বেশ কয়েক বছর আগে আমার বাসায় পাড়ার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে ছিলাম। সে সময় আমার চাহিদা খুব বেশি ছিল না মূলত দুইটি কারণে এক নম্বর আমার ছেলে ছিল ছোট তার ইন্টারনেটের প্রয়োজন ছিল না। আর দ্বিতীয়ত আমি বাসাতে কখনো অফিসের কাজ নিয়ে আসি না। ফলে বড় কোন কিছু ডাউনলোড ইত্যাদির দরকার হতো না। খালি জরুরী কোন ই-মেইল ইত্যাদির জন্য বসতে হতো। কাজে বাসার লাইন যে প্রায় সময় খারাপ থাকতো এটা আমি জানতামই না। মাসে মাসে হাজার টাকা গুনতাম। কিন্তু জরুরি দরকারে যখনই বসতাম তখনই টের পেতাম ব্রডব্যান্ডের মানে কী? পরে, আমার একজন বস আমাকে প্রায়শ রাতের বেলায় কাজ দিতে শুরু করলেন। বলতেন, রাতে একটু সার্চ করে, দেখে রিপোর্ট বানিয়ে সকালে নিয়ে আইসেন। তখন টের পেলাম যন্ত্রণা।
অথচ ততদিনে সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যান্ডইয়ডথএর দাম কয়েক প্রস্থ কমানো হয়েছে। কিন্তু না আমার বাসার বিল কমে না স্পিড বাড়ে। যন্ত্রণার প্রকোপ বাড়তে বাড়তে এমন হলো যে, বাধ্য হয়ে প্রথম আলোতে লিখলাম : সাবমেরিন কেবল: লাভের গুড় কে খায়। কেন জানি আমার লেখাটা সে সময়ে মালদ্বীপে অবস্থানরত বিআরটিসির চেযারম্যান, প্রধান উপদেষ্টার চোখে পড়ে। বিটিআরসির তরফ থেকে আইএসপিদের ডেকে অনেক কিছু বলা হয়। তবে, কোন উন্নতি তো হয় নি বরং আমি কেন ইন্টারনেট সংযোগ নেওয়ার সময় সার্ভিস প্রোভাইডারের লাইসেন্স দেখি নাই সে জন্য আইএসপি এসোসিয়শনের সভাপতি উষ্মা প্রকাশ করে প্রথম আলোতে আমারে অনেক জ্ঞান দিয়ে দেন।
যাহোক স্যারের অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য আমি বাসার ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলি।
.....আমার ছেলে এর মধ্যে বড় হয়েছে, স্কুলে তাকে কম্পিউটার ব্যবহার করতে হয়, বন্ধুদের বাসায় ইন্টারনেট আছে। কাজে আমাকে আবার সংযোগ নিতে হলো। এবার পাড়ার আর একটি সার্ভিস প্রোভাইডার আমাকে নিশ্চয়তা দিল যে, তারা আমাকে ‘ওয়ান কে’ স্পিড গ্যারান্টি দেবে, মাসে ৮০০ টাকা!! আমার কোন উপায় ছিল না।
এরা অবশ্য আমাকে ১ এর পরিবর্তে মাঝে মধ্যে ৩/৪ কে স্পিড দিতো!!! আমার ছেলের আর আমার মোটামুটি চলতো কারণ আমার অফিসে ২ এমবিপিএস কানেকশন। ফলে, আমার বা রুবাই-এর বড়ো কোন ডাউনলোডের দরকার হলে সেটি আমার অফিস থেকে হতো।
তবে, এই সংযোগটি কিছুদিন পরে সত্যিকারের ব্রডব্যান্ডে রূপ নেয়। বেশিরভাগ দিনই সংযোগ থাকে না। প্রতিমাসে বিলের টাকার সঙ্গে ওদের সঙ্গে ফোনাফোনির বিলের টাকা যোগ হতে থাকে। এর মধ্যে নতুন সরকার এসে ব্যান্ডউয়িডথএর দাম ৩৩% কমিয়ে দেয়। কিন্তু আমার ব্রডব্যান্ড ফ্রডব্যান্ডের পর্যায়েই থাকে!!! ওদের কাছে যখন আমি জানতে চাই দাম কমানোর সুযোগ আমরা পাবো কী না, তখন আমাকে বলা হল, ওরা দাম ঠিক রেখে আমার লাইনের গতি কমপক্ষে ৩০% বাড়াবে। আমি আর আমার ছেলে আশায় থাকলাম। ধন্য আশা কুহকিনী।
এর মধ্যে ম্যালাদিন ওদের টেকনিশিয়ান আমার বাসায় আসে। এসে কী কী জানি করে, কিন্তু যে কে সেই!
