somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা কবীর চৌধুরী আজ নেই। কিন্তু তিনি আছেন। তিনি থাকবেন। শুধু আমাদের মাঝে নয়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা........]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29502081 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29502081 2011-12-13 17:23:46 বিউটি বাণিজ্য, বেনিয়া স্বার্থের যুথবদ্ধতা, পুরুষতন্ত্র এবং পারসোনার ঘটনা-দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে নারীর ক্ষমতায়নের তত্ত্ব বনাম বেনিয়া স্বার্থ এবং আমাদের বিক্রিত-বিকৃত নতজানু মিডিয়া
পারসোনা সহ তথাকথিত ’এ’ ক্যাটাগরীর পারলারগুলো নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখছে প্রথমত এ রকম দাবিকে বিনয়ের সঙ্গে খারিজ করতে চাই। কারণ নারীর ক্ষমতায়ন শুধু একটি দৃশ্যমান অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া নয়। একজন কোথাও চাকরির সুযোগ পেলেন। দিনের শেষে নগদ টাকা পেলেন। তার ক্রয় ক্ষমতা বাড়লো। তাতেই ঐ নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন হয়ে গেল। ব্যাপারটি এতখানি সরল নয়। তা হলে পুঁজিবাদী দুনিয়ার প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য চলমান যৌনবাণিজ্য এ ক্ষমতায়নের অন্যতম প্রক্রিয়া হিসেবে স্বীকৃতি পেত। কারণ তাতে বিপুল কর্মসংস্থানও হয়। ক্রয় ক্ষমতাও বাড়ে। তারপরও কিন্তু সেটি ক্ষমতায়নের প্রক্রিয়া হিসেবে স্বীকৃতি পায় নি। এর কারণ নারীর ক্ষমতায়ন যেমন একটি অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া একই সাথে এটি মতাদর্শিক ইস্যুও। বিউটি পারলার যে মতাদর্শের ওপর ভর করে বিকশিত হয়েছে সে মতাদর্শের প্রথম চোখটি মুনাফার চোখ। দ্বিতীয় চোখটি হচ্ছে পুরুষতন্ত্রের। এ পুরুষতন্ত্র অবশ্যই ধর্মাশ্রিত সনাতন পুরুষতন্ত্র নয়, আধুনিক পুঁজিবাদি পুরুষতন্ত্র। ধর্মাশ্রিত পুরুষতন্ত্রও নারীকে বিষয় নয়, কেবল বস্তু, শরীর হিসেবে বিবেচনা করে। এবং আপদমস্তক ঢাকতে চায়। বন্দী করতে চায়। অপরদিকে পুজিবাদি পুরুষতন্ত্র নারীকে গৃহবন্দী করতে না চাইলেও নারীর অতখানি মুক্তি চায়, যতখানি মুক্তি হলে তার মুনাফা নিশ্চিত হয়। এটিও নারীকে বিষয় নয়, বরং শরীর হিসেবেই বিবেচনা করে। পার্থক্য হচ্ছে সনাতন পুরুষতন্ত্র যেখানে গৃহবন্দী করতে চায় সেখানে পুঁজিবাদী পুরুষতন্ত্র নারী শরীরের পন্যায়নের প্রক্রিয়াকে জারি রাখে। বেগবান করে। নানা ফন্দী-ফিকিরের মাধ্যমে। মৌলিক চাহিদার পরিবর্তে একটি কৃত্রিম অনুভূত চাহিদা তৈরির মাধ্যমে। এ কৃত্রিম চাহিদার মনোজগতটি তৈরি করে মুনাফাবাদি দুনিয়ার সব চেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার গনমাধ্যম, যে গনমাধ্যম আসলে কখনো গনের নয়, মানে জনগনের নয়। বেনিয়া গোষ্ঠীর। সুতরাং পারলার কেন্দ্রীক বিউটি চর্চা সে ফন্দি-ফিকিরেরই অংশ। অতএব গত দুই দশকে আমাদের নাগরিক জীবনে বিকশমান যে বিউটি বানিজ্যের অর্থনৈতিক কাঠামোটি তৈরি হয়েছে তার পুরোটাই পুঁজিবাদী পুরুষতান্ত্রিক মতাদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে। ফলে আমার ব্যক্তিগত প্রথম অনুসিদ্ধান্তটি হচ্ছে চলমান এ বিউটি বাণিজ্যের দৃশ্যমান মালিকানা নারীর হলেও মতাদর্শিক দিক থেকে তারা সবাই ভোগবাদী ও মুনাফাবাদী পুরুষতন্ত্রেরই প্রতিনিধিত্ব করেন। পারসোনার মালিকও তার ব্যতিক্রম হওয়ার কথা নয়। সুতরাং পারসোনার বননী শাখায় সংঘটিত ঘটনার পরবর্তী দিনগুলোতে পক্ষ-বিপক্ষের যে মেরুকরণ হয়েছে, বিশেষ করে প্রথম আলো সহ তথাকথিত মূলধারার সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাকে মূলত: একই শ্রেণীতে অবস্থানকারী মুনাফাবাদী মতাদর্শের যুথবদ্ধ প্রচেষ্টা হিসেবে পাঠ করতে চাই। মুনাফাবাদী ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যম কোনটি প্রকাশ করবে অথবা করবে না সেটিও তারা নির্ধারণ করে তার সাথে সংশ্লিষ্ট স্বার্থবাদী উপাদানগুলো বিবেচনা করে।

পুরুষতন্ত্র: নারী উদ্যোক্তার শত্র“ ও মিত্র
তার মানে কি যারা পারলার উদ্যোক্তা হিসবে ইতোমধ্যে একটি অবস্থান পাকাপোক্ত করেছেন তারা পুরুষতন্ত্রের শিকার হন না? এ উত্তরটিও নেতিবাচক নয়। তারা বানিজ্য স্বার্থের ক্ষেত্রে পুঁজিবাদী পুরুষতন্ত্রের ব্যবহার, সৃজন ও পুনসৃজনে যুক্ত থাকলেও তারাও আবার পুরুষতন্ত্রের শিকার হন। নিরবিচ্ছিন্ন টার্গেটও। তার অন্যতম উদাহরণ গত কয়েকদিনে পারসেনায় সংঘটিত ঘটনার প্রতিবাদ কারীদের একটা বড় অংশ কানিজ আলমাসকে তার শ্রেণীগত অবস্থান থেকে নয়, একটি কর্পোরেট বিউটি হাউজের মালিক হিসেবে নন, বরং রক্তমাংসের নারী হিসেবে বিবেচনা করেছেন। এবং এমন সব মন্তব্য করেছেন যা মূলত সনাতন পুরুষতন্ত্রের প্রতিনিধিত্বকারী। এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি সেটি প্রতিবাদের ভাষা হিসেবেও বিবেচনা করি না। প্রায় একটানা তিন বছর নারী উদ্যোক্তাদের ওপর একটি গবেষণা কাজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে হলফ করে বলতে পারি, কানিজ আলমাস কেও পুরুষতন্ত্রের বিপক্ষে লড়তে হয়েছে। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে টিকে থাকার জন্য। আবার একই সাথে তার ব্যবসাটাও বিকশিত হয়েছে আরেকটি ভিন্ন ধরনের পুরুষতন্ত্রের ওপর ভর করে। এখানে পুরুষতন্ত্রের সাথে তার/তাদের সম্পর্কটা হচ্ছে শত্র“ ও মিত্রের। আর এ কারণে পারসোনার ঘটনা নিয়ে তার যে অবস্থান, বিশেষ করে ফেইসবুকে স্ট্যাাটাস এবং অন্যান্য জায়গায় যেসব বক্তব্য এসেছে সে সব বক্তব্য শতভাগ কর্পোরেট অস্তিত্বের চিন্তা থেকে উৎসারিত। এখানে তিনি কোনভাবেই নারীর প্রতিনিধি নন, তিনি কেবল ব্যবসায়ী প্রতিনিধি। সুতরাং নারীর ক্ষমতায়ন কেন্দ্রীক যে বক্তব্য এবং শত শত নারী কর্মীদের ভবিষ্যত এর কথা এ সবই সত্য বলে অনুমান করতে দ্বিধা হয়। এবং এ দ্বিধাটা আমাদের স্বাভাবিক প্রতিবাদও।
পত্রিকার যৌথ বিবৃতি ও পারসোনার সনাতন পুরুষতন্ত্রের কাছে ফিরে যাওয়া
শুরুতেই বলেছি, মুনাফাবাদিতা একটি মতলবী ও কৌশলী মতাদর্শ। মুনাফার জন্য এটি মূল্যবোধ ভাঙে, গড়ে আবার পুরাতনের কাছে ফিরে যায়। আজকে বিভিন্ন পত্রিকায় যে যৌথ বিবৃতি এসেছে তাতে মূল ভিকটিম হিসেবে যিদি পারসোনা ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন কোন স্বাক্ষর বা নাম নেই। তার কোন বক্তব্যও নেই। তাতে বক্তব্য দিয়েছেন কানিজ আলমাস। পারসোনার স্বত—বাধিকারী হিসেবে। আর সাক্ষর দিয়েছেন তার স্বামী। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য থেকে যতটুকু জেনেছি তাতে জানি যে তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। আর পারসেনার ভোক্তাদের শ্রেণীগত অবস্থান বিবেচনা করে এমনিতে বলা যায় তিনি লেখাপড়া জানেন। তারপরও বিবৃতি দিয়েছেন তার স্বামী। কেন? উত্তর পুরুষতন্ত্র। এখানে মূলত: আবার ফিরে যাওয়া হয়েছে সনাতন পুরুষতন্ত্রের কাছে। যে মতাদর্শ মনে করে পুরুষ অভিভাবক। কানিজ আলমাস নারীর ক্ষমতায়নের কথা বললেও এখানে তিনি তার স্বামীকে দিয়ে বিবৃতি দেওয়ানোর ব্যবস্থা করেছেন, কারন সংবাদটি দেশ জুড়ে প্রচার হওয়ার পর বিষয়টি চলে গেছে সনাতন পুরুষতন্ত্রের হাতে। যেখানে স্বামীর কথা, পুরুষের কথা অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য।

( যে সব সহযোগী ব্লগার এর সৌজন্য ঘটনাটি সম্পর্কে প্রথম জেনেছি তাদের সকলের প্রতি বিনীত কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ক্যামেরা ব্যবহারের প্রাসঙ্গিতা, পারসোনার অবস্থান এর অসারতা এ সব বিষয়ে ইতোমধ্যে অনেক আলাপ হয়েছে বিধায় সে সব প্রসঙ্গ ইচ্ছে করে বাদ দিয়েছি। তবু এ টুকু বলতে চাই, সেবাগ্রহীতা/ভোক্তাকে না জানিয়ে যে কোন ধরনের ক্যমারা ব্যবহার ভোক্তা অধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার সাংবিধানিক নিশ্চয়তার লঙ্ঘন বলেই মনে করি। এবং সে কারণে এর প্রতিবাদ করি।)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29460003 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29460003 2011-10-04 17:15:26
নেপাল শিক্ষা ভ্রমণ-২:বিষ্ণু দি, মাদারস গ্রুপ এবং নেপালী নারীবাদী প্রতিরোধের উপাখ্যান
(বিষ্ণু দি)
বিষ্ণু দি'র সাথে দেখা করার লোভটা তৈরি হয় কাঠমান্ডু পৌছাবার পরই। নানা আলোচনা-গল্পে একই নামের পুনপৌনিক উচ্চারণ দেখে ভেতরে ভেতরে সে আগ্রহ দানাবাঁধতে থাকে। ডালপালা গজাতে থাকে আরও দ্রুত গতিতে। ভিনে ও শ্বেতা আপার কাছে আগেই শুনেছি যে, বিষ্ণু দি পোখারায় থাকেন। নেপালকে হিমালয় কন্যা বলা হলে পোখারা সম্ভবত সে হিমালয় কন্যার হৃদয়-প্রাণ। যেন প্রকৃতি অকৃপনভাবে ঢেলে দিয়েছে তার সমস্ত সৌন্দর্য। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৭-৮ ঘন্টার বাসযাত্রা দুরত্বের পর্যটন শহর পোখারা যাবার পথে আঁকাবাঁকা, উচু-নিচু পাহাড়ী শ্যমলিমা আর দূর হিমালয়ের দুধশুভ্রু আভা থেকে বিচ্ছুরিত সৌন্দর্য উপভোগ এর সাথে একটি বাড়তি আনন্দ হিসেবে যুক্ত হয় বিষ্ণু দির সাথে সাক্ষাতের সম্ভাবনা।
২১ ডিসেম্বর খুব সকালে হোটেল থেকে আমরা রওয়ানা দেই কাঁচকিপুর কমিউনিটি সার্ভিস সেন্টার এর উদ্দেশ্যে। তথাকাথিত দাতাসম্প্রদায় নির্ভরশীলতা মুক্ত স্বপ্রণোদিত হয়ে স্থানীয় জনঅংশগ্রহণে সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার এক অনন্য উদাহরণ হচ্ছে নেপালের কমিউনিটি সার্ভিস সেন্টারগুলো (পরের কোন কিস্তিতে শুধু কমিউনিটি সার্ভিস এর অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখার আগ্রহ থাকলো)। বিষ্ণু দি ও তার সহকর্মীরা আগে থেকেই ওখানে অপেক্ষা করছিলেন আমাদের জন্য। নেপালী রীতি আর ঐতিহ্য অনুযায়ী ফুল আর দূর হিমালয়ের যে দৃশ্যমান রঙছটা সারাক্ষণ টানে নেপালীদের ঠিক সে রঙের উত্তরীয় হাতে। হিমশীতল সকালে হাতে ফুল আর উত্তরীয় পরে আমরা পুরো টিম আরেকবার নেপালী অভ্যর্থনার মুগ্ধতা নিয়ে সোজা চলে যাই কমিউনিটি সেন্টারের সভা কক্ষে। সভাকক্ষ মানে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বা বিভাগীয় শহরের আলোঝলমল চাকচিক্যে ভরা কোন সম্মেলন কক্ষ নয়। সে অর্থে ওখানে কোন আভিজাত্যের ছোঁয়া নেই, ফ্যশানের বালাই নেই, তবু যেন রয়েছে কর্মনৈপুন্য আর অঙ্গীকারের গভীরতা। ঐ সভা কক্ষেই আমরা প্রকৃত পক্ষে বুঝতে পারি বহুল উচ্চারিত বিষ্ণু দি নামের মানুষটি কে। যার পুরো নাম বিষ্ণু মায়া। নারী-পুরুষের সমতার লড়াইয়ে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যুক্ত নেপালীদের, বিশেষ করে পোখরাবসীর এখন যিনি এজমালী দিদি। তিনি করজোড় করা প্রণাম আর মিষ্টি হাসির উচ্ছলতায় আমাদের আরেকবার অভিনন্দন জানান। নেপালী ভাষায় উচচারিত সে অভিনন্দন বার্তার ইংরেজি অনুবাদের আগেই আমাদের মন-হৃদয়কে স্পর্শ করে। আগ্রহের মাত্রা শতভাগ সক্রিয় করে আমরা গোগ্রাসে গিলতে থাকি নেপালী নারীদের ঘুরে দাঁড়াবার গল্প। বিষ্ণুদিরই মুখে।

( বিষ্ণু দি, তাঁর সহকর্মীদের সাথে আমাদের টিম)
'প্রায় দশ বছর আগের কথা। যখন আমরা কাজ শুরু করি। তখন নেপালী পুলিশ বড় ধরনের ইমেজ সংকটে ভুগছিল। মানুষের কোন আস্থা ছিল না পুলিশের প্রতি। বড় ধরনের অপরাধের শিকার হয়েও মানুষ থানায় যেতে চাইতো না। পুলিশের ইমেজ এত খারাপ ছিল যে, রাতে শিশুরা ঘুমাতে না চাইলে বাবা-মা ভয় দেখাবার জন্য বলতো পুলিশ ডাকবো। পোখারা নেপালের প্রধান পর্যটন শহর। বছর জুড়েই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা। ফলে নানা সামাজিক অপরাধ বেড়েই চলছিল। বিশেষ করে রাতের বেলা। তার ওপর আমাদের এলাকার পাশেই একটি বাসস্ট্যান্ড থাকবার কারণে অপরাধের হার ছিল অপেক্ষাকৃত বেশি। আমি তখন মাদারস গ্রুপের সদস্য। আমরা আমাদের দলে বসে সমস্যাটি নিয়ে আলাপ করলাম। সম্ভাব্য সমাধানের উপায় খুঁজে বার করার চেষ্টা করলাম। তারপর সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, ঠিক এ সময় পুলিশ অথবা পুরুষের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বরং আমাদের কিছু করতে হবে। ঠিক করলাম যে, আমরা নারীরাই মিলে রাতে রাস্তায় টহল দেব। শুরু হল নেপালী নারীদের রাতে টহল দেয়ার ইতিহাস। একটানা পনের মাস চললো আমাদের এ রাত্রিকালীন টহল'
'এক সময় জেলা পুলিশ বিভাগ কমিউনিনিটির অংশগ্রহণে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে এমন সংগঠন খুঁজছিল। আমরা নারীরা রাত্রিকালীন টহল শুরু করার আগে জেলা পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম। সুতরাং তারা আমাদের সম্পর্কে জানতো। পুলিশ বুঝতে পারলো যে মাদারস গ্রুপ ইতোমধ্যে খুব ভাল কাজ করছে। কমিউনিটিতে আমাদের ভাল গ্রহণযোগ্যতা আছে। তখন পুলিশ আমাদের কাছে প্রস্তাব নিয়ে আসে। বলে, আসুন আমরা একসাথে কাজ শুরু করি। এভাবেই শুরু হয় আনুষ্ঠানিক পুলিশিং প্রক্রিয়ায় পুলিশ-কমিউিনিটির, বিশের করে নারী সংগঠন ও পুলিশের যৌথ অংশীদারিত্ব', বলেন বিষ্ণু দি।

