somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালো-লাগা মন্দ-লাগার অনুভূতিটা চক্রক্রমিক

১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অচেনাকে উন্মোচনের আকৈশোর বাসনা তার, অরণ্যের, খতিয়ে দেখতে চায় ভেতরে কী আছে আড়ালে-আবডালে, কোন অন্ধকারে লুকানো কোন সুর, ছবির মহিমা, কাব্যবীজ, অচেনার উরু-জঙ্ঘা-স্তন কেমন ধাতুয় নির্মিত, কতটা সুসহ-- তার এ আচ্ছন্নতার কথা অনেকেই জানে, অথচ এ চেনা জগৎ-প্রতিবেশ থেকে সটকে পড়বার চমৎকার এক সুযোগকে হাতের কাছে পেয়েও তার এরকমভাবে নেতিয়ে যাবার কারণ আবিষ্কার করতে না পেরে, রাহা নিজেই একটু রহস্যময় ও অচেনার ব্যঞ্জনা ধারণ করে সামনে এসে দাঁড়ায়, সে ভাবে অন্যকথা, নিজের বাগানে চেয়ে, এই যে আমি, রাহা, আলোর খাপে যে আটকাই না, সতত প্রবহমাণ ও ঔজ্জ্বল্যসঞ্চারী, তার মোহে জগতের সমস্ত প্রজাপতি একদিন ওড়া ভুলে কাঁধের ভূগোলে এসে যদি বসে যায়, তো বিস্ময় মানবে কে

রাহা ওকে জানে, অরণ্যকে, কালো-কালো বনতিলক ওর শরীরের সৌরভ বাড়াতে যেমন মগ্নতাচারী, সে ওর মনোরঞ্জনে নিজেকে খুলে রাখে তেমনি নিষ্ঠ-নিবিড়তায়, জানে বিকশিত সবুজকে সংরক্ষণ করতে হয় বলেই নয়, বরং তারও অধিক পরিযায়ী পাখিদের জননবেদনা বিষয়ক কিছু চিন্তাজালে অরণ্যকে জড়িয়ে থাকতে হয় রাতদিন, ষড়ঋতু ব্যাপে, তার কোনো অবসর নেই, একটা মুহূর্তে হয় বনঘুঘু ডাকছে না ঠিক কিন্তু পাতা ঝরছে অথবা অন্যকিছু, বাতাস বইছে, রোদ উঠছে, অতএব একটা-না-একটা ব্যস্ততা তাকে জড়িয়ে থাকেই, এর মধ্যেও তার বেরিয়ে পড়বার শখ পরিচিত পরিসর ছেড়ে, সে কেবল এজন্যে যে অচেনাকে চেনা হবে, তার ডাকনাম, প্রিয়-অপ্রিয় জানা যাবে, রূপ-বৈভব দেখা হবে, কিন্তু এত যার আকাঙ্ক্ষা, ক্ষুধানিবৃত্তির সমস্ত উপায়-উপকরণ কোনোভাবে যদি ধর্তব্যের মধ্যে এসেই যায় তার, তবে কেনই-বা একজনের বিপরীতাগ্রহ হবে, এতবড়ো রহস্যের সম্মুখে রাহার আর পড়তে হয় নি জীবৎকালে, সে জেনেছে একটা শিশু যদি খেলতে চায় তাকে কোলের বন্ধন থেকে মুক্তি দিলেই সে খুশি হয়, বন্দি পাখির যখন উড়বার সাধ হয়, তখন খাঁচার দ্বার খুলে দিলেই সেটা প্রসন্ন হয়, কিন্তু এখানে, অরণ্যের বেলায়, এত কী ব্যতিক্রম ঘটেছে যে, তার সারাজীবনের বেরিয়ে পড়বার ইচ্ছা ও চেষ্টাকে সম্মান দেখিয়ে, অচেনা উৎস থেকে আসা আহ্বানে সাড়া না-দিয়ে বরং বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠি দেখাচ্ছে, নীরবে মুখভার করে আছে মেঘমহল্লার থেকে বৃষ্টিদের আমন্ত্রণ করে এনে, কী এমন ঘনীভূত রহস্য অরণ্যের মাঝে রয়েছে যে, সে এ ভেজা অন্ধকারেও বিস্ময় নিয়ে চেয়ে আছে

রাহা তার খেয়াল থেকে সাড়া লাভ করে, আস্তে-সুস্থে পরিকল্পনাটা বাগিয়ে নেয়, তারপর অরণ্যের সামনে একটা পছন্দমতো অবস্থানে দাঁড়িয়ে স্লো-মোশানে নিজেকে ক্রমশ বিবস্ত্র করে দিতে থাকে, সে দ্রৌপদী নয় যদিও, কারণ তার বস্ত্র অন্য কেউ নয়, হরণ করছে সে নিজেই, কোনোরূপ শব্দসমারোহ নেই, ঠোঁটে-মুখে কোনোই বিকার নেই, চোখ দু'টো গভীর কিছু পর্যবেক্ষণে রত, এ অর্থে যে, সে ইতোমধ্যে যে পরিকল্পনাটা এঁটেছে এবং পরিকল্পনামাফিক যে কর্মটা সে সারছে, তাতে প্রত্যাশিত ফলাফলটা আয়ত্তে আসছে কি না, অথবা এই ঘটনায় অরণ্য কীভাবে সাড়া দিচ্ছে

