somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পানিই জীবন এবং এই জীবন নিয়েই বিড়ম্বনা

০৮ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যে বছর আমি ফাইনাল ইয়ার কমপ্লিট করলাম সে বছরই বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল হতে আইটি প্রোফেশনালদের জন্য একটি ইন্টার্নশীপ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছিল। তো সরকারী ইন্টার্নশীপ এর অজুহাতে ( অজুহাতই বলতে হবে কারণ মেয়েদের একাকী ঢাকা এসে চাকুরী করার অনুমতি পাওয়াটা কোন ফ্যামিলিতেই খুব একটা সহজ নয় ) আমরা কয়েকজন বান্ধবী ঢাকায় পাড়ি জমালাম। চোখে মুখে ভাসছে নতুন জীবনের স্বপ্ন, নতুন ক্যারিয়ার গঠনের অদম্য উচ্ছাস আর কিছুটা স্বাধীন হওয়ার আনন্দও বটে। আমরা তিন বান্ধবী উঠলাম ধানমন্ডির একটি প্রাইভেট হোস্টেলে। এই হোস্টেলে থাকাকালীন সময়েরই একটি ঘটনা আজ খুব মনে পড়ছে। স্মৃতিটা কি হাসির নাকি কষ্টের সেটা নির্ধারণ করার ভার আমি পাঠকদের উপরই ছেড়ে দিলাম।

আমরা দুই বান্ধবী এক রুমে থাকতাম। ৩য় জন (নাম গুলো উহ্য থাক) অন্য রুমে। তো আমরা হোস্টেলে উঠেই গৃহস্থালী কিছু সরন্জামাদি কিনে নিয়েছিলাম। সেখানে একটি মিডিয়াম সাইজের এলুমিনিয়ামের কলসীও ছিল। আমরা পালা করে কলসীতে পানি ভরে চুলায় ফুটিয়ে নিতাম। ৩য় জন ছোট পাতিলে পানি ফুটিয়ে জগে ভরে রাখতো। মাঝে মাঝে ওর পানি সর্ট পরলে আমাদের কলসী থেকে নিয়ে পান করতো।

আমরা দুজনেই একই অফিসে জব করতাম। ৩য় জন অন্য কম্পানীতে। তো এক সন্ধ্যায় আমরা দু বান্ধবী অফিস থেকে এসে ফ্রেশ হয়ে বসে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এমন সময় ৩য় জন তড়িঘড়ি করে আমাদের রুমে ঢুকলো। সে তখনি অফিস থেকে ফিরেছে এবং তার জগে একটুও পানি নেই। দরজার পাশেই ফ্লোরে রাখা ছিলো কলসীটি। সে কলসী থেকে পানি নিতে নিতে বলল তোমাদের কলসীতেও তো পানি নেই। যাক যা ছিলো তাতে সে ওর গ্লাস পুরিয়ে নিল এবং গ্লাসসমেত পানি ঘট ঘট করে গিলে পিপাসা নিবারণের চরম তৃপ্তি নিয়ে আমাদের আড্ডায় যোগদান করল।

আড্ডার এক ফাঁকে আমি উঠে কলসীটি নিয়ে পানি ভরতে গেলাম।কলসীর তলায় যা পানি ছিলো তাতে হাত ঢুকিয়ে খুব ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিলাম। অতঃপর আমি কলসীর পানি ফ্লোরে ঢেলে দিলাম। একি! ফ্লোরে ইয়া লম্বা লাল একটা সরীসৃপ প্রজাতির প্রাণী কিলবিল করে উঠল। আমি লম্প সহকারে বিকট একটা চিৎকার দিলাম। আমার চিৎকারে মহানিশ্চিন্তে আড্ডাবাজিতে লিপ্ত আমার দুই বান্ধবী দৌড়ে এল এবং ফ্লোর প্রদর্শন করে গলা ফাটানো চিৎকার দিতেও দেরি করলনা। একটু আগেই পানি পান করে চরম পরিতৃপ্ত হওয়া আমার ঐ বান্ধবীটার মানসিক অবস্থার কথা নাহয় আর নাই বললাম। বেচারী ওয়াক ওয়াক করে তার সারা জনমে যত পানি পেটে ঢুকিয়েছে তার সবটাই যেন বের করে দিতে পারলেই সে বাঁচে। আমাদের অবস্থাও তার চেয়ে কোন অংশে কম ছিলোনা বৈকি।
আসলে হয়েছে কি আমি সাপ্তাহিক ছুটিতেই আমার মামার বাসায় যেতাম। আমার রুম মেইট ও তার আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে থেকে এসেছে আগের দুদিন। রবিবারে দুজনেই সরাসরি অফিসে গেছি এবং ওখান থেকে একসাথে আসছি হোস্টেলে। পানি গুলো মোটামুটি অনেক দেরি হয়েছিলো। আমার রুম মেইটের মতে পানিতে কেঁচোর ডিম ছিলো যা সিদ্ধ হওয়ার পরও নষ্ট হয়নি এবং দীর্ঘদিন (এক/দেড় সপ্তাহ ) পরে থাকার কারণে উপর্যোপরি পরিবেশ পেয়ে ঐ ডিম থেকেই কেঁচোর জীবনচক্র শুরু হয়ে গিয়েছিলো। জানিনা বাপু ওর কথার সত্যতা কতটুকু। কিন্তু জীবনচক্র যখনই শুরু হোক না কেন, কেঁচোটা যে দীর্ঘদিন ধরে ঐ কলসীতেই পালিত হচ্ছিল তা কেঁচোর সাইজ দেখেই বুঝা যায়।

ঐ কলসীর পানি আমরা তো আর কম খয়নি!!!
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:২৮
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×