somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... অতি ক্ষুদ্র গল্প : তৃতীয় কিস্তি প্রথমদ্বিতীয় কিস্তিতে মোট ২০টি (১০+১০) গল্প পোস্ট করা হয়েছিল। এ কিস্তিতে আরো ১০টি পোস্ট করা হলো। গল্পগুলো WIRED ম্যাগাজিনের মুদ্রণ ও ওয়েব সংস্করণ থেকে নেয়া।

স্বর্গেরও পতন হয়। বিস্তারিত ১১-এ দেখুন।
রবার্ট জর্ডান

তিনি তার মৃত্যু সংবাদ পড়লেন স্বীকারোক্তিসহ।
স্টিফেন মেরেজোকি

হারানো, আবার খুঁজে পাওয়া। খুব খারাপ।
গ্রেইমি জিবসন

তবে সে তৃতীয়বারের মতো চেষ্টা করেছিল।
জেমস পি ব্লে লক

লেখাটায় শব্দ খরচ হয়েছে মাত্র ছয়টা।
গ্রিগরি মেগোইরি

টেনে আলখাল্লা খোলা হলো। প্রধান, ক্রমশ মলিন।
জন হোয়েডন

আমি মৃত, তোমার কথা মনে পড়ছে খুব। ...চুমো ?
নেইল গেইমান

ডরোথি বলল, গুল্লি মারি, আমি এখানেই থাকব।
স্টিফেন মেরেজোকি

আমি বিশ্বাস করতে পারি না যে সে আমায় গুলি করতে পারে।
হাওয়ার্ড সায়কিন

আমরা চুমালাম, সে গলে গেল। এবার ঝেঁটাও।
জেমস পেট্রিক কেলি]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28877023 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28877023 2008-12-02 00:52:30
অতি ক্ষুদ্র গল্প : দ্বিতীয় কিস্তি অতি ক্ষুদ্র গল্প : প্রথম কিস্তি তে ঢুঁ মারলেও মারতে পারেন।

মহাশূন্যে সংঘর্ষ, কক্ষসমূহ বিদীর্ণ, বিদায়, ভালোবাসা।
ডেভিড ব্রিন

বুশ সত্য বলল, নরক ঘনীভূত হলো।
উইলিয়াম গিবসন

ইরাকে গিয়ে ফিরেছে প্রতি তিনজনে একজন।
গ্রেইমি গিবসন

এটায় চলবে (অলস লেখক শুধালেন) ?
কেন ম্যাকলিওড

আমরা সীমা অতিক্রম করলাম, তারা আমাদের মেরে ফেলল।
হাওয়ার্ড ওয়ালড্রপ

লেইয়া : বাচ্চাটা তোমার। লিউক : দুঃসংবাদ।
স্টিভেন মেরেজোকি

তার পুরুষাঙ্গ ভেঙে গেছে, সে এখন গর্ভবতী।
রাডি রাকার

বাঁচাও! পড়েছি পাঠাভিযানের ফাঁদে!
মার্ক লেইডলো

শিশুর রক্তের ধরন ? প্রায়শ মানবসুলভ।
ওরসন স্কট কার্ড

সময়সীমা শেষ, পাঁচ শব্দ যথেষ্ট...?
ডেভিড ব্রেইন

Image from: http://www.devanchire.com/in-memory.htm]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28875174 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28875174 2008-11-28 00:52:43
অতি ক্ষুদ্র গল্প : প্রথম কিস্তি
বিষয়টি হঠাৎই নজরে এলে আমি বিশেষভাবে চমৎকৃত হই। সাহিত্য নিয়ে কত বিচিত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষাই না হচ্ছে পৃথিবী জুড়ে। ছয় শব্দেও গল্প, তারও আবার বিশেষ সংখ্যা। মনে হলো লেখাগুলোর কয়েকটি রূপান্তর করবার চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে। আমি দেখতে চাচ্ছিলাম, শব্দের সীমাটা ঠিক রেখে বা না-রেখেও বাংলায় কোনো রূপ ফোটানো আদৌ সম্ভব কি না, এবং যদিবা সম্ভব হয়ও তবে ফুটে ওঠা রূপটা পাঠককে আক্রান্ত করতে পারে কি না। বলাই বাহুল্য, আমি প্রায়ই শব্দসীমা ঠিক রাখতে পারি নি। তার সবটা অবশ্য আমার রূপান্তরে অক্ষমতার কারণে নয়, কিছুটা বাংলায় অর্থময়তা রক্ষার চেষ্টা এবং কিছুটা যোগাযোগের চেষ্টা থেকেই ওরকম করা হয়েছে। জানিয়ে রাখা ভালো, WIRED লেখাগুলোকে চিহ্নিত করেছিল Very short story হিসেবে। আমি বলছি অতি ক্ষুদ্র গল্প। মোট তিন/চার কিস্তিতে রূপান্তরিত গল্পগুলো বাঁধ ভাঙার আওয়াজ-এ উপস্থাপিত হবে। আজ দেয়া হলো হার্ড ভার্সনে অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো থেকে মোট ১০টি।

মানুষ থাকার খরচ অনেক।
বুশ স্টারলিং

সমাধিলিপি : বোকা মানুষ, পৃথিবী থেকে পালাতে পারে নি।
ভারনর ভিঞ্জ

ওটা তোমার পেছনে! আগে ছোটো।
রকনে এস. ও'বেনন

মুজিব পূর্বে কখনো পায়ের আঙুল খায় নি।
কেভিন স্মিথ

মানবিকতা রক্ষার্থে তিনি আরেকবার মরেছিলেন।
বেন বোভা

তাকে বিয়ে করো না, বরং একটা বাড়ি কেনো।
স্টিফেন আর. ডোনাল্ডসন

খুবই সহজ, কেবল দিয়াশলাই স্পর্শ কর।
উরসুলা কে. লি গুইন

কেঁদো না সোনা, আমি তোমার ভবিষ্যৎ।
স্টিফেন বেক্সটার

তাকে পাবার আকুলতা। পাওয়া। ছি!
মার্গারেট এটউড

১৯৪৩। যুবক হিটলার। ধর্মসংগীতের মহাগুরু।
মিখাইল মোরকক

Image: Grave Marker header from http://www.iwm.org.uk]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28874606 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28874606 2008-11-26 23:09:55
হৃদ্গভীরের শিলালেখ তীরের ফলায় গাঢ় রঙের যোগান দিতে জীবিত ছিলাম
চকমকি পাথরের গায়ে যে অগ্নির দ্যুতি
সূচাগ্র চূড়ায় তার মিশেছিল সৃজন-উল্লাস

কস্তুরী মৃগের নেশায় যতটা হেঁটেছি পথ
ন্যূনতাই এঁকেছি দেয়ালে তার গুহায় গুহায়
আর ঘোর এসে যখন জাপটে ধরে পঞ্চেন্দ্রিয়
এবং ষষ্ঠসমেত সৃজনবিন্দুকে
তখন নারীর অধিকার মার খায় দিকে দিকে
যে-কারণে নারী আসে বেঁকেচুরে অসম্পূর্ণতায়
অথচ যায় না গ্রহণ করাও তাকে
প্রচুর গ্রহণ-অসমর্থ্য শুধু চি-চি
ফাঁকা কথার আধারে তত চিড়েও ভেজে না

কোথাও তখন দেখি উন্মাদনা নেই
কুসুম পালক নেই
রাতের নয়ন জুড়ে শ্রান্তঘুম দ্রুততর নামে

অতর্কিত এক অভীপ্সায় বেঁচে থাকা প্রলম্বিত হয়
তারই ছাপ মুদ্রিত গভীর গুহার দেশে
এতদিনে কতটা বা খুঁজে পেলে তার--
বেড়ে ওঠা গানের গভীর থেকে
স্বপ্ন-আল্পনাঘন অধীর যাপনের লীলায়িত রেখাবলি
সারে সারে পাথর মধুর করে মহীয়ান হয়--
আমার হৃদ্গভীরেও এর বেড়েছিল সহস্র শেকড়

Attached Image: Male and Female Deer, Magdalenian School, circa 13000 BC (Cave Painting), from http://www.allposters.com/
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28872418 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28872418 2008-11-22 01:48:39
ভীতি-সংশয় আর তাদের অনায়ত্ত ছানাপোনারা শুভযাত্রা আগলে দাঁড়ায়
তবু তাপ আসে মেতে ওঠবার কঠিন কালের ঘাড়ে চেপে, তথ্য-অতথ্যবিস্ময় ঘিরে পাতা থাকা আড়ি ভেদ করে, কস্মিন সন্ধ্যায় এরকম আর কবে ঘটেছিল খুঁজে দেখি, রোদের আগল খুলে কবে বের হয়েছিল আমোদের শাক, গরম ভাতের সাথে-- এই যে পাঠবস্তুহীন বড়ো আজেবাজে রাত পুকুরপঞ্জরে নামে স্নানে, পঙ্কআয়না ঘিরে সুললিত অমরাকে এঁকে রাখে ঝাঁপসা ঘোলাটে, যেখানের ঘোরগুলি অবজ্ঞায় মরে পড়ে থাকে

অকৃত্রিমতাকে যখন প্রশ্নার্ত হতে হয় অকাম্য সে স্থানে কারো অপেক্ষার প্রশ্নই আসে না, কে ওদের বোঝাবে যে ধ্যান হলো মহার্ঘ্য অতি, এটা হলো ভিতর দিক থেকে এক ধরনের জেগে ওঠা, সব শ্রুতিগ্রাহ্যতাকে দৃষ্টিগ্রাহ্যতার সীমায় এনে দাঁড় করিয়ে দেয়া এবং দৃষ্টিগ্রাহ্যতাকে শ্রুতিগ্রাহ্যতায়-- সবার ভাবনাচূড়ায় সুগন্ধি পুষ্পেরা ফোটে না, বয় না আঙিনা জুড়ে সুমন্দ হাওয়া, বোঝে না যে কবিকে কিছু বিচিত্র সময় চৌচির রাত উপহার দেয়া-থোয়া মন্দ নয়

যেরকম প্রস্তুতি থাকে হয় না সেরকম কোনোকালে, প্রস্তুতিকে ঘিরে মন যেরকম ক্রিয়াফল প্রত্যাশিত জানে, তার কম-বেশি নসিব হলে একটি মামুলি শব্দও গূঢ়ধ্যান ভেঙে দিতে পারে, একথা তখন ঠিক বলে দেয়া যায় যে এ পোড়াবাজারে একটি চুলের ঝরে যাওয়াও কম কিছু নয়, যারা এটা নিয়ে ধুমসে মজা করে তাদের ধুনে তুমি এরকম অঙ্কেরই ল্যাঠা দিও হে প্রভুপ্রকৃতি--

