আমি যার ভেতর
আমি যার ভেতর নাও ডুবিয়ে ফেলেছি সে এখন তৈলচিত্রে
ছড়ানো খোলা আকাশ, প্রান্তরে হারানো ঋদ্ধচোখাচোখি
অনুভবে নদীঘ্রাণ লেপটানো স্পর্শের চিতল মাছের
পিঠ।
তার পায়ের ছাপ তুলে রেখেছি ড্রয়িং রুমের দেয়ালে
গভীর রাত্রির কণ্ঠস্বর
ঘুমিয়ে গেলে আমি তার পায়ের ছাপে, আঙুলের প্রতিটি
কোষে
কোষে ঢুকে পড়ি। সুপ্ত হর্ষের কাদামাটিতে গড়িয়ে পড়ে
আমার নগরক্লেদ, ছলচাতুরি।
আমি তার গুপ্ত গ্রীবায় বুজে যাওয়া খালের পাশে দাঁড়িয়ে
থাকি
লোভের কাঁটাঝোপে লুকানো ঘৃণার মুখোশগুলো
লাফিয়ে উঠতে চায়।
আমি ছেটে দিই তাদের মাথা, শুধু ভাবি সামান্য যাতনা
দেয়ালের মধ্যে ঢুকে গিয়ে আর ফিরলোনা,
না ফেরানো মুখের ছায়ায় নদী ও সবুজ পথের তাকনো
দেহভঙ্গি
কাছিম সন্ধার সহগামী হয়ে গেলো।
আমি গতরাতে একা যোগিনীর দিকে তাকায়ে ছিলাম
নদীর পাড়
আমার চোখের ভেতর ডুবে গিয়ে যোগিনীর উরুতে
ড্রয়িং রুমের দেয়াল হয়ে উঠেছিলো।
গুহাচিত্রে তুমুল সঙ্গম
ডুবোজাহাজের তলায় বর্ণিল ঘড়ির কাঁটায় রাতজাগা দেহসুর
জলের স্বভাবে জেগে ওঠে গুহাচিত্রে
অস্পষ্ট মাকড়সার জালে আটকে থাকে হলুদ বসন্ত, সুখ পাখি
শরীরের সব জানালায় নীলাঘাতের চিহ্ন ঋতুর স্খলনে
বাজে, সীমানা ছেড়ে যাওয়া ব্যথার টিউন হয়ে
গভীর মগ্নতার স্তনে ফুটে ওঠে অস্বাভাবিক আলোকছটা, রেলভ্রমণ
যাদুকরের ছড়ানো আঙুল থেকে উঠে আসে সেতুবাসীদের সম্মিলিত
ক্রোধ ও কামের জাল ছিড়ে পড়া রক্তগোলাপ
আমি রক্তগোলাপের পরিবর্তে চাই গুহাচিত্রে তুমুল সঙ্গম
শীতার্ত বুননের ভাজে
শীতার্ত বুননের ভাজে লুকানো ইশারায় খসে পড়ি
অস্থিতে জ্বরতপ্ত প্রলাপের চিহ্ন মুছে গেছে – বৃক্ষপত্রের রেখায়
গোপন অভিসারের টোলখাওয়া দাগ
ওখানে ঋতুবদলের বাঁকে হাড়ের মধ্যকার নীলচিনচিন ব্যথার স্থিতি
ভাঙা হরফের চোখে রাত
পাজর বেয়ে নেমে যায় সুনশান মাঠের একাকিত্ব
জেব্রাক্রসিং এর চোখাচোখিতে আজ খুলে পড়েছে
মুখোশ
এখন হাড়ের ভেতর নৃত্য করছে রক্ষণশীল বালক
চজ্ঞ্চুস্নান
সম্পূর্ণ স্থিতিতে বাহুকোল ছেড়ে খসে গেছে নদী
মাদার গাছের ছায়া উঠে গেছে
ফ্রেমের ভেতর – নথালোর চিকচিক উরু
বাথানের শূণ্যতায় যেন বা উথলে ওঠা দুধ
কোন দিনও তার সঙ্গে নিরর্থ ভাবনার ছাদে দেখা হয় নাই
পুঁইমাচার নিচে বয়ে যাওয়া ভরাদৃষ্টির কোলে
তাকে দেখেছি নয়নাভিরাম পুষ্পরেণুর
তর্জনীতে ও’কে নভোমন্ডলের হেশেলে মাছ কুটতে
দেখেছিলাম, আঁশটে গন্ধের নাভীজোস্নার তলে
