আমার প্রিয় পোস্ট
- এযাবৎ কালের সকল ব্লগারের লিষ্ট :: ১০০০% গ্যারান্টি , সবাই আছেন --নিয়মিত আপডেট করার খায়েস আছে - কুঁড়ের বাদশা
- নতুন কমিউনিটি ব্লগ (আমরাবন্ধু, নাগরিক ব্লগ, চতুর্মাত্রিক) - ক্ষেতমজুর
- লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় 'ফেমিনিনিটি' উৎপাদন: বাজার- পুরুষতন্ত্রের একটি 'পরিমিত' রূপ - মুনীর উদ্দীন শামীম
- সংখ্যাগুরু -vs- সংখ্যালঘুঃ স্বাধীন বাঙালি যখন শাসক...সংখ্যালঘু পাহাড়ি/উপজাতি/আদিবাসীরা যখন শোষিত...আর দেশের ভূখণ্ড হাতছাড়া হওয়ার চিন্তায় উন্মাদপ্রায় আমরা ! - আইরিন সুলতানা
- স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস না ভ্যালেন্টাইনস ডে? - দিবস বাণিজ্যে বিবশ তারুণ্য ! - দিনমজুর
- লাক্স এর চামড়া ব্যবসা , দর্শকের দেহ কামনা আর ব্লগে ধর্ষকামী ভূতের আছর- শেষ পর্ব - রাগ ইমন
- থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার ফ্যান্টাসি - প্রতিবাদী কন্ঠস্বর
- বিজ্ঞাপন-হাটে হঠাৎ সংবাদ: টিভি সংবাদের কর্পোরেট ব্র্যান্ডিং - ফাহমিদুল হক
- তাহলে এইবারের বস্তি পোড়ার জন্য আমরা চাঁদকে দোষারোপ করতে পারি - অন্যমনস্ক শরৎ
- মনির হোসেনের পোস্ট ধরে কিছু আলোচনা: বিষয়- নারীর নারীত্ব ও সতীত্ব (উৎসর্গ: মনির হাসান ও সালাউদ্দীন শুভ্র) - নাস্তিকের ধর্মকথা
- লুঙ্গি কাহিনি- বাকি অংশ - অরূপ রাহী
- লুঙ্গি কাহনিী - অরূপ রাহী
- স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে নিয়ে আমার জীবনের প্রথম লেখা (মুক্তিযুদ্ধে যারা বাবা হারিয়েছ তোমাদের সবার জন্য উৎসর্গ) - মুনীর উদ্দীন শামীম
- গিয়াস উদ্দিন সেলিমের মনপুরা এবং বাংলা চলচ্চিত্রে পুরুষতান্ত্রিক ভুতের আছর (জেন্ডার প্রেক্ষিত থেকে মনপুরা ছবির একটি পোস্টমর্টেম ) - মুনীর উদ্দীন শামীম
- ভার্চুয়াল সম্পর্কগুলো.... - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- বাংলা ব্লগ: ভাষা, সংস্কৃতি চর্চা ও এক্টিভিজমের নতুন পাটাতন - মুনীর উদ্দীন শামীম
- বাংলায় ইমেইল করুন, http://www.emailbangla.com/ - ডিমওয়ালা
- ছবি চাই, ছবি। দিন না একটি ছবি (রিপোস্ট) - রাগিব
- মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিবেদিত রাজাকার বিষয়ক ছড়াগুচ্ছ - মুনীর উদ্দীন শামীম
- আনু মুহাম্মদকে হত্যার হুমকি: ধর্মীয় জঙ্গীবাদ, মৌলবাদ ও বিশ্ব জ্বালানী বেনিয়াদের অদৃশ্য সুতোয় গাঁথা হিংস্রতার পুনপৌনিকতা - মুনীর উদ্দীন শামীম
- এক্স বসের ভালবাসার ধরন আর পদ্ধতিসমূহ ঠিক আগের মতোই আছে, এতটুকুন বদলায় নি - মুনীর উদ্দীন শামীম
- বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে সেনাপ্রধানের পাঁচালিঃ কৃষির সামরিকীকরণ? (৩য় পর্ব) - দিনমজুর
- ধর্ম লিঙ্গাগ্রে ঝুলছে - রাসেল ( ........)
- জীবনের প্রয়োজনে জীবন যেখানে পরাজিত।(চতুরভূজ) - চতুরভূজ
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- পদত্যাগের খবরে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন কে লেখা 'অপারাজিতা'র শেষ চিঠি - আদৃতা আবৃত্তি
- সারা দেশে জামাতের শিক্ষা বাণিজ্য নেটওয়ার্ক এবং দেশদ্রোহীতার একটি সাম্প্রতিক দলীল - আদৃতা আবৃত্তি
লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় 'ফেমিনিনিটি' উৎপাদন: বাজার- পুরুষতন্ত্রের একটি 'পরিমিত' রূপ
২৫ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:০৯
![]()
পুঁজিবাদ, বিশ্বায়ন অথবা বাজার অর্থনীতি যে নামে ডাকি না কেন এ শব্দগুলোর প্রায়োগিক লেবাসে যে আর্থনীতিক-রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়াগুলো এখন পর্যন্ত ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় সচল রয়েছে, সেখানে মুনাফা কেবল উপায় নয়, একমাত্র লক্ষ্য। ফলে সকল আয়োজন এ মুনাফাবাদিতাকে ঘিরেই আবর্তিত ও বিবর্তিত হয়। কখনও প্রকাশ্যে, আবার কখনও অপ্রকাশ্যে। এ মুনাফাকেন্দ্রীক বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থাটির টিকে থাকা ও বিকাশে প্রধান দুই প্রদায়কের একটি হচ্ছে তেল-গ্যাস ও যুদ্ধের অর্থনীতি, অপরটি পুরুষতন্ত্রের অর্থনীতি। প্রথমটির ওপর শেষেরটির শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে, প্রথমটি প্রায়শ: দৃশ্যমান, তথ্য যোগাযোগ প্রক্রিয়ায় প্রবেশাধিকারের কারণে প্রান্তিক জনপদের মানুষজনও আঁচ করতে পারে। কিন্তু শেষেরটির প্রক্রিয়াগুলো প্রয়োগ হয় বেশিরভাগ সময় সাংস্কৃতিক ফর্মে, বিনোদনের মোড়কে। এখানে নারীর অংশগ্রহণ বর্নীল এবং দৃশ্যমান বলে এটি সচরাচর সনানতন পুরুষতন্ত্র থেকে নারীর মুক্তি হিসেবে অনূদিত হয়। সনাতন পুরুষতন্ত্রের বলয় থেকে নারী যে একটি মাত্রায় হলেও বেরিয়ে আসে এ কথাও সত্যি। এ আপাত সত্যের আড়ালে আসল সত্যটা ঢাকা পড়ে থাকে। ফলে বাজারী পুরুষতন্ত্রের নতুন শৃঙ্খলের অনেকটাই অদৃশ্য রাখা সম্ভব হয়। অন্তত আমজনতার কাছে। বাজার অর্থনীতির মুনাফাবাদী মতলবটাকে কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্বশীলতা হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। এ রকম বাজারী পুরুষতন্ত্রের একটি সা¤প্রতিক দেশজ পরিবেশন হচ্ছে বিগত কয়েক বছর ধরে আয়োজিত লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতা। আমি বলছি না যে, বাংলাদেশের মডেলিং-টিভি নাটক ও অভিনয় জগতে এ প্রতিযোগিতার কোন অবদান নেই। বরং স্বীকার করতেই হবে যে, এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এসে পরবর্তীতে বেশ কয়েকজন খুব সরবভাবে মিডিয়ায় নিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন এবং কৃতিত্বের সাথে কাজ করছেন। তবে এ প্রতিযোগিতার দৃশ্যমান সফলতাটাকে চিহ্নিত করা এ লেখার উপলক্ষ্য নয়। বরং এ ধরনের প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কীভাবে বাজার-পুরুষতন্ত্রের উৎপাদন, পুনরুৎপাদন হচ্ছে এবং বাজার-পুরুষতন্ত্রের একটি স্থানীয় রূপ পরিগ্রহ করছে তার প্রতি যতকিঞ্চিৎ নজর দেয়া। প্রসঙ্গত বলা দরকার মতাদর্শ ও ব্যবস্থা হিসেবে পুরুষতন্ত্রের প্রকাশ সমাজ ও সময় নিরপেক্ষ নয়। আর এ কারণেই বাজার-পুরুষতন্ত্রের বহি:প্রকাশেও ভিন্নতা রয়েছে। তবে বাজার ভিত্তিক পুরুষতন্ত্র ধর্ম ও প্রথাভিত্তিক পুরুষতন্ত্রের মতো কঠোর নয়, বরং নমনীয়। স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়। ঐতিহ্যভিত্তিক পুরুষতন্ত্রের অতটুকুই বদল করে, যতখানি বদল কর্পোরেট স্বার্থের জন্য দরকার