একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় বলে হলদে ডানা আসলে কোন ব্যক্তিগত বিষয়ের অবতারণা করেন নি। বরং তার রাজনৈতিক মতাদর্শটাকেই কৌশলে পরিবশেন করেছেন। তবে প্রকাশ্যে নয়, একটি পাতানো গল্পের আড়ালে-আবড়ালে। 'শপথের কর্মীদের এডাল্ট মেয়েদের প্রাইভেট পড়াতে নিষেধ আছে'। এ নিষেধ যদি সত্যি হয়, তাহলে নারী-পুরুষের পারস্পরিক সহযোগিতা, সৃজনশীলতা আর নির্মাণের মধ্য দিয়ে যে সমাজ ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেয়ার বৈশ্বিক দাবি ও প্রক্রিয়াটার কী হবে? সমাজ-সভ্যতা কি পেছনে হাটতে শুরু করবে? মধ্যযুগে কিংবা তারও আগে? তিনি যে 'এডাল্ট' শব্দটি ব্যবহার করেছেন তা পরিবশনের ধরনের কারণে বড় বেশি অশ্লীল হয়ে উঠেছে। এবং পোস্টটির অন্তর্নিহিত সূর সমাজের সদস্য হিসেবে সূর নারী-পুরুষের স্বাভাবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অপমানজনজনক। কুরুচিকরও। কারণ তার ব্যবহৃত 'এডাল্ট' শব্দটি শতভাগ যৌনতার প্রতিনিধিত্বকারীই শুধু নয়, নারী পুরুষের মধ্যে এর বাইরে যে আরও সামাজিক-রাজনৈতি-সাংস্কৃতিক সম্পর্ক হতে পারে, এ সম্পর্কগুলো যে শতভাগ সুস্থ্য-সুন্দর, আবশ্যক, এ ধরনের সম্পর্ক যে প্রতিনিয়ত হচ্ছে এবং নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াসের মধ্য দিয়ে সমাজ-সভ্যতা আজকের এ পর্যায়ে এসেছে তারও সরাসরি অস্বীকার।
সাংগঠনিকভাবেই বলা আছে কোন শপথের কর্মীর পক্ষে এডাল্ট মেয়ে টিউশনি করানোর সুযোগ নেই। কর্মী থাকাকালীন করালেও শপথ নিতে হলে মেয়ে টিউশনি ছাড়তে হবে। আর ইসলামের শ্বাশ্বত বিধান তো এটাই। সুতরাং . . .। মুহুর্তেই বিপরীত যুক্তিগুলো মাথায় আসতে লাগলো। সে তো মেয়ে নয়, মহিলা। তার এ ধরনের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম:
যদি তাই হয় আপনার নেতারা মানে নিজামী-মুজাহিদকেতো দেখি আপনার কথিত এডাল্টদের সাথে সভা-মিটিং করে। তাতে কি পর্দা যায় না?
..............................................................................................
আমার ধারণা এ ধরনের সবক দিয়ে আপনার নেতারা আপনাদের ঠকাচ্ছেন, প্রতারিত করছেন। কাউকে প্রতারিত করা কিন্তু পাপ! সুতরাং পাপীদের সংশ্রব ছাড়াটাও মানে জামাত-শিবির ছেড়ে দেয়াও ঈমানী দায়িত্ব।
জবাবে তিনি বলেন...
