somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১১ বছর ধরে চলে আসা মোবাইল কোম্পানীগুলোর ভাঁওতাবাজি আর কতদিন চলবে?

০৭ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমরা আজকাল খুব বেশি করে একটা ব্যাপার নিয়ে সোচ্চার আছি, আর তা হলো কি করে দেশ থেকে, এই সমাজ থেকে দূর্নীতিকে সমূলে উৎপাটন করা যায়। নেক উদ্দেশ্য সন্দেহ নেই কোন। বিশেষত বর্তমান সরকারের এ ব্যাপারে তোড়জোড় বেশ লক্ষনীয়। দূর্নীতিবাজরা গোটা দেশের চোখে ধুলি দিয়ে সহস্র কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু দেশে আরো একটি এমন গোষ্ঠী আছে যারা প্রায় একই কাজটি করে আসছেন গত ১১ বছর ধরে, কিন্তু এ ব্যাপারে সবাই নির্বিকার। এদেরকে দূর্নীতিবাজ বলা হয়তো যায়না, কিন্তু ভাঁওতাবাজ বোধ করি বলা যায়।

আরো পরিষ্কার করে বলতে গেলে আমি আমাদের দেশের ৬টি মোবাইল ফোন কোম্পানীর (সিটিসেল, গ্রামীনফোন, একটেল, বাংলালিংক, টেলিটক এবং ওয়ারিদ) কথা বলছি। সিটিসেল অনেক আগে থেকে থাকলেও বাংলাদেশে প্রতিযোগিতামূলক মোবাইল ব্যবসা চালু হয়েছিল গ্রামীনফোনের আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে, আর তাই ১১ বছর সময়কালের কথা বলা হচ্ছে। প্রথম দিকে সংযোগ ও হ্যান্ডসেট মূল্য অনেক বেশি হওয়ায় মানুষের কাছে মোবাইল ছিলো একটি পরম আকর্ষনের বস্তু এবং খুব সংখ্যক লোকেরই সৌভাগ্য হতো ওই আকর্ষনীয় বস্তুটি ব্যবহারের। বলাই বাহুল্য তখনকার কলরেট ছিলো আকাশছোঁয়া। এরপর যতো সময় যেতে লাগলো দেশে মোবাইল ফোন কোম্পানীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে লাগলো, মানুষের বুকে আশার চর জাগতে লাগলো এবার হয়তো কলরেট কমবে, সংযোগ মূল্য কমবে। কিন্তু তাদের সে আশা গুড়েবালি! সংযোগমূল্য কমলো ঠিকই, কিন্তু কলরেট কমলো না। কারন মোবাইল কোম্পানীগুলো জানতো যে সংযোগমূল্য কমলে মোবাইল গ্রাহক তথা ডাকাতি করার লোক বাড়বে। আর কলরেট না কমিয়ে তারা বড় হাত মারার নিশ্চিত ব্যবস্থা করে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের কথা যদি বলি তবে ইতিহাস বলে, সেসব দেশে যতো মোবাইল ফোন কোম্পানীর সংখ্যা বেড়েছে, প্রতিযোগিতা দিয়ে কলরেট ততো কমেছে - আমাদের পাশ্ববর্তী দেশেও এমনটা দেখা গিয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের মোবাইল ফোন কেম্পানীগুলো যেন একে অপরের সাথে নিঃশব্দ চুক্তি করেছে সম্মিলিত ভাবে ডাকাতি করার।

ভাঁওতাবাজির এখানেই শেষ নয়। ইদানিংকালে কলরেট যখন মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে এনেছে (আসলে চাপে পড়ে আনতে বাধ্য হয়েছে) মোবাইল ফোন কেম্পানীগুলো, এখন তারা ভাঁওতাবাজির নিত্য নতুন পথ বেছে নিচ্ছে। এমনই একটি পথ হলো তাদের বিভিন্ন চটকদার বিজ্ঞাপণ। খেয়াল করে দেখেছেন কি এই ধরনের বিজ্ঞাপণগুলো -



এ ধরনের বিজ্ঞাপণগুলোতে পাহাড় সাইজের অফারমূল্যের পাশে চালের দানার সাইজের একটি * চিহ্ন থাকে ও বিজ্ঞাপণের নিচে ততোখিক ছোট করে লেখা থাকে "* শর্ত প্রযোজ্য"। কোন কোন ক্ষেত্রে শর্তসমূহ বিজ্ঞাপণে উল্লেখ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাস্টমার সার্ভিসে ফোন করে জেনে নিতে বলা হয়। সত্যিই আজব ওরা!

এইসব ভাঁওতাবাজির তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন হচ্ছে বন্ধ মোবাইল সংযোগ চালুকরনে আকর্ষনীয় সুবিধা প্রদান - সুলভ কলরেট, ফ্রি টকটাইম প্রভৃতি। প্রশ্ন হচ্ছে যে মানুষটা দিনের পর দিন মোবাইলে টাকা ভরে ফোনটাকে সচল রাখছে তার চেয়ে মোবাইল কোম্পানীগুলোর কাছে সেই মানুষটা কি করে অধিক গুরুত্ব পায় যে হয়তো তার সিমকার্ডটিকে মানিব্যাগের কোন এক চিপা গলিতে অতি অযত্নের সাথে ফেলে রেখেছে? এখানে আমারা আবার সেই পুরাতন "গ্রাহক বাড়ানো নীতির" পরিচয় পাই।



এছাড়াও সম্প্রতি ইন্টারনেট সেবার মূল্য ২৫% কমা সত্বেও মোবাইল কোম্পানীগুলো তাদের ইন্টারনেট সেবার মূল্য কমায়নি। এখনো এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্কে MMS পাঠানোর সুবিধা দেয়া হয়নি। গ্রামীনফোন আজো অন্য নেটওয়ার্কে FnF করার সুযোগ দেয়নি। ঝামেলার কি শেষ আছে!

এতো কিছুর পরও আমাদের মিডিয়াগুলো এ ব্যপারে একদম চুপচাপ! কারন? কারন হচ্ছে মিডিয়ার বিজ্ঞাপণ আয়ের ৬০% আসে মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলোর বিজ্ঞাপন থেকে। আমাদের অবস্থা আজ অনেকটা ১১ বছর ধরে স্বামীর অত্যাচার সহ্য করা স্ত্রীর মতো....এখন আর কিছুতেই কিছু মনে হয়না....সব সয়ে গেছে....আর চাইলেও কিছু করার নেই....
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:৩৫
৪৪টি মন্তব্য ৪৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×