পড়ে। তবে সকল পরিবর্তন-পরিবর্ধন এর লক্ষ্য এক। কর্পোরেট পণ্যের প্রসার। ভোক্তার মনে ক্রমাগত অনুভূত চাহিদা তৈরির মাধ্যমে নির্দিষ্ট পণ্যের বাজার তৈরি। এ প্রক্রিয়ায় নারী একদিকে পণ্যের প্রসারে ভূমিকা রাখে। অপরদিকে নিজেও পণ্যে রূপান্তরিত হয়। বাজার-পুরুষতন্ত্রে নারী একই সাথে কর্তা এবং কর্ম হিসেবে আবির্ভূত হয়। কিন্তু কর্তা হিসেবে স্ব-পরিচালিত নয়। কর্পোরেট পণ্যের বিকাশের উদ্দেশ্যে গৃহিত শিল্প ও সংস্কৃতির ব্যাকরণ ঠিক করে দেয় কর্তা হিসেবে তার গতি-প্রকৃতি ও গতিশীলতা। নানা প্রতিযোগিতা-আনুষ্ঠানিকতার নামে তার চলন, কথাবার্তা, হাসি, শরীর প্রতিটির চুলচেরা বিশ্লেষণ চলে। পুরুষতান্ত্রিক চশমায়। অনুষ্ঠানের বিচারক কি নারী কী পুরুষ সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিচারের চোখগুলো ঠিক করে দেয় বাজার অর্থনীতি। ফলে তাদের বিচার-বিশ্লেষণগুলোও পণ্যে রূপান্তরিত হয়। নারীর সৌন্দয্য বিশ্লেষণের অনুষ্ঠান এর বিকিকিনি চলে টিভির পর্দায়।
একটু গোড়ার দিকে ফেরা যাক। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা উপমহাদেশের প্রসাধন বাজারে লাক্স এর দাপট ছিল এক চেটিয়া। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য রক্ষায় সাবান একটি লিঙ্গ নিরপেক্ষ উপাদান এবং নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য দরকারি হলেও একেবারে গোড়াতেই লাক্স প্রকাশ্য ভোক্তা হিসেবে নারীকে টার্গেট করেছে। আবার লাক্সের প্রচার-প্রসারেও ব্যবহার করেছে নারীকে। এ প্রক্রিয়াটিই অনুসরণ করেছে পরবর্তীতে প্রসাধন বাজারে আসা কোম্পানীগুলো। বলিউড এবং বাংলাদেশের প্রায় সব বিখ্যাত অভিনেত্রীরাই লাক্সের বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছেন। নারীর সৌন্দর্য বিচারে শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা উপমহাদেশীয় পুরুষতন্ত্রের একটি বর্ণবাদী অবস্থান রয়েছে। ফর্সা হওয়াটা এখানে নারী সৌন্দর্যের প্রধান নিয়ামক। লাক্স তার প্রচার-প্রসারে এ বর্ণবাদী পুরুষতান্ত্রিক ভাষাটাকেই প্রধান অবলম্বন করে তুলেছে। বছরের পর বছর। নারীর বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ও এতিহ্যগত সাংস্কৃতিক-সামাজিক উপাদানগুলোকে কীভাবে কর্পোরেট স্বার্থে ব্যবহার করা হয় এবং সে ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে পুরুষতন্তের উৎপাদন-পুনরুৎপাদন ঘটে তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে লাক্সের বিজ্ঞাপন। ফেয়ার এন্ড লাভলীর বিজ্ঞাপন তারই উপজাত এবং আরও বেশি করে প্রকাশিত একটি বর্ণবাদী বিজ্ঞাপন।
এবার আসা যাক লাক্স-চ্যানেল আই সুপার স্টার প্রতিযোগিতার একটি পর্ব প্রসঙ্গে। গত সপ্তাহে প্রচারিত অনুষ্ঠানে একটি পর্বের নাম ছিল 'ফেমিনিনিটি'। একটি সমাজের নির্দিষ্ট আবহে নারী হওয়ার মানে কী তা বুঝাবার জন্য এ শব্দটি সমাজতত্ত্বে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সামাজিক পরিসরে নারীর প্রত্যাশিত গুণ ও আচরণ। সুতরাং ফেমিনিনিটি কোন জৈবিক বিষয় নয়। এটি একশোভাগ সামাজিক। তথাকথিত নারীসূলভ আচরণ ও গুণাবলীর সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংজ্ঞা। এবং এটি যেহেতু জৈবিক নয় সেহেতু অবশ্যই পরিবর্তনযোগ্য (জেন ই স্টেটস এন্ড পিটার জি বার্ক, ফ্যামিনিটি/মাসকুলিনিটি, এনসাইক্লোপেডিয়া অব সোসিওলজি)। এখন দেখা যাক লাক্স চ্যানেল আই কী ধরনের ফ্যামিনিনিটি উৎপাদন ও উপস্থাপন করেছে। আলোচ্য পর্বে প্রতোযোগীরা বিভিন্ন ডিজাইনারের তৈরি শাড়ি পরে বিচারকদের সামনে 'বিড়াল হাটা’ (ক্যাটওয়্যাক) হেটে ছিলেন। প্রতিযোগীরা বিচারকদের সামনে আসার আগে উপস্থাপক এর ছোট্র ঘোষণা, আমরা দেখতে চাই আমাদের প্রতিযোগীরা কতখানি চৌকষ, আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীল হয়ে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারে। সনাতন বাঙালী পুরুষতন্ত্রে চৌকষ, আত্মবিশ্বাসী বা সৃজনশীল হওয়া নারীর প্রত্যাশিত গুণাবলী হিসেবে স্বীকৃত নয়, এগুলো পুরুষের। সুতরাং উপস্থাপকের এ ঘোষণা শুনে মনে হতে পারে লাক্স-চ্যানেল আই বুঝি বাঙালী পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোয় ফ্যামিনিনিটি সম্পর্কিত প্রবল ও প্রচলিত ধারণাটিকে বদলানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু না, এ পর্বের পুরোটাতেই চৌকষ, আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীলতা খোঁজা হয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক নয়, বরং নারীর শরীরি উপস্থাপনায়। চৌকষ ক্যামেরার ক্লোজ শর্টগুলো যেসব জায়গায় ধরাবার চেষ্টা করা হয়েছে তাতে যৌনতার উপমহাদেশীয় ধারণাটাই প্রবল হয়ে উঠেছে।
সনাতন বাঙালী পুরুষতন্ত্রে নারীর প্রধান পরিচয় যেমন শরীর ঠিক লাক্স-চ্যাানেল আই পরিবেশিত ফেমিনিনিটিতেও নারী কেবলই শরীর। পার্থক্য পরিবেশন ও উপস্থাপনায়। সনাতন পুরুষতন্ত্রে শরীর ভোগের, কিন্তু এজমালী নয়। ফলে ঘরের বাইরে তাঁর শরীর বাড়তি আবরণে ঢেকে রাখা তার জন্য সাংস্কৃতিক-সামাজিকভাবে বাধ্যতামূলক। আবরণটা কতখানি হবে সেটি আরোপিত হয় তার ধর্ম, শহর-গ্রাম, এমন কি শ্রেণী দ্বারা। আর বাজার-পুরুষতন্ত্রে ঢাকা-না ঢাকার সীমারেখাও নারীর নিজস্ব বিষয় নয়, একশোভাগ আরোপিত, উদ্যোক্তা, ডিজাইনার আর করিওগ্রাফার দ্বারা। দৃশ্যমান শৃঙ্খল এর বদলে অপেক্ষাকৃত অদৃশ্য শৃঙ্খল দ্বারা। এভাবেই বাজার ভিত্তিক পুরুষতন্ত্রের একটি স্থানীয় অবয়ব গড়ে উঠে। স্রেফ পণ্যের বিকিকিনিটা বাড়াবার জন্য। আর বাজার অর্থনীতি পুরুষতন্ত্রকে উৎপাদন, পুনরোৎপাদন করে। প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত। অন্যদিকে উদ্যোক্তারা (লাক্স, চ্যানেল আই) নারীর ক্ষমতায়নে কর্পোরেট দায়িত্বশীলতা পালন করছেন বলে প্রচার চালান।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): পুরুষতন্ত্র, জেন্ডার, লাক্স-চ্যানেল আই সুপার স্টার, বাজার অর্থনীতি, munir uddin shamim ;
প্রকাশ করা হয়েছে: জেন্ডার বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:০৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: কেন প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তার ব্যাখ্যা কিন্তু করলেন না? আর আমাদের নারীবাদী বলতে আপনি কাদের বোঝাচ্ছেন সেটিও স্পষ্ট নয়।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন:
ভালো লাগলো।
লেখক বলেছেন: ভাল লাগার জন্য ধন্যবাদ!!
