সাহায্য চেয়ে প্রণব মুখার্জিকে ফোন করেন শেখ হাসিনা
পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের পর সাহায্য চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের তত্কালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জিকে টেলিফোন করেছিলেন। উইকিলিকেসর মাধ্যমে ফাঁস হওয়া মার্কিন দূূতাবাসের তারবার্তার বরাত দিয়ে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’র গতকালের সংস্করণে প্রচারিত খবরে আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়া হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়াও খবরটি প্রকাশ করে। খবরে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জিকে টেলিফোন করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চান। যদিও শেখ হাসিনা কী ধরনের সহযোগিতা চান, তা সুনির্দিষ্ট করে বলেননি। তবে প্রণব মুখার্জি শেখ হাসিনার আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বলেছিলেন, ‘প্রয়োজন অনুযায়ী’ সহায়তা করা হবে।
দ্য হিন্দুর খবরে আরও বলা হয়, এর পরই প্রণব মুখার্জি বিষয়টি নিয়ে লন্ডন, বেইজিং এবং টোকিওর সঙ্গে কথা বলেন।
নিরুপমা সুব্রাক্ষ্মনিয়ান আরও লিখেছেন, ভারতে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স স্টিভেন হোয়াইটকে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ শনিবার ভারতের তত্কালীন পররাষ্ট্র সচিব শিবশংকর মেনন ডেকে পাঠান। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের বিডিআর বিদ্রোহের বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় ভারতের বন্ধু হিসেবে পরিচিত শেখ হাসিনার নতুন সরকারের ওপর যে প্রভাব পড়বে, এ নিয়ে ভারত সরকারের উদ্বেগের বিষয়টি লক্ষ্য করেন মার্কিন কূটনীতিক।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ২ মার্চ পাঠানো মার্কিন দূতাবাসের গোপনীয় ১৯৪৬৬১ নম্বর তারবার্তায় মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের সঙ্গে বাংলাদেশের বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের আলোচনার বিস্তারিত বিবরণ স্থান পায়।
ভারতের ভয় ছিল, বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে জামায়াত ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে’র চেষ্টা করতে পারে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিডিআর বিদ্রোহকে দীর্ঘ পরিকল্পিত ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি বিদ্রোহের ঘটনায় সরাসরি জামায়াতকে দায়ী করেননি। তিনি আরও বলেছিলেন, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফলাফলে ও সরকারের নেয়া কার্যক্রমে জামায়াত নাখোশ ছিল। তারবার্তার বরাত দিয়ে রিপোর্টে বলা হয়, ভারতের উদ্বেগের দ্বিতীয় আরেকটি কারণ ছিল বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাটি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে। বিদ্রোহীরা সেনা কর্মকর্তাদের মৃতদেহ নরদমায় ফেলে দিয়েছে। সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার ঘটনায় সামরিক বাহিনীর ভেতর যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা হাসিনা সরকারকে সমস্যায় ফেলতে পারে বলেও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শঙ্কায় ছিলেন। তবে তিনি আশাবাদী ছিলেন যে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সেনাপ্রধান (জেনারেল মইন) সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।
এতে আরও বলা হয়, বিদ্রোহের ঘটনার ব্যাপারে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতির প্রশংসা করে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এ ব্যাপারে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমন্বয় ও পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, প্রাথমিক সহিংসতা যখন শেষ হয়েছে তখন সামনের দিনগুলোতে কি হবে সে ব্যাপারে তিনি উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতি কী হবে, কী হচ্ছে—তা পরিষ্কার হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে পরে।
আরেকটি তারবার্তার বরাত দিয়ে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক মাস পরও বিদ্রোহ-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে উদ্বিগ্ন ছিল ভারত। ২০০৯ সালের ২৬ মার্চ ভারতের মার্কিন দূতাবাসের আরেকটি তারবার্তায় (নম্বর ১৯৮৯৫২) বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের স্থিতিশীলতার বিষয়টি ভারতের উদ্বেগের মূল বিষয় ছিল। এতে আরও বলা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মার্কিন দূতাবাসকে জানান, ভারতের উদ্বেগের বিষয় হল এ ঘটনায় উগ্রবাদীদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা। তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্রোহে জড়িত বিডিআরের অনেক সদস্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় নিয়োগ পেয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শিবশংকর মেনন ২০০৯ সালের ১৩ ও ১৪ এপ্রিল ঢাকা সফর করেন। এর একদিন পরই তিনি দিল্লিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার বার্লিগের সঙ্গে এ বিষয়ে মতবিনিময় করেন। ১৬ এপ্রিল এ ব্যাপারে পাঠানো তারবার্তায় (নম্বর ২০২৬১৫) বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, শিবশংকর মেনন বাংলাদেশ নিয়ে ভারত সরকারের ভয়ের কারণ বর্ণনা করে বলেছেন, এখানকার পরিস্থিতি এমন যে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং ভারতে আক্রমণ চালানোর মতো ‘ফ্রি হ্যান্ড’ (অবাধ) সুযোগ নিতে পারে। কারা এটা করতে পারে, এ ব্যাপারে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দল, মৌলবাদী গ্রুপ হরকাতুল জেহাদ আল ইসলামী বা হুজির কাছ থেকে ভারতে আক্রমণ করা হতে পারে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেন, বিদ্রোহের পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভঙ্গুর বলে তার কাছে মনে হয়েছে।
তারবার্তার বরাত দিয়ে রিপোর্টে আরও বলা হয়, ভারতীয় কর্মকর্তারা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেন, বাংলাদেশে খুব সামান্য ইস্যু নিয়ে রাজনীতি উত্তপ্ত হয়। তারা খুবই আশ্চর্য হয়েছেন যে, সেখানে বিডিআর বিদ্রোহের মতো ইস্যু থাকা সত্ত্বেও রাজনীতিবিদরা বিরোধীদলীয় নেত্রীর বাড়ির মতো সামান্য বিষয় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বার্তায় আরও জানান হয়, পররাষ্ট্র সচিব মেনন বলেন, সরকারের (বাংলাদেশ) মধ্যে স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়ার মতো একটি ব্যাপার দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ঠিকঠাকভাবে কাজ করছে না।
সুত্র: আমার দেশ
Click This Link
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।