জিয়া ভাই (আমার সহকর্মী), বিষ্ণু দি এবং আমি
দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মাশ্রিত সনাতন পুরুষতন্ত্রে যেখানে নারীর গতিশীলতা গৃহপালিত প্রাণীর চেয়েও সীমাবদ্ধ, কোথাও কোথাও যেখানে দিনের বেলায়ও নারীর ঘরের বাইরে যাওয়া প্রত্যাশিত আচরণের মধ্যে পড়ে না, বরং ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ হিসেবে ‘গৃহিনীপনা’ই যেখানে স্বর্গের প্রতিরূপে (ইমেজে) মহিমান্বিত, সে ভৌগলিক সীমারেখায় বেড়ে উঠা কিছু নারী, তাও রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বিবেচনায় কেন্দ্রে নয়, বরং প্রান্তেই যাদের অবস্থান, তারা ঘরের বাইরে এসেছেন, সামাজিক আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের অভিপ্রায়ে, স্বপ্রণোদিত দায়িত্বশীলতার অনুভূতি থেকে-এ রকম গল্প আমাদের তন্ময় করে তোলে। পুরুষতন্ত্র রচিত নারী ও পুরুষের সামাজিক গতিশীলতার তথাকথিত 'অন্দর-বাহির', 'দিবা-রাত্রি' আর 'শুচি-অশুচি' ধারণার ফলিত ব্যাকরণের গালে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়ার ক্ষেত্রে নেপালী নারীদের সাহসের প্রতি শ্রদ্ধায় অবনত হয়ে আসে আমাদের মন। নানা জিজ্ঞাসা আর প্রশ্ন-উত্তরের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে আমাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়।

বিষ্ণু দির সাথে আমাদের টিমের কয়েকজন
বিষ্ণু দি বলতে থাকেন, 'শুরুটা সহজ ছিল না। বরং অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। আমাদের বসার জায়গা ছিল না। অফিস ছিল না। আমরা আমার বাসায় বসে সভা করতাম। তখন ওটাই ছিল অফিস। মানুষ আমাদের পুলিশের সোর্স মনে করতো। আমাদের প্রতি আস্থার অভাব ছিল। আমরা মানুষকে অনুনয়-বিনয় করে বলেছি যে, আগে দেখুন, আমরা কি করছি। আর এখন মানুষ আমাদের সদস্য হওয়ার জন্য পাগল। এটি সম্ভব হয়েছে আমাদের ক্রমাগত লেগে থাকা। উদ্দেশ্যের প্রতি নিরবিচ্ছিন্ন অঙ্গীকারের কারণে'।

বিষ্ণু দির সাথে বাংলাদেশ পুলিশের একজন নারী সদস্য
মাদারস গ্রুপ মূলত: নেপালী নারীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তবে ঠিক বাংলাদেশী আদলের কোন উন্নয়ন সংস্থা নয়। বিগত শতকের আশির দশকে গ্রামীণ সমাজে নারীরা সংগঠিত হতে থাকে এ নামের প্লাটফরমে। শুরুটা হয়েছিল গুরাং এবং মাগার কমিউনিটিতে। যেখানে প্রায় সকল বয়স্ক পুরুষ নেপাল, ভারত এবং যুক্তরাজ্যে সামরিক বাহিনীতে যোগদানের কারণে বাড়ির বাইরে চলে গিয়েছিল। প্রথমে এসব নারীরা বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় দিবস-অনুষ্ঠান উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখে ছিল তাদের কার্যক্রম। তারপর আস্তে আস্তে তাদের কর্মকান্ড অন্যান্য সামাজিক-অর্থনৈতিক ও নির্দলীয় রাজনৈতিক পরিধিতে বিস্তৃত হতে থাকে (সূত্র: ব্লগস্পট.কম)। তারই ধারাবাহিকতায় এখন মাদারস গ্রুপ নেপালে বিপুল জনপ্রিয় পরিচিত একটি নাম। অপরধাধীদের কাছে আতংকেরও জায়গা এটি। কাঁচকি পুলিশ স্টেশনে আরেকটি আলোচনায় পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে আলাপকালে মাদারস গ্রুপের প্রসঙ্গ এসেছিল। পুলিশের সে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাদারস গ্রুপের শুধু ইতিবাচক ভূমিকার কথা বলেন নি, মুচকি হেসে জানিয়েছিলেন, পুলিশও মাদারস গ্রুপ সম্পর্কে খুব সচেতন। এমনকি আমরা ভয়ও পাই ওদের। কারণ কোন বিচ্যূতি ধরা পড়লে ওরা সম্মিলিতভাবে থানায় চলে আসে। প্রতিকার চায়। জবাবদিহিতা দাবি করে।


মাদারস গ্রুপ এবং বিষ্ণু দির সহকর্মীদের অসংখ্য সাফল্য রয়েছে। তার মধ্যে একটি উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে ভারতের যৌনপল্লী থেকে একজন নেপালী তরুনীর উদ্ধার। বিষ্ণু দি বলেন, ঐ সময় আমরা নেপালের ভারতীয় দূতাবাসে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করি। আমাদের চাপের মুখে ভারতীয় দূতাবাস সক্রিয় হতে বাধ্য হয়। শেষ পর্যন্ত মেয়েটিকে আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হই। বিষ্ণু দি আরও জানান, এক সময় নেপালে বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটলে মেয়েরা আক্ষরিক অর্থে স্বামীর বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বেরিয়ে আসতো। বৈবাহিক সম্পর্ক অটুট থাকাকালীন অর্জিত সম্পত্তিতে স্ত্রীর কোন অধিকার ছিল না। আমরা এ নিপীড়নমূলক ব্যবস্থাটা পাল্টে দিয়েছি। আমরা বলেছি, সম্পত্তি দু’জন মিলে অর্জন করেছে। সুতরাং বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটলে সম্পদের সমান-সমান ভাগ হতে হবে। আমাদের দাবি আর আন্দোলনের মুখে এটি এখন আইনে পরিণত হয়েছে। নেপালী নারীদের জন্য আমরা এটি করতে পেরেছি।
কথায় কথায় বিষ্ণু দি আরও একধাপ এগিয়ে যান। নারী হিসেবে তার অনুভূতির সীমা স্বদেশ ছাড়িয়ে প্রসারিত হয় বাংলাদেশী নারীদের প্রতি। তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করবো এ ধরনের আইন এর জন্য তোমরাও কাজ শুরু করো। আমি, আমরা চাই যে, পারিবারিক সম্পত্তিতে বাংলাদেশী নারীদেরও সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা হোক। আমার বিশ্বাস একদিন তোমরাও সফল হবে। কিন্তু তার জন্য অনেক ত্যাগ স্বিকার করতে হবে। ধৈর্য রাখতে হবে। কিন্তু ভয় পাবে না।
'এ ধরনের কাজের কারণে নিশ্চই বাড়তি চাপ বেড়েছে। পরিবার ও পরিবারের বাইরের কাজ- এ দু’টোর মধ্যে সমন্বয় করেন কীভাবে'- আমাদের এ রকম প্রশ্নের জবাবে বিষ্ণু দি খুব স্বভাবসূলভ ভঙ্গিতে বলেন, আমাদের কাজ বেড়ে গেছে এটি সত্যি। কিন্তু দু’টিই গুরুত্বপূর্ণ। দুটিই আমাদের কাজ। কোনটিকে ছেড়ে দেয়া যাবে না। আগে ভোর ৬টায় ঘুম থেকে উঠলে এখন আরও আগে উঠি। কারণ কাজটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে পরিবারের সদস্যদেরও সক্রিয় সহযোগিতাও দরকার। যেমনটি আমি পেয়েছি আমার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে।
বিষ্ণু দি আমাদের নারী পুরুষের যৌথ প্রয়াস এর কথাও মনে করিয়ে দিতে ভুলেন না। বরং নারী-পুরুষের সম্মিলিত লড়াইটাই মূল কৌশল হওয়া উচিত বলে জোর দেন। বলেন, আমরা যদিও নারীরা মিলে শুরু করেছিলাম, কিন্তু এখন অনেক পুরুষ আমাদের সাথে কাজ করে। পুরুষ আমাদের শত্রু নয়, সহযোদ্ধা। এ সব সমমনা সহযোদ্ধাদের খুঁজে বের করতে হবে। তাদের লড়াইয়ে শামিল করতে হবে। তাতে বরং পথচলা অনেক সহজ হবে। ঐক্যের জায়গাটা বিস্তৃত হবে।

বিষ্ণু দির পুরো আলোচনায় নারীবাদ শব্দটি একবারও উচ্চারিত হয়নি। হয়তো নিজেদের নারীবাদী দাবীও করেন না। এবং দিনযাপনে ধনতান্ত্রিক শ্রেণী ও ক্ষমতাকাঠামোর কেন্দ্রস্থিত অভিজাত নারীবাদের তারকা প্রতিনিধিও তিনি নন। অন্তত আমার তা মনে হয়নি। তবুও তাদের সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে যেটুকু ধারণা পেয়েছি তাতে এ রকম একটা অনুসিদ্ধান্ত টানা যেতে পারে যে, নারীবাদী আন্দোলন বিকাশের গতি-প্রকৃতিতে গত কয়েক দশকে স্থান করে নেয়া এটি সে নারীবাদী প্রক্রিয়া, যা প্রতিবাদ-প্রতিরোধ, লড়াই-এ পুরুষকে খারিজ করে নয়, বরং পুরুষদের মধ্য থেকে সমমনা খুজে বের করা, সহযোদ্ধা হিসেবে তাদের এক কাতারে শামিল করা এবং সম্মিলিতভাবে নারী-পুরুষের এগিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেয়।

মতবিনিময় শেষে আমরা পুরো টিম বিষ্ণু দির বাসায় যাই। তারই বিনয়ী নিমন্ত্রণে। ওখানেও নেপালী ঐতিহ্যরই প্রতিফলন দেখি। শাক, ভাত, মাছ, ডাল নেপালী থালায় পরিবেশন করা হয় আমাদের। অনেক হৃদ্যতার মিশেলে। নেপালী আতিথিয়তার উষ্ণতায় সিক্ত হয়ে আমরা যখন পরবর্তী গন্তব্য লেকাসাইড কমিউনিটি সেন্টারের উদ্দেশ্যে বাসে চড়ে বসি, আমাদের মধ্যে তখনও চলতে থাকে বিষ্ণু দি ও মাদারস গ্রুপের গল্প। যে গল্পটা মনের কোনে এখনও বেজে চলছে। বাজুক না এ গল্পটা অনন্তকাল ধরে।

বিষ্ণু দির বাসার সামনে থেকে তোলা ফুলের ছবি
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29312606 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29312606 2011-01-23 08:51:33
নেপাল ভ্রমণ: ডেভিস ফলস, দুই তিব্বতী তরুনীর সাথে কিছুক্ষণ এবং দেশহীন মানুষের খন্ডিত গল্প
পোখারা। হিমালয়ের দেশ নেপালের ছোট্র পর্যটন শহর। এখানে এবারের মতো আমাদের শেষ বিকেল আজ । পরের দিন খুব সকাল সকাল আবার কাঠমুন্ডুর উদ্দেশ্যে যাত্রা। পুরো টিমের মধ্যেই ছেড়ে যাওয়া ও গুছিয়ে নেয়ার তাড়া। পোখারায় ভ্রমণের শেষ আনুষ্ঠানিক কর্মযজ্ঞ হিসেবে একটু আগেই সবাই মিলে এক পলক ঘুরে এসেছি ডেভিস ফলস। এটি একটি অপরূপ প্রাকৃতিক ঝর্ণা। যার আদী নাম ছিল প্যাটালী সাঙ্গো। ১৯৬১ সালের ৩১ জুলাই বিকেলের রোদে সুইস তরুনী ডেভিস তার স্বামীর সাথে গোসল করতে নামলে লেক থেকে হঠাৎ দ্রুত বেগে নেমে আসা পানির স্রোতে ভেসে যায় ডেভিস। অনেক দিন পর তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে জীবত নয়, মৃত অবস্থায়। পরবর্তীতে তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে এ ঝর্ণার নামকরণ করা হয় ডেভিস ফলস। ৫০০ মিটার দীর্ঘ এবং ১০০ মিটার গভীরের এ নয়নাভিরাম ঝর্ণাপ্রবাহটি বছরের প্রায় সব সময় চলমান থাকে। তবে জুন-সেপ্টম্বর এর দিকে এর গতি তারুন্যদীপ্ত হয়ে উঠে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা এসেছি ডিসেম্বর মাসে। যখন এর ঘুমিয়ে থাকার সময়। তবুও ঘুমন্ত ঝর্ণাধারার ছলছল শব্দে আমাদের মন দোলে উঠে। আমাদের অনুভূতিকে নাড়া দিয়ে যায় ডেভিস দম্পতির অনিচ্ছাকৃত বিচ্ছেদের স্মৃতি। যেন প্রিয়জন হারানোর বেদনাগুলোই ঝর্ণা প্রবাহের গতিপথে বেজে উঠে বারবার। সে ভালবাসার টানেই হয়তো প্রতিদিন শত শত মানুষ ছুটে আসে।

( ডেভিস ফলস এর ছবি)
ডেভিস ফলস এর প্রবেশ পথের সামনেই অনেকগুলো সারি সারি ছোট ছোট দোকান। বেশির ভাগ দোকনের বিক্রেতা নারী। তার মধ্যে খুব কম সংখ্যক নেপালী। বাকীদের কেউ ভারতীয়, কেউ বা তিব্বতী। অথবা অন্য কোন দেশের। কোন কোন দোকান নারী-পুরুষ এর যৌথ উদ্দেগে পরিচালিত। নেপালী স্বাদের নানা বাহারী পন্যে সাজানো দোকানগুলো। প্রধানত নারীদের ব্যবহার যোগ্য বর্ণীল পাথুরে অলংকার। স্থানীয় ঘরানার পোষাক-পরিচ্ছদ, শীতবস্ত্র। রাধাকৃষ্ণ, গৌতমবুদ্ধের মূর্তি, নেপালের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন আকার ও রঙের ছুরি। ধুমপায়ীদের জন্য কাঠের তৈরি ছাইদানীও রয়েছে। ছাইদানীগুলোর ভেতরে রয়েছে যৌনাবেদনের বিশেষ ভঙ্গিমায় বসা নারীর খোদাই করা নগ্নমূর্তি। পুরুষ ধুমপান করবে। তার উচ্চিষ্ট ফেলবে নগ্ন নারীমূর্তির গায়ে। যখন যেখানে খুশি ইচ্ছেমতো। পুরুষতান্ত্রিক শিল্পচর্চায় নারী শরীরকে এজমালী হিসেবে ভোগ্য করে তোলার বৈশ্বিক শিশ্নবাদী ইতিহাসে একটি আদর্শ নমুনা হতে পারে এ নেপালী ছাইদানী।
ইতোমধ্যে আমাদের ২১ জনের টিম খন্ডে খন্ডে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। পুরো দমে ঝাপিয়ে পড়েছে কেনাকাটায়। আমরা মানে আমার প্রতি দিনের চব্বিশঘন্টা জীবনের গতি-দুর্গিতির সার্বক্ষণিক মনিটরিং অফিসার আমার জীবনসঙ্গী ফারহানা, এ সব কর্মকান্ডে সার্বক্ষণিক খবরদারীর উদীয়মান সমন্বয়কারী আমাদের একমাত্র কন্যা অরিত্রী মিলে তিনজনের একটি টিম। এ দোকান ও দোকান ঘুরতে ঘুরতে একেবারে শেষ মাথায় এসে থমকে দাঁড়াই। ক্লান্তি রোধে চা এর খোঁজে। চোখের সামনে ঝুলে থাকা বিভিন্ন রঙের ব্যতিক্রম মাফলারগুলো দেখে আগ্রহী হয়ে উঠি। আমরা তিনজনেই। মাফলারগুলো এক কথায় ফ্যাশন্যাবল, ব্যতিক্রম। এ রকম ডিজাইনের মেয়েদের মাফলার আমাদের দেশে নেই। অন্তত আমাদের চোখে পড়েনি। সুতরাং দু’একটি কেনা চাই চাই-ই। বাছাই আর দরকষাকষি করতেই করতেই আমাদের খাতির জমে উঠে বিক্রেতা দু’টি মেয়ের সাথে। ওরা দ্’ুজনই বয়সে তরুন। উচ্ছল এবং আলাপী। ভাল ইংরেজি বলে। সম্ভবত হিন্দী ও নেপালী ভাষায়ও পারঙ্গম। জানা গেল ওদের দোকানে চা-কফি ও পাওয়া যায়। আমরা মূলত: চা খুজছিলাম। দেরি না করেই আমরা চায়ের অর্ডার দেই।

চায়ের কাপে চুমুক দিতেই দিতেই চলতে থাকে আলাপচারিতা।
তোমাদের দেশ কোথায়?
-বাংলাদেশ
তোমারা নেপালী?
-না?
তাহলে?
-আমাদের কোন দেশ নেই
মানে কি?
-আসলেই আমরা দেশহীন। গৃহহীন। আমাদের কোন দেশ নেই। আমরা তিব্বতী। কিন্তু তিব্বত এখন আমাদের দেশ নয়। ওটা অন্যের দখলে। চীনের করতলে। ওখানে আমাদের যাবার সুযোগ নেই।
তোমরা যেতে চাও?
-অবশ্যই। ওটা আমাদের মাতৃভূমি। মাতৃভূমিতে কে না যেতে চায়? আমরাও ফিরতে চাই। থাকতে চাই ওখানে। প্রিয় স্বদেশে।
তোমরা কতদিন ধরে নেপালে আছ?
-অনেক অনেক দিন। দিনক্ষণ মনে নেই। তবে আমাদের বাবা-মারও জন্ম হয়েছে এ নেপালে। আমাদেরও জন্ম এখানে। তবু আমরা নেপালী নই। আমাদের নাগরিকত্বও নেই। এখানে আমাদের একমাত্র পরিচয় শরনার্থী। থাকি শরনার্থী ক্যাম্পে। জন্ম শরনার্থী ক্যাম্পে। আমাদের বেড়ে উঠা এ শরনার্থী ক্যাম্পে।