লেখক বলেছেন: ঠিকাছে................
দেখে এলাম.........!!!
দিনমজুর বলেছেন:
@মুনীর উদ্দীন শামীম, খুব চমৎকার লিখেছেন। আপনাকে ধন্যবাদ।
রাষ্ট্র এবং সমাজ সংস্কৃতি চর্চা ও বিকাশের দায় বহুজাতিকের কাছে লিজ দিয়ে দিয়েছে, এখন প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে অভিনয় কিংবা গান শিক্ষার একাডেমিক প্রয়াস কিংবা স্বীকৃতির কোন প্রচেষ্টা তেমন দৃশ্যমান নেই, আছে মিডিয়াকেন্দ্রিক অভিনেতা/গায়কের বদলে স্টার উৎপাদনের বাণিজ্য। বাণিজ্য বেসাতির সাথে তাল মিলিয়ে তাই নারী-স্বাধীনতা বা নারী-মুক্তি এখন প্রাণ-প্রথম আলো আচার কিংবা লাক্স-চ্যানেল আই সুপার স্টারের "ফেমিনিটি" প্রদর্শনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।
আপনি এসব বিষয়ে আরো লিখবেন এই প্রত্যাশায়।
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্য পেয়ে ভাল লাগলো।
বহুজাতিকরা এখন আমাদের আবেগের কেনাবেচা করে। আমাদের হৃদয়, মন, অনুভূতি সবই পণ্য। সব কিছুরই বাজার আছে।
......................................................................................
অ.ট: আপনাদের নাইল্যাকাডা পড়ার চেষ্ট করি। দু' সংখ্যা আজিজ থেকে সংগ্রহ করেছিলাম...........। উদ্যোগটা অব্যাহত রাখুন।
ফারা তন্বী বলেছেন:
আপনার লেখাটার মধ্যে অসাধারন কিছু ম্যাসেজ পেলাম। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ নারীবাদী শব্দটাকে মেয়েদের স্বেচ্ছাচারিতার সমার্থক শব্দ হিসেবে বুঝে থাকেন। নারী স্বাধিনতা বা ক্ষমতায়ন সাম্য কিংবা সমতা যে কখনই স্বেচ্ছাচারিতা না তাদের বুঝতে ঝামেলা হয়। আমি যতদূর জানি নারীবাদ নারীর পন্যায়নের বিপক্ষে। লাক্স এর বিজ্ঞাপন বলেন আর সুপার স্টার প্রতিযোগীতা, উভয় দিকেই শরীর সর্বস্ব নারীকেই উপস্হাপন করা হচ্ছে। সাবানের কথাই ধরা যাক, সাবান কি শুধু নারীদের ব্যাবহার্য পন্য? এমন কি প্রায় সকল টয়লেট্রিজ পন্যে নারীকে বেশি ফোকাস করা হয়। সুলতানা কামাল সহ অনেকেই অনেকবার চেয়েছেন ইউনিলিভারের বিপক্ষে কাজ করতে । কিন্তু যে কোন কারনেই হোক হয়নি। কেন হয়নি তা হয়ত বুঝতে পারছেন। সম্প্রতি গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একজন প্রভাষক প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিছু করবার। কিন্তু সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারন পুরুষতান্ত্রিক হায়ারারকাল সিস্টেম, পলিসি মেকিং সব কিছুতেই হাত পা বাঁধা আমাদের। অপরদিকে প্রতিষ্ঠিত নারীরাই বুঝে হোক না বুঝে হোক কিংবা উদাসীনতার কারনে হোক পন্য হচ্ছেন নিজেরাই।প্রায় সকল বিজ্ঞাপনে মেধা বা মননের চেয়ে নারীর সৌন্দর্য কেই প্রাধান্য দেয়া হয়। যেমন একটি বিজ্ঞাপন এর জিঙ্গেল যা অনেকেই গুনগুন করেন এখনও " আর সি'র মজা কত। তোমার মত, যখন যেমন চাই......................" ১০-১৫ টাকার আর সি কোলা আর নারীর মূল্যায়ন কি একই? ২ টো কেই যখন যেমন চাওয়া হয় তেমনি পায়!!!! হয়ত নির্মাতা নিজেও জানেননা বা সতর্ক নন এটা নিয়ে। নারীবাদিরা প্রতিবাদ করবে বা করেনা কেন এ প্রশ্নে বোধ হয় সমস্যার সমাধান নেই। সমাধান হল গ্রাসরুট থেকে গভার্নমেন্ট লেভেল পর্যন্ট সচেতনতা। নারী বা পুরুষ উভয়ের মানসিকতার উৎকর্ষতা আগে প্রয়োজন। না হলে মামলা, ল মেকিং, চুক্তি স্বাক্ষরে খুব বেশি উপকার হবেনা মনে হয়! অফটপিক হয়ে গেল বলে ক্ষমাপ্রার্থী।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য.................।
আপনি ঠিকই বলেছেন, নারীবাদ সম্পর্কে একটা ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। এটা কিছুটা অপপ্রচারের জন্য আবার কিছুটা ভুল পঠন-পাঠনের জন্য। ফলে অনেকেই বুঝতে পারে না যে নারীবাদ শুধু নারীর বিষয় নয়, এটি পুরুষেরও বিষয়। নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক একটি সমাজ নির্মাণের মতাদর্শ হচ্ছে নারীবাদ এটি প্রায়শ বিদ্যাজাগতিক আলোচনায়ও অনুচ্চারিত থাকে। যদিও নারীবাদের সব রকমফের এ ধারণাটিকে ধারণ করে না।
বাজার অর্থনীতি কতটা নারীর জন্য অপমানজনক ম্যাসেজ পরিবেশন করতে পারে তার বড় উদাহরণটি আপনি দিয়েছেন।
সচেতনতা নির্মাণ জরুরি ঠিক। একই সাথে বিজ্ঞাপন সম্পর্কিত নীতিমালাও দরকার। যে নীতিমালাটি অবশ্যই জেন্ডার রেসপনসিভ হতে হবে। তবে সমাজ কাঠামোটির পরিবর্তন ছাড়া এগুলোর কোনটিই হয়তো সম্ভব হবে না বলে মনে হয়।
মন্তব্য করে সাপ্লিমেন্ট করবার জন্য আপনাকে আবারও ধন্যবাদ।
এমিল বলেছেন:
আরো একটা সমস্যা হ'লো নারীরা দীর্ঘদিন ধরে পুরুষতান্ত্রিকতার নিচে চাপা পড়ে থাকতে থাকতে অনেকটাই পুরুষ্তান্ত্রিক মানসিকতার অধিকারী হয়ে উঠেছেন। যার জন্য বাজার-পুরুষ্তন্ত্রে পণ্য হিসেবে বিক্রিত হচ্ছেন অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পুরুষ-পুরুষ্তান্ত্রিকতার জন্যই না, নারী-পুরুষ্তান্ত্রিকতার কারণেও।এই নারী বা পুরুষ ধারণার বাইরে যখন ধারণা মানুষ কেন্দ্রিক হয়ে উঠতে পারবে তখনই আসল সামাজিক উৎকর্ষ আসবে বলে আমার ধারণা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য...............
