somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আসুন, বাংলাদেশে বিজ্ঞাপন নিয়ে আমরা একটা নীতিমালা তৈরি করি।
একটা বিজ্ঞাপন নীতিমালা থাকা খুবই জরুরী। বাংলাদেশে এখন যে বিজ্ঞাপন নির্মাণ, প্রচার ইত্যাদি কর্মযজ্ঞ চলতেছে তা একপেশে, আনচ্যালেঞ্জড। কিন্তু এর দর্শক এবং দর্শকদের উপর এর ইমপ্যাক্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপনের সবচেয়ে বড় দর্শক অংশ হচ্ছে শিশু। মায়েরা তাদের খাওয়ানোর জন্য বিজ্ঞাপন দেখায়। টেলিভিশনের সবচেয়ে আকষর্ণীয় অংশ হচ্ছে বিজ্ঞাপন, কারণ আর কোনো অনুষ্ঠান এতো খরচ করে, এতো ক্রিয়েটিভ লোকজন দিয়ে বানানো হয় না।

আমি প্রথম কয়েকটা নিয়মের কথা বলছি। যার যেমন মনে আসে নিয়ম লিখতে থাকুন। পরবর্তীতে ব্লগের সবাইকে নিয়ে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।

একটা খসড়া দাঁড়া করানো গেলে যথাযথ ফোরামে পেশ করা হবে। আসুন শুরু করা যাক।


বিজ্ঞাপনদাতারা পণ্য সম্পর্কে অতিরঞ্জিত বক্তব্য দিতে পারবে না। অনেক সময়ই তারা পণ্যটি সত্যিকার অর্থে যা তার চেয়ে অনেক বাড়িয়ে বলার চেষ্টা করে থাকেন।


বিজ্ঞাপনে এমন বিশ্বাস জন্মানোর চেষ্টা করা যাবে না যে বিজ্ঞাপনে যা দেখানো হচ্ছে পণ্যে তার সবকিছুই পাওয়া যাবে। বিজ্ঞাপনে দামের কোন বিষয় উল্লেখ করা হলে, পণ্যটির কোন অংশ নয়, অবশ্যই সম্পূর্ণ জিনিসটি কিনতে মোট কত টাকা লাগবে তা উল্লেখ করতে হবে।


বিজ্ঞাপনে শিশুদের প্রতি বলা যাবে না যে এই পণ্য ব্যবহার করলে তুমি অন্য শিশুদের চেয়ে ভালো করবে। বা এমনও বলা যাবে না যে এই পণ্য ব্যবহার না করলে লোকে হাসবে।


একই পণ্যের বিজ্ঞাপন আধাঘন্টার মধ্যে দ্বিতীয়বার দেখানো চলবে না। অর্থাৎ কোন ধরনের ব্রেনওয়াশ চলবে না।


পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতায় এক-চতুর্থাংশের বেশি বিজ্ঞাপন দেয়া চলবে না। কোনো পাতায়ই অর্ধেকের বেশি বিজ্ঞাপন দেয়া চলবে না।


বিজ্ঞাপনে নারীকে কোনোভাবেই হেয় প্রতিপন্ন করা হয় এমন ছবি, বাক্য বা ইশারা ব্যবহার করা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ, একটা কোকাকোলার বিজ্ঞাপনে বোতল দিয়ে একটা মেয়ে পেছন থেকে ফিগার মাপার চেষ্টা করে কয়েকটি ছেলে।

কোনো বিশেষ জাতিগোষ্ঠীকে হেয় প্রতিপন্ন করা যাবে না।


বিজ্ঞাপন নির্দিষ্ট পণ্যের বিবরণ তুলে ধরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। দেশপ্রেম, সততা ইত্যাদি বিষয়ের সাথে অনাবশ্যক ও অপ্রাসঙ্গিক সম্পর্কের অবতারণা করে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করা যাবে না। (উদাহরণস্বরূপ, ধোয়া সাদা কাপড়ের সাথে সাদা মনের মানুষের তুলনা। কয়েকজন নিভৃতচারী দেশসেবককে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ মহৎ, সন্দেহ নাই। কিন্তু বিজ্ঞাপনে সেই মানুষগুলোকে ব্যবহার করা জঘন্য।)


টিভি বিজ্ঞাপনে সাউন্ড সাধারণ অনুষ্ঠানের সাউন্ডের সমান রাখতে হবে। ৩-৪ ডিবি বাড়িয়ে টিভি দর্শকের কানের বারোটা বাজানো যাবে না।


টিভি বিজ্ঞাপনের জন্য একটা সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করতে হবে। সেটি কোনোভাবেই ৪০ সেকেন্ডের উর্ধ্বে হবে না। পয়সা থাকলেই বিরাট বিরাট বিজ্ঞাপন বানিয়ে দর্শককে তা দেখতে বাধ্য করা যাবে না। (উদাহরণস্বরূপ, ক্রিকেট খেলা চলাকলীন পরের ওভারের তিন বল হয়ে যায়, কিন্তু বিজ্ঞাপন শেষ হয় না)।

১০
প্রতারণা বা চালাকী ধরনে অফার করা যাবে না। হিসাবে গন্ডগোল হয়, সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয় এমন জটিল হিসাব দিয়ে সস্তার ভান করে প্রতারণা করা যাবে না।

১১
বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশুদের চুরি করা, মিথ্যা বলা ইত্যাদি কাজে উৎসাহিত করা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ, একটি শিশুখাদ্যের বিজ্ঞাপনে চুরি করাকে ক্রিয়েটিভ কাজ হিসাবে উপস্থাপন করা হয়।

১২
পণ্যে ক্ষতিকর কোনো পদার্থ থাকলে সেটা সম্পর্কে অবশ্যই সতর্কতা বাণী যথাযোগ্য দৃষ্টি আকর্ষক ভাবে প্রচার করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ধুমপান স্বাস্থ্যে জন্য ক্ষতিকর। ইত্যাদি।