পলে, এক সময় এই লাইনও আমার ছাড়তে হয়। অত:পর আমি মোবাইল কানেকশন নেই। সেটাই চলছে এখনো। গ্রামীণের পি৭ সংযোগ আমাদের কমবেশি ১৮-২০ দিন চলে।
এর মধ্যে একদিন জানতে পারি বিটিসিএলের এডিএসএলের মার্কেটিংএর দায়িত্ব নিয়েছে যে কোম্পানি (http://www.ememsystems.net/) সেটির প্রধান নির্বাহী আমাদের হলের শিবলী ভাই। বিটিসিএলের এডিএসএল চালুর পেছনে আমার কিঞ্চিৎ হাউ কাউ ভূমিকা ছিল। ফলে, সেটির অগ্রগতি, টেস্টিং এসব জানতাম। (সারাদেশে যাতে প্রাইভেট সেক্টর বিটিসিএলের কপার লাইন দিয়ে এডিএসএল সেবা দিতে পারে সেজন্য ২০০৬-৭ সালে জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালার খসড়াতে ‘আনবান্ডেলিং’ এর অপশনটা ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম)। কিন্তু কাজটা যারা করছে, তাদের মাথা যে শিবলী ভাই আছে এটা জানি ছিল না।
যাহোক শিবলী ভাই থাকাতে এই অপশনটি নেবো ঠিক করে রেখেছিলাম (শিবলী ভাই না থাকলেও সেটি করতাম)। কিন্তু নিতে নিতে অনেক দেরী হল।
এর মধ্যে চেষ্টা করছিলাম খুলনায় আমাদের গ্রামের টেলিমেডিসিন সেন্টারের জন্য সংযোগের। একটি ই১ সংযোগের জন্য ম্যালাদিন চেষ্টা করি। পরে আমরা অপেক্ষা করি এডিএসএল সেবার খুলনায় যাওয়ার জন্য। অবশেষে আমাদের গ্রাম প্রকল্পও এডিএসএল সেবা নেয়।
এখন আমি বিটিসিএলের একটি ২৫৬ কেবিপিএস সংযোগ নিয়েছি (http://www.bcube.net.bd/)। গতকাল সেটা আমার বাসায় লেগেছে। আমার ছেলে এরই মধ্যে সেই সংযোগের জন্য মহা খুশী। কাল বাসায় আসার পর আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমোটুমো দিয়ে অস্থির। তার নাকি ইন্টারনেট সংযোগের ঝামেলা অবশেষে ঘুচে গেছে। (তবে, এরই সঙ্গে আমার মনে পড়েছে বার্নার্ড শ’এর একটি কবিতা। নিউটনকে নিয়ে লেখা শ’র ঐ কবিতার একটি লাইন হলো বিজ্ঞান একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলে নতুন দশটি প্রশ্নের সৃষ্টি করে। রুবাই-এর এখনকার দাবী বাসাকে ওয়াই ফাই করা! তাহলে, ওকে আমার টেবিলের কাছে আসতে হবে না ল্যাপটপ নিয়ে!!!)।
আমি কাল রাতে ব্যবহার করেছি, আর এখন। এডিএসএল টেকনোলজির একটি লাইন সেটেলমেন্ট ব্যাপার আছে। কাজে আমার সংযোগটিওর হয়তো ১/২ দিন লাগবে অপটিমাম সার্ভিস দিতে। আপাতত আমি বেজায় খুশী।
আগামীতে স্পিডসহ অন্যান্য বিষয়গুলো দেখবো। আর আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো।
সবার সেকেন্ড ডিয়ারেন্সিয়াল নেগেটিভ হোক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

