আমার প্রিয় পোস্ট

নাগরিক প্রেসনোট-৩: এগুলোকে এডাল্ট নিউজ হিসেবে ট্যাগ লাগালে একটি বাজারী সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৫১

শেয়ারঃ
0 3 0

ভাল হয়, প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতা না উল্টাতে পারলে। ভাল হয় যদি চলার পথে রেডিও না বাজে। বাজলেও তাতে যদি প্রতি ঘন্টার সংবাদ না থাকে। বাসার টেলিভিশনটাকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে পারলে আরও ভাল হয়। বাচ্ছাকাচ্ছা আর বিচ্ছুদের চাপে পড়ে অথবা বয়:বৃদ্ধদের আগ্রহের কারণে যদি সেটি করা না যায় তাহলে উচিত হবে সংবাদ-টকশো জাতীয় বিষয়গুলো বয়কট করা। শতভাগ বুঁদ হয়ে থাকা হিন্দী-ইংরেজি সিরিয়ালে। আমার সংস্কৃতি-নিজস্বতা-জীবনবোধ গোল্লায় যাক। আমি মুক্তি চাই। দু:সংবাদ থেকে। খারাপ খবর থেকে। এখন এ রাষ্ট্রে দু:সংবাদ-খারাপ খবর থেকে মুক্তির একটিই পথ। সব কিছু বন্ধ করে থাকা। চোখ-কান এমকি নাসিকাও। চোখ কান বন্ধ দেখে দু:সংবাদের ভয়ানক ঘ্রান যেন নাকে ঢুকে পৌছাতে না পারে। কোন ভাবেই যেন স্পর্শ না করতে পারে আমার শরীর-মন-অস্তিত্ব। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে নিজ ঘরেই নিজের নির্বাসন দিতে পারলে সব চেয়ে ভাল হয়। যে দেশটা কয়েক দশক ধরে গণতান্ত্রিক লেবাসে অদৃশ্য কয়েদখানায় পরিণত হয়েছে, আর এক একজন নাগরিককে তৈরি করছে যাবজ্জীবনের বন্দী হিসেবে, সে দেশে নিজের জন্য নিজের ঘরে একটা ছোট্র কয়েদখানা তৈরি করলে এমন ক্ষতি কি!। বরং একটা আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তোলা যাবে। বলা যাবে, এ রাষ্ট্র আমাকে স্বেচ্ছা নির্বাসনের স্বাধীনতা দিয়েছে। আমি স্বাধীন আমার নিজের জেলখানায়। আমি কৃতজ্ঞ আমার রাষ্ট্রের কাছে।
দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের দুই সাধারণ সম্পাদক যতসব অসাধারণ বক্তৃতা-বিবৃতি প্রসবের কাজ সম্পাদন করেন। প্রায় প্রতিদিন। তাদের এ নিরবিচ্ছিন্ন প্রসব বেদনার ছাপ পড়ে সকালের সংবাদপত্রে। রেডিও, টিভিতে, অন্যান্য গনমাধ্যমে। দিনের পর দিন। মাসের পর মাস। বছরের পর বছর। দশকের পর দশক। নাগরিক কাক-ডাকা ভোরে ঘুম থেকে জেগেই সংবাদপত্রের পাতায় সেসব দেখে আমার কেবল অর্থ অপচয়ের কথা মনে পড়ে। প্রতিদিনের সংবাদপত্র মানে এখন একজন খেটে খাওয়া নাগরিকের কমপক্ষে আট টাকার গচ্ছা। ফাও হিসেবে পাওয়া যায় অতিরিক্ত টেনশন-উচ্চ রক্তচাপ, আরও কতকি, যতসব দূরারোগ্য জটিল রোগের সম্ভাবনা। বিচিত্র দু:সংবাদের জামা পরা পত্রিকা আমাদের শিশুদের হাতে গেলে বিপ্রতীপ সামাজিকায়নের ভয় আমাদের আপাদমস্তকে ছড়িয়ে পড়ে। আর হৃদয়ের গভীরতা দিয়ে আমরা যে শিশুদের বর্ণমালা শেখাই, প্রতিদিন, একটু একটু করে, আমাদের প্রাণের ভাষা-বাংলা বর্ণমালা, সে বাংলা বর্ণমালার সাথে সদ্য সখ্যতার ওপর ভর করে যখন আমাদের শিশুরা বানান করে করে সেসব দু’একটি সংবাদ শিরোনাম হঠাৎ পড়ে ফেলে, আমাদের কাছে অর্থ জানতে চায়, তখন প্রিয় শিশুর এ প্রাগ্রসর অতিক্রম দেখে আমাদের উৎফুল্ল হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা উৎফুল্ল হতে পারি না। বরং ভয়ে কুঁচকে যাই। না শোনার, না দেখার ভান করি। তারপরও 'বলনা, বলনা' বলে নাছোড় বান্দার মতো শিশুরা যখন বায়না ধরে, আমাদের বাধ্য করে, তখন শিশুটিকে ভুল অর্থ বলা ছাড়া উপায় থাকে না। সংসদ অধিবেশনে মাননীয় সাংসদদের পারস্পরিক কাঁদাছোড়াছুড়ি, ফাইল ছোড়াছুড়ি আর পরস্পরককে বাক্যবান করার প্রক্রিয়ায় শব্দচয়ন দেখলে আমার বারবার মনে হয়, এ সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের আগে একটা ট্যাগ লাগানো উচিত। বলা উচিত, এখন প্রচারিত হবে এডাল্ট নিউজ মানে-প্রাপ্তবয়স্কদের সংবাদ। ক্ষতি কি, এডাল্ড মুভি যদি থাকতে পারে, এডাল্ড নিউজও থাকতে পারে। তাতে অন্তত কোন মা-বাবা-অভিভাবক বলতে পারবে না যে, আমাদের নেতা-নেত্রীদের কাছ থেকে আমাদের শিশুরা খারাপ ভাষা শিখছে। গালিগালাজ শিখছে। ট্যাগ লাগানো নিষিদ্ধ জিনিষের প্রতি বাজারী আকর্ষণ চিরকালের। তখন এডাল্ড মুভির মতো আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বক্তৃতা-বিবৃতিসম্পন্ন এডাল্ড নিউজ এরও কাটতি বাড়বে। রমরমা ব্যবসা হবে। ট্রিক্যোল ডাইন এপ্রোচ বা চুঁইয়ে পড়া অর্থনীতির সূত্র অনুযায়ী রমরমা এডাল্ট নিজউ ব্যবসার সুফল হয়তো তখন দরিদ্র মানুষের গায়ে গিয়েও লাগবে। সব সম্ভবনার দেশে কোন সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেয়া যায় না।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রাজনীতি ;
প্রকাশ করা হয়েছে: তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াপথে-প্রান্তরে হঠাৎ পাওয়া  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৫৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০৮
রুদ্র৮৯ বলেছেন: আপনার মনের যা অবস্থা,আমারও অনেকটা তেমনই,বিরক্ত হয়ে আমি গত এক সপ্তাহ খবর শুনিনি!!
২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৩