১৩
কেউ বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রতারিত হলে, বিভ্রান্ত হলে, আক্রান্ত হলে তার জন্য যথাযথ অভিযোগ করার ব্যবস্থা এবং তার প্রতিকারের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

১৪
বিজ্ঞাপন চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে তার ন্যূনতম মান থাকতে হবে, গল্প, নির্মাণশৈলী, অর্থবহতা, শ্রুতিমধুরতা, দৃষ্টিনান্দনিকতা ইত্যাদি। দৃষ্টিকটূ, শ্রবণাযোগ্য, কুরুচিপূর্ণ, নিম্নমানের বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না।

১৫
বিজ্ঞাপনে ধর্মীয় গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ: কোনো পণ্যকে `হালাল' আখ্যা দেয়া যাবে না। কারণ, এই শব্দটি শোনামাত্রই মুসলিম ক্রেতাগণ দুর্বল হয়ে পড়বেন। এতে তার প্রতারিত হবার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

১৬
বাংলাদেশে ঔষধের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ। একই কারণে হাসপাতাল, ডায়াগনসিস সেন্টার ইত্যাদির বিজ্ঞাপনও নিষিদ্ধ হতে হবে। বিজ্ঞাপনের পেছনে হাসপাতাল বা ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলো যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে, তা দিয়ে সপ্তাহে অন্তত একদিন দরিদ্র মানুষকে তারা বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে পারে।

১৭
কোনো পণ্যের নতুন অফার সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রচার করা হলে পূর্বের অপারটি বাতিল কি না তা উল্লেখ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ফোন কোম্পানির নতুন কল রেট অফার করার সময় উল্লেখ থাকতে হবে, পূর্বে যে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা ২৫ পয়সা/মিনিট কলরেট ছিল তা বাতিল হয়েছে, না কি বহাল আছে। কারণ এটা না জানার কারণে অনেকেই প্রতারণা শিকার হন।

আমি শুরু করলাম। আপনি একে পরিণতি দিন। ঠিক জায়গায় উপস্থাপনের দায়িত্বও আমি নিব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28867581 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28867581 2008-11-11 07:59:51
আপন ঘরের খবর নে না ...
..............

ও যার আপন খবর আপনার হয় না
একবার আপনারে চিনতে পারলে রে
যাবে অচেনারে চেনা ....]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28855611 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28855611 2008-10-16 18:25:11
পোস্টটার হৈল কী? Click This Link)।

ব্লগটা ১৭১ বার পঠিত। কিন্তু ০ টি মন্তব্য, ০ জনের ভালো লেগেছে, ০ জনের ভালো লাগেনি।

এর মধ্যে আমি নিজে চেষ্টা করেছি ৮-১০ বার। বাকীরা অন্য ব্লগাররা। এমন হতেই পারে, কেউ কোন মন্তব্য করেনি, কেউ কোনো রেটিং করেনি। হতেই পারে। কিন্তু তবু কেমন যেন মন মানতে চায় না।

(জনান্তিকে: আমি নিজে অবশ্য ২-১ বার লগ ইন না করে ব্লগে ঢুকে পোস্টটা পড়ার চেষ্টা করেছি। পড়া যায়নি।)

এই পোস্টের মন্তব্য সরাসরি প্রকাশিত হবে বক্সে চেক মার্ক করা আছে। তবু।

<img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28842714 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28842714 2008-09-13 21:29:12
এক্সপেরিমেন্টাল ...
বাসদ (বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল) একবার অশ্লীলতা বিরোধী আন্দোলনে নাইমা সিনেমার পোস্টারে মুনমুনের গায়ে কালি মাখার কর্মসূচি দিয়েছিল। আমার কাছে দুইটার মধ্যে কোথায় জানি মিল আছে মনে হয়। মিল আরো অনেক জায়গায় আছে।

রাব কিন্তু একবার এফডিসিতে গিয়েছিল অশ্লীলতা ঠেকানোর জন্য। শ্যুটিং-এর সময় রাব ভাইয়েরা বন্দুক উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল, তবে কথা হল, তারা মাথাটা খানিক ঝুঁকিয়ে রুকু দেবার মতো করে, আর নিচু থেকে উঁকি দেবার মতো করে, ৩০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি উপরের দিকে তাকিয়ে ছিল, এক্সট্রাদের খাটো খাটো স্কার্ট কিংবা উঁচু করে পরা পেটিকোটের ফাঁক দিয়ে কিছু দেখা যায় কি না তা দেখার জন্য, যেই না দেখা গেল, অবশ্য ওদের কেউ ভুলও দেখে থাকতে পারে, তাছাড়া ক্যামেরার ঠিক পেছন থেকে মারা ওয়াশ লাইটটা তখন কায়দা করে নিবিয়ে দেয়া হয়েছিল, সেজন্যই অল্প আলোয় ছায়া দেখেই সেটাকে গোপন কিছু ভেবে রাব ভাইয়েরা এক চিৎকার করে 'কা-আ-ট!' বলে বসলো। আমাদের রাব ভাই। সবার প্রিয়।

আর বেকুব কনস্টেবলগুলো ভাবলো 'কাট'। বাস, ডাইরেক্ট ক্রসফায়ার। ধুম!
তবে কথা হল, সেই ফায়ার কোন বন্দুক দিয়ে করা হয়েছিল, চামড়ার বন্দুক নাকি রিয়েল অ্যামুনিশন তা আর জানা যায়নি।

আমরা আবার অতো কিছু নিয়ে মাথা ঘামাই না। মাথা থাকলে তো ঘামাবো!

