তেরহাট্টাবেলা
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৫
রয়েছি আতংকে আজ ফুরাবে প্রিয়তম বায়ু, যতনে রেখেছি যারে এতদিন না ফেলে না ছড়ে', দূর পরবাসে এসে মনে হলো অবজ্ঞা করেছি কিছু, প্রেমের নামে খানিক কামের আভাস ছিল
আজ যারা জীবন নামের খাঁচা বয়ে নিয়ে যথাসাধ্য দৌড়ে চলেছে, কারো কাছে এই পাখি হয়ত অদরকারি, হয়ত সাধনা নেই তাদেরও আমার মতো, মোম জ্বেলে কেউ কভু বসে নি গাছতলে, অমল ধবল এই রাতখানি আজ দেখি সহসা আঁধার, মনে হয় আর বেশি দেরি নেই, যেভাবে ফুরাচ্ছে দিন যেভাবে রজনী, তার চেয়ে দ্রুতপদ বিজলীও নয়
এই যত ভ্রমণের কস্তুরি কড়িফুল পথের পাশের থেকে কুড়িয়ে রেখেছি মনে, এই যত মানুষের রগড়ের ক্লেদমালা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, দেখে দেখে এতদূর আকাশে চড়েছি, আমাকে তাদের থেকে দূরে দেখে, বেজায় কৃপণ এক তালপুকুরের বাঁশি একাকী বেজেছে
নেই বলে স্বস্তিমালা নেই বলে নিরাপদ ক্ষণ, চোখ জোড়া বন্ধ করে বসে থাকি, মায়ায় জড়িয়ে কখন আসবে ভাবি একটি আশ্বাস, সামনে দাঁড়িয়ে বলবে দেখ, এ আমার যাবতীয় কেবল তোমার লাগি, আস চুমে দেই চুদে দেই, খেলায় খেলায় মেতে পার করি তুচ্ছ এ জীবন, হেসে হেসে, তবু যে একলা এলে এই মতো অচেনার পাড়া, মাটির ওজনে যদি তোমাকেও গুলে নেয় ওরা, কী আর করবে তুমি, কোথায় দাঁড়াবে শেষে গিয়ে, সস্তা কার গায়ে মাখা সাবানের পাশে
ওরা যে পাতার বাঁশি ডেকে নেয় সুর দিয়ে, বলে বসো, আমি কী তার চেয়ে সুর তাল কম জানি, আমি কি খেয়াল জমিয়ে রেখে তানপুরা আকাশে তুলি না সুরে সুরে, আমার সেতার শুনে তারাই বাহবা বলে, সেতারের বাজনাটা যারা যারা শুনেছে জীবনে
দড়াম হাওরের এই জটলাগা ভূয়ে, জয়শ্রীপাড়ায়, যত ভুখাদের মুখের দিকে চেয়ে থেকে ভাবি, কোনো এক আফালের দিনে, পাশে এসে দাঁড়ানো না গেলে ভরা বর্ষায়, জলের কী রীতি হয়, ঢেউয়ের কী হুংকার বাজে বিশাল আকাশে উঠে, আমি তার কিছুই পাব না খুঁজে, এই যে আপদমালা এই যত ভাসা পানি, নদীবিধৌত যত বানটান, গভীর খরার কোনো বেয়াড়া মৌসুমে যদি কেউ না দাঁড়ায় পাশে, এইসব মক সেশনের তবে আসলেই মানে নেই কোনো
শুধু শুধু কিছুক্ষণ গলাবাজি হলো, কিছুটা বা আঙুলবাজিও, কোথাও ফুটে নি তবু রূপ, এতসব কথামালা, টানে নি ধরে কোনো অর্থের সূতো, সহসা দেখানো হবে বুড়ো কোনো আঙুলের চূড়া, যদিবা কেউ এসে দেখে এই খেল মনোযোগে, তবু এ জার্নিটুকু রয়ে যাক চুপচাপ, সে কবির শ্মশ্রুর সফেদ বরণ আমায় বেঁধেছে প্রাণান্ত করে, ভুল বুঝে সকলেই তাকাবে অদূর বোলে, অথচ কাছেই ছিল সূত্র একখানি, তার চেয়ে দীর্ঘদেহী হয়তবা হবে
