এক এক করে বলবো:
১. অনভিজ্ঞতা:
প্রথমেই জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে আজকের ওয়ানডে দলটির সদস্যদের বয়স দেখুন:
তামিম ইকবাল: ১৯ বছর ৩০৫ দিন (৫১ ওয়ানডে/১০ টেস্ট)
জুনায়েদ সিদ্দিক: ২১ বছর ৮১ দিন (১৭ ওয়ানডে/১০টেস্ট)
মোহাম্মদ আশরাফুল: ২৪ বছর ১৯৬ দিন (১৩৭ ওয়ানডে/৪৮ টেস্ট)
রাকিবুল হাসান: ২১ বছর ১০৩ দিন (২১ ওয়ানডে/৩ টেস্ট)
সাকিব আল হাসান: ২১ বছর ৩০১ দিন (৬০ ওয়ানডে/১২ টেস্ট)
মুশফিকুর রহিম: ২০ বছর ১৪০ দিন (৪৪ ওয়ানডে/১৪ টেস্ট)
মাহমুদুল্লাহ্: ২২ বছর ৩৫০ দিন (২২ ওয়ানডে/০ টেস্ট)
নাঈম ইসলাম: ২২ বছর ১৯ দিন (৯ ওয়ানডে/২ টেস্ট)
মাশরাফি মুর্তজা: ২৫ বছর ১০৬ দিন (১০১ ওয়ানডে/৩৫ টেস্ট)
নাজমুল হোসেন: ২১ বছর ১০৬ দিন (২২ ওয়ানডে/১ টেস্ট)
রুবেল হোসেন: ১৯ বছর ১৮ দিন (৩ ওয়ানডে/০ টেস্ট)
গড় বয়স: ২১ বছর (প্রায়)
মাত্র ২১ বছর?!? এটা কি একটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলের পরিচয় বা চিহ্ন বহন করে? দলে ৫০টি বা তার চেয়ে বেশি ওয়ানডে খেলা খেলোয়াড় আচেন মাত্র ৪ জন, শতাধিক ওয়ানডে খেলেছেন এমনদের সংখ্যা মাত্র ২ জন। এরকম অনভিজ্ঞ একটি দলের কাছ থেকে ক্ষণিকে ক্ষণিকে ব্যাক্তিগত ঝলক বা দ্যুতির হয়তো দেখা পাওয়া সম্ভব কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত সাফল্য সম্ভবত দূরাশা। দলে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ২-১ জন ক্রিকেটার থাকা খুবই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য আন্তর্জাতিক দলগুলো এ প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে বলেরই আমরা আজো শচীন, জয়সুরিয়াদেরকে খেলতে দেখি। ধরুন আজকেই অভিষেক হয়েছে এমন একটা বোলার যখন জীবনের ১ম ওভারেই প্রথম ৩ বলে ৩টা ৪ এর মার খায়, তখন খুব প্রয়োজন হয়ে পড়ে কারো একজনের ঐ বোলারের কাছে যাওয়া,গিয়ে কথা বলা। এখনো মনে আছে ইশান্ত শর্মা যখন একদম নতুন, মাত্র অভিষেক হয়েছে তখন মহেন্দ্র সিং ধোনির পক্ষে সবসময় সম্ভব হতো না ইশান্তের সাথে কথা বলা। এই কাজটা করতেন শচীন মিড-অফে দাঁড়িয়ে। সবসময় সাহস জোগাতেন এমনকি ইশান্ত খারাপ বল করলেও, পরামর্শ দিতেন তাকে। আমাদের দলে এমন ক্রিকেটার কই যে এই বড়ভাইয়ের মতো দায়িত্বটা পালন করবে?