আজ তাকে দেখছি – পিছনে দিকের
আলোয় – নির্জন সন্তাপের ফটোগ্রাফিতে, চজ্ঞ্চুস্নান
ব্লু কিরণ
ওখানে তোমার চোখ খোলা, অপ্রচলিত জানালা
হৃদকান্নার তৈল রঙে সবুজ প্রহর। তপ্তশিহরণে
কাচপোকা, তার চক্ষু দিয়ে দেখা নদী
উঠে গেছে দেয়ালের গভীর মর্মরে। আমার কার্পেটের তলে সমুদ্র,
তোলপাড় হওয়া পিঠের-চামড়ার নিচে ছুরির ঘ্রাণ।
হাতের স্পর্শে আয়না হয়ে ওঠে জয়াড়ির মুখ
তাঁর বাজিতে শহর তলির পুরনো ইটের ভেতর মুখলুকানো
ক্রোধের ক্রসিং এ আমি দাঁড়িয়ে থাকি।
এখানে আমার চোখ বন্ধ, প্রচলিত জানালায়
ঘোমটার মধ্যে রজনীগন্ধা ফুটছে, বাজারের থলে ভর্তি
ফুল নিয়ে আমি ঘরে ফিরি।
চোখ খুলে আমি ফুলেরগন্ধে চাকু মেরে দেখি অসংখ্য চোখ
কার্পেটের নিচে সন্তর্পণে দেখছে ব্লু কিরণ
চক্ষুদীর্ণ
না শুনালে ঝুমুর নেবো না কোমরে চক্ষুদীর্ণ স্নান
ঘষে তুলে ফেলো পরিতৃপ্ত গহনার চোখ
ফল পেকে যাওয়া দৃষ্টির
তাকে খুলে নাও প্রিয়সুরঙ্গের বিভাজিত বক্ষচূর্ণ শ্লোক
সাজাও তৃষ্ণার ঠোট
নুপুরে গভীর হও খুলে দাও তপ্ত বিষাদের সুপ্তসর্মপণ
অর্ধেক মানুষের মুখ
কালীয়দহের পাশে আমার গ্রাম
কাঁহারদের পালকি নগরের ভগ্নস্তুপে গেলে
আমাকে কেউ চেনে না, ঋদ্ধ লাঙলের ফলায় গড়ে ওঠেনি
আমার দেহকাঠের দরোজা, জানালা।
আমি চন্দনকাঠের পালঙ্কে
পান খাওয়া ঠোট দেখে ভেবেছি পুকুর পাড়ের
জঙ্গলাচ্ছন্ন সবুজ ঝোপ। আমার বংশধররা যাযাবর
তাদের বৃক্ষান্তরে আমার ঠাই নেই।
আমি ফিরে এসেছি ব্যক্তির চৈতন্য যেখানে দীর্ণ
খুপরির মধ্যে শালবনের হাওয়া।
যানবাহনের হাতলে দেখি আদর্শ মানুষদের জিভে।
বাসের জানালায় আমি অর্ধেক মানুষের মুখ
সার্কাস তাবুর পাশে
সার্কাস তাবুর পাশে গলিত বাহুর দাগ উঠে আসে
মাথার ভেতর রাতপোকা ওড়ে ব্যথিত প্রেমিকার লাল পায়ের সাথে জড়িয়ে যায় কুয়াশা স্টেশনের
দেয়ালিকা ওখানে তিনটা শালিখ একটা কাঠঠোকরা
খোলা আকাশের নিচে নির্মোহ বাদামের খোসায়
শ্রেণি চেতনার কোন বালাই নাই উঠে আসছে
ঘড়ির নাভীতে সবুজ ঘ্রাণ
কাচঘরের ভেতর সানাই বেজে বেজে চুলের ভেতর সর্পফণা গড়ে তুলছে ফের বাহুর অবয়ব
ভাঙা দেয়ালের গায়ে ফুটে থাকে কালো খোপা
দূরের হলুদঘণ্টীর শব্দে দেহের কোণে লুকিয়ে ফেলি
সাপলুডুর মোহনীয় ছক
সর্পণাঘাত
তৃণ মাধুরীর অধরাবৃত উল্লাস
অপক্ষ ত্বকে জেগে উঠলে মনোকামের খোলস
সরিয়ে জানালা খোলে
নির্জন ধূপগন্ধের অধীর সন্ন্যাস
সন্তপ্ত বিবরে ক্ষয়প্রাপ্ত উনুনের আচ থেকে উড়ে যায়
