somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুজিব রহমান
সমাজ বদলাতে হবে। অনবরত কথা বলা ছাড়া এ বদ্ধ সমাজ বদলাবে না। প্রগতিশীল সকল মানুষ যদি একসাথ কথা বলতো তবে দ্রুতই সমাজ বদলে যেতো। আমি ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে অনবরত বলতে চ

সিফিলিসের জীবাণু কার কাছ থেকে এলো? পর্ব দুই

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৮:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম পর্ব পর্ব দুই

দিন দশেক অসীমের খবর নেই। হরতালের দিন সকাল আটটায় অসীম আসে। আসাদকে নিয়ে দুই বন্ধু বের হয় সালমার পিতার খুঁজে। সে জনতা ব্যাংকে চাকরী করতো। প্রধান কার্যালয় মতিঝিলে যায়। ওর বাবার নামটি অদ্ভুদ, একবার শুনলেই মনে রাখার মতো- সৈয়দ হুরমুজ আলী। পার্সোনাল ডিভিশনের এক ভদ্র লোক ঠিকই চিনে ফেললেন। বললেন, কয়েক বছর আগে অবসরে গেছেন। জনতা ব্যাংক গুলশান শাখা হতে। আপনারা গুলশান শাখায় গেলে খোঁজ পেতে পারেন। ওখান থেকেই অবসরে গেছে। আসাদ আমতা আমতা করে। ওর ড্রেস ভাল নয় বলতেই মতিঝিল ফুটপাথ থেকেই একটি নতুন সার্ট কিনে ফেলে। তবুও যেতে হবে।
গুলশান গিয়ে একটি ঠিকানা পায় বাড্ডার। ওর অভিযানে নামে ঠিকানা মিলাতে মিলাতে পেয়ে যায় কাঙিক্ষত বাড়ির নাম্বার। নিচতলায় জনতা ব্যাংকের বাড্ডা অফিস। মনে হয় দোতলায় পরিবার থাকে। গেটে নাম লেখা। ওরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে, যাক অবশেষে পাওয়া গেল। অল্পতেই ওদেও নজওে আসে নিচেই বড় বড় দুটি তালা ঝুলছে। সৈয়দ হরমুজ আলী যে বেশ কিছু দিনই এখানে থাকে না বা থাকবেন না সেটা বুঝা যায়।
অসীম বলে, তোর শ্বশুরের বুদ্ধি দেখছিস; কেউ যাতে জমি দখল করতে না পারে তার জন্য ব্যাংকের নিকট ভাড়া দিয়েছে।
-আমার শ্বশুর বানালি কি হিসাবে?
-দুষ্টুমি করে তোর প্রতিক্রিয়া দেখলাম।