টিউশনিতে একান্তই ব্যাক্তিগত ইন্টেরাকশন হয়। দিনের পর দিন এমন চলতে থাকলে বিপদ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আপনার জানামতে দু একটি উদাহরণ না থাকার কথা নয়।
সভাসমাবেশ নিশ্চয়ই সে হিসেবে ব্যাতিক্রম। সে ক্ষেত্রে কি ব্যাখ্যা আপাতত সে দিকে যেতে চাচ্ছিনা।
আমি বলেছিলাম নিজের ওপর আত্ম-বিশ্বাস এতো কম? এ রকম যদি হয় তাহলেতো এমন প্রাণী চিড়িয়াখানায় ভাল মানাবে...কারণ মনুষ্য সমাজে মানুষের সাথে ইন্টারএকশন হবে। মিথস্ক্রিয়া হবে। এটাই স্বাভাবিক। জবাবে তিনি আগুন-পানি-মোম তত্ত্ব হাজির করলেন।
বললেন-কনফিডেন্স সহকারে আগুনে হাত দিন। আশা করা যায় আপনার হাত পুড়বেনা। অথবা কনফিডেন্স সহকারে মোম আর আগুন পাশাপাশি রাখুন, আশা করা যায় মোম গলবেনা।
হলদে ডানা যদিও শুরু করেছিলেন খুব হালকা একটা গল্প দিয়ে। মন্তব্য আর পাল্টা মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আস্তে আস্তে করে নারী-পুরুষের সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে সব চেয়ে পশ্চাদপদ অশ্লীল বক্তব্যটি বেরিয়ে আসে। যা তাদের নেতা সাঈদীও বিভিন্ন 'তাফসীর' মাহফিলে দিয়ে থাকেন। হরহামেশা। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে রাজনৈতিক ক্ষমতার লিপ্সায় আবার এ তত্ত্বটি তারা নিজেরা মানেন না। জেলখানার ভেতরে এবং অন্যান্য সমেয়র রাজনৈতিক সভা এর বড় প্রমাণ।
জামাত-শিবির নেতাদের 'হিকমত' নামের মতলবী ব্যাখার একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। একবার একটি কাজে আমার এক পুরনো কলিগ তার বসের নির্দেশে এক ইমামকে ফোন দিলেন। তিনি জামাতেরও নেতা। কাটাবন মসজিদে তখন ইমামিত করেন। ঐ ইমামকে বলা হলো, একটি সভা আছে। সেখানে ধর্মের দিক থেকে নারী অধিকার নিয়ে আপনি একটু বলবেন। আপনি যেহেতু টিভিতে প্রায় প্রোগ্রাম করেন তাই আপনি এলে আলোচনার আলাদা গুরুত্ব থাকবে। ঐ ইমাম জানতে চাইলেন, ঐ সভায় কারা থাকবে। আমার সে প্রাক্তন কলীগ জানালেন, নারীরা। তিনি জানতে চাইলেন, আলোচনা মাঝখানে কোন পর্দার ব্যবস্থা করা হবে কি না? সরসরি জানালো হলো না। তিনি আসলেন না। বললেন, ইমাম হিসেবে আমার ইমেজ নষ্ট হবে।.........................
এর কিছু দিন পর তিনি একটি ইসলামিক এনজিও করেন। বর্তমান অবস্থা হচ্ছে তিনি হরহামেশাই ডোনার এজেন্সীর প্রোগ্রামে এবং পার্টনার সংস্থার নারীদের সাথে বৈঠক করেন। সভা করেন। এবং মজার ব্যাপার হ্চেছ ঐ সব নারীদের কেউ তথাকথিত হিজাব মেইনটেইন করেন না। বুঝতেই পারছেন ডোনারের টাকার কাছে হিজাবের মতলবী ব্যাখ্যাটা কীভাবে হারিয়ে গেল। ধর্মের এ ধরনের মতলবী ব্যাখ্যা পুরনো নয়। একটা-একটা মতলবী ব্যাখ্যা হাজির করেন। আবার ক্ষমতা আর অর্থের তাগিদে সেটি ভাঙেন। এ ভাঙনের গান তারা গেয়েই যাচ্ছেন ১৯৭১ থেকে আজ অবধি।
ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষ ঠকাবার এ ফর্মূলাটা আর কতদিন!!!!!!!!
মানুষ মানুষ হয়ে উঠেছে তার শরীরের কারণে নয়। তার সৃজনশীলতার কারণে। তার চিন্তা ও বোধ শক্তির কারণে। তার চিন্তা ও বোধ শক্তিই তাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। অথচ মানুষের চিন্তা শক্তির এ রকম বিকাশের পরও যখন নারী-পুরুষের সম্পর্ককে শুধু 'শরীর' দিয়ে বিবেচনা করা হয় তখন সংশ্লিষ্ট বিশ্বাসের ব্যক্তিটির মানুষ হযে ওঠার বিষয়টিই প্রশ্ন বিদ্ধ হয়। প্রবলভাবে.....প্রতিনিয়ত!!!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