শাদাদৃষ্টি সূচিবর্ণিল কাজ্ঞ্চনশোভা
একাকী পীড়নের করিডোরে ফোটে
স্ফূরণের বিলগ্ন সর্পণাঘাত
নৈঃশব্দের পরিব্যাপ্ত রোদ
নৈঃশব্দের পরিব্যাপ্ত রোদ
শূণ্য দেয়ালের ফ্রেমে গুপ্তচরের চোয়াল
ভেসে উঠছে
দৃষ্টির হলুদ কাতান
সীমানার তারে মেঘপুঞ্জ
মনোপরিসরে
ফুঠে ওঠাগালের তিলক
ভাসছে ভোর
রক্তিম আয়নায় বাজতেছে অঝোর শ্রাবণ
সবুজ ডোরে
গেঁথে তুলছি
পুষ্পচোখী খেয়ালের নির্জন করিডোর
বন্টন প্রক্রিয়ায় রান্না ঘরের পিছনে কানাকানি
বন্টন প্রক্রিয়ায় তোমার হাতখানাকে সাজায়
সুড়ঙ্গের ভেতর আপেল চিরে
দেখানোটা দেয়ালের গায়ে গান গেয়ে উঠলো না
ছুরির ডগা হতে সন্ধা নামলো না রাইফেলের বাটটা ঘুরে গেলো
রান্না ঘরের পিছনে কানাকানি
দুইখানা চোখ থেকে আর দুইখানা চোখ
মাউস প্যাডের উপর
ঠোঁটের সঙ্গে উপচে পড়া পেপসি
এইবার তোমার হাতখানা দাও বৈঠকখানাটাও
একটা ছবি ঘরের দেয়ালে হাসি উড়ছে
কোন এক দিনের কথা মুখ কুচকানো
বালিশের সঙ্গে রবীন্দ্রসঙ্গীত
তোমারটা বেশ ভাল, হাত দিলে ফণা, আমার খুব আগুন লাগে
বান্ধবীর হাতটা কাত হয়ে ছায়া হয়ে দরোজার কাঠের ভেতর
ঢুকে গেলো চোখের ভেতর তারাবাজির দেয়ালঘড়ির টিকটিক
ঘুণ লেগে স্পর্শের দাগগুলো অচেনা
উড়তে চাচ্ছে অতৃপ্তি
তৃপ্তির
মধু মাখা আর আসেনা দরোজার কাঠে অনেক দিন
রাত্রির গ্রন্থপাতায়
বক্ষদীর্ণ রাত্রির গ্রন্থপাতায় সব কিছু আর আটকাচ্ছে না
নদীর পুরো শরীরটাই টলে গেছে যে ঘাটে প্রথম ভিড়েছিল নৌকার ছায়া
সেখানে কুমিরের কঙ্কালে এখন রোদের ছটা
খালাশিদের দখলে দেয়াল ও চালান পত্র নিশী কামারেরা সেলুনে
শেভিঙক্রিম
ভালুকেরা শহরতলির সব রাস্তায় ওত পেতে
টহলে শিশুধাম ফেরত
ঠিকাদারী সুশীল রেস্তোরা মালিকের কুকুর ছানা ও
বাহানা প্রেমিকের ঘাড় থেকে নামানো ফুটপথের রিকসার যাত্রীরাওহলুদ
খামে ঢুকে যাচ্ছে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা উড়ে যাচ্ছে
গোকুলের আকাশে আকাশে
উড়াল
কালো কফি মগ থেকে শাদা পাতা থেকে উড়ে যায় জানালার রোদ তোমার ঘুমের ভেতরে জমে ওঠে সার্কাস তাবুর শীত পাখিরা পালক খুলে দিয়ে চেয়ে থাকে অঝোরে বৃষ্টিপড়ার শব্দ আঙুল বেয়ে বেয়ে ওঠে...কামারশালায় লালফুলকিও উড়ে যায়
দৃষ্টিসীমার দিগন্তে এরপর রাতের ছ্যাদলা সরিয়ে ঘষে ঘষে তুলে ফেলি মুখোশের রঙ টোপ খাওয়া গালের দিকে ছুড়ে দিই বিরহ বর্ষণের হারানো শব্দাবলী স্লেটরঙা দেয়ালে ছড়িয়ে রাখি নিস্তব্ধ করোটির ভেতর হেসে ওঠা সুনিপুণ শৃঙ্গার.....