পুরুষতন্ত্র শুধু পুরুষের বিষয় নয়, এটি নারীরও বিষয়। নারী নিজেও পুরুষতন্ত্র ধারণ করেন। সামাজিকায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারীকে পুরুষতন্ত্রের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা হয়। পুঁজিবাদী পুরুষতন্ত্রেও তাই ঘটে। এখানে পন্যের বিকাশের স্বার্থে মনোজাগতিক ট্রিটমেন্ট চলে। অনুভূত চাহিদা তৈরি করা হয়। যে জন্য নারী নিজেও পুরুষতন্ত্রের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
মতামত দিয়ে পোস্টে যোগকরবার জন্য কৃতজ্ঞতা।
জানজাবিদ বলেছেন:
খুব বেশী কঠিন হয়ে গেছে লেখাটা। "এখানে নারীর অংশগ্রহণ বর্নীল এবং দৃশ্যমান বলে এটি সচরাচর সনানতন পুরুষতন্ত্র থেকে নারীর মুক্তি হিসেবে অনূদিত হয়"...................এই কথাগুলা কি আরেকটু সহজ করে বলা যেত না?
লেখক বলেছেন: পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা। ভবিষ্যতে মনে থাকবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ভাষার সহজ ব্যবহারের পক্ষে।
মুনিয়া বলেছেন:
লাক্সের এই জিনিসটা এত ফালতু লাগে...
লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ!
মনির হাসান বলেছেন:
এসব অনুষ্ঠান ... দুনিয়ার কুৎসিত'তম বিকৃত হিন্দী সিরিয়াল ... মুভি ... 'আমোদ'গণমাধ্যম গুলো ... নারী'কে সেক্স ডল ছাড়া আর কিছু হওয়ার জন্য উৎসাহ দেয় না ।নারীর মজ্জায় মজ্জায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে ... তুমি নারী ... পুরুষের রমনযন্ত্র তৃপ্ত করা ছাড়া তোমার আর কোন ইউটিলিটি নাই ...
এইসব মিডিয়া কুত্তার বাচ্চা'দের হোগায় কষায়া লাত্থি মারতে পারলে মনটা শান্তি পাইতো ...
লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা মন্তব্যের জন্য..................
বাজার অর্থনীতি এমন এক জিনিষ তা তার বিকাশের স্বার্থে, মুনাফার স্বার্থে যা যা ভাবা দরকার, ভাবানো দরকার সবটাই করবে। যদি এমন হয় যে ধর্মভিত্তিক অনুষ্ঠানের চাহিদা আছে এবং সেখানে বোরকা পরালে চলবে তাহলে সেটি তা করবে। এ কাজটা শুরু করেছিল প্রথম এটিএন বাংলা। এখন দেখেন সব চ্যানেলে একই ধরনের অনুষ্ঠান প্রচার করছে। মাসলা-মাসায়েল অনুষ্ঠান। তাদের কাছে মাসলা-মাসায়েল বড় কথা নয়। তারা জানে এ অনুষ্ঠানের দর্শক আছে। দর্শক থাকলে চান্ক বিক্রি করা যাবে। বিজ্ঞাপন পাওয়া যাবে।
.....................................................................................
অন্যরকম বলেছেন:
প্রচার মাধ্যমে ইদানিং এই লাক্সের মত উদ্ভট অনুষ্ঠানের আধিক্য বেড়ে গেছে অনেক! নাটক মডেলিং রিয়েলিটি শো থেকে শুরু করে খবর পাঠ পর্যন্ত সব জায়তাগেই "বাজার পুরুষতান্ত্রিক নারীবাদ" জেঁকে বসেছে। নারীর বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার চেয়ে শরীরসর্বস্ব স্বাধীনতাই এখানে মূখ্য। এটার প্রতিরোধ করার জন্য কোন কন্ট্রোল নাই। আবার কন্ট্রোলের কথা বললেই অনেকে তেড়েফুরে আসতে চায় এই বলে যে সাংস্কৃতিক উন্মেষ এবং বিস্তৃতির জন্য কন্ট্রোল বাধা হিসেবে কাজ করে। অথচ তারা এইটা চিন্তা করে না যে আঁতুড় ঘরে শিশুকে বেড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ থেকে রক্ষা করা প্রয়োজন। আমাদের কোন সাংস্কৃতিক গাইডলাইন নাই। কোন কোন জিনিস প্রচার করবো কিংবা কোনটা প্রচার থেকে বিরত থাকবো সেটারও কোন নিয়ম নাই। সেন্সর করা হয় ইচ্ছামত, মর্জিমাফিক। অথচ আমার ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ধর্ম এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনাকে মাথায় রেখে এ রকম একটা গাইডলাইন প্রণয়ন করা উচিৎ ছিল!
লেখক বলেছেন: আমি ব্যক্তিগতভাবে সেন্সরশীপের বিপক্ষে। সেন্সরশীপ না থাকা মনে এ নয় যে অন্যকে অমর্যাদাকরভাবে উপস্থাপনের অধিকার। আর সংস্কৃতি কখনও স্বাধীন নয়। এটি উৎপাদন শক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও বিকশিত হয়। ফলে বাজার অর্থনীতিতে কর্পোরেট পণ্য প্রসারে পুরুষতন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। এবং হবে। যদি না ব্যবস্থাটা বদলানো যায়।
আপনি যাকে শরীর সর্বস্ব স্বাধীনতা বলতে চাইছেন সেটি কি আসলে স্বাধীনতা? সেটি কতটা স্বপ্রণোদিত আর কতখানি কর্পোরেট কাঠামো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত?
একজন ব্যক্তি কী পরবে আর কী পরবে না, কতখানি ঢাকবে আর কতখানি ঢাকবে না সেটি স্বপ্রণোদিত না হয়ে যখন আরোপিত হয়, মুনাফার জন্য, সেখানে শুধু আমি আপত্তিটা করেছি। আপনি যে সংস্কৃতি, ধর্ম ও ঐতিহ্যের কথা বলছেন সেখানেও কিন্তু নারী স্বাধীন সত্তা নয়, অধীন। বাজার ভিত্তিক পুরুষতন্ত্র সে অধীনতা থেকে বাইরে এনে নতুন অধীনতা তৈরি করে। পুঁজির স্বার্থে। দু'জায়গার কোথাও নারী বা ব্যক্তির সৃজনশীলতা গুরত্ব পায় না।
মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা।
ক্লান্ত দুচোখ বলেছেন:
ভাইডি? বাংলা ডিকশেনারী লয়া লিখতে বয়ছিলেন নাহি?এতো কঠিন কঠিন শব্দ মাথায় ঢুকতে গিয়া কি্র-কি্র আওয়াজ করে!!
দশ লাইন পইড়্যা মাথা ব্যাথা শুরু হয়া গেসে...
তাই মাইনাস দিয়া বের হয়া গেলাম।
লেখক বলেছেন: হা হা......................