এরকমও কেউ কেউ ভাবে যে করে দেবে দীনলীন, নানারঙ অনুমান ফাদে বিবিধ আঙ্গিকে, নানা ঘরানার ছবি এঁকে নিজস্ব বিভ্রমজালে নড়েচড়ে বসে, মহিমাই বাড়ে তাতে মহিমাই বাড়ে, রাত তিনটা শুনে চমকে ওঠে একজন, তার বিস্ময়মাখা চোখের দৈর্ঘ্য আঁকতে চাওয়া হলে যতখানি ধৈর্য্য লাগে ততখানি আপাতত এখনো পারি না

মাথার ওপর দিয়ে হাঁটাহাঁটি করে যারা শ্রেণিরেলে, ওদের কী মনোভাব জানা থাকা ভালো, আঁকতে ধরতে আমি সেটাকেও চাই, তুলে এনে বুনে যেতে চাই কিছু কাগজে কলমে, এটা ঠিক আঁকা হলে, অতগুলো মানুষের মনোভাষ ছায়া, বিশালায়তন এক কাব্য করা হয়

এটা কি চিড়িয়াখানায় রাখা মানুষখেকোর কোনো খাঁচা, বিশাল থাবার ভয়ে দূর থেকে উঁকিঝুঁকি, আর শুধু রিউমার চারিদিকে, দিনে দিনে ঘটনার কিছুটা তো বদলায় তাতে, জন্মায় অঢেল ভঙ্গিরা দেখার, যখন মনে হয় না স্থির বলে কিছুকেই, বারেবারে প্রহসন চোখে পড়ে যে-বেলায়, তখন বেরিয়ে যাওয়াও আরো বিপদকে ডেকে আনা

এ শহর দুর্ভাগা চেনে না সৌভাগ্যের বরপুত্র ছাড়া, নতুন নতুন লোক আর ভিড় শুধু, কোলাহল হৈচৈ করে, এর মাঝেও উপলব্ধিতে সহজে যা না আসে তাকে ধরে আনা আর সঘন উল্লাসে রূপ দিয়ে বুকে বেঁধে সযতনে হাইব্রিড কথাজাল বুনবার শক্তি দাও, রূপজলে ধুয়ে ধুয়ে আলোর পশর, রূপদর্শী এসেছে যারা পৃথিবীতে, তারা অনেক বেশি নিজেদের বুঝোমন ভাবে, তবু শীত আর শীত মিলে কাঁপাচ্ছে হাত, দাঁত পাটি লাগে দাঁত পাটিরে

অযথাই ঠিকানা হদিস, যেন স্থাননাম মোটাদাগে ইমেজের রূপায়ণ সুনির্দিষ্ট করে রাখে, লোকজন এত রদ্দি আহা, তাকে নিয়ে আরো আরো কাব্য বিরচন করাই তো যেতে পারে, ওগো পাড়াপ্রধানেরা সতর্ক প্রহরী দিয়ে রুখো যতটাই, এ পাড়ায় আরো বেশি দেখবে চাঁদেরে, আচারে ও ব্যবহারে এতটা বৈচিত্র্য দাগানো যে এটাই সম্ভব ছিল, এটাও এক ক্রিয়ারীতি বলে কতজন আসে আসে, কতজন আসি আসি সকলেই ফিরে যায় শেষে

কবিকে নিরিখ করা পদার্থবিজ্ঞানভাষে কোনো কাজ নয়, কী করে কাজের বস্তু হব তবে, কী এমন যোগ্যতা অর্জিত হলো হাজারে হাজারে ব্যর্থ রচনার খসড়া করা ছাড়া, দিক-বিদিকের যত অঢেলতা তার প্রতি সমীহকে জি'য়ে রাখতে দেহ ও মনকে নিয়ে ফেলে রাখি ঝুঁকিঘরে, ভয়ানক লোকদেখা খেলি, লোকদেখা খেলে খেলে আজ এই লোকেদের পরিমেলে ডিম মামলেট খেতে গিয়ে পরোটার সাথে লাগে দুর্ঢিলে গিঁট

Attached artwork: Forms of Fear by Diana Ong from http://www.allposters.com/]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28870933 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28870933 2008-11-18 23:52:55
নিসর্গ ব্যানার্জি
শ্যাওলাবিব্রতিসহ সমস্ত ছাল-বাকল ছাড়িয়ে একটি নদীকে জাগাব, এহেন সিদ্ধান্তে দেখ পুনরুত্থানের মতো মাথা উঁচিয়েছি-- দুই পা আমার দুই ভুল কুমিরের মুখে, সতত নিচের দিকে টান, হাতির শক্তিতে তবু দুমড়ে-মুচড়ে যাব, মাহুতের প্রেমে তুমি শুঁড় ধর শুধু

যেতে যেতে বহুকাল গেছে, এ বেলায় জেনে নেই বাহারি সৌরভ, আনুপূর্ব ছুঁয়ে-ছেনে বুনোকুসুমের, দিনে দিনে না-হয় পরে তুরীয়ানন্দে যাওয়া যাবে, বেশি নয় একটিই দারুণ খায়েশ, কোনো এক আরণ্যসন্ধ্যায় ঠিকঠাক তোমাতে আরূঢ় হব, নিসর্গদি

The Athenaeum by Asher B. Durand (An American Hudson River School Painter, 1796-1886) from http://www.the-athenaeum.org

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28859686 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28859686 2008-10-25 22:17:07
ভালো-লাগা মন্দ-লাগার অনুভূতিটা চক্রক্রমিক
রাহা ওকে জানে, অরণ্যকে, কালো-কালো বনতিলক ওর শরীরের সৌরভ বাড়াতে যেমন মগ্নতাচারী, সে ওর মনোরঞ্জনে নিজেকে খুলে রাখে তেমনি নিষ্ঠ-নিবিড়তায়, জানে বিকশিত সবুজকে সংরক্ষণ করতে হয় বলেই নয়, বরং তারও অধিক পরিযায়ী পাখিদের জননবেদনা বিষয়ক কিছু চিন্তাজালে অরণ্যকে জড়িয়ে থাকতে হয় রাতদিন, ষড়ঋতু ব্যাপে, তার কোনো অবসর নেই, একটা মুহূর্তে হয় বনঘুঘু ডাকছে না ঠিক কিন্তু পাতা ঝরছে অথবা অন্যকিছু, বাতাস বইছে, রোদ উঠছে, অতএব একটা-না-একটা ব্যস্ততা তাকে জড়িয়ে থাকেই, এর মধ্যেও তার বেরিয়ে পড়বার শখ পরিচিত পরিসর ছেড়ে, সে কেবল এজন্যে যে অচেনাকে চেনা হবে, তার ডাকনাম, প্রিয়-অপ্রিয় জানা যাবে, রূপ-বৈভব দেখা হবে, কিন্তু এত যার আকাঙ্ক্ষা, ক্ষুধানিবৃত্তির সমস্ত উপায়-উপকরণ কোনোভাবে যদি ধর্তব্যের মধ্যে এসেই যায় তার, তবে কেনই-বা একজনের বিপরীতাগ্রহ হবে, এতবড়ো রহস্যের সম্মুখে রাহার আর পড়তে হয় নি জীবৎকালে, সে জেনেছে একটা শিশু যদি খেলতে চায় তাকে কোলের বন্ধন থেকে মুক্তি দিলেই সে খুশি হয়, বন্দি পাখির যখন উড়বার সাধ হয়, তখন খাঁচার দ্বার খুলে দিলেই সেটা প্রসন্ন হয়, কিন্তু এখানে, অরণ্যের বেলায়, এত কী ব্যতিক্রম ঘটেছে যে, তার সারাজীবনের বেরিয়ে পড়বার ইচ্ছা ও চেষ্টাকে সম্মান দেখিয়ে, অচেনা উৎস থেকে আসা আহ্বানে সাড়া না-দিয়ে বরং বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠি দেখাচ্ছে, নীরবে মুখভার করে আছে মেঘমহল্লার থেকে বৃষ্টিদের আমন্ত্রণ করে এনে, কী এমন ঘনীভূত রহস্য অরণ্যের মাঝে রয়েছে যে, সে এ ভেজা অন্ধকারেও বিস্ময় নিয়ে চেয়ে আছে

রাহা তার খেয়াল থেকে সাড়া লাভ করে, আস্তে-সুস্থে পরিকল্পনাটা বাগিয়ে নেয়, তারপর অরণ্যের সামনে একটা পছন্দমতো অবস্থানে দাঁড়িয়ে স্লো-মোশানে নিজেকে ক্রমশ বিবস্ত্র করে দিতে থাকে, সে দ্রৌপদী নয় যদিও, কারণ তার বস্ত্র অন্য কেউ নয়, হরণ করছে সে নিজেই, কোনোরূপ শব্দসমারোহ নেই, ঠোঁটে-মুখে কোনোই বিকার নেই, চোখ দু'টো গভীর কিছু পর্যবেক্ষণে রত, এ অর্থে যে, সে ইতোমধ্যে যে পরিকল্পনাটা এঁটেছে এবং পরিকল্পনামাফিক যে কর্মটা সে সারছে, তাতে প্রত্যাশিত ফলাফলটা আয়ত্তে আসছে কি না, অথবা এই ঘটনায় অরণ্য কীভাবে সাড়া দিচ্ছে

অরণ্য স্থির নিশ্চিত যে তার সামনেটা অন্ধকার, অঙ্কের হিসেব, কাজেই নড়চড় হবার কথা নয়, কাব্যের কল্পনাবিলাসিতা গণিত কোনোদিন টলারেট করে না, গণিতবিদেরা নিজেরা ভেতরে-ভেতরে কল্পনাবিলাসী ছিলেন এরকম হতে পারে, কিন্তু সূত্র আবিষ্কারে ভেতরকার সে কল্পনাবিলাসিতাকে প্রত্যক্ষভাবে কাজে লাগিয়েছেন এরকম ভাবা যায় না, যেহেতু দুয়ে দুয়ে চার না-লিখে পাঁচ লিখলেও কাব্যের সম্ভ্রমহানী ঘটে না কিন্তু গণিতের ঘটে, তো সামনে যদি নিশ্চিত অন্ধকার, তবে কী এমন দায় তার যে তাকে বেরোতেই হবে, যেখানে বাস তার সেখানটাও আলোময় নয়, কোনোদিন ছিল না এ ডালপাতাদের ভিড়ে, কিন্তু এখানে আর যাই হোক রাহা আছে, তার অন্ধকারের অবলম্বন, তাকে ছেড়ে এই ঘুটঘুটে পথে নেমে কী এমন রত্ন মিলবে, যা তার এরকম বোকামির ঘাটতিটাকে পুষিয়ে দেবে, তার ওপর ব্যাপারটা যেখানে নিশ্চিত যে সামনে অন্ধকার, নিশ্চিতি-অনিশ্চিতি ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার ত্রুটি থাকতে পারে না, কেননা গণিতটা সে কমবেশি বোঝে, যতটা বুঝলে তেলটা-নুনটার হিসেবে কোনোদিন আটকাতে হয় না, ততটা গাণিতিক জ্ঞানই এ হিসেবের জন্যে যথেষ্ট, অতএব সে যাবে না, অচেনারা যে পাড়ায় থাকে, সেখানের তালগাছগুলো কেমন লম্বা, স্নানঘাটগুলো কেমন পরিচ্ছন্ন, এসব জানার জন্যে তাকে আরো কিছুকাল অপেক্ষা করতে হবে, অন্তত কদিন স্থির থেকে দেখে নিতে হবে, নিশ্চিত যে অন্ধকারটা ফণা তুলে আছে, তার ধৈর্যচ্যুতি ঘটল কি না