মৈথুনের নদী থেকে অজস্র সাম্পানের গুঞ্জন ফেলে ফের উড়ে আসে কালো কফি মগ শাদা শাদা পাতা বিরহ অক্ষর বাঁকানো শরীর চুম্বন সরনীর বাড়িগুলি তখন দুলতে থাকে ব্লেডে আমার ভালবাসা যেই সময় ছিন্ন হয়ে যাওয়া ফুল
গাছের ছায়া থেকে উড়াল দিচ্ছে মাধব লতার গান
পশরা সাজিয়ে রাখা প্রাণের দু'কূল
আজ পশরা সাজিয়ে রাখা প্রাণের দু'কূল ভাসিয়ে নিলো ভাসালো মনোকুসুমবকুল.... সীমানার পিলারে গেঁথে রাখা শিমুলের লালচন্দন শিখরে কুয়াশাকুমারীর এঁকেছে গাল মনোভুলে দাঁড়িয়ে থাকা পথের কিনার সুর তুলে পালিয়েছে বাউল গিটার পাখিরা বলছে কথা পালাও পালাও পাল তুলে পালাও পালাও... পাবেনা যারে কেন তারে মনোতারে উড়াতে চাও কেন তারে বিরহে বকুল ফুলের মালাতে সাজাও
পালাও পালাও.....
ফেরালে বাহুর আড়াল
ফেরালে বাহুর আড়াল মৌনতা জুড়ে সুরের সবুজ ছায়া ছড়িয়ে পড়ে সেতুমুখি পায়ের চিহ্ন তখন হারানো দিনের গান লেগে থাকে মাটির শরীরে যেইখানে ভিজে ওঠে কোমরের দীঘল পিঠ নদীবর্তী সন্ধ্যার ফ্রক থেকে নেমে যায় সুগন্ধী বিষাদের কোল হাতপাখার চাপাহাসি ভরা মায়া এইখানে এসেই থেমে থাকি বিকেলের কামাক্ষী আলোর তীর ছুঁড়ে কুড়িয়ে নিই পরকীয়া ঘুঙুরের শব্দভরানদীঢেউ যার তলে লুকিয়ে রাখা বাজুবন্ধ মায়ার রঙ উড়ালে বাহুর মৌনতা আড়াল জুড়ে থাকে
কামচরণে
কামচরণে ধূলো লেগে ফেটে যাচ্ছে বিকেল সুর লাগানো লাটিম ঘুরছে ঠোটের ঝোপে
যেইখানে মরমী হাওয়া এসে ঘাস এর ডগা ছুঁয়ে যায় তুমি তার ভেলকি দেখো কপাট খুলে
বিজোড় হওয়া নিশানের চাকা দূরে চলে রাত পোকা নাইওরে গেলে তুমি বালিশ সমুদ্র কাশফুল একাকার নাফলা মাটির দিকে চেয়ে থাকা কুয়াশার ঘাম দোকানঘরের ভেতর কাছাকাছি আঙুল এসে জড়িয়ে ধরা গলাগলি দুধের সর দেখেই পিছলে যায় জিবের লালা নাদেখা বসন্ত চোখের কিনার থেকে নামিয়েই রাখি দেখি ধূলোর ভেতর উড়ে যাচ্ছে মনশ্যামা
মতিভ্রমণে লালঘুড়ি
মতিভ্রমণে লালঘুড়ি দাঁড় বেয়ে নেমে আসুক দিগন্তের ঝরা রঙ গড়াতে গড়াতে হয়ে উঠুক করাত চুমু নিভানো বাতির ঘাড় থেকে লাফানো সন্ধ্যার ধুন মগ্ন আঙুলের ফাঁকে খুলুক রতিসিন্দুক তবু মালগাড়ি চলে গেলো যায় একা একা পাখি ওড়া রাত মালা নিয়ে বসে থাকা
ঘড়ির নাভীতে বিকেলের রোদ শরত বসন্ত পতঙ্গসঙ্গমে নেমে যাওয়া পাতার ঠোট সৈকতে অনেক হাসির চিহ্ন জলের নিচে গান হোক তবে বাড়ী ফেরার সময় মতি মালা খেয়ালী চুম্বন
থেকে গেঁথে নিক মাদল শৃঙ্গার
দুইভাগে সরানো চোখ
দুইভাগে দেখার মধ্যে দেয়াল উড়ছে পাখি উড়ছে
কৃষকের বলিষ্ঠহাত চুয়ে পড়ছে রোদ
তামাটে ত্বকের উপোর একভাগে চোখ
সত্যিকারের পাখি পালক সুরঞ্জন
অন্যদিকে দেয়ালের মাঝখানে ঢুকে আছে চোখ
নাটক দেখছে; বাঘিনীর মাথার পাশ থেকে সরে যাচ্ছে নদী