আমি খুবই দু:খিত যে দূর্বোধ্যতার অভিযোগ/অনুযোগ উঠেছে পোস্টটির ব্যাপারে। নারে ভাই...........কোন ডিকশনারি নিয়ে বসিনি। কেবল নিজের কিছু অনুভূতি শেয়ার করার চেষ্টা।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
অন্যরকম বলেছেন:
আমি সবসময়ই সেন্সরশীপ এবং নিয়ন্ত্রণের পক্ষে। কে কিভাবে কতটুকু নিজেকে উদোম করবে কিংবা করবেনা সেটা একটা নির্দিষ্ট কাঠামো মেনটেইন করে করা উচিৎ। সমাজের ও সংস্কৃতির সুস্থ্য বিকাশের লক্ষ্যেই এরকম হওয়া উচিৎ। আমি যা বুঝাইতে চাইছে সেইটার আলোচনা অনেক ব্যপক। ছোট একটি বিষয় নিয়ে কয়েকদিন আগে আলোকপাত করেছিলাম এইখানে দেখতে পারেন!ধন্যবাদ!
লেখক বলেছেন: বুঝলাম সেন্সরশীপের পক্ষে। কিন্তু এ সেন্সরশীপের নিয়ামকটা কী হবে? কিসের ভিত্তিতে সেটি ঠিক হবে?
আমাদের চলচ্চিত্রের একটা সেন্সরশীপের উদাহরণ দেই। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যখন 'কাটপিস' সম্পর্কিত ছবি এবং তথাকথিত অশ্লীল ছবির বিরুদ্ধে অভিযান চলছিল তখন 'সভ্য ছবি' হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছিল এমন একটি ছবি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। ছবিটি প্রথমে যেভাবে খুন, জখম দিয়ে শুরু হয় সেটি আমার কাছে দেখার অযোগ্য মনে হয়েছে। কিন্তু সেন্সরশীপের কাছি সেখানে লাগে নি। ঠিক একই কারণে। শ্লীলতা-অশ্লীলতার পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। আমাদের সমাজে অশ্লীলতাকে যৌনতা বিশেষ করে নারীর যৌনতার সাতথ গুলিয়ে ফেলা হয়। যেকারণে বাংলা চলচ্চিত্রের অশ্লীল হতে পারে এমন অনেক কিছুই আর অশ্লীল হয়ে উঠে না। সুতরাং আপনি যে সংস্কৃতির কথা বলছেন, যে সংস্কৃতির সুস্থ্য বিকাশের কথা বলছেন, আমার মনে হয় সেটিও পুরুষতান্ত্রিক।
অন্যরকম বলেছেন:
"কিন্তু এ সেন্সরশীপের নিয়ামকটা কী হবে? কিসের ভিত্তিতে সেটি ঠিক হবে? "হুমম.... সেইটা তো আলোচনা সাপেক্ষ। প্রয়োজনে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। ভিত্তিটাও ঠিক করতে হবে॥ আপনে আমাদের চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক যেই উদাহরণ দিলেন সেইটা হইল ভারসাম্যহীন সেন্সরশীপ। এই ভারসাম্যহীনতা যেন না থাকে সেইদিকেই লক্ষ্য থাকতে হবে!
লেখক বলেছেন: এটি ভারসাম্যহীনতা সেটি নিয়ে আমি দ্বিমত করছি না। কিন্তু সেখানে শ্লীলতা-অশ্লীলতার মানদন্ডটাই তৈরি হয়েছে পুরুষতন্ত্রের চোখে। এ পুরুষতন্ত্র থাকলে যে নীতিমালার কথা বলছেন সেটিও একই দোষ থেকে মুক্ত হতে পারবে না।
ধন্যবাদ আবারও।
ক্লান্ত দুচোখ বলেছেন:
সরি,বাংলা কঠিন শব্দ বঝতারিনা,
এইডা আমার অক্ষমতা... মাইনাস তো আমার খাওয়ার কতা!
হুদাই আপ্নেরে দিসি... আছে কোন মানে?!
লেখক বলেছেন: হা হা.................
হক মাহবুব বলেছেন:
বস্, বেশ ভাল লাগলো আপনার লেখাটা। আপনারে খোঁচাইতে ভাল লাগে। কিন্তু খোঁচাইলে ঈদের দাওয়াত মার যেতে পারে তাই আর ঐ কাজে গেলাম না। যাই হোক বস্। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য একটি বড় উপাদান হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা। জিজ্ঞাস্য হলো, এই যে নারীরা এত বড় একটি মিডিয়ায় উপস্থিত হলেন সেটা কী তারা না জেনে বুঝে, সিদ্ধান্তহীনতার মাধ্যমে এসেছিলেন!
যতদুর জানি বিড়াল হন্টন (ক্যাটওয়াক) একটি আর্ট ফর্ম। নাচের মতো। এখানে কি কোন প্রকার বুদ্ধিবৃত্তিক সৃজনশীলতা প্রয়োজন হয়না!
ভাল থাকেন। ঈদ মোবারক।
লেখক বলেছেন: বস সিদ্ধান্ত গ্রহণের দু'টো দিক...........একটি সংখ্যাগত, অপরটি গুণগত। অবশ্যই সিদ্ধান্ত নিয়েই এসেছেন। এবং মিডিয়ায়ই নারীর যে ভিজিবিলিটি এটি অবশ্যই একটি পরিবর্তন। কিন্তু সে পরিবর্তনটা বাজারী মতলবের কাছে যখন আবার বন্দী হয় তখন? আমি বলেছিলাম, বাজার পুরুষতন্ত্রের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে এটি নিজের অস্ত্রটা আড়াল করতে পারে। মতলবটাও। ফলে উপিস্থিতিটা ক্ষমতায়ন হিসেবে অনুদিত হয়। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় যে আবার পুরুষতন্ত্রের পুন"উৎপাদন ঘটে, সেখানে নতুন একটা শৃঙ্খল তৈরি হয় সেটি অদৃশ্য থাকে। অদৃশ্য সুতোর বাধনটা অনেক বেশি শক্ত এবং পাকাপোক্ত। এবং শৃঙ্লটা অংশগ্রহণমূলক এ অর্থে যে, মনোজাগতিক চাহিদা নির্মাণের মাধ্যমে এটিকে গ্রহণযোগ্য তোলা হয়।
আর নাচের মতো শিল্প? এটি অবশ্যই শিল্প। কিন্তু সে শিল্পের উদ্যেশ্যতো বাজারী। আর নাচের কথা? নাচের আদি ইতিহাসতো বলে এটি দেবতাকে তুষ্ট করার জন্য সৃষ্ট। অন্তত গ্রীক নাটকেতো তাই দেখি..................। নাচ শিল্প হলেও সেটি পুরুষতন্ত্র বিবর্জিত নয়। এটাতো মানবেন নিশ্চই বস?
মন্তব্যের জন্য স্যালুট!!
