আমার প্রিয় পোস্ট

প্রতিদিনকার চলা মমি করে রেখে যাই ওয়েবের পিরামিডে

বসন্তভ্রমণ

২২ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৫২

শেয়ার করুন:                   Facebook

বসন্তকালীন অপরাহ্ণে নদীর এপার-ওপার হচ্ছে ফাল্গুন মাস, পাশেই দু'টি বালকের মধ্যে ঢিল খেলা হচ্ছে বিস্তর, একজন নিচ থেকে ওপরে, ওপর থেকে নিচে আরেকজন, আমি দেখলাম নিচ থেকে ঢিল দেয়া বড়ো কঠিন কাজ, যে সূত্র সব সেক্টরেই কমবেশি প্রযোজ্য হতে পারে

এদিক দিয়ে নিশ্চয়ই পথ গড়ে উঠেছে বিকল্প কোনো, পাথরের উপরে দাঁড়িয়ে যে মহিলা চুটিয়ে করছে স্নান, ওকে জিজ্ঞেস করে দেখব কি পথ কোনদিকে, কেননা আটকে গেছি, বিশ্বজনের ব্যবহৃত জল আসছে ধেয়ে বর্জ্যপ্রণালিযোগে, বিশ্বজনের পানের কৌটো, বার্থকন্ট্রোল পিল, বিশ্বজনের পরিত্যক্ত গামছা ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, পুঁটিমাছ খলবল করে এখানেই বেশি, বড়শিঅলারাও তাই ড্রেনের কাছে থাকে বেশি বেশি, চারপাশে লাল লাল বসন্ত ছড়িয়ে আছে মাত্রাহীনভাবে, এর মাঝে পুঁটিমাছের সূর্যের সাথে খেলা করা দেখি আমি, আমারও বসন্ত বলে

আমি জলকে ছুঁয়ে দিতে পারি জল আমাকে পারে না, এই বাক্য সমুদ্র অভিধানে নেই, আছে শুধু নদী অভিধানে, পৃথিবীতে নদী আছে বুড়ো-হাবড়া যত, সার সার স্কেলিটন নিয়ে তার পাড় জুড়ে জড়ো করা আছে ঢের পরিহাস, ওটা কী গাছ তবু মড়া গরুর হাড়ের পাশে জন্মেছে নদীতে, পুঁটিমাছ জানা থাকলে বল, রোদে বসা ছিল আর মাত্র চলে গেল ওটা কি শঙ্খচূড় নাকি হেলুসিনেশন এই নারকেল বনে

মরানদে বুদ্বুদ বেশি ওঠে কাইক্বা মাছের এই কথা ভালো করে জানা, যেহেতু সে নদীবাসী, বালিহাঁসের যদি না-হবে ওটা তবে কীসের পালক, অত সাদা, আরেকটা ঝলক সাথে ওটা তবে কীসের পালক বলো উড়ে এসে পড়ল মাটিতে, পাশ দিয়ে চলে যাওয়া এই তবে বিকল্প পথ, খুরের দাগ দেখে ভ্রম হয় শেয়াল উদ্বোধিত, গাছালির ফাঁকে

একটি বালকের সাথে দু'টি বালিকা থাকা চলবে না, এ ঘোষণা নিয়ে যারা রাজপথ কাঁপাতে চেয়েছিল একদিন, কী জবাব দেবে তারা আজ নদীতীরে এসে, যেথা তিনটি মাত্র মেয়ে ঘিরে ছেলে হলো দু'দলে তিরিশ, টিজ করছে ওরা দলেবলে পালটাপালটি করে, এই ত্যাঁদড়গুলোর জন্যেই ঘটে নদীপারে অকারেন্স বহু, নিতিদিন, তবু এই টিজিংয়ের যতি টানা হবে না আমার, একা কেউ টিনএজ ঢেউয়ের সাথে পারে না পাল্লা দিতে, অস্তোন্মুখ সূর্যের প্রাণ কেড়ে নেয়া লালিমায়, গামছা ধোয়া জলেরও সাধ্যি নেই একথার অন্যথা বলে

অপমান জেনেও যারা সহজে হজম করে ছাইপাশ, তাদের দলবল বরাবর ভারী হয়, এদের থেকে দূরে লাল লাল ভরা ফাল্গুনে একা হয়ে থেকে যাওয়া ঢের ভালো, ফিরে আসি তাই, কিছু দেবার যদিও বাকি রয়ে যায় কিছুটা নেবারও, ফিরে আসি, কেননা ওইসব মুখরতা অর্থহীন বড়ো, মনেপ্রাণে মিশে যেতে পারি না যেসবে

যেখানে মুখরতা সেখানেই প্রাণ জানি, তবু, যেখানে নীরবতা সৃজন তো সেখানেই শুধু, আর নীরবতা মানে তো কেবল শব্দহীনতা নয়, মেডিট্যাড করা গেলে ভিড়ের মাঝেও নীরবতার সাথে ঘটে যেতে পারে এক জ্যান্ত মোলাকাত, নাতিশীতোষ্ণ, আমি জানি

ময়দানের হাওয়া

Image from: http://www.allposters.com

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): কবিতাকবিতা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: ময়দানের হাওয়া  বিভাগে ।

 

  • ৮ টি মন্তব্য
  • ১২৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২২ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১:০৩
comment by: শ্যাজা বলেছেন: আমি জলকে ছুঁয়ে দিতে পারি জল আমাকে পারে ন



... ... ...
২২ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:২২

লেখক বলেছেন: আসলেই পারে না।

২. ২২ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ২:১৫
comment by: আজহার ফরহাদ বলেছেন: ভালো লাগলো মুজিব ভাই। একটি অন্যরকম লেখা পড়লাম।
২২ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:২৪

লেখক বলেছেন: অন্যরকমই বটে।

৩. ২২ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৭:৫৬
comment by: শফিউল আলম ইমন বলেছেন: মুজিব ভাই বরাবরের মতই চমৎকার লেখা।
ভালো থাকুন।
২২ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:২৫

লেখক বলেছেন: ভালো থাকুন আপনিও।

৪. ২২ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:২৩
comment by: আলফ্রেড খোকন বলেছেন: মুজিব পড়লাম, ভালো লাগল খুউব।
২২ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৩৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

 



 


m.mehdy@gmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৫১৮৯৮