আমার প্রিয় পোস্ট

মুনীর উদ্দীন শামীম

প্রতিবেশির ছেলের 'নুনু কাটা' অনুষ্ঠানের জমকালো আয়োজন এবং বাঙ্গালী মুসলিম সংস্কৃতিতে পুরুষতন্ত্রের ধারাবাহিকতা.

২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:২০

শেয়ার করুন:                   Facebook

দৃশ্যপট-১
প্রতিবেশির ৯ বছরের ছেলেটির শিশ্নের অগ্রভাগ (ক্ষমতা ও মূল্য বিচারে যাকে আদর করে বেশির ভাগ বাঙ্গলীই 'নুনু' নামে ডাকে) কর্তন (মুসলমানী) উপলক্ষ্যে জমকালো আসর বসেছিল গতকাল। নিকট প্রতিবেশি হিসেবে আমার মতো পাড়ার অন্যরাও আমন্ত্রণ পেয়েছিল। উপস্থিতি দেখে আঁচ করা যায়, প্রতিবেশির (স্বামী-স্ত্রী-দুজন) চার প্রজন্মের সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং বেশির ভাগই এসেছিল উৎসবে যোগ দিতে। এ উপলক্ষ্যে দু'বার মিলাদ পড়ানো হয়েছে। একবার পাড়ার মসজিদে। আরেকবার প্রতিবেশির বাসায়। মিলাদ শেষে দু'বারই মিলাদের ফ্যাসিলেটটর 'মুহতারাম' হুজুর প্রতিবেশির ছেলের জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করেছেন। অংশগ্রহণকারী হিসেবেও আমরাও হুজুরের দোয়াতে 'আমীন' আমীন বলেছি। এবং কামনা করেছি মহান সৃষ্টিকর্তা যেন ছেলেটিকে সুপুরুষে রূপান্তিরিত করে। শৌর্য-বীর্য দান করে।...........................