রাহা এখন সম্পূর্ণ দিগম্বর তার শূন্যতম জন্মদিনের মতো, দু'পা ফাঁক করে সে নিঃশব্দে বসে গেল অরণ্যসকাশে, অরণ্য দেখল তার স্তন-যোনি-নিতম্ব সব কুৎসিত, ঘোর অন্ধকার, কালো, ভয়াবহ-- এগুলো এত চেনা ও ব্যবহৃত যে তার ঘেন্না ধরল, বিবশ চোখ দু'টো মুদে গেল এবং সহসাই জ্বলে উঠল আলো, চোখ বন্ধ করলে সামনে অনেকদূর পর্যন্ত দেখা যায় সমুদ্র ও পাহাড়ের ঢাল, অরণ্যও দেখল, অচেনারা সবাই পথ আলো করে দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে, কেউ সেখানে নিবস্ত্রা নয়, রহস্য ঘনীভূত সেসবের শ্রী-অবয়বে, লোভাতুরা হাতছানি যেন, অরণ্য ভেবে ওঠে সুপারসনিক বেগে, এ রহস্যসমুদয় জানতে হবে, রাহাকে হয়েছে জানা, এবার অন্যে যাব ভবিষ্য আলোয়, সামনেই সিদ্ধি, বিড়বিড় করে উঠে দাঁড়ায় সে, চোখ মেলে এবং বাক্সপেটরা সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে অচেনার পথরেখা ধরে

রাহার এ সাফল্য তাকে তার যোগ্যতা সম্পর্কে আরেকটি নিশ্চিতি দেয়, নিজের প্রতি তার আস্থা বাড়ে, তার দরকার ছিল অরণ্যকে ঘরের বাইরে নেয়া, কেননা সে ভালোবাসে তাকে, এবং সে জানত যে কেবল এভাবেই তাকে রাজি করানো সম্ভব, এ সাফল্যে সে খুব খুশি হয়, সে নিশ্চিত যে, অরণ্য একদিন অচেনাকেও চিনে নেবে, ও তখন তাদেরও অপছন্দ করবে এবং ফিরে আসবে পুরানোয়, তার বুক জুড়ে, যেখানে ততদিনে অগেয় গীতসমেত অজস্র না-চেনা রহস্যপাখি জড়ো হবে দূরে থাকার সুবাদে, তার নিজস্ব অলিগলি ভরে উঠবে চাপ-চাপ সুস্বাদে, না-চেনা রহস্যপাখিদের এই অগেয় গীতসুধা পানতৃষ্ণায়ই অরণ্য সেদিন আবার তার হবে, রাহা জানে

Attached Image: Circle in a Circle by Wassily Kandinsky from http://www.allposters.com/]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28857078 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28857078 2008-10-19 23:45:19
পাতাদের ঝরে যাওয়া মানুষের অনিবার্য মৃত্যুরই প্রতীকী ব্যঞ্জনা
তার যখন বাঁশের চাঙাড়ি ও নতুন করে গজিয়ে ওঠা মাসকালাই গাছে মোড়া মাটির আস্তরণ ভেদ করে উঠে আসতে হলো, সহসাই, প্রাক-বিবেচনা ব্যতিরেকে, তখন দুপুর, নদীর অন্তরে তখন নীল আকাশের ছায়া, আকাশের অন্তরে নদীর, আর তখন শনশন বাতাস বইছিল, আকাশের নীলশাড়ি তোলপাড় করে দিচ্ছিল রূপসী নদীর স্রোত, গ্রীষ্মের এরকম রোদেলা দুপুরে কবরের ভেতর ভ্যাপসা গরম থাকতেই পারে, কিন্তু সে কখনো এজন্যে নিজেকে নদীর দিকে বয়ে নিয়ে যাবার কথা ভাবে নি, কেননা পাখিটা ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছে এর মানে এ নয় যে তাকে হাঁটতেই হবে, মোটকথা নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে সে কখনোই কোনো কিছু করতে উদ্যত হয় নি, কাজেই আপনি বা আপনারা দয়া করে এমত ভাববেন না যে, লোকটা নিজস্ব কোনো স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অন্যত্র গমন করছিল, এবং এটা যে, পাখিরা সবসময় এ ধরনের কার্যক্রমে আনুকূল্য দিয়ে থাকে, সে যাচ্ছিল অথবা যাচ্ছিল না, যাচ্ছিল, কেননা সে প্রতিমুহূর্তে স্থানচ্যুত হচ্ছিল, যাচ্ছিল না, কেননা তার সামনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল না, এবং তার ভাবনারা একাসন তথা নড়চড়হীন ছিল, পায়ের নিচে মচমচ করে গুঁড়িয়ে যাচ্ছিল শুকনো ঝরাপাতা, আর তার উপলব্ধিতে এসে ধাক্কা দিচ্ছিল এক ধরনের নাকী কান্নার সুর, যা অস্পষ্ট, এটি তাকে অন্যরকম করে ভাবাল, সে নিশ্চিত হলো যে, মৃত ও ইতোমধ্যে শুকনো এসব পাতা, যেগুলো দলিত হচ্ছে চারজোড়া পদ-সঞ্চালনে, সেসবের অন্তর্গত বেদনারা তার কর্ণকুহরে অসম্ভবরকম আকুতিময় অনুযোগ তুলছে

মৃতের কোনোরূপ বাদ-প্রতিবাদের শক্তি যে নেই, একথা তার চেয়ে বেশি আর কেউ বোঝে না বস্তুত, কেননা সে নিজে মৃত্যুর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, কেননা তার সকল প্রকার বাদ-বিসংবাদের ক্ষমতা ইতোমধ্যে রহিত হয়েছে, এরপরও তার এরকম ভাবনা রহস্যপূর্ণ তো বটেই, অবশ্য পৃথিবীতে ভাববার মতো এত বিষয় থাকতেও, এ মুহূর্তে ঝরাপাতা বিষয়ে ভাবাটা তার জন্যে প্রাসঙ্গিকও বটে, জঙ্গলে বাসজনিত কারণে বন্যপাখি, প্রাণী ও বৃক্ষাদি, সপ্তাহচারেক থেকে তাকে মাত্রাতিরিক্ত আচ্ছন্ন করে আছে, বন্যপ্রাণী বিষয়ে তার ভাবনা এ-যাবৎ বিমিশ্র, এরা চালাক ও একই সঙ্গে বোকা, যেমন এই শেয়াল দু'টো, যারা ধূর্ত খেতাবধারী অথচ চরম বোকামির পরিচয় দিচ্ছে এখন, তার মাংসহীন কঙ্কালটাকে আগ্রহভরে বহন করে, তবে পাখিদের ব্যাপারে তার ভাবনা সবসময় ইতিবাচক, এরা গান গায় আর ঘুম ভাঙায়, ঘুম ভাঙায় আর গান গায়

আপাতত পায়ের নিচে শুকনো পাতার মচমচ নেই, সে এবং তারা এখন নদী তীরবর্তী মোটামুটি বৃক্ষহীন একটা চালায়, কিন্তু কান্নার তীব্রতা তাকে আগের মতোই হানছে, বুঝল সে, এবং এ-ও বুঝল যে, এবার তার কিছু বলা দরকার পাতাদের উদ্দেশে, এই যে-- 'অত চ্যাঁচিও না, আমাকে এবং তোমাদেরকে যিনি সৃষ্টি করেছেন, তার নির্দেশেই তোমরা ঝরেছ, যেমন একদিন আমি ঝরেছি, যেদিন স্বর্গবৃক্ষ বর্জন করেছে আমার বৃত্তান্ত লেখা পত্রটি', কিন্তু বলতে কি আসলে পারে সে, তার ঠোঁট নেই, জিহ্বা নেই, কণ্ঠ নেই, পচে-গলে গেছে

সামনেই জলপাই গাছ, বিস্ময় মানতে হয় বৈকি, এরকম স্থানে সে জলপাই গাছ জন্মাতে দেখে নি আগে, পৃথিবীতে, ঠিক নদীর ধারে, আগে দেখতে পেলে এ গাছের নিচে এসে বসা যেত, একা অথবা সস্ত্রীক, এর সমস্ত পাতাই সুন্দর যেগুলো সবুজ, আর যেগুলো মুমূর্ষু ও কমলা-লাল, আরো সুন্দর, আহা পৃথিবী, সে কি কোনো অংশে কম সুন্দর দেখবার চোখ থাকলে, এখানে যেমন নরকের ছায়াপাত ঘটে, তেমনি স্বর্গের, অবশ্য এ মুহূর্তে সে পৃথিবীতে স্বর্গের উপমা খুঁজতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে, যার একটিতে ঢুকবে বলে সে সপ্তাহচারেক ধরে রেওয়াজ সারছে, স্বর্গকে বিস্তারিত জানতে পারে নি সে এখনো, অন্ধের হস্তি দর্শনের মতো জেনেছে, মৃত্যুর দিনকয় পর একজন রহমতের ফেরেশতা তাকে নিয়ে গিয়েছিল স্বর্গের দরজা অবধি বোররাক এর মতো দ্রুততায়, আবার তার সঙ্গেই ফিরে এসেছে সে কবরে, মোটামুটি প্রাথমিক হিসেব-নিকেশ সেরে ফেলবার জন্যে, প্রতিদিনই কবরে তার কাছে বিভিন্ন ফেরেশতারা আসছেন বিচিত্র সব খাতাপত্র নিয়ে, পৃথিবীতে বাসকালীন তার অর্জিত পাপ ও পুণ্যগুলোর একত্র সন্নিবেশ ও যোগ বিয়োগের পালা শেষ হলেই মাটির বিছানা থেকে তার ছুটি হবে, কবরকে তার কাছে হাজতখানার মতো লাগছে, কাজেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করে এখান থেকে সরে পড়বার পক্ষে সে, আর তাছাড়া সে জেনে গেছে, ছোটখাট যে পাপগুলো করেছে সে পৃথিবীতে, সেগুলো তার স্বর্গগমনকে বাধাগ্রস্ত করবে না, একজন মিশুক ফেরেশতা আগেভাগেই তার কানে কথাটা বলে গেছেন, কেননা সে সৎকর্মে ব্রতাবস্থায় আততায়ীর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে, সে জানে, যদিও এটা অনুমাননির্ভর, তবু বলা যায় যে তার সম্মানিত আততায়ী এখনো বেশ সুন্দরভাবে স্বাভাবিক বেঁচেবর্তে আছে, কেননা জগতের ওরা বেশ প্রভাবশালী সদস্য, প্রচুর প্রতিপত্তি আছে, আর সে যতদূর জেনে এসেছে পৃথিবীর রীতিনীতি, তাতে নিঃসন্দিগ্ধ হওয়া যায় যে, তার মৃত্যুর সঠিক রহস্যটি কোনোদিনই উন্মোচিত হবে না, কমবেশি যেখানে যা প্রযোজ্য, অর্থ দিয়ে যেকোনো ছিদ্রই বন্ধ করে দেয়া যায় পৃথিবীতে, কেবল এখানে, এখন সে যেখানে আছে, বাঁ'হাতের কারবারটা পুরোপুরি অচল, কেননা ফেরেশতাগণ উৎকোচ গ্রহণ করেন না, কাজেই সে এই ভেবে মনে-মনে আনন্দিত হয় যে, ওই লোকটি, যে তাকে অকারণে খুন করেছে, তারও একদিন এখানে আসতে হবে বুকপকেটে আদ্যন্ত গড়ের মাঠটাকে পুরে নিয়ে