জানা যায় নেপালের বিভিন্ন জায়গায় এ রকম বারটি শরনার্থী ক্যাম্প রয়েছে। যেখানে বিশ হাজারেরও বেশি তিব্বতী শরনার্থী রয়েছে। কোন কোন সূত্র মতে শুধু কাঠমুন্ডতেই ৩০,০০০ শরনার্থী রয়েছে। গত শতকের পঞ্চাশের দশকে এ সব তিব্বতী শরনার্থীদের আগমন শুরু হয়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সীমান্ত পাড়ি দেয়া তিব্বতীর সংখ্যা। এ শরনার্থীদের নিয়ে ভূরাজনীতিতে অপেক্ষাকৃত দূর্বল রাষ্ট্র নেপালেরও রয়েছে দ্বিমুখী সংকট। এক দিকে শরনার্থীদের জন্য কোন প্রকার পুনর্বাসন ব্যবস্থা না করার বিষয়ে প্রতিবেশী চীনের চাপ, অন্যদিকে শরনার্থীদের জন্য কিছু করার বিষয়ে ইউরোপ-আমেরিকা সহ আন্তর্জাতিক কমিউনিটির চাপ। দুই চাপের নেতিবাচক তাপপ্রবাহ শেষ পর্যন্ত গায়ে এসে লাগে দরিদ্র শরনার্থীদের গায়ে। আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এ এক দাসত্বের শৃঙ্খল। মুক্ত থেকেও মুক্ত নয়। অদৃশ্য শেকলে সব বন্দী হয়ে থাকে। জন্ম নিয়ে নাগরিকত্ব লাভের বিধান দেশে দেশে চালু থাকলেও এ নিয়ম ওদের বেলায় প্রযোজ্য নয়। চিরচারিত দাস ব্যবস্থায় যেমন দাসের সন্তান দাস হিসেবেই বেড়ে উঠে ঠিক আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার শরনার্থী শিবিরেও শরনার্থীর নবজাতক আর নাগরিক হয়ে উঠে না। থেকে যায় শরনার্থী হিসেবে। তবু সৌভাগ্য যে, নেপালের মাটিতে ছোটখাট ব্যবসা-বাণিজ্য করে ওরা ওদের জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করতে পেরেছে। পড়া-লেখার করার সুযোগ রয়েছে। অন্তত আয়-ক্যালেরী গ্রহণের হিসেবে ওদের দরিদ্র বলা যাবে না। কিন্তু দারিদ্র্যের মানবকি সূচকে ওদের অবস্থান দারিদ্র্য রেখার অনেক অনেক নিচে। ভিটে-মাটি ছাড়া এ সব মানুষ এর সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়ে চলছে।
দেশ হারাবার গল্প আর স্বদেশের আকুতি মাখা মেয়ে দু’টির চোখে আমরা যেন দেখতে শুরু করি বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানবেতর জীবনযাপনকারী অগনিত শরনার্থীর মুখ। রাষ্ট্র শাসনের নামে কখনো রাষ্ট, কখনো ব্যক্তি ক্ষমতাবানের দাপটে যারা হারিয়েছে আপন জন্মভূমি। মা, মাটি, আপনজন। মেয়ে দু’টির সাথে আমাদের মেয়ে অরিত্রীর ভাব জমে উঠে। একজন ওর সাথে ছবি তোলে। কোলে নিয়ে গল্প করে। ওকে চুড়ি উপহার দেয়। ততক্ষণে শহরের চারপাশে ঘিরে থাকা উঁচু উঁচু পাহাড় বেয়ে নেমে আসে অন্ধকার। ঘন কুয়াশা। তার থেকেও উচু হিমালয়। ঘন কুয়াশা আর সন্ধ্যার অন্ধকারের কাছে হিমালয়ও হার মানে। আর দেখা যায় না। মেয়ে দু’টিকে আমাদের বিদায় বলার সময় হয়। অন্ধকারে হিমালয়ের বিশালত্ব ঢাকা পড়লেও দেশহীন এ দু‘টির মেয়ের মুখ আর সামান্য আলাপনের স্মৃতি উজ্জ্বল হয়ে পড়ে থাকে আমাদের মনে। কোন ভাবেই ভোলা যায় না মেয়ে দু’টিকে। পৃথিবীর তাবৎ শরনার্থীর দেশে ফেরার আকুতি নিয়ে ওরা হিমালয়ের চেয়েও অনেক বেশি বিশালত্ব নিয়ে হাতছানি দেয় আমাদের মনে। অবসান হোক মানুষের শরনার্থী হওয়ার ইতিহাস। আজই। এখনই।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29298200 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29298200 2010-12-29 15:12:38
হিমালয়ের দেশ থেকে শুভেচ্ছা......................... http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29291523 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29291523 2010-12-17 21:54:39 আমাদের দিনবদলের গল্প-২
৬ এপ্রিল অফিসে যাইনি। শরীর খারাপ ছিল বলে। বাসায় অপেক্ষা করছি সংবাদপত্রের জন্য। অফিসে যাবার আগেই সংবাদপত্রের পাতায় একটু চোখ বুলিয়ে নেয়ার অভ্যাস। বলা যায় বিশ্ববিদ্যালয় হলে থাকতেই এটি প্রতি দিনের অবশ্যম্ভাবী কাজের অংশে পরিণত হয়েছে। আর বদল হয়নি। কিন্তু ৬ এপ্রিল সকাল দশটা বাজার পরও যখন সংবাদপত্রের দেখা নেই, সদা হাসিখুশী মুখের কিশোর ছেলেটির কোন হদিস নেই, যে কয়েক বছর ধরে আমাদের সংবাদপত্র দিয়ে যায়, রোজ রোজ, খুব সকালে, তার অপ্রত্যাশিত বিলম্ব দেখে নিচে নামি। জানতে পারি, আমরা একা নই, প্রতিবেশিদের বাসায়ও সংবাদপত্র আসেনি। কিছুক্ষণ আগে রাস্তায় অনেকগুলো সংবাদপত্র পোড়ানো হয়েছে সে সংবাদও কানে আসে। মনে মনে ভাবি, হয়তো কোন বিশেষ পত্রিকা কোন বিশেষ কারো সম্পর্কে সংবাদ ছেপেছে। সেজন্য তার লোকজন হয়তো পত্রিকা পোড়াচ্ছে। একটু পর শুনি, বিষেষ কোন পত্রিকা নয়, সব পত্রিকা মানে গোটা পত্রিকার বান্ডিলই পোড়ানো হয়েছে। তার মানে কি সব পত্রিকাই ঐ বিশেষ সংবাদটি ছেপেছে? সরকারী দল অথবা বিরুধী দলের কোন ক্ষমতাবান নেতা সম্পর্কে সংবাদ? না, ওসব কিছুই না। বান্ডিল ধরে সংবাদপত্র পোড়ানোর কারণ, বিশাল এলাকা জুড়ে সংবাদপত্র বিক্রির মাধ্যমে বিদ্যমান বাণিজ্য সম্ভাবনাকে কব্জা করা। নিজ দখলে রাখা। মানে অন্যকে সরিয়ে নিজেদের দিনবদলের প্রচেষ্টা। বৈধভাবে নয়, গায়ের জোরে, রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রয়োগে। আর ক্ষমতার প্রয়োগ হয়েছে এলাকায় ছাত্র লীগ-যুব লীগ কর্মী হিসেবে পরিচিতদের সমর্থনে, প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে। এর ফলাফল আমার, আমাদের নিজেদেরও দিনবদল। এখন আর সকাল সকাল সে কিশোর ছেলেটি দরজায় কড়া নাড়ে না। একগাল হাসি হেসে ফেলে যায় না একগুচ্ছা তাজা সংবাদ। বরং নিজেই সংবাদ শিরোনাম হওয়ার আশংকায় লুকিয়ে থাকে। চুপিসারে আসে। সুযোগ পেলে। অনেক বেলা করে। আমাদেরও পত্রিকা পড়তে হয় হয় অফিসে না হয় অফিস থেকে ফিরে রাতে। আমাদের দিন বদল হয়ে তাজ সংবাদের বদলে এসেছে বাসি সংবাদ। জানি না, এ বাসি সংবাদ নিয়ে আমাদের আর কতদিন দিন যাপন করতে হয়।

আমাদের চলমান বাসি সংবাদ পড়ার জীবন থেকে সকালের তাজা সংবাদ এর সাবেক জীবনে ফিরে যাবার সম্ভাব্য দু’টি পথ দেখা যাচ্ছে। প্রথমটি হচ্ছে পুলিশের 'রাজনৈতিক পুলিশ' এর কথিত খোলস উপড়ে ফেলে মেরুদন্ডসম্পন্ন দায়িত্ববান পুলিশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া এবং যারা প্রকাশ্যে দিনের বেলায় রাস্তায় দাাঁড়িয়ে, পত্রিকা কেড়ে নিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া। তাদের কোন দলের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে না দেখে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা। একই সাথে যারা এতদিন ধরে সংবাদপত্র বিক্রির ব্যবসা করছে তাদের নির্বিঘœ জীবিকা নির্বাহের নিশ্চয়তা বিধান করা। কিন্তু এ সম্ভবনা খুবই কম। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে পুলিশের স্বাধীন ভূমিকা পালন যে এখন পর্যন্ত সম্ভব হচ্ছে না সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। দ্বিতীয় পথটি হচ্ছে ছাত্র লীগ-যুব লীগের যে ক্ষুদ্র গ্র“পটি নিজস্ব দিনবদলের প্রক্রিয়া হিসেবে পত্রিকা বিক্রির বাণিজ্য কব্জায় রাখতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে, তাদের অবৈধ ক্ষমতার কাছে, রাজনৈতিক পেশীশক্তির কাছে প্রতিপক্ষের নতি শিকার। নিজস্ব ব্যবসা গুটিয়ে ফিরে যাওয়া। এ ফিরে যাওয়ার ঘটনাটি ঘটলে এতদিন ধরে যিনি পত্রিকা বিক্রির ব্যবসা করছেন তার পুঁজির কী হবে জানি না। তবে সারাক্ষণ হাসিখুশী থাকা কিশোরটি, যে প্রতিদিন আমাদের পত্রিকা দিয়ে যায়, যে মুখটি অনেক দিন ধরে আমাদের প্রিয় মুখে পরিণত হয়েছে, সে কিশোরটির দিনবদল ঘটবে। নেতিবাচক গতিশীলতায়। জীবিকার ছোট্র সুযোগটিও তার হাতছাড়া হবে। যে কিশোরটি এখন পত্রিকা নিয়ে এ বাসা থেকে ও বাসায় ঘুরার কথা নয়, যার থাকার কথা বিদ্যালয়ে, পড়ার টেবিলে, যার থাকার কথা বাবা-মায়ের ভালবাসার বন্ধনে, শুধু রাষ্ট্র ও রাজনীতির ব্যর্থতার জন্য, অন্যয্য আর্থ-সামাজিক কাঠামোর হাতে ক্রমাগত জন্ম নেয়া দারিদ্রের কবলে বাধ্য হয়ে কেবল বেঁচে থাকার লড়াই-সংগ্রামে ব্যস্ত থাকা কিশোটির সে সংগ্রামের পথটিও বন্ধ হয়ে যাবে। আমি জানি না, সারা মাস তার কত পথ হাটতে হয়। কত দালানের কত তলা সিঁড়ি বাইতে হয় আর নামতে হয়। মাস শেষে যে বেতন পায় তা দিয়ে কতজনের সংসার চালাতে হয়? এতসব প্রশ্নের উত্তর না জেনেও বলা যায় সদা হাস্যোজ্জল এ কিশোরটির জীবন অনেক নাজুক। সে নাজুকতায় হয়তো যোগ হতে যাচ্ছে একটি বাড়তি মাত্রা। একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর দিনবদলের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে। দু:খজনক হচ্ছে এ গুটিকয় অপরাধী তাদের অপরাধ সংঘটিত করছে সরকারি দলের পরিচয়ে, প্রশাসন ও পুলিশের নাকের ডগায়, প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায়, কখনও কখনও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়। এ ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর দিনবদলের গল্পটা যদি থামানো না যায়, সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রত্যাশিত দিনবদল যদি সূচনা না করা যায়, তাহলে এ সংখ্যালগিষ্ঠের পাপের দায় এবং ফলাফল প্রধানত ক্ষমতাসীন দলকেই বইতে হবে। রাষ্ট্র যে চিরস্থায়ী বন্দবস্ত নেয়া যায় না, তার প্রমাণ পেয়েছে সাবেক জোট সরকার। এসব প্রমাণ ইতিহাসের চাকা বারবার হাজির করে। আর ইতিহাসের চাকা সচল হতে কতক্ষণ? বড় জোর আরেকটি নির্বাচন! যদি সে সত্যটা উপলব্দী করেই স্থানীয় ছাত্র লীগ-যুব লীগ এ রকম দিন বদলে নেমে পড়ে, আর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব এগুলো বন্ধে ব্যর্থতার খুঁটি একটার পর একটা খাড়া করতে থাকে, তাহলে অপ্রিয় কথাটা বলতেই হয় যে সময় তার নিয়মেই জবাব দিবে। আর আমরাও দিনবদলের প্রক্রিয়ায় হয়তো আরেকটু নিচে নামবো। আমাদের অবস্থা আরেকটু খারাপ হবে। এ রকম খারাপের দিকে ধাবিত হওয়াই হয়তো আমাদের দিনবদল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29132736 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29132736 2010-04-11 11:05:52
আমাদের দিনবদলের গল্প-এক ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29132689 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29132689 2010-04-11 08:44:13 ভ্রমণ-আফগান মাটিতে এক সপ্তাহ-৯ আগের কিস্তির পর.................
হোটেলের একেবারে ওপরের ফ্লোরে সভা কক্ষ। আলোঝলমল। বিশাল বড়। নাম নিবন্ধিকরণের আনুষ্ঠানিকতা সেরে এগিয়ে যেতে চোখে পড়ে সভা কক্ষ ইতোমধ্যে লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে। যেরকম ভেবে ছিলাম ঠিক সে রকম ছোটখাট কিছু নয়। এ এক বিশাল আয়োজন। উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই তৃতীয়াংশই নারী। আফগান নারী। রাজধানী কাবুল সহ অন্যান্য শহর থেকে এসেছেন। বেশির ভাগই ব্যবসা ও শিল্প উদ্যোক্তা। কয়েকজন নারী সাংসদও এসেছেন। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারীদের মধ্য রয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা সংগঠন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং ইলোকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মী।
আমি সভা কক্ষের এদিক ওদিক তাকাই। শত মানুষের ভীড়ে বসকে খুঁজি। কিন্তুু কোথাও দেখা যায় না। অথচ আমার আগে তাঁর পৌছে যাবার কথা। পর্যবেক্ষণ নির্ভর একটা অনুমিত ভবিষ্যত মনে আসে। আমার কেন জানি মনে হয় বস সভাস্থলে এসে আবার রুমে ফিরে গেছেন। মানুষকে চমকে দেয়ার, একটু ব্যতিক্রম থাকার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করেছি তার মধ্যে। আজকের এ মূহুর্তের চমক এবং ব্যতিক্রমটা হতে পারে তাঁর শাড়ি পরে আসা। সভাস্থলে সকল আফগান নারীই সালোয়ার-কামিজ পরে এসেছেন। সালোয়ার-কামিজ পরে এলে তাঁকেও আফগানীই মনে হবে। চেহারা, রঙ, উচ্চতা ইত্যাদি বিচারে তাঁকে কাবুলের পথেঘাটে আফগানী-ইরানী নারী বলে ভুল করার সম্ভাবনা যে উড়িয়ে দেয়া যায় না তার প্রমাণ মিলেছে পরবর্তী দিনগুলোতে। সাইপের পক্ষ থেকে পোলান্ডের যে মেয়েটি আমাদের সাথে সারাক্ষণ থেকেছে, বিভিন্ন সংস্থায় নিয়ে গেছে, শত নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও নিরাপদ জোন খুঁজে খুঁজে বাজার, রেস্টুরেন্ট-ইত্যাদি ঘুরিয়ে দেখিয়েছে, ক্রিস্টিনা মারিয়া নামের সে মেয়েটি প্রায় প্রতিদিনই ক্ষণে ক্ষনে বসকে মনে করিয়ে দিয়েছে আফগানী ও ইরানী নারীদের সাথে তার প্রায় শতভাগ সাদৃশ্যের কথা।