অসীম ব্যাংকের ভিতরে ঢোকে, চলে যায় সরাসরি ম্যানেজারের কক্ষে। আসাদ ওকে অনুসরণ করে। হরতালের কারণে ব্যাংক অনেকটা ফাঁকা। অসীম সালাম দিয়ে বলে বাড়ির মালিক সৈয়দ সাহেব আমার আত্মীয়। ওনি কোথায় গেছন বলতে পারেন?
ম্যানেজার বললেন, আপনারা কি ইন্ডিয়া থেকে এসেছেন?
অসীম বলে, না না আমাদের বাড়ি বিক্রমপুর।
এ্যানেজার সাহেব অবাক হয়ে বলেন, বলেন কি? এদেশে ওনার কোন আত্মীয় আছেন বলে তো জানি না?
আসাদ ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বলে, আসলে ওনি বিক্রমপুরে চাকুরি করার সময় আমাদের বাসায় ভাড়া থাকতেন। আমার আব্বার সাথে ঘণিষ্ঠতা রয়েছে। আব্বা খোঁজ নিতে বলেছেন। এজন্যই আসা। আমরা দুজনেই ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স পড়ছি।
ম্যানেজার সাহেব ওদের জব্দ করার মানসিকতা ত্যাগ করে স্বাভাবিক হলেন। বললেন, ওনিতো সর্বদায়ই তাবলীগে থাকেন। চিল্লা দেয়া হলে বাড়ি এসে দুই একদিন থাকেন আবার চলে যান। আসাদ সালাম দিয়ে ওঠে পড়ে। অস্বস্তি লাগে। গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে তাবলীগে আসা এক মুরুব্বীর সাথে বাংলাদেশের কয়েকজন ওদের কক্ষে আসে। রফিক ওনাদের অপদস্ত করে। দক্ষিণ আফ্রিকায় মুসলমান নাই সেখানে ধর্ম প্রচার না করে বাংলাদেশে কেন? এদেশে মুসলমানতো ৯০% ভাগ। ওনাদের কথা বলার সুযোগই দেয় না। ওনারাও শেষে চলে যেতে বাধ্য হন। তাদের মধ্যে কি সৈয়দ সাহেব ছিলেন? আসাদ মনে করার চেষ্টা করে। রফিক আরেকদিন শীতের ভোরে তাবলীগ কর্মীদের জানালা দিয়ে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিয়েছিল। সেখানে কি সৈয়দ সাহেব ছিলেন? আসাদ লজ্জিত-কুণ্ঠিত হয়ে পড়ে।
অসীম ধক্কা দেয়। কিরে কি ভাবছিস? রিক্সার নীচে যাবি তো।
আসাদ বলে, কাকরাইল মসজিদে গেলে মনে হয় খোঁজ জানা যাবে।
অসীম বলে, ধুর! গিয়ে শুনলি কক্সবাজার গেছে। তুই কি কক্সবাজার ছুটবি? বরং ম্যানেজার সাহেবের নাম্বার নিয়ে এসে ফোন করে জানা। অবশ্য এতেও সমস্যা আছে। তুই ১ সপ্তাহ পরপর ফোন করলি। একদিন শুনলি গত পরশু এসেছিল গতকাল চলে গেছে। আরেকটি কাজ করতে পারিস। গেটের ভিতর ডাক বাক্স আছে। চিঠি লিখলি। ঠিকানা দিলি। কাকরাইলের কাছেই থাকিস, ওনি তোর হলেই চলে আসতে পারে।
পরামর্শটা আসাদের মনে ধরে।
অনেকক্ষণ হাটার পরে আসাদ বলে, অসীম আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না আমার শরীরে সিফিলিসের জীবাণূ ছিল। কার কাছ থেকে আসলো? শধুমাত্র দুটি পথ- এক সালমা। ওর মধ্যে যদি থাকতো জানা যাবে ওদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমেই। আর দ্বিতীয় পথ হল ঐ মাদ্রাসার শিক্ষদের বা ছাত্রদের মধ্যে এই রোগটা কতটা তা থেকে। সালমাই সহজ সমাধান। কিন্তু সালমা দেশে কিনা তাওতো জানি না।
অসীম বলে, তুই মাথা থেকে এসব ঝেড়ে ফেল। শরীরে বিভিন্ন জীবাণু প্রবেশ করে। এমনিতে ভাল না হলে ঔষধ খাই। এটাকেও এরকমই ভাবসনা কেন? দেখ আমরা তখন সিক্স সেভেনে পড়ি। আমাদের পাড়াটা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। অন্যরা তেমন পড়তোও না। একমাসের কীত্তনের সময় আমাদের বয়সী ছেলে মেয়েদের মধ্যে পলান্তি খেলা শুরু হয়। জোড়ায় জোড়ায় জোড়ায় আত্মগোপনে গিয়ে...

আসাদের মাথায় চট করে ধরা পড়ে। অসীমদের পাড়ায় কীত্তন দেখতে গিয়ে পলান্তি খেলতে গিয়েছিল। আসাদ আত্মগোপন করেছিল দোলাদিদের ঘরে। দোলাদি বলে খিল আটকে দে কেউ বুঝতে পারবে না। আসাদ খিল আটকে দেয়। দোলাদি বলে, চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়। আসাদ তাই করেছিল। দোলাদিকে সর্বদায়ই ভয়ের চোখে দেখতো আসাদ। দেখতে যেমন স্বাস্থ্যবতী দর্শনও ভয়াল। দোলাদি চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আসাদ ভয়ে গুটিয়ে যাওয়াতে দিদি সফল হতে পারেনি। আসাদ অসীমকে বলে, দোলাদি এখন কোথায় থাকে জানিস?
-কেন?
-তোদের ওই পলান্তি খেলায় আমি দোলাদির হাতে ধরা পড়েছিলাম।
-বলিস কি? তাহলে দোলাদিই নাটের গুরু।
-তুই কিভাবে নিশ্চিত হলি। আমিও সিফিলিসে আক্্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম। ওই ডাক্তারের কাছে গেলাম। দোলাদির বিষয়টি ডাক্তারকে বলিনি। তোর বিষয়টিতো সে জানেই। সে বলেছিল এটা ছোঁয়াচে রোগ। তোর কাছ থেকেই এসেছে বলে ভেবে নিয়েছি। দোলাদি আমাকেও ফাঁদে ফেলেছিল।
-বলিস কি? তোরও সিফিলিস!
- দোলাদির সাথে হরগবিন্দদার সম্পর্ক ছিল বলে আমাকে জানিয়েছিল। সে তখনই একটি ঔষধের দোকান চালাতো। সম্ভবত দোলাদি প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়েছিল। হরগবিন্দদা বিহিতও করেছিল। ওরা চাচাতো ভাইবোন বলে ব্যাপারটা নিয়ে হইচই হয়নি।
-এখন কোথায় আছে?
-ভারত চলে গিয়েছিল। শুনেছি প্রথম সন্তান হওয়ার সময়ই মারা যায়।
-দোলাদির সিফিলিস ছিল কিনা এটা জানা গেলেও এই সমস্যার সমাধান হয়। একটি পথ অবশ্য আছে; সেটা হল হরগবিন্দ দা।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৮:১১
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×