২. ওপেনার: তামিম ইকবাল-জুনায়েদ সিদ্দিকী জুটি একের পর এক ম্যাচে তাদের ব্যর্থতার ছাপ রেখে চলেছেন। দলকে ভালো সূচনা এনে দেয়াতো দূরে থাক অধিকাংশ ম্যাচেই ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোরকার্ডটা দেখায় এমন - ৪০/৪। আদ্যিকালে যখন ক্রিকেট খেলা হতো তখন ওপেনারদের কাজ ছিলো নতুন বল দেখেশুনে খেলা, সাবধানী ভঙ্গিতে ব্যাট করে ক্রিজে সময় অতিবাহিত করা এবং পরে ক্রিজে জমে গেলে রান তোলার গতি বাড়ানো। কিন্তু আধুনিক ক্রিকেটে একমাত্র টেস্ট ক্রিকেট বাদে এই ধারণার প্রচলণ প্রায় নেই বললেই চলে একান্তই যদি না পিচ চরম বোলিং সহায়ক হয়। এমনকি টেস্ট ক্রিকেটে পর্যন্ত এখন ওভারপ্রতি ৪ রান করে তুলছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দল। আর তাই ওয়ানডেতে ১০ ওভার শেষে ২৫-৪০ রান আর ৩-৪ উইকেট কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না, বিশেষতঃ তখন যখন পাওয়ার-প্লের মতো একটি বিশাল হাতিয়ার আপনার হাতে রয়েছে প্রথম ১০ ওভারে, আর পরে আরো ১০ ওভারতো আছেই। সবসময় যে এরকম দেখেশুনে খেলেন তাও কিন্তু নয়। কোন কোনদিন আমাদের ওপেনরারা এমন ভঙ্গিতে নামেন যেন ভাস, এনটিনি, ডেল স্টেইন বা ব্রেট লি নয়.......তারা যেন গলির ক্রিকেটের বোলারদের বল মোকাবেলা করছেন। চোখ বুঁজে হাই ব্যাকলিফট থেকে ব্যাট নামিয়ে হাঁকালেই কি ব্যাটিং হয়ে যায়? তাহলে টাইমিং আর Watching the ball কথাগুলো কি শোকেসে সাজিয়ে রাখবার জন্য? বিশেষত তামিম ইকবালকে দেখা যায় ডাউন দ্যা উইকেট এসে চোখ বুঁজে, না পুল না ড্রাইভ এমন কিম্ভূতকিমাকার ধরনের একটি শট খেলতে।
৩. মোহাম্মদ আশরাফুল: মোহাম্মদ আশরাফুল একাই দলের জন্য একটি বিরাটা সমস্যা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকটা বিদ্যুতের মতো আর মুরালিধরনকে ভালো খেলতে পারেন। ব্যস! এই দু'টোকেই এখনো বেচে বেচে টিকে আছেন আমাদের এই মহান ক্রিকেটার।
ক. টস জিতে কি করতে হবে তা নির্ধারণে স্কুল ক্রিকেটের ছেলেরাও যে ভুল করবেন না তা আশরাফুল করেন। শিশিরভেজা সবুজ উইকেটে টসে জিতে ব্যাটিং করা থেকে শুরু করে নিতান্তই মরা ও ন্যাড়া পিচে বোলিং নেবার মতো সিদ্ধান্তও আমরা আশরাফুলের কাছ থেকে পেয়েছি।
খ. এর ব্যাটিং দেখলে মনে হয় বোলাররা ওনার মামু লাগে, প্রতিটা বল যেন একই যায়গায় একই পেসে দিয়ে যাবে আর উনিও বাউন্ডারির পর বাউন্ডারি মেরেই যাবেন। ধৈর্য্য, পর্যবেক্ষণ, অবস্থা বুঝে খেলা শব্দগুলোর সাথে আশরাফুলের দূর দূর পর্যন্ত কোন সম্বন্ধ নেই।