আমার অনুমিত ধারণা তত্ত্বের মর্যাদা পেল। কিছুক্ষণের মধ্যে বস ঢুকলেন সভা কক্ষে। কলাপাতা রঙের একটি জামদানি পরে। কিন্তুু মাথায় ঘোমটা। এর আগে কখনও ঘোমটা মাথায় বসকে দেখেছি বলে মনে পড়ে না। সম্ভবত তালেবানী ভূত নিয়ে সারা পৃথিবী জুড়ে যে প্রচার-প্রচারণা রয়েছে, যেটি আফগান নারীদের পোষাক-পরিচ্ছদ এর একটা আরোপিত ঢং তৈরি করে দিয়েছে, আফগান নারী মাত্রই হিজাবাবৃত মানুষ এবং আফগান নারীর কাছে সামাজিক প্রত্যাশাও তাই বলে যে প্রচারণা রয়েছে, সারা বিশ্বে, এ ঘোমটা তারই বহি:প্রকাশ। কিন্তুু সভাকক্ষে আগত আফগান নারীদের সবাই বোরকা ও হিজাব ছাড়া। দু’একজন কামিজের ওপর বড় আকারের চাদর পরেছেন। কিন্তু তাকে কোন ভাবেই বহুল প্রচারিত এবং কথিত হিজাব বা বোরকার আদর্শ রূপ বলা যাবে না। হয়তো সভায় উপস্থিত নারীদের কেউ-ই প্রকৃত আফগান নারীদের প্রতিনিধিত্ব করেন না। এরা শহুরে, শ্রেণী ও গোষ্ঠীর দিক থেকে মোটামুটি এলিট। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা। সুতরাং এ রকম একটি দলের ওপর ভিত্তি করে আফগান সংস্কৃতিতে পর্দা প্রথার চলমান গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে আঁচ করার উপায় নেই। তবে একটি বিষয় বলা যায় যে কাবুল শহরে কেউ না চাইলে তাকে বোরকা পরতে বাধ্য করার মতো পরিস্থিতি বর্তমান নেই। যেমনটি ছিল তালেবানী আমলে। পরে লোকজনের কাছ থেকে জেনেছি যে, তালেবান গোষ্ঠী নারীদের শুধু বোরকা পরতে বাধ্য করেনি। পোষাকের একটি ধর্মীয় রঙও ঠিক করে দিয়েছিল। তালেবানদের সিদ্ধান্ত মতে মুসলিম নারীদের খাকী রঙ এর পোষাক পরতে হতো। আর হিন্দু ও অন্য ধর্মের নারীদের মাস্টারড হলুদ রঙের পোষাক পরতে হতো। কাবুল অক্সফাম এ কাজ করে এমন একটি মেয়ের সাথে দেখা হয়েছিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। তার কাছ থেকে শুনেছি, তালেবানদের সময় মেয়েদের পায়ে সাদা মোজা পরাও বারণ ছিল। কারণ তালেবানরা মনে করতো সাদা রঙ পায়ের বাড়তি যৌন আবেদন তৈরি করে। অপরদিকে কালো রঙ ধার্মিক নারীর রঙ বলেই আফগানী জীবনাচারে স্বীকৃত। তবে সভাকক্ষে উপস্থিত পুরুষ অংশগ্রহণকারীদের পোষাক-পরিচ্ছদ এ আফগানী কোন ছোঁয়া খুঁজে পেলাম না। প্রায় সবাই স্যুট, কোর্ট, টাই পরিহিত। বিমানবন্দর, রাস্তায় জুব্বা পরা যেসব মানুষ দেখেছি ঐতিহ্যবাহী সে কাবুলি জুব্বা বিসর্জন দিয়েই সবাই এখানে এসেছেন। সম্ভবত শ্রেণী উত্তরণ মানুষকে তার ইতিহাস ঐতিহ্য বিসর্জনে উৎসাহিত করে। অথবা ঐতিহ্যের অতটুকুই চর্চা করে, যতটুকু বিশেষ শ্রেণীকেন্দ্রীক জীবনাচারের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠে না।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানী শাড়ি পরে বসের বাংলাদেশকে উপস্থাপনের আইডিয়াটা বেশ মনে ধরল। বস সভা কক্ষের দরজা দিয়ে উকি দিয়ে ফিরে গেছেন, সবাইকে সালোয়ার কামিজ পরা দেখে শাড়ির আইডিয়াটা তাৎক্ষণিকভাবে মাথায় এসেছে, এসব তথ্য বস নিজেই দিলেন। আমি বিনীত প্রশংসায় নিমজ্জিত হয়ে শুধু বললাম, খুব ভাল হয়েছে। ওরা বাংলাদেশ সম্পর্কে শুধু শুনবে না। দেখবেও। শাড়ি। কলাপাতা রঙের সবুজ শাড়ি। এক টুকরো সবুজ বাংলাদেশ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29127105 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29127105 2010-04-01 09:01:21
ভ্রমণ-আফগান মাটিকে এক সপ্তাহ আগের কিস্তির পর
রেজা হাবীব আক্ষরিক অর্থেই একেবারে টগবগে তরুন। উচ্ছলতা, বিনয় আর দায়িত্বশীলতা তার সে তারুন্যে যুক্ত করেছে বাড়তি অলংকার। ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাশ প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজ এর আফগান অফিসে কাজ করেন। উর্ধ্বতন প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক পদে। কাবুলে পৌছাবার আগেই তার সাথে আলাপ হয়েছে। কয়েকবার। ই-মেইলে। আমাদের ফ্লাইট বুকিং, ই-টিকেট পাঠানো সহ খুঁটিনাটি কাজগুলো তিনিই করেছেন। করেই ক্ষান্ত হন নি। প্রতিদিন ই-মেইলে তা হালনাগাদও করেছেন। এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে তাকে পেয়েই মন চাঙ্গা হয়ে উঠলো। মনে হলো রেজা হাবীব এক দিনের নয়, আমার অনেক দিনের পরিচিত। একা, আশপাশে পরিচিত কেউ নেই, এ বাস্তবতা এবং অনুভূতি কোনটাই যেন মানুষের পছন্দ নয়। সম্ভবত এ করণেই আগে কোন দিন দেখা না হওয়ার পরও এ মূহুর্তে রেজা হাবীবকে আমার অনেক চেনাজানা মানুষ বলে মনে হচ্ছে। তার মানুষকে অভিনন্দন জানাবার শক্তি আমার এ রকম একটা অনুভূতি তৈরিতে জুগিয়েছে কিছু বাড়তি মালমশলা। রেজা হাবীবের ইশারার অনুগামী হয়ে আমরা নির্ধারিত গাড়িতে চড়ে বসি। আমাদের নিয়ে গাড়িটি ছুটতে থাকে হোটেল সাফি ল্যান্ডমার্কের দিকে। দশ-বার মিনিটের মাথায় আমরা পৌছে যাই আমাদের আপাতত গন্তব্যে, সাফি ল্যান্ডমার্ক ইন্টারন্যাশনাল এর অভ্যর্থনা ডেস্কে। গাড়িতে বসেই রেজা হাবীব আমাদের আজকের দিনের পরবর্তী কর্মসূচি জানিয়ে দিয়েছিল। আফগান উইমেন বিজনেস ফেডারেশনের নেটওয়ার্কিং কর্মসূচির উদ্বোধন। বিকেল তিনটায়। একই হোটেলের কনফারেন্স রুমে। ওখানে অংশগ্রহন করা আমাদের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির অংশ।
গতকাল বিকেল তিনটা থেকে রাত বারটারও বেশি সময় ধরে একটানা ঘুরে বেড়িয়েছি। দুবাই শহরের অলিগলিতে। আবার বিছানা ছাড়তে হয়েছে রাত দু’টায়। দুবাই বিমানবন্দর এর উদ্দেশ্যে। অপর্যাপ্ত ঘুম, বিরামহীন বিশ্রামহীনতায় শরীরের বারটা ইতোমধ্যে বেজে উঠেছে। কিন্তু আমার হাতে তো রাষ্ট্র ক্ষমতা নেই যে, ইচ্ছে হলেই ঘড়ির কাটা এক ঘন্টা পিছিয়ে দিয়ে বারটাকে এগারটায় পরিণত করবো। অতএব বারটা বেজে যাওয়া শরীরটাকে আরও কিছুক্ষণ বিশ্রামহীনতার মধ্যে রাখাই এ মূহুর্তের নিয়তি। হাতে তেমন সময় নেই, কিন্তু তিনটার আগে আগে গোসল, দুপুরের খাবার সহ দরকারী প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।
ঠিক তিনটা বাজার পাঁচ মিনিট আগে আমার রুমের ইন্টারকম বেজে উঠে। 'শামীম, আমি যাচ্ছি' ওপাশ থেকে বসের কন্ঠ। তারপর প্রতিউত্তরের অপেক্ষা না করেই টেলিফোন রেখে দেয়া। একটি উচ্চমাত্রার পদসোপানমূল সংস্কৃতি চর্চায় অভ্যস্থ বসদের এ ধরনের পরিমিত তথ্য পরিবেশন সব সময়ই নির্দেশনামূলক। অতএব আমি যাচ্ছির পরের বাক্যটি হচ্ছে 'তুমিও আস, তাড়াতাড়ি, এখনই'।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29126718 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29126718 2010-03-31 16:28:22
নাগরিক প্রেসনোট-৫: এগুলোর কোনটাই মৃত্যু নয়, রাষ্ট্র ও কর্পোরেটদের হাতে সংঘটিত খুন! এইতো সেদিন বিকেল বেলা খোদ রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-১ এ যে দু’জন নাগরিকের জীবনাবসনকে ঝড়েমৃত্যু বলে গণমাধ্যমগুলো প্রচার করেছে, সে দু’টি তাজা প্রাণের অস্বাভাবিকভাবে হঠাৎ ঝরে যাওয়াকে আমি স্রেফ হত্যা বলেই মনে করি। খাবারের দোকানের ১৫ বছর বয়সের টগবগে কর্মী সাইফুল, যে ঝড় ও বৃষ্টি উপভোগ করতেই ঘরের বাইরে এসেছিল অথবা অজ্ঞাতনামা গাড়ির চালক, যে গাড়িতেই নিরাপদে বসে অনিরাপদ হয়েছিল, যার আর ফিরে যাওয়া হয়নি, কখনও হবে না তার প্রিয় জনের কাছে, এ দু’জনই মূলত: খুন হয়েছে রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতায়। সিটি করপোরেশনের ক্রমাগত দায়িত্বে অবহেলায়। সর্বপোরী দানব কর্পোরেট এর বিজ্ঞাপন পরিবেশনে দানবীয় বিলবোর্ডের হামলায়। বিবেক খেকো বিজ্ঞাপন পরিবেশনের পদ্ধতির কাছে যেখানে পরাজিত হয়েছে যাবতীয় নিয়ম এবং হাজার হাজার পথচারীর সম্ভাব্য ঝুকি, জীবন-মৃত্যূ বিবেচনা।
শুধু ঢাকা নয়, প্রতিটি শহরের প্রতিটি রাস্তার আকাশ ঢাকা পড়েছে বিশাল বিশাল আকারের এ সব দানবীয় বিলবোর্ডের কাছে। বিলবোর্ডগুলোই হয়ে উঠেছে নগরীর বিকল্প আকাশ। কিন্তু এগুলো এতটাই নাজুক যে, মাত্র ঘন্টায় ২৬-৫৬ কিলোমিটার গতিবেগে বয়ে যাওয়া ঝড়েই ভেঙ্গে পড়েছে। খুন করেছে তরতাজা দু’টি জীবন। কর্পোরেটদের দানবীয় বিলবোর্ডের হামলায় মানুষ খুন করা অথবা হাত-পা-অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেড়ে নেয়ার ঘটনা এ প্রথম নয়। এর আগেও হয়েছে। ২০০৭ সালেও ঢাকা বিমানবন্দরের সামনে একই রকম ঘটনা ঘটেছে। একই বছর প্রগতি সরণিতেও বিলবোর্ডের নিচে চাপা পড়ে একজন শ্রমিক জীবন হারিয়েছেন। কিছুই হয়নি, না রাষ্ট্রের, না কর্পোরেটদের। ঢাকায় এ সব বিলবিবোর্ডের অনুমোদনকারী সংস্থা সিটি করপোরেশন। সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যদি দায়িত্বশীল হতেন, দায়িত্ব পালন করতেন, মানুষের ভেতরে অনুভূত চাহিদা তৈরি করে মুনাফা তৈরির প্রতিযোগিতা যদি না থাকতো কর্পোরেট চরিত্রে, অথবা রাষ্ট্র যদি এ প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা নিত, তবে এ খুনগুলো এড়ানো যেত। সুতরাং এ সব জীবননাশের সংবাদ যখন ঝড়ে মৃত্যু বলে পরিবেশিত হয় তখন তাকে রাষ্ট্র ও কর্পোরেটের দায়মুক্তির প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়। এবং এর বড় প্রমাণ যে বিলবোর্ডের নিচে পড়ে এ মানুষগুলো জীবন হারিয়েছে বিভিন্ন সংবাদপত্র কর্তৃক সে কোম্পানীর নাম না ছাপানো। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেও প্রধান কয়েকটি পত্রিকার একটিতেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর নাম উদ্ধার করা যায় নি। বিজ্ঞাপন প্রাপ্তির সম্ভাবনার কাছে সৎ সাংবাদিকতার পরাজয় ঘটেছে ঠিক এভাবে।
ঠিকাদার কোম্পানীর অতি মুনাফাবাদিতা আর দায়িত্বহীতার কারণে এখানে ওভারব্রিজ ঙেঙে পড়ে মানুষের মাথায়। নির্মানাধীন দালান ভেঙে পড়ে মানুষ খুন হয়। কিন্তু ঠিকাদার কোম্পানীর কিছুই হয় না। ট্রাফিক আইন প্রয়োগ না হতে হতে গাড়ির চালকরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। প্রায় প্রতিদিন রাস্তায় মানুষ পিষে চলে যায়। মায়ের হাত ধরে থাকা অবুঝ শিশুর মাথা ও মগজ সব কিছু থেতলে দেয়। রাস্তায় ছিটকে পড়ে থাকে শিশুর লাশ। তাতেও কিছু হয় না। বরং তখনও দূরে দাঁড়িয়ে উপরি কামাইয়ের শিকার খোঁজে পেশাদার ট্রাফিক দল। এতসব খুনের মিছিল রাষ্ট্রের কাছে, শাসকের কাছে, শোসকের কাছে এগুলোকে কেবল মৃত্যু বলেই বিবেচিত হয়। কখনো ঝড়ে মৃত্যৃ। কখনও বাসচাপায় মৃত্যু। তাদের দায়মুক্তির প্রক্রিয়া হিসেবে। বন্ধ কর এ দায়মুক্তির পথ। ঠিক এখনই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29121350 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29121350 2010-03-22 14:03:40
দিল্লী থেকে.................লিখছি http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29112294 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29112294 2010-03-08 10:14:32 নাগরিক প্রেসনোট-৪:ধর্ম এখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার সবচেয়ে সফলতম অস্ত্র ধর্মের এ মতলবী ব্যবহার, ধর্মের কাছে আশ্রয়-প্রশ্রয় গ্রহণের মিছিলে আপাতত প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত আমাদের কোন কোন কবি-কথাসাহিত্যিকও পিছিয়ে নেই। মনে পড়ে তসলিমা নাসরিনের 'ক' প্রকাশ হওয়ার পর আমাদের একজন পাঠক নন্দিত লেখক আদলতে গিয়েছিলেন। বইটি নিষিদ্ধের দাবিতে। বইটিতে তার নামও ছিল। বেশি কিছু না, স্রেফ প্রণয় প্রত্যাশী হিসেবে। যৌননিপীড়নের চেষ্টাকারী হিসেবে। কিন্তু এ প্রগতিশীল? লেখক সেদিন আর্জিতে বইটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ তুলেছিলেন। নিজের বিচ্যুতিকে ঢাকতে চেয়েছেন ধর্মের মোড়কে। এ মুহুর্তে আমার মনে পড়ছে অনেক বছর আগে টানাবাজার 'যৌনপল্লী' উচ্ছেদের কথা। কোন এক শুক্রবারে জুমার নামাজ শেষে দলবল নিয়ে হামলা করা হয়েছিল ওখানে। সেদিনও সামনের সারিতে ছিল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারা নারায়নগঞ্জকে পাপমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। যে উৎপাদন ব্যবস্থা আর সামাজিক কাঠামোর উপজাত হিসেবে বাজারে শরীরের বিকিকিনি ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তাকে জিইয়ে রেখে তারা সেদিন 'যৌনপল্লী' উচ্ছেদের মহাযজ্ঞে মেতে ছিল। তাও স্রেফ রাজনৈতিক স্বার্থে। কিন্তু সামনে টেনে এনেছিল ধর্মকে। শুনেছি ঐ পল্লীর আয়ের বড় অংশ যেত উচ্ছেদে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ঘরে। ফলে যারা নিজেরাও হয়তো ওখানে কখনও সখনও 'পতিত' হয়েছিলেন সেদিন তারাও উচ্ছেদে অংশ নিয়েছিলেন। হাজির হয়েছিলেন জুমার নামাজে। স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের 'ইনকাম পকেট'টাকে নষ্ট করে দেয়ার ইচ্ছায়। তার সাথে যুক্ত হয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। যাদের উজ্জ্বল ব্যাবসায়িক স্বার্থ ছিল এ উচ্ছেদের মধ্যে। কিন্তু সব কিছু চাপা পড়ে গিয়ে তথাকথিত ধর্মীয় পবিত্রতাই সেদিন প্রধান হয়ে উঠেছিল।
স¤প্রতি ৭২ এর সংবিধান-এ ফিরে যাওয়া নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা হচ্ছে। বিতর্ক হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে যখন সরকারের নীতিনির্ধারকরা ব্যাখ্যা করে বলেন, ৭২ এর সংবিধানে ফিরে গেলেও সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে। রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম থাকবে। তখন নাগরিক হিসেবে আমরা আবারও নিশ্চিত হই, ইহজাগতিকতা নয়, ধর্মই এ রাষ্ট্রে প্রবল, এখন পর্যন্ত। একই সাথে চারদলীয় জোট নেতারা যখন বলেন ৭২ এর সংবিধানে ফিরে গেলে দেশে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে, তখনও আমাদের একই কথাই মনে পড়ে। রাষ্ট্র ও রাজনীতি আজ ধর্ম আশ্রিত। চলমান ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বদল না ঘটলে, শাসকশ্রেণীর পরিবর্তন না ঘটলে, এ ভাবেই ধর্ম রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রধান প্রভাবক হিসেবে ক্রিয়াশীল থাকবে। ধর্মের মতলবী ব্যবহার আরও বাড়বে। সে সুবাদে মৌলবাদের চাষ হবে। মৌলবাদ চাষাবাসের উপযোগী শর্তগুলোর বিকাশ হবে। আর আমরা হাটবো ইতিহাসের পেছনের দিকে। আলোর বদলে অন্ধকার ই শাসন করবে আমাদের। যেমনটা করে এসেছে বিগত দিনগুলোতে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29109777 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29109777 2010-03-04 12:49:10
ভ্রমণ-আফগান মাটিতে এক সপ্তাহ-
বিমান থেকে নেমেই আরেকবার হোচট খাওয়া। নতুন করে। বিমানবন্দরের পুরো মাঠজুড়েই কড়া নিরাপত্তার চাদর। জলপাই রঙে শরীর ঢাকা বহুজাতিক সৈন্যরা সুসজ্জিত অস্ত্রে প্রস্তুুত রয়েছে। দলে দলে। কাতারে কাতারে। এ বুঝি আক্রমনে নেমে পড়তে হবে। তার জন্য সটান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। নামে বহুজাতিক হলেও এসব সৈন্যদের বড় অংশই আমেরিকান। দাঁড়িয়ে থাকা আমেরিকার নেতৃত্ত্বাধীন বহুজাতিক সেনাসদস্যদের দৃশ্যমান পোষাকী চাকচিক্য বাদ দিলে কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এর গায়ে কোথাও বিমানবন্দরের স্বাভাবিক লেবাসটুকুও নেই। চারিদিকে ক্ষতের চিহ্ন। ভাঙা, জোড়া লাগানো। যুদ্ধের হিংস্রতার জলন্ত স্বাক্ষী হয়ে যেন তথাকথিত সভ্যতাকে উপহাস করছে। এখানে ওখানে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তুুপের কাছে আমাদের গুলিস্তান-সদরঘাটও পরাজিত।
এবার নিজের ব্যাগ-লাগেজ খুঁজে নেয়ার পালা, বুঝে নেয়ার পালা। এগিয়ে দেখি বেল্ট সিস্টেমও কাজ করছে না। সৈয়দ মুজতবা আলীর বিখ্যাত চরিত্র আব্দুর রহমানের মতো লম্ব-চওড়া কয়েকজন আফগানী বিমান থেকে ব্যাগ-লাগেজ নিয়ে আসছে। আর ছুঁড়ে ছুঁড়ে মারছে পুকুরের মতো একটি জায়গায়। বিষয়টি দেখেই আমার চক্ষু ছানাবড়া। নিজের লাগেজের শরীর-স্বাস্থ্যের কথা, আসন্ন পতনের কথা ভেবে মনটা কেমন যেন হয়ে উঠলো। যা হোক শেষ পর্যন্ত আসন্ন পতন ঠেকানো গেল। লাগেজ ছুঁড়ে মারার আগেই দৌড়ে গিয়ে বলি, এগুলো আমাদের লাগেজ। মানে আমার ও বসের। টিকেটের সাথে থাকা ট্যাগ নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হন। এবং আমাদের হাতে তুলে দেন একটু আগে নিশ্চিত পতনের হাত থেকে রেহাই পাওয়া নির্জীব লাগেজগুলো।
আগের দিন রাতে সম্ভবত বৃষ্টি হয়েছিল। এয়ারপোর্টে থেকে বাইরে এসে যেটুকু পথ ট্রলি টেনে নিয়ে তারপর গাড়িতে উঠতে হয় তার পুরোটাই ভেজা। এদিকে ওদিকে পানি জমে আছে। তার মধ্যে রাস্তাটা আবার উচু-নিচু। খানাখন্দকে ভরা। তবে ট্রলি টানার লোকের অভাব নেই। অনেকটা আমাদের সদরঘাটের মতো। একজন বেরুলে দশজন হুমড়ি খেয়ে পড়ে তার ওপর। চাহিদাও বেশি নয়, দু –এক ডলার। ৫০-১০০ আফগানি। তবে সদর ঘাটের মতো ঝাকেঝাকে শিশু-কিশোররা নেই। অন্তত এ মুহূর্তে আমার চোখে পড়ছে না। অনেক বয়স্ক পুরুষ আছেন। তাদের সারা শরীর জুড়ে বার্ধক্যের ছাপ। দেখলেই আঁচ করা যায়, এরা যুদ্ধপরবর্তী সময়ে নতুন লড়াইয়ে নেমেছেন। সামান্য বেঁচে থাকার তাগিদে। জানি না, তাদের ব্যক্তিগত জীবনে হারাবার ক্ষত কতখানি গভীর। প্রিয়জন, বাড়ি-ঘর, সম্পদ, আবেগ-অনুভূতি সহ আর কী কী হারিয়ে আজ জীবন চক্রের শেষ ধাপে এসে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ট্রলি টানছেন। জীবন ও জীবিকার ট্রলি। অনেকটা জীবন-মৃত হয়ে জীবন প্রদীপটাকে নিবু নিবু করে আরও কয়েক দিন জ্বালিয়ে রাখার চেষ্টা। পথের শত ক্লান্তির পরও আমার ইচ্ছে হয়, খুব ইচ্ছে হয়, এ মানুষগুলোর সাথে দু’চারটে কথা বলি। জিজ্ঞেস করি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে আপাত: পরাক্রমশালী আমেরিকা এ সাধারণ মানুষগুলোর জীবনে যে দারিদ্র, যন্ত্রণা ও কষ্ট কে চাপিয়ে দিয়েছে, দারিদ্রের একটা টেকসই ব্যবস্থা করেছে, তার অভিঘাতের টুকরো টুকরো গল্পগুলো। জিজ্ঞেস করা হয় না। সময়ের কাছে ইচ্ছেরা বন্দী থাকে। আমরাও এগিয়ে যাই। আরেকটু সামনে। যেখানে আমাদের জন্য আগে থেকেই দাঁড়িয়ে আছেন আফগান তরুন রেজা হাবীব। তার দলবল নিয়ে। আমাদের শুভেচ্ছা জানাবেন বলে।
(এ সিরিজ শুরু করেছিলাম অনেক আগে। অলসতা, অলসতা আর অলসতা.....আপদমস্তক জুড়ে। ফলে শম্ভুক গতিতেই চলছে......)