ওই ঝন্টু! ...র পোলা! এদিকে এক কাপ চা দিছ! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28841303 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28841303 2008-09-10 19:16:37
আমি এক বিজ্ঞাপন ২ হাছাটাই বড় বেঈমান, শুনলেই মিছা মনে অয়।

বিজ্ঞাপনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কিছু বিধি-বিধান আছে। কানাডায় শিশুদের কথা চিন্তা করে বিজ্ঞাপন দাতাদের জন্য অবশ্য পালণীয় দশটি বিধান নিচে অনুবাদ করে দিলাম। কানাডায় এটা আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য। অন্য অনেক দেশেই এটি বলবৎ করার চিন্তা ভাবনা চলছে। কানাডার অথরিটি অভিভাবকদের বলে রেখেছে, এই নীতির সাথে মিলিয়ে মনোযোগ দিয়ে বিজ্ঞাপন দেখুন। বেচাল দেখলেই খবর দিন। ব্যবস্থা নেয়া হবে।

১. বিজ্ঞাপনদাতারা কোন অবস্থাতেই একটা পণ্যের ক্ষেত্রে এক বছরের বেশি সময় ধরে "এলো নতুন", "ইনট্রোডিউসিং" বা "ইনট্রোডিউসেস" জাতীয় শব্দ বা শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করতে পারবে না।

২. বিজ্ঞাপনদাতারা পণ্য সম্পর্কে অতিরঞ্জিত বক্তব্য দিতে পারবে না। অনেক সময়ই তারা পণ্যটি সত্যিকার অর্থে যা তার চেয়ে অনেক বাড়িয়ে বলার চেষ্টা করে থাকে।

৩. বিজ্ঞাপনদাতারা এমন ক্রিড়াসামগ্রী বা বিল্ডিং খেলনা বিক্রি করতে পারবে না যা গড়পড়তা শিশুরা বুঝতে পারে না।

৪. শিশুদের জন্য প্রযোজ্য নয় এমন কোন বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ, এমন কোন ভিটামিন বা ঔষধ প্রচার করা যাবে না যা শিশুদের জন্য প্রযোজ্য নয়, শুধু বড়দের। বড়দের পণ্যের বিজ্ঞাপনে কার্টুন ইমেজ, ছোটদের আকৃষ্ট করে এমন কোন জিঙ্গেল, ছবি বা চরিত্র কোন অবস্থাতেই ব্যবহার করা যাবে না।

৫. বিজ্ঞাপনদাতারা বিজ্ঞাপনে শিশুদের বলতে পারবে না, নিজেদের জিনিস তোমরা নিজেরাই কেন কিংবা বাবা-মাকে এখনই কিনে দিতে বল।

৬. বিজ্ঞাপনদাতারা কখনই শিশুদের সুপরিচিত জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী কিংবা কার্টুন চরিত্র তাদের বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। তবে বিজ্ঞাপনদাতারা নিজেদের জন্য কোন চরিত্র তৈরি করে নিতে পারবে।

৭. বিজ্ঞাপনে এমন বিশ্বাস জন্মানোর চেষ্টা করা যাবে না যে বিজ্ঞাপনে যা দেখানো হচ্ছে পণ্যে তার সবকিছুই পাওয়া যাবে। বিজ্ঞাপনে দামের কোন বিষয় উল্লেখ করা হলে, পণ্যটির কোন অংশ নয়, অবশ্যই সম্পূর্ণ জিনিসটি কিনতে মোট কত টাকা লাগবে তা উল্লেখ করতে হবে।

৮. পণ্যটি শিশু বা বয়স্করা অনিরাপদ কোন কাজে ব্যবহার করছে এমন দৃশ্য সংবলিত বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না।

৯. বিজ্ঞাপনে শিশুদের প্রতি বলা যাবে না যে এই পণ্য ব্যবহার করলে তুমি অন্য শিশুদের চেয়ে ভালো করবে। বা এমনও বলা যাবে না যে এই পণ্য ব্যবহার না করলে লোকে হাসবে।

১০. একই পণ্যের বিজ্ঞাপন আধাঘন্টার মধ্যে দ্বিতীয়বার দেখানো চলবে না। অর্থাৎ কোন ধরনের ব্রেনওয়াশ চলবে না।

আমরা কোথায় আছি? আমাদের বিজ্ঞাপনের ভাষাগুলো একবার যাচাই করুন না? আমাদের দেশে কবে বিজ্ঞাপনের ভাষা ও ভঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করার মতো আইন হবে? ডিজ্যুসের একটা না দুইটা অ্যাড খালি বন্ধ করেছে সরকার, আমার দেখা মতে। বাকীরা তো যা মনে আসে তাই বলে যাচ্ছে ধুন্দুমার। কে রাখে, কে ঢাকে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28840958 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28840958 2008-09-09 23:50:10
ডকুমেন্টারি ফিল্ম মানেই ওয়াইল্ড শ্যুটিং না
আমাদের দেশের তরুণ ফিল্মমেকাররা তাদের প্রথম ছবি হিসেবে বানান ডকুমেন্টারি। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য (ফিকশনের মতো) কোনো প্রস্তুতি নিতে হয় না, স্ক্রিপ্ট লাগে না, স্ক্রিন প্লে লাগে না (অনেকেই তাই মনে করেন)। ক্যামেরা একটা বগলদাবা করে বের হয়ে গেলেই হল। জায়গা মতো গিয়ে ক্যামেরা খুলে ইচ্ছামতো ঘুরালে আর মানুষজনের সাক্ষাৎকার নিলেই মুটামুটি কর্মটি সারা হয়ে যায়। এরপর বাকী থাকে সম্পাদনা, যেখানে টাইটেল আর মিউজিক বসানো ছাড়া অন্য কাজ খুব কমই করা হয়।

সাক্ষাৎকার সম্পাদনার সময় কথার মাঝখানের কাটা ভরাট করার জন্য ইনসার্ট ঢোকানো হয়। সেই ইনসার্টের কোনো অর্থ থাকে না। কেবলই কাটা ভরার দরকারে তা সম্পন্ন হয়।

দ্বিতীয় কারণটা হল, আনকমন একটা বিষয় নিয়ে ডকুমেন্টারি দেখাতে পারলে নিজেকে তাদের কলম্বাস কলম্বাস লাগে। তারা এমনও বলে বসে যে অমুক গ্রামটা, তমুক চরটা আমরা 'আবিষ্কার' করেছি।