কাছাকাছি ধরনের একটা পোস্ট ছিল আমার Click This Link
লেখক বলেছেন: আমার মনে হয় আপনার এ তথ্যটি সঠিক নয়। আমি অসংখ্য নারীকে জানি যারা বাজারভিত্তিক পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার। সেটি আপনার চোখে কেন পড়েনি সেটি আপনিই ভাল বলতে পারবেন।
আপনার পোস্টটিও দেখলাম। সবিনয়ে বলি, নারী কী ধরনের পোষাক পরলো সেটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং আমি আরোপিত পোষাকের বিপক্ষে। সুতরাং আমার কাছে বোরকাও একই রকম। সেটিও নারীর পক্ষের কোন পোষাক নয়। এ ক্ষেত্রেও চিন্তাটা এক। শরীরকেন্দ্রীক।
যাকগে পোষাক সম্পর্কে আপনার ধারনার সাথে আমার কোন দ্বিমত নেই। শুধু পোষাক কেন আমি মনে করি নারীদের প্রতিটি ব্যপারে নারীরাই সিদ্ধান্তে নেবে- সেটাই উচিৎ।
লাক্স চ্যনেল আইতে তারা যাবে কি যাবে না সেটা তাদের ব্যপার।তাদের কথা বলা উচিৎ এ ব্যপারে।
ভাল থাকবেন
লেখক বলেছেন: হতে পারে। সেজন্যই জিজ্ঞাসা।
পুনরায় ব্যাখ্যা করার জন্য কৃতজ্ঞতা।
আপনিও ভাল থাকবেন।
লড়াকু বলেছেন:
আলোচ্য অনুষ্ঠানটির একটি পর্ব দেখার দুর্ভাগ্য আমার হয়েছে। বিপুল অর্থ ব্যয় করে একজন সুপারস্টারকে খুঁজে বের করা (যিনি কিনা আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন) যে ইউনিলিভারের লক্ষ্য নয় তা বোধ হয় নিরেট মূর্খ ছাড়া আর সবাই জানে। তাদের লক্ষ্যের কথা আপনি লেখার শুরুতেই বলছেন - মুনাফা।আমার মতে এ ধরনের অনুষ্ঠান নারীদের মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে। তাঁরা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার চেয়ে শরীরী সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। একটি অনগ্রসর জাতির ৫০ ভাগই যদি এ ধরনের মানসিকতা পোষণ করেন তবে আমরা আগাবো কি করে?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্য করে সাপ্লিমেন্ট করবার জন্য................
মুনাফার জন্য যা দরকার তাই করবে। এটিই পুঁজির ধর্ম। আসল চেহারা।
যীশূ বলেছেন:
দারুন লেখা। সহমত।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ....................পড়বার জন্য কৃতজ্ঞতা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ...............পড়বার জন্য কৃতজ্ঞতা!!
আইরিন সুলতানা বলেছেন:
যেহেতু টেলিভীষণে গ্ল্যামারটাই প্রধান উপজীব্য তাই এধরনের প্রতিযোগীতাগুলোতেও বাহ্যিকরূপের ছটাই দেখা হয় বেশী । তবে এর সাথে সাথে তারা আরো বিশেষ কিছু বিশেষণ আরোপ করেন যেমন আত্মবিশ্বাস, উপস্থিত বুদ্ধি, বিচক্ষণতা, ব্যক্তিত্ব বা যেমনটা বলেছেন চৌকষ, সৃজনশীলতা ইত্যাদি, এসব আসলে এই ধরনের প্রতিযোগীতাগুলোতে কিভাবে ফুটে ওঠে আমি ঠিক বুঝতে পারিনি এখনও। গ্রুমিং সেশন, মেক-ওভার সেশন এর পর প্রতিযোগীনিদের বাহ্যিকতার অনেক দৃষ্টিনন্দন পরিবর্তন হয় বটে কিন্তু দূর্দান্ত ক্যাট ওয়াকরত মেয়েটি আসলেই চৌকষ উপাধি পাওয়ার মত কিনা যে জায়গায় আমার সন্দেহ থেকেই যায়। কারণ চৌকষতার সাথে নির্ভরশীল হতো শিক্ষা, রুচি, উপস্থিত বুদ্ধি, বিচক্ষণতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, ধৈর্যশীলতা এমন সব কিছু আচরণগত বৈশিষ্ট্য। প্রশ্নোত্তর পর্বগুলোতে বরাবরই প্রমাণ হয়ে যায় প্রতিযোগীদের সাধারণ জ্ঞানের বহর এমনকি সেন্স অফ হিউমারও তাদের বেদনাদায়ক, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতাগুলোতেও অনেক সময় এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। অবশ্য যেমনটা শুরুতে বলেছি এটা গ্ল্যামার জগত, তাই সেই হিসেবে আর সব কিছুকে শেষতক প্রাধান্য দেয়া হয়না।
আগে সুন্দরী বলতেই আমরা যেরকম ডানা-কাটা পরী, কাটা-কাটা, চোখা-চোখা চেহারা ভাবতাম প্রতিযোগীতার শীর্ষস্থানের থাকাদের অনেকেই সেইরকম হননা আদতে! এটা একটা লাভ হয়েছেই হয়ত, আমরা স্বাভাবিক ধারনাটা পাল্টেছে।
ফেয়ার এন্ড লাভলীর বিজ্ঞাপন তারই উপজাত এবং আরও বেশি করে প্রকাশিত একটি বর্ণবাদী বিজ্ঞাপন। .....ফেয়াল এন্ড লাভলী'র বিজ্ঞাপনে একটি ফর্সা মেয়ের যে দুনিয়া জয়ে আত্মবিশ্বাস দেখানো হয় তার উল্টো পিঠে দাঁড়িয়ে যায় যে কালো মেয়েটির জন্য কোন কিছুই না!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!! মেকিং যত সুন্দর হোক না কেন, আসলে ফেয়ার এন্ড লাভলী'র প্রায় প্রতিটি বিজ্ঞাপনের কাহিনী বিশ্লেষণ করলে আমার কাছে তা হতাশাব্যঞ্জক মনে হয়। ফর্সা আর কালো দিয়ে আত্মবিশ্বাস আসবে কেন মেয়েদের বা কোন মানুষের ? বিজ্ঞাপনে যদি কেবল সুন্দর ত্বকের কথা বলা হতো তাহলে আমার আপত্তি ছিলনা, কিন্তু বিজ্ঞাপনে ফর্সা ত্বকের প্রতি দৃষ্টি দেয়া হয়, সুন্দর ত্বক (কালো হোক বা ফর্সা) বা সুস্থ ত্বক আত্মবিশ্বাস জাগাতে পারে। মানুষ সে ছেলেই হোক বা মেয়ে, মূল কথা হচ্ছে, কতটা মার্জিত রূপে, দৃষ্টিনন্দনরূপে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারে।সাথে নিজের শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান মিলেয়ে আত্মবিশ্বাসের ক্ষেত্র সেটাই হোক সবার জন্য।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ দীর্ঘ মন্তব্যের জন্য।
আপনার পর্যবেক্ষণগুলোর সাথে একমত। আপনি যে গ্রুমিং সেশনের কথা বলছেন সেখানে আসলে বিচক্ষণতা, বুদ্ধি এসব বিষয়ের ওপর নজর দেয়া হয় বলে মনে হয় না। বরং নিজেকে কতটা উপস্থাপনযোগ্য করে তোলা যায়, এবং এ উপস্থাপনযোগ্যটা অবশ্যই নির্ধারিত হয় পণ্যায়নের মাপকাঠিতে, সেটির ওপরই গুরুত্বটা থাকে।
আর 'সুন্দরী'র যে পরিবর্তিত ডেফিনেশনের কথা বলেছেন সেটিও হয়েছে একই উদ্দেশ্যে। পন্যের বিকাশ। আমি পোস্টেও বলবার চেষ্টা করেছি যে, অতটুকুই পরিবর্তন করবে যতটুকু পণ্যের প্রসারের জন্য দরকার পড়বে। আর এ কারণেই ফেয়ার এন্ড লাভলীর বিজ্ঞাপনে বর্ণবাদটা থেকে যায়। কারণ ঐটার বাজারী সম্ভাবনা এখনও বিদ্যমান।
মন্তব্য করে সাপ্লিমেন্ট করবার জন্য কৃতজ্ঞতা।
ভাল থাকবেন।
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
শামীম ভাই চমৎকার বিশ্লেষণ। খুবই ভাল লাগলো।
লেখক বলেছেন: পড়বার জন্য ধন্যবাদ......................।
কী খবর আপনার?
লেখায় পূর্ণ সহমত।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়বার জন্য.................
এর বিরুদ্ধে গেলে প্রচার মাধ্যমগুলি এক্কেরেই আগ্রহ বোধ করে না বইলা বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভগুলি হইলেও প্রচারণায় আসে নাই বা দানা বাধে নাই।
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্য পেয়ে ভাল লাগলো................!