গ. একই ওভারে প্রথম ৩ বলে কোন ব্যাটসম্যান যদি ৩টি ৪ মারে, স্বভাবতই যে কোন ব্যাটসম্যানই চাইবে একটা সিঙ্গেল নিয়ে ননস্ট্রাইকিং প্রান্তে যেতে। কিন্তু কিসের কি! আমাদের আশরাফুল ঐ ৪র্থ বলটিও তাড়া করবেন। বলটা থাকবে অফ স্টাম্পের বাইরে, হয়তো স্লোয়ার বল........উনি ড্রাইভ করবেন........বল কাভারের ফিল্ডার তালুবন্দি করবেন, ডেসিং রুমে ফিরে যাওয়ার পথে বার কয়েক নিজের ব্যাটখানা দিয়ে মাটিতে কোপ বসাবেন এবং ব্যাটে ঠিক কোন যায়গায় বলটা লেগেছিলো পুনরায় চেক করবেন - এই হলো মোহাম্মদ আশরাফুল।
ঘ. বোলিংয়ের সময় বোলারদেরকে কিভাবে কাজে লাগাতে হবে সে সম্বন্ধে বিন্দুমাত্র আইডিয়া নেই আশলাফুলের। ভালো বোলারদেরকে টানা বল করিয়ে সব ওভার শেষ করে ফেলেন। তারপর শুরু হয় একটানা স্পিন বোলারদের স্পেল। বিপক্ষ দলের জন্য চমকটা কোথায়? কোথায় বৈচিত্র্য? স্বভাবতই বিপক্ষ দলগুলোর ধাতস্থ হতে বেশি একটা সময় লাগে না।
ঙ. আশরাফুলের ব্যাটিংকে তুলনা করা যেতে পারে ২ গিয়ারওয়ালা গাড়ির সাথে। আশরাফুল হয় ক্রিজে এসে ঝড় তোলেন নয়তো কচ্ছপের মতো খোলসে ঢুকে যান (কচ্ছপ সংস্করণটা আগে ছিলো না, সিডন্স আসার পর থেকে শুরু হয়েছে)। এর বাদে আর কোনভাবে যে ক্রিকেটে খেলা যায়, Rotating the strike বলে যে কিছু আছে তা বোধোহয় আশরাফুল জানেনই না। অবশ্য সেটা বলে আর কি লাভ? এটা বাংলাদেশ দলের অধিকাংশ ব্যাটসম্যানই জানেন না।
চ. আশরাফুলের ব্যাটিং দেখলে মনে হয় উনার সাথে বোলারদের টেলিপ্যাথির সংযোগ আছে। যেন ইন বোলার রানআপ থেকে দৌড়ে আসার সময়ই জানেন বোলার কোথায় বল ফেলবে। প্রায় প্রতিটি শটই তিনি খেলেন আগে থেকে ঠিক করে রেখে। বল যেখানেই পড়ুক সেই ঠিক করে রাখা শট তার খেলা চাইই চাই। এভাবে দাবা হয়তো খেলা সম্ভব কিন্তু ক্রিকেট নয়। ক্রিকেটে প্রতিটি বল দেখে তারপর Fractions of a second এ নির্ধারণ করতে হয় কোন শট খেলতে হবে। আহা! তা কি করে হবে? উনি তো ব্যাটিং করেন দর্শককে মজা দেবার জন্য, দলের জন্য না। সুন্দর করে স্টাম্প ছেড়ে ৩ হাত পাশে সরে যান প্যাডল স্কুপ খেলবার জন্য। কেন বাপ? আর কোন শট নাই? স্ট্রেট ব্যাটে খেলা যায় না? ঐ শটগুলাতো শেষ ৫ ওভারেও খেলা যায়...........
নাহ্........আর পারছি না........আশরাফুলের ব্যাপারে সব বলতে গেলে রাত কাবার হয়ে যাবে। তার চাইতে অন্য কিছু দেখি.......