ডকুমেন্টারির দোষত্রুটির কথা বলতে গেলে তারা মুখস্ত জবাব দিয়ে জানান যে যথেষ্ট বাজেট ছিল না, বাজেট থাকলে হাতী-ঘোড়া মেরে দেখাতাম। কোন শটের ত্রুটির কথা তুলতে গেলে বলেন, এটি চলচ্চিত্রের নতুন গ্রামার। তারা গ্রামার ভাঙছেন। তারা সাবেকী ব্যাকরণ মানেন না। কেউ কেউ এক কাঠি বেড়ে বলেন, ওসব গ্রামার পুঁজিবাদী। ওসব মানতেই হবে, এই মনোভাব হচ্ছে ঔপনিবেশিক মনোভাব, পরাধীন মনোভাব।

কিন্তু তারা জানেন না চলচ্চিত্রের একটা বিশেষ ভাষা আছে। একটা রিয়েল জিনিসকে ক্যামেরায় ধারণ করলে তা আর রিয়েল থাকে না। ফ্লাট হয়ে যায়। চলচ্চিত্রের ভেতরকার বাস্তবতা হচ্ছে ভারচুয়াল বাস্তবতা, সেটা তৈরি করতে হয়, কেবল ধারণ করে সেটা তৈরি করা যায় না। এই ভারচুয়াল বাস্তবতা তৈরি করতে হয় মূলত সম্পাদনার মাধ্যমে। কখনও কখনও স্পেশাল এফেক্টের মাধ্যমে, শব্দ বা আবহ সঙ্গীতের মাধ্যমে। সম্পাদনার কথা মাথায় রেখে, সে অনুযায়ী দৃশ্য ধারণ করার মাধ্যমেই তার ভিত্তিভূমি প্রস্তুত করতে হয়। সেই বাস্তবতা বা রিয়েলিটি তৈরি করার জন্য কখনও কখনও (এমনকি প্রায়শই) মিথ্যা বা সাজানো দৃশ্যও ধারণ করতে হয়। তবেই সেই বাস্তবতা ফুটে ওঠে।

আর এটা করতে গেলে সেই জায়গার অন্ধি অন্ধি চিনতে হয়। সেখানে ছয়মাস-একবছর আগে কাটাতে হয়। তাহলে সেখানকার বাস্তবতাটাকে কিভাবে ভারচুয়াল বাস্তবতায় রূপান্তর করা যায় সেটা বোঝা যায়।

ধরা যাক একটা বাস ও রিক্সার অ্যাক্সিডেন্টের কথা। অ্যাক্সিডেন্ট ঘটতে বাস্তবে সময় লাগে এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশ। কিন্তু সেই অ্যাক্সিডেন্ট চিত্রায়িত করতে হলে, প্রতিটি ডিটেল দেখাতে হলে সেটার দৈর্ঘ্য দশ সেকেন্ডেরও বেশি হতে পারে। বাসের দ্রুতগতিতে আসা, রিক্সাওয়ালার সময়মতো সরতে না পারা, যাত্রীদের চেহারায় শংকা, বাসের ড্রাইভারের শেষ মুহূর্তে দুর্ঘটনা এড়ানোর চেষ্টা এই সবকিছুর পরিস্ফূটন করা হলে দেখা যাবে তার দৈর্ঘ্য অনেক বেশি। এখানেই বাস্তবতা আর ভারচুয়াল বাস্তবতার পার্থক্য। ভারচুয়াল বাস্তবতায় টাইম আর স্পেসের মাত্রা অন্যরকম।

এই ভিন্ন ল্যাংগুয়েজ না শেখা পর্যন্ত চলচ্চিত্র বানানোর চেষ্টা কামারের অলংকার বানানোর মতো। সেখানে শ্রেণীচৈতন্যের বিলোপ থাকতে পারে, কিন্তু আর্ট নয়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28839576 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28839576 2008-09-06 17:32:48
বিশ্বব্যাপী অস্ত্রের বিচরণ : কয়েকটি স্টেটমেন্ট
গত দশ বছরে ৮ মিলিয়ন অস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। বিনিময়ে প্রতি বছর উৎপাদন হয়েছে আরো ৮ মিলিয়ন করে, ধ্বংসের ১০ গুণ।

বছরে ১২ বিলিয়ন সামরিক ক্ষুদ্রাস্ত্রের রসদ উৎপাদিত হয়, পৃথিবীর প্রতিটি নারী, পুরুষ ও শিশুর জন্য বরাদ্দ হয় ২টি করে বুলেট।

বিশ্বে সামরিক খাতে প্রতি বছর ব্যয় হয় ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। সারা পৃথিবীতে কৃষিতে ব্যয় মাত্র ৩২৫ বিলিয়ন; আর দরিদ্র দেশের জন্য সহায়তা বরাদ্দ হয় ৬০ বিলিয়ন।

২০২০ সালের মধ্যে যুদ্ধ আর সন্ত্রাসে হতাহতের সংখ্যা এ যাবত পৃথিবীতে ম্যালেরিয়া আর বসন্তে মোট নিহতের সংখ্যাকে বহুগুণে ছাড়িয়ে যাবে।

হিরোশিমা আর নাগাসাকিতে একত্রে যত লোক নিহত হয়েছিল, প্রতি বছর আগ্নেয়াস্ত্রে তার চেয়ে বেশি লোক প্রাণ হারায়।

ধনী দেশগুলো (আমেরিকা, বৃটেন, জার্মানি, ফ্রান্স ইত্যাদিসহ ১২টি দেশ) এইচআইভি/ এইডস নিয়ন্ত্রণে যত টাকা ব্যয় করে তা তাদের সামরিক খাতের মাত্র ১৮ দিনের ব্যয়। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ল্যাটিন আমেরিকা এবং আফ্রিকা প্রতি বছর অস্ত্রের জন্য ব্যয় করে ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এই টাকা দিয়ে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রতিটি শিশুকে তারা স্কুলে পাঠাতে পারতো, শিশু মৃত্যুহার কমাতে পারতো বর্তমানের দুই-তৃতীয়াংশ (দুইবার এমডিজি পূরণ করতে পারতো)।

