somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মুছে ফেলুন - কেন লিখে রেখেছেন?



গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান (THE CONSTITUTION OF THE PEOPLE’S REPUBLIC OF BANGLADESH)

২য় ভাগ - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
PART II - FUNDAMENTAL PRINCIPLES OF STATE POLICY

২৩৷ রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং জাতীয় ভাষা, সাহিত্য ও শিল্পকলাসমূহের এমন পরিপোষণ ও উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন, যাহাতে সর্বস্তরের জনগণ জাতীয় সংস্কৃতির সমৃদ্ধিতে অবদান রাখিবার ও অংশগ্রহণ করিবার সুযোগ লাভ করিতে পারেন। (জাতীয় সংস্কৃতি)

23. The State shall adopt measures to conserve the cultural traditions and heritage of the people, and so to foster and improve the national language, literature and the arts that all sections of the people are afforded the opportunity to contribute towards and to participate in the enrichment of the national culture. (National culture)

২৪৷ বিশেষ শৈল্পিক কিংবা ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বা তাৎর্যমণ্ডিত স্মৃতিনিদর্শন, বস্তু বা স্থানসমূহকে বিকৃতি, বিনাশ বা অপসারণ হইতে রক্ষা করিবার জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন। (জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন প্রভৃতি)

24. The State shall adopt measures for the protection against disfigurement, damage or removal of all monuments, objects or places of special artistic or historic importance or interest. (National monuments etc)

এগুলো কেন লিখে রেখেছেন? হয় পালন করুন, আর না পারলে মুছে ফেলুন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28877008 http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28877008 2008-12-02 00:11:43
জিমেইল ইউসারদের জন্য সুখবর! <img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" />

যারা এখনো জানেন না তাদেরকে বলছি, জিমেইল ইউসাররা এখন থেকে তাদের জিমেইল এ্যাকাউন্টে একটি বাড়তি সুবিধা পাবেন, আর তা হলো থিম। আপনার জিমেইল এ্যাকাউন্টের চেহারা মূহুর্তেই পাল্টে দিতে পারেন এসব সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর থিম দিয়ে। থিম পরিবর্তন করতে আপনার জিমেইল এ্যাকাউন্টের উপরের ডা দিকের কোণায় "সেটিংস" এ ক্লিক করে তার পর "থিমস" এ ক্লিক করুন ও নতুন থিম সেট করুন। মজার ব্যাপার যেটা সেটা হলো জিমেইল খুলতে এখন আগের চাইতে অনেক কম সময় লাগে।

বিঃ দ্রঃ থিম ব্যবহারের জন্য আপনাকে অবশ্যই জিমেইলের স্ট্যান্ডার্ড ভিউতে থাকতে হবে, বেসিক HTML ভিউতে এটা কাজ করবে না।


বিস্তারিত: View this link
একই সাথে প্রকাশিত আমার ব্লগস্পটে: Nafis Iftekhar's World ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28875275 http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28875275 2008-11-28 09:09:33
সুবাহ্ হো গ্যায়ি মামু! (A Tribute to MAMU) <img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" />

মামু! মাম্মাহ্! গত কয়েক বছরে কতোবার কতজনকে যে এই সম্বোধন দু'টা ব্যবহার করতে দেখেছি তা কোন ইয়ত্তা নেই। আসুন আজ এই মামুদের সম্পর্কে কিছু জানি।

মামুদের ব্যাপারে কিছু সাধারণ প্রশ্নোত্তর:

প্রঃ কারা মামু?
উঃ মামুদেরকে কয়েকভাবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে। মামু হলেন তারা যারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে এমন কোন কাজ করার ক্ষমতা রাখেন যা অন্য আর কারো দ্বারা সম্ভব না। নিজের এই অনন্য ক্ষমতা বলে মামুরা কাজ করিয়ে নেবার জন্য জনপ্রিয় সত্বায় পরিণত হন। <img src=" style="border:0;" />
আবার কলেজ ও ভার্সিটির ছাত্রদের মধ্যে বয়সে তাদের চাইতে বয়সে বড় কোন প্রতিষ্ঠান বা হোটেল রেস্টুরেন্টের নিম্নপদের কর্মচারীদেরকে মামু ডাকতে দেখা যায়। আবার মামু হতে পারেন কোন চা, ঝালমুড়ি, চটপটি বা বাদাম বিক্রেতা। তবে মামু বয়সে ছোট হলে তাকে "মাম্মাহ্" ডাকার চল আছে। মামুর মতোই আরেকটি প্রচলিত সম্বোধন হচ্ছে "কাক্কাহ্"। বন্ধুকূলে আড্ডাকালে বয়সে সমান কিন্তু দেখতে বড়সড় এমনদেরকে মামা ডাকারও চল আছে। <img src=" style="border:0;" />
এছাড়াও কাউকে বোকা, বলদ, আবাল মামু বোঝানো হলেও মামু শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যেমন মুন্না ভাই MBBS এ সন্ঞ্জয় আর আরশাদ কাউকে বোকা বোঝাতে সবসময় বলতো - ''বিলকুল মামু হ্যায়''। কিংবা বেকুব বানানো অর্থেও মামু বলতো, যেমন - ''উসকো মামু বানা দিয়া''।

প্রঃ মামুরা কি বিপদজনক?
উঃ কখনো কখনো। বিশেষতঃ মামুর মধ্যে যদি চোগলখোরীর স্বভাব থাকে তবে গোপন কথাটি আর রইবে না গোপন এবং এক জায়গার কথা অন্য জায়গায় পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগবে না। এসব ক্ষেত্রে অফিসের পিয়ন মামুরা সবচাইতে বিপদজনক। অফিসে আপনার বসের ব্যাপারে করা কোন কটুক্তিই আপনার কাল হয়ে যেতে পারে।

প্রঃ মামুদেরকে মামু কেন ডাকা হয়?
উঃ মামার কাছে আব্দার করে যেমন খুব সহজেই কোন কিছু পাওয়া যায়, মামুদের কাছে কোন কিছু চাওয়াটাও ঠিক তেমন। ঠিক যেন মামাবাড়ির আব্দার। এছাড়াও কাওকে ডাকার জন্য সম্বোধন খুঁজে না পাওয়াটাও মামু ডাকের অন্যতম প্রধান কারন। অনেকেই আবার মামু ডেকে স্মার্টনেস জাহির করতে চান। বিখ্যাত হিন্দি ম্যুভি মুন্না ভাই MBBS এর জনপ্রিয় দু'টি চরিত্র মুন্না (সন্ঞ্জয় দত্ত) আর সার্কিটকে (আরশাদ ওয়ারসি) খুব ঘনঘন "মামু" ডাকটি ডাকতে দেখা গিয়েছিলো। <img src=" style="border:0;" />

যারা মামু হতে পারেন

১. কলেজ বা ভার্সিটির ক্যান্টিন, ক্যাফেটেরিয়ার বা কোন সেকেন্ড ক্লাস রেস্টুরেন্টের বেয়ারা

২. অফিসের পিয়ন

৩. দারোয়ান

৪. স্কুল ও কলেজের ল্যাব এ্যাসিস্টেন্ট/সহকারী

৫. রাস্তার পাশের মুদির দোকান বা চায়ের তোকানের বিক্রেতা, চা, ঝালমুড়ি, চটপটি বা বাদাম বিক্রেতা

৬. রিকশাওয়ালা, সিএনজিওয়ালা, বাস চালক বা বাসের কন্ড্যাকটর

৭. পুলিশ

৮. সরকারী প্রতিষ্ঠানের দালাল গোষ্ঠীর সদস্যরা

৯. বিদ্যুত, পানি, গ্যাসের লাইন মেরামতকারী বা যে কোন কিছুর মেকানিক


মামুর প্রকারভেদ:

মামু প্রধানত দুই প্রকার। এরা হলেন -

১. সুবিধাবাদী মামু: সুবিধাবাদী মামুরা হলেন সেই মামু যারা কোন কাজ করে দেবার জন্যে টাকা বা কোন বাড়তি সুবিধা নেন। প্রফেশনাল মামুরা এই লেন-দেনের বিষয়টাতে বেশ অভ্যস্ত হয়ে পরেন। যেমন: অফিসের পিয়ন মামু, কেমিস্ট্রি বা ফিজিক্স ল্যাবের মামু। <img src=" style="border:0;" />

২. স্বপ্রণোদিত মামু: এরা কোনা কাজ করে দেবার জন্যে কোনরূপ প্রতিদান আশা করেন না। কখনো কেউ খুশি হয়ে কিছু দিলে নিতে চান না, বাধ্য হয়ে নেন। স্বপ্রণোদিত মামুদের কে তাই সত্যিকারের উপকারী বলা যেতে পারে। <img src=" style="border:0;" />

পরিশেষে:

মামু সম্প্রদায় আজ আমাদের সমাজের একটি অপরিহার্য অংশ। মামুদের দ্বারা অনায়াসেই আমরা অনেক কঠিন কঠিন কাজও করে ফেলছি মুহূর্তেই - তা সে কেমিস্ট্রি ল্যাবে লবন শনাক্তকরনই হোক আর অফিসে ফাইল চালাচালি। মামু ছাড়া আজ আমরা অচল। আর তাই এই মামুদের স্মৃতিচারন করে তাদের প্রতি একটি গান উৎসর্গ করলাম। <img src=" style="border:0;" />



ফিল্ম: মুন্না ভাই MBBS
গান: সুবাহ্ হো গ্যায়ি মামু
ডাউনলোড লিংক: View this link

ভিডিও:



কৃতজ্ঞতা:

বোকা বোঝাতে মামু শব্দটির ব্যবহার অংশটি ব্লগার ইন্ডিয়ানা জোন্সের কমেন্টের সৌজন্যে প্রাপ্ত। তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ! <img src=" style="border:0;" />

একটি নাফিস ইফতেখার ল্যাবরেটরী গবেষণা ২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28874837 http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28874837 2008-11-27 11:45:06
ক্লান্তি