৪. সামগ্রিক ব্যাটিং দুরাবস্থা: পুরো ব্যাটিং অর্ডার জুড়েই সমস্যা। একমাত্র সাকিব বাদে কেউ আর হালই ধরতে পারছেন না। আর সাকিবই বা কয়টা ম্যাচে ভালো করবেন? হাজার হোক মানুষ তো, কোন মেশিন তো না। বাকি পুরা দলে যদি কেউ ২টা ফিফটিও না করতে পারে তাহলে একা সাকিব কি করবে? ব্যাটসম্যানদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো পেস বল যেন তাদের যম। স্লিপে বা অফ সাইডে রিংয়ের ভিতরে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেয়াটা বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের অনেক পুরাতন সমস্যা। এখনো অফের বাইরের বলে কাঁপা কাঁপা শট নেয় ব্যাটসম্যানরা। এই সমস্যার সমাধানতো অফের বল ছেড়ে দেয়া হতে পারে না। সমস্যাকে সামনা-সামনি ফেস করতে হবে। ব্যাটসম্যানদের জন্য আরো একটি বড় সমস্যা হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পেস বোলারদের ৮৫-৯৫ মাইল/ঘন্টার করা বল সামলাতে তারা হিমশিম খান। এর কারনটা খুবই সহজবোধ্য। ক্লাব ক্রিকেট থেকে শুরু করে নেট পর্যন্ত আমাদের ব্যাটসম্যানরা কোথাওই এই গতির বল খেলে অভ্যস্ত নন। তাদের প্র্যাকটিস বলতে ম্যাচে ঐসব বোলাদেরকে সামনা-সামনি মোকাবেলা পর্যন্তই।
ঘন্টায় ৯০ মাইলে গতিতে ধেঁয়ে আসা বল যে হাই-ব্যাকলিফট থেকে ব্যাট নামিয়ে খেলা যায় না তা কে বোঝাবে তাদের? আর এসব বল যখন ফুল-লেন্থ বা ইয়র্কার হয় তখন হাইব্যাকলিফট থেকে ব্যাট নামানোর প্রচেষ্টাতেই আমাদের ব্যাটসম্যানরা Caught on the crease হয়ে যান ও ফলস্বরূপ হয় LBW নতুবা Bold হন। শুধুমাত্র দক্ষতার বলে এসব বল খেলা যায় না, এগুলো খেলতে প্রয়োজন হয় Instinctive Batting এর। এরকম হাই স্পিড বলে ড্রাইভ বা কাট করা আমাদের ব্যাটসম্যানদের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো। আর তাই হয়তো আমরা আশরাফুল ও আরো অনেক ব্যাটসম্যানকে প্যাডল স্কুপ খেলতে দেখি। কেননা ঐসব শটে বোলারের পেসকে কাজে লাগানো যায়, ব্যাটসমানকে বাড়তি কোন জোর প্রয়াগ করতে হয় না।
আমাদের ব্যাটসম্যানরা রান করার জন্য বাউন্ডারির ওপর নির্ভরশীল। অথচ স্ট্রাইক রোটেট করার দিকে কোন খেয়ালই নেই। শুধু চার-ছয় দিয়ে কি পার্টনারশিপ গড়া যায়? ম্যাচ জেতা যায়?
