কাউন্টার থেকে ছাড় পেতে পেতে লাইনে থাকতেই দোতলায় আবার দেখা। অসাধারণ এক হাসিতে অভ্যর্থনা জানাল সে। ওয়েটিং রুমে বৃষ্টিদেবতা আমাদের পাশাপাশি বসবার বন্দোবস্ত করে দিলেন। 'জানেন না তো, আমরা যেতে চেয়েছিলাম হিমালয়ে, কিন্তু শেষপর্যন্ত পোখরা থেকেই ফিরতে হয়েছে। এত বৃষ্টি বাপের জন্মে দেখি নি। সবাই খুব নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল, তাই হেলিকপ্টার ওড়ে নি। অতৃপ্ত হয়ে ফিরছি।' আমিও কম যাই না। বলি, আমার অতৃপ্তি বিস্তৃত হয়ে আছে রামগিরি থেকে অলকা অবধি। রামায়ণের কিষ্কিন্ধাকাণ্ড, কালিদাসের মহাভারত, জয়দেবের গীতগোবিন্দ, বৈষ্ণব কবিতার একটা বড়ো অংশ কিংবা রবীন্দ্রনাথের অজস্রাজস্র কবিতা হাতড়েও তুমি এত হাহাকার পাবে না। যেমনটি বুকে নিয়ে আমি ফিরছি। এমনকি আমার বৃষ্টিও হয় নি দেখা। এ দেশের রাজতন্ত্র ফুরাল, কিন্তু বিরহভাব, কই ফুরায় নি মানুষের। রাজাহীন রাজকীয় হোটেলের ছাদের নিচের দ্বিদিবসিক সেমিনারের হাহাকারই ছিল মূল স্তোত্র। এরকম বাজে ভ্রমণ আর হয় না জানেন। সম্পূর্ণ বাজে অবশ্য বলা যাবে না এখন, আপনার সাথে দেখা হবার পরে। 'আমাকে তুমি বলুন, প্লিজ! মাত্র ইন্টারমিডিয়েট দিয়েছি।' ও-কে, মনে হচ্ছে যেন কাঞ্চনজঙ্ঘায় ঠেস লেগে গুঁড়িয়ে যাওয়া মেঘের থেকে আসা বৃষ্টিদলের ছোঁয়াটা এই এখন মাত্র বাগে পাচ্ছি তোমার মারফতে। এই যে এখন বন্দর জুড়ে ড্রিজলিং হচ্ছে, ধারণা করি সেটাও ওই তোমারই কল্যাণে। নইলে কাঠমান্ডুতে চারদিনেও বৃষ্টি দেখব না ময়ুরের মৈথুনঋতুতে, এটা কেমন করে হয়! দেখ, তোমার সম্মানে নামা ড্রিজলিং থাই এয়ারওয়েজের সদ্য ল্যান্ড করা বিমানটির আজদাহা শরীরে আদুরে পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে। 'জানেন, ওই যে বন্দরের চারপাশের পাহাড়গুলো, এই মিষ্টি ড্রিজলিংয়ের ভিতর কেউ একজনের হাত ধরে ওইদিকে হাঁটা দেয়া গেলে দারুণ হতো।' সে তো বটেই, আমার দিক থেকেও দারুণ হতো না কি! গিয়ে হয়ত দেখতাম ঘাসের ওপরে রক্তবর্ণ সব মখমল পোকার উৎসব। কিন্তু সে তবু হবার নয়! বরং চলো ঢাকাতেই কোনো ঘোল খুঁজে নেব খন, এহেন দুধের বদলে। স্প্রাইটের জামা পরা ভ্যালেন্টাইনস স্কচ গলায় ঢেলে মনে মনে ঢাকার ঘোলঘরগুলোই তখন ভাবতে থাকি কেবল। যেন হয়ে উঠি বর্ষার দূত, চাতকপাখি, যার এটা প্রজননঋতু।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



