somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনার্য আজ বাড়ি ফেরেনি

১৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাধুর চরণে বহুকাল ধুলোর মত লেপ্টে আছে চরণদাসি, তাকে আমি যতবার দেখি টুকে রাখি দৃষ্টির উন্মুক্ত খাতার হলুদ পৃষ্ঠায়। খুলে খুলে ক্ষণে ক্ষণে পড়ি। উলুবনের গভীরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি আর ভাবি - এবার চোখের দেখা পেলে তুলে রাখবো মাটির দেওয়ালের ভিতর। গভীর রাতে দেওয়ালে কান পেতে শুনবো তাঁর গোপন সিম্ফনী।
হাহাকারের বন্যায় যেবার ভেসেছিল বক্ষস্থ পাখিদের ভিড়, সেবার মৌসুমী ফলের ঘ্রাণ আর মানুষের সম্মিলিত বিরহের চৌকাঠে খুলে পড়েছিল মৌবনের নিরব প্রহরী। তার খোলা দেহের খালগুলোতে মাছেদের অবাক হওয়া চক্ষুতে মিশে গিয়েছিল আমাদের কাঁহার পাড়া। পালকিশুন্য কাঁহার পাড়ার বাঁশবাগানে আমরা মাটির পৃথিবী এঁকে তার ভিতর একে অপরে আঙুলগুলো লুকিয়ে ফেলে সমস্বরে হেসে উঠলে বাঁশপাতার মচমচ শব্দের তরঙ্গ ঢেউ তুলে ছুটে আসতো আমাদের হাসির নদে। তখন আমাদের পরাণপুকুরে ভেসে উঠতো - গাঙপাড়ের রাখালের মুখ, উড়তে গিয়ে বারবার পড়ে যাওয়া বাচ্চা শালিখেরা আড় চোখে দেখতো এইসব। আমাদের মনে তখন হঠাৎ-ই বৃষ্টি নামতো।
ময়ূরের পেখমে যাকে আমরা একসঙ্গে হেসে উঠতে দেখি, তার চরণে লাল মাটির দাগ। আমরা দাগের বাইরে যাই না। যেতে চাই না। সেই থেকে ছকের ভিতর আমাদের ঝাউবন। আমাদের সুষমার আড়াতে আমরা ঝুলিয়ে রাখি সবুজ ড্রাগন। ভুল করেও কেউ ছুঁতে যাই না কলমির মন। চরণদাসির নিধেষ আছে, যে ছোঁবে কলমির মন, তাকে সে নিমিষে করবে বর্জন। আমরা ভয় পাই। নিধেষের বেড়া ভেঙে যেতে চাই না কলমির নরোম ছায়ায়।
আমি মনে মনে চরণদাসিকে ভয় পাই না। উপর উপর ভয় পাই। তাঁর দিকে তাকালে আমার মনে হয় এই কথা বুঝে গেছে সে। আমি গোপনে গোপনে বিড় বিড় করি;
খোঁপার মেঘেতে স্পর্শের বাণ
ধনুকের দেহ! তুমিই সাম্পান। চড়াও রোদেলা নাওয়ে গোপন তুফান
দৃষ্টি মৈথুনে ডালিম,হোক খান খান।
ডালিমের লাল দানায় ভাসুক বক্ষখেত, সোহাগের রাতে পাঠিও
সবুজ সংকেত।
ঝুলিয়ে রাখা সবুজ ড্রাগন মাটিতে খুলে পড়ে। জানালার রড বেয়ে বেয়ে আমার ঘরে ঢুকে পড়ে বুনো-শব্দের গভীর কাঁপন। আমিও কাঁপি। বুক পকেটে হাত রাখি। অজস্র গোলাপের চারাতে ভরে ওঠে আমার শ্রীমন - ডাকে, এসো কুটুম, বসো আমার পাঁজরের তারে। কেউ আসে না, তবু একা একা তারের ভিতর কে যেন ডাকে;
নিশি কুটুমের ডাক দিয়ে যায়
ভরা নদীর উচ্ছল যৌবন,কাহারে কুসুম বলে ডাকে
আহা! হৃদ্যতার ছিন্ন মৌবন।
সাদা পালকের ঘ্রাণ মুছে
ফিরে দেখে প্রান্তজন,নোলকের কোণে স্নিগ্ধ হাসে -
তারই সিক্তবসন।
কাঁহারদের মেয়েরা স্নানে যায়। আমরা ওৎ পেতে থাকা ঢোল-কলমির রোদে মিশে গিয়ে দেখি তাদের খোঁপার বাহার। নূপুরের শব্দে আমরা টুকরো টুকরো হয়ে ধুলোতে গড়াই। আমাদের বক্ষে তারা ছাপ দিয়ে গেলে আমরা হৈ হৈ করতে করতে তাদের পায়ে পায়ে পুকুরে নামি। মাছের সংসারে আমাদের তৃষ্ণা হয়ে ওঠে পানির সন্তান। আমরা আবার গভীর রাতে সমস্বরে হেসে উঠি। আমাদের দেহ তখন নূপুরে বাজে ধবল শয়তান। আমরা ঘুমহীন চৌকাঠে হাসি আর;
দেহের গাঙ ভেসে গেলেই
পলকে ঢেউ উথলে ওঠে।
উজানের মাঝি,কালোতরীতে ভাসিয়ে নিও
জলসুড়ঙ্গের পাঁজরে
যেসুধা যেসুমধুর কাঁপন ওড়ে,তাকে সামলিয়ো।
জ্বলে ওঠে নুনের ভিটা। খুব গভীরে কে যেন মুছে দিচ্ছে আমাদের ব্যক্তি মহিমা –এ শুধু মানবিকতা নয়, পাহাড়ের ঢাল নয়, সুরের ভিতর কি যেন হারিয়ে গেছে, আরো প্রাণীকুলের ভিতর থেকেও আওয়াজ ভেসে আসে, আমরা কারো দিকে তাকাই না, চুপ করে মাটির দিকে তাকাই। নিজেদের আলাদা করে নিজেদেরকেই ফিরে দেখি আমরা, আমাদের হাড়ের নগরে ঝাঁকে ঝাঁকে সৈন্যরা ঘুম থেকে জাগে, আমরা আবার ফিরে যাই চরণদাসির কাছে। ফিরে যাই ভোরের পাখিদের কাছে।
ভোরে পাখিদের কাছে রাগ ভৈরবি শুনতে শুনতে চরণদাসির খোঁপায়, কখন যে উঠে এসেছে সর্পসর্পিনী। আলো-লতার মৃদু স্পর্শ, গোপনে স্নান সেরে মোহ চিলের চোখে চোখ রাখে - মনে পড়ে অনার্য আজ বাড়ি ফেরেনি...
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:১১
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×