somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যারা জিয়া নিয়ে ব্লগে চেঁচামেচি করছেন সেই সময় আপনারা কি বোবা ছিলেন ?

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে হীনমানসিকতা থেকে জাতীয় গুরম্নত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম পরিবর্তনের এই অপসংস্কৃতি আরম্ভ হয়। ২০০১ সালের অক্টোবরে মতা গ্রহণের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই অন্য সব গুরম্নত্বপূর্ণ পিছনে রেখে স্থাপনার নাম পরিবর্তন আরম্ভ করে চারদলীয় জোট সরকার। পাঁচ বছরে প্রায় অর্ধশত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, স্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে জোট সরকার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে মরহুম জাতীয় নেতাদের নামের স্থাপনার পরিবর্তনের মহোৎসবে মেতে উঠেছিল তৎকালীন সরকার। এমনকি নামকরণ প্রসঙ্গে জাতীয় নেতাদের নিয়ে কটূক্তি করতে পিছপা হননি জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। জোট সরকার আমলে ২০০১ সালের অক্টোবরে রাজধানীর শেরেবাংলানগরে চন্দ্রিমা উদ্যানের নাম বদলে রাখা হয় জিয়া উদ্যান।


কিছুদিন পর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আনত্মর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র। ২০০২ সালে শেখ হাসিনা জাতীয় যুব কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় জাতীয় যুব কেন্দ্র। একই বছর ধানমন্ডি সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপেস্নক্সের নাম পরিবর্তন করে ধানমন্ডি মহিলা ক্রীড়া কমপেস্নক্স, খুলনায় শেখ নাসের স্টেডিয়ামের নাম বদলে খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম এবং চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামের নাম বদলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়াম রাখা হয়।

২০০৩ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় যমুনা সেতু। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মওলানা ভাসানী নভোথিয়েটার। ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে এমএ হান্নান আনত্মর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম শাহ আমানত বিমানবন্দর রাখা হয়েছিল। ভৈরবে শহীদ সৈয়দ নজরম্নল ইসলাম সেতুর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য মৈত্রী সেতু। একইভাবে সৈয়দ নজরম্নল ইসলাম স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে কিশোরগঞ্জ জেলা স্টেডিয়াম, শহীদ কামারম্নজ্জামান স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম, সিরাজগঞ্জে শহীদ এম মনসুর আলী অডিটরিয়ামের নাম বদলে রাখা হয় ভাষা শহীদ অডিটরিয়াম, শাহবাগে সুফিয়া কামাল পাবলিক লাইব্রেরীর নাম বদলে বাংলাদেশ গণগ্রন্থাগার রাখা হয়। তবে মহাজোট সরকারের আমলে আবার পুরনো নামকরণে ফিরে যায় বেশকিছু স্থাপনা।
জোট আমলে পরিবর্তনের এই ধারা থেকে পুলিশের মনোগ্রামও বাদ যায়নি। পুলিশের মনোগ্রাম একপাশে ধানের শীষ, অপরপাশে গমের শীষ, মাঝখানে নৌকা এবং উপরিভাগে শাপলা ফুল বেষ্টিত ছিল। জোট সরকার পুলিশের মনোগ্রাম থেকে নৌকা বাদ দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার মতায় আসার পর পুলিশের মনোগ্রামে নৌকা বহাল রাখে। আবার জোট সরকারের আমলে সংকীর্ণ রাজনৈতিক মানসিকতার কারণে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীরশ্রেষ্ঠের নাম বিকৃত করে স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয়েছিল। বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোসত্মফা কামালের নাম পরিবর্তন করে শহীদ সিপাহী মোসত্মফা স্টেডিয়াম রাখা হয়। ঢাকার কমলাপুরে এই স্টেডিয়ামের বিকৃত নাম এখনও বহাল রয়েছে।
জাতীয় নেতাদের নাম পরিবর্তন করে দলীয় নেতাদের নামে নতুন নামকরণের প্রতিযোগিতায় নামে জোট সরকার। ঢাকার সোহ্রাওয়াদর্ী হাসপাতালের নাম বদলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজের নামেই হাসপাতাল মেডিক্যাল কলেজের নামকরণ করেন। জোটের মন্ত্রীরাও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজের নাম জুড়ে দেন। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে জোটের প্রয়াত প্রভাবশালী সাবেক একমন্ত্রীর নামে কয়েক ডজন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়।

বর্তমান সরকারের নাম পরিবর্তন নিয়ে আরও শোরগোল উঠেছে। সরকার মূলত নাম পরিবর্তন করেছে একটি। বাদবাকি সব স্থাপনার যে নাম বদল করা হয়েছিল সেটা বাতিল করা হয়েছে। স্থাপিত হয়েছে আগের নাম। তবে বদল করা হয়েছে জিয়া আনত্মর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম। করা হয়েছে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর। সরকারের পৰ থেকে বলা হয়েছে ৫ম সংশোধনী বাতিলের আলোকে তারা এ কাজ করেছে। । তবে জিয়া বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন এটাই প্রথম নয়। জেনারেল এরশাদ ৰমতা দখলের অব্যবহিত পরেই জিয়া বিমানবন্দরের নাম পাল্টে ঢাকা আনত্মর্জাতিক বিমানবন্দর রাখা হয়। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই নানা চাপে ঢাকা বিমানবন্দর আবার জিয়া বিমানবন্দর হয়ে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৫৬
৩০টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×