যে বছর আমি ফাইনাল ইয়ার কমপ্লিট করলাম সে বছরই বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল হতে আইটি প্রোফেশনালদের জন্য একটি ইন্টার্নশীপ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছিল। তো সরকারী ইন্টার্নশীপ এর অজুহাতে ( অজুহাতই বলতে হবে কারণ মেয়েদের একাকী ঢাকা এসে চাকুরী করার অনুমতি পাওয়াটা কোন ফ্যামিলিতেই খুব একটা সহজ নয় ) আমরা কয়েকজন বান্ধবী ঢাকায় পাড়ি জমালাম। চোখে মুখে ভাসছে নতুন জীবনের স্বপ্ন, নতুন ক্যারিয়ার গঠনের অদম্য উচ্ছাস আর কিছুটা স্বাধীন হওয়ার আনন্দও বটে। আমরা তিন বান্ধবী উঠলাম ধানমন্ডির একটি প্রাইভেট হোস্টেলে। এই হোস্টেলে থাকাকালীন সময়েরই একটি ঘটনা আজ খুব মনে পড়ছে। স্মৃতিটা কি হাসির নাকি কষ্টের সেটা নির্ধারণ করার ভার আমি পাঠকদের উপরই ছেড়ে দিলাম।
আমরা দুই বান্ধবী এক রুমে থাকতাম। ৩য় জন (নাম গুলো উহ্য থাক) অন্য রুমে। তো আমরা হোস্টেলে উঠেই গৃহস্থালী কিছু সরন্জামাদি কিনে নিয়েছিলাম। সেখানে একটি মিডিয়াম সাইজের এলুমিনিয়ামের কলসীও ছিল। আমরা পালা করে কলসীতে পানি ভরে চুলায় ফুটিয়ে নিতাম। ৩য় জন ছোট পাতিলে পানি ফুটিয়ে জগে ভরে রাখতো। মাঝে মাঝে ওর পানি সর্ট পরলে আমাদের কলসী থেকে নিয়ে পান করতো।
আমরা দুজনেই একই অফিসে জব করতাম। ৩য় জন অন্য কম্পানীতে। তো এক সন্ধ্যায় আমরা দু বান্ধবী অফিস থেকে এসে ফ্রেশ হয়ে বসে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এমন সময় ৩য় জন তড়িঘড়ি করে আমাদের রুমে ঢুকলো। সে তখনি অফিস থেকে ফিরেছে এবং তার জগে একটুও পানি নেই। দরজার পাশেই ফ্লোরে রাখা ছিলো কলসীটি। সে কলসী থেকে পানি নিতে নিতে বলল তোমাদের কলসীতেও তো পানি নেই। যাক যা ছিলো তাতে সে ওর গ্লাস পুরিয়ে নিল এবং গ্লাসসমেত পানি ঘট ঘট করে গিলে পিপাসা নিবারণের চরম তৃপ্তি নিয়ে আমাদের আড্ডায় যোগদান করল।
আড্ডার এক ফাঁকে আমি উঠে কলসীটি নিয়ে পানি ভরতে গেলাম।কলসীর তলায় যা পানি ছিলো তাতে হাত ঢুকিয়ে খুব ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিলাম। অতঃপর আমি কলসীর পানি ফ্লোরে ঢেলে দিলাম। একি! ফ্লোরে ইয়া লম্বা লাল একটা সরীসৃপ প্রজাতির প্রাণী কিলবিল করে উঠল। আমি লম্প সহকারে বিকট একটা চিৎকার দিলাম। আমার চিৎকারে মহানিশ্চিন্তে আড্ডাবাজিতে লিপ্ত আমার দুই বান্ধবী দৌড়ে এল এবং ফ্লোর প্রদর্শন করে গলা ফাটানো চিৎকার দিতেও দেরি করলনা। একটু আগেই পানি পান করে চরম পরিতৃপ্ত হওয়া আমার ঐ বান্ধবীটার মানসিক অবস্থার কথা নাহয় আর নাই বললাম। বেচারী ওয়াক ওয়াক করে তার সারা জনমে যত পানি পেটে ঢুকিয়েছে তার সবটাই যেন বের করে দিতে পারলেই সে বাঁচে। আমাদের অবস্থাও তার চেয়ে কোন অংশে কম ছিলোনা বৈকি।
আসলে হয়েছে কি আমি সাপ্তাহিক ছুটিতেই আমার মামার বাসায় যেতাম। আমার রুম মেইট ও তার আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে থেকে এসেছে আগের দুদিন। রবিবারে দুজনেই সরাসরি অফিসে গেছি এবং ওখান থেকে একসাথে আসছি হোস্টেলে। পানি গুলো মোটামুটি অনেক দেরি হয়েছিলো। আমার রুম মেইটের মতে পানিতে কেঁচোর ডিম ছিলো যা সিদ্ধ হওয়ার পরও নষ্ট হয়নি এবং দীর্ঘদিন (এক/দেড় সপ্তাহ ) পরে থাকার কারণে উপর্যোপরি পরিবেশ পেয়ে ঐ ডিম থেকেই কেঁচোর জীবনচক্র শুরু হয়ে গিয়েছিলো। জানিনা বাপু ওর কথার সত্যতা কতটুকু। কিন্তু জীবনচক্র যখনই শুরু হোক না কেন, কেঁচোটা যে দীর্ঘদিন ধরে ঐ কলসীতেই পালিত হচ্ছিল তা কেঁচোর সাইজ দেখেই বুঝা যায়।
ঐ কলসীর পানি আমরা তো আর কম খয়নি!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

