somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিষয়: জিন (বর্তমান বিজ্ঞান এইটার কি ব্যাখ্যা দিবে?)

৩১ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৫:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুরা জিন: (বাংলা অনুবাদসহ)

আল্লাহ তা’আলার অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে জ্বিনও একটি বিশেষ সৃষ্টি। মানুষের ন্যায় জ্বিনদেরও স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও কর্মক্ষমতা আছে। এই কারণে তাদের প্রতিও খোদার দেয়া বিধান সমানভাবে প্রযোজ্য। তওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতের প্রতি ঈমান পোষণ এবং এক আল্লাহর তা’আলার হুকুম-আহকামের আনুগত্য করা তাদের জন্যেও বাধ্যতামূলক। আর এ কারণে তাদের মধ্যেও ভাল-মন্দ দুটি শ্রেণী আছে।

জ্বিনদের অস্বিত্ব সম্পর্কে প্রাচীনকাল থেকে মানব সমাজে আজগুবি ধারণা চলে আসছে। আরবেও জ্বিনদের সম্পর্কে একটি বিশেষ মতবাদ গড়ে উঠেছিলো। মূর্খ লোকেরা তাদের পূজা করতো, তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতো। সাধারণ ওঝা শ্রেণীর লোকেরা তাদের সাথে বন্ধুত্বের দাবি করতো। নানারূপ কিসসা-কাহিনী তাদের সম্পর্কে প্রচলিত ছিলো। মোটকথা, অসংখ্য দেব-দেবীর ন্যায় জ্বিনদেরকেও খোদায়ীর ব্যাপারে শরীকদার মনে করা হতো। ইসলাম এসে এসব আকিদা-বিশ্বাস সংশোধন করে দিলো। সে বললো : জ্বিন খোদার একটি সৃষ্টি বটে; কিন্তু খোদায়ীর ব্যাপারে তার বিন্দুমাত্রও দখল নেই। সে আপন ক্ষমতাবলে না পারে কারো উপকার করতে আর না পারে কারো ক্ষতি করতে। মানুষের ন্যায় জ্বিনদের প্রতিও আল্লাহর বন্দেগী ফরয করা হয়েছে। তাদের মধ্যেও খোদার অনুগত ও অবাধ্য-এ দুটি শ্রেণী রয়েছে। তারাও মানুষের ন্যায় নিজ নিজ আমলের পুরস্কার ও শাস্তি লাভ করবে। খোদার কুদরতের সামনে তারাও একটি অক্ষম ও অসহায় জীবমাত্র।

হযরত (স)-এর মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলার দ্বীন পরিপূর্ণ ও সর্বশেষ রূপ নিয়ে দুনিয়ায় এসেছে। এ দ্বীনের আনুগত্য যেমন মানুষের জন্যে, তেমনি জ্বিনের জন্যেও বাধ্যতামূলক ছিলো। একদা হযরত (স) এক তাবলীগী সফর উপলক্ষে ‘উকাজ’ নামক আরবের এক বিখ্যাত মেলায় গমন করছিলেন। পথে ‘নাখলা’ নামক স্থানে তাঁকে একটি রাত অবস্থান করতে হলো। ঘটনাক্রমে এমনি সময় জ্বিনদের একটি দল ঐদিক দিয়ে যাচ্ছিলো। তারা হযরত (স)-এর কিরআত শুনে থমকে দাঁড়ালো। এ ঘটনা কুরআনের সূরা আহকাফ-এ এভাবে বিবৃত হয়েছে :

হে নবী! আমরা জ্বিনদের একটি দলের গতি তোমার দিকে ফিরিয়ে দিই, যেন তারা কুরআন শুনতে পায়। তারা এসে পরস্পরকে বললো :‘চুপ থাক।’ কুরআন পাঠ শেষ হলে তারা গিয়ে আপন জাতিকে সতর্ক করে বললো : ‘ভাই সব! আমরা একটি কিতাব শুনে এসেছি, যা মূসার পরে অবতীর্ণ হয়েছে এবং পূর্ববর্তী সমস্ত কিতাবের সত্যতা স্বীকার করে, যা সত্যের দিকে পরিচালিত করে এবং সোজা পথ প্রদর্শন করে। ভাইসব! আল্লাহর দিকে আহবানকারীদের কথা মানো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো, যেন তিনি তোমাদের গুনাসমূহ মাফ করে দেন এবং কঠিন ও যন্ত্রনাদায়ক আযাব থেকে তোমাদের নিস্কৃতি দান করেন। (আয়াতঃ২৯-৩১)।

এ ঘটনার কথা হযরত (স) ওহীর মারফতে জানতে পারেন। সূরা জ্বিনে এর বিস্তৃত বিবরণও উল্লেখ আছে।

