শব্দ দিয়ে রচিত পথ
২৮ শে অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:২৫
শব্দ দিয়ে রচিত যে পথ সে পথে হাঁটতে হাঁটতে আমি একবার হোটেলের ছদ্মবেশী একটা বেশ্যালয়ের সামনে গিয়ে পতিত হলাম, ঈষৎ গরম একটা টক গন্ধ নাকে এসে এমন ঝাপটা মারছিল যে ঘূর্ণিবায়ু থেকে বাঁচতে না পালিয়ে আমাকে ঢুকে যেতে হলো ওই হোটেলেই, দেখা গেল, টায় টায় মাংসের স্তূপ কিমা হবার জন্য অপেক্ষা করছে ওর প্রতিটি কক্ষে, অর্থাৎ কিনা প্রতিকক্ষ একেকটি ঝড় সম্ভাবনা
ঝড়ে ভয় আছে কিন্তু মাংসে আমার অনাগ্রহ নেই, তবে নরমাংস ডলে ডলে কী করে কিমা করতে হয় তা জানি না বলে একটি কক্ষের আধভেজানো দরজার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে দেখি ওখানে একটা আস্ত পর্বত প্রসব করছে জ্যান্ত একটা মূষিক, আশ্চর্য এই যে ভূমিলগ্ন হওয়ামাত্র মূষিকছানাটি বড়ো হতে হতে পর্বতকেও ছাপিয়ে গেল এবং ঝাপিয়ে পড়ল খোদ পর্বতমাতারই উপর
কিছুই না বুঝতে পেরে শব্দ দিয়ে রচিত পথ ধরেই আমি ফের ফিরে আসি দ্বিগুণ ভয়ে হিমশিম খেতে খেতে
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): কবিতা, কবিতা, কবিতা কবিতা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: অজ্ঞাতকুলশীল বিভাগে ।
ইয়।সিন কবির বলেছেন:
ফাটাফাটি লিখছেন গুরু।
কোবরা বলেছেন:
৫
কালপুরুষ বলেছেন:
এক কথায় অপূর্ব। যথারীতি চমত্কৃত।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
ধন্যবাদ সবাইকে।
সামী মিয়াদাদ বলেছেন:
নীরব ৫
তোড়ায় বাঁধা ঘোড়ার ডিম বলেছেন:
শিল্যা কুনঠি গ্যালো শিল্যা! আমি শিল্যার আগে আপনেক ৫ দিছি। হি হি হি
বীথিলতা বলেছেন:
'তবে নরমাংস ঢলে ঢলে কী করে কিমা করতে হয় তা জানি না'.....এই 'ঢলে ঢলে' বিষয়টা কি ঠিক বুঝলাম না মুজিব ভাই।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
খাইরে আমারে! এইটা তো 'ডলে ডলে'। এমন বাজে ভুল করি যে লজ্জা লাগে। ঠিক করে নিচ্ছি।
বীথিলতা বলেছেন:
'খাইরে আমারে'...কথাটা কি 'খাইরে আমারে'...সমস্যা কি, লেখার সময় মন কোনদিকে থাকে?! দেখবেন আবার বলবেন না, নিজে লিখতে পারে না আবার অন্যের ভুল ধরে.....
মুজিব মেহদী বলেছেন:
আবার ভুল! এরকম ভুল তো নিজ দায়িত্বে শুধরে পড়াই ভালো। কী বলেন! তবে আগের ধরনেরগুলো ধরিয়ে দেয়া দরকার, নিন্দা জানানোসহ । ওটা ছিল ভুল, এটা কি-স্লিপ। একমত?মন যে কোথায় থাকে তা নিজেই জানি না।
বীথিলতা বলেছেন:
একমত....না হলেই বা কি!
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
এহ, কী সাংঘাতিক লেখেন গো আপনি! ঈর্ষায় পুড়ি...মূষিক-পর্বত অংশটি একরকম বুঝেছি, নিজেরই সন্দেহ তাতে, কবি কী বুঝাইতে চাহেন।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
ফাহমিদ ভাই, একদম ভয় পাইয়ে দিলেন। 'কবি কী বুঝাইতে চাহেন' তা কিন্তু পাঠকের ধর্তব্যের মধ্যেই আনার দরকার নেই, যদি না পাঠক ছাত্র হয় আর কবিতাটি পাঠ্য। একটি কবিতা উপলব্ধির ক্ষেত্রে পাঠক স্বাধীন (সেটাই কাম্য), কবির শব্দপ্রতীকগুলো পাঠককে বুঝবার ক্ষেত্রে গাইড/সহযোগিতা করে মাত্র।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
পাঠক কনফিউজড হলে আর কবি হাতের কাছে থাকলে, এরপরও কবি নিরব রইবেন? সাহস দেবার জন্য বললাম, আর পেলেন ভয়?
