somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফলোআপ : ম্যাগনামার পর কেয়ার্ণের আরো একটি ব্যর্থতা, গ্যাসের মজুদ এবং আমাদের জ্বালানী ভবিষ্যত

১৭ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এতদিন ধারণা করা হচ্ছিল বাংলাদেশের গ্যাস সম্পদের একটা বড় রিজার্ভ আছে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ সমুদ্রসীমার মধ্যে। একমাত্র অফশোর গ্যাস ফিল্ড সাঙ্গু যেখান থেকে প্রতিদিন ৮০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে এই ধারণাকে আরো জোরদার করেছে। গত বছরের ৩১ শে ডিসেম্বর ব্রিটিশ গ্যাস এক্সপ্লোরেশন কোম্পানী কেয়ার্ন পি এল সি অফশোর গ্যাসফিল্ডের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় "ম্যাগনামা" গ্যাস ক্ষেত্রে গ্যাস না পাবার কথা জানিয়েছিল, আর আজ জানালো আরেকটি সম্ভাবনাময় অফশোর ব্লক "হাতিয়ায়" গ্যাস না পাবার কথা । এই সংবাদটি আবারো দেশের গ্যাসের মজুদ ও জ্বালানীর ভবিষ্যতকে বড় একটি প্রশ্নের মুখোমুখি দাড় করিয়ে দিলো ।

এখানে একটি তথ্যটি উল্লেখ করা প্রয়োজন, কেয়ার্ণকে বরাদ্দ দেবার আগে এই অফশোর ব্লক দুটিতে পেট্রোবাংলা 2D সিসমিক সার্ভে করেছিলো । সেই সার্ভে থেকে ম্যাগনামা গ্যাস ক্ষেত্রে ৩.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) এবং হাতিয়া গ্যাস ক্ষেত্রে ১.৮ টিসিএফ গ্যাস মজুদ থাকার প্রথমিক প্রমাণ পায় । আর সেজন্যই এই গ্যাস ক্ষেত্র দুটিকে সবচাইতে সম্ভাবনাময় গ্যাস ক্ষেত্র বলা হতো । আর আমাদের পেট্রোবাংলার গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সফলতা । দেশের বর্তমান গ্যাস ক্ষেত্রগুলির প্রায় সবগুলিই পেট্রোবাংলা কর্তৃক আবিস্কৃত । আর কেয়ার্ণ জানিয়ে দিলো এই দুটির কোনটিতেই গ্যাস নেই!!

তবে এর মধ্যেও একটি ক্ষীণ আশার কথা হলো কেয়ার্ণ বর্তমানে চালু থাকা সাঙ্গু গ্যাস ক্ষেত্রের আরেকটি কূপে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে তবে তার পরিমাণ এখনো আনুষ্ঠনিকভাবে জানায়নি ।

এখানে উল্লেখ্য যে কেয়ার্ণ সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রটিও পরিচালনা করে। প্রাথমিক ধারণায় ম্যাগনামা ও হাতিয়া গ্যাস ব্লকের মজুদ সাঙ্গু অপেক্ষাও বেশী বলে ধারণা করা হয়েছিল। আমাদের দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রের আনুমানিক মজুদ ৪৫-৫০ টিসিএফ ধরে দেশ থেকে গ্যাস রপ্তানীর যে তোরজোর শুরু হয়েছিল, গ্যাস রপ্তানীর সিদ্ধান্ত স্থগিত হওয়ার পর থেকেই রহস্যজনকভাবে মজুদ এর ধারণা কমতে শুরু করে। আর আজকের এই ঘোষণা হলো এ ক্ষেত্রে আরেকটি বড় ধাক্কা ।

এখন বলা হচ্ছে দেশে গ্যাসের প্রমাণিত মজুদ ১৩.৫৪ টিসিএফ (পাঠক পার্থক্যটা লক্ষ করুন) এবং শুধু বাংলাদেশ এই মজুদ ব্যবহার করলেও এটি ২০১১ সাল নাগাদ শেষ হয়ে যাবে । আতকে ওঠার মত ব্যাপার এবং সেই সাথে খটকা লাগার মতও। যদি এটি সত্য হয় তাহলে গ্যাস রপ্তানীর সিদ্ধান্ত নিলে এই মজুদ কবে নাগাদ শেষ হতো? ২০০৮-০৯?? অথচ তখন বলা হয়েছিল ২০২১ সাল পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত। এমনকি এটাও বলা হয়েছিল যে আগামী ২৫ বছর পর্যন্ত জ্বালানী নিয়ে আমাদের কোন সমস্যা হবেনা।

গ্যাস রপ্তানী স্থগিত হবার সিদ্ধান্তের পর এই নীরব পালাবদল কিন্তু ভাবিয়ে তোলার মত। এটি কি বৈদেশিক বিনিয়োগের হাতে বন্দী আমাদের জ্বালানী ক্ষেত্র নিয়ে নতুন কোন নীল নকশা?? আমাদেরকে গ্যাস সম্পদ থেকে সুফল লাভ করতে না দেয়ার নতুন কোন আন্তর্জাতিক চক্রান্ত?? নাকি এটাই প্রকৃত সত্য!! এর আগে যা জানানো হয়েছে তা ছিল সাজানো মিথ্যা??

নাকি জরুরী অবস্থার মধ্যে তত্বাবধায়ক সরকারের সময়কালীন একটি নিরাপত্তাহীন পরিপ্রেক্ষিত তৈরী করে এশিয়া এনার্জির সেই বিতর্কিত ওপেন পীট পদ্ধতিতে কয়লা আহরণের প্রস্তাব মেনে নেয়ার জন্য একটি ক্ষেত্র প্রস্তত করা হচ্ছে । এই আশংকাটি আমি আগেও একটি পোষ্টে করেছিলাম । আশংকার একটি বড় কারণ হচ্ছে এশিয়া এনার্জি ফুলবাড়ী কয়লা ক্ষেত্র নিয়ে নতুন করে আবার প্রস্তাব দিয়েছে এবং সেটি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন ।

আমাদের পেট্রোবাংলার এক্সপ্লোরেশন সাফল্যের হার (কুপ খনন বনাম গ্যাসের সন্ধান লাভ) খুবই ভাল। কিন্তু তারপরও পেট্রোবাংলাকে বাদ দিয়ে সব ব্লক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বিদেশী কোম্পানীগুলির কাছে। এখন রিজার্ভ থাকার কথা এমন ব্লকগুলি থেকে যদি একের পর এক এরকম ব্যর্থতা আসতে থাকে, তাহলে আমাদের অর্থনীতি তথঅ আমাদের জ্বালানী নিরাপত্তার ভবিষ্যত কি? আমরা কি নিজেরাই নিজেদের পায়ে কুড়াল মারছি?? যতই ভাবি অনেক হিসাব মেলাতে পারিনা।

আমরা সত্য জানতে চাই। দেশের সম্পদের নিরাপত্তা চাই এবং পেট্রোবাংলাকে সরাসরি আরো বেশী সংশ্লিষ্ট দেখতে চাই
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৩৮
২৮টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×