লেখক বলেছেন: হা হা..................খবর আপনি না শুনলেও আপনাকে জোর করে শোনানো হবে........যতসব সফলতার কাহিনী....ইত্যাদি
সে যাক কষ্ট করে পড়ে মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।

২. ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:১৯
আবু সাঈদ আহমেদ বলেছেন: সহমত।

আপনি খবর দেখেন!! নেতাদের খবর বেশী কিন্তু বিটিভি-ই দেখায়। পুরো জাতিকে অসুস্থ করবার জন্য বিটিভি-কে আর অশ্লীলতা শেখানোর দায়ে নেতাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা গেলে আমি সর্বোতভাবে পাশে থাকবো।

কারণ তারা যখন খুশীতখন দেশ ছাড়তে পারেন,আমরা'তো পারিনা। আমাদের সন্তানদের এই দেশেই বড় হতে হবে।

সতত শুভ কামনা আপনার জন্য, সকলের জন্য।
২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫১

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ...............
পড়বার জন্য।
মন্তব্য করবার জন্য

৩. ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২১
অশ্ব ডিম্ব বলেছেন:
১০০% ভাগ নিগেটিভ সংবাদ, সবসময়।
দুঃসংবাদ না হলে অইটা কোন সংবাদ ই না।

আমাদেরকে এগুলো বেশি করে হীনমন্য করে তুলছে দিন দিন।
২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৬

লেখক বলেছেন: আমাদের এখানে হার্ড নিউজ বেশি করে প্রচারের একটা বড় প্রবণতা অনেক আগে পাকাপোক্ত হয়ে আছে। আর অন্যটা হচ্ছে আমি যে বিষয়টি বলতে চেয়েছি.......রাজনৈতিক নেতাদের অন্য কোন সংবাদ মিডিয়া কোথা থেকে আনবে। তারাতো মেরাথন আকারে ঐ সবই বলে যাচ্ছেন.........কাদাছোড়াছুড়ি ছাড়া আরতো কিছু দেখতে পাই না।

৪. ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:১২
রাজীব_নন্দী বলেছেন: এই আমার পোস্ট লিংক। যদি একবার চোখ পড়ে তো কৃতজ্ঞতাপাশে বন্দি করবো।
Click This Link
০২ রা মার্চ, ২০১০ সকাল ১০:০৮

লেখক বলেছেন: ঠিকাছে..............দেখছি..লিংক দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
ব্লগে অনিয়মিত ছিলাম। এ জন্য দেরী হলো। সে জন্য দুঃখিত।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯১৮৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
লড়াই টা যখন মুক্তির.....,
চিন্তার মুক্তির,
বুদ্ধির মুক্তির,
শৃঙ্খল মুক্তির
এবং অবশ্যই সংখ্যাগরিষ্ঠ গণমানুষের........
তখন এ লড়াই
পৃথিবীর প্রাচীনতম লড়াই,...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