এটি মোটামুটি নিশ্চিত যে ওপরের দৃশ্যপটটি বাঙ্গালী মুসলিম সমাজে কারো কাছে অচেনা নয়। বরং এতবেশি চেনা যে, এটা কোন সংবাদই নয়। হয়তো বেশির ভাগ মানুষের কাছে এটি ভাববারও কোন বিষয় নয়। এমনকি বাংলাদেশে বসবাসকারী অন্য ধর্মের মানুষরাও এমন একটি সামাজিক ও ধর্মীয় আচারের সাথে খুব বেশি পরিচিত এবং অভ্যস্ত। সম্ভবত ঐতিহাসিক এ অভ্যস্ততা এ রকম সামাজিক জমকালো পুরুষতান্ত্রিক অনুষ্ঠানের অন্য পিঠ সম্পর্কে ভাবায় না। এ ভাবনাটা তৈরি না হওয়ার আরেকটি কারণ ধর্ম। কারণ এ বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানটি ধর্মাশ্রিত। অন্তত বিশ্বাস ও চর্চার দিক থেকে। আমি অবশ্য এ সম্পর্কিত ধর্মের 'কিতাবী' দিকটি নিয়ে এখানে আলোচনা করছি না এবং লিঙ্গ কর্তন করে মুসলমানিত্ব বরণের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কিত জৈবিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আমার আলোচনার বিষয় নয়। এর সামাজিক দিকটাই আমার মূল আলোচ্য ।
আর অন্য পিঠ সম্পর্কে ভাবায় না বলে বাঙালী মুসলিম সংস্কৃতিতে প্রজম্ম থেকে প্রজন্মে স্থানাস্তরিত এবং আত্মীকৃত ছেলেদের লিঙ্গকর্তন উত্তর 'লিঙ্গীয় উৎসব' এর জমকালো আয়োজন (উৎসব কতখানি জমকালো হবে তা অবশ্য নির্ধারিত হয় পরিবারের শ্রেণীগত অবস্থানের ওপর। তবে এটি সত্য যে, প্রতিটি পরিবারই নিজ নিজ আর্থনীতিক সামর্থ্যের আলোকে সেরা আয়োজনটি করার চেষ্টা করে) টিকে পু্রুষতান্ত্রিক এবং বৈষম্যমূলক মনে হয় না। আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে, ঐ বৈষম্যটা যাদের বিরুদ্ধে সামাজিকায়ন প্রক্রিয়ায় পুরুষতন্ত্রে অভ্যস্ত পরিবারের সেসব নারী সদস্যরা যেমন মা, বোন, নানী, দাদী সহ সংশ্লিষ্ট সবাই এ ধরনের উৎসব আয়োজনে একনিষ্ঠ ঘটক ও অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে। অনুষ্ঠানের নেপথ্যে থেকে 'পুনরোৎপাদনমূলক' কাজের প্রায় শিংহভাগই সম্পাদন করে। এবং 'বংশের বাতি'র জৈবিক, সামাজিক ও ধর্মীয় উৎক্রমণটাকে সেলিব্রেট করে। মহাউৎসবে সবার সাথে।
এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে বাঙ্গলী সমাজে এখন পর্যন্ত 'যৌনতা', 'যৌনাঙ্গ'- এ সংক্রান্ত আলোচনা-সমালোচনাগুলো কাংখিত নয়। কারণ এগুলো আমাদের প্রবল সাংস্কৃতিক চেতনার দিক থেকে নিতান্ত প্রাইভেট বিষয়। এ রকম রাখ-ঢাক মূল্যবোধ ও নৈতিক মানদন্ডের সামাজিক কাঠামোয় যখন একটি পরিবারের বালক গোষ্ঠীর 'লিঙ্গ কর্তন' উত্তর ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে 'জমকালো' উৎসব আয়োজন করা হয় এবং 'লিঙ্গ কর্তন' সম্পর্কিত সংবাদটি বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় সার্কুলেট করা হয় তখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কাউকে 'শরমিন্দা' হতে দেখা যায় না, তখন এ নিয়ে প্রশ্ন উঠা টা স্বাভাবিক। অথচ এ স্বাভাবিক প্রশ্নটা কখনো তৈরি হয় না কারও মাঝে। এর পেছনে অন্তর্নিহিত কারণটা হচ্ছে একটি পুরুষতান্ত্রিক মনোজগত। এ মনোজগতটা পুরুষের যেমন রয়েছে ঠিক তেমনি নারীরও রয়েছে। আর এ মনোজগতটাকে সমাজ কাঠামো, সামাজিক মূল্যবোধ, বৃহত্তরভাবে ধর্ম ও সংস্কৃতি শুধু সমর্থন দেয় না বা উৎসাহিত করে না, একই সাথে নতুনভাবে সৃজনও করে।
জৈবিক প্রক্রিয়ায় বালকদের একটু একটু করে বড় হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মুসলিম সমাজে যেমন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে 'শিশ্নের অগ্রভাগ' কর্তন করা হয় ঠিক সে রকম একটি জৈবিক প্রক্রিয়ায় একই মুসলিম সমাজে মেয়েরাও ঋতুবতী হয়। জৈবিক বিচারে বালকদের 'শিশ্ন কর্তন' থেকেও এটি সম্ভবনায় উত্তরণ। কারণ এর মাধ্যমে একজন নারী সন্তান ধারণের মতো বিপুল ক্ষমতার অধিকারী হয়। যার মাধ্যমে পৃথিবী ও মানব সভ্যতা টিকে থাকে। কিন্তু বালকদের 'লিঙ্গ কর্তন' উপলেক্ষ্যে জমকালো অনুষ্ঠান আয়োজন, এবং সে সংবাদ প্রচারে বিপুল প্রতিযোগিতা হলেও পরিবারের কন্য শিশুটির এ সম্ভবানার ঘটনাটিকে কোনভাবেই পালন করা হয় না। এমনকি পরিবারেরও সকল সদস্যদের এটি জানানোও হয় না। যতটা গোপন-রাখ-ঢাক অবলম্ব্ন করা যায় সেটিই যেন পরিবারের জন্য কল্যানকর। কারণকি? এর পেছনেও সে পিতৃতান্ত্রিক বিশ্বাস ও আচরণ। শিশ্ন কর্তনের মাধ্যমে পরিবারের পুরুষ সদস্যটি আর পরিণত পুরুষ ও মুসলমান হওয়ার দিকে ধাবিত হয়। এটি তার জন্য উত্তরণ। সুতরাং এ সমাজের চোখে পুরুষ হওয়া মানেই তো আরও বেশি শক্তিশালী হওয়া। অনিবার্য হয়ে উঠা। ফলে এ সংবাদটি সবাই প্রচার করে। উৎসবে মত্ত হয়। অন্যদিকে মেয়েটি যত বড় হয়, যখন ঋতুবতী হয়, সেটি যত সম্ভাবনাময় হোক না কেন, পৃথিবীর টিকে থাকার জন্য অনিবার্য হোক না কেন, তত বেশি তার বাইরের পৃথিবী ছোট হতে থাকে। ছোট করে দেয়া হয়। এ ছোট করে দেয়াটা চলতে থাকে সামাজিক ও ধর্মাশ্রিত পুরুষতন্ত্রের মাধ্যমে। বাঙ্গালী মুসলিম সমাজে নারীর প্রতি এ বৈষম্যটা অবশ্য আরও অনেক আগে শুরু হয়। বলা যায় জন্মের পরপর বা তারও আগে। বালক শিশুর জন্মের পর তার কানে শব্দ করে আযান দেয়ার রীতিটাই প্রমাণ করে তার জন্মটা কতবেশি প্রত্যাশিত। অন্য দিকে কন্যা শিশুর জন্য রীতিটা হচ্ছ আস্তে আস্তে কানে আজান দেয়া। মানে তুমি প্রত্যাশিত নও। যদিও প্রত্যাশিত তবে ছেলের মতো নও।....এসব প্রথা কতটা ধমীয় সেটা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। অন্য আলোচনায়। তবে এ আচার-অনুষ্টানগুলো বহুল চর্চিত। যার মাধ্যমে বাঙ্গলী মুসলিম সমাজে পুরুষতন্ত্র প্রতিদিন নতুনভাবে সৃজন ও পুনসৃজন হয়...এভাবে পুরুষতন্ত্র টিকে থাকে ধারাবাহিকভাবে.....