কাজের সুবাদে আপনার নিশ্চই আরও গভীর পর্যবেক্ষণ রয়েছে। বিশেষ করে আয়োজকদের মনস্তত্বটা অনেক কাছ থেকে দেখেছেন। এগুলোও আলোচনায় আসা জরুরি।
এখন প্রতিটি সংবাদই কয়েকবার বিক্রি হয়। এ ব্যাংক.........অমুক ফার্ম বাণিজ্য সংবাদ নামে, অর্থনীতির সংবাদ নামে। মিডিয়া একদিকে নিজে কর্পোরেট, অপরদিকে নানা কর্পোরেট স্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধ। ফলে বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভগুলো দানা বাধার আশাটা কোথায়?
শুভেচ্ছা।
লালসালু বলেছেন:
লাক্স চ্যানেল আই লুলদের প্রিয় প্রোগ্রাম
লেখক বলেছেন: পোস্টের মূল টেক্সস, মন্তব্য. প্রতিমন্তব্য নিয়ে মন্তব্য পেলে আরও ভাল লাগতো।
ধন্যবাদ।
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন:
+++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়বার জন্য
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ!
লেখক বলেছেন: ঘুরে এলাম..............ভেবে ছিলাম এ পোস্ট বা বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিক। কিন্তু না। যা হোক আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ। তবে আপনার পোস্টটিকে অবজেক্টিভলি জেনারেলাইজড মনে হয় নি।
ধন্যবাদ।
কি আর করা অবসর সময়তো কাটাতে হবে তাই বসে বসে দেখি..........।পোলাপানারেও ফোন দিয়া কই দেখ -------------সোন্দর সুন্দর মাইয়া দেখাইতাছে।
কালকা রাতেও দেখলাম ওগো লম্ফঝম্প.........
জগতের সব আয়োজন ই পুরুষের মনোরন্জনের জন্য এইটা ভাইবা ভাল লাগে।
লেখক বলেছেন: অবসর কাটানোর বাজারি ব্যবস্থা!!!!
মনোরঞ্জনের মনস্তত্বটা গড়ে উঠে সামাজিকায়ন প্রক্রিয়ায়। পুরুষতন্ত্র এখানে মূখ্য ভূমিকা পালন করে বলে হয়তো প্রকাশটা এভাবে ঘটে। মন্তব্যের মতো করে। পুরুষের মধ্যে ভাললাগার অনুভূতি তৈরি করে। যেমন আপনি আপনার বন্ধুদের কথা বলেছেন। আর কর্পোরেট তার ব্যবসাটা চালিয়ে যায়।
কষ্ট করে পড়বার জন্য ধন্যবাদ।
উল্টা কইরা বুঝাতে চেয়েছি বলে হয়ত বুঝেন নাই ।
লেখক বলেছেন: না না, আমি আপনাকে ভুল বুঝি নাই.................আপনি যেসব বন্ধুদের ফোনের কথা বলেছেন সে প্রসঙ্গে বলতে চেয়েছি। ব্যক্তি হিসেবে তারাতো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ নন, একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সামাজিকায়নটা ঘটে। আর এ সামাজিকায়নে প্রবল সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো মূখ্য ভূমিকা রাখে। এ প্রক্রিয়া থেকে আমি নিজেও মুক্ত নই।
আরেকটা বিষয়। আমার কাছে ভাষার রাজনীতিটা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ। শব্দেরও একটি পুরুষতান্ত্রিক পরিপ্রেক্ষিত থাকে। ফলে আমরা এমন অনেক শব্দই প্রয়োগ করি, যা আদতে লিঙ্গীয় রাজনীতিরই বহি:প্রকাশ। আমরা কখনও এসব বিষয়ে সচেতন থাকি। আবার কখনও থাকি না।
আরেকবার মন্তব্য করে আপনার অবস্থান সুস্পষ্ট করবার জন্য বিনীত কৃতজ্ঞতা।
শুভেচ্ছা। ভাল থাকবেন।
রিমি (স. ম.) বলেছেন:
মন্তব্য ৫ এবং ২১ এর সাথে সহমত। ১৭ সত্যশ্রয়ীর মন্তব্যের বিষয়ে বলতে চাই, নারীরা কি করবে না করবে তা তাদের সিদ্ধান্ত হতে পারে কিন্তু সেই বিষয়ে মতপ্রকাশের অধিকার পুরুষের অবশ্যই আছে, যেমন নারীর আছে পুরুষের কর্মকাণ্ডে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার। একের কাজ অন্যকে প্রভাবিত করে।
@রাতমজুর, 'আমাদের নারীবাদী' কথাটার মধ্যে ব্যঙ্গের ছোঁয়া আছে মনে হচ্ছে।
আমার মতে নিজের মানসিক সৌন্দর্য্য বিকাশের পাশাপাশি শারিরীক সৌন্দর্য্য রক্ষার চেষ্টা করাটা পুরুষ নারী উভয়ের জন্যই স্বাভাবিক হওয়া উচিত, মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়িকে এড়িয়ে। প্রত্যেক মানুষই সেটা পারে। তবে মিডিয়ার অভিনেত্রী খোঁজার চেষ্টা জিনিসটা শেষ পর্যন্ত তথাকথিত যেই 'সুন্দর চেহারা এবং সুন্দর শরীর' সন্ধান করে সেটা আপত্তিকর।
আর ফেয়ার এন্ড লাভলির কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। রাবিশ। কালো হওয়া নিয়ে মেয়েদের আক্ষেপের শেষ নেই, আমাদের সমাজে কাউকে ফর্সা বলা মানে প্রশংসা আর কালো বলা মানে তাকে কষ্ট দেয়া। আশেপাশের মানুষের মনোভাব দেখেই তাদের মধ্যে এই হীনমন্যতার জন্ম হয়।
@শ।মসীর, খালি পুরুষ? নারীদের মনও কি কম রঞ্জিত হয়?
লেখক বলেছেন: সহমত..............এবং ধন্যবাদ!!
লেখক বলেছেন: কষ্ট করে পড়বার জন্য এবং মন্তব্য করে সাপ্লিমেন্ট করবার জন্য অনেক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা!
আর ভাষার ব্যাপারে যে অনুযোগ নিয়ে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকবো।
ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: সহমত এবং ধন্যবাদ।
সুবিদ্ বলেছেন:
এই CSR-এর জ্বালাতনের কোন শেষ নাই..........আমাদের এই সময়ের মুখ ও মনন তো পুরুষই........আধুনিকতার ফাঁপাবুলি সম্বল করে নারীরা শেষে ঐ পুরুষের তৈরি অদৃশ্য শৃঙ্খলকেই মেনে নিচ্ছে........তা দিচ্ছে ব্যবসায়ী গোষ্ঠি......
@ফারহানের মন্তব্যঃ+++
লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ..............
তবে নারীরা মেনে নিচ্ছে বললে সরাসারি দোষটা নারীর ওপর পড়ে। নারী দায়ী নয় আমি সেটি বলছি না। কিন্তু এ মেনে নেয়া বা দায়ী হওয়ার পেছনে কিন্তু এক ধরনের বিদ্যাজাগতিক এবং মনোজাগতিক ট্রিটমেন্ট চলে। আপনি যেটিকে অদৃশ্য শৃঙ্খল বলেছেন।
রাগ ইমন বলেছেন:
খুবই ভালো লিখেছেন । গদ্যটা বই বা পেপারের মনে হচ্ছে । যা হোক , খুব ভালো লেখা । তরলীভূত মগজ নিয়েও যখন বুঝতে পেরেছি আর নিজে চারটা পোস্টে মন্তব্য (!!!!) লিখেছি , আমার মত তো বুঝতেই পেরেছেন । লিংক্টা দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ।
লেখক বলেছেন: পড়বার জন্য কৃতজ্ঞতা এবং মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ.................
