মোমালোর চিকন শরীর
মোমালোর চিকন শরীরে-ফেসোতে বাধা স্বপ্নের খেঁজুর কাঁটা, তাকে দেখতে দেখতেই
রসেভরা ফলের দিকে তাকিয়ে ছিড়ে যায় বাধনের গেরো। আহা! বনষ্পতি!
ঘুমহীন নগর জুড়ে হরিণের নকশা থেকে খসে যাচ্ছে টিয়ে পাখি..
ঝু-উ-ম বৃষ্টিতে শহরের পলেস্তার গলে বেরিয়ে আসছে গুম হয়ে থাকা অজস্র সাপ।
উড়ন্ত নাগরিক কামকলার জানালায় যাদুকরের আস্তিনে
দেখা যাচ্ছে সদ্য ঝাউবন।
ডাকহরকরাদের হাঁড় থেকে ক্রমশঃ জন্ম নেয়া কুরিয়ার সার্ভিসের ডকুমেন্ট
আর নিদ্রাপরীর চোখভরা আকাশ বিলি করা
বালকে ভরে উঠেছে শহর।
এদের হাত ফসকানো বৃষ্টির ফোঁটায় আমাদের বিচ্যুত
ভালবাসা আর রাস্তার মোড়গুলো আড়ামোড়া দিয়ে জেগে উঠছে,ধুলো ধুয়ে বেরিয়ে
আসছে পরকীয়ার গোপন ফসিল। যান্ত্রিকবাহনেরা ফোয়ারার ডানা মেলে
পালিয়ে যাচ্ছে কোথায় জানিনা জানিনা...
ক্ষুধা পায় বলেই কালো পেয়ালার ভিতর জেগে উঠছে ক্ষুধার্ত অধর। অ-নে-ক খরায়
দাহসঙ্গমের পর শ্রমিক শ্রেণির নারী-পুরুষেরা বৃষ্টিতে ভিজতেছে,
আকন্ঠ মহূয়া পান করে ভেঙ্গে ফেলছে অদৃশ্য শেকল।
তারপর সিসাদের ঢলে পড়া চুলে ঘুমিয়ে যাচ্ছে প্রান্তস্বরের নহর। তাদের
কাঁটাচূর্ণ পথে বেরিয়ে আসছে মহুয়ামগ্ন নদী, সেই নদীর তীরে
কাশবনে ডেকে চলেছে আমাদের অজস্র ঋতুবতি দুপুর।
মুখের রঙ তুলে ঘরে ফেরা বিকেলগুলো মুখথুবড়ে শুয়ে শুয়ে টিভিতে দেখছে অনেক
রঙের মুখোশ, পাহারাদার-আরশুলারা আপন কুঠুরিতে ঢুকে গেলেই ন্যাংটি ইঁদুরেরা
কেটে ফেলে গুদামঘরের সাজানো ব্রা, তারিখ পেরুনো
খাদ্যাদির বানে মুখগুজে যে
বঞ্চিতেরা আরেকবার সবল হয়ে উঠার স্বপ্ন দেখছে, তাদের হাড়ের বীণ বেজে ওঠো-
গুম হয়ে থাকা সাপেরা খা এবার বক্ষিলারে খা - বলে উঠুক সাপুড়ে গণক।
গেলোবার যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল
তাদের অন্তরমহলে জন্ম নিচ্ছে শতশত উলুবন।
মধুআলাদের সংসারে জেগে উঠুক
প্রান্তস্বরের ঢেউ। কখনো কখনো আমরা পাঁজর খুবলে তুলে আনবো কালো-তৃষ্ণা,
কখনো কখনো আমরা কুঠারের কোঁপে ভাগাভাগি করে ঘরে তুলবো বনজমাখন,
উনুনের পাশে বসে থাকা শাড়ীতে দেব ধারালো মাঞ্জা তারপর রসইঘরের চালা- বেড়া
উড়িয়ে দেবো ঘুড্ডির মতন,দিগম্বর ঘরে বেড়ালের কোন ভয় নেই..
ঝুউম বৃষ্টির শব্দ বহুমাত্রিক সিরামিকে মিশলে আমরা ফিরে যাবো
অলৌকিক কাঁটাবনে
দুর্বাঘাসের ছেলেদের দলে নিয়ে;যারা বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছিল
চাতকের ডেরায়।
অলীক বৃক্ষের মগডাল থেকে শূন্যে উঠে যাবে আমাদের বেপরোয়া পা
তারপর হেঁটে যাবো মেঘেদের গ্রামে
মেঘকন্যাদের ডেরায় বস্তুতঃ যারা আমাদের আদলে পুতুল বানিয়ে কামমন্ত্রের
সূচ ফুটিয়ে ডেকেছিল, তাদের চোখের মণিতে জেগে উঠা দেখবো
রোয়া উঠা নগরের ক্ষোভ...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