জলপাই গাছটির নিচে এসে থামল বাহকদ্বয়, সে দেখল ওপর দিকে চেয়ে এবং ডানে-বাঁয়ে, ভালো লাগল আরেকবার, অন্যরকম, এরপর সে নদীর দিকে তাকিয়ে দেখল যে, সূর্যটা ঢেউয়ের তালে তালে খেলছে, কখনো বিদীর্ণ হয়ে যাচ্ছে, আবার জোড়া লেগে হয়ে যাচ্ছে আগেরটাই, এসময় একসাথে প্রায় তিনটে পাতা ঝরে পড়ল তার ওপর, শেয়াল দু'টো চমকাল, এমনকি সে নিজেও, যখন এইমাত্র ঝরা পাতা তিনটিও বনের ভেতরকার পাতাগুলোর মতো নাকী কান্না জুড়ে দিল, ব্যাপারটা ঘটল তখনই, গাছে যেসব পাতা অপেক্ষায় ছিল ঝরে পড়বার, কমলা-লাল, কোরাসে গেয়ে উঠল গয়বিসংগীত-- 'সবুজ ফিরায়ে দাও-- সহসা ঝরব না, আনি তো সুসাম্য-- করি তো প্রার্থনা, আমাদের এ প্রয়াণ-- নিসর্গে কাম্য না'-- এবার অবশ্যই তার কিছু বলা প্রয়োজন, অনুভব করল সে, এবং হঠাৎ সূত্রটাও পেয়ে গেল, মনে পড়ল, তার চোখ নেই কিন্তু সে সব দেখতে পাচ্ছে, কান নেই কিন্তু শুনতে পাচ্ছে, মস্তিষ্ক নেই কিন্তু ভাবতে পারছে, অতএব যৌক্তিকভাবে তার বলতে পারাটাও উচিত, এবং তা কোনোভাবে সম্ভব হয়ে উঠতেও পারে

অকস্মাৎ নড়ে উঠল কঙ্কালটা, আর তার ভেতর থেকে গমগম আওয়াজ উঠল আধিদৈবিক-- 'তোমাদের ঝরে পড়া মানুষের অনিবার্য মৃত্যুরই প্রতীকী ব্যঞ্জনা...', শেয়াল দু'টো তখন ভয়ে সন্ত্রস্ত হয়ে দৌড়াতে থাকল দুই বিপরীত দিকে

Attached artwork: Bending Skeleton by Andreas Vesalius from http://www.allposters.com]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28853910 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28853910 2008-10-12 21:03:30
শৃঙ্খলিত জৈববৃত্তির ব্যাপারটা বেদনাউদ্রেকী
সে যাচ্ছিল ইসরাইলের সেলুনে, স্টেশনের মূল গেটের ডানপাশে, যেদিকে জোর করে খাইয়ে-দিতে-চায়-ধরনের অসহ বণিকদের পাঁচটি খাদ্যাগার, আর তার একটু সামনে বেকার কিশোরদের কেরামবোর্ডের আখড়ার পাশে রবীন্দ্রনাথের লম্বা দাড়ি-গোঁফওয়ালা বাঁধাই ছবিটার নিচের চেয়ারটায় বসে মুখের ভেতরে ঢুকে যাওয়া গোঁফগুলো ছেঁটে ফেলতে, যেগুলোর জন্যে প্রায়ই তার ভর্ৎসনা শুনতে হয় বিভিন্ন বয়েসী নারী-পুরুষের কাছ থেকে, অবশ্য নারীদের থেকেই বেশি, এমনকি প্রেম করবার সময়ও, বেলতলে, চা-খানায়, ঘরে-- তবে মাথার চুলগুলোর ব্যাপারে অত বেশি আপত্তি নেই কারো, যদিও অনেকে দূর থেকে আরেকজনকে দেখিয়ে মিটমিটিয়ে হাসে, কিন্তু এ বিষয়ক একখানি ওজনদার প্রশংসাও তার কানে ঢোল-সহরৎ করেছিল একদিন, কলেজ সেমিনারে, পরিচয়ের তৃতীয় দিনে, রানু নামের পানখোর গোলাপী মেয়েটির কাছ থেকে, বিকেলে, ক্লাসের ফাঁকে, কিন্তু এজন্যেই নয়, তার নিজেরও কিছু পক্ষপাতিত্ব আছে চুলদাড়ির প্রতি, নইলে দিনের-পর-দিন গিয়ে, পাঁচ বছরের মাথায়ও কাটিকাটি করে ওগুলো এ-যাবৎ কাটা যে হলো না, একথা তারই সবচেয়ে বেশি জানা, নইলে 'আপনার চুলগুলো ত খুব ফাইন' শুনেই, পেছনে আটআঙুল লম্বা চুল রাখতে তার বয়েই যেত, যেখানে উঠতি শ্যালিকা ও দুষ্টু কলিগেরা ফাঁক পেলেই, জোর করে ধরে মেয়েদের মতো ফিতা দিয়ে বেণী করে দিতে চায়

যে সন্ধ্যায় কথা হলো, সেদিন, এরা তিন ওরা চার, বসা ছিল নাগরের জন্যে উন্মুখ হয়ে, দক্ষিণের খোলা ঘাসের চাতালে, এমন ঋদ্ধ-সুন্দর চেহারার তিন-তিনটা যুবাপুরুষ দেখে, জিভে-নিভে দুস্থানেই জল গড়াচ্ছিল ওদের, কিন্তু মুহূর্তমাত্রেই বুঝে ফেলেছিল দীর্ঘ অভিজ্ঞতাবশত যে, এরা আর যাই হোক অন্তত লাগাবার জন্যে আসে নি, মাগনা রসিক, এক-দু'বার হাত-টাত মেরে ফাঁক বুঝে চলে যাবে এক টাকাও না ধরিয়ে দিয়ে, ফলত একে একে সবাই ফুটে যাচ্ছিল স্থানটি ছেড়ে, যার-তার মতো ডান বা বাঁহাতে পাছায় থাপ্পড় দিয়ে, নতুন লাগা ধুলোগুলো ঝেড়ে ফেলে, কেবল একজন, যে বয়সে নবীন, রয়ে গেল, আগ্রহে গদগদ হেসে-খেলে, আর জিভে ও ঠোঁটে দরকার মতো রস ঝেড়ে ফোটাতে থাকল ভুরি ভুরি পিরীতের খই, এমনকি শেষে বুকে ও নিতম্বে হাত মেরে, কাড়াকাড়ি করে যেটুকু উষ্ণতা সম্ভব, নিয়ে, ঘণ্টাখানেক বাদে, ওর ইচ্ছাতেই বিনেপয়সায় চলে আসতে পেরেছিল এরা, সেই থেকে শুরু, যেখানে যেভাবে দেখেছে, দশজন-পাঁচজন নেই সবার সামনেই পাথর কয়লার মতো মুখে যথাসম্ভব হাস্যগুণ ফুটিয়ে 'কেমোন আছেন' শব্দে ঢেলেছে পরিচয়-রস, এমন তো নয় যে তার সবসময়ই এসব ভাবনা সঙ্গী, একদিন ইচ্ছে-টিচ্ছে করে তো ছয়দিন এসবকে বাজে মনে হয়, তাছাড়া এক-আধদিন তার সঙ্গে এমনও কেউ থাকেন, যার সামনে এরূপ অযাচিত কুশলাদি বিনিময় পর্বের অভিনয় রীতিমত ঝুঁকিপূর্ণ, এমনকি সঙ্গীজন ব্যাপারটাকে অন্যরকম ছন্দে অনুবাদ-টনুবাদ করে নিয়ে ভুল বুঝে বসতেও পারেন, কাজেই এ নৈমিত্তিক আছরটা স্টেশনে তার জন্যে আতঙ্ক হয়ে বিরাজ করছিল, তবু তার দিনানুদিনের ওভারব্রিজ-আরোহণে ব্যত্যয় ঘটেছে এমন নয়, কেবল স্টেশনে অমন কারোর সঙ্গে হাঁটাটা তাকে বাদ দিতে হয়েছে, যার সাথে সে অতটা ফ্রি নয়, এবং ওকে, মানে ময়নাকে এড়িয়ে চলার জন্যে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হয়েছে, কেবল যখন আপাত নির্জন ও নিরাপদ স্থানে সে থাকে, তখন চলন্তাবস্থায় ওর খবরাখবরটা নিয়ে নেয়া ছাড়া আর কোনো আগাছার মতো যৌনবোধে তাড়িত হয়ে ওকে ঘিরে সময় নষ্ট করার কোনো মানেই হয় না, যেখানে তার আসল যে কাজ, মানুষ দেখা, মানুষকে জানা, এটা সর্বদা ক্রিয়াশীল না রাখতে পারলে, এসব বাজে আচ্ছন্নতায় কোনো কাজে দেবে না, একথা, অন্তত বয়সের এ পরিণতিতে পৌঁছে, সে নিজে-নিজেই উপলব্ধি করতে বিশেষভাবে সক্ষম

