ছাগল দৌড়ানি বৃষ্টির ঝটকা ঝরঝর কদমপাতা চুঁইয়ে নিচ পর্যন্ত আসতে পারে না, বরং কদমফুল বরাবর পতিত যে ফোঁটাগুলো, তারা ওই নির্গন্ধ ফুল থেকেই এক ধরনের মৌতাত ঝেটিয়ে বাইরে বের করে দিতে থাকে। এই আচানক মৌতাতে আমাদের জটলার ত্রিভুজঘরানা দীর্ঘ দীর্ঘ দীর্ঘ হতে থাকে। ক্লান্ত বিকেল সন্ধ্যার দরজায় এসে কড়া নাড়ছিল যখন, তখন কদমগাছের শাখাপ্রশাখা ছাড়িয়ে পুব আকাশে চোখ পড়তেই দেখা গেল বিজলীর প্রাচীন সুমেরীয় দেবী জারপেনিভকে তাঁর করিৎকর্মা স্বামীকে নিয়ে যুদ্ধে চলেছেন বায়ুরথে চড়ে, দু'হাতে তাঁর দু'গুচ্ছ বজ্রবাণ। ভয়ে আমরা গাছতলা ছেড়ে আলিশান এক বিজলীদণ্ডের আশ্রয়ে আসি বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনকে মনে রেখে। খোদার ওপরে খোদকারী মানুষ হামেশাই করে দেখি, কিন্তু ভরসা পায় না বলে বিজ্ঞানীর ওপরে একদম নয়। তাই আমরা বাজাই না গির্জার ঘণ্টা কিংবা দেই না সুরেলা আজান, বরং একটা রঙধনু দেখবার ইচ্ছায় কুত্তাবিলাই ঝরঝরানির মধ্যেও উত্তরচোখে আঁড় হয়ে থাকি। জানি যে পতন রহিত হলে এহেন ধারাজলের, ক্রমে আকাশমাঠে খেলে উঠবে সপ্তচক্ষু রঙ। ডেকেপেতে ক্লান্ত মিলন শেষে আড়মোড়া ভেঙে দিগন্ত জুড়ে দাঁড়িয়ে উঠবে বেপরোয়া একটা হলুদ পুরুষব্যাঙ, যার নরোম উরুদ্বয়ের রপ্তানি পণ্য হবার দিনকাল আপাতত ফুরিয়ে এসেছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