আজ খুব সকালে ঘুম ভেঙেছে, সাধারণত এতো সকালে ভাঙেনা। উঠে দেখি বাইরে তখনও সূর্যের আলো ফোটেনি ঠিকমতো। ৩ বার বিছানা এপাশ-ওপাশ করে আড়মোড়া ভাঙলাম। ধুর ছাই! এমন একটা টাইমে ঘুমটা ভাঙলো, আরেকটু ঘুমাতে ইচ্ছে করছে কিন্তু সেটা আসছে না, আবার জেগে থেকে কি করবো তাও ভেবে পাচ্ছি না। তার ওপর আবার দেখি গায়ের ওপর থেকে কাঁথা সরালেই শীত লাগে। আমার আবার একটা বাজে স্বভাব আছে - কি গরম কি শীত, ফ্যান ফুল স্পিডে না ছেড়ে শুতে পারি না, কেমন জানি অস্বস্তি লাগে। মনে আছে আরো অনেক ছোট যখন ছিলাম তখন তুমুল শীতের রাত্রে আমি কম্বলের নিচে ঢুকে গুটিশুটি মেরে শুয়ে থাকতাম। পুরো শরীর থাকতো কম্বলের নিচে - যাকে কিনা মুড়ি দিয়ে শোয়া বলে। তো তখন কম্বলের ভেতরে শুয়ে শুয়ে আমি কম্বলের ভাঁজ এদিক-ওদিক করে গুহার মতো একটা আবহ তৈরি করার চেষ্টা করতাম, নিজেকে তখন বেশ গুহাবাসী গুহাবাসী বলে মনে হতো। গুহার ভেতরে আমি নিজের হাতের আঙ্গুল দিয়ে কৃত্তিম মানুষ বানিয়ে হাঁটাতাম। মাঝে মাঝে মাথার সাইডে কম্বল একটু ফাঁক করতাম, বাইরে দেখতাম, সেই ফাঁক দিয়ে হু হু করে ঠান্ডা বাতাস ঢুকে আমাকে কাঁপিয়ে দিতো। আর আমি সাথে সাথে ফাঁক বন্ধ করে আবার গুটিশুটি মারতাম। কিন্তু শরীরে হঠাৎ করে ধরা সেই কাঁপুনি ছাড়তে অনেক সময় লাগতো।

কতোদিন আমি আর এই খেলা খেলিনা ভেবে অবাক হচ্ছিলাম। একটু হাসিও পাচ্ছিলো এই ভেবে যে - এই বয়সে এসব ভাবছি, মানুষ শুনলে হাসবে আমার ওপর। কিন্তু কি করবো? বয়স বেড়েছে, মনটাতো আজো শিশুই থেকে গিয়েছে। সেই পুরনো খেলা খেলার একটা চেষ্টা চালালাম আজ সকালে। কাঁথা ছেড়ে পায়ের কাছে ভাঁজ করা কম্বলটা নিলাম। কম্বলের ভাঁজ খুলে নিজেকে তার ভিতর গলিয়ে দিলাম। কিন্তু হায়! আমার সে পুরানো জজবা তো আর ফিরে আসে না। বুঝলাম, হবেনা। উল্টো গরম লাগছিলো। আবার কাঁথার নিচে ঢুকলাম। আসলে জজবা আসবে কোথা থেকে? আর সব কিছুর মতো শহরের শীতেরও মনে হয় দাম বেড়েছে - হিসাব করে আসে। শেষ কবে শীতের বাতাস এসে আমার শরীরে কাঁপুনি ধরিয়েছে মনে নেই। শুধু শীত কেন? গত ৫ বছরে কোন জিনিসটা ঠিক মতো হয়েছে? প্রকৃতি? রাজনীতি? না না! উত্তর হলো দুর্নীতি। গত ২ বছরে একজন লোককে দেখেছি টিভিতে সারাদিন ধরে বলে বেড়ায় দুর্নীতিকে অমুক কারেঙ্গা, তমুক কারেঙ্গা। হায়রে! এ দেশের মানুষগুলা পিঁয়াজের মতো। যতোই ছোলা উঠাও না কেন, সেই পিঁয়াজই পাওয়া যাইবে। এই ছোলা উঠানোর জন্যে দেশব্যাপি শোভাযাত্রার প্রয়োজনটা তখন মাথায় ঢোকেনি, আজো ঢোকেনা।

বালিশের পাশ থেকে মোবাইলটা হাতে নিলাম। mig এ ঢুকে দেখলাম কেউ অনলাইনে আছে কিনা। কেউ নেই। অগত্যা হেডসেট কানে লাগিয়ে FM চালু করলাম। নাহ্! কোথাও ভালো কোন গান নেই। এবারে মোবাইলের মিউজিক প্লেয়ারে গেলাম।

"......চাঁদের আলো আজ যদি ভালো লাগে কাল হয়ে যায় ঝাপসা
আমার এ তরী যদি চলে যায় ফিরে আর আসবেনা..........
যতো ভালোবাসি তারে......দূরে রয়ে যাবে তা তো আমি জেনেছি.......


চোখটা বুজলাম। স্বর্গীয় অনুভূতি বলে একটা কথা আছে। কিছু কিছু গান আমাকে সেই অনুভূতি দেয়। নুপূর-১ ও পারেনি, কিন্তু নুপূর-২ পেরেছে। কারনটা কি অনিলা? হয়তো। চোখ দুটো একটু বুজে এসেছিলো, হঠাৎই তীব্র একটা আওয়াজে চোখ খুলে গেলো -

"পাখি পাকা পেঁপে খায়......."

ধুর! কিসের মধ্যে কি। স্টোয়িক ব্লিসের গান। চেইন্ঞ্জ। পুনরায় নুপূর-২ তে। এবার Repeat সহ। পুনরায় চোখ বোজা। পুনারায় মনে হুরপরীদের আনাগোণা।

কতক্ষণ পর জানি না। আবার একটু চোখ খুললাম। বাইরে আলো বাড়ছে, নেভি-ব্লু পর্দার মাঝখানের সাদা অংশের বাড়তি উজ্জ্বলতা দেখে বুঝলাম। একটা বিশাল হাই তুললাম। চোখ বন্ধ করলাম। অন্ধকার দেখছি... ... আরো অনেকেই দেখছে... ... কেউ ঘুমিয়ে... ... কেউ বা জেগে... ... কেউ বর্তমানে... ... কেউবা ভবিষ্যতে... ... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28874772 http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28874772 2008-11-27 09:19:19
ইন্টারনেটের প্রকৃত ইতিহাস - ৪র্থ ও শেষ পর্ব (ওয়েব বিপ্লব) অন্যান্য পর্বসমূহ:

১ম পর্ব: ব্রাউসার যুদ্ধ
২য় পর্ব: সার্চ ইন্ঞ্জিন
৩য় পর্ব: ইন্টারনেট ব্যবসা - ডট কম বাবল



ওয়েব বিপ্লব:

বলুনতো আজ এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমি, আপনি, আমরা সবাই প্রতিটি মূহুর্ত কিসের আসায় থাকি? কি সেই জিনিস যা আমরা প্রতিনিয়ত খুঁজে ফিরি, যাকে আমরা আর সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেই? একজন আদর্শবাদী হয়তো বলবেন এর জবাব হলো - "প্রেম" অথবা হয়তো "সুখ"। একজন রাজনীতিবীদ হয়তো উত্তরে বলবেন - "ক্ষমতা" বা "টাকা"। কিন্তু আমি উত্তরে বলবো মানব জাতির সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা হলো - "যোগাযোগ"।

আজ একবিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্নে এসে যোগাযোগ ব্যবস্থা আর যোগাযোগের ধরন এ সব কিছুরই পরিবর্তন ঘটছে প্রতি মূহুর্তে। আজ থেকে ২০ বছর আগেও আমাদের সভ্যতা, আচার, ব্যবহার, আমাদের ওঠা-বসা, আমরা কি দেখবো, পড়বো বা শুনবো এসবই পুরোটাই নিয়ন্ত্রিত হতো টেলিভিশন, সংবাদপত্র, চলচ্চিত্র আর মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির বিগ বসদের দ্বারা। শুধু তাই নয়, এই বিগ বসদের হাতেই নির্ধারিত হতো আপনি কতটুকু তথ্য পাবেন, কখন ও কোথায় পাবেন এবং তার জন্য আপনাকে কতো খরচ করতে হবে। কিন্তু আজ ২০০৮ এ এসে এ সব কিছুরই হিসেব পাল্টে গিয়েছে। আর এই হিসেব পাল্টানো নির্নায়কটির নাম হলো - "ইন্টারনেট"। বর্তমান ইন্টারনেট হলো সেই মিডিয়া - "যা কারো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়, কিন্তু গড়ে উঠছে সবার সহায়তায় (Controlled by no one and shaped by everyone)", আরেক কথায় - "আমাদের মিডিয়া"। আজ ইন্টারনেট আমাদের যোগাযোগের পন্থায় আর ধরনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে, নিয়ন্ত্রন করছে আমাদের সভ্যতাকে, আমাদের হাঁটা-চলা, ওঠা-বসা সবকিছু। তথ্য-যোগাযোগ আজ আর শুধু কতিপয় ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে মুষ্ঠিবদ্ধ কোন ক্ষমতা নয়, বরং সবার জন্য বিনামূল্যে বিতরণকৃত এক উপযোগিতা।

এখন পর্যন্ত আমরা জেনেছি কিভাবে ইন্টারনেট আমাদের জীবনে পরিবর্তন এনেছে, কিন্তু আজ আমরা জানবো কিভাবে আমরা মানুষরা, ইন্টারনেটে পরিবর্তন এনেছি। আসুন প্রথমে কয়েক জন মানুষের সাথে পরিচিত হই - চ্যাড হার্লি (Chad Hurley) , জাওয়েদ করিম (Jawed Karim) , স্টিভ চেন (Steve Shih Chen) , কেভিন রোজ (Kevin Rose) , জে. এডেলসন (Jay Adelson) । নিশ্চিতভাবে বলতে পারি আপনাদের অনেকেই আজ প্রথমবারের এদের নাম শুনছেন। এদের মধ্যে কেভিন রোজ আর জে. এডেলসন হলেন বিখ্যাত সোস্যাল নিউজ ওয়েবসাইট digg এর সহপ্রতিষ্ঠাতা।