শুধুমাত্র ২০০৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক খাতে ব্যয় করা ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে ৫০ কোটি দরিদ্র দরিদ্র জনগোষ্ঠীর (যাদের আয় দিনে ১ ডলারের কম) দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যাপক ভূমিকা রাখা সম্ভব হতো না কি? ২০০৫ সালে পৃথিবীর মোট সামরিক ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন (এক হাজার বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। এই টাকার ভগ্নাংশ দিয়ে দরিদ্র দেশগুলোর ঋণ মওকুফ করে দেয়া যায়।

মানুষ হত্যার জন্য মানুষ যত অর্থ, শ্রম ও মেধা ব্যয় করেছে, বিজ্ঞান ও মানবাধিকারের জন্য তার শতাংশ ব্যয় করলে আমরা এতোদিনে অন্য এক পৃথিবী দেখতে পেতাম। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28837991 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28837991 2008-09-02 22:59:43
আসলে গুলি বিনিময় বলতে আমরা যা বুঝি
সরকার পক্ষে আছেন পুলিশ, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট, নোটারি পাবলিক আরও অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা। আর ডাকাত পক্ষে আছে ছোট বড় নানা মাপের কান কাটা, নাক ছ্যাঁচা, ষন্ডামুখো সব ডাকাত। নো-ম্যান্সল্যান্ডে আছে সাংবাদিক, ভাড়া করা বাতিওয়ালা, কার্পেটওয়ালা, ফটোগ্রাফার, টিভি চ্যানেলের ক্যামেরাম্যান, ডেকোরেটর, ক্যাটারার আরও নানা প্রান্তের, নানা কেজো অকেজো লোকজন। আছে কৌতুহলী মানুষ।

- কী হবে ভাই, এখানে?
- গুলি বিনিময় হবে, ভাই।
- অ।

তা গুলি বিনিময় কিন্তু শুরু হলো একসময়। সরকার পক্ষ থেকে একজন আর ডাকাত দলের পক্ষ থেকে একজন কয়েক কদম করে সামনে এলেন। তাদের বাম হাতে গুলি। আর ডান হাত ফাঁকা। 'হাতঝাঁকি' করতে হবে না! অর্থাৎ কিনা হ্যান্ড শেক। বা কর মর্দন। তারা এগিয়ে এলেন। হাতঝাঁকি করলেন। ক্যামেরার ফাশবাতিগুলো ক্রমান্বয়ে একের পর এক জ্বলে উঠল। মুভি ক্যামেরাগুলোর রোল ঘুরল।

এবার বাম হাতে বাম হাতে গুলি বিনিময় হল। তারা হাসলেন। নোটারি পাবলিকরা দেখলেন। ম্যাজিস্ট্রেট সেটাকে বৈধতা দিলেন। সাংবাদিকরা প্রয়োজনীয় নোট নিলেন। কাজ শেষে মুভি ক্যামেরাম্যানেরা কিছু ইনসার্ট শ্যুট করলেন। কাটার মাঝখানে সেগুলো বসানো হবে।

সাংবাদিকরা মনে মনে হেডিং ঠিক করলেন। "মাঝির চরে গভীর রাতে পুলিশ ডাকাত গুলি বিনিময়। একজন নিহত।"

নোটারি পাবলিক আর ম্যাজিস্ট্রেট মিলে প্রথমে ভাবলেন, আরে! নিহত কোথায় পাওয়া যাবে? পরে তারা ঠিক করলেন ভিড়ের মধ্য থেকে কাউকে বলে কয়ে রাজী করিয়ে নিহত দেখানো হবে। তাকে কিছু সম্মানীর লোভ দেখালেই হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28797711 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28797711 2008-05-13 23:39:56
আরেকজন পোষাক শ্রমিকের করুন মৃত্যু
প্রতিদিন ফিরি রাজধানী কোম্পানির বাসে। মোহাম্মদপুর পর্যন্ত রিক্সা ভাড়া ১০ টাকা লাগে। রাজধানী বাসে লাগে ৩ টাকা। ফলে আমার মতো স্বল্প আয়ের লোকের জন্য দারুন সুবিধা।

আজ রাজধানী বাস যাচ্ছে না। কারণ কী? কোথায় না কি মারামারি হইছে। আগে মারামারি হইছে, রাস্তা বন্ধ শুনলে গায়ের মধ্যে চনমন করে উঠত। ছুটে যেতাম আগুপিছু না ভেবেই। হয়ত প্রবল উত্তেজনায় অংশও নিয়ে ফেলতাম। আজ লাগল বিরক্ত। আবার মারামারি। হয়ত হেঁটেই ফিরতে হবে। রিক্সাও যাচ্ছে না। বুঝা গেল গোলমাল জবর।

কিছুদূর এগোতে প্রবল জটলা, হইচই, আগুনের শিখা আর শ্লোগান শোনা যেতে লাগল। আবারও বিরক্ত। ধুর! আজকাল মানুষের ধৈর্য এত কম! একটু থেকে একটু হইলেই মিছিল। সম্পত্তি নিয়া ভাগাভাগি, ছেলে কতটুকু পাবে, মেয়ে কতটুকু পাবে, ইসলাম কী বলে, নাফরমানরা কী বলে, লাগাও গোলমাল।

আর গোলমাল মানেই চালের দাম আরেক দফা বাড়া। অন্যান্য জিনিসের দাম বাড়া। আমার মতো নিম্ন আয়ের মানুষের আশঙ্কা শেষপর্যন্ত এখানে এসে থামে। কী করব? চাল কি এখন আর কিনে খাওয়ার জো আছে?

আরেকটু এগোলাম। পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি করছে গার্মেন্টসের মেয়েরা। কী হইছে ভাই? এক ভদ্দরলোককে জিজ্ঞেস করলাম। বলল, জানি না, ভাই। কতকিছুই তো অয়!

এবার জিজ্ঞেস করলাম এক গার্মেন্টসের মেয়েকে? আপা, কী হইছে এইখানে? ঝামটা মাখা উত্তর, হেতে আফনেগো কী?