আগ্রহীরা আগের কিস্তির জন্য ক্লিক করুন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29109066 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29109066 2010-03-03 11:10:55
নাগরিক প্রেসনোট-৩: এগুলোকে এডাল্ট নিউজ হিসেবে ট্যাগ লাগালে একটি বাজারী সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের দুই সাধারণ সম্পাদক যতসব অসাধারণ বক্তৃতা-বিবৃতি প্রসবের কাজ সম্পাদন করেন। প্রায় প্রতিদিন। তাদের এ নিরবিচ্ছিন্ন প্রসব বেদনার ছাপ পড়ে সকালের সংবাদপত্রে। রেডিও, টিভিতে, অন্যান্য গনমাধ্যমে। দিনের পর দিন। মাসের পর মাস। বছরের পর বছর। দশকের পর দশক। নাগরিক কাক-ডাকা ভোরে ঘুম থেকে জেগেই সংবাদপত্রের পাতায় সেসব দেখে আমার কেবল অর্থ অপচয়ের কথা মনে পড়ে। প্রতিদিনের সংবাদপত্র মানে এখন একজন খেটে খাওয়া নাগরিকের কমপক্ষে আট টাকার গচ্ছা। ফাও হিসেবে পাওয়া যায় অতিরিক্ত টেনশন-উচ্চ রক্তচাপ, আরও কতকি, যতসব দূরারোগ্য জটিল রোগের সম্ভাবনা। বিচিত্র দু:সংবাদের জামা পরা পত্রিকা আমাদের শিশুদের হাতে গেলে বিপ্রতীপ সামাজিকায়নের ভয় আমাদের আপাদমস্তকে ছড়িয়ে পড়ে। আর হৃদয়ের গভীরতা দিয়ে আমরা যে শিশুদের বর্ণমালা শেখাই, প্রতিদিন, একটু একটু করে, আমাদের প্রাণের ভাষা-বাংলা বর্ণমালা, সে বাংলা বর্ণমালার সাথে সদ্য সখ্যতার ওপর ভর করে যখন আমাদের শিশুরা বানান করে করে সেসব দু’একটি সংবাদ শিরোনাম হঠাৎ পড়ে ফেলে, আমাদের কাছে অর্থ জানতে চায়, তখন প্রিয় শিশুর এ প্রাগ্রসর অতিক্রম দেখে আমাদের উৎফুল্ল হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা উৎফুল্ল হতে পারি না। বরং ভয়ে কুঁচকে যাই। না শোনার, না দেখার ভান করি। তারপরও 'বলনা, বলনা' বলে নাছোড় বান্দার মতো শিশুরা যখন বায়না ধরে, আমাদের বাধ্য করে, তখন শিশুটিকে ভুল অর্থ বলা ছাড়া উপায় থাকে না। সংসদ অধিবেশনে মাননীয় সাংসদদের পারস্পরিক কাঁদাছোড়াছুড়ি, ফাইল ছোড়াছুড়ি আর পরস্পরককে বাক্যবান করার প্রক্রিয়ায় শব্দচয়ন দেখলে আমার বারবার মনে হয়, এ সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের আগে একটা ট্যাগ লাগানো উচিত। বলা উচিত, এখন প্রচারিত হবে এডাল্ট নিউজ মানে-প্রাপ্তবয়স্কদের সংবাদ। ক্ষতি কি, এডাল্ড মুভি যদি থাকতে পারে, এডাল্ড নিউজও থাকতে পারে। তাতে অন্তত কোন মা-বাবা-অভিভাবক বলতে পারবে না যে, আমাদের নেতা-নেত্রীদের কাছ থেকে আমাদের শিশুরা খারাপ ভাষা শিখছে। গালিগালাজ শিখছে। ট্যাগ লাগানো নিষিদ্ধ জিনিষের প্রতি বাজারী আকর্ষণ চিরকালের। তখন এডাল্ড মুভির মতো আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বক্তৃতা-বিবৃতিসম্পন্ন এডাল্ড নিউজ এরও কাটতি বাড়বে। রমরমা ব্যবসা হবে। ট্রিক্যোল ডাইন এপ্রোচ বা চুঁইয়ে পড়া অর্থনীতির সূত্র অনুযায়ী রমরমা এডাল্ট নিজউ ব্যবসার সুফল হয়তো তখন দরিদ্র মানুষের গায়ে গিয়েও লাগবে। সব সম্ভবনার দেশে কোন সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেয়া যায় না।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29104155 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29104155 2010-02-23 21:51:49 জামাত নেতার দোকানে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান বাজছে-আপনারা কিছু বলন! http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29102769 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29102769 2010-02-21 23:17:06 বইমেলার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং আজ যে বইগুলো কেনা হলো আজ বইমেলায় যাবো। এটি গতরাতেই ফেইসবুকের স্টাটাস-এ বলেছিলাম। তা দেখে সহ ব্লগার তনুজা বলেছিলেন, যেন মাস্ক নিয়ে যাই। না হয় বিনে পয়সায় বিপুল ধুলোবালি খাওয়া শতভাগ নিশ্চিত। আমি বলেছিলাম, একটা বোরকা জোগাড় করতে পারলে সব চেয়ে ভাল হবে। কিন্তু বইমেলায় প্রবেশের পর দেখি মেলাকর্তৃপক্ষ পুরো মেলাজুড়ে পানি ছিটিয়ে ধুলোমুক্ত করার ব্যবস্থা নিয়েছে। দর্শক-পাঠকদের প্রতি কর্তৃপক্ষের এ সাড়াশীলতকে অভিনন্দন জানাই। বাংলা একাডেমি আন্তরিক হলে, আরও একটু সক্রিয় হলে এ মেলা আরও প্রাণ পেতে পারে। আরও জীবন্ত হতে পারে।
মেলায় ঢুকে এ স্টল থেকে ও স্টলে যাই। বই দেখি। বইয়ের সূচি দেখি। সহ-ব্লগারদের বইও খুঁজি। সাথে মানুষও দেখি। দেখি বিচিত্র মানুষের নানা উচ্ছাস। সবই এ মেলাকে ঘিরে। এ ভাষাকে ঘিরে। আমাদের দিনযাপনে যেখানে দু:সংবাদ আর দু:সংবাদ, যেখানে ইতিবাচক কিছু খুঁজে পাওয়া একটি কষ্টসাধ্য বিষয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রাত্যহিক আলাপচারিতায় আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু নেই বলে আমরা মাথার চুল ছিঁড়ি, হতাশ হই, সেই দেশেই কেবল একটি ভাষা আর সাহিত্যকে ঘিরে এত বড় আয়োজন, এত বড় জমায়েত, প্রায় প্রতিদিন, টানা একমাস ধরে, সত্যিই বিশ্ময়কর। আবার এটা তার চেয়েও বিশ্ময়কর যে, যেদেশে ভাষার জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছে, লড়াই করেছে, যে ভাষা আন্দলনকে ঘিরে একটি অসা¤প্রদায়িক চেতনা প্রবল হয়েছে, ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, সে দেশেই এখনও মৌলবাদ, সা¤প্রদায়িকতার চাষাবাস চলছে এখানে-ওখানে। এমনকি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়। এই যে বাংলা একাডেমির এত বড় বইমেলা সে মেলাও কি সা¤প্রদায়িকতা ও মৌলবাদী চেতনার ধারক বই ও প্রকাশনা মুক্ত? সম্ভবত না। অবাক হলাম জাতীয় কবিতা পরিষদের স্টলে গিয়ে। প্রায় শিংহভাগই ধর্মীয় বই। এটি কীভাবে সম্ভব হলো সেটি আমার বোধগম্য হলো না। আমার মনে হলো আমি বোধহয় স্টলের নাম ভুল দেখছি। কিন্তু বারবার তাকিয়েও আমি সে একই নাম দেখলাম। জাতীয় কবিতা পরিষদ।
আজও কিছু বই কেনা হলো। সহ-ব্লগারদের সাথে শেয়ারের লোভটা সামলানো গেল না। সে একই ভাবনায়। যদি কারও পছন্দের সাথে মিলে যায়। অথবা কেউ যদি এ বইগুলো কেনায় উৎসাহী হন। আজ কেনা বইগুলোর মধ্যে রয়েছে সৈয়দ শামসুল হকের আত্মজীবনী প্রণীত জীবন, ইত্যাদি প্রকাশন, সুলতানা কামালের নারী, মানবাধিকার ও রাজনীতি, ইত্যাদি প্রকাশন, পূরবী বসুর নারীবাদী গল্প, ইত্যাদি প্রকাশন, বোরহান উদ্দীন খান জাহাঙ্গীরের তত্ত্ববধায়ক সরকার ও ডেসপটিক রাষ্ট্র, সুবর্ণ প্রকাশন, জীবননন্দ দাশের রূপসী বাংলা, গ্রন্থ প্রকাশ এবং সামহয়্যার ইন ব্লগ ২০০৯ এর ব্লগ সংকলন অপরবাস্তব, ছাপাকল, পরিবেশক সংহতি প্রকাশন।
শত্র“পক্ষের জন্য যে বইগুলো কিনেছি
এ ছাড়া শত্র“পক্ষের জন্যও কিছু বই কেনা হয়েছে। পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানে ভালবাসাবাসি অথবা না বাসির ফর্মে জীবনসঙ্গীর সাথে যে সম্পর্ক, প্রেম-ভালবাসা যাই বলিনা কেন, আসলে এটি একটি ক্ষমতার সম্পর্ক। আর সম্পর্কটি যদি ক্ষমতার হয়ে থাকে তাহলে সেখানে পক্ষ-বিপক্ষ থাকবেই। থাকবে শত্র“পক্ষও। তো আমার একমাত্র শত্র“পক্ষের ছোটভাই এর হুময়ূন আহমেদ খুব পছন্দ। কনফ্লিক ট্রান্সফরমেশন (দ্বন্ধ রূপান্তর) এর সম্ভাব্য কার্যকর প্রক্রিয়া হিসেবে নিজে তেমন একটা না পড়লেও চারটি হুমায়ূনের বইও কেনা হলো। বইগুলো হচ্ছে কাঠ পেন্সিল, সে আসে ধীরে, মাতাল হাওয়া এবং রূপা।
দুপুর দুইটায় আবার বইমেলায় যাই। তখন তিল ধারণের জায়গাও যেন নেই। আমি দ্রুত সংহতির স্টলের দিকে যাই। যথারীতি সামুর সংকলন অপরবাস্তব হাতে নিয়ে দ্রুত পা বাড়াই। বাসার দিকে। শত্র“পক্ষের সাথে ভালবাসার নতুন সম্ভাবনার হাতছানিতে ........................................................