স্রোত ও কাকাতোয়ার ঠোট
আমি দুইভাগে ছিন্ন করছি চোখ
ফলের দোকান, আঙুরের ঝোকাগুলি
একদিকে সাজানো মজ্ঞ্চ ক্রিমআলোর
ভিতর ভেসে উঠছে সাজঘর
তরকারি বিক্রেতার মুখের পাশে মাছি উড়ছে
তার ডানার নিচে তোমাকে দেখছি
তুমি সুন্দর, সবুজ
অন্ধআঙুলের ডগায় ঝোলানো মাংশের ছায়া এসে জড়িয়ে
ধরছে, উড়ে উড়ে
মানুষেরা বাজারের থলে ভরে নিয়ে যাচ্ছেমাছিদের চোখ
উরু, ডানার রঙ থেকে সরিয়ে রাখছি
তরকারি বিক্রেতার মুখ
গ্রাম ছেড়ে চলে আসা গন্ধ
নাচবো নাচের মধ্যে কালচে আলোর ঘোর
ওর মধ্যে কালো মেয়েটির লাল ঠোট
আয়নার প্রতিচ্ছবিতে টুকরো হয়ে যাওয়া চূড়ি
আউলানো বালিশের তুলো উড়ছে
ঘরে শাদা শাদা কুয়াশার ঝাক
নাচতে নাচতে আজ ঘুরবো ঘুরবে তোমার মায়া
চোখে চোখে ঘুরবে ডালিম
টিয়ে পাখির ঠোট থেকে উড়ে যাবো স্মৃতিচিহ্ন
তাল পাখার বাতাস ছড়িয়ে যাবে নাচের মধ্যে
নেশার মধ্যে দেখার মধ্যে
এখন যেখানে বাতির দেহ
কালো ফুলের ছড়ানো গন্ধ
ফুলে ওঠে মাছের পেটির মত ওখানে দাতের ঝলক নাচের মুদ্রা
ঘুমায়ে আছে
অন্ধ কোকিলের কন্ঠে চাবি মেরে দিছে সময়
বাসের জানালায় মুখ বের করা শহরতলী
জিভে বের করা হতাশা সব কিছু
বিষাদের তলায়
সাজিয়ে রাখে অবয়ব চোখের কালি
নাভিতলে ঝুলিয়ে রাখে যন্ত্রণা প্রথা ও রীতিনীতির চোয়াল
ওখানে আজ নাচের মধ্যে
রোদ জমে উঠবে
পোকারা উড়ে এসে বসবে ডালে ডালে
নদীর ঘ্রাণ কামারের আগুনের আঁচ থেকে দূরে আজ নাচবে কালোকুমারীর গাল
এখনকার ভাবনা
এখনকার ভাবনা থেতলে যাচ্ছে
সোনাই বিবির কানের দুলে ঝুলে থাকতেছে বিষাদ গলুই ছুয়ে থাকা আধার আর মৃদু চিন্তার স্রোতে বালুকণার মত সন্ধ্যার উলুধ্বনি মিলিয়ে যাচ্ছে মনে মনে ভাবনার পিচগলা পথে
তুমি আর ফিরবে না নাটাই থেকে রোদ ছিটকানো চোখের দেখা
ফুরিয়ে যাচ্ছে হারানো বিকেল রঙহীন কনুইয়ে এসে গুতা দিচ্ছে ফিরবে না তুমি অন্ধঘড়ি নির্মাতার কাধ ভালবেসে চুপকরে সবুজ পাতার নিচে দাড়িয়ে থাকি রোজ সেখানে নিজের ঘর খুজে পাচ্ছি না
হাত পা কারা যেন খুলে নিয়ে গেছে সম্পর্কহীন এক সেতুর উপর নিজের মুখাবয়ব চেনা যাচ্ছেনা...বরফ হয়ে রয়ে যাচ্ছে দেয়ালে
এই না চেনার ভেতরকারগুমোট অন্ধকার চোখের পাতার পরে মেঘ হয়ে থাকতেছে
নানা রঙের ঘুড়িতে নিজের ইচ্ছাগুলি বাসনাগুলি উড়তে উড়তে হারিয়ে যাচ্ছে
এর ভেতর মনোবাসনার পায়রাগুলির পালকের মধ্যে চিক চিক রোদ রক্তাক্ত নেশার নাইটগাউনে ফিরিয়ে নিচ্ছি সুপ্ত ঘোরলাগা সিড়ি
ঘোরের মধ্যে চিন্তার তারে ঝুলিয়ে রাখছি পাখিদিন পাখিরাত নদীবর্তী সরলতার ঝাক এসে খুনসুটিতে রান্না ঘরে টেবিলে চেয়ারে বেডকভারে মিটিমিটি হাসতেছে....
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