কেভিন রোজ


জে. এডেলসন

digg এর শীর্ষ খবরগুলো নির্ধারিত হয় digg এর নিবেদিত প্রাণ ভক্তকূল ও পাঠকদের দ্বারা অনেকটা ভোটিং সিস্টেমের মধ্য দিয়ে। আরকে কথায় digg এর পাঠকরাই এর সম্পাদক। অন্যদিকে চ্যাড হার্লি, জাওয়েদ করিম ও স্টিভ চেন হলেন পৃথিবীর তুমুল জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলোর একটি ইউটিউব (Youtube) এর সহপ্রতিষ্ঠাতা, যা ২০০৬ সালে গুগোল ১.৬৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কিনে নেয়।


ছবির বাম থেকে ডানে ক্রমানুসারে- চ্যাড হার্লি, স্টিভ চেন ও জাওয়েদ করিম

Youtube এ পৃথিবীর কোটি মানুষ তাদের নিজস্ব ভিডিও আপলোড করেন ও শেয়ার করেন সাইটটির কোটি কোটি ব্যবহারকারী আর দর্শকদের সাথে। গুগোলের মতো বিচক্ষণ কোম্পানীর ইউটিউবের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আঁচ করতে খুব বেশি সময় লাগেনি।

উপরে চ্যাড হার্লি, কেভিন রোজ বা অন্যান্যদের ছবিগুলো দেখে প্রথমেই আপনাকে যে ভাবনাটা ভাবাবে তা হলো এদের বয়স। অত্যন্ত তরুণ বয়সেই অপরিসীম সাফল্যের মুখ দেখেছেন এরা। এদেরকে দেখে আপনার আর দশজন টাকার লোভে শুরু হওয়া স্টার্টআপার তরুণ বলে মনে হতেই পারে, মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে ভাবনাটা শুধু টাকা আয়ের চেয়ে একটু বেশি ভেবেছিলেন বলেই আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছেন তারা। আর সেই অতিরিক্ত ভাবনাটা ছিলো তাদের আবিষ্কার দিয়ে আর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইন্টারনেট তথা পুরো পৃথিবীকে পরিবর্তনের ভাবনা। আর এইসব তরুণরাই হচ্ছেন Web 2.0 (ওয়েব টু পয়েন্ট ও) বিপ্লবের কর্ণধার।

Web 2.0 এর মূল কথাটাই হচ্ছে শেয়ারিং - হোক তা কোন ঘটনা বা আপনার জীবনের কোন মূহুর্ত। Web 2.0 একমুখী ওয়েবকে দ্বিমুখী করেছ - শুধু যে আপনি কোন কিছু নিজেই উপভোগ করে সন্তুষ্ট থাকবেন তাই নয়, অন্য কারো সাথে শেয়ার করে আপনি তাকেও সমান বিনোদিত করার ক্ষমতা পাচ্ছেন। এইতো মাত্র কয়েক বছর আগের কথা। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠানগুলো পূর্ণ ছিলো বহু বছরের পুরাতন ঐতিহ্য আর প্রথায়। কিন্তু এখন আর নয়। Youtube এর মতো সার্ভিস আমাদেরকে সুযোগ করে দিয়েছে অনলাইনে প্রত্যেকের নিজের ভিডিও চ্যানেল খোলার। আজ আমরা নিজেরাই একেকটি টিভি চ্যানেলের মালিক। বহু বছর ধরে সম্প্রচারের যে ক্ষমতা সীমাবদ্ধ ছিলো শুধুমাত্র কতিপয় ব্যাক্তির হাতে আজ সেই ক্ষমতা সবার হাতে। একটু আগে যে digg এর কথা বললাম, digg ও অনেকটা Youtube এর মতোই সেবা আমাদেরকে দিয়ে যাচ্ছে। শুধু digg এর এক্ষেত্রে পার্থক্যটা হলো কন্টেন্ট। Youtube যেখানে ভিডিও সম্প্রচার আর শেয়ার করবার ক্ষমতা দিচ্ছে সেখানে digg দিচ্ছে খবর বা সংবাদ শেয়ার করার ক্ষমতা। তবে কোন সংবাদপত্রের ন্যায় digg এ কোন খবর স্থান করে নেবে কি নেবে না এ সিদ্ধান্তটা নেয় পাঠকরা নিজেরাই। যতো বেশি বার ইন্টারনেটে একটি পেইজকে digg করা হয়, অর্থাৎ কিনা ভোট দেয়া হয়, সে সংবাদটি ততো গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। ব্যাপারটা এভাবে কল্পনা করা যেতে পারে - digg এর মাধ্যমে একই বিষয়ে New York Times এ প্রকাশিত একটি খবর এবং ইন্টারনেটে কোন ব্লগে প্রকাশিত কোন একটি পোস্ট একই কাতারে চলে আসছে। আর সিদ্ধান্ত পাঠকের হাতেই কোনটাকে তারা বেশি গুরুত্ব দেবেন, বিশ্বাস করবেন।

Youtube আর digg এর মতো সার্ভিসগুলো একটি সুনির্দিষ্ট নীতির ওপর ভর করে গড়ে উঠেছে, আর তা হলো - "জনসমর্থন নীতি"। মানুষ হিসেবে প্রকৃতিগতভাবেই আমরা নিজেদের প্রচার ভালোবাসি, আর এই সুযোগটাই Youtube আর digg কাজে লাগিয়েছে। তবে এই প্রচারের ব্যাপারটা বোধ করি আমাদের পরবর্তী আলোচ্য ব্যাক্তিটির চাইতে ভালো করে কেউ জানেন না - মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg)।


মার্ক জাকারবার্গ

মার্ক জাকারবার্গ হচ্ছেন বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় সোস্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক ফেইসবুকের (Facebook) প্রতিষ্ঠাতা। Web 2.0 এর যুগেও ফেইসবুকের জনপ্রিয়তা প্রায় অবিশ্বাস্য। বর্তমানে Facebook এর ব্যবহারকারী প্রতি সপ্তাহে ৩% করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ২ লক্ষ নতুন ব্যবহারকারী Facebook এ যোগ দিচ্ছেন। Facebook এর বাজার মূল্য এখন আন্দাজ লাগানোও কষ্টকর। ২০০৭ সালের অক্টোবরে মাইক্রোসফট (Microsoft) Facebook এর মাত্র ১.৬% শেয়ার কেনে ২৪৬ মিলিয়ন ডলার খরচ করে। আর এটাই বলে দেয় Facebook এর মূল্য এখন কত! Facebook কে অভিহিত করা হয়ে থাকে পরবর্তী গুগোল হিসেবে আর মার্ক জাকারবার্গকে দেখা হয় ভবিষ্যৎ বিল গেটস রূপে। Facebook এর মতোই আরো একটি জনপ্রিয় সোস্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক হচ্ছে মাইস্পেস (Myspace) যার জন্ম ২০০৩ এ। কয়েক বছরের মধ্যেই Myspace তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। একটা সময় ছিলো যখন Myspace ভিসিটের দিক দিয়ে গুগোলকেও ছাড়িয়ে যায়। এটাই সম্ভবত Web 2.0 এর সবচেয়ে মজাদার দিক, আজ আপনাকে এমন একটি কোম্পানী বা ব্যাক্তির নাম বলা হলো যার নাম আপনি আগে কোনোদিন শোনেননি, আর পরের দিনই দেখবেন সেই কোম্পানী বা ব্যাক্তিরই চারিদিকে জয়জয়কার।

কিন্তু সত্য কথা বলতে গেলে কি - Youtube, digg, Facebook বা Myspace এর উত্থানটা কিন্তু পুরোপুরি শূণ্য থেকে নয়। বরং এই কোম্পানীগুলোর উত্থানের পেছনে রয়েছে আরো একটি যুগান্তকারী প্রযুক্তির অবদান যার বয়সও খুব বেশি নয় - এইতো হবে বছর দশেক। আর তারাই অনলাইন শেয়ারিং ধারণার প্রবর্তক। যার কথা এখন বলবো তিনি শুধু প্রোগামারই ছিলেন না, একইসাথে ছিলেন সঙ্গীতপ্রেমী। আমরা বলছি বিখ্যাত অনলাইন মিউজিক ফাইল শেয়ারিং নেটওয়ার্ক ন্যাপস্টার (Napster) আর এর প্রতিষ্ঠাতা শন ফ্যানিং (Shawn Fanning) এর কথা।


শন ফ্যানিং

আজ থেকে ১০ বছর আগেও ইন্টারনেট ছিলো অনেকটাই নিরস একটা মিডিয়া। সংবাদপত্র বা টেলিভিশনের মতো আর ১০টা মিডিয়ার থেকে ভিন্ন ছিলো না কোনো দিক দিয়েই। ইন্টারনেটে তখনও মানুষ তখন শুধু তথ্য পেতো যেমনটা সংবাদপত্র বা টেলিভিশন থেকে পেয়ে থাকি আমরা - পার্থক্য শুধু এই যে তথ্যগুলো দেখা যেতো কম্পিউটারের পর্দায়। এমন একটি সময়েই Napster এর আবির্ভাব। তখনকার একজন এ্যামেরিকান সঙ্গীতপ্রেমীর জীবনটা ছিলো অনেকটা এমন। ধরুন আপনার একটা গান রেডিওতে শুনে খুব ভালো লাগলো। আপনি কষ্ট করে দোকানে গিয়ে সেই এ্যালবামের সিডি কিনে আনলেন, যে গানটি ভালো রেগেছিলো তাও শুনলেন। কিন্তু মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো যখন দেখলেন যে ঐ এ্যালবামের আর একটা গানও ভালো না - অর্থাৎ পুরো টাকাটাই জলে। প্রায় প্রতি ক্ষেত্রেই অবস্থাটা এমনই ছিলো এবং কারোরই কিছুই করার ছিলো না। Napster প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদেরকে সুযোগ করে দিয়েছিলো অনলাইনে কোন এ্যালবামের সব গান ডাউনলোড করে শোনবার অথবা পছন্দ মতো গান বেছে নিয়ে শোনবার, আর এর সবই বিনামূল্যে! প্রায় ঐ সময়ই বিখ্যাত কোম্পানী আইবিএম (IBM) একটি বেশ ব্যয়সাপেক্ষ জরিপ চালিয়েছিলো এটা যাচাই করতে যে মানুষ ইন্টারনেট থেকে গান ডাউনলোড করে শুনতে বা সিডিতে বার্ন করার ব্যাপারে কতোটা আগ্রহী। আর এই জরিপের ফলাফল যা এসেছিলো তা ছিলো প্রায় অবিশ্বাস্য! IBM এর জরিপের ফল ছিলো যে মানুষ এমন কোন কিছু করতে মোটেও আগ্রহী নয়। আর এর ফলাফল যা হবার তাই হয়েছিলো - প্রথম থেকেই Napster প্রতি মিউজিক কোম্পানীর কপিরাইট আইন ভঙ্গ করার অভিযোগের আগুনে এই জরিপের ফল যেন তুষ ছড়িয়ে দিলো, ফলস্বরূপ Napster বন্ধ হয়ে গেলো। Napster বন্ধ হয়ে গেলেও পাইরেসি কি বন্ধ হয়েছে? বিট টরেন্ট (BitTorrent) , কাজা (Kazaa) , লাইমওয়্যার (LimeWire) এর মতো ফাইল শেয়ারিং সার্ভিসগুলো Napster এর অসম্পূর্ণ প্রজেক্টকেই যেন পূর্ণতা দিয়েছে এবং তাও ব্যাপক আকারে। Youtube এর মতো ওয়েবসাইটে কপিরাইটেড ভিডিওর ছড়াছড়ি। IBM সেই জরিপের ফল কতোটা হাস্যকর ছিলো তা আমরা বুঝি যখন দেখি বাজার ছেয়ে গিয়েছে ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোডকৃত গানের MP3 এ। আর Apple এর মতো প্রতিষ্ঠান iTunes Store এর মতো সার্ভিস থেকে কোটি কোটি ডলার আয় করছে যেখানে প্রতিটি গান শক্ত কপিরাইট নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ ০.৯৯ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