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29101872 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29101872 2010-02-20 21:04:02
নাগরিক প্রেসনোট-২: একই স্বরলিপির গায়ক অথবা অভিন্ন 'মেল্টিং পট-এ উৎপাদিত আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা!!! এরশাদের পতনের পর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের নতুন অভিযাত্রা শুরু হয়েছে। এমন একটা প্রচার খুব জোরেশোরে আছে। প্রচারটা তৈরি হয়েছে, ডালপালা গজিয়েছে হয়তো গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামী মানুষের নিরন্তর প্রত্যাশা থেকে। আকাঙ্খা থেকে। কিন্তু সে আকাঙ্খার মুখে ছাই দিয়ে গণতন্ত্রের শামুকটা মুখ লুকিয়ে আছে কেবল রুটিন মাফিক নির্বাচনের মধ্যে। পাঁচ বছর পর পর নির্বাচন হয়। জনগণ বিপুল প্রত্যাশা আর উদ্দীপনা নিয়ে ভোটে ঝাপিয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত প্রবল রাজনৈতিক দ্বিমেরুকরণ প্রক্রিয়ায় জনগণ একবার এ দলকে বেছে নেয়। পরের বার অন্যদলকে। তারপর আবার আগের দলকে। প্রতিবার সরকারি দল পরিবর্তনের পথ ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ পদটিতে নতুন ব্যক্তি আসেন। নতুন চেহারার মানুষ আসেন। কিন্তু কাজে কর্মে কোন নতুনত্ব আসে না। জনসন্তুষ্টির কোন কার্য-কারণ তৈরি হয় না। নব্বইয়ের গনআন্দলনে সূচিত বিজয়ের পথ ধরে বেগম খালেদা জিয়া প্রথম বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে আজ অবধি যতজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, তারা প্রত্যেকেই যেকোন রাজনৈতিক হত্যাকান্ড, ক্যাম্পাস সন্ত্রাস, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির মুহুর্তে গণমাধ্যমের কাছে বিবৃতি দিয়েছেন। কখনও স্বপ্রণোদিত হয়ে আবার কখনও চাপে পড়ে। গণমাধ্যমের যাচিত-অযাচিত প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে। কিন্তু সেসব বিবৃতি সাধারণ মানুষ আস্থার সাথে নিয়েছে, বিশ্বাস করেছে বলে আমাদের জানা নেই। আমাদের কোন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোন নাজুক উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য দায়িত্ব শিকার করেছেন, অনায়াসে নিজের ব্যর্থতার কথা বলে সত্যের প্রতি অঙ্গীকারদ্ধ ছিলেন এমন উদাহরণও খুঁজে পেতে গবেষণা প্রকল্পের দরকার পড়বে। বরং উল্টো প্রত্যেকেই দাবি করেছেন যে, তার সময়ই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সব চেয়ে ভাল আছে। অথবা ভাল ছিল। এখন যদি আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বক্তৃতা-বিবৃতিগুলো একসাথ করে একটি আধেয় বিশ্লেষণ করা হয় (কন্টেন্ট এনালাইসিস), তাতে কেবল কন্ঠের ভিন্নতা ছাড়া আর কোন ভিন্নতা খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রায় সকল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার পদ হারাবার আগে সবচেয়ে বেশি অসংলগ্ন বক্তৃতা বিবৃতি দিয়েছেন। নিজের কল্পিত সাফল্যের একতারায় সুর তুলেছেন। দলমত নির্বিশেষে ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতির ঐকতার সূত্র সম্ভতত এখানেই। এ সূত্রের সীমা রেখায় যিনি পড়েন তিনিই বদলে যান। অথবা আগে থেকেই বদলে থাকেন। সে বদলে যাওয়ার প্রয়োগিক রূপটাই কেবল আমরা দেখতে পাই। আর হতাশ হই। এবং হতাশ হই। এবং হতাশ হতেই থাকি।
নাগরিক প্রেসনোট-১: লাশের গাণিতিক হিসাবই এখন পারফরেন্স সূচক অথবা পরিণত মৃত্যুই যেন একটি দুর্ঘটনা !! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29100399 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29100399 2010-02-18 16:07:46
নাগরিক প্রেসনোট-১: লাশের গাণিতিক হিসাবই এখন পারফরেন্স সূচক অথবা পরিণত মৃত্যুই যেন একটি দুর্ঘটনা !! এখানে এখন অগনিত লাশ পড়ে। অগণিত মৃত্যু হয়। গোটা জমিনটাই যেন অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটানোর নিরাপদ জায়গা। এ এখন মানে আজকের এখন নয়, গত এক দু’ বছরের এখন নয়। গত কয়েক দশকের এখন। যে সময়ে এ রাষ্ট্রে কয়েকবার প্রধানমন্ত্রী পাল্টেছে। তত্ত্বাবধায়করা এসেছেন। গেছেন। পাল্টেছে প্রেসিডেন্টও। মন্ত্রী-আমলা সব কিছুতে পালাবদল হয়েছে। শুধু বদল হয়নি শাসকের শ্রেণী চরিত্র। আর তাই মেলেনি অথবা মিলছে না স্বাভাবিক জীবনের গ্যারন্টি। মৃত্যু মানুষের জীবনের চুড়ান্ত অনিবার্য সৌন্দর্য। পাওয়া যাচ্ছে না সে সুন্দর স্বাভাবিক পরিণত মৃত্যুর নিশ্চয়তা। পরিণত মৃত্যুই যেন এখানে এখন দুর্ঘটনা। অতএব এ দুর্ঘটনা যত কম হয় ততই রাষ্ট্রের কৃতিত্ব। আর এ কৃতিত্ব দেখে দেখে ক্লান্ত হয়ে পড়া, হতাশায় নিমজ্জিত হওয়াই যেন নাগরিক হিসেবে আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29100268 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29100268 2010-02-18 11:58:31 বইমেলা-২০১০: এখন পর্যন্ত যে বইগুলো কেনা হয়েছে
একটা সময় ছিল। যখন প্রতিদিন বইমেলায় না গেলে খাবারই যেন হজম হতো না। সকল-দুপুর-সন্ধ্যা এমনকি রাত্রি অবধি বইমেলা জুড়ে ঘুরে বেড়ানো। আড্ডা, হৈচৈ। একটা নেশার মতো ছিল। নেশাটার সমাপ্তি যে হয়েছে তাও নয়। ভেতরে ভেতরে নেশাটা যে উকিঝুকি মারে, কিলবিল করে, তা টের পাই। ভীষণভাবে । তবে নেশাটা শৃঙ্খলিত হয়েছে। বন্দী হয়েছে। কর্মকাবিননামার সূত্রে ব্যস্ততা, বইমেলা থেকে কাজের জায়গার দুরুত্ব এবং এখনপর্যন্ত অনতিক্রম্য অতিনগরায়িত ঢাকার ট্রাফিক জ্যামের কাছে। অফিসের নির্দিষ্ট সময় শেষে বইমেলায় যাবার আকাশচুম্বি ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সে ইচ্ছাটা শেষ পর্যন্ত বইমেলাকে ছুঁতে পারে না। কারণ প্রকৃতি তো আমাদের ডানা দিয়ে তৈরি করেনি। আর ডানা ছাড়া কীভাবে সম্ভব বিকেলের দীর্ঘ ট্রাফিক জ্যামকে পরাজিত করে বাংলা একাডেমি চত্ত্বরে হাজির হওয়া! সুতরাং এভাবেই হয়তো আমার মতো অনেকের ইচ্ছার সমাপ্তি ঘটে। প্রতিদিন। আফসোসে আফসোসে একদিন শেষ হয়ে যায় একুশের বইমেলা। সে যাই হোক, আজ বইমেলার বারতম দিন। এ বারদিনে মাত্র দু’দিন বইমেলায় যাবার সৌভাগ্য হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু বইও কেনা হয়েছে। এরমধ্যে সহ-ব্লগারদের বইও রয়েছে। ব্লগার বন্ধুদের মধ্যে যারা প্রথমবারের মতে মলাটবন্দী হয়েছেন তাদের জন্য অভিনন্দন। অনেক অনেক শুভ কামনা। সাথে এখন পর্যন্ত বইমেলা থেকে যে বইগুলো কেনা হয়েছে সেগুলোর নাম ও কিছু তথ্য শেয়ার করলাম। যদি আমার আগ্রহের সাথে কারও আগ্রহটা মিলে যায়। অথবা কেউ যদি উৎসাহী হন এ বইগুলো সংগ্রহে:
আমার কেনা সহ-ব্লগারদের বই:
১. তনুজা ভট্টাচার্য্য’র কবিতার বই সাময়িক শব্দাবলী, আমার প্রকাশনী, প্রচ্ছদ, ধ্র“ব এষ
২. নুরুজ্জামান মানিক এর স্বাধীনতা যুদ্ধের অপর নায়কেরা, শুদ্ধস্বর, প্রচ্চদ, সব্যসাচী হাজরা
৩. নুশেরা তাজরীনের শিশুর অটিজম: তথ্য ও ব্যবহারিক সহায়তা, তাম্রলিপি, প্রচ্ছদ অপনার আঁকা ছবিসহ মো: আলমগীর
৪. আরিফ জেবতিক এর উপন্যাস ১/১১’র রাতে একুশ নম্বর আঙুল, জাগৃতি
৫. লীনা ফেরদৌসের কবিতার বই ভালবাসার ছড়াছড়ি, শুদ্ধস্বর, প্রচ্ছদ, ধ্র“ব এষ
৬. গোলাম কিবরিয়ার ছোটগল্পের বই বিশে বিষ, পাঠসূত্র, প্রচ্ছদ, ইমতিয়াজ আহমেদ
৭. আশরাফ সিদ্দিকী, আন্দালীব এবং মুক্তি মন্ডল সম্পাদিত ছোটকাগজ জোনাকরোড, ২য় বর্ষ, ১ম সংখ্যা
এছাড়া
৮. হাসান ফেরদৌসের ১৯৭১: বন্ধুর মুখ শত্র“র ছায়া, প্রথমা প্রকাশন
৯. গোলাম মুরশিদ এর মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর-একটি নির্দলীয় ইতিহাস, প্রথমা প্রকাশন
১০. বিআইডিএস এর বার্ষিক জার্ণাল বাংলাদেশ উন্নয়ন সমীক্ষা, ১৪১৬ সংখ্যা
১১. মনিরুল ইসলামের নারী-পুরুষ বৈষম্য, জীবতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট, সংহতি প্রকাশন
১২. উইনিফ্রেড হল্টবি এর নারী এবং ক্রমবিবর্তিত সভ্যতা, অনুবাদ মোবাশ্বেরা খানম, সবর্ণ প্রকাশনা
১৩. সুরাইয়া বেগম এর নারী মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ-অন্তর্লোকে অন্বেষণ, সুবর্ণ প্রকাশনা
১৪. এস আমিনুল ইসলাম এর উন্নয়ন চিন্তার পালাবদল, দিব্যপ্রকাশ
১৫. আসহাবুর রহমান সম্পাদিত বাংলাদেশে কৃষিপ্রশ্ন-তত্ত্ব ও বাস্তবতা, ইউপিএল
১৬. রংগলাল সেন এর বাংলাদেশের সামাজিক স্তরবিন্যাস, নিউ এজ পাবলিকেসন্স
১৭. বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল ও শ্রেণী সংগ্রাম, সমাজ নিরীক্ষণ কেন্দ্র
আর আমাদের মানে আমিও আমার জীবনসঙ্গীর একমাত্র বিচ্ছু অরিত্রীর জন্য
১৮. রোকনুজ্জামান খান এর হাট্ টিমা টিম, ব্রাক প্রকাশনী
১৯. সুনির্মল বসুর নির্বাচিত ছোটদের হাসির কবিতা, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
২০. উদগম, নালন্দা, ছায়ানট
২১. সিনডারেলা, সাহিত্য প্রকাশ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29096182 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29096182 2010-02-12 21:29:15
সহ-ব্লগার লীনা ফেরদৌসের কাব্যগ্রন্থ: 'ভালবাসার ছড়াছড়ি' : গভীর প্রেমের সরল প্রকাশ অথবা প্রেম ও প্রকৃতির ছন্দবদ্ধ-বর্ণীল উপস্থাপন
কবিকূল অথবা কবিতাবোদ্ধা ছাড়াও কবিতার আরও ভক্ত রয়েছে। আরও কবিতা প্রেমী রয়েছে। যারা কবিতার একেবারে সাধারণ পাঠক। কবিতা পড়তে ভালবাসে। শুনতে ভালবাসে। তাদের অনেকের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হয়। সমকালীন কবিতা সম্পর্কে। বিচ্ছিন্নতার অভিযোগ। কবিতার দুর্বোদ্ধ হয়ে উঠার অভিযোগ। কবিতাকে দুর্বোদ্ধ করে তোলার অনুযোগ। কবিতা সাধারণ পাঠকদের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। নান্দনিকতা, শিল্প, উপমা-অলংকারের চাপে কবিতা কখনও কখনও ’নন কমিউনিকেটিভ’ হয়ে উঠছে। যদিও কবিতা শেষ পর্যন্ত শতভাগ কমিউনিকেটিভ হওয়া উচিত কিনা, এর ভেতরের রহস্য পুরোটা উন্মেচিত হওয়া দরকার কিনা এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তও তর্ক-প্রতর্ক রয়েছে। সে যাই হোক এ ধরনের অভিযোগ-অনুযোগকারী কবিতাপ্রেমীদের কাছে লীনা ফেরদৌসের 'ভালবাসার ছড়াছড়ি' অনায়াসেই সমাদর পাওয়ার উপযোগী একটি প্রকাশনা। তারমানে কি লীনা তার কবিতায় উপমা-অলংকারের কোন ধার ধারেন নি? মোটেই তা নয়। নারী-পুরুষের সহজাত প্রেম-ভালবাসা-বিরহের আকুতি ও গভীরতা প্রকাশে বরং বিস্তর উপমা লীনা ব্যবহার করেছেন। কিন্তু সেসব উপমা খুব কাছের। আশ-পাশের প্রকৃতি থেকে নেয়া। আর ভাষা ও বর্ণনা খুব সহজ-সরল-সাবলীল। এ সহজ সরল সাবলীলতাই কবিতাগুলোকে উপভোগ্য করে তুলেছে বা তুলবে পাঠকের কাছে।
মোট ২০টি নির্বাচিত কবিতা নিয়ে বইটির শরীর-অবয়ব। যেগুলোর বেশির ভাগই ইতোপূর্বে সামহয়ার ইন এ প্রকাশিত হয়েছে। শুদ্ধস্বর থেকে প্রকাশিত বইয়ের ভূমিকায় কবির জন্য শুভ কামনা করেছেন আহমাদ মাযহার। তাঁর ভাষায় 'লীনা ফেরদৌসের ভালবাসার ছড়াছড়ি তে জড়াজড়ি করে আছে ভালোবাসা ও গীতলতা, একই সঙ্গে আছে প্রকৃতির রূপের অবারিত আনাগোনা।. . . যদি বলা হয় প্রেম ও প্রকৃতির কবিতা তাহলেও বোধহয় ভুল বলা হবে না। প্রেমের অনুভূতি প্রকাশে প্রকৃতি এক অনিবার্য অনুষঙ্গ। এখানেও অনুষঙ্গ এসেছে খুব অন্তরঙ্গ হয়ে। রচনাগুলোতে প্রেম ও প্রকৃতির রূপ ও অপরূপের লীলা আশা করি পাঠকদের আনন্দ দেবে'
বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন ধ্র“ব এষ। অলংকরণ সুমন। দুজনের কাজই আকর্ষণীয়, উপভোগ্য হয়েছে। যা বইয়ের একটি বাড়তি আকর্ষণ। সাথে যুক্ত হয়েছে 'একটা কিনলে একটা ফ্রি' স্টাইলে কবিতার বইয়ের সাথে সংযুক্ত কবিতাগুলোর আবৃত্তির সিডি। আবৃত্তি করেছেন দুই কৃতি আবৃত্তিকার কাজী আরিফ এবং তামান্না তিথি। বইয়ের সাথে এটি ফ্রি পাওয়া গেলেও আবৃত্তি আন্দোলনের একজন ঝরেপড়া কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে যে, সিডিটি যেকোন কবিতা পিপাসুর শুধু ভাল লাগবে না। সংগ্রহে রাখতেও ইচ্ছে করবে।
বইয়ের বেশির ভাগ কবিতাই মাত্রাবৃত্ত ও স্বরবৃত্ত ছন্দে লেখা। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, এ দু’টি ছন্দের, বিশেষ করে স্বরবৃত্তের তাল-লয়ের ক্ষেত্রে কানই প্রধান বিচারক। কানই বলে দেয় কোথাও মাত্রার পতন হলো কি না। সে ক্ষেত্রে কবির কান আগামীতে আরও মনোযোগী হবে পাঠক হিসেবে এ দাবি আমরা করতেই পারি।
তুমি আছ বলে ভালোবাসার ছড়াছড়ি জোছনা ও জলে।
এ রকম গভীর অনুভূতি অথচ সহজ-সরল প্রকাশের কাব্য চর্চা এগিয়ে যাক।
অনেক শুভ কামনা থাকলো এ তরুন কবির প্রতি। আমদের সহ-ব্লগার লীনা ফেরদৌসের প্রতি।
সিডি সহ বইটি পাওয়া যাচ্ছে বইমেলায় শুদ্ধস্বর এ স্টল স্টল নম্বর ২৪০
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29094038 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29094038 2010-02-09 16:05:56
আবু বকরের লাশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রিয় আরেফিন স্যারের কাছে একটি খোলা চিঠি মাননীয় ভিসি
আরও একটি লাশ পড়লো। মাত্র কিছুক্ষণ আগে। পবিত্র শিক্ষাঙ্গনে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। বর্তমানে আপনি যার আনুষ্ঠানিক অভিভাবক। আমাদের মূলধারার রাজনৈতিক গানিতিক হিসেবে একটি লাশ বড় কোন সংখ্যা নয়। উল্লেখ করার মতো তো নয়ই। শত-হাজার-লাখ- কোটি মানুষ, দলীয় সমর্থক-কর্মী অথবা শিক্ষার্থীর ভীড়ে তাই হয়তো একজন আবু বকর এর কোন গুরুত্ব নেই। আবু বকরের অস্বাভাবিক অপ্রত্যাশিত মৃত্যু সময়ের পরিক্রমায় আরও অনেক ঘটনার মতো ভুলে যাওয়ার উপযোগী একটি ঘটনা। কিন্তু যে মা তার আপন ছেলেকে আলোর খোঁজে পাঠিয়েছিল আলোকিত বিদ্যাপীঠে, যে বাবা স্বপ্ন দেখেছিল ছেলে তার মানুষ হয়ে ঘরে ফিরবে, পাঠ শেষে আত্মনির্ভরশীল হবে, সামাজিক-সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে পরিবারের-সমাজের পাশে এসে দাঁড়বে, যে বাবা-মা তার প্রিয় সন্তান বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীটে পড়ে বলে গৌরবের হাসিতে বুক ফুলাতো, সে মা-বাবা আত্বীয়-স্বজনরা কোথায় শান্তনা খুঁজে পাবে? কী বলে নিজেদের বুঝাবে? আবু বকরের মা-বাবা-প্রিয়জনদের বুকের ক্ষত কোন দিন কি দূর হবে? তারা কি কোন দিন ভুলতে পারবে তাদের প্রিয় সন্তান, প্রিয় মানুষটির ভুল রাজনীতির ভুল শিকার হয়ে এভাবে চলে যাওয়া?
একজন আবুবকরের মৃত্যুতে আজ হয়তো রুটিন মতো কয়েকটি বিবৃতি আসবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় প্রেসনোট দিবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রেসরিলিজ দিবে। সাংবাদিক সম্মেলন করবে। ছাত্রলীগ তার দায় অস্বীকার করবে। আর ছাত্রলীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিশেষ করে ছাত্রদলও সক্রিয় হয়ে উঠবে। সুযোগ নেবে। লাশ নিয়ে জমে উঠবে লাশের রাজনীতি। শিক্ষক রাজনীতির সাদা-গোলাপী-নীল রঙের বাহারীপনায় আরও একটু রঙ লাগবে। আমরাও রঙিন বিবৃতি পাবো, পড়বো এবং আশা-নিরাশায় দুলতে থাকবো। অতীতের মতো। আর আমাদের প্রিয় সন্তান, ভাই-বোন-অনুজদের তাদের প্রিয় ক্যাম্পাসে লাশ হয়ে পড়ার আশংকা আরও বিস্তৃত হবে!
মাননীয় ভিসি
আপনি আমার প্রিয় মানুষদের একজন। নিরবে-নিভৃতে-অনেক দুর থেকে আমি যে কয়জন মানুষকে শ্রদ্ধা করি আপনি তাদের অন্যতম। আমি বিশ্বাস করি, এ বিদ্যাপীঠের অভিভাবক হিসেবে যেকোন বাবার প্রিয় সন্তান হারানোর মতো আপনার বুকও ডুকরে কেঁদে উঠছে। একবার নয়, বারবার। আমি বিশ্বাস করতে চাই আপনার অবস্থা একজন অভিভাবক এর চেয়েও কঠিন। একদিকে প্রিয় শিক্ষার্থীর লাশ, উদ্ভুত পরিস্থিতি, তার রাজনৈতিক অপব্যবহারের সম্ভাবনা, অন্যদিকে আপনার নিজের রাজনৈতিক অবস্থান, সব মিলে সত্যি সত্যি এ এক কঠিন সময় আপনার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য। তবু আমরা আপনার কাছ থেকে দেখতে চাই কালোকে কালো এবং সাদাকে সাদা বলার সৎ সাহস। যা আপনার অগ্রজ সহকর্মীরা, সাবেক ভিসিরা করে দেখাতে পারে নি শুধু দলীয় দায়বদ্ধতার কারণে। আমরা আশা করি, যেসব ছাত্রলীগ কর্মীরা সেদিন মধ্যরাতে শান্তপ্রিয় শিক্ষার্থীদের ঘুমভাঙিয়ে চরদখল স্টাইলে সিট দখলে মত্ত হয়ে উঠেছিল, যার ধারাবাহিকতায় আবুবকরকে জীবন দিতে হলো, তাদের ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে নয়, আমাদের প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অযোগ্য শিক্ষার্থী, অপরাধী-সন্ত্রাসী হিসেবেই বিবেচনা করবেন। তাদের আইনের মুখোমুখি দাঁড় করাবার জন্য নিজেই উদ্যোগী হবেন। নেতিবাচক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া আর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক দাসত্বের জন্য আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলো ছাত্রলীগ-ছাত্রদল-শিবিরের সন্ত্রাসের কাছে বন্দী হয়ে থাকবে, অনাগতকাল ধরে, এটি মেনে নেয়া যায় না।
প্রিয় আরেফিন স্যার, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিয়ে আজ প্রমাণ করুন আমাদের প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়, এর প্রশাসন, অভিভাবকরা কোন রাজনৈতিক দাসত্ব মানে না।
আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাসে আমরা আর কোন লাশ দেখতে চাই না।
আমরা আর কোন অকাল মৃত্যু দেখতে চাই না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29090676 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29090676 2010-02-03 15:22:07
ফটো ব্লগ-আজ বেগম রোকেয়া দিবস [