দুই চোখে প্রচণ্ড ক্রোধ। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে সামলে উঠার আগেই জানলাম মারা গেছে এক শ্রমিক। অসুস্থ্য ছিল। ছুটি চেয়েছিল বাড়ি যাবার জন্য। ছুটি পায়নি। ঘন্টাখানেক শারীরিক দুর্বলতার সাথে লড়াই করে ঢলে পড়ে মেঝেতে। ম্যানেজার এসে ব্যাপার দেখে বলে, ঢঙ। খানিক পর জানা যায় মারা গেছে সে।

সাংবাদিকরা সন্ধ্যার আধো অন্ধকারে ফ্লাশ জ্বেলে জ্বেলে ছবি তোলার চেষ্টা করছে লাশের পাশে কান্নারত মেয়েটার মা কিংবা বড় বোনের। কয়েকজন ভদ্দরলোক ভিড়ের সুযোগে গার্মেন্টসের মেয়েদের গায়ে হাত টাত রাখার চেষ্টা করছে, স্পষ্টই দেখলাম।

আর আমি? আস্তে আস্তে গুটি গুটি পায়ে নিরাপদে বাসায় চলে এলাম। কী হবে আর এখানে থেকে? আমি আর কী-ই বা করতে পারব? পুলিশ আছে সাংবাদিক আছে, উৎসাহী দর্শক আছে। শুনলাম মালিকও নাকি আসছে।

আসুক। তারাই যা করার করবে। আমি বরং বাড়ি যাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28784513 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28784513 2008-04-01 20:44:30
কাজ নাই!!!
বিজ্ঞাপনডা দেখলেই কেমন জানি নিজেরে ব্যাক্কল ব্যাক্কল লাগে। মনে অয় আমার কুনু কাজ নাই দেইখা এই হানে ঘুর ঘুর করতাচি।

শালার বিজ্ঞাপন এক বস্তু বটে। যার যা ইচ্ছা, তাই কইয়া হালায়। হইল কি হইল না, হেইডাও ভাইবা দেহে না।

আমনে গো কি আসলেই কুনু কাম নাই?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28783537 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28783537 2008-03-29 16:47:51
পরের লাইনগুলো কেউ জানেন?
শেষে আপনাদের শরণ ... প্লিজ পরের লাইনগুলো জানা থাকলে বাতলে দিন। (দয়া করে ভুল বলবেন না, মানে কনফার্ম না হলে বলবেন না, একটা শিশুকে সিঠক শিখতে দিন)। ছড়াটা হল--

একদিন ভাবে ফুল
উড়ে যাবো কবে
যেথা খুশী সেথা যাবো
ভারী মজা হবে।

তাই ফুল একদিন
মেলে দিলো ডানা
প্রজাপতি হলো তারে
কে করিবে মানা

... তারপর?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28771535 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28771535 2008-02-17 23:31:39
সবিনয়ে জানতে চাই: অশ্লীলতা আসলে কী?
সবচেয়ে বড় কথা হল, যৌনতা একটি বাস্তবতা। এমন তো নয় যে যৌনতা মানব সমাজে এক্সিস্ট করে না। শুধু যৌনতাই বা কেন, অশ্লীলতা বলছি যাকে সেটিও সমাজে এক্সিস্ট করে। কারণ সেটি একটি রস। মানুষ নানা ধরনের রসে আগ্রহী, বীর রস, করুন রস, হাস্য রস এবং এরকম অনেকগুলোর একটি হল আদি রস। মানুস সব রসই কোন না কোনভাবে আস্বাদন করতে চায়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এ বিষয়টিকে যত অবদমন করা যাবে তত সমাজের উদার সহনশীলতা ততই কমতে থাকবে। আপনি কতটা উদার তা বোঝা যাবে কতটা জায়গা আপনি ছেড়ে দিতে পারছেন তার উপর।

ধরা যাক, আজকে সকল ধরনের অশ্লীলতা, পর্ণ ইত্যাদি বন্ধ করে দিলাম। তাহলে ঐ হাজার হাজার আগ্রহী তরুণ তরুণী কোথায় যাবে? তারা কি তাদের আগ্রহ অবদমিত করবে? আমি বলতে চাই, তারা দেখতে শিখুক। নগ্নতার সৌন্দর্য দেখতে দেখতে তাদের মধ্যে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হতে পারে। তারা সৌন্দর্য দেখতে শিখবে। ফলে সে (পুরুষদের ক্ষেত্রে) নারী দেখা মাত্রই নির্বিচারে হামলে পড়বে না, সকল নারীকে 'শয়তানের আধার' মনে করবে না। কোনো নারী তার শরীরের সুন্দর অংশ দেখা যায় এমন পোষাক পড়লেই তাকে ধর্ষণ করা কর্তব্য জ্ঞান করবে না। নারীকে নয়, নারীর দিকে ছুটে যেতে চাওয়া তার দূরন্ত চোখকেই সে অপরাধী ভাবতে শিখবে।

একটু অন্যভাবে বলি, ইওরোপে বা পশ্চিমে একটি ছেলের আর একটি মেয়ের হাত ধরাধরি করে হাঁটার দৃশ্যই সবচেয়ে স্বাভাবিক দৃশ্য, এমনকি কোনো কোনো দেশে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার দৃশ্যও অত্যন্ত স্বাভাবিক ও মনোরম। বরং একটি মেয়ে আরেকটি মেয়ের অথবা একটি ছেলে আরেকটি ছেলের হাত ধরে বা গলাগলি ধরে হাঁটার দৃশ্য অস্বাভাবিক এবং ভিন্ন অর্থ প্রকাশক। অথচ আমাদের দেশে একটি মেয়ে আরেকটি মেয়ের এবং একটি ছেলে আরেকটি ছেলের হাত ধরতে শেখে, কারণ একটি মেয়ের আরেকটি ছেলের সহজ ও স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাত ধরা আমাদের সমাজের চোখে খারাপ।