একবার হলো কী, দুনম্বর প্লাটফর্মে যখন বিনেপয়সার অপেক্ষমাণ যাত্রী ও উদ্বাস্তুদের চোখে কানা থালার মতো ভোর ভাঙছিল ফাল্গুন মাসে, তখন একজন উদ্বাস্তু পুরুষ আদি-তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পাশেই শুয়ে থাকা একজন আলুথালু-বস্ত্রাকে চোখ বুজে গোটা শরীর দিয়ে চেপে ধরে, ততক্ষণে-যে জগৎটা রীতিমতো ফর্সা হয়ে গেছে, এ খবর রাখবার তার কোনো মতি ছিল না, তো দিনের ফর্সা হয়ে যাওয়া অথবা অনভ্যাস, যে কারণেই হোক, এক ঝটকায় উঠে বসে মহিলাটি প্রাকৃত বাংলায় পুরুষটিকে এমন গালাগাল দিতে থাকল যে চারপাশে বেশ লোক জমে গেল, এরকম পরিবেশে ময়না বা ওর সমগোত্রীয় কারো থাকবার কথা নয়, ওরা স্টেশনের প্রভাবশালী স্থায়ী বাসিন্দা, নিশিযাপনের জন্যে এরচে’ আড়াল ও আরামপ্রদ জায়গাগুলোই ওদের দখলে, কাজেই ময়নার দেখে ফেলবার ভয় নেই মনে করে ঢাকাগামী ভোরের ট্রেনের অপেক্ষায় থাকতে-থাকতে আদি-ঝগড়ার ব্যাকরণ শিখবার কাজে মনোনিবেশ করল সে, কিন্তু হায়, এখানেও ময়না, রেলবগির আড়াল থেকে দিনের প্রথম খেপটি মেরে বেরিয়ে এসেই বীরের মতো একেবারে ঝগড়াস্থলের মধ্যবিন্দুতে হাজির, সে লোকজনের ভিড়ে মুখ লুকিয়ে কোনোভাবে ময়নার চোখ থেকে নিজেকে রক্ষা করে, কামুক লোকটা তখন রীতিমতো নিস্তেজ, মহিলাটি যেভাবে তার মায়ের সাথে বোনের সাথে মুখে-মুখে তাকে শুইয়ে দিচ্ছিল বারবার, তাতে তার উত্তেজনা যে উলটোমুখে ধাবিত হবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু ময়না তা হতে দেবে বলে মনে হলো না, বাঁহাত দিয়ে লোকটাকে ধরে তার কাছে দশ টাকা আছে কি না জানতে চেয়ে, নেতিবাচক জবাব পেয়েও, 'বে-জা'গায় হাত মারো কেন বাবা, আস তোমার গরম কমাইয়া দেই', বলে, টেনে রেলবগির পেছন দিকটায় ছুটলে ওকে ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছে করে তার, সেটা এজন্যে যে, আজ-বসন্তে উদ্বাস্তু লোকটার একজন বিপরীতলিঙ্গীর স্পর্শ সত্যিই দরকার ছিল, টাকা নেই বলে তার সে দরকার অদরকারে পরিণত হয়ে যাবে, এটা ময়না পেশাদার একজন হয়েও মেনে নেয় নি

সাতপ্রস্থ রেললাইন, খানপাঁচেক সচল-অচল মালগাড়ি, নতুন পুরাতন গু-মুত মিশ্রিত জটিল দুর্গন্ধ পেরিয়ে, ডানদিকের কারখানায়, সেদিন দুজন মিলে তারা ঢুকে গিয়েছিল স্থলচর শামুক কুড়াতে কুড়াতে, আরেকটু বেশি হেঁটে পূর্বদিক থেকে, দুটো বিধ্বস্ত রেলগাড়ির ফাঁক দিয়ে লম্বা ঘাসে মোড়া বিপজ্জনক পথে, যেদিকে প্রায়ই দেখা মেলে বিষধর সরীসৃপের, জোঁকের উপদ্রব তো আছেই, তদুপরি আছে আর্থ্রোপোডা পর্বের বিভিন্নাকৃতির পোকা, আর ঢুকেই, তোতলা গার্ডটার উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়ে, পছন্দমতো একটা মোটামুটি পরিচ্ছন্ন কামরায় বসে, এদিক দিয়ে আসার যৌক্তিকতাটা নতুন করে যাচাই করে নিল, অন্তত ভেতর দিকে ঢুকতে দেখেই যারা মনে করে, বাজে মেয়েদের কাছ থেকে মাত্র পাঁচ টাকায় সঙ্গমসুখ কিনতে যাচ্ছে, তাদের কবল থেকে নিষ্কৃতি পাবার এ প্রক্রিয়াটার কোনো বিকল্প আপাতত খুঁজে না পেয়ে, মনে স্বস্তি নিয়ে তারা পুকুরের দিকে তাকাল, যেখানে প্রায় ন্যাংটো হয়ে স্টেশনবালারা স্নান সারে, শাড়িসায়া খুলে-কেচে আগে ভাঙা বগিতে শুকাতে দিয়ে, পরে, দীর্ঘসময় ধরে যত্ন করে নিজের উদোম শরীরের বিশেষ-বিশেষ স্থানে বিশেষ-বিশেষ কৌশলে মাজন পরিচালনা করে, এর সবটাই যে দেহের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্যে, কস্মিনকালেও ব্যাপারটা এরকম নয়, বরং দিবালোকমণ্ডিত অলস সময় ক্ষেপণের জন্যেও বটে, যাহোক, ওপাশে রেলের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা স্ত্রী-পুত্র-কন্যাসমেত জামাতে দাঁড়িয়ে এসব স্নানাচারাশ্রিত কাণ্ড কারখানা বিনা টিকিটে উপভোগ করে অশেষ সওয়াব হাসিল করে আসছে সেই আদ্যিকাল থেকে, বংশানুক্রমে, সে বিরক্ত হয় সহসাই, তোতলা গার্ডটার অনর্থক এটা-ওটা প্রশ্নে, যার এক-দুটার জবাব ইতোমধ্যে সঙ্গের জন করুণা করেছে, সে চাচ্ছিল মস্তিষ্কের ভাবনাটার কী করে পরিপূর্ণতা দেয়া সম্ভব, কিন্তু লোকটার ক্রমবর্ধমান তোতলামি তাকে অত্যাচারিত করছিল, অবশ্য এরকম ঘটনার সাথে সে বেশ পরিচিত, শুধু সে কেন, প্রায় সবারই কমবেশি এতদবিষয়ে অভিজ্ঞতা আছে যে, বিরক্তির কথা বলাও যাচ্ছে না, আবার বকবক সহ্যও করা যাচ্ছে না, এসব ক্ষেত্রে সে নীরবতার চাবুকে ওঠায় উদ্দিষ্টজনের পিঠের চামড়া, এক কথার জবাব দিয়ে, আরো পাঁচ কথা বলার সুযোগ করে দেবার মতো বোকামি সাবালক হবার পর থেকে সে আর করছে না, তবে একে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেবার চেষ্টা করাও এক ধরনের বোকামির পর্যায়ে পড়ে, কেননা তাদেরকে এখান থেকে বিনাশর্তে তাড়িয়ে দেবার অধিকার গার্ডটি সংরক্ষণ করে, তার এ ক্ষমতাটাকে, এ মুহূর্তে বাহ্য-আচারে হলেও সম্মান প্রদর্শন করে যাওয়ায় কিছুমাত্র আত্মপ্রতারণা থাকলেও নগদ কোনো ক্ষতি নেই, এবং কী কাণ্ড, হঠাৎ বৃষ্টি, আর ঝুতঝুতি পুকুরপাড় থেকে স্নানার্থী স্টেশনবালারা এসে কামরাটাকে মোটামুটি জনাকীর্ণ করে দিল, এটি আরো বিস্ময়ের যে তাদের ভেতর ময়নাও ছিল, সদ্যস্নানা, ঢুকেই, 'কেমোন আছেন' এবং 'এ-জন আমার মা, নিতে আসছেন, আমার বিয়া ঠিক হইছে', বলে ও থামতেই, ইশারায় কাছে ডেকে ডাইনির মতো চেহারার সেই বুড়ি ময়নাকে শাসাল পরপুরুষের সাথে কথা বলার অপরাধে, বুড়ির ভড়ং দেখে তার প্রথমত রাগ হয়, তবে পরক্ষণে ঘটনাটা তাকে এমনভাবে বিস্মিত করে যে, সে তার ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, জোরে হাসতে চেয়ে পারে না, বুড়িকে উদ্দেশ্য করে একটা ন্যাংটো কথা বলতে চায়, তা-ও পারে না, শেষে এই ঝাল গায়ে মেখেই ডুব দেয় অন্তর্গত হ্রদে, যে-কেউ যদি ময়নাকে বিয়ে করতেই চায়, তবে ওর খুচরো রেটে দেহ বেচে খাবার কোনো যুক্তিই নেই, বিয়েতে ওর সম্মত হওয়া উচিত, সে এই সিদ্ধান্ত নেয়, ময়নাকে বলে দেবে যে, ও-যেন কালবিলম্ব না করে দুয়েকের ভেতর ওর মায়ের সঙ্গে চলে যায়, কিন্তু ওই মা মহিলাটির এ কী আচরণ, বছরের অধিক কাল থেকে যে মেয়ে স্টেশনে গণহারে দেহদানে প্রবৃত্ত আছে, সে একজন পুরুষের সাথে কথা বললে তার সহ্য হচ্ছে না, এ ঘটনাটাকে 'চরম ফাজলামো ছাড়া আর কিছু নয়' বলে মনে হয়, তার খুব জানতে ইচ্ছে করে যে, এতদিন মেয়ের খোঁজখবর করার ভার মহিলাটি কার ওপর ন্যস্ত করে রেখেছিল, কিন্তু বৃষ্টি থামে এবং বুড়িসহ একে-একে সাতজন ধরেই কামরা থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে যায়

অন্যদের উপার্জন এ সপ্তাহে যাই হোক ময়নার মোটেই হয় নি, ও স্টেশনে ছিলই না, সম্ভবত ওর মায়ের সাথে বাড়ি চলে গিয়ে থাকবে, এবং এটা সে খুব বুদ্ধিমতির মতো কাজ করেছে, সুযোগ পেলে ময়নাকে বাড়ি চলে যাবার পরামর্শ দেবার সিদ্ধান্ত সে নিয়েওছিল, কিন্তু পরামর্শ ছাড়াই যখন গিয়েছে, তখন ব্যাপারটা ভালোর ওপর ভালো, যারা এখনো স্টেশনে থেকে গেছে, তাদের মস্তবড়ো একজন প্রতিদ্বন্দ্বীও এ সুযোগে কমল, এ অর্থে তাদের খুশি হবারও যথেষ্ট কারণ আছে, তবে স্টেশনে যে একহালি বোবা মেয়ে আছে, দেহ ব্যবসায়ী, ওরা দারুণভাবে খুশি হয়েছে ময়নার চলে যাওয়ায়, নির্বাক বলে ওদের প্রচুর অত্যাচার সইতে হয় সবাকদের থেকে, বিশেষ করে ময়নাটা কী জানি কী জন্যে, ফাঁক পেলেই এদের পিঠে বসিয়ে দিত দপাদপ দু-চার ঘা, আর ওরা বাজখাই গলায় চিৎকার জুড়ত কুকুর ছানার মতো, অন্যকেউ, অপেক্ষমাণ যাত্রী কিংবা পকেটমার এসে ওদেরকে সাময়িকভাবে উদ্ধার করত, এসবের থেকে বেশি আলোচ্য বরং এ সারকথাটি যে, ওদের একটা নৈমিত্তিক ফাঁড়া দিনকয় থেকে আর দেখা দিচ্ছে না, কিন্তু আট নম্বর দিন, নতুন শাড়ি পরা ময়নাকে স্টেশনে দেখে, বোবাহালির মতো আতংকবোধ না জাগলেও সঙ্গত ও সংক্ষিত একটা প্রশ্ন জাগে তার মনে, এবং যার উত্তর জরুরি ভিত্তিতেই জানা দরকার মনে হয়, এটা জানার আগে তার অন্যসব কামকাজ, যা করবার জন্যে সে যাচ্ছিল, আপাতত স্থগিত ঘোষণা করে সে, তার জরুরি যে কাজ, বন্ধুদের কাছে লেখা চিঠি পাঁচটিতে ডাকটিকিট লাগিয়ে অথবা ফ্রাঙ্কিং করে আরএমএস-এর গর্তের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া, তা ঘণ্টাখানেক পরে করলেও মহাভারত অশুদ্ধ হবার সম্ভাবনা নেই, ভেবে, লোকজন না ডরিয়ে সে ময়মনসিংহ জং লেখা বিশাল সাদা সাইনবোর্ডের কাছে দাঁড়ানো ময়নার কাছে গিয়ে, 'ময়না যে' বলে দাঁড়াতেই, 'কেমন আছেন' দিয়ে শুরু করে ও জানাল যে, ওর বিয়ে হয়েছে, কিন্তু কথাটা বিশ্বাস করতে তার কষ্ট হচ্ছিল, কেননা বিয়ে হলে ওর এখানে ফিরে আসার সম্ভাবনাটাকে মন বারবার নাকচ করে দিচ্ছিল, এবং সে ভাবল, আরেকটা প্রশ্ন এখন খুব প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, স্বামী বেচারা ব্যাপারটা বুঝলে তার ক্ষতি-টতি হবে কি না, জানতে চাইলে, ময়না তাকে বিস্ময়ের আঘাতে ভাঙচুর করে দিল এই বলে যে, ওর স্বামীই ওকে এখানে পাঠিয়েছে নয়া সিফনটা পরিয়ে, এবং এখন থেকে ওর আর খোশগল্পে সময় নষ্ট করলে চলবে না, দিনান্তে স্বামীর হাতে ছয় ইঞ্চি দীর্ঘ একটা কমলা-লাল নোট গুঁজে দিতেই হবে