(রাসুলুল্লাহর বিপ্লবী জীবন-বই থেকে)

তথ্য সুত্র: আইডি ফোরাম (নিঝুম)



বেনাপোলের শার্শার দাউদখালি গ্রামে কথিত জিন ডাক্তারের হাতে ব্রেন টিউমার অপারেশনের পর বেবী আক্তার; ডানে অপারেশনের সরঞ্জাম ও টিউমার


আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে বিশ্বাস করুন আর নাই বা করুন একজন মহিলা রোগীর ব্রেন টিউমার অপারেশন করলেন একদল জিন ডাক্তার। আধুনিক বা অত্যাধুনিক কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে নয়, সাধারণ ইট ও টালির ঘরে বিছানার ওপর ব্রেন টিউমার অপারেশন করলেন জিন ডাক্তাররা। অবিশ্বাস্য হলেও ঘটনাটি সত্য। ঘটনাটি ঘটে শার্শার দক্ষিণ সীমান্তবর্তী অজপাড়াগাঁ দাউদখালী গ্রামে। গত শুক্রবার রাতে আব্দুস সালামের স্ত্রী বেবী আক্তারের (২৮) ব্রেন টিউমার অপারেশন করা হয়। আব্দুস সালাম জানান, আনুমানিক সìধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জিন ডাক্তাররা আসেন এবং ১ ঘন্টা ২০ মিনিট পর্যন্ত অপারেশন কাজ চলে। পাশের ঘরে থেকে সে নিজেই ও তার মামাশ্বশুর ইউনুস আলী, খালুশ্বশুর ইস্রাফিল ও খালা মছিরন বিবি ঘটনাটি উপলব্ধি করেন। সালাম জানান, তার স্ত্রীর নাক, মুখ ও কান দিয়ে রক্ত বের হতো এবং মাঝে মাঝে অজ্ঞান হয়ে পড়ত। দুই বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় ডাক্তার দেখিয়েও সে সুস্খ হয়নি। তিনি জানান, সিটি স্ক্যান করেও তার কোনো রোগ ধরা পড়েনি। তাদের অনেক চেষ্টার পর সুস্খ না হওয়ায় রোগীর প্রতি অনীহা এসে যায়। হঠাৎ গত বুধবার রাত ১১টার দিকে রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং জিনরা তার মুখ দিয়েই অপারেশন করানোর কথাবার্তা আলোচনা করে তার স্বামী সালামের সাথে। শুক্রবার রাতে তার ব্রেন টিউমারের অপারেশন করানো হবে বলে তাকে জানানো হয় এবং তাকে শুধু একটি স্যালাইন আনতে বলা হয়। সে মতোই তারা প্রস্তুতি নিয়েছিল এবং ঠিক শুক্রবার সìধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে সালাম একটি শব্দ শুনতে পান এবং পরপরই রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তার পর রোগিনীর মুখ দিয়েই নিচে বিছানা পেতে দিয়ে সবাইকে বাইরে যেতে বলা হয়। তারা বাইরে গেলে অলৌকিকভাবে দরজা বìধ হয়ে যায় এবং ভেতরে অপারেশনের কাজ শুরু হয়। সালাম জানান, অপারেশনকালে অপারেশনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নাড়াচাড়ার শব্দ পাশের ঘর থেকে তারা শুনতে পান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দূর-দূরান্ত থেকে শত শত নারী-পুরুষ ভিড় জমাতে থাকেন সালামের বাড়িতে। স্খানীয় পল্লী চিকিৎসকরা জানান, অলৌকিক হলেও অপারেশন করার ঘটনাটি সঠিক। তার বাম চোখের ভেতর দিয়ে অপারেশন করা হয় ব্রেন টিউমারের। রোগিনীর স্বামী জানান, ডা. শফিউল্লাহ নামে জনৈক জিন ডাক্তার এ অপারেশন করেন। ডাক্তার জানান, পরে রোগী তার বাম চোখ দিয়ে কিছু দেখতে পারবে না। সালাম আরো জানান, একটি গাছের শিকড় দিয়ে গেছে তারা। তিন দিন পর থেকে দইয়ের সাথে শিকড়টি বেটে খাওয়াতে হবে­ এতে রোগী সম্পূর্ণ সুস্খ হয়ে যাবে। সকালে এ প্রতিনিধি ঘটনাস্খলে গেলে রোগিনীর মুখ দিয়ে ব্যক্ত হয় যে, আল্লাহকে বেশি বেশি ভয় করতে হবে ও নামাজ পড়তে হবে ও পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। এই উপদেশ দিয়ে আল্লাহ হাফেজ বলে জিন চলে যায়।

সুত্র: দৈনিক নয়া দিগন্ত
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে আগস্ট, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৩
২৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×