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): পুরুষতন্ত্রজেন্ডারনারী-পুরুষ ক্ষমতা সম্পর্ক ;
প্রকাশ করা হয়েছে: জেন্ডার  বিভাগে ।

 

  • ৪৭ টি মন্তব্য
  • ৫১৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১২ জনের ভাল লেগেছে, ৪ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:২৭
comment by: মুক্তি মণ্ডল বলেছেন: লেখাটা পড়ে খুবই ভাল লাগল। এই ধরণের লেখাজোখা খুব দরকারি। আপনাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। ভাল থাকবেন।
২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৪

লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক অনেক শুভেচ্ছা....................

২. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:২৯
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: দীর্ঘ পোস্ট , তাই শুধু ইটালিক অংশটুকু পড়লাম ।
দুইবার মিলাদ !
নুনুর জোর আছে বটে !! :)
২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৮:৩৯

লেখক বলেছেন: তবু আপনাকে ধন্যবাদ.............তবে ইটালিকটা মূল আলোচনা নয়, আলোচনার সূচনামাত্র....সময়পেলে মূল লেখাটা পড়ার আমন্ত্রণ রইলো।..............................

৩. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৩৮
comment by: যীশূ বলেছেন: পুরুষতন্ত্রের আরেকটা উদহারণ। আপনার চিন্তার শক্তি চমৎকার।
২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:২৩

লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা............

৪. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৪৪
comment by: কানা বাবা বলেছেন:
আইজকাই বেশ কয়েক্টা পুস্টো দেক্লাম এই বিষয়ে... ব্যাফার্ডা কী? পুরুষতন্ত্রের দফারফা কৈরা ফ্যালাইবেন্নিহি আপ্নেরা?

নুনুবিদ্বেষী এইসব শরিয়তবিরুদী ল্যাকার্জৈন্য মাইনাচ...
২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৪৭

লেখক বলেছেন: মুহতারাম কানাবাবা
আমি, আমরা 'নুনুবিদ্বেষী' হলো আপনি নিশ্চই 'নুনুবাদী'। তাহলো বলতে হয় 'নুনুবাদ-জিন্দাবাদ- হে হে
আপনাকে ধন্যবাদ কানাবাবা...........ভাল থাকবেন

৫. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৫২
comment by: মেঘনাদ বলেছেন: চমতকার বিশ্লেষণ। এই রকম লেখায় একটা মাত্র প্লাস। ধুর। লেখককে আন্তরিক ধন্যবাদ।
২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:৫২

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ......................

