে একত্রে কাজ করেছি । তাই আমাদের পরস্পরের পরস্পর সম্পর্কে ধারণা অনেক স্পষ্ট ছিলো ।
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
আসলে আবেগই আমার সাড়ে সব্বোনাশ করেছে। বারে বারে নিজের মনকে বোঝাই আর নয় - তবুও এ রকম অনুভূতি-ঋদ্ধ লেখার হাতছানি এড়াতে পারিনা। মিলিয়্যান ডল্যার বেইবি আমার খুউব প্রিয় একটি ছবি। তবেই বুঝুন! আমি +৫ -ই দিয়েছি, পাঁচটা স্মায়লি ব্যবহার করে ঠিক সে কথাটিই বুঝিয়েছি। আসলে নোটিশবোর্ডের মুখদর্শন করতে ইচ্ছে করে না - তাই এ খানে বলে গিয়ে ছিলুম। এই বিচ্ছিরি ব্যাপারটা যদি পরে কোনো সময় ঠিক করে। এই পোস্টে প্রথম নেগেটিভ রেটিং কে করেছে আমি জানি। তবে এই সমস্ত বাল্যখিল্য ব্যাপারে নিজের সময় ও শক্তি নষ্ট করার প্রয়োজন দেখি না। আপনার প্রতি অনুরোধ রইল এদেরকে গ্রাহ্য না করে নিজের মতো করে সিরিজটি চালিয়ে যেতে। অনেক মাস পরে একটা ভালো স্টাফ পেয়ে দারুণ লাগছে।
লেখক বলেছেন: চালাবো সিরিজটা এই কথাগুলি যে আমাকে বলতেই হবে । আশা করি পড়বেন ।
শ্যাজা বলেছেন:
চলুক...
মিরাজ বলেছেন:
শ্যাজা, মাহমুদ মামূন এবং সারওয়ার চৌধুরী পড়ার জন্য ধন্যবাদ । আশা করি পরবর্তী পর্বও পড়বেন ।
মাহমুদউল্লাহ বলেছেন:
দুটো পর্বই পড়লাম এবং বাকীগুলার জন্য অপেক্ষা। হয়তো শেষটা হতাশাজনক হবে, তারপরেও তো আপনাদের স্বপ্নের একটা ক্ষুদ্র অংশ হলেও বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলেন, আমার মত অনেক মানুষই আছে, যারা শুধু স্বপ্ন দেখেই গিয়েছে, বাস্তবে নেয়ার সামর্থ বা সাহস কোনটাই পায়নি। আপনার মত করে লিখেন, আমরা পড়ব।
কিছু যোগ করতে চাই, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে ... কিছুটা সমালোচনামূলক লাগতে পারে আমার মন্তব্যটা ... সেজন্য ক্ষমা চাইছি ...
১. আপনারা যে বস্তিগুলোতে ঔষধ বিতরন করতে সেপ্রসঙ্গেই প্রশ্নটা ... রোগ-বালাই থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে শিক্ষা আর সচেতনতা, সেটা সৃষ্টির কোন প্রজেক্ট ছিল কিনা জানতে চাচ্ছি। মানে, বস্তিবাসীদের, বিশেষ করে, মহিলাদেরকে সুস্বাস্থ্য আর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে ওয়ার্কশপ টাইপের কোন আয়োজন? ... কারণ, এরকম হিউম্যানিটারিয়ান কাজকে আমরা দুভাগে ভাগ করতে পারি -- একটা হলো "মাছ বিলানো", আরেকটা হলো "মাছ ধরা শেখানো" ... ঔষধ বিতরণ অবশ্যই মহৎ কাজ, তবে সেটা শুধু "মাছ বিলানো"তে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। তাই আপনাদের কাজের অন্যসাইডটা, অর্থাৎ "মাছ ধরা শেখানো" নিয়ে আলোচনা বা স্মৃতিচারণ শুনতেও আগ্রহী আমি, ব্যক্তিগতভাবে
২. যেকোন হিউম্যানিটারিয়ান একটিভিটিজে একটা গ্রুপ থাকে, রিসার্চ গ্রুপ ... এরা যেমন পূর্বের ইতিহাস/তথ্য ঘেঁটে নির্দেশিকা তৈরী করে, যেমন কোথায় কোথায় বস্তি আছে, কোন বস্তিতে কি কি সমস্যা আছে সেগুলোর ফিল্ড জরিপ (যেটা আপনারা করেছেন) ... তেমনি নিজেদের কার্যক্রমের একটা ট্র্যাক রেকর্ড তৈরী করাও রিসার্চ গ্রুপের কাজ ... যেমন জরিপ চালানো ... যেমন ধরুন কথার কথা শীতবস্ত্র বিলানো ... এক্ষেত্রে ধরুন কয়েক বৎসর ধরে ঢাকার কয়েকটা পার্কের আশেপাশে কাপড় বিলানো হলো এবং একই সাথে একটা রিসার্চ টিম জরিপ করে ডেটা তৈরী করবে যেখানে দেখা যেতে পারে যে শীতে মৃত্যুর খবর কমচে কিনা, অথবা, রাতে গরমকাপড়বিহীন লোকের সংখ্যা কমছে কিনা ... অর্থাৎ, একটা কাজের ফলে কি পরিবর্তন আসলো, সেটার ট্র্যাক রেকর্ড রাখা, যাতে পরবর্তীতে ইম্প্রুভাইজেশনটা সহজ হয় ... আপনারা করে থাকলে সেটাও জানতে আগ্রহী
আপনার স্বপ্ন খুনের কথা পরে ধারনা করছি, নেতৃত্ব ছিনতাই হয়েছিল। যাই হোক সেসম্পর্কে নিশ্চয়ই আসবে পরবর্টী পর্বগুলোতে ... অপেক্ষায় আছি ...
সিরিজটা খুব অর্থবহ আর প্রয়োজনীয় হবে আশা করি ... চলুক +++++
লেখক বলেছেন: জ্বিনের বাদশা আপনাকে অনেক ধন্যবাদ চমৎকার কিছু ব্যাপারকে সামনে আনার জন্য ।
আসলে শুরুতে সুবিধা বন্চিত মানুষগুলোর আমরা মাছ বিলানোর দিকেই জোর দিয়েছিলাম মাছ ধরা শেখানোর চাইতে ।
বরং আমাদের মাছ ধরা শেখানোর মত প্রোগ্রামগুলি ছিলো আসলে সমাজের সাধারণ মানুষদের দিকে । যেমন আমরা ডেংগু প্রতিরোধ, ভেজাল ওষুধ বিরোধী আন্দোলন, পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এগুলির দিকে জোর দিয়েছিলঅম মধ্যবিত্তকে সচেতন করার জন্য ।
তবে ধীরে ধীরে আমরা সুবিধা বন্চিত মানুষগুলিকে "মাছ ধরা" শেখানোও শুরু করেছিলাম এবং স্বপ্ন খুন না হয়ে গেলে সেদিকেই জোর দেয়ার পরিকল্পনা ছিলো । আসলে আমরা সংখ্যায় খুব বেশী ছিলামনা । সদস্য ২০০ এর উপরে হলেও ২০-৩০ জন এ্যাক্টিভ তরুণ তরুণী মিলৈ আমরা যে পরিমানে কাজ করেছি তাতে অনেকের মত আমরাও অবাক হই মাঝে মাঝে ।
আর স্বপ্ন খুন নেতৃত্বের ছিনতাই এর মাধ্যমে হয়নি । ভিন্নভাবে হয়েছে ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