এ পোস্টের গদ্য নিয়ে সহ-ব্লগারদের অনেকেই অনুযোগ করেছেন। ভবিষ্যতে মনে রাখবো।
শুভেচ্ছা।
ভাল থাকবেন।
দামাল ছেলে বলেছেন:
পূর্ণ সহমত।কিন্তু সমস্যা হলো, নারীরা পণ্যের প্রসারে তাদের অজান্তে ব্যবহার হবার ব্যাপারটা মোটেই বোঝেন না। বরঞ্চ, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর প্রবর্তিত সংস্কৃতির অনুকরণেই নিজের স্মার্টনেস খোঁজেন আমাদের সমাজের বড় অংশের নারী।
আশা করি এ ব্যাপারগুলো্ও পরবর্তীতে আলোকপাত করবেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দামাল ছেলে..................।
আপনার এ বিশ্লেষণটা হয়তো আপাতত সত্য..........কিন্তু সত্যের ও একটা সত্য থাকে। সেটি বোধহয় আমরা অনেক সময় ধরতে পারি না। ফলে সমস্যাটা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী মেয়েগুলোর মধ্যে খুঁজতে থাকি। কিন্তু এটি যে একটি ব্যবস্থার অভিঘাত........সেটি বিবেচনার বাইরে থেকে যায়।
এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যেকোন মতাদর্শ, মূল্যবোধ ও চাহিদা তৈরির ক্ষেত্রে মিডিয়া দুর্দান্ত ভূমিকা পালন করে। সুতরাং আপনি যে স্মার্টনেস এর কথা বলছেন সেটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে তৈরি একটি অনভূত চাহিদা................। বাজার অর্থনীতির যুগে বাজারই ঠিক করে দিচ্ছে আধুনিকতা, স্মার্টনেস ইত্যাদির ধরন। আমরা ভোক্তা হিসেবে কেবল সে আধুনিকতাকে গিলছি। আর গেলানোর মাধ্যমে কর্পোরেট তার বাজার তৈরি করছে।
আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
খুবই ভালো লাগলো। আপনি যে সময়ে পোস্ট করেছেন, আমি বোধহয় অনিয়মিত ছিলাম। কোনোভাবে এই লেখাটা চোখ এড়িয়ে গেছে। সারাদিন যে পরিমাণ গারবেজ লেখা প্রথম পাতায় দেখি তার জন্যে এরকম বিশ্লেষণগুলো অপঠিত রয়ে যাচ্ছে! নেতিবাচক পরিবেশ থেকে মাঝে মাঝে কিছু সচেতন মানুষ রুখে দাঁড়ায়। এবং সংখ্যায় অল্প হলেও সেই মানুষদের জন্যে শ্রদ্ধা কাজ করে মনের ভেতর। আমাদের চারপাশে "বর্জ্য" মন-মানসিকতা বাড়ছে। আশঙ্কার বিষয় যে আমরা সেটাকে "রূপ" বলে চিহ্নিত করছি!
পোস্টের প্রতিটা কথার সাথেই একমত।
লেখক বলেছেন: আমিও ব্লগে বলতে গেলে প্রায় অনিয়মিত। ফলে আপনাদের লেখাগুলো মিস করি..........প্রায় নিয়মিতভাবে। ফেইসবুকের সুবাধে কখনও লিংক চোখে পড়লে একটু ঢু মারি।
...........................................................................................
আমার সৌভাগ্য যে, দেরীতে হলেও আপনার চোখে পড়েছে লেখাটা..এবং কষ্ট করে পড়েছেন, মন্তব্য করেছেন। অনেক কৃতজ্ঞতা এবং ভাললাগা.............।
................................................................................................
মাঝে মাঝে মনে হয় লিখে কী হবে। আবার মনে হয় লাভ আছে। অন্তত কিছু প্রশ্ন তোলা তো সম্ভব হচ্ছে। সেটি যত সীমিত পরিসরে হোক না কেন।
............................................................................................
কর্পোরেট পুরুষতন্ত্র বলি আর আমাদের ঐতিহাসিকভাবে বংশ পরস্পরায় পাওয়া পুরুষতন্ত্র বলি, দু'টিতে এ ধরনের মূল্যবোধগুলো এতটাই প্রবল এবং শক্তিশালী যে, গণতন্ত্র, মানবিকতা, প্রগতিশীলতায় নারীর মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানটা স্বীকৃত নয়। ফলে ধর্মের শেকলেও নারী বন্দী থাকে। আবার প্রগতির শেকলেও নারীকে বন্দী করা হয়। সৈয়দ হক, সুবর্ণা মোস্তফারা রাজনৈতিক সচেতনতায় বেড়ে উঠা মানুষ হওয়া সত্বেও স্রেফ বাণিজ্যের স্বার্থে নারী পণ্যায়নের প্রক্রিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি ও মেধা বিনিয়োগ করেন। সহায়ক হন কর্পোরেট পণ্যের বর্ণবাদী প্রচার প্রক্রিয়ায়। সব চেয়ে ভয়াবহ দিক হচ্ছে এর মধ্য দিয়ে পুরুষতান্ত্রিক মতদর্শের পারমুটেশন-কম্বিনেশন হয় বলে।
............................................................................................
শুভ্চেছা। ভাল থাকবেন।
...........................................................................................
খোকন_৮২ বলেছেন:
আপনার েলখা খুব ভােলা েলেগেছ, ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ!!
শিখাসুহৃদ বলেছেন:
Amader deser prekhapote onek narira nije e nari sadhinota,nari muktir mormatho bujena.shikhito,soceton narira jototuku buje ,budhiman ,soceton purusera toto e narike sringkholito kore rahke sudumatro adhunikotar lebase style tar beboharik poriborton kore.R ei porokho fadh soceton ,budhiman narider cokh o onek somoy eriye jai....Vaiya apna ke onek Dhonnobad ei poster jonno.
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ শিখা কষ্ট করে পড়বার জন্য এবং ইংরেজি হরফে বাংলা মন্তব্য করবার জন্য........
শুভেচ্ছা।
ভাল থাকবেন।
ব্লগে লেখা চাই।
এসএনিট বলেছেন:
অনেক দেরীতে হলে ও এমন চমৎকার একটা লেখা পড়ার সৌভাগ্য হলো । আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন নারী নিজেকে একজন মানুষ হিসেবে নিজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট না হবেন ততক্ষন পর্যন্ত তিনি নানাবিধভাবে 'পুরুষতন্ত্র' এর বিছানো জালে জড়াতেই থাকবেন।
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ......................
এ কাজটি শুধু নারীর নয়, পুরুষেরও। আমরা যখন এটি নারীর বিষয় বলে চিহ্নিত করি তখন মূল ফোকাস এর জায়গা থেকে দূরে সরে যাই। আমি বরং এটাকে নারী-পুরুষের বিষয় হিসেবে না দেখে একটি কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে দেখতে আগ্রহী। সুতরাং বদলটা দরকার কাঠামোয়। আর কাঠামোর বদলে অবশ্যই ব্যক্তির আচরণগত দিকটাও গুরুত্বপূর্ণ।.....................
শুভেচ্ছা। ভাল থাকবেন।
রিপন উদ্দিন বলেছেন:
লেখক বলেছেন: বহুজাতিকরা এখন আমাদের আবেগের কেনাবেচা করে। আমাদের হৃদয়, মন, অনুভূতি সবই পণ্য। সব কিছুরই বাজার আছে।
অসাধারণ বলেছেন। প্রিয়তে রাখলাম।
লেখক বলেছেন: Thanks for comments..............
Bangla likha jache na..........
রিয়াদ পারভেজ বলেছেন:
ভালা হইছে, প্লাস দেয়ার ক্ষমতা নাই, তারপরেও মুখে প্লাস দিয়া গেলাম
লেখক বলেছেন: মুখে জানিয়েছেন.............সেটিই বড় পাওনা........।
পড়বার জন্য এবং মন্তব্য করবার জন্য ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















টাইটেলের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি, সেরকম হলে আমাদের নারীবাদী নারীরা নিশ্চয়ই চুপ থাকতেন না, লাক্স ফ্যাক্টরিতে আগুন জ্বালাতেন, নিদেন পক্ষে ব্লগে।
নাকি এটা তারা এপ্রিশিয়েট করেন?