৬. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৫৬
comment by: মেঘনাদ বলেছেন: আরেকটা কমপ্লিমেন্ট। বাক্যগঠন ও শব্দচয়ন অতি চমতকার। মারহাবা।
৩১ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪১

লেখক বলেছেন: আপনাকেও আবারও ধন্যবাদ..........অনুপ্রাণিত হলাম

৭. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:০১
comment by: কানা বাবা বলেছেন:
হেই পিলাচখানা আবার আমার তরফ থিকা গ্যাচে... অবিশ্যি ভুলোক্রমে...
@মেঘনাদ

আমি বাবা গুরুপের লুক না? আপ্নেই না আমারে কৈচিলেন যে বাবামার্তোই পুরুষতান্ত্রিক (নুনুবাদী)?
কতা অতীব সৈত্য... নারীস্বাধীনতার কতা শুনলেই আমার সারা গায়ে চাক্কা চাক্কা অ্যালার্জিক র‌্যাশ উইঠা যায়...
@মুনীর
২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:০৬

লেখক বলেছেন: ভুল ক্রমে পিলাচ!!! হে হে, এ না হলে কানা বাবা?
আপনি বাবা গুরুপের লুক না, তয় কি মা গ্রুপের লুকী (স্ত্রী বাচক অর্থে)।
দোয়া করি আপনার এ অ্যালার্জিটার আরও উন্নতি হোক মানে নারী স্বাধীনতার....দেখবেন একদিন এ্যালার্জি ভাল হয়ে গেছে!!!

ধন্যবাদ আবারও কানা বাবা আপনাকে....

৮. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:০৪
comment by: আমি ও আমরা বলেছেন: দারুন লাগল লিখাটা।
২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৩

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ!!!!!!!!!!!!!!!!!

৯. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:০৮
comment by: হুদাই বলেছেন: নুনু লৈয়া এত্ত টানা হেচরা ক্যান? ছিরা গেলে কিন্তু খপর আছে ;)

নুনুবাদ জিন্দাবাদ ;)
২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:১৭

লেখক বলেছেন: এ ছিড়ে যাবার (আক্ষরিক অর্থে নয়, ক্ষমতা কাঠামোর প্রায়েগিক অর্থে) ভয়টাই পুরুষতান্ত্রিক। যে ভয়টা সে লুকায় ক্ষমতা কাঠামোর মাধ্যমে। যে ভয়টা শক্তিতে রূপান্তরিত করে, তাও পুরুষতন্ত্রের বদৌলতে....ছিরা গেলে কিন্তু খপর আছে- এ যে খবর আছে বললেন সে খবরটা কার। তা কিন্তু বলেননি।

আপনাকে ধন্যবাদ....................

৩১ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০১

লেখক বলেছেন:

১০. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:১৪
comment by: হিমালয়৭৭৭ বলেছেন: িসরাজুল ইষলাম চেীধুরী স্যারের পিতৃতািন্ত্রকতার বিপক্ষে বইটা পড়ে দেখেবন( যদি এখনো না পড়ে থাকেন).......ব্যক্তিগতভাবে আমিও পুরুষতান্ত্রকতার ঘোর বিেরাধী....কিন্তু আপনি যে প্রেক্ষাপটে কথা বলছেন তার সঙ্গ দ্বিমত পোষণ করছি.......এই প্রেক্ষাপটটি আমােদর রক্ষণশীল মানিসকতার ৈতরি, পৃরুষতন্ত্রর বোধহয় নয়.......আপনার নিজের কথাই ধরেন....আপনার ছোটবোনটি যদি ঋতুবতী হয়...আপনি কি েস উপলক্ষে অনুষ্ঠান করার পক্ষপাতী???যদি না হন তবে কি পুরুষতন্ত্রের ধ্বজাধারী??অবশ্যই না.........আসলে সমস্যা অন্যত্র.......লজ্জা এবং সংকোচ তো আছেই.......
২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:২৫

লেখক বলেছেন: আমি কিন্তু ঋতুবতী হলে অনুষ্ঠান উৎযাপনের কথা বলিনি.. সেটি আমার আলোচনার বিষয়ও নয়। আমি দু'টি ঘটনা দিয়ে বাঙ্গালী মুসলিম সমাজের পুরুষতান্ত্রিক মনস্তত্ত্বটা তুলবার চেষ্টা করেছি। এখানে আমি-আপনি নৈব্যক্তিক এ অর্থেযে আমরা কাঠামোটাকে অনুসরন করি। কাঠামোটাকে মেনে চলি। ব্যক্তিগতভাবে 'লিঙ্গ কর্তন' উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান আয়োজন করা গেলে ঋতুবতী হওয়া উপলক্ষ্যেও করা যায়। দু'টোই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু শেষেরটি বেশি সম্ভাবনাময়।
আপনি রক্ষণশীল মানসিকতার কথা বলেছেন। তার সাথে আমার কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু এ রক্ষণশীলতা ধরন, মাত্রা সব কিছুই নির্ধারণ করে দেয় সামাজিক কাঠামো। ফলে 'লিঙ্গ কর্তন' এর ঘটনা সামাজিক আচরণে উৎসব হলেও দ্বিতীয় বিষয়টি লজ্জা ও সংকোচের। এ যে লজ্জা বা সংকোচ বলছেন, তা কিন্তু পুরুষতন্ত্র তার মতো করে উৎপাদন ও পুনরোৎপাদন করে। আর আমি, আপনি আমরা তা অনুসরন করি....সুতরাং ঐ যে বলছেন, আমি অনুষ্ঠানের পক্ষপাতী হবো না তা কিন্তু পুরুষতন্ত্রেরই চিন্তা কাঠামোর আউটপুট....
............................................................................
আপনার মতামতের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ...ভাল থাকবেন