অরণ্য স্থির নিশ্চিত যে তার সামনেটা অন্ধকার, অঙ্কের হিসেব, কাজেই নড়চড় হবার কথা নয়, কাব্যের কল্পনাবিলাসিতা গণিত কোনোদিন টলারেট করে না, গণিতবিদেরা নিজেরা ভেতরে-ভেতরে কল্পনাবিলাসী ছিলেন এরকম হতে পারে, কিন্তু সূত্র আবিষ্কারে ভেতরকার সে কল্পনাবিলাসিতাকে প্রত্যক্ষভাবে কাজে লাগিয়েছেন এরকম ভাবা যায় না, যেহেতু দুয়ে দুয়ে চার না-লিখে পাঁচ লিখলেও কাব্যের সম্ভ্রমহানী ঘটে না কিন্তু গণিতের ঘটে, তো সামনে যদি নিশ্চিত অন্ধকার, তবে কী এমন দায় তার যে তাকে বেরোতেই হবে, যেখানে বাস তার সেখানটাও আলোময় নয়, কোনোদিন ছিল না এ ডালপাতাদের ভিড়ে, কিন্তু এখানে আর যাই হোক রাহা আছে, তার অন্ধকারের অবলম্বন, তাকে ছেড়ে এই ঘুটঘুটে পথে নেমে কী এমন রত্ন মিলবে, যা তার এরকম বোকামির ঘাটতিটাকে পুষিয়ে দেবে, তার ওপর ব্যাপারটা যেখানে নিশ্চিত যে সামনে অন্ধকার, নিশ্চিতি-অনিশ্চিতি ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার ত্রুটি থাকতে পারে না, কেননা গণিতটা সে কমবেশি বোঝে, যতটা বুঝলে তেলটা-নুনটার হিসেবে কোনোদিন আটকাতে হয় না, ততটা গাণিতিক জ্ঞানই এ হিসেবের জন্যে যথেষ্ট, অতএব সে যাবে না, অচেনারা যে পাড়ায় থাকে, সেখানের তালগাছগুলো কেমন লম্বা, স্নানঘাটগুলো কেমন পরিচ্ছন্ন, এসব জানার জন্যে তাকে আরো কিছুকাল অপেক্ষা করতে হবে, অন্তত কদিন স্থির থেকে দেখে নিতে হবে, নিশ্চিত যে অন্ধকারটা ফণা তুলে আছে, তার ধৈর্যচ্যুতি ঘটল কি না

রাহা এখন সম্পূর্ণ দিগম্বর তার শূন্যতম জন্মদিনের মতো, দু'পা ফাঁক করে সে নিঃশব্দে বসে গেল অরণ্যসকাশে, অরণ্য দেখল তার স্তন-যোনি-নিতম্ব সব কুৎসিত, ঘোর অন্ধকার, কালো, ভয়াবহ-- এগুলো এত চেনা ও ব্যবহৃত যে তার ঘেন্না ধরল, বিবশ চোখ দু'টো মুদে গেল এবং সহসাই জ্বলে উঠল আলো, চোখ বন্ধ করলে সামনে অনেকদূর পর্যন্ত দেখা যায় সমুদ্র ও পাহাড়ের ঢাল, অরণ্যও দেখল, অচেনারা সবাই পথ আলো করে দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে, কেউ সেখানে নিবস্ত্রা নয়, রহস্য ঘনীভূত সেসবের শ্রী-অবয়বে, লোভাতুরা হাতছানি যেন, অরণ্য ভেবে ওঠে সুপারসনিক বেগে, এ রহস্যসমুদয় জানতে হবে, রাহাকে হয়েছে জানা, এবার অন্যে যাব ভবিষ্য আলোয়, সামনেই সিদ্ধি, বিড়বিড় করে উঠে দাঁড়ায় সে, চোখ মেলে এবং বাক্সপেটরা সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে অচেনার পথরেখা ধরে

রাহার এ সাফল্য তাকে তার যোগ্যতা সম্পর্কে আরেকটি নিশ্চিতি দেয়, নিজের প্রতি তার আস্থা বাড়ে, তার দরকার ছিল অরণ্যকে ঘরের বাইরে নেয়া, কেননা সে ভালোবাসে তাকে, এবং সে জানত যে কেবল এভাবেই তাকে রাজি করানো সম্ভব, এ সাফল্যে সে খুব খুশি হয়, সে নিশ্চিত যে, অরণ্য একদিন অচেনাকেও চিনে নেবে, ও তখন তাদেরও অপছন্দ করবে এবং ফিরে আসবে পুরানোয়, তার বুক জুড়ে, যেখানে ততদিনে অগেয় গীতসমেত অজস্র না-চেনা রহস্যপাখি জড়ো হবে দূরে থাকার সুবাদে, তার নিজস্ব অলিগলি ভরে উঠবে চাপ-চাপ সুস্বাদে, না-চেনা রহস্যপাখিদের এই অগেয় গীতসুধা পানতৃষ্ণায়ই অরণ্য সেদিন আবার তার হবে, রাহা জানে

Attached Image: Circle in a Circle by Wassily Kandinsky from http://www.allposters.com/
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৪৭
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×