Image from: http://www.socialfiction.org/]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28853359 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28853359 2008-10-11 12:53:49
দৈবচয়নের ভালোমন্দ : চার ফাঁকি দিয়ে চলে যাই শেষে দূরদেশে
এক জোড়া চাকার আহ্বানে কুয়াশা মাড়াই
স্বজন উপেক্ষা করি

বহু দূর দিয়ে হাঁটি
যাতে কেউ দেখতে না পায় যে যাচ্ছি ঠিকই

আমি যাই আমি ফিরি
নিতি চরকি ঘোরা ঘুরি

১৭.
ধুলোবালিসহ পথ থেকে কুড়িয়ে ফুঁ দিয়ে
যেখানে রাখার নয় সেখানেই রাখলাম
ভার নিলাম দায় নিলাম

সে যখন ফিরে গেল
আমাকে কলঙ্ক দিয়ে গেল

১৮.
ছিল ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি
ভেবেছি অযথা মৃত
ভুল ভাবনার মাশুলস্বরূপ
আজ এই ঝলসানো মুখ

আমি পুড়ামুখো
আমার আগ্নেয়গিরি মন্থনের সাধ জেগেছিল

১৯.
তোমার যে পর্যন্ত গেলাম সেটা এক্সট্রিম
এর চেয়ে বেশি না হলেও চলে
এর চেয়ে বেশিটা আসলে বাড়াবাড়ি

তোমার যে পর্যন্ত গেলাম
সেটাই আমার কাঞ্চনজঙ্ঘায় ওঠা
এ বাবদ ওটি ভাবি যথেষ্ট অর্জন

২০.
এখন আমার ওঠা দরকার
ঝেড়ে
টান দিয়ে বের করা উচিত রহস্য সুতো
কতখানি প্যাঁচালো বা সোজা
কোনদিক থেকে কোনদিকে অভিমুখ ওর
বোঝা দরকার

এত চাপ নিলে মাথার ভিতরে
দেবে যেতে হবে আরো
ওঠা দরকার
ভেঙে ফেলা দরকার ওই রহস্য কুঠুরি

Image: The left-handed Punch, screenprint and articulated puppet by Rong King from http://ycba.yale.edu

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28853192 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28853192 2008-10-10 23:37:56
দৈবচয়নের ভালোমন্দ : তিন নতুন এক ঘোরের মাঝে দিন যায় রাত যায়
এ এমন ঘোর
ডুবতে ডুবতে দফারফা
তবু দেখি আমার নাক ভেসে ওঠে
চুল ভেসে ওঠে

১২.
পুনরায় অরণ্যে প্রবেশ বহুদিন পরে
শেষ নেই এরকম মৃগয়ায়
গিজিগিজে বাঘ সিংহ হায়েনা অজগর
শিকার আমিই হতে পারি নিজে
যেকোনো সময়
ঢুকে গেছি তবু বনে
একটামাত্র বল্লম সহযোগে

ভয় ছিল তবু মাখি নি গায়েই
হরিণের মাংসে অভ্যস্ত বলে

এছাড়া কেননা অসম্ভব বেঁচে থাকা

১৩.
আমি যার কাছে পরামর্শ নিতে যাই সে আমার চেয়ে কম জানে

১৪.
নিঃসঙ্গতার একশ বছর লেখা হয়ে গেছে
লেখা তো হয় নি এখনো একদিনের অন্ধকার
ধরবে এ অন্ধকার
গ্রন্থের এমন আয়তন অসম্ভব

১৫.
এত পিছে থাকলে তাকে সঙ্গে নেবার ইচ্ছেটাই মরে যায়
আরেকটু আপডেটেট থাকা-টাকা লাগে
যৌথযাত্রা সেক্ষেত্রে চমকপ্রদ হয়

Image: The left-handed Punch, screenprint and articulated puppet by Rong King from http://ycba.yale.edu

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28853060 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28853060 2008-10-10 16:07:34
দৈবচয়নের ভালোমন্দ : দুই আমি যেতে চাইলেই সামনে দিয়ে একটি পাখি উড়ে যায়, ও বোঝায় যে আমার চেয়ে তার অনেক বেশি তাড়া, সে বেশি কাজের লোক

কে যে লোক আর কে যে নয়, এ বিবেচনা কাজেই ধরা খেয়ে যায়, আমি বড়ো মুখে কিছু জানান দেবার আগ্রহটা তখনই মেরে ফেলি

৭.
দূর এসেছে দাঁড়িয়ে আছে কাছে
আমার শরণে
ওকে আর ডাকতে হয় নি ভোরে
নিজে থেকে টের পেয়ে টান
এসেছে মরণে

৮.
সব সামলাতে সামলাতে গেল বেলা বাহির বাড়ির
ভিতর বাড়ির কিছুই আমার গোছানো হলো না

বাইরে এমন পরিপাটির ভিতর অন্ধকার

৯.
পিছে রয়ে গেছে সুখের গায়ের জামা, সুখীনির চটি
একদম ন্যাংটোপুটো হয়ে দেখ চলে এসেছি এই এত দূরে
দুঃখের ছেলেমেয়েরা আমাদের দেখে
হাসতে হাসতে শেষ

১০.
তারে দেখতে গিয়েছি শুধু তারে নয়
তার সাথে লেগে আসা সহস্র শৈবাল


Image: The left-handed Punch, screenprint and articulated puppet by Rong King from http://ycba.yale.edu

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28852883 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28852883 2008-10-10 01:21:34
দৈবচয়নের ভালোমন্দ : এক শিকড়ের যেদিকে আমার সমূহ বিস্তার
তারই একটি ধরে বিলঝিল মান্দারের কাঁটা ফাটামাটি
চষে আসি

এইসব নস্টালজিয়া আমার ভালো লাগে

২.
এবার কুসুম ফুটে ঘুচল তোমার অপেক্ষা সুদূর
এতদিন প্রেম থেকে দূরে শুধু কাম ধরে বসেছিলে
এবার কামকে পেলে উপজাত হিসেবে প্রেমের
এবার ঘুরে দাঁড়াল সুখ

৩.
শীতে আমার ঝরেছিল দুটি মাত্র পাতা
বসন্তে যা শোধ
এই শ্রাবণে তোমার মনে কীসের অবরোধ

৪.
চোখে চোখে যাকে খুঁজি পাখি হয়ে উড়ে গেছে দূরে, আমার যে দৃষ্টির পাখা ছিল, গত শীতে শীতার্ত মানুষেরা জ্বালিয়ে তা আগুন পুহিয়ে গেছে, সেই থেকে পাখাহীন দৃষ্টি আমার, পদাঙ্গুলির চেয়ে দূরে কিছুতে পারে না যেতে, আমি এখন সাগর বানাচ্ছি সকাল বিকাল চোখের কান্না দিয়ে, আর ঝুনঝুনির মতো বাজিয়ে সেসব বিক্রি করছি দৃষ্টির দামে

৫.
ছাগ ও ছাগীরা যে ব্যা ব্যা করে তার মধ্যে কান পেতে থাকলে লাভ বৈ লোকসান হয় না, সুযোগ পেলেই তাই কাছেপাতে যাই, শব্দ শুনি, সহসা চমকে যাই, শুনি যে তার ছোটমেয়ের নাম ঐতিহ্য, বড়োমেয়ের ইতিহাস, যার রাজনীতির সাথে বিয়ে পাকাপাকি, পরিহাস এই, রাজনীতি ক্রমশ বাজেদের খপ্পরে পড়ে, নেশা ধরে, ঘরে ফেরে বহুরাতে, এটা ওটা সরায়, বিয়েটা ভেঙে যায় শেষে

এ পর্যন্ত হতে পারে, হয়, দিনে দিনে সমস্যা গজায়, রাজনীতি বেপরোয়া হয়ে পড়ে, ইতিহাসের মুখে সে ছুড়ে অ্যাসিড আর ঐতিহ্যকে করে হরণ

দু' দু'টো মামলা হয় ওর নামে, তবু লড়তে রাজি নয় আইনজ্ঞেরা, তারা সব রাজনীতির বগলের নিচে থাকে, থেকে থেকে দমবন্ধ প্রায়, মহাদুর্দিন নেমে আসে তাই একদিন, বিচারশালায়

Image: The left-handed Punch, screenprint and articulated puppet by Rong King from http://ycba.yale.edu
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28852664 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28852664 2008-10-09 14:48:18
হয়ে ওঠা বিষয়ে একটি দার্শনিক অনুধ্যান
প্রতিটা হয়ে ওঠাই পদার্থিক, চিৎকৃত মূর্ছনায় সব সৃষ্টিই মোচড় দিয়ে ওঠে জোরে-- পৃথিবীর কান্নার শব্দ যেবার সমুদ্র শুনতে পেয়েছিল একদিন, আমি সব নড়চড় তেমনি টের পাই তোমার

হয়ে ওঠো, ঘন সরের মতো শাদা দুধের সংসারে ধীরে জমে ওঠো আধারের গায়, সব কোলাহল ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া আমি জেনে নেব কান পেতে সুরম্য ওলানে