১১. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:২০
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: ভাল লিখেছেন। সুন্দর বক্তব্য ও বিশ্লেষণ। ভাল লাগলো আপনার লেখা।
২৭ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৮:৫১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে......................ভাললাগার জন্য আরেকটা ধন্যবাদ!!!

১২. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৩
comment by: হিমালয়৭৭৭ বলেছেন: আমি- আপনি সেই আউটপুটের সচল চিত্র!!! যাপিত জীবনের অযাপিত প্রতিচ্ছবি.......যাইহোক...এই ঘোরটোপ (loop)থেকে আপনি নিজে ব্যক্তগতভাবে কতটা মুক্ত হতে পেরছেন বলে মনে করেন.....বিষয়টাকে অন্যভাবে নেবেননা.....মানে আমি বলতে চাইছি আমরা নিজেরা কি মনে মনে এই সংস্কারকেই প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছিনা.....
২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৯

লেখক বলেছেন: আমি শত ভাগ একমত আপনার সাথে। এ আত্ম-জিজ্ঞাসার সাথে। কতটা মুক্ত হতে পেরেছি সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঠিক মুক্ত হতে চাই কিনা সে প্রশ্নটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
.............................................................
আমার কাছে মনে হয় মুক্ত হওয়ার ইচ্ছাটা জাগ্রত করা প্রথম জরুরি। তারপর পুরোপুরি মুক্ত হতে চাইলে দরকার লড়াই। এ লড়াইটা নিজের সাথে...নিজের ব্যবস্থার সাথে এবং এ লড়াই ধারাবাহিক, জীবনভর...অনেকটা উপসনার মতো চালিয়ে যেতে হয়। .....
....................................................................................
এ জিজ্ঞাসার মুখোমুখি করবার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন.....

১৩. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:১৪
comment by: মানুষের পৃথিবী বলেছেন: বিষয়টি আমার মতে অবশ্যই পুরুষতান্ত্রিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট। লেখকের সাথে আমি একমত। আমি একটি দেশে ছিলাম যেখানে সত্যি সত্যি মেয়েরা ঋতুবতী হলে পারিবারিকভাবে ঘটা করে সেলিব্রেট করা হয়। অর্থ্যাৎ এমন হলে বিষয়টি সমান সমান হতো।

২৭ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:০৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ.....আপনাকে।

১৪. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৮:৫১
comment by: দূরন্ত বলেছেন: চিন্তার বিষয়।
২৭ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:৪৪

লেখক বলেছেন: চিন্তা করতে থাকেন..................চিন্তা শেষে ফলাফল জানাবেন প্লীজ!!!

১৫. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৩১
comment by: আতিক একটেল বলেছেন: খুব ভালো লেগেছে লেখাটা।
২৭ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:১০

লেখক বলেছেন: আপনার ভাললাগায় আমি অনুপ্রাণিত..........ধন্যবাদ!

১৬. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৬
comment by: আমিই স্রোত বলেছেন:
তুমি হিজড়াতন্ত্র গ্রহন করো
২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৯

লেখক বলেছেন: মুহতারাম যদি একটু আপনার এ মতবাদ সম্পর্কে একটু বয়ান করে দোজাহানের নেকি হাসিল করার ফুরসত দিতেন..............আপনার জন্য, আপনার এ জীবন বিশ্বাসের জন্য খাসদিলে দোয়া করতে পারতাম!!! আপনার বয়ানের অপেক্ষায়....................

১৭. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৮
comment by: আমিই স্রোত বলেছেন: জেন্ডার নিয়া চিনতা শ্যাস
২৭ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৪০

লেখক বলেছেন: তা হলেতো মহা মুশকিলের কথা.................