মাইস্পেসের প্রথম দিককার জনপ্রিয়তার পেছনেও কিন্তু ছিলো এই অনলাইন মিউজিক শেয়ারিং সিস্টেম। ২০০৫ এ প্রায় ৫৮০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে নিউজ কর্প (News Corp) গ্রুপ কিনে নেয়। কিন্তু শীঘ্রই Facebook এর জনপ্রিয়তার কাছে Myspace ম্লান হয়ে যায়। Web 2.0 এর যুগে আসলে যুদ্ধটা নতুন আর পুরাতনের মধ্যে নয়, বরং নতুন বনাম নতুন।

আসলে Youtube, digg, Facebook বা Myspace এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের আন্দাজের চাইতেও অনেক বেশি শক্তিশালী। আর এই শক্তিটাই স্বাভাবিকভাবে অনেকের কাছে ভয়ের কারন। ২০০৭ এ Youtube এর বিরুদ্ধে কপিরাইটেড ভিডিও সাইটে দেয়ার অভিযোগ এনে ১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবী করে মামলা করে বিখ্যাত মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ভায়াকম (Viacom)। কিন্তু Napster কে ভূপাতিত করা যতোটা সোজা ছিলো, Youtube এর ক্ষেত্রে তা অতোটা সোজা নয়। কারন Youtube এর মালিক আর কেউ নয়, গুগোলের মতো একটি প্রতিষ্ঠান। একই রকম একটি শঙ্কা আছে উইকিপিডিয়ার (Wikipedia) মতো ওপেন এনসাইক্লোপিডিয়াকে প্রজেক্টকে নিয়েও। এই এনসাইক্লোপিডিয়ার অধিকাংশ তথ্যই এর ব্যবহারকারী আর পাঠকদের দেয়া তথ্য নির্ভর। আর তাই তথ্য বিকৃতির অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। তবে শক্ত মোডারেশনের জন্য কখনোই বেশিদূর যায়নি এই ব্যাপারগুলো। Myspace এর মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ বছর বয়সী তরুনী মেগান মাইয়ারকে (Megan Meier) আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করে আত্মহত্যায় বাধ্য করানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে।


ইংরেজীতে যে একটা কথা আছে - "With great power comes great responsibility (ক্ষমতা যতো বড় হয়, দায়িত্বও ততো বেড়ে যায়)"। Web 2.0 বিপ্লবের এই যুগে এই বিপ্লবের কর্ণধার যারা তারা এই কথাটার যাতে প্রতিফলন ঘটাবে তাদের কর্মকান্ডে এটাই সবার প্রত্যাশা।


* ডিসকভারি চ্যানেলে প্রচারিত Download - The True History of Internet অনুষ্ঠান অবলম্বনে রচিত।

কৃতজ্ঞতা:

এই পোস্টের কিছু ছবি ও সকল বহির্গামী লিংক উইকিপিডিয়া থেকে সংগৃহীত

এই ধারাবাহিক প্রবন্ধের সকল নিয়মিত আর অনিয়িমিত পাঠককে অসীম ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে এই লেখাগুলো পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনাদের প্রেরণা ছাড়া এই দীর্ঘ লেখাগুলো রচনার ধৈর্য্য আমার হয়তো জন্মাতো না। শীঘ্রই লেখাটার ৪ পর্ব পিডিএফ করে পোস্ট দিবো ভাবছি।

অন্যান্য পর্বসমূহ:

১ম পর্ব: ব্রাউসার যুদ্ধ
২য় পর্ব: সার্চ ইন্ঞ্জিন
৩য় পর্ব: ইন্টারনেট ব্যবসা - ডট কম বাবল ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28874180 http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28874180 2008-11-25 23:51:03
বাংলাদেশ ২১০৮ - একটি ভবিষ্যৎ দর্শনমূলক কবিতা (নির্বাচনী হাওয়ায় রিপোস্ট)

আজি হতে শত বর্ষ পরে, যখন তুমি পড়বে আমার কবিতাখানি....
দেখবে এই বাংলাদেশটা নেই আর যেমন আমরা জানি....

আওয়ামী-জামাত বাঁধবে জোট....
বুক ফুলিয়ে চুরবে ভোট....
পরিবারতন্ত্রে বড়ই সুখ....
জনগণের বন্ধ মুখ....

চালের মূল্য আকাশ ছোঁবে....
হাজার টাকা কেজি হবে....
জেনে রেখো শুধু তবে....
ইনকামটা একই রবে।

তারেক রহমান স্মৃতি পুরষ্কার....
পাবে যত চোর রাজাকার....
মুক্তিযোদ্ধা?? সেটা আবার কি?
রাজাকারদের বিচার বাকি....

ঘরে ঘরে সব গোল্ডেন এ প্লাস....
ফেল নেই কোন, শতভাগ পাস....
প্রকৌশলি ডাক্তার হাজার হাজার....
বন্ধ শুধু চাকরীর দুয়ার....

বিএনপি ফের লাগবে জোড়া....
দেশটাকে করবে খোঁড়া....
হাসান মশহুদের বংশীয়রা....
অত্যাচারে দেশছাড়া....

মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান....
নিজামী শালা পাবে সম্মান....
দূর্নীতি ফের হবে বলিয়ান....
ফিরে পাবে তার শীর্ষস্থান....

তখন থাকবো না আমি....
থাকবে না তুমি....
থাকবেন শুধু অন্তর্যামী....
দাঁত কেলিয়ে হাসবে আমার কবর চাপা খুলি....
করবে বয়ান মৃত্যুসুখ আর আনন্দের বুলি....
"বেঁচেছি মরে আমি তোমার কোলে মাগো....
তোমার সন্তানদের বলবো শুধু - জাগো! বাঙালি জাগো!"



* মজার জায়গা সামহয়ার...রাজাকারের বিরুদ্ধে বললে ভারতের পা-চাটা কুকুর, ভারতের বিরুদ্ধে বললে রাজাকার, ইসলামের একটা ত্রুটি বের করার সামান্য প্রচেষ্টা করলেও নাস্তিক, ইসলামের একটি ভালো দিক তুলে ধরা পোস্ট করলেও মৌলবাদী, বিএনপির বিরুদ্ধে বললে আওয়ামীপন্থি, আওয়ামী লিগ নিয়া কথা বললে বিএনপি'র পোষা কুকুর, জামাতের পক্ষে বললে রাজাকার, বিপক্ষে বললে নিজেই রাজাকারদের টার্গেট।

কবিতা লিখেছি বটে, কিন্তু সাথে এও দোয়া করি যেন আমার কবিতার একটি বাক্যও সত্য না হয়। নিজেকে নিরপেক্ষ দাবী করছি না, কিন্তু নিজেকে এই দেশের একজন অত্যাচারিত নাগরিক দাবী করতে হয়তো পারি। ইতিহাস নাকি পুরনো শয়তান মেরে নতুন শয়তান সৃষ্টি করে। আমি নতুন শয়তান দেখতে রাজি আছি, তাও যদি পুরানগুলা বিলুপ্ত হয়।

কি আওয়ামী লীগ, কি বিএনপি, কি জামাত.........সব শালাই এক.........আর এটাই বাংলাদেশের আসল রূপ........]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28874027 http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28874027 2008-11-25 17:33:04
ওবামার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম!!! <img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" />

এখানে লিখা আছে:

WELCOME MR. OBAMA
আসুন আমরা আপনার জন্যই অপেক্ষা করছি, এই অচল বিশ্বকে সচল করতে আপনাকেই দরকার, আমরা প্রার্থনা করি আপনি সফল হউন।
প্রচারে: উজ্জল নক্ষত্র


স্থান: রাজার দেউরি, পুরান ঢাকা
সময়: আজ দুপুর ১.৩০ টা


এতোদিন খালি আমাদের দেশি নেতাদের জন্য এমন প্রচার দেখেছি, কিন্তু এখন দেখছি ওবামা মামাও যোগ দিসে। জয়তু ওবামা মামা <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28873110 http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28873110 2008-11-23 17:06:37
ওরে আমার প্রেমরে!!! (পর্ব-২) ডঃ(!) মাহফুজুর রহমান আর ইভা রহমান <img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" /> " style="border:0;" />


স্রষ্টা বনাম সৃষ্টি(হেডিং কইলাম আমি দেই নাই, পত্রিকাওয়ালারা দিসে <img src=" style="border:0;" />)

এই অনবদ্য (!) জুটি সম্বন্ধে মন্তব্য করে আমাকে বাধিত করুন। <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />

এর আগের পর্ব: ওরে আমার প্রেমরে!!! ফারুকী-তিশা <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28872806 http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28872806 2008-11-22 23:57:47
ইন্টারনেটের প্রকৃত ইতিহাস - ৩য় পর্ব (ইন্টারনেট ব্যবসা - ডট কম বাবল) অন্যান্য পর্বসমূহ:

১ম পর্ব: ব্রাউসার যুদ্ধ
২য় পর্ব: সার্চ ইন্ঞ্জিন
৪র্থ পর্ব: ওয়েব বিপ্লব



ইন্টারনেট ব্যবসা - ডট কম বাবল

যদি আপনাকে খুঁজতে বলা হয় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিতে যুগান্তকারী কোন আবিষ্কার যার এখনো উন্মোচন হয়নি, আপনি প্রথমেই কোথায় খোঁজ করবেন? আপনি কোথায় খুঁজবেন তা আমি জানি না, তবে আমার পরামর্শ থাকবে সবার আগে কোন গ্যারেজে খুঁজুন! শুনতে একটু কেমন কেমন লাগছে? তাহলে বলে রাখি, তথ্যপ্রযুক্তির ইতিহাসে অসংখ্য বৈপ্লবিক আবিষ্কারের আঁতুরঘর ছিলো গ্যারেজ - এমনকি HP আর Apple এর মতো প্রতিষ্ঠানেরও, এ তালিকা শেষ হবার নয়। আজ আলোচনার শুরুটা যে প্রতিষ্ঠনটিকে দিয়ে তার জন্মস্থানও কিন্তু এই গ্যারেজ - Amazon.com। এই গ্যারেজটির অবস্থান ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে আর এর মালিক ছিলেন জেফ বেজাস (Jeffrey Bezos)।


জেফ বেজাস

বেজাসের কর্মজীবনের জীবনের শুরুটা ওয়াল স্ট্রিটে (Wall Street)। উনি ছিলেন যাকে এক কথায় বলা যেতে পারে সারাদিন হিসেবের মধ্যে ডুবে থাকা মানুষ। যখন ইন্টারনেটের আগমণ ঘটলো তখন থেকেই তিনি চিন্তা করতে থাকলেন কি ধরনের পণ্য ইন্টারনেটে বিক্রি করা যেতে পারে। এ জন্য তিনি তালিকার পর তালিকা বানিয়েছিলেন, আর সবসময়ই সেসব তালিকায় সবার ওপরে স্থান পেতো ‌‍‍‍"বই"। এর প্রধান কারন হলো একটা জেফ সেই সময়ই বুঝতে পেরেছিলেন পৃথিবীতে কোটি কোটি বই আছে আর এই সব বইকে বা তার কোন ক্ষুদ্র অংশকেও একত্রিত করা পৃথিবীর কোন লাইব্রেরীর পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু এই কঠিন কাজটাই সম্ভব ছিলো ইন্টারনেটে। জেফ বেজাস ১৯৯৫ সালে Amazon.com নামক সাইট উন্মুক্ত করেন। স্বভাবতই প্রথম থেকেই Amazon.com এ প্রাধান্য পেতো বই।


পিয়েরে অমিডিয়ার

ঠিক সেই সময়কারই কথা - যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে পিয়েরে অমিডিয়ার (Pierre Omidyar) নামে একজন তরুণ সফটওয়্যার প্রোগ্রামারও ইন্টারনেটে ব্যবসার কথা চিন্তা করেছিলেন। আজ পিয়েরে অমিডিয়ার একজন সফল ও অত্যন্ত ধনী একজন মানুষ। কিন্তু সেই ৯০' এর দশকে অমিডিয়ার ছিলেন Apple Computer এ কর্মরত একজন নগন্য সফটওয়্যার প্রোগ্রামার মাত্র। কিন্তু অমিডিয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, আর তার সেই স্বপ্নই রূপ লাভ করেছে আজকের eBay.com তে। শুরুতে পিয়েরে অমিডিয়ার আর জেফ বেজাসের চিন্তাধারায় একটা মিল ছিলো - দু'জনেই ওয়েবকে কল্পনা করেছিলেন ব্যবসা করার স্থান হিসেবে। কিন্তু এই একটি বিষয় বাদে আর কোন মিল তাদের মধ্যে ছিলোনা। বেজাস যেখানে যুক্তির্নিভর অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের বলে Amazon.com কে গড়ে তুলতে চাইছিলেন, সেখানে পিয়েরে অমিডিয়ার এর কোন নির্দিষ্ট ব্যবসা নীতি বা পরিকল্পনা ছিলো না। অমিডিয়ারের কাছে অনলাইন নিলাম সাইটের আইডিয়াটা বেশ ভালো বলে মনে হয়েছিলো আর এই ভালো লাগাটাই তাকে অনুপ্রাণিত করেছিলো। এই আইডিয়া বাস্তবায়নে অমিডিয়ারের খুব একটা ব্যবসায়িক বুদ্ধির প্রয়োজন পড়েনি। শুধুমাত্র নিজের বাসার কম্পিউটারে বসে, কোডিং আর প্রোগামিংয়ের বলেই তার পক্ষে সবকিছু সামলানো সম্ভব ছিলো।

অমিডিয়ার ভেবেছিলেন ইন্টারনেটে EBay এর মতো অনলাইন নিলাম সাইট হবে ছোট, বড় সকল ভোক্তা আর ক্রেতার জন্য একটি "লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (Level Playing Field)। এর মাধ্যমে ছোট ক্রেতারাও সুযোগ পাবে রাঘব বোয়ালদের সাথে প্রতিযোগিতা করার। আর তাই অমিডিয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন EBayকে ইন্টারনেটে উন্মুক্ত করবার। ১৯৯৫ সালের এক ছুটির সপ্তাহে অমিডিয়ার EBayকে জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত করেন। একজন-দু'জন করে ব্যবহারকারী সাইটে আসতে শুরু করলো। কিন্তু এসে তারা সাইটে বিক্রির তালিকায় যেসব জিনিস দেখতে পেলো শুনলে আপনার হাসি পাবে। কয়েকটা নমুনা দিচ্ছি:

* পুরনো কি-বোর্ড আর মাউস
* অটোগ্রাফ সম্বলিত সেলেব্রিটি আন্ডারওয়্যার
* বাচ্চাদের খেলনা দমকলের গাড়ি
* সুপারহিরো লাঞ্চবক্স

উপরের তালিকাটি দেখে কি মনে হচ্ছে? কোন যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক ব্যাবসায়িক উদ্দ্যোগের শুরু নাকি কিছু সেকেন্ডহ্যান্ড আবর্জনার স্তুপ? যদি আপনি পরেরটা বলেন তবে আমি বলবো, হয়তো এ কারনেই আপনি কোন কোটিপতি নন, যেমনটা হচ্ছেন পিয়েরে অমিডিয়ার।

শুরুটা নড়বড়ে হলেও Amazon আর EBay এর সাফল্যের মুখ দেখতে খুব বেশি সময় লাগেনি। EBay খোলার কয়েক মাসের মধ্যেই পিয়েরে অমিডিয়ার হাজার হাজার ডলার আয় করতে শুরু করেন। আর খোলার ৩০ দিনের মধ্যেই Amazon তাদের সেবা সম্প্রসারন করে বিশ্বের ৪৫টি দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে বই সরবরাহ করা শুরু করে। কিন্তু Amazon আর EBay এর এই তাৎক্ষণিক সাফল্য ওয়াল স্ট্রিটের নজর এড়ায়নি। ওয়াল স্ট্রিটের বিশেষজ্ঞ আর পরিসংখ্যানবিদরা ভেবে কূল করতে পারছিলেন না ওয়েব কত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো ওয়েবের এই দ্রুত সম্প্রসারনের রহস্যটা কি? এটা বুঝতে হলে আমাদেরকে সামান্য টেকনোলজিক্যাল জ্ঞান আহরণ করতে হবে, জানতে হবে দু'টি সূত্র সম্পর্কে আর সেই সূত্রদ্বয়র মিলিত প্রভাব সম্পর্কে।

১ম সূত্রটি হচ্ছে বিখ্যাত সিলিকন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেলের প্রতিষ্ঠাতা গর্ডন মুরের (Gordon E. Moore) যা মুরের সূত্র (Moore's law) নামেও পরিচিত। সূত্রটা হলো অনেকটা এমন - "ইন্ট্রিগ্রেটেড সার্কিটের (তা মাইক্রোপ্রসেসরই হোক আর মেমোরি চিপ) গতি ও ক্ষমতা প্রতি ১৮ মাসে দ্বিগুণ হয়।" সূত্রটা শুনে আপনার মনে হতে পারে - "তো কি হয়েছে?" দ্বিগুণ হবার মাহত্মটা হলো খুব ছোট কোন মান থেকে বড় কোন মানে পৌঁছাতে যদি এই দ্বিগুণ নীতি অবলম্বন করা হয়, তাহলে অবাক হয়ে দেখবেন যে খুব বেশি ধাপের প্রয়োজন পড়ছে না। যেমন: ২ --> ৪ এ যেতে ১টি ধাপ লাগছে। ২ থেকে ৮ এ যেতে (২ --> ৪ --> ৮) ২টি ধাপের প্রয়োজন পড়ছে। এভাবে মাত্র ২০ তম ধাপে আপনি ২০ লাখে পৌঁছে যাবেন। এই সূত্রের ফলাফল? ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর ট্রানজিস্টরের আবির্ভাব আর পূর্বে রুম জুড়ে অবস্থান করা কম্পিউটারকে কোলের ওপর বসানোর মতো অভিজ্ঞতা।

২য় সূত্রটি হচ্ছে ইথারনেটের জনক রবার্ট মেটক্ল্যাফের সূত্র যা মেটক্ল্যাফের সূত্র নামে পরিচিত। এই সূত্রকে সরল করে বলা যেতে পারে - "যখন কোন নেটওয়ার্কে একজন নতুন ইউসার যোগ দেন, তিনি শুধু ঐ নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীর সংখ্যা একজন বাড়িয়েই (+১) দেন না, বরং ঐ নেটওয়ার্কের কার্যকারিতাও বাড়িয়ে দেন।" সেটা কিভাবে? মনে করি কোন নেটওয়ার্কে ২ জন ব্যবহারকারী আছেন। তাহলে উক্ত নেটওয়ার্কে সম্ভাব্য সংযোগের সংখ্যা মাত্র ১টি।



যখন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ জন, তখন সম্ভাব্য সংযোগের সংখ্যা ৩টি।



যখন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪ জন, তখন সম্ভাব্য সংযোগের সংখ্যা ৬টি।