অথচ নারী-পুরুষ সম্পর্ক সহজ ও স্বাভাবিক করার উদ্দেশ্য নিয়েই আজ থেকে অনেক বছর আগে আমাদের সমাজেই রচিত হয়েছিল কামসূত্র। যা ইওরোপীয় বা পশ্চিমারা এখান থেকে আমদানী করে নিয়ে গেছে সাদরে। আর আমরা সেটা দূর দূর করে তাড়িয়েছি। 'অশ্লীল' বলেছি, 'কেবলমাত্র প্রাপ্তবয়ষ্কদের জন্য' আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করে রেখেছি। ফলে সমাজে অবদমন সৃষ্টি হয়েছে, ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো আমরা নিষিদ্ধ করেছি বলেই একটি ছেলে আর একটি মেয়ে পরষ্পরকে ভালবেসে চোরের মতো আচরণ করতে থাকে। বাবা-মার কাছে লুকানোর নিরন্তর চেষ্টা করতে থাকে। পালিয়ে বিয়ে করে। ধরা পড়লে ছেলেটির শাস্তি যাই হোক মেয়েটির মাথায় কলঙ্কের আকাশ ভেঙে পড়ে, তার আর কোথাও গ্রহণযোগ্যতা থাকে না, মেয়ের পরিবার একঘরে হয়ে পড়ে।

অশ্লীলতার সাথে নারী-পুরুষ সম্পর্ক টেনে আনছি, কারণ একটির সাথে আরেকটি সম্পর্ক রয়েছে। প্রেম কেবলই প্রেম নয়, প্রেমের সাথে কাম অত্যন্ত সঙ্গতিপূর্ণ। আর কাম সৌন্দর্যের উপাসক। অবশ্যই দৈহিক সৌন্দর্য। যাকে আমরা প্রায়শই 'অশ্লীল', 'প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য' ইত্যাদি নানা আখ্যা দিয়ে থাকি।

প্রকৃতপক্ষে অশ্লীলতার কোন সংজ্ঞা নেই। এটি অত্যন্ত আপেক্ষিক বিষয়। যে ছবি এক স্থানে অত্যন্ত মনোরম, সেই ছবিটিই অন্যস্থানে অত্যন্ত অশ্লীল হতে পারে। কাজেই অশ্লীল বলে কোন অ্যাবসল্যুট ধারণা নেই। অনেকেই সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, 'যা মনকে কলুষিত করে তাই অশ্লীল'। আপনিই বলুন কোনটি আপনার মনকে কলুষিত করে।

আমরা প্রায়ই যৌনতাকে অশ্লীলতার সাথে গুলিয়ে ফেলি। আমাদের ভেতরে সাধারণ অর্থে 'যৌনতা নিষিদ্ধ' এমন একটি চেতনা গভীর-প্রোথিত। এ কারণেই দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বইতেও মানুষের প্রজননতন্ত্র বোঝাতে গিয়ে গরু দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে (অবশ্য এটি এখনও সেভাবেই আছে কি না আমার জানা নেই)।

কামসূত্রে কামের ৬৪টি কলা বা আসনের বিবরণ আছে। কিন্তু অনেকেই আমাকে বলেছে সেগুলো নাকি বিকৃত যৌনাচার। আমার কাছে মনে হয়েছে রীতিমতো শিল্প। যাদের কাছে বিকৃত মনে হয়েছে তারা যৌনতা মানেই মনে করেন কেবলই নারীর উপর পুরুষের উপগত হওয়া। যৌনতার আরো ধরন, কামের নানা প্রকাশ যে রয়েছে তা তারা জানেনই না।

অনেক বড় পোস্ট দেবার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু বিষয়টি আরো অনেক আলোচনার দাবি রাখে। আরো অনেক কথা বলার থাকলেও তাই আপাতত এখানেই শেষ করছি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28739474 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28739474 2007-10-24 15:39:33
আমি এক বিজ্ঞাপন ১
'লিভ ইন' জিন্সের ভেতরে অন্দর কা মামলা, তারো ভেতরে জন্ম নিরোধক পরিধান। আর যদি জন্মেই যায়, একগাদা জনসন লিস্ট, মিল্ক লোশন, শ্যাম্পু, বেবিঅয়েল, সেরেলাক, হাগি প‌্যাম্পারস . ...

সে অন্য প্রসঙ্গ। লাইনে আসি, গায়ে বিড়াল চোখ, ভেতরে একটু জাটাক স্প্রে করে নিন, ভেরি ভেরি গোল্ড, ভেরি সেকসি (বেগানা নারীকূল স্বল্পবসনে সাগর পেরিয়ে দৌড়ে আসছে আপনার দিকে কল্পনা করুন, শিৎকারের অ্যাম্বিয়েন্ট মিউজিক কল্পনা করতে ভুলবেন না, অইটাই আসল)

গলায় আপন জুয়েলার্স, কানে নোকিয়া, সাথে টক টাইম ফ্রি, পুরুষদের গালে জিলেট, বুড়া মশলা (ওল্ড স্পাইস), আর ললনাদের ফেয়ার এন্ড লাভলি, ল্যাকমে, ওলে, গারনিয়ের।

ঠোঁটের রঙ এখন কবির কল্পনাতেও ওয়াইএসএল, সামান্য ভেতরে ঝকঝকে দাঁত তো নয় রীতিমতো ক্লোজআপ, চোখে রে-ব্যান বা মাশকারা, মাথায় সানসিল্ক বা লিভন .......

আমরা কি আর আমরা আছি? সার উঠা কে জিও, গলায় ঢালো কোকাকোলা। খাওয়া শেষ হলে পথচলতি মেয়েদের পশ্চাতদেশ মেপে নাও বোতল দিয়ে, মেয়ের মা এসে হাজির হলে উঠাও পেট বোতল।

মেরা জুতা হ্যায় জাপানি
পাতলুন হ্যায় ইংলিশস্তানি

... ...

বলুন তো আপনার নাম কী?