দেখনদারিটা আজ জমেছে বেজায় দেখি, দেখনদারি, গুণবিচারের বলে কেউ যদি একদিন এইমতো বলে বসে, আমার খানিকখানি শান্তি রয়েছে, আরো একদিন আরো ম্যালাদিন, এইমতো করতে পারি যদি, তবে জানি তেমন এক রঙমাখা রোদ, খেলে যাবে আমার ভিতরে, আর জেনো এই রোদ হাওর বেলার, এই রোদ নদীপরিবেশে, ধূসর রঙের চেয়েও স্বচ্ছ কোনো বেদনা ধরেছে বুকে
সরাতে হবে মায়ার এ পরশ, যেখানে রয়েছে জেগে নাশপাতি বেলা, আহারে কথার মানে, আহারে কথার মানে চুরমার হয়ে যায় মানুষে মানুষে, যেভাবে বদলে যায় রূপারূপ মানুষের হাতে, চোখে মুখে, পাখিবেলা দেখা যাবে পাখিদের সাথে, কী করি এর চেয়ে বসে বসে, ঘুমিয়েই কবিতার স্তন আজ ছোঁব, বাতাসী আকাল দিনে এইমতো সুখান্ধকারে
তোমাদের সাথে মিলে যেই কথা বলি, সেই কথা আমি একা বলেছি নিজের থেকেও, এটা তবে প্রভাব পাখির গান, আমি যদি তেমন না জানি খেলা, খেলব কেমনে তবে, ঝড়োরাতে দূরপরবাসে, তবু এই তেরহাট্টাবেলা, তেরটা সুরের রশি টেনে ধরে, কোনোদিকে একা একা হাঁটতে লেগে যাব, লেগে যাব হয়ত-বা জানপ্রাণ দিয়ে
Artwork of Diana Ong from http://www.allposters.com/
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): উভলিঙ্গ রচনা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: কথাকলাবিদ্যার নর্তনকুর্দন বিভাগে ।
বিডি আইডল বলেছেন:
এটি কি কবিতা?? মাথার উর্পে দিয়া গেছেগা
লেখক বলেছেন: আমি তো এটিতে 'উভলিঙ্গ রচনা'র ট্যাগ লাগিয়েছি। আপনার কী মনে হয়!
দুঃখিত, মাথার উপর দিয়া যাওয়া ঠেকানোর কোনো কবিরাজি আমার জানা নেই।
লেখক বলেছেন: বাহ, আপনি দেখি দুই-দুইটা লিঙ্গই ছুঁয়ে দিয়েছেন। চাল্লু পাঠক।
আসাদুজ্জামান তাপুশিকদার বলেছেন:
চমৎকার গভীরতাপূর্ণ কবিতা পড়ে ভাল লাগল অনেক।
অগ্রীম ঈদের শুভেচ্ছা রইল।
লেখক বলেছেন: ওরেব্বাস, গভীরতা...!
হয়ত আছে, মাঝে মাঝে আমিও থই পাই না। লিখতে লিখতেই অনেকবার গলাঅব্দি ডুবে গেছি। ধূলিঝড়ে, জলোচ্ছ্বাসে, কুয়াশাপ্রবাহে...
লেখক বলেছেন: শাসন কি করতে পেরেছি আদৌ!
এত কথা দেখে মাঝে মাঝে সংশয় হয়, খুব বেশি বকবক হয়ে গেল বুঝি।
বিগব্যাং বলেছেন:
বিডি আইডল কি নিতম্ব রেষ্টে থাকলে আরাম পাও না? কদিন আগেই তো পাবলিকে তোমারে নফল পু্্নী দিলো...
লেখক বলেছেন: বিগব্যাং তো দেখি বিডি আইডলকে বিগ জিনিসের ভয় দেখিয়ে দিলেন!
মাছরাঙ্গা বলেছেন:
মন ভরেনি। খোরাকি মেটাতে হলে আরো বহুদূর হাঁটতে হবে যে ! এ ভারী অতৃপ্তি !
লেখক বলেছেন: জানেন তো, কাউকে তৃপ্ত করা যায় না, তৃপ্ত হতে হয়।
সেক্ষেত্রে তো আমি মুক্ত, কী বলেন?


