Artwork: Allegory of the Creation of the Cosmos created by Domenicus Van Wijnen from http://www.allposters.com ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28851349 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28851349 2008-10-06 00:21:26
তেরহাট্টাবেলা
আজ যারা জীবন নামের খাঁচা বয়ে নিয়ে যথাসাধ্য দৌড়ে চলেছে, কারো কাছে এই পাখি হয়ত অদরকারি, হয়ত সাধনা নেই তাদেরও আমার মতো, মোম জ্বেলে কেউ কভু বসে নি গাছতলে, অমল ধবল এই রাতখানি আজ দেখি সহসা আঁধার, মনে হয় আর বেশি দেরি নেই, যেভাবে ফুরাচ্ছে দিন যেভাবে রজনী, তার চেয়ে দ্রুতপদ বিজলীও নয়

এই যত ভ্রমণের কস্তুরি কড়িফুল পথের পাশের থেকে কুড়িয়ে রেখেছি মনে, এই যত মানুষের রগড়ের ক্লেদমালা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, দেখে দেখে এতদূর আকাশে চড়েছি, আমাকে তাদের থেকে দূরে দেখে, বেজায় কৃপণ এক তালপুকুরের বাঁশি একাকী বেজেছে

নেই বলে স্বস্তিমালা নেই বলে নিরাপদ ক্ষণ, চোখ জোড়া বন্ধ করে বসে থাকি, মায়ায় জড়িয়ে কখন আসবে ভাবি একটি আশ্বাস, সামনে দাঁড়িয়ে বলবে দেখ, এ আমার যাবতীয় কেবল তোমার লাগি, আস চুমে দেই চুদে দেই, খেলায় খেলায় মেতে পার করি তুচ্ছ এ জীবন, হেসে হেসে, তবু যে একলা এলে এই মতো অচেনার পাড়া, মাটির ওজনে যদি তোমাকেও গুলে নেয় ওরা, কী আর করবে তুমি, কোথায় দাঁড়াবে শেষে গিয়ে, সস্তা কার গায়ে মাখা সাবানের পাশে

ওরা যে পাতার বাঁশি ডেকে নেয় সুর দিয়ে, বলে বসো, আমি কী তার চেয়ে সুর তাল কম জানি, আমি কি খেয়াল জমিয়ে রেখে তানপুরা আকাশে তুলি না সুরে সুরে, আমার সেতার শুনে তারাই বাহবা বলে, সেতারের বাজনাটা যারা যারা শুনেছে জীবনে

দড়াম হাওরের এই জটলাগা ভূয়ে, জয়শ্রীপাড়ায়, যত ভুখাদের মুখের দিকে চেয়ে থেকে ভাবি, কোনো এক আফালের দিনে, পাশে এসে দাঁড়ানো না গেলে ভরা বর্ষায়, জলের কী রীতি হয়, ঢেউয়ের কী হুংকার বাজে বিশাল আকাশে উঠে, আমি তার কিছুই পাব না খুঁজে, এই যে আপদমালা এই যত ভাসা পানি, নদীবিধৌত যত বানটান, গভীর খরার কোনো বেয়াড়া মৌসুমে যদি কেউ না দাঁড়ায় পাশে, এইসব মক সেশনের তবে আসলেই মানে নেই কোনো

শুধু শুধু কিছুক্ষণ গলাবাজি হলো, কিছুটা বা আঙুলবাজিও, কোথাও ফুটে নি তবু রূপ, এতসব কথামালা, টানে নি ধরে কোনো অর্থের সূতো, সহসা দেখানো হবে বুড়ো কোনো আঙুলের চূড়া, যদিবা কেউ এসে দেখে এই খেল মনোযোগে, তবু এ জার্নিটুকু রয়ে যাক চুপচাপ, সে কবির শ্মশ্রুর সফেদ বরণ আমায় বেঁধেছে প্রাণান্ত করে, ভুল বুঝে সকলেই তাকাবে অদূর বোলে, অথচ কাছেই ছিল সূত্র একখানি, তার চেয়ে দীর্ঘদেহী হয়তবা হবে

দেখনদারিটা আজ জমেছে বেজায় দেখি, দেখনদারি, গুণবিচারের বলে কেউ যদি একদিন এইমতো বলে বসে, আমার খানিকখানি শান্তি রয়েছে, আরো একদিন আরো ম্যালাদিন, এইমতো করতে পারি যদি, তবে জানি তেমন এক রঙমাখা রোদ, খেলে যাবে আমার ভিতরে, আর জেনো এই রোদ হাওর বেলার, এই রোদ নদীপরিবেশে, ধূসর রঙের চেয়েও স্বচ্ছ কোনো বেদনা ধরেছে বুকে

সরাতে হবে মায়ার এ পরশ, যেখানে রয়েছে জেগে নাশপাতি বেলা, আহারে কথার মানে, আহারে কথার মানে চুরমার হয়ে যায় মানুষে মানুষে, যেভাবে বদলে যায় রূপারূপ মানুষের হাতে, চোখে মুখে, পাখিবেলা দেখা যাবে পাখিদের সাথে, কী করি এর চেয়ে বসে বসে, ঘুমিয়েই কবিতার স্তন আজ ছোঁব, বাতাসী আকাল দিনে এইমতো সুখান্ধকারে

তোমাদের সাথে মিলে যেই কথা বলি, সেই কথা আমি একা বলেছি নিজের থেকেও, এটা তবে প্রভাব পাখির গান, আমি যদি তেমন না জানি খেলা, খেলব কেমনে তবে, ঝড়োরাতে দূরপরবাসে, তবু এই তেরহাট্টাবেলা, তেরটা সুরের রশি টেনে ধরে, কোনোদিকে একা একা হাঁটতে লেগে যাব, লেগে যাব হয়ত-বা জানপ্রাণ দিয়ে

Artwork of Diana Ong from http://www.allposters.com/
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28849410 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28849410 2008-09-29 19:55:47
ভ্রমণ, গদ্যভঙ্গিতে কাটিয়ে এসেছি গুরুতর সন্ধ্যা এক থই থই এবার ভাদরে

পথে ছিল জল বাক্যে বাক্যে ঢেউ চাল ছুঁয়ে থাকা
বাঘে-মোষে একাকার হয়ে থাকা পৃষ্ঠা জুড়ে
বহুত্ববাদের সব চারাগাছ দুলতে দেখেছি

বিষাক্ত একটা সাপ প্রকাশ্যে সাঁতরে এসে যে বাক্যে বসেছে
পাশে তার একটি শিশুর হাতে লুটছে পৃথিবী

বানের জলের কোনো প্যারাস্পেস নেই
টানাস্রোত ভেঙে ভেঙে যেখানে দাঁড়াই
সেটা ছিল বিস্তারিত ফুটনোট গলাঅব্দি জলে

অনুজ্ঞাজ্ঞাপক এক বাক্যের কোমর ধরে সামনে এগোতে দেখি
একটু একটু করে কমে জল জেগে ওঠে ঊর্ধ্বমুখী সিঁড়ি

মিতক্রিয়াময় বাক্যদের জানালায় টই টই প্রভূত বাতাস

Artwork: Water Hole of Tom Laidman (b. 1927) from http://www.loc.gov/]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28844507 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28844507 2008-09-17 22:17:08
যাপনবিদ্যা
এটা হবে ক্রমশ পচে ঘিনঘিনিয়ে ওঠা সমাজদেহ থেকে সুদূরে স্থাপিত, রাষ্ট্রদেহের জঙ্ঘার নিচে গজানো এইসব যাপনবিদ্যার দিকে কালা সব কানুনেরা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে যাবে, রাষ্ট্রের সামর্থ্য নেই যে মনের পায়ে শিকল পরাবে মানুষের, কিংবা গাধায় চড়িয়ে পার করে দেবে আচার সীমানা

রাষ্ট্রের চোখ বড়ো স্থূল, ওটা যা দেখে তা দেখে কানারাও, যা দেখার তা দেখে না কস্মিনকালে

ভিতর দিক থেকে একটা একটা করে খড়কুটো নামিয়ে এনে গড়ে তোলা ওই পাখিনীড় পাতার পৌরহিত্যে দেখবে মানিয়ে যাচ্ছে বেশ

Image from: http://www.malloryartandphotography.com
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28842271 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28842271 2008-09-12 22:19:08
খতিয়ানবই প্রতিজ্ঞা ভেসে যাচ্ছে পরিপার্শ্বের অসহযোগে এমন জমানা

স্মৃতি থেকে সব শব্দ উধাও হয়ে গেছে ত্রাসে এমন মুহূর্ত
মুহূর্ত ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো মিশে গেছে নয়ানজুলিতে এমন বিস্ময়
বিস্ময়াঘাতে পাতাল মাথা তুলে বসেছে আকাশে এমন দুর্যোগ
দুর্যোগ মানে নিজের সাথেই ঝগড়া ও বনিবনা এমন বোঝাপড়া
বোঝাপড়াগুলো মননিরপেক্ষ ও শরীরঘেঁষা সুর এমন কল্পনা
কল্পনার লেজ ধরে টেনে নামাচ্ছি মাটিতে বাস্তব এমন কৌশল
কৌশল মেরে মেরে জোড়া জোড়া পুরছি খাঁচায় এমন বাহাদুরি
বাহাদুরি মানে বেঁচে আছি তবু সন্নিপাতের রোগী এমন পরিণতি
পরিণতি হলো কাত হয়ে গেছে জীবননদীর ভেলা এমন বেঁচে থাকা

Image from: http://www.jupiterimages.com
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28840904 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28840904 2008-09-09 22:00:40
ভাসাপদ্য একটা কুটোর সাথে যেই লাগছে আঘাত উহু-আহা আর্তনাদে ভরাচ্ছে আকাশ
ভেসে যাচ্ছে ভেসে যাচ্ছে যেন ভাসাই নিয়তি এই বিরুদ্ধ সময়ে

ঠেকবে কোথায় গিয়ে ভাসাপ্রাণ ভাসাদেহ বা আদৌ ঠেকবে কি না
এইসব ভেবে ভেবে ওড়ার মুহূর্তগুলো লাল করে দিয়ে আর ফায়দা কী
ভেবে ভেবে বাতাসের সাথে ঠিক মিশে যাচ্ছে অপূর্ণ ইচ্ছেরা গোল গোল অবয়বসহ

ভেসে যাচ্ছে সবকিছু ব্যথা ও বেদনা, সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য, প্রেম ও অপ্রেম
ফোঁটা ফোঁটা ঝরে পড়ছে শুধু ব্যর্থতার গ্লানি ও হাহাকারগুলো