একেই বলে বিজ্ঞাপন বিদ্যা। হুম।

মন্তব্য: ও আল্লা! এত্তোবড় আকাশ তুমার! ফোর কালার বিজ্ঞাপনের জন্যি ভাড়া দিলি কিন্তু পাইত্তে!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28739414 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28739414 2007-10-24 13:26:09
এক কুড়ি ঝরা পাতা, একটি ফানুস। আমার দেহের রঙ নীল,
আকাঙ্খা, নাকি ঘোর বিষে?
লিটমাস করবে প্রমাণ
কত সে আমায় ভালোবাসে।

ছয়।
পিছলে যেতে কি আছে পা?
নাহয় পিছল পথে মোহ।
ভুল আর আছে জানি দাগ
এ শরীরে, বাসনা নিদাঘ।

সাত।
কত ডানে, কতখানি বামে
গেলে তবে হয় বিপ্লব?
যত যাই তত দেখি ভাঙে,
কাচের আয়না, বৈভব।

নয়।
শরীরেই যত গোলযোগ,
নারী আর পুরুষের ভেদ,
যত যোগ ততটা বিয়োগ,
শরীরেই বাসনা সস্বেদ।

এগার।
আমার ভেতর যত আমি
আমি দেখ কত কথা কই।
আমার উপরে তত আমি,
... চুপচাপ যন্ত্রণা সই।

ষোল।
ঘামিয়েছে মাথা কি কৃষক?
ঘেমেছে শরীর।
তাহলে 'মাথার ঘাম'
পড়েনি তো পায়ে অস্থির।

সতের।
আকাশে উড়ছে চিল, তাই
চবি্বশ তলার 'পরে ছায়া।
সাবধানে থেকো, ছায়া ভাই!
মাটিতে পড়লে চুর মায়া।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28738212 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28738212 2007-10-18 15:26:21
কথা বলতে চাইলে?
আমি অনেকটাই নতুন। তার উপর কিছুটা অশিক্ষিতও। অনেক কষ্টে আজ একখান ছবি ঝুলাতে পেরেছি প্রোফাইলে। (হে হে হে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28737779 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28737779 2007-10-16 14:48:05
ঝরাপাতা: বিজ্ঞাপন পর্ব তোমার সাথে
শোবার আগে,
বাঁচতে হলে
জানতে হবে।

২.
লাক্স নারীবাদ
হুইল সাদা 'ত্যাগ'।
সকল নামের আগে বসে
বিজ্ঞাপনের ট্যাগ।

৩.
ঘুমাস কেন
বেকুব?
সারাটা রাত ফ্রি কথা বল,
সারাটা দিন চুপ।

৪.
চোখের ভিতর
বিজ্ঞাপন।
তাকিয়ে থাকার
মুক্তিপণ।

৫.
বিজ্ঞাপনই
একচুয়াল।
আমরা সবাই
ভারচুয়াল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28737703 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28737703 2007-10-16 00:01:56
'শোলাকিয়া' না 'সোয়া লাখিয়া'?
সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28737336 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28737336 2007-10-13 13:56:08
ঝরা পাতা: বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনে সকলেই
হাছা কথা কয়।
হাছাটাই বড় বেঈমান
শুনলেই মিছা মনে হয়।


সারাক্ষণই বিজ্ঞাপন
বিরতি আবার কী?
সবার সাথে ব্যবসা তাদের
মৌলবী, খানকি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28734506 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28734506 2007-09-29 23:21:56
মুক্ত কথার মানে ...
বলার স্বাধীনতা কথাটা বলার সাথে সাথেই ব্রাকেটে জুড়ে দেয়া হচ্ছে এ স্বাধীনতার মানে যা খুশী তাই বলা নয়। আবার কিছু শর্ত, কিছু শেয়াল দেখানো।

যে কোনো দিকে তাকানোর অধিকার আমার আছে। শুধু কারো বাড়ির দিকে, জানালার দিকে তাকানো যাবে না। এখন চারদিকে কেবল জানালা। শেষমেষ আমাকে কিন্তু মাথা নিচু করে মাটির দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। এই হলো আমার দেখার স্বাধীনতা।

'স্বাধীনতা তুমি বয়সী বটের ঝিলিমিলি পাতা, যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা।'

তবু কই আর যেমন ইচ্ছে লিখতে পারি? লিখলেই তো তওবা পড়তে হয়। আর লিখব না বলে নাকে খত দিতে হয়। চারপাশে তাই দেখছি।

তবে এটুকু বলতে পারি, তবু আমরা লিখতে চাই। লিখিও।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28734153 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28734153 2007-09-28 12:08:02
কবিতার ঝরা পাতা আর কতদূর নিয়ে যাবে
ভিতর?
আমি শুধাই সহজ কথা,
তুমি বল, ইতর।


বাতাসের বাধা নেই
ঢুকে পড়ে যখন খেয়াল,
আমার বেলায় শুধু
ফিতা, হুক, কথার দেয়াল।


আমার হাতে আছে আঙুল
দশ।
অন্য আঙুল করল তোমায়
বশ।


আঁধার রাতে
আমি জোনাক পোকা।
সেগুন কাঠের দরজা তোমার
আস্তে দিলাম টোকা।


তোমার পাড়ার
গলি।
জলে কাদায় পিচ্ছিল, তাও
অসাবধানে চলি।


তোমার জমি
ভিজলে কথা আছে।
চষার মতো শক্ত লাঙল
আছে আমার কাছে।


বন্ধু তুমি
পাঁচ টনি এক ট্রাক।
ভালোবেসে হামলে পড়ো
কলিজা হয় খাক।


পাহাড় থেকে
লাফিয়ে নামি খাদে।
ভরদুপুরে দুয়ার খুলে
আসো যখন ছাদে।


শিখেছি আজ
রাখবো কোথায় হাত।
তা না হলে নির্ঘুম এই
কাটতো সারারাত।

১০
তৃষ্ণা কি সব
জল দিয়ে যায় মিটে?
নোনতা আরো তৃষ্ণা খুঁজি
শরীর ঘেঁটে ঘুঁটে।

- বরকত উল্লাহ মারুফ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28734150 http://www.somewhereinblog.net/blog/Muktokothablog/28734150 2007-09-28 11:51:28