মিথ্যে সাহস দেইনি, একথা বলতে পারি।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
ফুলের জলসায়ই কবি যেখানে নীরব থাকেন, পাঠকের জলসায় তো তার রবহারা হয়ে যাওয়া সঙ্গত।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
এই কথা কেবল কবিরাই বলতে পারে। তাদের বিমূর্ত তীব্র অনুভূতিগুলো মূর্ত শব্দে প্রকাশ করতে গিয়ে একটা সিস্টেম লস হয়, কূহক/দুর্বোধ্যতা তৈরী হয়। পাঠক প্রশ্ন তুললেই নজরুলকে কোট করে পাশ কাটিয়ে যায়।
অবজারভার বলেছেন:
বটে।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
"এই কথা কেবল কবিরাই বলতে পারে। তাদের বিমূর্ত তীব্র অনুভূতিগুলো মূর্ত শব্দে প্রকাশ করতে গিয়ে একটা সিস্টেম লস হয়, কূহক/দুর্বোধ্যতা তৈরী হয়।" আপনার এই কথার সাথে আমি একমত ফাহমিদ ভাই, যদিও ওটা সিস্টেম লস কি না সে ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করার সুযোগ আছে। আর "পাঠক প্রশ্ন তুললেই নজরুলকে কোট করে পাশ কাটিয়ে যায়।"এর সাথে আমি একমত নই। এটাকে 'পাশ কাটিয়ে যাওয়া' বললে কবি ও কবিতা উভয়কেই অভিযুক্ত করা হয়। ফাহমিদ ভাই, ভাবুন তো, কবি পাঠকের সুবিধার্থে তাঁর কবিতার কোনো অংশের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, এটা কি আপনার কাছে যথেষ্ট ভালো ঠেকে, শ্লীল ঠেকে? সাধারণত এরকমটা ঘটে না, ঘটা সঙ্গত নয়ও মনে করি। তবে পাঠকের এ ধরনের কমেন্ট পরবর্তী কার্যক্রমের সময় কবি মনে রাখলে সে লেখাটির ক্ষেত্রে আবারো একইরকম অভিযোগ ওঠার সম্ভাবনা হয়ত খানিকটা কমে।আমি এ নিয়ে এত কথা বলতে পারছি, চাইলে ও নিয়ে কিছু বলতে পারব না তা তো নয়, কিন্তু আপনিই বলেছেন, 'মূষিক-পর্বত অংশটি একরকম বুঝেছি', তো এই-ই কি যথেষ্ট নয়? আপনি একরকম বুঝেছেন, অন্য একজন পাঠক অন্যরকম বুঝবেন, এটা কিন্তু সৃজনশীল রচনার, বিশেষ করে কবিতার একটা তাৎপর্যপূর্ণ দিক। কখনো কখনো এটি কবিতার শক্তিরও ইঙ্গিতবহ। নয় কি?
পাঠক হিসেবে আমি যখন অন্যের কবিতা পড়ি তখন আমি দেখি যে, সবমিলিয়ে আমার ভিতরে লেখাটি একটি উপলব্ধির সঞ্চার করতে পারল কি না, কোনো কোনো শব্দ-প্রতীকের মানে না বুঝতে পারলেও। যেসব মহান কবির কবিতা আমরা অবশ্যপাঠ্য বলে জ্ঞান করি, বহুপাঠের পরও তাদের কোনো কোনো কবিতার মানে কি আমাদের কাছে আজো স্পষ্ট? বিশেষ প্রয়োজন বোধ করলে আমরা আবারও তার মানে আবিষ্কার করবার চেষ্টা করি, প্রয়োজন বোধ না করলে উপেক্ষা করি।
সারকথা হলো, আমি আপনার প্রশ্নটি পাশ কাটিয়ে যাচ্ছি না, প্রশ্নটির ভিতরে থেকেই আপনার (পাঠকের) প্রতি সম্মানবোধে নীরব থাকছি। ধন্যবাদ।


