এবারে সংখ্যাটা একটু বাড়াই। যখন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ জন তখন সম্ভাব্য সংযোগের সংখ্যা ৪৫টি।



এবং যখন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০, তখন সম্ভাব্য সংযোগের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারের মতো। আর তাই এই সূত্র ধরে ইন্টারনেটের ব্যাপারে বলা যায় যে যতো সময় যাচ্ছে ইন্টারনেট আরো কার্যকারী হয়ে উঠছে। কেননা সময়ের সাথে সাথে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে যোগাযোগ আর পক্ষান্তরে বাড়ছে ইন্টারনেটের কার্যকারিতা এবং যারা এখনো ইন্টারনেটে যোগ দেননি তাদের কাছে একে আরো আকর্ষণীয় করে তুলছে।

৯০' এর দশকের মাঝামাঝি এসে মুর আর মেটক্ল্যাফের সূত্র বলতে গেলে হাতে হাত রেখে কাজ করে যাচ্ছিলো। আধুনিক আর শক্তিশালী পিসির উদ্ভব ঘটছিলো, বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ কিলোমিটার ফাইবার অপটিক কেবল সংযোগ টানা হয়, বাড়ছিলো ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা, ইন্টারনেট এসে পড়ছিলো মানুষের হাতের মুঠোয়। ওয়াল স্ট্রিট ঠিকই বুঝতে পেরেছিলো ইন্টারনেটের এই জনপ্রিয়তা আর কার্যকারিতার কথা। আর এর অর্থ ছিলো একটাই। শীঘ্রই ইন্টারনেট পরিণত হয় নতুন একটি ব্যবসাক্ষেত্রে।

ইতিহাস আমাদেরকে বলে, যখনই পৃথিবীর কোথাও কোন নতুন কোন ব্যবসা ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, তখনই হিরিক পড়ে গিয়েছে কোম্পানীর পর কোম্পানী খোলার, আর ব্যবসাকে নিজের আয়ত্বে আনার প্রচেষ্টার। এর ভালো উদাহরণ হতে পারে মধ্য ১৮শ শতাব্দীর যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্যে রেলওয়ে ব্যবসার সূচনা বা ঐ একই সময়েরই আরেকটি যুগান্তকারী প্রযুক্তি টেলিগ্রাফের আবিষ্কার অথবা তারও ৫০ বছর পরের মোটোরগাড়ির আবিষ্কার। প্রায় প্রতিক্ষেত্রেই গল্পটা প্রায় এক। শুরুটা কোন যুগান্তকারী আবিষ্কার দিয়ে, তারপর কিছু উদ্যোগী মানুষের সাহসী সূচনা আর অতঃপর বিনিয়োগকারীদের মেলা জমে যাওয়া আর কাড়ি কাড়ি টাকা ঢালা। কিন্তু পরিণতি প্রকি ক্ষেত্রে একটাই - কর্মী ছাঁটাই, অসংখ্য কোম্পানীর দেউলিয়া হয়ে যাওয়া আর কোটি কোটি টাকার লোকসান।

ইন্টারনেটে ইতিহাসটাও অনেকটা এমনই। শুরুটা নেটস্কেপের যুগান্তকারী আবিষ্কার নেটস্কেপ ন্যাভিগেটরের ব্রাউসারের শেয়ার মার্কেটে উন্মুক্তকরণ, তারপরে শেয়ার ছাড়ে ইয়াহু! আর এক্সাইটের মতো সার্চ কোম্পানীরা। আর তারও প্রায় এক বছর পরে ১৯৯৭ সালের মে মাসে শেয়ার ছাড়ে Amazon। Amazon এর বয়স তখন মাত্র ২ বছর, ছিলো কিছু বিশ্বস্ত বিনিয়োগকারী, কিন্তু ছিলো না কোন লাভ। কিন্তু জেফ বেজাস Amazonকে সবার কাছে পৃথিবীর বৃহত্তম বইয়ের দোকান বলে বেড়াচ্ছিলেন আর তাই বিনিয়োগকারীর অভাব হচ্ছিলো না। যদিও বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ছিলো, বাড়ছিলো বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণ, কিন্তু ব্যবসায় লাভ করা বলতে যা বোঝায় তা Amazon মোটেও করছিলো না। বরং বিপুল লোকসান দিয়ে কোম্পানী চলছিলো। এমনকি বেজাস যখনই সুযোগ পাচ্ছিলেন তিনি দাম আরো কমাচ্ছিলেন।

এখন আপনার কাছে মনে হতে পারে - জেফ বেজাস কি তবে পাগল ছিলেন? তবে কি বেজাস লাভের কথা ভাবছিলেন না? এভাবে লোকসান দিয়ে দিয়ে কোম্পানী চালু রাখার কি মানে? বিনিয়োগকারীরাই বা কি বুঝে Amazon এর পিছনে অর্থ ব্যয় করছিলেন। আসলে বেজাস একটি সুনির্দিষ্ট নীতির বলে Amazonকে পরিচালনা করছিলেন, আর তা হলো - "Get big fast (দ্রুত সম্প্রসারন)"। এই নীতিকে কল্পনা করো যেতে পারে আমাদের দেশে কতিপয় সংবাদপত্রের ব্যবসার শুরুটার সাথে। এরা প্রথমে সংবাদপত্র ছাপিয়ে খুব অল্প মূল্যে ও লোকসান দিয়ে বিক্রি করে। মূল্য কম হওয়ায় ক্রমেই এসব পত্রিকার জনপ্রিয়তা বাড়ে। একটা পর্যায়ে গিয়ে তারা ঠিকই সংবাদপত্রের দাম বাড়ায়। কিন্তু প্রাথমিক ঐ জনপ্রিয়তার দরুন মানুষ বেশি মূল্য দিয়ে হলেও উক্ত পত্রিকা কেনে ও পড়ে।

১৯৯৮ সাগাদ EBay বুঝতে পারে যে যদি ওয়াল স্ট্রিট এখনো তাদের কোন ভবিষ্যত দেখছে না এবং কারা প্রচেষ্টা চালাতে শুরু করে কিভাবে EBayকে আরো লাভজনক করে তোলা যায়, কিভাবে EBay থেকে বিপুল লাভ করা সম্ভব সে ব্যাপারে ওয়াল স্ট্রিটকে আশ্বস্ত করা যায়। ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরে EBay তাদের শেয়ার উন্মুক্ত করে দেয় ঠিক এমন একটা সময়ে যখন বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব চলছিলো। আর তাই একটা আশঙ্কা সবার মনে কাজ করছিলো। EBay কি লাভের মুখ দেখবে? কিন্তু সব আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করে EBay প্রচুর লাভজনক সাব্যস্ত হয় ঐ কয়েক মাসের ভেতরই মেয়ার মূল্য প্রায় ৪ গুণ হয়ে যায়। ওদিকে ওয়াল স্ট্রিট Amazon এর ভবিষ্যত উজ্জ্বল তেখতে পাচ্ছিলো। ১৯৯৮ এর শেষের দিকে ওয়াল স্ট্রিট ঘোষণা করে যে প্রচুর লোকসান সত্ত্বেও, আগামী ১ বছরের মধ্যেই Amazon এর শেয়ার মূল্য দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এবং মজার ব্যাপার হলো Amazon এর শেয়ার মূল্য দ্বিগুণ হলোও, কিন্তু ১ বছরে নয়, বরং সাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই।

এই ঘটনাগুলো দারুনভাবে প্রভাবিত করলো মার্কিন শেয়ার বাজার আর জনগণকে। প্রায় কোন সংক্রামক রোগের মতো শুরু হয়ে গেলো শেয়ার কেনার প্রতিযোগিতা। মানুষ যে কোম্পানীর নামের শেষেই .com (.ডট কম) কথাটা খুঁজে পাচ্ছিলো তার শেয়ার কিনছিলো। এমনকি মানুষ দোকানে, রেস্টুরেন্টে, বাড়িতে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা টিভিতে ফিনান্সিয়্যাল নিউজ চ্যানেল দেখতো, যাচাই করতো তাদের কেনা শেয়ারের মূল্য বেড়েছে নাকি কমেছে। অদ্ভূত সে নেশা। অনেকে সকালে শেয়ার কিনে বিকেলেই বিক্রি করে দিতো এমন ঘটনাও দেখা গিয়েছে। আর বিনিয়োগকারীরা ঝাঁপিয়ে পড়ছিলো, যেকোন ইন্টারনেট ভিত্তিক কোম্পানী দেখলেই তারা কাড়ি কাড়ি টাকা ঢালার জন্য হামলে পড়ছিলো। আর এই সময়টাকেই ইন্টারনেটের ইতিহাসে অভিহিত করা হয়ে থাকে "ডট কম বাবল (dot com bubble)" হিসেবে। মানুষ এই সময়ে দিবাস্বপ্ন দেখেছে, স্বপ্ন দেখেছে লাখ লাখ ডলারের মালিক হবার। টাকা যেন আকাশে উড়ছিলো, শুধু হাত বাড়িয়ে ধরার অপেক্ষা।



১৯১২ সালের ১৪ই এপ্রিল টাইটানিক আটলান্টিক সাগরের অতলে নিমজ্জিত হয়। তার ঠিক ৮৮ বছর পরে আরেক ১৪ই এপ্রিলে ইন্টারনেট বাণিজ্যের অনেকটা তেমনই পরিণতি ঘটে। এই দিনটি ওয়াল স্ট্রিটে সবসময় পরিচিত হয়ে থাকবে "ব্ল্যাক ফ্রাইডে (Black Friday)" হিসেবে। এইদিন NASDAQ ৩৫৫ পয়েন্ট হ্রাস পায় ও শেয়ারমূল্য প্রায় ২৫% কমে যায়। এই ধস ছিলো মার্কিন স্টক মার্কেটের ইতিহাসে বৃহত্তম ধস। ব্ল্যাক ফ্রাইডের ঐ সপ্তাহে শুধু ছোট কোম্পানীগুলোই নয়, বিপদে পড়ে যায় Amazon, EBay এর মতো বড় কোম্পানীগুলোও। Amazon তো প্রায় দেউলিয়াই হয়ে গিয়েছিলো। ২০০১ সালে Amazon তার ১৩০০ কর্মীকে ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়। বিশাল লোকসানের মুখোমুখি হন শেয়ার মালিকরা। ক্ষোভের সুর ওঠে তাদের মাঝে। আর সব ক্ষোভ গিয়ে কেন্দ্রীভূত হয়েছিলো বিনিয়োগকারী আর ওয়াল স্ট্রিটের ওপর।