প্রতি ম্যাচে দল ১২০-১৮০ এর মধ্যে স্কোর করলে কোন আন্তর্জাতিক দলের পক্ষেই ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়, সর্বোচ্চ ভালো বোলিং লাইন-আপ থাকলে ফাইট করা সম্ভব।
৫. খুবই উন্নতমানের কিন্তু সঠিক নির্দেশনা না পাওয়া বোলিং লাইন-আপ: ব্যাক্তিগতভাবে আমি বাংলাদেশের বোলিং লাইন-আপকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বলে মানি। বাংলাদেশ যে কয়টা ম্যাচ জিতেছে তার কয়টাতে ৩০০ বা ততোধিক রান করেছে? বেশিরভাগ ম্যাচ যেগুলো বাংলাদেশ জিতেছে তা সম্পূর্ণ বোলিং অবদানের উপর ভর করে। আরেক কথায়, বোলাররাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ম্যাচ উইনার। কিন্তু দূভার্গ্যবশত এতো ভালো বোলিং লাইন-আপ কি করে সামলাতে হয় তা আমাদের ক্যাপ্টেন সাহেবদের জানা নেই। ভালো বোলাররা উইকেট পেতে থাকলে স্রোতে গা ভাসিয়ে তাদেরকে টানা বল করিয়ে স্পেল শেষ করে দেয়া হয়। পরে শেষ ওভারগুলোতে তাদের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে কপাল চাপরাতে হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমাদের দল অপর দলের ৫-৬ উইকেট ধসিয়ে দিলেও শেষ ৪-৫টা উইকেট ফেলতে হিমশিম খায়। বোলারদের অল্প যে কয়টি দুর্বলতা আছে তার মধ্যে একটি হলো টেইলএন্ডারদেরকে কিভাবে বল করে আউট করতে হবে সে সম্পর্কে ধারণা অতি কম। টেইলএন্ডারদের জন্য যুগ যুগ ধরে স্টাম্প বরাবর ফুল লেংথ বা ইয়র্কার অস্ত্র হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। অথচ সেই টেইলএন্ডারদেরকেই কিনা আমাদের বোলাররা বাউন্সার, শর্টপিচ প্রভৃতি বল দিচ্ছেন। এরকম অনেক ম্যাচের কথা স্মৃতিচারন করা সম্ভব যেখানে বাংলাদেশ একজন টেলএন্ডার ও একজন প্রোপার বাটসম্যানের জুটি না ভাঙতে পারার কারনে জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও হতাশার আগুনে পুড়েছে। তারপরও এটা তেমন কোন বড় সমস্যা না যদি ব্যাটসম্যানদের ভুলগুলোর দিকে একবার তাকানো যায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের রত্ন বলতে এই একটাই - শক্তিশালী বোলিং লাইন-আপ, এর উত্তোরত্তর সাফল্য কামনা করি।
৬. ম্যাচ উইনিং টেম্পারমেন্টের অভাব: এবং সবশেষে যা না বললেই নয় তা হলো পুরো দলের মধ্যেই একটি নেতিবাচক মনোভাব কাজ করে। কোন কিছু ঘটানোর চাইতে ঘটার অপেক্ষাতেই বেশি আগ্রহ। ম্যাচ জেতার চাইতে অংশগ্রহণটাকেই এখনো বড় করে দেখা হয়। কপালে থাকলে জিতবো এই মনোভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা যায় না। এখানে জয় অর্জন করে নিতে হয়, ছিনিয়ে আনতে হয়। জয় এখানে রাস্তায় পড়ে থাকা ২ টাকার নোট না। সবসময় সবকিছু মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়, দলের জন্য ও সতীর্থদের জন্য কমিটমেন্ট থাকতে হয়। কারো ক্ষণিকের অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা যেমন করে এখানে ম্যাচ হাতের মুঠোয় এন দিতে পারে তেমনিভাবে মূহুর্তের অসতর্কতা পারে মুঠোবন্দি ম্যাচকে কেড়ে নিতে।
পরিশেষে বেশি কিছু বলবো না, একটা কথাই বলবো তা হলো - Cricket is a team game। এই কথাটা বাংলাদেশ দল ও নির্বাচকেরা যতো তাড়াতাড়ি উপলব্ধি করতে পারবেন ততোই ভালো। উপরে এতো এতো বদনাম, সমালোচনা করলাম কিন্তু তারপরও আমরা আমাদের দলকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। আর সব কাজ ফেলে টিভির সামনে বসে থাকি একটু ভালো খেলা দেখার প্রত্যাশায়। শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রিয় দলের খবরটা একবার নিতে ভুলি না। রোদের ভেতর ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কিনি - আজ একটা জয় আমরা পাবো বলে। এর সামান্য প্রতিদান পাবার অধিকারও কি আমাদের নেই?
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