Image from: http://blog.ellenmccormickmartens.com/]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28819894 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28819894 2008-07-13 18:52:16
চোখের ছবি মনের ছবি
ভাষা বদলের এই দিনে বচন না রাঙালে কেউ শুনবে না কোনো কথা, এই হলো গূঢ়ভাষ, এই হেতু করা গেলে ভাবনার অনুবাদ, ছুঁয়ে যাবে যতসব তরুণ মনন, চেনাশোনার ফাঁকফোকরে যেটুকু উদাস করা হাওয়া, অচেনা সুর, তাদের গা ঢাকা পত্রালিমালা এই ছুঁয়ে গেল প্রেম-প্রজাপতি, এর গহ্বরগুলো যুগপৎ চেনা ও অচেনা, চেনা ওর সাধারণীকৃত দোষগুণ, অচেনা বিশেষ গন্ধ, ব্যবহার, আর উদাস করা কাশতট মুহুর্মুহু হানে

না থেমে এগোনো ভালো গড়িয়ে হলেও, চেনা গাছের পাতাতেও থাকে অচেনা ঝিলিক পোকা, ডিজুস বচন, স্মার্ট কোনো ভিজের, ‌‌'আমার প্রাণ যে মানে না', কেন এল এ ভাবনা, যখন ছুঁয়ে থাকা সব দিক থেকে

কোনদিকে তাকাতে হবে এই ভাবনায় হলে প্রাণপাত হবার যোগাড়, চোখ তুলে রাখো ফাটা কপালে, রঙ যে গাম্ভীর্য আনে কোথাও লেখা থাকতে হয় না তার ব্যাকরণ

এ যে কাঁপা কাঁপা চ্যুতি ও উল্লম্ফন, হয়ত বাঁশিই দায়ী, ভাটিয়ালী কী ভাওয়াইয়া কী রাগাশ্রিত, তা জানাবোঝার ভার কানের ওপর রেখে চোখে ভর দিয়ে ওইপারে গিয়ে থেমে যাও কৃষ্ণচূড়ার লালে, যেখান থেকে সোজা তাকালে সদাহাস্য অহঙ্কারের ঊর্ধ্বাঙ্গ দেখা যায়

অবশ্য এর মধ্যে বিরক্তিকর কিছু এসে সামনে দাঁড়ালে বাজে সব পরিকল্পনা করা ছাড়া কোনো গতিই থাকে না জেনো, সেটাই করো তবে, আর বলো কানে দেবার জন্য তুলো বস্তুটা ভ্রমণের কিটস-এ যুক্ত করাটা আবশ্যিক করা দরকার, এই শিক্ষা ভ্রমণপথ ছাড়া কোথাও সেভাবে ধরা নাও দিতে পারে, তুমি যাও তোমার পথে, তার নিচে দিয়েও আছে পথ, আছে ওপর দিয়েও, যার যার তার তার পথ, কারো জঙ্গল কেটে রেলে, কারো পিচ মোলায়েম কারে, কারো বা বায়ু কেটে প্লেনে

ধূসর জগতের এই ছবির মহিমা খাটো না করেও সবুজবরণ কথা বলা যায়, বলে বলে কমানো চলে মনের যত জ্বালা, কেননা কমানো জরুরি, কেননা ও জগৎ অধিগত নয় বলে ওদিকে না যাওয়া কোনো কাজের কথা নয়

সঙ্গে ক্যামেরা নেই তো কী হয়েছে, চোখ আছে ত্বক আছে কান আছে, আছে স্মৃতিঘর, এবং জানো তো আছে কিছু চা-খানাও হাইওয়ের পাশে

Image from: http://www.bikingaustralia.com
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28815909 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28815909 2008-07-02 00:35:36
সেতু
পোলকা ডটের মতো চোখ তুলে আকাশের দিকে, বলে ইরাবতী-- জলের গল্প কেবল তখনই ভালো লাগে, শুষ্ক মৌসুমে, খেলানো উচ্ছ্বাসগুলো পলকে মিলিয়ে গেলে দূর সমুদ্রপাড়ায়-- তবু, ফেনাময় ঢেউয়ের রেখা যদি মূর্ত হয়ে ওঠে কোনোখানে, ভেসে যেতে পারব না আমি ললিত প্যাশনে

একই ভেলায় চড়ে তুরীয়ানন্দের দিকে আমাদের যাত্রা শুরু অনিবার্য বিভূতি বোধনে

Image from: http://lionheartdesign.blogspot.com/]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28810664 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28810664 2008-06-17 20:30:27
একাগাছের কবিতা পোড়োবাড়ির কোনো সারাই হয় না

ইতিহাস ছুঁয়েছেনে পাখা মেলে উড়ে গেলে তুমি
পোড়োবাড়ির ধারণা পড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে
বাতাসে বাতাসে ভাঙনের সুর বেজে ওঠে

মাঠের ভিতরে থাকা একাগাছ যত দেখি
শূন্যতার তত বেশি পড়ে যাই প্রেমে
গোড়ার জল কী দারুণ আগলে রাখে কালো ছায়া
থমথমে

একদিন সবকিছু ছেড়েছুড়ে ধুধুপথে হাঁটা দেব
শূন্য অভিলাষে, তুমি জেনে রাখো

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28810270 http://www.somewhereinblog.net/blog/MuzibMehdyblog/28810270 2008-06-16 22:16:20
কৈলিক-সাংস্কৃতিক ভারসাম্য ও আমার লেখনপ্রয়াস (দ্বিতীয়ার্ধ) প্রথমার্ধ

কবিতা বিষয়ে কিছু বলার চেয়ে একটি কবিতা লেখা বরং অনেক নিরাপদ। অবশ্য এরকম কোনো বাক্য এক্ষেত্রে বলা চলেই না যে এটি ওটির চেয়ে সহজ বা কঠিন, কিংবা ওটির চেয়ে এটি। যিনি যখন যেটা লেখেন, তখন তিনিই কেবল সেটার সারল্য-কাঠিন্য আন্দাজ করতে পারেন, অন্য কেউ নন। আমার কাছে দুটোই সহজ, যখন লিখি। লেখা হয়ে গেলে মনে হয় জব্বর জটিল এক সাঁকো পার হয়ে এলাম বুঝি! কী করে সাধন করলাম এই অসাধ্যকে ? নিজেকে বেশ সফল মানুষ মনে হয় তখন। যখন সে লেখা অন্যের সাথে শেয়ার করতে যাবার প্রসঙ্গ আসে, পঠিত বা মুদ্রিত হবার কথা, তখন আবার অন্যরকম লাগে। মনে হয় এটা হয় নি কিছুই আর ওটা হাস্যকর রকম বাজে হয়েছে, ইত্যাদি। দাঁড়াল কী তাহলে ? এই কি নয় যে কবিতা বিষয়ে আমি যা ভাবি, কবি হিসেবে প্রায়শই আমি তা করে উঠতে পারি না, কিংবা, আমার নিজস্ব কবিতাধারণাও ফ্রিকোয়েন্টলি বদলে যায়! অতএব এটা বলা যায় যে, আমার কবিতা সবসময় আমার পুরোপুরি প্রতিনিধিত্ব করে না। কী সাংঘাতিক! তাহলে তো বরং কবিতা থেকে আমার শত হস্ত দূরে থাকাই স্বাস্থ্যসম্মত! কিন্তু তবু লিখতে বসে যাই অধরা অদৃশ্যকে ধরতে, যা ধরা গেলে বলা যাবে যে এটি বা এগুলো আমার প্রকৃষ্ট প্রতিনিধি। কিন্তু হায়! প্রান্তর জুড়ে যথেচ্ছ দাপাদাপি করেও অধরা শেষপর্যন্ত অধরাই থেকে যায়।

একজন স্বাধীন মানুষ হিসেবে সর্বত্রই আমি স্বাধীনতার চর্চা করতে ভালোবাসি। লেখালেখিতেও। যখনই স্বাধীনেচ্ছা বিঘ্নিত হবার উপক্রম হয়েছে, তখনই আমার গতিমুখ বদলে নিয়েছি, এখনো নেই। সৃজনের প্রয়োজনে কারোর এঁকে দেয়া নকশামতো কিংবা অগ্রজের পদচ্ছাপ দেখে পা ফেলানো আমার পছন্দ নয়। ওই হাঁটায় অনুকারিতা যতটা আছে, আবিষ্কারানন্দ ততটা নেই। এজন্য কেউই আমাকে শিষ্য ভেবে স্বস্তি পান নি, আমিও পাই নি গুরু ভেবে। নিজের মতো করে দিকবিদিক হাঁটি, মানুষ-অন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের সঙ্গে মেলামেশা করি, দেখি ও শিখি। এই বিরল যাত্রাভিজ্ঞতার ফাঁক-ফোকরগুলো, ইমাজিনেশনের নরম পুডিং লাগিয়ে ভরে তুলে তার সাথে সহনীয় মাত্রায় মনের রঙ মিশিয়ে নিজের ভাষায় যতটা কুলোয় লিখে ফেলতে চেষ্টা করি। এদের কোনো-কোনোটিকে জন্মক্ষণ থেকেই সম্পন্ন হয়ে উঠতে দেখা যায়, কোনোটিকে খুব নিঃস্ব দেখায়। ঝরঝরে হয়ে উঠতে যতদিন লাগে, ততদিন এদের আগলে থাকি। চুল-নোখ কেটে দেই, জামাকাপড় ও কাজল-সুর্মা পরাই, হাগু-মুতু সাফসুতরো করি, গোসল দেই। শেষোক্তদের প্রতি মায়াটা একটু বেশিই জন্মে, এজন্য সঙ্গও বেশি পায় তারা, অটিস্টিক চাইল্ডের মতো।

সকল মানুষেরই বিচিত্র যাপন অভিজ্ঞতা আছে, কল্পন-সক্ষমতা আছে। আছে অনুভূতি প্রকাশের ভাষা ও মনে ছড়ানো বিচিত্র রঙ। অথচ সবাই কবিতা লিখেন না। কেন লিখেন না ? কারণ তারা হয়ত কবিতা জিনিসটা পছন্দই করেন না, বা লিখে আনন্দ পান না, বা লিখতে পারেন না, বা এটাকে নিতান্ত পণ্ডশ্রম মনে করেন, ইত্যাদি। স্পষ্ট যে, আমি কবিতা লিখি ঠিক এসবের উলটো কারণে। কবিতা জিনিসটা আমার খুব পছন্দ, এটি লিখে বিস্তর আনন্দ পাই এবং লিখতে পারিও। কবিতা লেখাকে কখনোই আমার কাছে পণ্ডশ্রম মনে হয় না। এই-ই সার। এর বাইরে 'কবিতা না-লিখলে আমি বাঁচব না', 'আমি তো লিখি না, কবিতাই আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নেয়' বা 'আমার কবিতা দূর আকাশ থেকে নাজেল হয়' বা 'লিখি সমাজবদলের জন্য'-- কবিতা লেখা নিয়ে ইত্যাদি কথাবার্তার সর্বৈব ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয় আমার। এই লৌকিক কাজটিকে যারা অতিলৌকিক বা অলৌকিক মহিমা দিতে চান, তাদের প্রতি একটা বড়োসড়ো সন্দেহ জিইয়ে রেখেই অধরাপ্রান্তরে আমার শিকারাভিযান আমি অব্যাহত রেখে চলেছি।