বেগম রোকেয়ার বাড়ির চারপাশে দেয়া বেষ্টনী গেট

বাড়ির ভেতরের অংশ.........প্রকৃত অর্থে কোন কিছুই অবশিষ্ট নেই..কিছু ভাঙ্গা দেয়াল ছাড়া





৯ ডিসেম্বর ১৮৮০। এ দিনে জন্ম বেগম রোকেয়ার। আবার এ দিনেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান। ১৯৩২ সালে। এ দিনটিকে স্বরণ করে আজ পালিত হচ্ছে বেগম রোকেয়া দিবস। খুব সম্প্রতি আমি গিয়েছিলাম বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান পায়রাবন্দ। ওখানেবেশ কিছু ছবি তুলেছিলাম। সেসব ছবি থেকে কিছু শেয়ার করলাম ব্লগার বন্ধুদের সাথে............................
















বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও রয়েছে। ওখানে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে ছেলে মেয়েরা...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29055907 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29055907 2009-12-09 11:20:44
লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় 'ফেমিনিনিটি' উৎপাদন: বাজার- পুরুষতন্ত্রের একটি 'পরিমিত' রূপ
পুঁজিবাদ, বিশ্বায়ন অথবা বাজার অর্থনীতি যে নামে ডাকি না কেন এ শব্দগুলোর প্রায়োগিক লেবাসে যে আর্থনীতিক-রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়াগুলো এখন পর্যন্ত ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় সচল রয়েছে, সেখানে মুনাফা কেবল উপায় নয়, একমাত্র লক্ষ্য। ফলে সকল আয়োজন এ মুনাফাবাদিতাকে ঘিরেই আবর্তিত ও বিবর্তিত হয়। কখনও প্রকাশ্যে, আবার কখনও অপ্রকাশ্যে। এ মুনাফাকেন্দ্রীক বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থাটির টিকে থাকা ও বিকাশে প্রধান দুই প্রদায়কের একটি হচ্ছে তেল-গ্যাস ও যুদ্ধের অর্থনীতি, অপরটি পুরুষতন্ত্রের অর্থনীতি। প্রথমটির ওপর শেষেরটির শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে, প্রথমটি প্রায়শ: দৃশ্যমান, তথ্য যোগাযোগ প্রক্রিয়ায় প্রবেশাধিকারের কারণে প্রান্তিক জনপদের মানুষজনও আঁচ করতে পারে। কিন্তু শেষেরটির প্রক্রিয়াগুলো প্রয়োগ হয় বেশিরভাগ সময় সাংস্কৃতিক ফর্মে, বিনোদনের মোড়কে। এখানে নারীর অংশগ্রহণ বর্নীল এবং দৃশ্যমান বলে এটি সচরাচর সনানতন পুরুষতন্ত্র থেকে নারীর মুক্তি হিসেবে অনূদিত হয়। সনাতন পুরুষতন্ত্রের বলয় থেকে নারী যে একটি মাত্রায় হলেও বেরিয়ে আসে এ কথাও সত্যি। এ আপাত সত্যের আড়ালে আসল সত্যটা ঢাকা পড়ে থাকে। ফলে বাজারী পুরুষতন্ত্রের নতুন শৃঙ্খলের অনেকটাই অদৃশ্য রাখা সম্ভব হয়। অন্তত আমজনতার কাছে। বাজার অর্থনীতির মুনাফাবাদী মতলবটাকে কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্বশীলতা হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। এ রকম বাজারী পুরুষতন্ত্রের একটি সা¤প্রতিক দেশজ পরিবেশন হচ্ছে বিগত কয়েক বছর ধরে আয়োজিত লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতা। আমি বলছি না যে, বাংলাদেশের মডেলিং-টিভি নাটক ও অভিনয় জগতে এ প্রতিযোগিতার কোন অবদান নেই। বরং স্বীকার করতেই হবে যে, এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এসে পরবর্তীতে বেশ কয়েকজন খুব সরবভাবে মিডিয়ায় নিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন এবং কৃতিত্বের সাথে কাজ করছেন। তবে এ প্রতিযোগিতার দৃশ্যমান সফলতাটাকে চিহ্নিত করা এ লেখার উপলক্ষ্য নয়। বরং এ ধরনের প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কীভাবে বাজার-পুরুষতন্ত্রের উৎপাদন, পুনরুৎপাদন হচ্ছে এবং বাজার-পুরুষতন্ত্রের একটি স্থানীয় রূপ পরিগ্রহ করছে তার প্রতি যতকিঞ্চিৎ নজর দেয়া। প্রসঙ্গত বলা দরকার মতাদর্শ ও ব্যবস্থা হিসেবে পুরুষতন্ত্রের প্রকাশ সমাজ ও সময় নিরপেক্ষ নয়। আর এ কারণেই বাজার-পুরুষতন্ত্রের বহি:প্রকাশেও ভিন্নতা রয়েছে। তবে বাজার ভিত্তিক পুরুষতন্ত্র ধর্ম ও প্রথাভিত্তিক পুরুষতন্ত্রের মতো কঠোর নয়, বরং নমনীয়। স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়। ঐতিহ্যভিত্তিক পুরুষতন্ত্রের অতটুকুই বদল করে, যতখানি বদল কর্পোরেট স্বার্থের জন্য দরকার পড়ে। তবে সকল পরিবর্তন-পরিবর্ধন এর লক্ষ্য এক। কর্পোরেট পণ্যের প্রসার। ভোক্তার মনে ক্রমাগত অনুভূত চাহিদা তৈরির মাধ্যমে নির্দিষ্ট পণ্যের বাজার তৈরি। এ প্রক্রিয়ায় নারী একদিকে পণ্যের প্রসারে ভূমিকা রাখে। অপরদিকে নিজেও পণ্যে রূপান্তরিত হয়। বাজার-পুরুষতন্ত্রে নারী একই সাথে কর্তা এবং কর্ম হিসেবে আবির্ভূত হয়। কিন্তু কর্তা হিসেবে স্ব-পরিচালিত নয়। কর্পোরেট পণ্যের বিকাশের উদ্দেশ্যে গৃহিত শিল্প ও সংস্কৃতির ব্যাকরণ ঠিক করে দেয় কর্তা হিসেবে তার গতি-প্রকৃতি ও গতিশীলতা। নানা প্রতিযোগিতা-আনুষ্ঠানিকতার নামে তার চলন, কথাবার্তা, হাসি, শরীর প্রতিটির চুলচেরা বিশ্লেষণ চলে। পুরুষতান্ত্রিক চশমায়। অনুষ্ঠানের বিচারক কি নারী কী পুরুষ সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিচারের চোখগুলো ঠিক করে দেয় বাজার অর্থনীতি। ফলে তাদের বিচার-বিশ্লেষণগুলোও পণ্যে রূপান্তরিত হয়। নারীর সৌন্দয্য বিশ্লেষণের অনুষ্ঠান এর বিকিকিনি চলে টিভির পর্দায়।
একটু গোড়ার দিকে ফেরা যাক। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা উপমহাদেশের প্রসাধন বাজারে লাক্স এর দাপট ছিল এক চেটিয়া। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য রক্ষায় সাবান একটি লিঙ্গ নিরপেক্ষ উপাদান এবং নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য দরকারি হলেও একেবারে গোড়াতেই লাক্স প্রকাশ্য ভোক্তা হিসেবে নারীকে টার্গেট করেছে। আবার লাক্সের প্রচার-প্রসারেও ব্যবহার করেছে নারীকে। এ প্রক্রিয়াটিই অনুসরণ করেছে পরবর্তীতে প্রসাধন বাজারে আসা কোম্পানীগুলো। বলিউড এবং বাংলাদেশের প্রায় সব বিখ্যাত অভিনেত্রীরাই লাক্সের বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছেন। নারীর সৌন্দর্য বিচারে শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা উপমহাদেশীয় পুরুষতন্ত্রের একটি বর্ণবাদী অবস্থান রয়েছে। ফর্সা হওয়াটা এখানে নারী সৌন্দর্যের প্রধান নিয়ামক। লাক্স তার প্রচার-প্রসারে এ বর্ণবাদী পুরুষতান্ত্রিক ভাষাটাকেই প্রধান অবলম্বন করে তুলেছে। বছরের পর বছর। নারীর বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ও এতিহ্যগত সাংস্কৃতিক-সামাজিক উপাদানগুলোকে কীভাবে কর্পোরেট স্বার্থে ব্যবহার করা হয় এবং সে ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে পুরুষতন্তের উৎপাদন-পুনরুৎপাদন ঘটে তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে লাক্সের বিজ্ঞাপন। ফেয়ার এন্ড লাভলীর বিজ্ঞাপন তারই উপজাত এবং আরও বেশি করে প্রকাশিত একটি বর্ণবাদী বিজ্ঞাপন।
এবার আসা যাক লাক্স-চ্যানেল আই সুপার স্টার প্রতিযোগিতার একটি পর্ব প্রসঙ্গে। গত সপ্তাহে প্রচারিত অনুষ্ঠানে একটি পর্বের নাম ছিল 'ফেমিনিনিটি'। একটি সমাজের নির্দিষ্ট আবহে নারী হওয়ার মানে কী তা বুঝাবার জন্য এ শব্দটি সমাজতত্ত্বে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সামাজিক পরিসরে নারীর প্রত্যাশিত গুণ ও আচরণ। সুতরাং ফেমিনিনিটি কোন জৈবিক বিষয় নয়। এটি একশোভাগ সামাজিক। তথাকথিত নারীসূলভ আচরণ ও গুণাবলীর সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংজ্ঞা। এবং এটি যেহেতু জৈবিক নয় সেহেতু অবশ্যই পরিবর্তনযোগ্য (জেন ই স্টেটস এন্ড পিটার জি বার্ক, ফ্যামিনিটি/মাসকুলিনিটি, এনসাইক্লোপেডিয়া অব সোসিওলজি)। এখন দেখা যাক লাক্স চ্যানেল আই কী ধরনের ফ্যামিনিনিটি উৎপাদন ও উপস্থাপন করেছে। আলোচ্য পর্বে প্রতোযোগীরা বিভিন্ন ডিজাইনারের তৈরি শাড়ি পরে বিচারকদের সামনে 'বিড়াল হাটা’ (ক্যাটওয়্যাক) হেটে ছিলেন। প্রতিযোগীরা বিচারকদের সামনে আসার আগে উপস্থাপক এর ছোট্র ঘোষণা, আমরা দেখতে চাই আমাদের প্রতিযোগীরা কতখানি চৌকষ, আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীল হয়ে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারে। সনাতন বাঙালী পুরুষতন্ত্রে চৌকষ, আত্মবিশ্বাসী বা সৃজনশীল হওয়া নারীর প্রত্যাশিত গুণাবলী হিসেবে স্বীকৃত নয়, এগুলো পুরুষের। সুতরাং উপস্থাপকের এ ঘোষণা শুনে মনে হতে পারে লাক্স-চ্যানেল আই বুঝি বাঙালী পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোয় ফ্যামিনিনিটি সম্পর্কিত প্রবল ও প্রচলিত ধারণাটিকে বদলানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু না, এ পর্বের পুরোটাতেই চৌকষ, আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীলতা খোঁজা হয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক নয়, বরং নারীর শরীরি উপস্থাপনায়। চৌকষ ক্যামেরার ক্লোজ শর্টগুলো যেসব জায়গায় ধরাবার চেষ্টা করা হয়েছে তাতে যৌনতার উপমহাদেশীয় ধারণাটাই প্রবল হয়ে উঠেছে।
সনাতন বাঙালী পুরুষতন্ত্রে নারীর প্রধান পরিচয় যেমন শরীর ঠিক লাক্স-চ্যাানেল আই পরিবেশিত ফেমিনিনিটিতেও নারী কেবলই শরীর। পার্থক্য পরিবেশন ও উপস্থাপনায়। সনাতন পুরুষতন্ত্রে শরীর ভোগের, কিন্তু এজমালী নয়। ফলে ঘরের বাইরে তাঁর শরীর বাড়তি আবরণে ঢেকে রাখা তার জন্য সাংস্কৃতিক-সামাজিকভাবে বাধ্যতামূলক। আবরণটা কতখানি হবে সেটি আরোপিত হয় তার ধর্ম, শহর-গ্রাম, এমন কি শ্রেণী দ্বারা। আর বাজার-পুরুষতন্ত্রে ঢাকা-না ঢাকার সীমারেখাও নারীর নিজস্ব বিষয় নয়, একশোভাগ আরোপিত, উদ্যোক্তা, ডিজাইনার আর করিওগ্রাফার দ্বারা। দৃশ্যমান শৃঙ্খল এর বদলে অপেক্ষাকৃত অদৃশ্য শৃঙ্খল দ্বারা। এভাবেই বাজার ভিত্তিক পুরুষতন্ত্রের একটি স্থানীয় অবয়ব গড়ে উঠে। স্রেফ পণ্যের বিকিকিনিটা বাড়াবার জন্য। আর বাজার অর্থনীতি পুরুষতন্ত্রকে উৎপাদন, পুনরোৎপাদন করে। প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত। অন্যদিকে উদ্যোক্তারা (লাক্স, চ্যানেল আই) নারীর ক্ষমতায়নে কর্পোরেট দায়িত্বশীলতা পালন করছেন বলে প্রচার চালান।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29049334 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29049334 2009-11-25 11:09:55
শিশুদের স্কুল বাসে চড়তে না পারা এবং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কিত চিরায়ত জননিয়তি!!! আমাদের ছয় বছরের একমাত্র কন্যা শিশুটি এতদিন স্কুল বাসে করেই স্কুলে যেত। এখন বাসে যায় না। যায় না বললে ভুল হবে। বলা যায় যেতে পারে না। কারণ স্কুল কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করেই বাচ্ছাদের ডায়েরীতে ছোট্র একটি নোট লিখেই তাদের সকল স্কুল বাস বন্ধ করে দিয়েছে। ডায়েরীতে লেখা নোটে কোন ব্যাখ্যা নেই। শুধু লিখা আছে অনিবার্য কারণে আগামীকাল থেকে আমরা আর বাস সার্ভিস চালু রাখতে পারছি না। নোটিশটি পেয়ে অনেক মা-বাবার মতো আমিও ছুটে যাই। আলাপ করি স্কুলের নির্বাহী প্রধানের সাথে। তিনি সবিনয়ে অনেকটা চুপিচুপি স্বরে জানান যে, স্কুলের শিক্ষার্থী আনা-নেয়া করা হয় এমন কোন এলাকা থেকে তাঁর ভাষায় সন্ত্রাসীরা চাঁদা চেয়েছে। হুমকি দিয়েছে। বাসে যেহেতু ছোট ছোট শিশুরা থাকে, চাঁদার দাবিতে তাদের ওপর যদি হামলা করা হয়, অথবা জিম্মি করা হয়, সে ভয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে তারা বাস বন্ধ করে দিয়েছেন। আমি নির্বাহী প্রধানকে পরামর্শ হিসেবে বলেছিলাম স্থানীয় সাংসদের সাথে কথা বলতে। বিদ্যালয়টি এলাকায় যেহেতু স্বনামধন্য, পরিচিত, সেহেতু স্থানীয় সাংসদের কাছে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের অতীত অভিজ্ঞতালব্দ প্রতিক্রিয়ায় সাংসদ পর্যায়ের জাতীয় রাজনীতিবিদদের ওপর গভীর অনাস্থা ও অবিশ্বাসই প্রকাশ করলেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আজ পর্যন্ত বিষয়টির সুরাহা করতে পারে নি। অতএব আমাদের কোমলমতি শিশুরাও বাসে চড়ে, হৈচৈ করে তাদের প্রিয় বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।
আমি জানি না, এ রকম হঠাৎ বাস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হওয়ায় অন্য অভিভাবক, বাবা-মারা কী রকম বিড়ম্বনার মুখোমুখি হচ্ছেন। কতখানি কষ্ট তাদের সহ্য করতে হচ্ছে। তবে আমার স্ত্রীর একজন নারী সহকর্মী শুধু বাসের সুবিধা থাকার কারণে তার শিশুটিকে এ বিদ্যালয়ে দিয়েছিল। বাস বন্ধ করে দেওয়ায় এখন তিনি তার বাচ্ছার স্কুল আপাত: বন্ধ করে দিয়েছে। তার কাছে এটিই আপাত একমাত্র বিকল্প।
আমাদের শিশুটিকে স্কুলে পাঠাবার সন্তোষজনক বিকল্প পারিবারিক ব্যবস্থা থাকলেও আমি ইচ্ছে করেই স্কুল বাসে দিয়েছিলাম। অন্য ভাবনা থেকে। ঘরের বাইরের জগতে স্বনির্ভর আত্ম-বিশ্বাসী হয়ে বেড়ে উঠার প্রক্রিয়া হিসেবে। বাসে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় ধরে থাকবে। নিজ সহপাঠি ছাড়াও অন্য শিশু-কিশোরদের সাথে মিথস্ক্রিয়ার একটা সুযোগ তৈরি হবে। হৈচৈ করবে। সহযাত্রীদের সাথে ছোটখাট ঝগড়াঝাটি, বিবাদে লিপ্ত হবে। নিজেরাই আবার মিটিয়ে নিবে। শুরু থেকেই যেন জানা-অজানা-প্রত্যাশিত-অপ্রত্যাশিত বিষয়ের মুখোমুখি হওয়ার একটি সামাজিকায়ন শুরু হয়। একটি মেয়ে শিশু হিসেবে এ সামাজিকায়ন অনেক বেশি জরুরি। কিন্তু এখন আমাদের সে প্রত্যাশারই আপাত: যবনিকা ঘটেছে চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসের হুমকির কাছে।