কিন্তু ডট কম বাবলের এই সময়কালে অসংখ্য ভবিষ্যৎহীন, গন্তব্যহীন ও অর্থহীন ওয়েব প্রজেক্টের পেছনে অনেক অনেক অর্থ ঢেলেছেন বিনিয়োগকারীরা, গড়ে তুলেছেন তাসের ঘরের মতো সব প্রতিষ্ঠান। প্রশ্ন উঠতে পারে, বিনিয়োগকারীরা কি তবে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন? ওয়াল স্ট্রিটেরই বা কি হয়েছিলো? তারা কি বুঝতে পারেনি যে হাওয়ার ওপর গড়ে তোলা এসব কোম্পানীর কোন ভবিষ্যত নেই? তারপরও কেনা তারা মানুষকে মিছে আশা দেখিয়েছিলো। বিনিয়োগকারীরা কিন্তু ঠিকই জানতেন এসব কোম্পানীর অধিকাংশেরই কোন ভবিষ্যত নেই। কিন্তু তারা এও জানতেন যে এসব কোম্পানীর কিছু কিছু ঠিকই টিকে থাকবে, এমনকি ভবিষ্যতে রাজত্ব করবে। আর এই সুযোগটাই তারা নিয়েছিলেন।

তবে পৃথিবীর আর সব খারাপের মতোই এরও কিছু ভালো দিক ছিলো। ডট কম বাবলের হিরিকের কারনে এই সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় সম্প্রসারণ ঘটেছে। ফাইবার অপটিক কেবল দিয়ে ঘিরে ফেলা গিয়েছে ধরিত্রীকে। কম্পিউটার আর ইন্টারনেটের মতো প্রযুক্তি হয়েছে সহজলভ্য, এসেছে হাতের নাগালে। যা হতে হয়তো ১৫ বছর লাগতো, তা ঘটেছে মাত্র ৫ বছরের ক্ষুদ্র সময়কালে।

* ডিসকভারি চ্যানেলে প্রচারিত Download - The True History of Internet অনুষ্ঠান অবলম্বনে রচিত।

কৃতজ্ঞতা:

এই পোস্টের কিছু ছবি ও সকল বহির্গামী লিংক উইকিপিডিয়া থেকে সংগৃহীত

অন্যান্য পর্বসমূহ:

১ম পর্ব: ব্রাউসার যুদ্ধ
২য় পর্ব: সার্চ ইন্ঞ্জিন
৪র্থ পর্ব: ওয়েব বিপ্লব ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28871432 http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28871432 2008-11-19 23:34:02
আমার সাড়ে ৩ বছরের দাম্পত্য জীবন, পরকীয়া ও একটি অনন্যোপায় সিদ্ধান্ত

মিস উইন্ডোজ এক্সপির সাথে আমার প্রথম পরিচয় ২০০২ এ এক বন্ধুর পিসিতে। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ বংশের এই সুন্দরী কণ্যার "লুনা-সৌন্দর্য্য" দেখে আমি বেশ চমকিত হয়েছিলাম। সত্যি বলতে গেলে কি সেই প্রথম দেখাতেই আমি ওর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। আর সেদিন থেকেই মনের ভেতরে একটা কথা গেঁথে গিয়েছিলো - যেমন করেই হোক এক্সপিকে আমার চাই। সেই দেখার পরে পরবর্তী ৩ বছরে এক্সপির সাথে আমার আরো বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে, যতোবারই দেখেছি আমি নতুন করে মুগ্ধ হয়েছি। <img src=" style="border:0;" />

২০০৫ সালে এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরের কথা। বাবার কানে আমি বিয়ের কথাটা তুললাম, আর পাত্রী কে তাও কি বলে দিতে হবে? শুনে বাবাও রাজী হয়ে গেলেন। ক'দিনের মাঝেই বিয়ের সব বন্দোবস্ত করে ফেললেন। স্বাভাবিকভাবেই একমাত্র ছেলের এই শখ মেটাতে বাবা বিয়েতে ৬৫,০০০ টাকা খরচ করলেন। বিয়ে হলো, সাথে বোনাস পেলাম শ্যালিকা উইন্ডোজ ৯৮কেও। আসলো আমার বাসর রাতের দিন। শুরুতেই আমি তার ঘোমটা তুলতে না তুলতেই সে সব হার্ডওয়্যার ঠিকমতো ডিটেক্ট করে আপনা আপনিই ড্রাইভার ইন্সটল করে নেয়। বুঝলাম শুধু সুন্দরী OSই নয়, আমি একই সাথে পেয়েছি একটি সংসারী ও গোছানো টাইপ বউ। এক্সপিকে ততোদিনে আমি অনেকবার দেখেছি, কিন্তু আজকের মতো আর কোনোদিন নয়। সে আজ ও শুধু আমার, একান্তই আমার। সে অনুভূতি, সে আনন্দ - পৃথিবীর কোন মানুষের সাধ্য কি তাকে ভাষায় প্রকাশ করে? <img src=" style="border:0;" />

আমাদের শুরুটা ভালোই ছিলো। হানিমুনে আমি ওকে কোন কষ্ট দেইনি, বরং দিয়েছি কোন সফটওয়্যার ছাড়া Run করবার স্বাধীনতা, দিয়েছি সম্পূর্ণ Error বিহীন ভাবে চলার আনন্দ। ৫১২ মেগাবাইট র‌্যাম আর ১২০ গিগাবাইটের ফ্ল্যাট কিনে দিয়ে আমি ওর আনন্দকে আরো কয়েকগুণে বাড়িয়ে দেই। প্রতি মাসে ওকে নতুন থিমে সাজিয়ে দিতাম আমি। মাঝে মাঝে ঘন্টার পর ঘন্টা গেইম খেলতাম ওর সাথে আমি, গেইম ক্লোজ দিয়ে বের হবার পর ওকে একটু ক্লান্ত দেখাতো, কিন্তু তাও মুখে একটা হাসি নিয়ে ঠিকই ডেস্কটপে ফিরিয়ে আনতো আমায়। নিয়মিত টেম্পোরারী ফাইল পিরিষ্কার করে আর Defragment দিয়ে দিয়ে ওর সেই হাসি আমি চিরদিন ধরে রাখতে চেয়েছিলাম। <img src=" style="border:0;" />

কিন্তু দিন যায়, মাস যায় - যায় বছরও। বাস্তবতার রূঢ় ছায়া আমাদের সম্পর্ককে ধীরে ধীরে গ্রাস করতে লাগে। সংসার জীবন হয়ে ওঠে ব্যস্ততাপূর্ণ। শত শত সফটওয়্যার ইন্সটল করি আমি, গেইমের পর গেইম খেলি। ধীরে ধীরে ওর দিকে আমার নজর কমতে থাকে। আর এই সুযোগে আমারই অলক্ষ্যে ওর সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে পাড়ার কিছু দুশ্চরিত্র ভাইরাস আর ট্রোজানের সাথে। প্রথমে আমি অতোটা আমল দেইনি। কিন্তু একটা সময় গিয়ে আমি আর চুপ থাকতে পারলাম না। একরাতে আমাদের ঝগড়া হলো, আমার আর সহ্য হচ্ছিলো না। দিলাম ওকে Format দিয়ে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে। শ্যালিকা আমার এই দুঃসময়ের সঙ্গী হলো। <img src=" style="border:0;" /> দুলাভাইকে অনেক বুঝালো, সংসারটাতো ধরে রাখতে হবে।

ফলাফল যা হবার তাই হলো। সিডি ঢুকিয়ে ইন্সটল দিয়ে ওকে বাপের বাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনলাম আমি। আবার সেই সংসার, আবার সেই ব্যস্ততা। তারপরে আরো অনেকদিন আমার সাথে ওর ঝগড়া হয়েছে। মাঝে মাঝে ফরম্যাট দিয়ে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। আবার কখনো কখানো বান্ধবীর বাসা থেকে System Restore দিয়ে ফিরিয়ে এনেছি। ধীরে ধীরে সংসার জীবনের যাতনা আমাকে একটু একটু করে নিঃশেষ করে দিচ্ছিলো। ও আর আগের মতো গোছানো আর সংসারী ছিলো না। বরং যেনো ছিলো অনেকটাই বেপরোয়া। কেমন যেন একটা অনিশ্চিয়তা কাজ করতো ওর মধ্যে। আগে যেমন ওকে কোন একটা কাজ করতে বলতে মোটামুটি নিশ্চিৎভাবে ধরে নিতাম ও এটা পারবে, ধীরে ধীরে ব্যাপারটা আর তেমন রইলো না। ও না বলতে শিখে গেলো। শুরু হলো আমার দাম্পত্য জীবনে কম্প্যাটিবিলিটি নামক যাতনা। আমি আর পারছিলাম না........আর না.......... <img src=(" style="border:0;" />

২০০৭ সাল, আমার সংসার এখন আর সংসার নেই, যেনো কোন ক্লান্ত রণাঙ্গণ যে প্রতি মুহূর্তে বলছে - "এবার আমায় রেহাই দাও!" যৌতুক স্বরূপ শশুর বিল গেটসের কাছ থেকে বিয়ের সময়ই এককালীন Service Pack 1 আর Service Pack 2 পেয়েছিলাম। ২০০৮ এ এসে আমাদের মধ্যে এই সংসার নামক যুদ্ধ দেখে শশুরমশাইয়ের বোধোহয় খানিকটা দয়া হলো মেয়েটার কথা চিন্তা করে। হাজার হোক নিজের মেয়েতো, নিজের মেয়ের সংসার ভাঙতে দেখলে কোন বাবারই না খারাপ লাগে। আর তারই ফলস্বরূপ পেলাম নগদ Service Pack 3। কিন্তু কোন সার্ভিস প্যাকে কি আর সংসারের ভাঙন জোড়া লাগে? কাজ কিছুই হলো না......... <img src=" style="border:0;" />