১৮. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৮:৫৯
comment by: প্রশ্নোত্তর বলেছেন:
নুনু কাটনের কথা কইলে আমার ইহুদীগো কথা মন এ পরে...ইহুদীগো নবীরে তাগো ঈশ্বর কইছিল "কাটা নুনু দিয়া চিনা যাইব তোমাগো দলের লোক"। মুসলমানেরা ইহূদীগো হেই সিশটম চুরি কইরা ঈশ্বরের প্যারা বান্দা হইতে ছায়! কি আজিব এই মুচলমান ঝাতি!
২৮ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৬

লেখক বলেছেন: আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ..............

১৯. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:৫৩
comment by: মুহিব বলেছেন: বাজে একটা ব্যাপার। ব্রাম্মন, ভিক্ষু বা ব্যাপটিস্ট হওয়া আর এইটা তো এক না। সেদিন দেখলাম ছোট এক ছেলে জামাই সেজে ব্যান্ডসহ ঘোড়ার গাড়িতে যাচ্ছে। আর ভিডিও হচ্ছে। লজ্জাজনক অনুষ্ঠান।
২৮ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৪২

লেখক বলেছেন: আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ..........

২০. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:১৫
comment by: রুখসানা তাজীন বলেছেন: চিন্তার গভীরতা এবং যুক্তিবোধ অসাধারণ লেগেছে। প্রিয়তে না নেয়া ছাড়া উপায় দেখছিনা। আমার এক আত্মীয়ের ছেলের এ অনুষ্ঠানটি হয়েছিল কম্যুনিটি সেন্টার ভাড়া করে। এমনিতে আমি যেকোন ইতরশ্রেণীর অপচয় বা শো-ডাউনের ঘোর বিরোধী। এ ব্যাপারটা নিয়ে যে অন্য আঙ্গিকেও ভাবার অবকাশ আছে, আপনার লেখা সেদিকে নিয়ে গেলো।
২৭ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:২৫

লেখক বলেছেন: আপনার কমেন্টস অনুপ্রেরণা জোগালো............ধন্যবাদ এবং ভাল থাকবেন......................

২১. ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩৭
comment by: আদৃতা আবৃত্তি বলেছেন: পুরুষতন্ত্র, মৌলবাদ এবং পুঁজিবাদ এরা চলে হাত ধরাধরি করে। এরা কখনও সহোদর..কখনও বন্ধু...পরস্পরের জন্য অনিবার্য। প্রথম দু'টি পুঁজিবাদকে তার শোষণ প্রক্রিয়াকে টিকিয়ে রাখতে এবং বেগমান করতে জ্বালানী হিসেবে কাজ করে আপ শেষেরটি অর্থাৎ পুজিবাদ তার টিকে থাকার স্বার্থে প্রথম দু'টিকে উসকে দেয়, লালন করে...পুনরুজ্জীবিত করে.....
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:১০

লেখক বলেছেন: আদৃতা আবৃত্তি বলেছেন: পুরুষতন্ত্র, মৌলবাদ এবং পুঁজিবাদ এরা চলে হাত ধরাধরি করে। এরা কখনও সহোদর..কখনও বন্ধু...পরস্পরের জন্য অনিবার্য। প্রথম দু'টি পুঁজিবাদকে তার শোষণ প্রক্রিয়াকে টিকিয়ে রাখতে এবং বেগমান করতে জ্বালানী হিসেবে কাজ করে আপ শেষেরটি অর্থাৎ পুজিবাদ তার টিকে থাকার স্বার্থে প্রথম দু'টিকে উসকে দেয়, লালন করে...পুনরুজ্জীবিত করে.....

২২. ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৫১
comment by: মো: খায়রুল বাসার বলেছেন: আমি যত জানি এধরনের অনুষ্ঠান ধর্ম বিরোধী । যত সম্ভব গোপনে করার জন্য বলা আছে । কিন্তু অনেকে জমকালো অনুষ্ঠান করে ।
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৪৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য!!!!!!!!!!!

২৩. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:১১
comment by: ভোরের তারা বলেছেন: আপনি যুক্তি এবং বিবেক খাটিয়ে সঠিক চিন্তা করছেন দেখে ভাল লাগল।
১২ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৮

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ!

 



 


লড়াই টা যখন মুক্তির.....,
চিন্তার মুক্তির,
বুদ্ধির মুক্তির,
শৃঙ্খল মুক্তির
এবং অবশ্যই সংখ্যাগরিষ্ঠ গণমানুষের........
তখন এ লড়াই
পৃথিবীর প্রাচীনতম লড়াই,...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ২৯৯৭৯