দুই.
সামষ্টিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিবেচনায় ওপরের ঘটনাটি হয়তো খুবই তুচ্ছ। খুবই ছোট। সংবাদপত্রের কাছেও হয়তো এটি বিক্রয়যোগ্য সংবাদ নয়। কোন পত্রিকায় এ সংবাদ ছাপা হয়েছে বলেও জানা নেই। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এতটাই অনিরাপদবোধ করছেন যে, এটি নিয়ে তেমন কোন কথাই বলতে চাইছেন না। কিন্তু সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদের ব্যক্তি জীবনে এর প্রভাব অনেক বেশি। আমরা অনেক বেশি ভুক্তভূগী। অনেক বেশি অসহায়। সাধারণ নাগরিকদের এ চলমান অসহায়ত্ব সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির গতি-প্রকৃতির চিত্রটাই তুলে ধরছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী গণমাধ্যমের কাছে পরিস্থিতি যত স্বাভাবিক হিসেবে দাবি করুন না কেন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা যে ভাল নেই এটি তার একটি সংকেত। লাল সংকেত। এ লাল সংকেত শুধু নাগরিকদের জন্য নয়, রাজনৈতিক সরকারের জন্য, রাজনীতিবিদদের জন্যও। দেশের জন্যতো বটেই।

তিন.
বিগত দু’টি সাধারণ নির্বাচন নিয়ে বিজিত প্রধান দু’টি দলের একই সুরে একই রকম দু’টি প্রতিক্রিয়া আছে। ২০০১ সালের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আওয়ামী লীগ বলেছে, বিএনপি কারচুপি করেছে। আর ২০০৮ সালের ফলাফল নিয়ে বিএনপি বলেছে, আওয়ামী লীগ কারচুপি করেছে। ভোটনির্ভর ক্ষমতাহস্তান্তরের প্রচলিত গণতন্ত্র ও জনরায়ের প্রতি দু’টি দলই হেরে যাবার পর বরাবরই শ্রদ্ধা প্রদর্শনে ব্যর্থতার উদাহরণ বজায় রেখেছে। শুধু তাই নয়, দু’দলের বর্ণনায় ’কারচুপি’ শব্দটিও নানা বিশেষণে বিশেষায়িত হয়েছে। কিন্তু রাজনীতি বিশ্লেষক ও সাধারণ নাগরিকদের ধারণা ও বিশ্বাস, প্রত্যেকবারই সংশ্লিষ্ট দল হেরেছে তাদের সরকারে থাকার সময়ের ব্যর্থতা বিশেষ করে জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা বিধানে আকষচুম্বী ব্যর্থতার জন্য। এবারের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে এমন বিশ্লেষণও রয়েছে যে, জনগণ বিপুলভাবে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়নি, ভোট দিয়েছে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের দুর্নীতি, সন্ত্রাস আর অব্যবস্থার বিরুদ্ধে। তারা একধাপ এগিয়ে গিয়ে এটিও বলছেন যে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার জনরায়ের এ প্রবণতাটি যদি উপলব্দী করতে না পারে, তবে পরবর্তী নির্বাচনে একই সূত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। তার মানে হচ্ছে পরবর্তী নির্বাচনে শুধু সরকার নয়, সরকারি দলেরও পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। নব্বই পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত বিগত নির্বাচনগুলোতে সে প্রবণতাটাই পরিলক্ষিত।

চার.
একজন বন্ধু-সহকর্মীর একটি মন্তব্য বোধহয় এখানে উল্লেখ করাটা অপ্রাসঙ্গিক হবে না। সম্প্রতি বাৎসরিক আয়কর বিবরণ জমা দেয়ার সময় ক্ষোভ-অভিমান আর আবেগ মিশ্রিত কন্ঠে তিনি বলেছিলেন যে, এ রাষ্ট্রে আমার আয়কর দিতে কষ্ট হয়। কারণ নাগরিক হিসেবে এ রাষ্ট্রের কাছে আর কিছু না হোক অন্তত জীবন যাপনের নিরাপত্তা চাই। এটি হলফ করে বলা যায় নাগরিক হিসেবে নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু তার চাওয়া নয়, এটি সবার চাওয়া। সকল নাগরিকের ন্যুনতম চাওয়া। অথচ এ ন্যুনতম চাওয়াটাই বরাবর অধরা থেকে যাচ্ছে। সরকার যায়, সরকার আসে। কিন্তু ব্যবস্থার কোন পরিবর্তন হয় না। ফলে পরিস্থিতি কেবল অবনতিই হতে থাকে। তবে এ ক্রমাগত অবনতি দেখতে থাকাই কি আমাদের চিরায়ত জননিয়তি?
আমরা আমাদের, আমাদের সন্তানদের ভয়ভীতিহীন নিরাপদ পরিবেশে জীবনের স্বাভাবিক সচলতা চাই। আমরা পথ চলতে চাই, বাইরে বেরুতে চাই আমাদের মতো করে। ভয়শূণ্য হয়ে। আমাদের হৃদয়-মন ও প্রাত্যহিক জীবনকে ভয়শূণ্য করার দায়িত্বটা অবশ্যই সরকারের। অবশ্যই রাষ্ট্রের।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29036295 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29036295 2009-11-02 12:05:04
ফটোব্লগ-কক্সবাজার ঝাউবন থেকে সূর্যাস্ত দেখা ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29033989 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29033989 2009-10-29 13:42:09 জাতীয় কন্যাশিশু দিবসে আমাদের কন্যার কন্যা হয়ে উঠার ভয় ও সাংস্কৃতিক পুরুষতন্ত্রের ভূমিকা
১.
কন্যাশিশু দিবসের ঠিক আগের রাতেই আমাদের একমাত্র কন্যাটি অবাক করে বলে উঠে, আমি ছেলে হলেই ভাল হতো। ওর বয়স কতো হবে। মাত্র ছয়। এ কয়েক বছরের জীবনকালে ওকে কখনও এ রকম মন্তব্য করতে দেখিনি। বরং মেয়ে হওয়ার কারণে ওর অনেক গর্ব। অনেক তৃপ্তি। অনেক উচ্ছাস। এ উচ্ছাস শুধু নিজের ভেতরে নয়, অনায়াসে সে অন্যদেরও বলে বেড়ায়। ওর ছোট্র মনের গভীর প্রকাশে মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠার অপার সম্ভাবনাগুলোই ভেসে উঠে। ওর এ আত্ম-বিশ্বাস আমাদের অনুপ্রাণিত করে। আমরা অভিভূত হই। আর সে মেয়ে কিনা বলে- ছেলে হলেই ভাল হতো! শুনে আমি হেসে উঠি। অবাকও হই। আমার কৌতুহল বাড়ে। সাথে আতংকও । কেন কি হয়েছে, আমি জিজ্ঞেস করি। ওর সরল উত্তর। মেয়েদের অনেক বেশি কাজ করতে হয়। মৃন্ময়কে অত বেশি কাজ কাজ করতে হবে না। কিন্তু আমাকে করতে হবে। মৃন্ময় তার মামাতো ভাই। মৃন্ময় চাইলে বাসার বাইরে যেতে পারবে। আমি পারবো না। ওর অল্প বয়সের ছোট্র পর্যবেক্ষণে যেন আপাত এক গভীর সত্যের প্রতিফলন। এ সত্য প্রাকৃতিক নয়, সামাজিক। চাইলে এ সত্যটাকে মিথ্য করে দেয়া যায়। টুকরো টুকরো করে দেয়া যায়। তবু তা টিকে থাকে। ব্যবস্থার জোরে। বহুবছর ধরে বাঙ্গালী পুরুষতন্ত্র ধর্ম ও আচারের মিশেলে নারীর জন্য যে ব্যবস্থাটি তৈরি করেছে, সেটি যে ন্যায্য নয় একটি শিশুর সরল পর্যবেক্ষণে তা ফুটে উঠে। তার এ তাৎক্ষণিক পাঠ করবার ক্ষমতা নিয়ে হয়তো গৌরব করা যায়। কিন্তু সে পাঠ থেকে যে আতংকের জন্ম সেটি তো কিছুতেই গৌরবের হতে পারে না। তবু এ সমাজ এ অগৌরবের বিষয় মহাযতনে সৃজন-পুনসৃজন করে। টিকিয়ে রাখে বংশপরস্পরায়।

২.
আমি ভাবি, ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত হই। অল্প বয়সী শিশুর সরল অনুসিদ্ধান্ত আমাকে নাড়ায়। ভীষণভাবে। আমারও মনে হতে থাকে সম্ভবত ওর জগতটা ছোট হয়ে আসছে। একটু একটু করে। আমরা চাই বা না চাই, যে ব্যবস্থার ভেতরে ওর বেড়ে উঠা, চলাচল, সেখানে ওর জগৎটি যে মুক্ত নয়, অনেক সীমাবদ্ধ, তা অস্বীকার করি কি করে! খুব মনে পড়ে প্রথম নিজে খেলনা কিনতে গিয়ে ও পছন্দ করেছিল দোকানের সব চেয়ে বড় ফুটবলটি। সে ফটবলটি কিনেও ছিল। ফুটবল একটি নিতান্ত খেলার বস্তু নয়। এটি উচ্ছাস, গতিশীল, উদ্যাম ও স্বাধীন জীবনের প্রতিকীও। ফুটবল খেলা মানে ঘরের ভেতরের নয়, বাইরের মুক্ত জীবন। ছুটোছুটি, হৈচৈ করার অপার স্বাধীনতাও। প্রথম খেলনা হিসেবে ওর ফুটবল পছন্দ করাতে মনে মনে খুশী খুশী হয়েছিলাম। অথচ ফুটবল খেলা সে মেয়েটিই এখন শংকিত! চিন্তিত।

কারণ ও ইতোমধ্যে স্কুলে যেতে শুরু করেছে। খেলতে শুরু করেছে বাইরের বন্ধুদের সাথে। প্রতিবেশিদের সাথে একটু আধুটু যোগাযোগও হয়। নাটক, সিনেমা, গান, সংবাদপত্রেও মাঝে মাঝে ওর চোখ পড়ে। কিছু বুঝে, আবার কিছু বুঝে না। কিন্তু এ বুঝা না বুঝার মধ্যেও ওর কাছে এ সংবাদটি পৌছে গেছে। ও বুঝে গেছে, ওর জন্ম এমন এক সমাজে, যেখানে নারীর গতিশীলতা অনেক সীমিত। নারীকে বাড়তি কাজ করতে হয়। এ ছোট্র অথব ভয়াবহ তথ্যটি সে হয়তো পেয়েছে তার বিদ্যালয়, বন্ধু, প্রতিবেশি, অথবা নাটক, সিনেমার গল্প থেকে। সাংস্কৃতিক পুরুষতন্ত্র যেভাবে তৈরি করে তার উপযোগী নারী। খুব ছোট্র বয়স থেকে। হাসিখুশি উচ্ছল শিশুরা মানুষ থেকে নারী হয়ে উঠে। আর হারায় তাদের স্বাধীন সত্ত্বা।

৩.
জাতীয় কন্যা শিশু দিবস এর সংবাদ পত্রিকায় ফলাও করে ছাপা হয়েছে। এটি নিশ্চই মেয়েদের বিদ্যামন প্রান্তিকতার অবসান দূর করার প্রয়োজনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। এ ইতিবাচক স্বীকৃতিকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু পুরুষতন্ত্রকে শক্তিশালী করবার যে সাংস্কৃতিক আয়োজন, এখানে-সেখানে, নাটক, সিনেমা, গল্প, সাহিত্য, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, ধর্মের মাধ্যমে, সে প্রক্রিয়াগুলো টিকিয়ে রেখে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস কতটা কার্যকর হবে? কবে, কখন কীভাবে??
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29023960 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29023960 2009-10-11 14:19:50
ছবি ব্লগ-গতকাল ঘুরে এলাম কম্বোডিয়ার এ্যাংকর ওয়াট
কম্বোডিয়ার শহর সিয়ামরিপ মূলত একটি পর্যটন শহর। আর এখানকার পর্যটনের প্রধান আকর্ষণ এ্যাংকর ওয়াট। মূলত এ এ্যাংকর ওয়ার্টকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এখানকার বিশাল পর্যটন শিল্প। প্রতিদিন শতশত-হাজার হাজার পর্যটক আসে এখানে।
এ্যাংকর ওয়ার্ট মূলত একটি মন্দির কমপ্লেক্স। এর ভেতরে রয়েছে অনেকগুলো ছোট ছোট মন্দির। দ্বাদশ শতাব্দীতে এটি তৈরি হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় মন্দির হিসেবে। তখন এটি রাজধানী শহরও ছিল। যতদূর জানা যায় এটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য নির্মিত হয়েছিল। বিষ্ঞু দেবতার উদ্দেশ্য। পরে এটি বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের মন্দিরে রূপান্তরিত হয়। অসম্ভব স্থাপত্য কৌশল এবং এর সৌন্দয্য যে কাউকে মুগ্থ করবে। খেমার স্থাপত্যশৈলির আদলে নির্মিত এ মন্দির এখন জাতিসংঘের 'ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ' হিসেবে স্বীকৃত। গতকাল এ মন্দির দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। তখন বেশ কিছু ছবি তোলা হয়েছে যা ব্লগার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলাম................

এ্যাংকর ওয়াট লেক........মন্দির এলাকার চারপাশে ঘিরে এ লেক রয়েছে। পর্যটকদের এটি অন্যতম আকর্ষণ (ওপরে)
মন্দিরের কিছু ছবি (নিচে)





মন্দিরের সারা গায়ে/দেয়ালে এ রকম অসংখ্য কারুকাজ/শিল্পকর্ম রয়েছে
মন্দিরের কাছেই আরেকটি নতুন বৌদ্ধমন্দির................]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29008177 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29008177 2009-09-10 18:22:55
ছবি ব্লগ-এ্যাঙ্কর দেবতার দেশ কম্বোডিয়ায় প্রথম দিন

বোরে এ্যান্কর-আমরা যে হোটেলটিতে এখন থাকছি

প্রতিদিন সকলে আমাদের হোটেলে এ রকম কয়েকটি কম্বোডিয়ান মেয়ে তাদের ঐতিহ্যবাহী এ বাদ্যযন্ত্রটি বাজায়.......অসম্ভব সুন্দর এ সূরের মুর্ছনা

আমাদের হোটেলের সুইমিং পুল
সুইমিং পুলের পাশে একটি মেয়ে কাজ করছে........
ম্যাসাজ পার্লার এর কর্মী ওরা
আমাদের হোটেলের আরেকটি ভিউ
হোটেলের একজন কর্মী এখানকার ঐতিহ্যবাহী লোটাস ফুল দিয়ে ডেকোরেশনের কাজ করছে

এখানকার ঐহিত্যবাহী পোষাকেহোটেলের আরেকজন কর্মী
টুকটুক-জনপ্রিয় বাহন.... এখানে তরুনী এমনকি কিশোরী মেয়েদেরও মোটর বাইক একটি প্রিয় এবং নিয়মিত যানবাহন, রাস্তায় নামলেই চোখে পড়বে এখানে সেখানে..........

একটি ঐতিহ্যবাতী স্থানীয় খাবার, কলা ভাজা করে তৈরি...........খেতে বেশ মজা
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29006995 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29006995 2009-09-08 21:07:49
সাময়িক পোস্ট-মাত্র কম্বোডিয়া এসে পৌছালাম........ http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29006452 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/29006452 2009-09-07 23:14:50 ছবি ব্লগ-ঢাকার আকাশে হঠাৎ দেখা পাওয়া রংধনু..................... গতকাল ঢাকার আকাশে হঠাৎ করেই জেগে উঠেছিল রংধনু। সে রংধনু দেখে বাসার ছাদে মেতে উঠেছিল আমাদের শিশুরা। মানে আমাদের বিচ্ছু এবং তার বন্ধুরা। রংধনুতো দূরে থাক, এসব নাগরিক শিশুদের আকাশ দেখারও সুযোগ নেই। হঠাৎ রংধনু দেখার সৌভাগ্যে আনন্দে মেতে উঠা.....হৈচৈ। ছবি তোলা....।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/28981896 http://www.somewhereinblog.net/blog/Munirshamimblog/28981896 2009-07-22 09:29:23