এমনই একটা সময়ে আমার জীবনে যেনো নতুন বসন্ত এলো। এক্সপির ছোট বোন উইন্ডোজ ভিসতা যুক্তরাষ্ট্র থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশে এসেছে। আমি ওকে আগে কখনো দেখিনি। প্রথম দেখলাম আবারো এক বন্ধুর বাসায়। দেখে আমি থ! একি দেখি? এও কি সম্ভব? OS নাকি পরী? ওর Aero থিমের সৌন্দর্য্য আমার মনের ঘুমিয়ে যাওয়া অনুভূতিগুলোকে ফের জাগিয়ে তুললো। সাইডবারের সেই চাউনি আর অসাধারণ GUI এর কাছে আমার মন যেনো নতি স্বীকার করলো। ওর GUI কাছে আমার এক্সপির GUI তো অতি নগণ্য গুঁই সাপের চামড়ার মতো। মাশাল্লাহ্ শশুর আব্বা, কিছু সুন্দর মেয়ে পয়দা করছেন। <img src=" style="border:0;" />

অল্প পরিচয়েই আমি ভিসতার সাথে ঘন ঘন দেখা করা শুরু করলাম। কখনো নেটে, কখনো কোন বন্ধুর বাসায় আবার কখনো বা আইডিবিতে। ওর সৌন্দর্য্যে আমি এতোটাই মুগ্ধ ছিলাম যে একদিন বাসায় এসে এক্সপিকে Vista Transformation Pack বিউটি পার্লারে পাঠিয়ে মেকওভার দিলাম। কিন্তু ওসব কি আর ওর মতো ব্যাগডেটেড মেয়ের ধাতে সয়? আবার নতুন করে ইন্সটল করতে হলো ওকে। বুঝলাম, কাক যতোই ময়ূরের পালক লাগাক না কেন, কখনো ময়ূর হতে পারে না।

আজ ২০০৮ এর শেষে এসে ভিসতা আর আমার সম্পর্ক চূড়ান্ত রূপ ধারণ করেছে। এমনই অবস্থা যে এক্সপিকে ডিভোর্স দেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি মনে মনে নিতে আমাকে আর দ্বিতীয়বার চিন্তা করতে হয়নি। বাবাকে অলরেডি জানিয়েছিও এই সিদ্ধান্তের কথা, বাবা আশ্বাস দিয়েছেন সব ব্যবস্থা করে দেবেন। এক্সপি আমাদের এই লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা করার কথা যানতো, কিন্তু কখনো আমায় কিছু জিজ্ঞেস করেনি। সামান্য প্রতিবাদও করেনি। আসলে ও নিজেও জানে ওর আর বেশিদিন নেই। কোন এক অদ্ভূত কারনে এই শেষ সময়ে এসে ও আবার আগের সেই লক্ষ্মী বউয়ের মতো আচরণ করছে। আসলে মাঝে মাঝে খারাপই লাগে। তবে কি আমি ভুল কোন সিদ্ধান্ত নিলাম। না তা হতে পারে না। আপনারা হয়তো ভাবছেন, ভিসতার জন্য আমার প্রেম চিরস্থায়ী হবে। কিন্তু আসলেই কি তাই? সম্প্রতি নেটে আমার শশুরমশাইয়ের সর্ব কনিষ্ঠতম কণ্যা উইন্ডোজ সেভেনের বাল্যকালের স্ক্রিন শট আর ফিচার দেখলাম। ভবিষ্যতে উইন্ডোজ সেভেন রূপে, গুণে, সৌন্দর্য্যে ভিসতাকে ছাড়িয়ে যাবে সন্দেহ নেই কোন। আগামী ২০১০ এ উইন্ডোজ সেভেনের বেটা ভার্শন ছেড়ে বিয়ের বয়সে পদার্পণের কথা আছে। কে বলতে পারে উইন্ডোজ সেভেনের প্রেমে পাগল হয়ে আমি ভিসতাকে ছেড়ে দেবোনা?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28870920 http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28870920 2008-11-18 23:16:05
একটু পরামর্শ চাই (সাময়িক পোস্ট)

পিসি আপগ্রেড করতে চাচ্ছি। ভালো ধরনের ৫১২ PCI গ্রাফিক্স কার্ড, উইন্ডোজ ভিসতা কম্পাটিবল মাদারবোর্ড, আর কম্পাটিবল ২ গিগাবাইট র‌্যাম.............সব মিলিয়ে কতো পড়তে পারে? একটু ধারণা দিবেন কি?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28870126 http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28870126 2008-11-17 10:15:03
আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন......দিল ওহি মেরা ফাস্ গ্যায়ি...... (নজরুল গীতি রিমিক্স - Somewhere EXCLUSIVE!)

আবারো একটি সামহোয়্যার এক্সক্লুসিভ। এর আগে আপনাদেরকে উপহার দিয়েছিলাম হাবিবের একটি অপ্রকাশিত গান। এবারে একটি নজরুল গীতির রিমিক্সড রূপ। গানটি নজরুল ইন্সটিটিউটের অনুমতি নিয়ে রিমিক্সকৃত। সদ্য হয়ে যাওয়া লাক্স-চ্যানেল আই পারফরম্যান্স এ্যাওয়ার্ডে এই গানটার সাথে একটা নাচও হয়েছে। সেই সূত্রেই গানটা পাওয়া। আশা করি ভালো লাগবে। আমার শুনতে খুব একটা খারাপ লাগেনি। তবে নজরুল গীতির বিশুদ্ধবাদীদের হয়তো খারাপ লাগবে।

গান: আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন......দিল ওহি মেরা ফাস্ গ্যায়ি......
রচনা: কাজী নজরুল ইসলাম
গায়ক: রাশেক
ডাউনলোড লিংক: View this link

* পারলে গানটা শোনার পর ভালো/খারাপ/জঘণ্য কেমন লাগলো জানিয়েন সবাই......]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28869986 http://www.somewhereinblog.net/blog/Nafis_Iftekhar/28869986 2008-11-17 00:26:52
ইংলিশ মিডিয়াম আর প্রাইভেট ভার্সিটি কালচার - জাতিবাদের চাইতে কম কিছু নয়

দৃশ্যপট ১:

কয়েক মাস আগের কথা। আমার এক কাজিনের সাথে বছর খানেক পরে দেখা। ঢাকার একটি স্বনামধন্য ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ক্লাস সেভেনে পড়ে ও। এবার এইটে উঠবে। ঘরের মধ্যেই ক্রিকেট খেলছিলাম। তো অবাক হয়ে দেখলাম আমার ঐ কাজিন বাংলাং গুণতে পারে না। আমি যদি তাকে 49 এর বাংলা কি হবে জিজ্ঞেস করি সে অনেক ভেবেও ঊনপঞ্চাশ বলতে পারে না। আরো ভয়াবহ অবস্থা বাংলা থেকে ইংরেজী করতে দিলে। সে আমাকে জানালো শুধু সেই নয়, তার ক্লাসের আরো অনেকেরই এমন অবস্থা। আমি ঘটনা দেখে না পারছিলাম হাসতে না পারছিলাম কাঁদতে। তবে মুচকি মুচকি হেসেছিলাম। সালাম, রফিক, বরকতের জীবনদান তুচ্ছ মনে হতে লাগলো.......

দৃশ্যপট ২:

আমার এক বন্ধু, সে এই ব্লগেও লিখে সে। তার সাথে সেদিন দেখা। কথায় কথায় মজার এক ঘটনা সে শোনালো আমায়। তার সাথে নাকি এক মেয়ের সম্প্রতি পরিচয় হয়েছে। কথা বার্তা বলে ভালোই খাতির হয়েছে। তো আমার ঐ ফ্রেন্ড ঐ মেয়েকে ফেইসবুকে এ্যাড করতে চায়। কিন্তু মেয়েতো প্রায় আঁতকে ইঠে। বলে - "না, তোমাকে আমি ফেইসবুকে এ্যাড করতে পারবো না।" স্বভাবতই আমার বন্ধু কারন জানতে চায়। সে বলে - "আমার ফেইসবুকের সব ফ্রেন্ড ইংলিশ মিডিয়ামের। তোমাকে এ্যাড করলে ওদের কাছে আমার প্রেস্টিজ থাকবে না। আমাকে ওরা ক্ষ্যাত ভাববে।" আমার ফ্রেন্ড আমাকে হেসে হেসে এই ঘটনা বলছিলো। আমি কিন্তু হাসতে পারিনি, চোখ-মুখ কুঁচকে এই কাহিনী হজমের চেষ্টা করছিলাম।

দৃশ্যপট ৩:

এও আমার এক বন্ধু। মাসখানেক আগে ঢাকার একটি স্বনামধন্য প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে সে। ইদানিংকালে ওর মধ্যে মজার একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। আমার সাথে কথা বলছে ঠিকমতোই, কিন্তু যখনি ওর মোবাইলে কোন কল আসছে ওর কথা বলার ভঙ্গি পুরোদস্তুর পাল্টে যাচ্ছে। কথা বাংলায়ই বলছে কিন্তু তাকে বাংলা বলে ঠাওড়ায় কার বাপের সাধ্য। ইংরেজী "R" আর বাংলা "র" দুটোরই উচ্চারন শোনাচ্ছি বাংলা "ড়" এর মতো। আর অবাঞ্ছিতভাবে প্রায় প্রতি ১৫টা বাংলা শব্দের সাথে একটি করে ইংরেজী শব্দ জুড়ে দিচ্ছে। অবাঞ্ছিত বলছি কারন - ভাবপ্রকাশের স্বার্থে বাংলা বাক্যের মধ্যে ইংরেজী শব্দ আনা যেতেই পারে, আমিও নিজেও তা করি। আমি বলছি না যে মোবাইলকে "মুঠোফোন বলাহোক বা অক্সিজেনকে "অম্লজান"। কিন্তু যেখানে একদমই প্রয়োজন নেই কোন ইংরেজী শব্দের সেখানেও ঠেলেঠুলে একটা ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে, যেন এ কোন নতুন ভাষারীতি। বোঝা গেল আমার এই বন্ধুটি এখনো এই আজব ভাষাটি পুরোপুরি রপ্ত করতে পারেনি, আর তাই ঠেলেঠুলে ঢোকানো ইংরেজী শব্দগুলোর প্রয়োগ প্রায়ই ভুল হচ্ছে। আরো একটা বিষয় লক্ষ্যনীয় ছিলো, পুরোপুরি শুদ্ধ বাংলা বাক্যগুলোতে ইচ্ছাকৃত ভাবে "করতেসি", যাইতেসি, "খাইতেসি"